📄 স্বামীকে স্বাধীনতা দিন
যথাযোগ্য উপায়ে কাজ করা এবং অগ্রগতির জন্য পুরুষদের ব্যবসা সমিতি কিংবা কাজে স্বাধীনতা থাকা উচিত। যদি তারা তাদের কাজকর্মে বাধাপ্রাপ্ত হন তবে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। একজন জ্ঞানী বোন তার স্বামীর কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা উচিত নয়; কারণ তার জানা উচিত যে— স্বামীর যে স্বাধীনতা প্রয়োজন তা অস্বীকার এবং তার কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার ফলে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। বুদ্ধিমান এবং অভিজ্ঞ পুরুষদের নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের পুরুষরা সবসময় বুদ্ধিমান আচরণ করেন; তাদের কেউ প্রতারিত করতে পারে না; তারা তাদের বন্ধু এবং শত্রু উভয়কেই চেনেন। তবে এমন কিছু পুরুষ আছেন যারা সহজ-সরল; তারা সহজেই অন্যের দ্বারা প্রতারিত এবং প্রভাবিত হতে পারেন। এমন ছদ্মবেশী লোকেরাও রয়েছে যারা এসব সহজ-সরল পুরুষদের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। এরা সৎকর্মশীল হওয়ার ভান করে, সহজ-সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে এবং দুর্নীতির দিকে টেনে নিয়ে যায়। দূষিত সমাজ আর মানুষের একরোখা স্বভাবের কারণে এরূপ পরিস্থিতি বদলায় না।
সহজ-সরল মানুষটি কিছু সময়ের জন্য তার পরিস্থিতি বুঝতে পারেন না, কিন্তু এক সময় তিনি সজাগ হন এবং নিজেকে এক গভীর ফাঁদে শনাক্ত করেন যেখান থেকে নিস্তারের কোনো উপায় নেই। যদি আপনি নিজের চারপাশে তাকান, এমন অসংখ্য দুর্ভাগা মানুষকে দেখতে পাবেন। সম্ভবত, তাদের কারও ফাঁদে পড়ার বা দুর্নীতিবাজ হওয়ার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু তাদের স্বকীয় সরলতা, অজ্ঞতা আর অসাবধানতার কারণে তারা এখন সমাজের দুর্নীতিবাজদের শিকার। এই হিসাবে সাধারণ পুরুষদের যত্ন নেওয়া দরকার। জ্ঞানী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের মহা উপকার করতে পারেন। এই কাজের জন্য উত্তম হলেন এসব পুরুষদের স্ত্রীরা। একজন জ্ঞানী ও চতুর স্ত্রী তার হিতৈষী ও জ্ঞানী মনোভাব দ্বারা স্বামীর প্রতি এই কাজগুলো উত্তমরূপে সম্পাদন করতে সক্ষম।
এমন বোনদেরও তাদের স্বামীর ব্যাপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করা বা তাদের 'কী করণীয় এবং কী করণীয় নয়' তা না বলার কথা মনে রাখা উচিত। এর কারণ হলো— পুরুষরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যের হাতে হাতিয়ার হয়ে থাকতে অপছন্দ করেন; অন্যথায় তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। তবে একজন বিজ্ঞ বোন পরোক্ষভাবে তার স্বামীর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্বামীর অজান্তেই তার সহযোগিতার প্রতি নজর রাখেন। এমনও হয় যে— কিছু পুরুষ, কিছু সময়, স্বাভাবিকের চেয়ে দেরিতে বাড়ি ফেরেন। যদি ব্যাপারটি এমন হয় এবং দেরিতে বাড়ি ফেরার পরিমাণ গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে থাকে, তবে চিন্তার প্রয়োজন নেই, কারণ পুরুষরা মাঝে মধ্যেই কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েন যা তারা তাদের কাজের শেষে সমাধানের চেষ্টা করেন।
