📄 সংসারে মায়ের চেয়ে স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিন
আপনার স্বামী-সন্তান যখন বাড়িতে থাকে তখন তাদের যত্ন নেয়া আপনার কর্তব্য। বিয়ে করার পর একটা মেয়ের দায়িত্ব বেড়ে যায়। শ্বশুরবাড়িতে একটা মেয়ের তার স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এমনকি তার পিতামাতা এবং তার স্বামী পরস্পরবিরোধী হলেও স্বামীকে মানতে হবে। তার নিজের পিতামাতা এতে অসন্তুষ্ট হলেও স্বামীকেই মানতে হবে। কেউ তার স্বামীর অবাধ্য হলে এর বিপরীতে তাদের সংসারজীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
উপরন্তু অনেক মা উপযুক্ত শিক্ষা ও জ্ঞান পান না। কিছু মা এখনও বুঝতে পারেন না যে—তাদের নিজের কন্যাকে তাদের স্বামীর সাথে বোঝাপড়া করার জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত। একটি দম্পতি যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয় তাহলে তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। যেহেতু মায়েরা এই বিষয়টি সম্পর্কে অসচেতন, তাই তারা নিজের ইচ্ছামতো মেয়ের সংসার করে দিতে চান। তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মেয়ের সংসারে হস্তক্ষেপ করতে চান। এসব কাজে তারা তাদের ছোট্ট মেয়েটাকে ব্যবহার করেন, যে এসব সমস্যার ব্যাপারে খুবই অনভিজ্ঞ। এসব মায়েরা প্রতিনিয়ত বলে থাকেন কীভাবে থাকতে হবে, কী করতে হবে, কী বলতে হবে, কী না বলতে হবে। অসহায় মেয়েটা, যে দায়ী।' আরেক লোক তার শাশুড়ির হস্তক্ষেপে বিরক্ত হয়ে ট্যাক্সি থেকে লাফ দিয়েছিল।
যে কন্যারা নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মায়েদের এই ধরনের কথা মেনে চলে, নিঃসন্দেহে তারা নিজেদের ওপর আঘাত আনে। যেসব মহিলা নিজেদের সংসারের প্রতি সচেতন তারা কোনোদিন তাদের ইচ্ছা দ্বারা প্রভাবিত হবে না এবং মানবে না। এটা শতভাগ সত্য। চালাক ও বুদ্ধিমান মহিলারা তাদের মায়ের উপদেশগুলো তাদের পারিবারিক জীবনে প্রয়োগ করার আগে সবসময় যাচাই-বাছাই করবে। তার সাথে পরিবারের সম্পর্ক খারাপ ও ভয়াবহ না হলে সে উপদেশগুলো বাস্তবায়ন করবে। এক্ষেত্রে সে তার মায়ের ইচ্ছার সাথে সম্মতি দিতে পারে। তাছাড়া, সে যদি বুঝতে সক্ষম হয় তার মা অজ্ঞ ও তার উপদেশগুলো ঝগড়া-বিবাদের সৃষ্টি করে, তাহলে সে তার মায়ের উপদেশ এড়িয়ে চলতে পারে।
যাইহোক, একটি মেয়ের সামনে দুটি পথ আছে—
১. মায়ের কথা মতো চলে পারিবারিক অশান্তি বৃদ্ধি করা; ২. মায়ের কথা উপেক্ষা করে স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া।
তালাকের পর একজন মেয়ে তার পিতামাতার সাথে থাকতে পারে। কিন্তু পরিবারের লোকজন খুব বেশি দিন তাকে মেনে নিতে চাইবে না, তারা তার থেকে মুক্তি চাইবে। সেও পরিবারের সবার সামনে সংকোচ ও অপমান বোধ করবে। একা বাস করাও সম্ভব না। আবার অন্য একটা বিয়ে করাও সহজ না। সে কীভাবে নিশ্চিত হবে যাকে সে বিয়ে করবে সে তার সন্তানের জন্য ভালো হবে? নতুন কাউকে বিয়ে করলে তার সন্তানের কী হবে? হতাশাগ্রস্ত হয়ে সে নিজেকে শেষ করে ফেলতে পারে। এমনও তো হতে পারে, যাকে সে বিয়ে করবে তার সাথে জীবন এতো বেশি জটিল হয়ে উঠল যে সে নিজের কাছ থেকে পালাতে চাইবে অথবা নিজেকে মেরে ফেলতে চাইবে!
