📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 নিন্দুকের কথায় কান দিবেন না

📄 নিন্দুকের কথায় কান দিবেন না


কিছু কিছু মানুষের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে একটি হলো একে অপরের সমালোচনা করা। এই স্বভাবটি জন্মগত নয়, চরিত্রগত। এটি মানুষের মধ্যে দ্বিধা, হতাশা, বৈরাগ্য এবং কলহের সৃষ্টি করে। এটি পরিবারে সুসম্পর্ক নষ্ট করে বিবাদের সৃষ্টি করে। এটি স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দূরত্ব তৈরি করে এবং এর কারণে খুনাখুনিও হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত এটি মানুষের মাঝে এত ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে, এটি মানুষের কাছে এখন আর অপরাধ বলে মনে হয় না। মানুষ সমালোচনা ও গীবতকে কোনো আড্ডার সাধারণ বিষয় মনে করে।

মহিলাদের আলোচনায় এটি খুব বেশি হয়ে থাকে। দুজন মহিলার দেখা হলেই তারা সমালোচনা শুরু করে দেয়। যেন তারা প্রতিযোগিতা করে অন্যের সমালোচনা করে। তারা মাঝে মাঝে তাদের স্বামী নিয়ে কথা বলে। উদাহরণস্বরূপ—তারা তাদের চেহারা বা চাকরি নিয়ে আলোচনা করে এবং অন্যের স্বামীর দোষ খুঁজে বেড়ায়। যেমন—কারো স্বামী মেকানিক বা মুচি হলে তারা এটি নিয়ে একজন আরেকজনের সাথে সমালোচনা করে। কারো স্বামী ড্রাইভার হলে বলে—'তোমার স্বামী সব সময় বাইরে বাইরে থাকে। কীভাবে সংসার করো তার সাথে?' কসাই হলে বলে—'তোমার স্বামী সব সময় দুর্গন্ধে থাকে।' কারো স্বামী কম পয়সা রোজগার করলে বলে—'এত কম টাকা দিয়ে সংসার চালাও কীভাবে? তাকে কেন বিয়ে করেছিলে? তুমি এত সুন্দরী হয়ে এমন পুঁচকে বেঁটে বিয়ে করলে! তোমার কি খারাপ লাগে না? তোমার বাবা-মা কীভাবে এটা মেনে নিল! তারা কি তোমার ওপর বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল? তুমি এর থেকে ভালো কাউকে বিয়ে করতে পারতে। তুমি কেন তাকেই বেছে নিলে? সে না তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যায়, না তোমাকে শপিংয়ে নিয়ে যায়। তাছাড়া তোমার স্বামী দেখতে কী ভয়ানক! কীভাবে থাকো তুমি তার সাথে? এত শিক্ষিতা হয়ে কীভাবে পারলে তাকে বিয়ে করতে?'

সমাজে মহিলাদের একটা বড় অংশ এসব কথার সম্মুখীন হয়। মহিলারা এসব বলতে বলতে আর এর পরিণতি চিন্তা করে না। তারা এটা ভাবে না যে, তাদের এই গল্প ও সমালোচনায় কারো তালাক হতে পারে। এমনকি বিষয়টি খুন পর্যন্ত গড়াতে পারে। এই জাতীয় মহিলারা সত্যি মানবী রূপে রাক্ষস। তারা পরিবারের শত্রু। তারা পরিবারের মধ্যে কলহের সৃষ্টি করে এবং সংসারকে অন্ধকার এবং ভয়াবহ অন্ধকূপে পরিণত করে। এদের কী করা উচিত? এটি আমাদের সমাজের একটি অংশ। যদিও ইসলাম আমাদের এ জাতীয় কর্ম থেকে দূরে থাকতে দৃঢ়ভাবে নির্দেশ দিয়েছে তবুও আমরা সেগুলি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—
অর্থ : “তোমরা যারা নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করছো কিন্তু অন্তরে ঈমান নেই, তারা মন দিয়ে শোনো, মুসলমানের সমালোচনা করো না, তাদের দোষ খুঁজতে যেওনা, যে ব্যক্তি মুসলমানের দোষ খুঁজে বেড়ায় আল্লাহ তাআলা তার দোষ খোঁজেন। আর আল্লাহ যার দোষ খোঁজেন সে নিজের ঘরে বসে থেকেও লাঞ্ছিত হয়।”৩০