কিন্তু যদি দেরিতে ফেরার পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে যায় তবে স্ত্রীর সে বিষয়ে তদন্তের চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু তদন্ত করা সহজ কাজ নয়; এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য এবং বিজ্ঞতা। এক্ষেত্রে অবশ্যই রাগ কিংবা বিরোধ এড়িয়ে যেতে হবে। স্বামীর সাথে নমনীয় এবং বিনয়ের সাথে কথা বলা উচিত। কেন তিনি আগের চেয়ে দেরিতে বাড়ি ফেরেন আর কোথায় ছিলেন তা জানতে চাওয়া উচিত। স্ত্রীর উচিত বিভিন্ন সময় এবং সুযোগে বিজ্ঞতা আর ধৈর্য সহকারে বিষয়টি অনুসন্ধান করা। যদি তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামী চাকরির কারণে বা বৈজ্ঞানিক, ধর্মীয় এবং নৈতিক সম্মেলনে যোগদান করার কারণে দেরি করে বাড়ি ফেরেন তবে স্ত্রীর উচিত তাকে একা ছেড়ে দেওয়া।
যদি তিনি মনে করেন তার স্বামী নতুন বন্ধু পেয়েছেন, তাহলে সেটা কে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা উচিত। যদি সেই নতুন বন্ধুটি একজন আচারনিষ্ঠ ব্যক্তি হন তবে চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি এটি পরামর্শ দেওয়া হয় যে— স্ত্রীর উচিত স্বামীকে সেই নতুন বন্ধুত্বের প্রতি উৎসাহিত করা, কারণ— একজন ভালো বন্ধু একটি মহান আশীর্বাদ তুল্য।
যদি আপনি মনে করেন, আপনার স্বামী বিপথগামী হয়ে পড়েছেন বা দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য লোকদের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছেন তবে আপনার অবিলম্বে তাকে থামানো উচিত। এরকম পরিস্থিতিতে একজন স্ত্রীর উপর অনেক বড় দায়িত্ব থাকে। অসচেতনতার কারণে পরিস্থিতিটির সামান্যতম অপব্যবহার পারিবারিক জীবনকে নষ্ট করে দিতে পারে।
এটি এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে কিছু বোনের বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজনীয় এবং স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তাকে মনে রাখতে হবে, ঝগড়া কিংবা তর্ক কোনো সমাধান নয় এবং এর ফলাফলও উল্টো হতে পারে। একজন বোন, যিনি এমন পরিস্থিতির শিকার, তিনি দুটি কাজ করতে পারেন:
প্রথমত— বাড়ির পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা। নিজেকে ও নিজের আচরণ পরখ করতে হবে। অবশ্যই স্বামীর এমন আচরণের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে, কেন তার স্বামী পরিবারের প্রতি উদাসীন আর বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি হয়ত দেখবেন যে তার নিজের আচরণই এর কারণ ছিল; অথবা তিনি নিজেই; কিংবা হয়ত তার রান্না করা খাবার, ভঙ্গিমা বা বাড়ির বিভিন্ন বিষয়ে স্বামীর চাহিদার প্রতি উদাসীন ছিলেন। এইরূপ বিষয়গুলো পুরুষদের