একবার এক মহিলা তার মা ও অন্যান্য মানুষের স্বার্থপর ও নির্বোধ উপদেশের পরিণতি চিন্তা করল। তার স্বামীর সাথে যেন তার সম্পর্কের অবনতি না হয় তাই সে দৃঢ়ভাবে তাদের কথাগুলো প্রত্যাখ্যান করল। সে তার মাকে বলল—
“আমি এখন বিবাহিত। সংসার ঠিক রাখতে ও স্বামীকে সন্তুষ্ট করতে আমাকেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমি বরং তার সাথে ভালো আচরণ করব, কারণ সে আমার জীবনসঙ্গী। আমাকে সাহায্য করা ও আমাকে খুশি করার সামর্থ্য তার আছে। সে তার জীবনের সব উত্থান-পতন, সবকিছু আমাকে বলে। আমার পছন্দে তাকে আমি বিয়ে করেছি। যদি আমাদের মাঝে কোনো সমস্যা হয় তাহলে আমরা নিজেরা এটা সমাধান করতে চেষ্টা করব। আমাদের জীবন নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করতে পারব। তোমার হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে। আমার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে চাইলে আমাদের জীবনে হস্তক্ষেপ করো না। আমার স্বামীকে নিয়ে সমালোচনা করা বন্ধ করো নইলে তোমার সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।”
যদি আপনার মা এসব কথা শোনার পর নাক গলানো বন্ধ করেন তাহলে তিনি ভবিষ্যতে এই কাজ আর করবেন না। যদি তিনি আপনার কোনো কথার দাম না দেন তাহলে তার সাথে থাকার দরকার নেই। এভাবে নিজেকে সামলে একটি আরামদায়ক জীবনযাপন আপনি করতে পারেন।
আপনার পিতামাতা থেকে দূরে থাকলে হয়তো আপনি পরিবারের সদস্যদের কাছে ছোট হবেন কিন্তু এর থেকে বেশি সম্মান আপনি আপনার স্বামীর কাছ থেকে পাবেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “আমি কি বলে দেবো তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে জান্নাতি কারা? যারা মমতাময়ী, অধিক সন্তান প্রসবকারী, স্বামীবান্ধব, নিজের দোষ বা স্বামীর দোষ উভয় ক্ষেত্রেই সে স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমার চোখে ঘুম নামবে না।”৩১
সুনান নাসাঈতে আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একদা জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো নারী সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেন—
অর্থ: “যে নারী স্বামীকে আনন্দিত করে, যখন স্বামী তার দিকে তাকায়। যে নারী স্বামীর আনুগত্য করে, যখন স্বামী তাকে আদেশ দেয়। যে নারী স্বামীর সম্পদ ও নিজ নফসের ব্যাপারে, এমন কোনো কর্মে লিপ্ত হয় না, যা স্বামীর অপছন্দ।”৩২
টিকাঃ
৩১ সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৯০৯৪।
৩২ সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১, মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭৩০।
📄 বাড়িতে সুন্দর ও পরিপাটি থাকুন
বেশিরভাগ স্ত্রীলোকের মাঝে এই রীতি প্রচলিত যে—যখন তারা কোনো অনুষ্ঠান বা আয়োজনে যায়, তখন তারা তাদের সবচাইতে ভালো পোশাক ও অলঙ্কার দিয়ে নিজেদের অলংকৃত করে। তারপর যখন তারা বাড়ি ফিরে, তারা তাদের পোশাক খুলে পুরনো ও ময়লা পোশাক পরে নেয়।