এসব দুষ্ট চরিত্রের মহিলার এক বা বহু লক্ষ্য থাকতে পারে। মানুষের সংসার ভেঙে প্রতিশোধ নিতে তারা এসব সমালোচনা করে। অনেকে ঈর্ষান্বিত হয়ে বা নিজের আত্ম-গৌরব অর্জনের কারণেও এটি করতে পারে। তারা তাদের নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে বা সহজ সরল মহিলাদের প্রতারিত করতেও এসব কাজ করতে পারে। তারা তাদের সহানুভূতি দেখানোর ভান করতে পারে। তাদের কোনো লক্ষ্য নেই, তারা তাদের একঘেয়েমি দূর করতে এবং নিজেদের বিনোদনের জন্য এসব কাজ করে। এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, কারো মঙ্গলের জন্য কেউ এসব কাজ করে না। এসব কর্মকাণ্ড বিপর্যয় ডেকে আনে। সম্মানিত পাঠকগণ! যারা আমার লেখাটি পড়ছেন আপনারা নিশ্চয়ই এমন কর্মকাণ্ডের ফল দেখেছেন।

একজন মহিলা আদালতে বলেছিল—
“একটা লোক আমার স্বামীর নিন্দা করত; যাতে আমার এবং আমার স্বামীর মধ্যে সংঘাত ঘটে। সে সব সময় বলত আমার স্বামী আমার জন্য উপযুক্ত নয়। লোকটি আমাকে বোঝাতো, আমার স্বামী আমাকে বোঝে না, আমার প্রতি তার কোনো আবেগ নেই। সে সব সময় চাইত আমি যেন আমার স্বামীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করি। ফলশ্রুতিতে আমি তার কথায় পড়ে আমরা দুইজনে মিলে আমার স্বামীকে খুন করি।” এসব শুনে বিচারক বলল— “এখন আপনি এসব মিষ্টি কথার পিছনে দুষ্ট উদ্দেশ্যগুলি বুঝতে পেরেছেন। যদি আপনি আপনার স্বামী এবং শিশুদের ভালোবাসতেন, তবে মানব-আকৃতির শয়তানের ভাষায় প্রভাবিত হতেন না। এসব মিথ্যা বন্ধুত্বে পড়ে নিজের ক্ষতি করতেন না।”

এরা আপনার বন্ধু না, এটা নিশ্চিত থাকুন। এরা আপনাকে আপনার পরিবার থেকে আলাদা করতে চায়। এসব কথায় কান দিবেন না এবং এদের বিশ্বাস করবেন না। তীক্ষ্ণভাবে এদের খারাপ উদ্দেশ্যগুলি অনুসন্ধান করার চেষ্টা করুন। যখনই তারা আপনার স্বামীকে নিয়ে সমালোচনা করবে তখনই তাদের থামিয়ে দিবেন। এটা বলতে সংকোচবোধ করবেন না যে— 'যদি আমার শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকতে চাও তাহলে আমার স্বামীকে নিয়ে কথা বলা বন্ধ করো। তাকে নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার তোমার নেই। আমি আমার স্বামীকে ভালোবাসি এবং সে অনেক ভালো।' যখন আপনি জোর গলায় বলবেন আপনি আপনার স্বামী সন্তানকে ভালোবাসেন, তখন তারা এটা বুঝতে পেরে আপনাকে কুপথে প্ররোচিত করতে ব্যর্থ হবে। তারা আর আপনাকে উত্যক্ত করবে না। তাদের মন খারাপ হবে বা তাদের সাথে বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাবে এসব চিন্তা করবেন না। যদি তারা আপনার সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকে তাহলে তারা আপনার কথায় কষ্ট পাবে না বরং তারা আপনাকে ধন্যবাদ দিবে। যদি তারা আপনার শত্রু হয় তাহলে তাদের এড়িয়ে চলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। মানুষরূপী এসব শয়তানদের কথার জবাব দিন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্ব শেষ করে দিন।