বাড়ি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তারা তখন তাদের সমস্যাগুলি ভুলে যাওয়ার জন্য বাইরের বিপথগামী কাজে জড়িয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে স্ত্রী, স্বামীকে তার অসুবিধা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন এবং সেগুলো সমাধানে সহায়তা করতে পারেন। যদি কোনো বোন নিজেকে সংশোধন করেন এবং স্বামীর চাহিদা অনুসারে ঘরকে পরিবর্তন করেন, তবে তিনি আশা রাখতে পারেন যে— তার স্বামী আবারও আগের মতো সংসারে ফিরবেন এবং খারাপ স্থানসমূহ এড়াতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত— তাকে যতটা সম্ভব সহৃদয়তা দেখাতে হবে। স্ত্রীর উচিত স্বামীকে পরামর্শ দেওয়া এবং তার কর্মের ভয়াবহ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এমনকি, খারাপ সঙ্গ ছেড়ে দেওয়ার জন্য কাকুতি সহকারে অনুরোধ করা। তাকে অবশ্যই বলতে হবে, 'আমি আপনাকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসি। আমি আপনাকে নিয়ে গর্বিত। আপনাকে সবকিছুর চেয়ে বেশি পছন্দ করি আর আমি নিজেকে আপনার প্রতি একান্তভাবে নিয়োজিত করতে প্রস্তুত। কিন্তু আমি একটা বিষয় নিয়ে মনঃক্ষুণ্ণ; আপনার মতো একজন ব্যক্তির কেন এই ধরনের বন্ধুবান্ধব থাকবে? কেনই বা আপনি এমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন? এই জাতীয় কাজ তো আপনার জন্য উপযুক্ত নয়। দয়া করে এসব ছেড়ে দিন।'
স্ত্রীর অবশ্যই এমন মনোভাব অব্যাহত রাখতে হবে যতক্ষণ না তিনি তার স্বামীর মন জয় করতে পারছেন। এটা হতেই পারে যে— স্বামী বাজে অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন আর তাই তিনি স্ত্রীর কথা সহজে মেনে নিতে পারছেন না, তাহলেও স্ত্রীর হতাশ হওয়া যাবে না। তার উচিত আরও বেশি শক্তি ও ধৈর্য সহকারে নিজের লক্ষ্যকে অনুসরণ করা। পুরুষদের উপর নারীদের এক অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ আর প্রভাব রয়েছে। সুতরাং স্ত্রী যদি নিজের মন স্থির রাখতে পারেন তবে তিনি যা চান তা করতে সক্ষম হবেন। তিনি যদি স্বামীকে দুর্নীতির নোংরামি থেকে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি তা করতে পারবেন। যদি তিনি বিজ্ঞতার সাথে কাজ করতে পারেন তাহলে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি। যাই হোক না কেন, সহিংস বা কঠোর মনোভাব নিয়ে স্বামীর সাথে ব্যবহার করা উচিত নয়, যতক্ষণ না দেখেন যে তার প্রতি সদয় ও বিনয়ী হয়ে কোনো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। আর তারপরই চরম হওয়া, বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া বা অন্য কোনো উপায় যথাসাধ্য ব্যবহার করে স্বামীকে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু তা প্রতিশোধ হিসাবে নয়। হ্যাঁ, স্বামীর দেখাশোনা করা প্রত্যেক স্ত্রীর কর্তব্য। এটি একটি কঠিন দায়িত্ব।
📄 সন্দেহপ্রবণ নারী