এইসব স্ত্রীলোকেরা বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকে না এবং বাড়িতে নিজেকে সুসজ্জিত রাখে না। তারা এলোমেলো চুল, দাগ পড়ে যাওয়া কাপড়-চোপড় নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। আসলে কিন্তু এর উল্টো করা উচিত ছিল। কারণ, একজন নারীর উচিত তার স্বামীর সামনে সুন্দর ও পরিপাটি হয়ে থেকে তার হৃদয় জয় করে নেয়া। যাতে করে তার হৃদয়ে অন্য কোনো মহিলার জন্য কোনো প্রকার স্থান তৈরি না হয়। সে কেন নিজের স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য সাজবে? একজন মহিলার কি পরপুরুষের সামনে তার সৌন্দর্য প্রকাশ করে তাদের জন্য সমস্যার কারণ হওয়া উচিত? নবি কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন—
অর্থ: “যে মহিলা সুগন্ধি ব্যবহার করে ঘর থেকে বের হয়, তার নামাজ কবুল হয় না, যতক্ষণ না সে নাপাক ব্যক্তির মতো গোসল করে পবিত্র হয়।”
আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪১৭৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭৩৫৬; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৪০০২।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— “নারীদের ওপর পুরুষগণ শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারী।”<sup>৩৪</sup>
সম্মানিত বোন! একজন পুরুষের মন জয় করা, বিশেষ করে দীর্ঘদিনের জন্য, মোটেও সহজ কাজ নয়। এটা ভুলেও ভাবা উচিত নয় যে—সে তো আমাকে ভালোবাসে। তার সামনে আমাকে সুন্দর রূপে পেশ করার প্রয়োজন নেই বা নতুন করে আর তার মন জয় করা ও তাকে প্রলুব্ধ করার দরকার নেই। আপনাকে অবশ্যই সবসময় আপনার প্রতি তার ভালোবাসা বজায় রাখতে চেষ্টা করে যেতে হবে। এটা নিশ্চিত থাকুন যে—আপনার স্বামী অবশ্যই একজন পাক-পবিত্রা, পরিপাটি মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে পছন্দ করবে। কখনো মুখ খুলে না বললেও এটাই সত্যি। আপনি যদি ঘরে তার জন্য নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন না করেন এবং তার অভ্যন্তরীণ আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করেন; তাহলে সে হয়তো-বা বাড়ির বাইরে সুন্দরী মহিলাদের দিকে নজর দিতে পারে এবং সে আপনার প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে বিপথগামী হয়ে যেতে পারে।
যখনি আপনার স্বামী একজন সুন্দরী মহিলার সাক্ষাৎ লাভ করেন, তার সাথে তখন তিনি আপনাকে তুলনা করেন। আপনি যদি অপরিচ্ছন্ন, উস্কখুস্ক ও উদাসীন হন তবে অন্য সুন্দরী মহিলাদের দেখে আপনার স্বামীর তাদেরকে আকাশের হূর-পরী বলে বোধ হবে। তাই বাড়িতে সুন্দর ও পরিপাটি থাকার চেষ্টা করুন যাতে করে আপনার স্বামী যেন আপনার ওপর আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে।
নিচে একজন স্বামীর লেখা ফেসবুক পোস্টটি দেখুন—
‘আমার স্ত্রী এবং আমার কাজের মেয়েকে দেখে কেউ এটা বলতে পারবে না যে আসলে কোনটা আমার স্ত্রী এবং কোনটা আমার কাজের মেয়ে। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি যে—আমি মাঝে মাঝে ভাবি, ইশ, আমার স্ত্রী যদি অনুষ্ঠানে পরে যাওয়ার জন্য রেখে দেয়া পোশাকগুলো মাঝে মাঝে বাড়িতে পরতো! যদি সে তার ময়লা, ছেঁড়া জামাগুলো না পরে বাহিরে ছুড়ে ফেলে দিতো! আমি মাঝে মাঝে তাকে বলেছি যে—প্রিয়া, শুধুমাত্র ছুটির দিনগুলোতে হলেও বাড়িতে সুন্দর পোশাকগুলো পরিধান করো। সে তিক্ত সুরে জবাব দিলো—আমাকে তো আর বাড়িতে অমন সেজেগুজে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি কোনোদিন আমি আমার সহকর্মীদের সামনে নোংরা রূপে যাই তবে তা আমার জন্য লজ্জাজনক হবে।’