টিকাঃ
৩০ সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ১১৪০।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 সংসারে মায়ের চেয়ে স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিন

📄 সংসারে মায়ের চেয়ে স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিন


আপনার স্বামী-সন্তান যখন বাড়িতে থাকে তখন তাদের যত্ন নেয়া আপনার কর্তব্য। বিয়ে করার পর একটা মেয়ের দায়িত্ব বেড়ে যায়। শ্বশুরবাড়িতে একটা মেয়ের তার স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এমনকি তার পিতামাতা এবং তার স্বামী পরস্পরবিরোধী হলেও স্বামীকে মানতে হবে। তার নিজের পিতামাতা এতে অসন্তুষ্ট হলেও স্বামীকেই মানতে হবে। কেউ তার স্বামীর অবাধ্য হলে এর বিপরীতে তাদের সংসারজীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

উপরন্তু অনেক মা উপযুক্ত শিক্ষা ও জ্ঞান পান না। কিছু মা এখনও বুঝতে পারেন না যে—তাদের নিজের কন্যাকে তাদের স্বামীর সাথে বোঝাপড়া করার জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত। একটি দম্পতি যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয় তাহলে তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। যেহেতু মায়েরা এই বিষয়টি সম্পর্কে অসচেতন, তাই তারা নিজের ইচ্ছামতো মেয়ের সংসার করে দিতে চান। তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মেয়ের সংসারে হস্তক্ষেপ করতে চান। এসব কাজে তারা তাদের ছোট্ট মেয়েটাকে ব্যবহার করেন, যে এসব সমস্যার ব্যাপারে খুবই অনভিজ্ঞ। এসব মায়েরা প্রতিনিয়ত বলে থাকেন কীভাবে থাকতে হবে, কী করতে হবে, কী বলতে হবে, কী না বলতে হবে। অসহায় মেয়েটা, যে দায়ী।' আরেক লোক তার শাশুড়ির হস্তক্ষেপে বিরক্ত হয়ে ট্যাক্সি থেকে লাফ দিয়েছিল।

যে কন্যারা নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মায়েদের এই ধরনের কথা মেনে চলে, নিঃসন্দেহে তারা নিজেদের ওপর আঘাত আনে। যেসব মহিলা নিজেদের সংসারের প্রতি সচেতন তারা কোনোদিন তাদের ইচ্ছা দ্বারা প্রভাবিত হবে না এবং মানবে না। এটা শতভাগ সত্য। চালাক ও বুদ্ধিমান মহিলারা তাদের মায়ের উপদেশগুলো তাদের পারিবারিক জীবনে প্রয়োগ করার আগে সবসময় যাচাই-বাছাই করবে। তার সাথে পরিবারের সম্পর্ক খারাপ ও ভয়াবহ না হলে সে উপদেশগুলো বাস্তবায়ন করবে। এক্ষেত্রে সে তার মায়ের ইচ্ছার সাথে সম্মতি দিতে পারে। তাছাড়া, সে যদি বুঝতে সক্ষম হয় তার মা অজ্ঞ ও তার উপদেশগুলো ঝগড়া-বিবাদের সৃষ্টি করে, তাহলে সে তার মায়ের উপদেশ এড়িয়ে চলতে পারে।

যাইহোক, একটি মেয়ের সামনে দুটি পথ আছে—
১. মায়ের কথা মতো চলে পারিবারিক অশান্তি বৃদ্ধি করা; ২. মায়ের কথা উপেক্ষা করে স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া।