সন্দেহ একটি মারাত্মক ব্যাধি, যা শুধু ধ্বংসই ডেকে আনে। সন্দেহপ্রবণ ব্যক্তি নিজের সাথে সাথে অন্যেরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু নারী এই মারাত্মক ধ্বংসাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত। স্বামীর উপর নজরদারি করা স্ত্রীর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তবে সন্দেহ যখন অবিশ্বাসে পরিণত হয় তখন স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। কেননা সন্দেহপ্রবণ স্ত্রী ধরেই নেয় যে তার স্বামী তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। সে ধরেই নেয় তার স্বামী তার অজান্তেই অন্য কোনো নারীর সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত। সে তাকে যে কোনো মহিলার সাথেই এমনকি সহকর্মীর সাথেও সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করতে শুরু করে। সে সম্পূর্ণভাবে তার স্বামীর উপর থেকে বিশ্বাস হারাতে শুরু করে। রাত করে বাড়ি ফেরা অথবা অন্য কোনো নারীর সাথে কথা বলতে দেখলেই সন্দেহের মাত্রা তীব্র হয়। এমনকি তা চরম অবিশ্বাসে পরিণত হয়।
উদাহরণস্বরূপ- সে যদি কোনো বিধবা এবং বিধবার সন্তানকে সাহায্য করে থাকে, তবে তার স্ত্রী ভাবতে শুরু করে এর পিছনেও অন্য কারণ আছে। হয়তোবা সে ঐ বিধবার প্রতি কোনো রকম আকর্ষণ অনুভব করছে। অথচ এই কাজটি শুধু মাত্রই মানবতার খাতিরে করা। শুধু তাই নয়, অন্য কোনো মহিলা যদি তার স্বামীকে সুদর্শন বলে অথবা তার আচরণের প্রশংসা করে তাতেও তার স্ত্রীর ধারণা হয় তার স্বামী ঐ মহিলার প্রতি আকর্ষিত। এমনকি তার গাড়িতেও যদি অন্য কোনো নারীর চুল পাওয়া যায় তাতেও তার স্ত্রী মনে করে তার স্বামীর জীবনে অন্য কোনো নারী আছে। এ জাতীয় চিন্তা ভাবনা এবং অহেতুক বিষয়সমূহ এ ধরণের সন্দেহপ্রবণ স্ত্রীদের আরো বেশি রাগিয়ে দেয়। তাদের স্বামীর প্রতি সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। দিন রাত তারা এই ব্যাপারেই চিন্তা করতে থাকে। শুধু তাই নয় এই ধরনের সন্দেহপ্রবণ স্ত্রীরা তাদের বন্ধুবান্ধব এবং নিকটস্থ আত্মীয়স্বজনদের কাছে স্বামী সম্পর্কে বলে বেড়ায়। তাকে প্রতারক বলে সম্বোধন করে। তাদের ভিতরে সন্দেহ নামের যে বীজ বপন করা হয়ে যায় তা তারা এভাবেই অন্যদের নিকট উপস্থাপন করে। আর সেসকল আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধব সহানুভূতি প্রদর্শনের নাম করে অন্যান্য প্রতারক স্বামীদের উদাহরণ প্রদর্শন করে। তারা তাদের সম্পর্কের পতন চায়। ঝগড়া-বিবাদ চলতেই থাকে। এতে করে যা হয়, স্ত্রী তার পরিবারের প্রতি উদাসীন হয়ে যায়। স্বামী এবং সন্তানের প্রতি নিজের দায়িত্ব পালনে অনীহা প্রকাশ করে। এমনকি নিজের পৈতৃক বাড়িতে চলে যায়। সে তার স্বামীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। এমনকি তার পকেটও খুঁজে। তার দাপ্তরিক চিঠিপত্রও পড়তে শুরু করে এবং ছোট ছোট সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা খুঁজতে থাকে।