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে—বাসাবাড়ির কাজ করার সময় বা রান্নাবান্নার কাজের সময় তো ভালো জামাকাপড় পরে সেজেগুজে থাকা যায় না। এটা হয়তো সত্যি। ঠিক আছে—তবে একজন গৃহিনী কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন জামা পরিধান করতে পারে। যেমন ঘরের কাজের সময় কাজ করার জামা পরে কাজ করতে পারে। যখন সে তার স্বামীর সাথে অবস্থান করবে বা বাড়ি ফিরবে তখন ভালো জামাটা পরিধান করে থাকতে পারে। আপনি সবসময়ই আপনার চুলগুলো আঁচড়িয়ে রাখতে পারেন এবং ঘরের কাজ শেষে নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ফেলতে পারেন। এটা একজন মহিলার কর্তব্য যে—সুগন্ধি ব্যবহার করে, সবচাইতে উত্তম পোশাক পরিধান করে, নিজেকে সুন্দর করে অলংকৃত করে ওই অবস্থায় স্বামীর সান্নিধ্য লাভ করা। মহিলাদের সাজসজ্জা ছেড়ে দেয়া উচিত নয়, হোক সেটা শুধুমাত্র গলার হার দিয়েই। তার হাত খালি থাকা উচিত নয়, হোক সেখানে একটু মেহেদি দেয়া। এমনকি বুড়ো মহিলাদেরও সাজসজ্জা ছাড়া উচিত নয়।
আপনার স্বামীর জন্য একজন সেবিকা হয়ে যান তার অসুস্থতার ও প্রয়োজনের সময়। উভয়েরই উভয়ের সেবা প্রয়োজন। একজন সেবিকাই পারে প্রেম ও যত্নের মাধ্যমে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করে তুলতে। পুরুষেরা একটা শিশু বৈ কিছু নয়, যারা শুধুমাত্র শারীরিকভাবে বেড়ে উঠেছে। তাদেরও স্নেহের প্রয়োজন পড়ে। একজন পুরুষের যখন একজন মহিলার সাথে বিবাহ হয়, সে তখন তাকে তার কঠিন ও অসুস্থতার সময়ে খুব কাছের মতো করে চায়।
হে বোন!
যদি আপনার স্বামী কখনো অসুস্থ হন, তখন স্বাভাবিক সময়ের চাইতে তার প্রতি আরো বেশি খেয়াল রাখুন। তার প্রতি নিজের সহানুভূতি প্রকাশ করুন এবং এটা বুঝান যে তার এই অবস্থায় আপনি সত্যিই মর্মাহত। তাকে সান্ত্বনা দিন, তার সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখুন এবং ছেলে মেয়েদের শান্ত ও চুপচাপ রাখুন যাতে তার আরামের ব্যাঘাত না ঘটে।
তার যদি ডাক্তারের অথবা ওষুধের দরকার পড়ে তো তা জোগাড় করে দিন। তার দেহের জন্য উপকারী এবং তিনি যা খেতে চান তা রান্না করে দিন। তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে ঘন ঘন জিজ্ঞাসা করুন। যত বেশি সময় সম্ভব তার বিছানার পাশেই থাকুন। জিজ্ঞাসা করুন তিনি কেমন বোধ করছেন। রাতে যদি তার ভালো ঘুম না হয়, তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করুন। দিনের বেলায় তার ঘর শান্ত রাখুন যাতে সে আরামে বিশ্রাম নিতে পারে। তার প্রতি আপনার যত্ন তাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে তুলতে সহায়তা করবে। এতে আপনার স্বামী আপনার ওপর সন্তুষ্ট থাকবে এবং আপনাকে আরো বেশি ভালোবাসবে। অবশ্যই আপনি যখন অসুস্থ হবেন আপনার স্বামীও আপনার এরূপ সেবা করবে।
টিকাঃ
৩৪. সূরা আন-নিসা: ৩৪।
📄 গোপনীয়তা রক্ষা করুন