তালাকের পর একজন মেয়ে তার পিতামাতার সাথে থাকতে পারে। কিন্তু পরিবারের লোকজন খুব বেশি দিন তাকে মেনে নিতে চাইবে না, তারা তার থেকে মুক্তি চাইবে। সেও পরিবারের সবার সামনে সংকোচ ও অপমান বোধ করবে। একা বাস করাও সম্ভব না। আবার অন্য একটা বিয়ে করাও সহজ না। সে কীভাবে নিশ্চিত হবে যাকে সে বিয়ে করবে সে তার সন্তানের জন্য ভালো হবে? নতুন কাউকে বিয়ে করলে তার সন্তানের কী হবে? হতাশাগ্রস্ত হয়ে সে নিজেকে শেষ করে ফেলতে পারে। এমনও তো হতে পারে, যাকে সে বিয়ে করবে তার সাথে জীবন এতো বেশি জটিল হয়ে উঠল যে সে নিজের কাছ থেকে পালাতে চাইবে অথবা নিজেকে মেরে ফেলতে চাইবে!

একবার এক মহিলা তার মা ও অন্যান্য মানুষের স্বার্থপর ও নির্বোধ উপদেশের পরিণতি চিন্তা করল। তার স্বামীর সাথে যেন তার সম্পর্কের অবনতি না হয় তাই সে দৃঢ়ভাবে তাদের কথাগুলো প্রত্যাখ্যান করল। সে তার মাকে বলল—
“আমি এখন বিবাহিত। সংসার ঠিক রাখতে ও স্বামীকে সন্তুষ্ট করতে আমাকেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমি বরং তার সাথে ভালো আচরণ করব, কারণ সে আমার জীবনসঙ্গী। আমাকে সাহায্য করা ও আমাকে খুশি করার সামর্থ্য তার আছে। সে তার জীবনের সব উত্থান-পতন, সবকিছু আমাকে বলে। আমার পছন্দে তাকে আমি বিয়ে করেছি। যদি আমাদের মাঝে কোনো সমস্যা হয় তাহলে আমরা নিজেরা এটা সমাধান করতে চেষ্টা করব। আমাদের জীবন নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করতে পারব। তোমার হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে। আমার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে চাইলে আমাদের জীবনে হস্তক্ষেপ করো না। আমার স্বামীকে নিয়ে সমালোচনা করা বন্ধ করো নইলে তোমার সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।”

যদি আপনার মা এসব কথা শোনার পর নাক গলানো বন্ধ করেন তাহলে তিনি ভবিষ্যতে এই কাজ আর করবেন না। যদি তিনি আপনার কোনো কথার দাম না দেন তাহলে তার সাথে থাকার দরকার নেই। এভাবে নিজেকে সামলে একটি আরামদায়ক জীবনযাপন আপনি করতে পারেন।

আপনার পিতামাতা থেকে দূরে থাকলে হয়তো আপনি পরিবারের সদস্যদের কাছে ছোট হবেন কিন্তু এর থেকে বেশি সম্মান আপনি আপনার স্বামীর কাছ থেকে পাবেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “আমি কি বলে দেবো তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে জান্নাতি কারা? যারা মমতাময়ী, অধিক সন্তান প্রসবকারী, স্বামীবান্ধব, নিজের দোষ বা স্বামীর দোষ উভয় ক্ষেত্রেই সে স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমার চোখে ঘুম নামবে না।”৩১

সুনান নাসাঈতে আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একদা জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো নারী সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেন—
অর্থ: “যে নারী স্বামীকে আনন্দিত করে, যখন স্বামী তার দিকে তাকায়। যে নারী স্বামীর আনুগত্য করে, যখন স্বামী তাকে আদেশ দেয়। যে নারী স্বামীর সম্পদ ও নিজ নফসের ব্যাপারে, এমন কোনো কর্মে লিপ্ত হয় না, যা স্বামীর অপছন্দ।”৩২

টিকাঃ
৩১ সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৯০৯৪।
৩২ সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১, মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭৩০।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 বাড়িতে সুন্দর ও পরিপাটি থাকুন