আর এ সবকিছুই করে অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ হয়ে। এ ধরণের ব্যবহারের মাধ্যমে সে তার পরিবারের সুখ শান্তি নষ্ট করে। সংসারকে নরকে পরিণত করে। অনেকটা জাহান্নাম বানিয়ে ফেলে, যে জাহান্নামের আগুনে সে নিজেও জ্বলতে থাকে। এতো কিছুর পর যদি তার স্বামী তার নিজের পক্ষে কোনো প্রমাণ নিয়ে আসে বা তাকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করে এতেও তার স্ত্রী রেগে যায়। এমনকি তার স্বামীর কান্নাও তার মনকে নরম করতে পারে না। কোনো কিছুতেই সে সন্তুষ্ট হয় না।
• নিম্নের উদাহরণগুলো জেনে রাখা অবশ্যই জরুরি হবে-
একজন মহিলা একটি পারিবারিক আদালতে বলেছিলো- “আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই যদি আমি আমাদের বিয়ের ১২ বছর পর তিন সন্তানসহ আমার স্বামীর কাছ থেকে পৃথক হতে চাই। এখানে এতটা আশ্চর্য হবার কিছুই নেই যে কেন আমি এমনটা করতে চাচ্ছি। কারণ আমি জানি আমার স্বামী আমার প্রতি সৎ নয়। কিছুদিন আগেও আমি তাকে একটি মহিলার সাথে হাঁটতে দেখেছি। আমি ভাগ্য কুণ্ডলী বিশ্বাস করি। আমি একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন পড়ি। সেখানে "Fortune Telling” এর পাতায় প্রতি সপ্তাহে আমার স্বামীর ভাগ্যকুণ্ডলী দেখি। ঐ ভাগ্যকুণ্ডলী অনুযায়ী আমার স্বামী ঠিক ঐ নারীর সঙ্গেই খুশি হবে; যে কিনা জুন মাসে জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু আমি তো ফেব্রুয়ারিতে জন্মেছি। সুতরাং স্পষ্টত তার ভালো থাকা আমার সাথে নয়, সে আমার সাথে সুখী নয়। তাছাড়া শুরুর দিকে সে আমাকে যতটা ভালোবাসতো, এখন ততটা ভালোবাসে না। সে এখন ঠিক আগের মতো আমায় কাছে টানে না। আমি এসব কিছু অনুভব করতে পারি।”
সব শুনে মহিলার স্বামী বলল- 'কেউকি বলবেন আমি কী করতে পারি? ঠিক কী করলে আমার স্ত্রীর বিশ্বাসযোগ্য হতে পারি? আমার মনে হয় ঐ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন এর পাঠক যারা আছেন, সবাই আমার স্ত্রীর মতো। সে ম্যাগাজিনটি ভুল। সব মিথ্যা। এখানে সত্য কিছুই নেই। বিশ্বাস করুন, এই ম্যাগাজিন আমার এবং আমার বাচ্চার জীবন, আমাদের সংসার, সবকিছু ধ্বংসের মুখে নিয়ে এসেছে। ঐ ম্যাগাজিনের কুণ্ডলী পাতা বলে, আমার হাতে বেশকিছু টাকা আসবে। ঠিক তারপরই আমার স্ত্রী আমাকে প্রশ্ন করবে টাকা দিয়ে আমি কী করেছি। অথচ আমার হাতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে টাকা আসার কোনো কারণ বা উপায় নেই। এমনও হতে পারে, হয়তো কুণ্ডলীতে দেখাবে যে আমি কোনো চিঠি পাবো। তারপর তো আমাকে একমাত্র আল্লাহই বাঁচাবেন এই মিথ্যা সন্দেহ থেকে। এর চেয়ে বরং আমরা আলাদাই হয়ে যাই। এতে করে মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবো। আর আমার স্ত্রী কোনো যৌক্তিক কারণ দেখাচ্ছে না। এর চেয়ে বরং আমরা আলাদাই হয়ে যাই।”