মহিলারা সাধারণত তার স্বামীর গোপনীয়তা সম্পর্কে জানতে চায়। যেমন—তার উপার্জন, ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা এবং তার কাজ ইত্যাদি। তারা চায় যে তার স্বামী তার কাছ থেকে কোনো কিছুই গোপন না করে। অন্যদিকে পুরুষেরা তাদের সবকিছু তার স্ত্রীকে বলতে রাজি হয় না। এর ফলস্বরূপ অনেক স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হয়। কিছু মহিলা এটা ভেবে বসে যে তার স্বামী তাকে বিশ্বাস করে না, তার মেসেজগুলো পড়তে দেয় না, তার উপার্জন সম্পর্কে কিছু জানায় না, তার সাথে ভালোভাবে কথা বলে না, মাঝে মাঝে মিথ্যাও বলে।
কিন্তু আসলে সত্যি বলতে পুরুষেরা এসব গোপনীয়তা তার স্ত্রীর সাথে ভাগাভাগিতে আপত্তি করে না। কিন্তু তারা এটা বিশ্বাস করে যে স্ত্রীরা গোপনীয়তা রাখতে পারে না। না চাইলেও তারা গোপন বিষয়গুলো অন্যকে ভুলে-ভালে বলে ফেলে, যা তার স্বামীর জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কেউ যদি কারো সম্পর্কে কোনো গোপন তথ্য জানতে চায় তবে এর জন্য তার স্ত্রীর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলাই যথেষ্ট।
কিছু কিছু স্ত্রী তার স্বামীর গোপন তথ্যগুলো জেনে তাকে হুমকি দেয় এবং এভাবে তার স্বামীর বিশ্বাসের অপব্যবহার করে। তুলনামূলকভাবে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের আবেগের প্রভাব বেশি হয়ে থাকে। মহিলারা যখন রাগান্বিত হয় তখন তাদের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং এ অবস্থায় তার স্বামীর গোপন বিষয়গুলো নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই যদি কোনো মহিলা তার স্বামীর গোপনীয়তা সম্পর্কে আগ্রহী হয় তবে অবশ্যই তাকে বিশেষ সতর্কতার সহিত থাকতে হবে যাতে সে আবেগবশত তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত এগুলো কখনো প্রকাশ করে না বসে। তার আত্মীয় বা কাছের বন্ধুকেও এগুলো বলা উচিত নয়। আপনি যদি কাউকে কিছু বলে দেন তাহলে তো এটা আর গোপনীয়তা রক্ষা হলো না।
অতএব, তিনিই জ্ঞানী যিনি তার গোপনীয়তা কারো কাছে প্রকাশ করেন না। জ্ঞানী ব্যক্তি নিজেই তার গোপনীয়তার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
অর্থ : “তোমরা লক্ষ্য অর্জনের জন্য গোপনীয়তা অবলম্বন করো। কেননা প্রত্যেক সার্থক ব্যক্তি হিংসার শিকার হয়।”৩৬
হজরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
“তোমার গোপন বিষয় তোমার হাতে বন্দী। যখন তা প্রকাশ করে দিবে তুমি তার হাতে বন্দী হয়ে যাবে।”
টিকাঃ
৩৬. বাইহাকি, হাদিস নং : ৬৬৫৫; তাবারানি, হাদিস নং : ১৬৬০৯।
📄 তার নেতৃত্ব মেনে চলুন
প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, কারখানা এবং সংস্থার একজন দায়িত্বশীল পরিচালক প্রয়োজন। যে কোনো ধরনের সামাজিক জোট এবং সংস্থায় কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরন্তু, এই ধরনের জোটের বিষয়গুলো পরিচালনা করার জন্য একজন পরিচালকের প্রয়োজন, যিনি দায়িত্বগুলো সমন্বয় করতে পারেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক জোট হচ্ছে 'পরিবার'। এই জোটের বিষয়াবলি পরিচালনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন ব্যাপার। নিঃসন্দেহে, একটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অবশ্যই গভীর বোঝাপড়া এবং সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকতে হবে। তবে এমন একজন পরিচালকও থাকতে হবে যিনি পরিবারের কাজগুলো দায়িত্বশীলতার সাথে করতে পারেন। বলাই বাহুল্য, যদি পরিবার এমন কোনো ব্যক্তিকে মান্য না করে, যিনি পরিবারের সদস্যদের সংগঠিত করতে পারেন, তবে তা থেকে অশান্তি এবং চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। অতএব, হয়ত স্বামীর পরিবারের পরিচালক হিসেবে কাজ করা উচিত এবং স্ত্রী তাকে অনুসরণ করবে, কিংবা না হয় তার বিপরীত। তবে যেহেতু পুরুষরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে যৌক্তিক দিক প্রাধান্য দিয়ে থাকেন, তাই তারা আরও ভালো তত্ত্বাবধান করতে পারেন।
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন শরিফে এরশাদ করেছেন যে—
অর্থ: “পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক। কারণ, আল্লাহ তাদের একের ওপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং পুরুষেরা নিজের ধন-সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগত। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তারা গোপন বিষয় রক্ষা করে, যেহেতু আল্লাহ গোপন রাখেন। যদি স্ত্রীদের অবাধ্যতার আশংকা করো তবে প্রথমে তাদের সৎ উপদেশ দাও। এরপর তাদের শয্যা থেকে পৃথক করো এবং তারপরও অনুগত না হলে তাদেরকে শাসন করো। এরপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের সাথে কর্কশ আচরণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত- মহীয়ান।”৩৬
আর তাই, পরিবারের সদস্যদের জন্য লাভজনক যে— পুরুষ সদস্যকে অভিভাবক হিসেবে মেনে চলা এবং সকল কাজ তার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা। তবে কারও মনে করা উচিত নয় যে ঘরের মহিলাদের মর্যাদাকে এখানে হীন করা হয়েছে, কিন্তু এটা সত্য যে— ঘরে শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য স্বামীর কর্তৃত্ব প্রয়োজন। যে সব মহিলারা পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে ভাবতে পারেন তারা এটি সহজেই বুঝতে পারবেন।
এক মহিলা বলেছিলেন—
'বাংলাদেশে আমাদের একটি ভালো ঐতিহ্য ছিল; যা দুর্ভাগ্যক্রমে ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে গেছে। এই রীতিতে ঘরের পুরুষ মানুষটি পারিবারিক বিষয়াবলির দায়িত্বে থাকতেন। তিনি কর্তা হিসেবে নিয়োজিত হতেন। ইদানীং পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে এবং পরিবারে কে তাদের দায়িত্ব নেবে সে বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি যে— এখনকার মহিলাদের কমবেশি পুরুষের সমান সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। তার স্বামীকে বাড়ির প্রধান হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এই পুরোনো ঐতিহ্যটি আজকের তরুণীদের কাছে তুলে ধরতে হবে, যারা বিবাহ করতে চায়। তার বিয়ের পোশাক পরে স্বামীর ঘরে প্রবেশ করা উচিত এবং কাফন পরা অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।'