📄 বাড়িতে সুন্দর ও পরিপাটি থাকুন


বেশিরভাগ স্ত্রীলোকের মাঝে এই রীতি প্রচলিত যে—যখন তারা কোনো অনুষ্ঠান বা আয়োজনে যায়, তখন তারা তাদের সবচাইতে ভালো পোশাক ও অলঙ্কার দিয়ে নিজেদের অলংকৃত করে। তারপর যখন তারা বাড়ি ফিরে, তারা তাদের পোশাক খুলে পুরনো ও ময়লা পোশাক পরে নেয়।

এইসব স্ত্রীলোকেরা বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকে না এবং বাড়িতে নিজেকে সুসজ্জিত রাখে না। তারা এলোমেলো চুল, দাগ পড়ে যাওয়া কাপড়-চোপড় নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। আসলে কিন্তু এর উল্টো করা উচিত ছিল। কারণ, একজন নারীর উচিত তার স্বামীর সামনে সুন্দর ও পরিপাটি হয়ে থেকে তার হৃদয় জয় করে নেয়া। যাতে করে তার হৃদয়ে অন্য কোনো মহিলার জন্য কোনো প্রকার স্থান তৈরি না হয়। সে কেন নিজের স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য সাজবে? একজন মহিলার কি পরপুরুষের সামনে তার সৌন্দর্য প্রকাশ করে তাদের জন্য সমস্যার কারণ হওয়া উচিত? নবি কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন—
অর্থ: “যে মহিলা সুগন্ধি ব্যবহার করে ঘর থেকে বের হয়, তার নামাজ কবুল হয় না, যতক্ষণ না সে নাপাক ব্যক্তির মতো গোসল করে পবিত্র হয়।”
আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪১৭৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭৩৫৬; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৪০০২।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— “নারীদের ওপর পুরুষগণ শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারী।”<sup>৩৪</sup>

সম্মানিত বোন! একজন পুরুষের মন জয় করা, বিশেষ করে দীর্ঘদিনের জন্য, মোটেও সহজ কাজ নয়। এটা ভুলেও ভাবা উচিত নয় যে—সে তো আমাকে ভালোবাসে। তার সামনে আমাকে সুন্দর রূপে পেশ করার প্রয়োজন নেই বা নতুন করে আর তার মন জয় করা ও তাকে প্রলুব্ধ করার দরকার নেই। আপনাকে অবশ্যই সবসময় আপনার প্রতি তার ভালোবাসা বজায় রাখতে চেষ্টা করে যেতে হবে। এটা নিশ্চিত থাকুন যে—আপনার স্বামী অবশ্যই একজন পাক-পবিত্রা, পরিপাটি মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে পছন্দ করবে। কখনো মুখ খুলে না বললেও এটাই সত্যি। আপনি যদি ঘরে তার জন্য নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন না করেন এবং তার অভ্যন্তরীণ আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করেন; তাহলে সে হয়তো-বা বাড়ির বাইরে সুন্দরী মহিলাদের দিকে নজর দিতে পারে এবং সে আপনার প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে বিপথগামী হয়ে যেতে পারে।

যখনি আপনার স্বামী একজন সুন্দরী মহিলার সাক্ষাৎ লাভ করেন, তার সাথে তখন তিনি আপনাকে তুলনা করেন। আপনি যদি অপরিচ্ছন্ন, উস্কখুস্ক ও উদাসীন হন তবে অন্য সুন্দরী মহিলাদের দেখে আপনার স্বামীর তাদেরকে আকাশের হূর-পরী বলে বোধ হবে। তাই বাড়িতে সুন্দর ও পরিপাটি থাকার চেষ্টা করুন যাতে করে আপনার স্বামী যেন আপনার ওপর আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে।

নিচে একজন স্বামীর লেখা ফেসবুক পোস্টটি দেখুন—
‘আমার স্ত্রী এবং আমার কাজের মেয়েকে দেখে কেউ এটা বলতে পারবে না যে আসলে কোনটা আমার স্ত্রী এবং কোনটা আমার কাজের মেয়ে। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি যে—আমি মাঝে মাঝে ভাবি, ইশ, আমার স্ত্রী যদি অনুষ্ঠানে পরে যাওয়ার জন্য রেখে দেয়া পোশাকগুলো মাঝে মাঝে বাড়িতে পরতো! যদি সে তার ময়লা, ছেঁড়া জামাগুলো না পরে বাহিরে ছুড়ে ফেলে দিতো! আমি মাঝে মাঝে তাকে বলেছি যে—প্রিয়া, শুধুমাত্র ছুটির দিনগুলোতে হলেও বাড়িতে সুন্দর পোশাকগুলো পরিধান করো। সে তিক্ত সুরে জবাব দিলো—আমাকে তো আর বাড়িতে অমন সেজেগুজে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি কোনোদিন আমি আমার সহকর্মীদের সামনে নোংরা রূপে যাই তবে তা আমার জন্য লজ্জাজনক হবে।’

আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে—বাসাবাড়ির কাজ করার সময় বা রান্নাবান্নার কাজের সময় তো ভালো জামাকাপড় পরে সেজেগুজে থাকা যায় না। এটা হয়তো সত্যি। ঠিক আছে—তবে একজন গৃহিনী কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন জামা পরিধান করতে পারে। যেমন ঘরের কাজের সময় কাজ করার জামা পরে কাজ করতে পারে। যখন সে তার স্বামীর সাথে অবস্থান করবে বা বাড়ি ফিরবে তখন ভালো জামাটা পরিধান করে থাকতে পারে। আপনি সবসময়ই আপনার চুলগুলো আঁচড়িয়ে রাখতে পারেন এবং ঘরের কাজ শেষে নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ফেলতে পারেন। এটা একজন মহিলার কর্তব্য যে—সুগন্ধি ব্যবহার করে, সবচাইতে উত্তম পোশাক পরিধান করে, নিজেকে সুন্দর করে অলংকৃত করে ওই অবস্থায় স্বামীর সান্নিধ্য লাভ করা। মহিলাদের সাজসজ্জা ছেড়ে দেয়া উচিত নয়, হোক সেটা শুধুমাত্র গলার হার দিয়েই। তার হাত খালি থাকা উচিত নয়, হোক সেখানে একটু মেহেদি দেয়া। এমনকি বুড়ো মহিলাদেরও সাজসজ্জা ছাড়া উচিত নয়।

আপনার স্বামীর জন্য একজন সেবিকা হয়ে যান তার অসুস্থতার ও প্রয়োজনের সময়। উভয়েরই উভয়ের সেবা প্রয়োজন। একজন সেবিকাই পারে প্রেম ও যত্নের মাধ্যমে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করে তুলতে। পুরুষেরা একটা শিশু বৈ কিছু নয়, যারা শুধুমাত্র শারীরিকভাবে বেড়ে উঠেছে। তাদেরও স্নেহের প্রয়োজন পড়ে। একজন পুরুষের যখন একজন মহিলার সাথে বিবাহ হয়, সে তখন তাকে তার কঠিন ও অসুস্থতার সময়ে খুব কাছের মতো করে চায়।

হে বোন!
যদি আপনার স্বামী কখনো অসুস্থ হন, তখন স্বাভাবিক সময়ের চাইতে তার প্রতি আরো বেশি খেয়াল রাখুন। তার প্রতি নিজের সহানুভূতি প্রকাশ করুন এবং এটা বুঝান যে তার এই অবস্থায় আপনি সত্যিই মর্মাহত। তাকে সান্ত্বনা দিন, তার সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখুন এবং ছেলে মেয়েদের শান্ত ও চুপচাপ রাখুন যাতে তার আরামের ব্যাঘাত না ঘটে।