তবে এটা সত্য যে— দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার কারণে পুরুষরা সকল পারিবারিক কাজে অংশ নিতে পারে না। বাস্তবে স্ত্রী তার ইচ্ছা অনুযায়ী সংসার পরিচালনা করে। কিন্তু তবুও পুরুষের শাসন করার অধিকার রয়েছে এবং একইভাবে তাকে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত। সুতরাং, তার উচিত পরিবারের যে কোনো বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করা বা পরামর্শ দেওয়া। স্ত্রীর কোনোভাবেই তার নেতৃত্ব অস্বীকার করা উচিত নয়। অন্যথায়, লোকটি নিজেকে অসহায় মনে করবে এবং স্ত্রীকে একজন রূঢ় এবং অকৃতজ্ঞ নারী হিসেবে বিবেচনা করবেন। তিনি তার বিরুদ্ধে বিরক্তি পোষণ করতে পারেন। এমনকি পরবর্তী পর্যায়ে স্ত্রীর বৈধ ইচ্ছাপূরণ থেকেও বিরত থাকতে পারেন।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—
অর্থ: “একজন ভালো মহিলা তার স্বামীর ইচ্ছার প্রতি মনোযোগ দেয় এবং তার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে।”৩৭
আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানে রোজা রাখে, নিজের সতীত্বের হেফাজত করে এবং স্বামীর অনুগত থাকে, তবে তার জন্য জান্নাতের সবগুলো দরজা খুলে যায়।”৩৮
নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন—
অর্থ: “কোনো মানুষকে সেজদা করা বৈধ হলে আমি নারীদেরকে আদেশ করতাম তারা যেন নিজের স্বামীকে সেজদা করে। যদি কারো স্বামী তাকে আদেশ করে এক পাহাড়ের পাথর আরেক পাহাড়ে জমা করতে, তবে তার সেটাই করা উচিত।”৩৯
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন—
অর্থ: “সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো স্ত্রী হিসেবে এমন নারী পাওয়া, যে তার স্বামীর সাথে দুর্ব্যবহার করে, মুখে মুখে তর্ক করে স্বামীকে কষ্ট দেয়।”৪০
প্রিয় বোন! আপনার স্বামীর কর্তৃত্ব মেনে নিন। পরিবারের সকল বিষয়ে তাকে তদারক করতে দিন। তার আদেশ লঙ্ঘন করবেন না। ঘরোয়া ও পারিবারিক বিষয়ে তার অংশগ্রহণে বাধা দেবেন না বা বিরোধিতা করবেন না। এমনকি আপনার দক্ষতা রয়েছে এমন বিষয়েও তার অংশগ্রহণকে অগ্রাহ্য করবেন না। কার্যত তাকে ক্ষমতাহীন করে দেবেন না। তাকে মাঝে মাঝে আপনার কাজেও অংশ নিতে দিন। আপনার সন্তানদের তার শাসনকে শ্রদ্ধা করতে এবং তাদের সকল বিষয়ে তাদের বাবার কাছ থেকে অনুমতি নিতে শিক্ষা দিন। আপনার সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই পিতামাতার আদেশের অবাধ্য না হওয়া শিখতে হবে। জীবনে যখন কঠিন সময় আসবে এবং জীবন উত্থান-পতনে ভরে উঠবে তখন ধৈর্যশীল হোন। ভাগ্যের চাকা সর্বদা আমাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ঘোরে না। মানুষকে নানা ধরনের কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেকে অসুস্থ হয়। অনেকে চাকরি হারিয়ে ফেলে। আবার কেউ কেউ তার সমস্ত ধন-সম্পদ হারিয়ে ফেলে। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনেই নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা, যারা একে অপরের প্রতি আনুগত্যের শপথ করেছেন এবং বিবাহের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, তাদের জীবনের পথে একে অপরের হাতে হাত রেখে চলা উচিত। এ বন্ধন এতটাই দৃঢ় হওয়া উচিত যেন সুস্থতা-অসুস্থতায় কিংবা দারিদ্র্য-স্বচ্ছলতায় বা ভালো-খারাপ সময়গুলোতে তাদের একত্রে ধরে রাখতে পারে।
প্রিয় বোন!