তার যদি ডাক্তারের অথবা ওষুধের দরকার পড়ে তো তা জোগাড় করে দিন। তার দেহের জন্য উপকারী এবং তিনি যা খেতে চান তা রান্না করে দিন। তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে ঘন ঘন জিজ্ঞাসা করুন। যত বেশি সময় সম্ভব তার বিছানার পাশেই থাকুন। জিজ্ঞাসা করুন তিনি কেমন বোধ করছেন। রাতে যদি তার ভালো ঘুম না হয়, তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করুন। দিনের বেলায় তার ঘর শান্ত রাখুন যাতে সে আরামে বিশ্রাম নিতে পারে। তার প্রতি আপনার যত্ন তাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে তুলতে সহায়তা করবে। এতে আপনার স্বামী আপনার ওপর সন্তুষ্ট থাকবে এবং আপনাকে আরো বেশি ভালোবাসবে। অবশ্যই আপনি যখন অসুস্থ হবেন আপনার স্বামীও আপনার এরূপ সেবা করবে।

টিকাঃ
৩৪. সূরা আন-নিসা: ৩৪।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 গোপনীয়তা রক্ষা করুন

📄 গোপনীয়তা রক্ষা করুন


মহিলারা সাধারণত তার স্বামীর গোপনীয়তা সম্পর্কে জানতে চায়। যেমন—তার উপার্জন, ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা এবং তার কাজ ইত্যাদি। তারা চায় যে তার স্বামী তার কাছ থেকে কোনো কিছুই গোপন না করে। অন্যদিকে পুরুষেরা তাদের সবকিছু তার স্ত্রীকে বলতে রাজি হয় না। এর ফলস্বরূপ অনেক স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হয়। কিছু মহিলা এটা ভেবে বসে যে তার স্বামী তাকে বিশ্বাস করে না, তার মেসেজগুলো পড়তে দেয় না, তার উপার্জন সম্পর্কে কিছু জানায় না, তার সাথে ভালোভাবে কথা বলে না, মাঝে মাঝে মিথ্যাও বলে।

কিন্তু আসলে সত্যি বলতে পুরুষেরা এসব গোপনীয়তা তার স্ত্রীর সাথে ভাগাভাগিতে আপত্তি করে না। কিন্তু তারা এটা বিশ্বাস করে যে স্ত্রীরা গোপনীয়তা রাখতে পারে না। না চাইলেও তারা গোপন বিষয়গুলো অন্যকে ভুলে-ভালে বলে ফেলে, যা তার স্বামীর জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কেউ যদি কারো সম্পর্কে কোনো গোপন তথ্য জানতে চায় তবে এর জন্য তার স্ত্রীর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলাই যথেষ্ট।

কিছু কিছু স্ত্রী তার স্বামীর গোপন তথ্যগুলো জেনে তাকে হুমকি দেয় এবং এভাবে তার স্বামীর বিশ্বাসের অপব্যবহার করে। তুলনামূলকভাবে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের আবেগের প্রভাব বেশি হয়ে থাকে। মহিলারা যখন রাগান্বিত হয় তখন তাদের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং এ অবস্থায় তার স্বামীর গোপন বিষয়গুলো নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই যদি কোনো মহিলা তার স্বামীর গোপনীয়তা সম্পর্কে আগ্রহী হয় তবে অবশ্যই তাকে বিশেষ সতর্কতার সহিত থাকতে হবে যাতে সে আবেগবশত তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত এগুলো কখনো প্রকাশ করে না বসে। তার আত্মীয় বা কাছের বন্ধুকেও এগুলো বলা উচিত নয়। আপনি যদি কাউকে কিছু বলে দেন তাহলে তো এটা আর গোপনীয়তা রক্ষা হলো না।

অতএব, তিনিই জ্ঞানী যিনি তার গোপনীয়তা কারো কাছে প্রকাশ করেন না। জ্ঞানী ব্যক্তি নিজেই তার গোপনীয়তার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
অর্থ : “তোমরা লক্ষ্য অর্জনের জন্য গোপনীয়তা অবলম্বন করো। কেননা প্রত্যেক সার্থক ব্যক্তি হিংসার শিকার হয়।”৩৬

হজরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
“তোমার গোপন বিষয় তোমার হাতে বন্দী। যখন তা প্রকাশ করে দিবে তুমি তার হাতে বন্দী হয়ে যাবে।”

টিকাঃ
৩৬. বাইহাকি, হাদিস নং : ৬৬৫৫; তাবারানি, হাদিস নং : ১৬৬০৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00