যদি আপনার স্বামী দরিদ্র হয়ে যায় তবে অবশ্যই তার বিপদে আপনাকে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব রাখতে হবে। যদি সে অসুস্থ হয়ে ঘরে বা হাসপাতালে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে, তবে তার প্রতি আপনার আরও সহনশীল হতে হবে। আপনাকে অবশ্যই তার সেবা শুশ্রূষা করতে হবে। প্রয়োজনে তার পাশে থাকতে হবে এবং তার জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। আপনার নিজের টাকা থাকলে তার চিকিৎসার জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে। মনে রাখবেন আপনি যদি অসুস্থ হন তাহলে আপনার স্বামীই আপনার চিকিৎসার খরচ বহন করবে। আপনি কি স্বামীর সুস্থতার চেয়ে আপনার অর্থ-সম্পদ ধরে রাখা বেশি পছন্দ করবেন? আপনি যদি এইরকম সংবেদনশীল সময়ে তাকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি আপনার উপর হতাশ হবেন এবং এমনকি আপনার সাথে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।
কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। ডাক্তার তাকে বলেছিলেন— হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে তাকে ওষুধ ও ভালো খাবার খেতে হবে। সে তার স্ত্রীকে বলেছিল যে— সে যা সঞ্চয় করেছে সেখান থেকে তাকে যেন কিছু টাকা ঋণ হিসেবে দেয় এবং ভালো খাবার ও ওষুধ কিনে আনে। কিন্তু এতে সে দ্বিমত পোষণ করে এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ফলস্বরূপ তাকে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করতে হয়েছিল। এখন তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এমন মহিলার সাথে সে আর থাকতে ইচ্ছুক নয় যার কাছে কিনা তার স্বামীর চেয়ে অর্থের প্রাধান্য বেশি। এই মহিলাকে কীভাবে একজন ‘স্ত্রী’ হিসেবে মানতে পারেন?
প্রত্যেক বিবেকবান ব্যক্তিই স্বীকার করবে যে— উপরোক্ত ক্ষেত্রে, লোকটিই সঠিক ছিল। এই ধরনের মহিলা; যে তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য অর্থ ব্যয় করতে চান না, তিনি ‘স্ত্রীধর্ম’ এর মতো সম্মানিত অবস্থানের যোগ্য নন।
প্রিয় বোন!
আপনার স্বামী অসুস্থতায় ভুগলে তার প্রতি নির্দয় আচরণ না করার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। কীভাবে আপনি তাকে এবং আপনার সন্তানদের ছেড়ে চলে যেতে পারেন? আপনি এমন একজনকে কীভাবে ছেড়ে যেতে পারেন যার সাথে আপনি অনেক আনন্দময় দিন এবং রাত কাটিয়েছেন? আপনি কীভাবে জানবেন যে— একই রকম ভাগ্য আবারও আপনার জন্য অপেক্ষা করছে কি না? আপনি কীভাবে নিশ্চিত হতে পারেন যে অন্য কোনো লোক তার চেয়েও ভালো হবে? জেদি এবং স্বার্থপর হয়ে উঠবেন না। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং আপনার নিজের সম্মান ও সন্তানদের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করুন এবং নিজেকে উৎসর্গ করে দিন। ধৈর্য ধরুন এবং আপনার বাচ্চাদের নিষ্ঠা, ভালোবাসা এবং ধৈর্যের শিক্ষা দিন। নিশ্চিত থাকুন, এই দুনিয়া এবং পরকালে আপনাকে সম্মানের সাথে পুরস্কৃত করা হবে। আপনার স্বামীর সেবা-যত্ন করা তার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের সর্বোত্তম পন্থা যা জিহাদের স্তরে স্থাপন করা হয়েছে।
টিকাঃ
৩৬ সূরা নিসা: ৩৪।
৩৭ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭৪২১; সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১।
৩৮ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ১৬১৬; তাবারানি, হাদিস নং: ৪৫৯৮।
৩৯ ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫২; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ২১৯৮৬।
৪০ মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭৩২।