এক লোক কোর্টে বলছিলো- “একবার আমি একা এক পার্টি শেষে ঘরে ফিরছিলাম। এমন সময় আমার কলিগ আর তার ওয়াইফ আমাকে বললো তাদেরকে লিফট দিতে। আমি লিফট দিলাম। তার পরপরই আমার বউ তার বাপের বাড়ি যেতে চাইলো। বললো, তাকে তার বাপের বাড়ি নামিয়ে দিতে। আমি যথারীতি তাকে গাড়িতে উঠিয়ে ড্রাইভ শুরু করলাম। আমার স্ত্রী তখন দেখলো, একটা মেয়ের চুল গাড়ির সিটে। স্ত্রী ততক্ষণাৎ চুল টা নিয়ে আমায় জিজ্ঞেস করলো চুলটা কোত্থেকে এসেছে? আমি ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছিলাম, তাই বললাম, জানিনা। এরপর যখন তাকে আনতে গেলাম, আমার স্ত্রী আসবে না বলে দিলো এবং বললো, 'যার চুল তোমার গাড়ির সিটে পাওয়া গিয়েছে তাকে নিয়ে সংসার করো।'
এক ভদ্র মহিলা কোর্টে এসে বিচার দিলো- “তার স্বামী ওভারটাইমের নাম দিয়ে অনেক রাত বাইরে কাটায়। তাকে ধোঁকা দিচ্ছে। এতোদিন সে বিশ্বাস করেছে। কিন্তু পাড়া প্রতিবেশী যখন থেকে বলছে যে- তার স্বামী চাকরি শেষে বাইরে গিয়ে নিজে রিল্যাক্স করে অন্যের সাথে সময় কাটায়, তখন থেকে সেও সন্দেহ করছে। তার মনে হয়; তার স্বামী আসলেই কাজে থাকে না, অন্য কোথাও যাচ্ছে। তাকে ধোঁকা দিচ্ছে। তাই সে মিথ্যাবাদীর সাথে সংসার করতে চায় না। তখনই তার স্বামী পকেট হতে কিছু চিঠি বের করে বিচারকের সামনে রাখলো। বিচারক চিঠি গুলো বের করে জোরে জোরে পড়া শুরু করলো। দেখা গেলো- চিঠিগুলো হলো সেই ব্যক্তির অফিস হতে দেওয়া ওভার টাইমের নোটিশগুলো। তখন মহিলা বললো- আমি রোজ রাতে তার পকেট চেক করেছি কিন্তু কিছু পাইনি। তখন বিচারক বললেন- সে হয়তো তার অফিসের ডেস্কে রেখে আসতো কাগজগুলো। তার স্বামী তখন বললো- আমি আমার স্ত্রীর ব্যবহারে মনে করেছিলাম- তার অন্য কোনো পুরুষের সাথে সম্পর্ক আছে। আমি নিজেই তাই তাকে ইগনোর করা শুরু করি। আমি ভয় পেয়েছিলাম এটা নিয়ে। তখন তার স্ত্রী ভুল বুঝতে পেরে স্বামীর কাছে ক্ষমা চাইলো। পরস্পর ভুল স্বীকার করে আদালত ত্যাগ করলো।"
একজন দাঁতের ডাক্তার আদালতে অভিযোগ আনলো- “তার স্ত্রী তাকে চেম্বার করতে দিতে চায় না। তার স্ত্রীর ধারণা তার কাছে অনেক মেয়ে রোগীও আসে এবং সেই মেয়ে রোগীদের তার স্বামীর উপর দুর্বলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই সে কোনো মেয়ে রোগী দেখতে পারবে না। কিন্তু ভদ্রলোক ডাক্তার, তার কাছে তার রেগুলার পেশেন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একবার তিনি চেম্বারে রোগী দেখছেন, হঠাৎ তার স্ত্রী এসে তাকে টেনে বের করে নিয়ে গেলো। বললো- ‘কাজ করার দরকার নেই।' বাড়ি গিয়ে কারণ জানতে চাইলে; তার স্ত্রী বলেন- তিনি চেম্বারের বাইরে বসে রোগীদের সাথে আলাপ করছিলেন। এক সুন্দরী মহিলা তখন বললেন, ডাক্তারটি খুব হ্যান্ডসাম এবং খুব ভালো। সেই ভদ্রমহিলা জানতেন না, যার সাথে কথা বলছেন তিনি ডাক্তারের স্ত্রী। তাই এভাবে নাকি বলে দিয়েছেন। ডেন্টিস্ট হাজবেন্ড বিচারক কে জানালেন- এমন স্ত্রীর সাথে তিনি থাকতে পারবেন না। তার কাছে তার পেশা বড়।”
আরেকবার এক ভদ্র মহিলা বললেন- “তার এক বন্ধু তাকে বলেছে, তোমার স্বামীকে রোজ অফিসের পর এক বাড়িতে যেতে আমি দেখেছি। ঘটনার সত্যতা জানতে, আমি নিজে একদিন আমার স্বামীর পিছু নিয়েছিলাম। দেখলাম– সত্যিই সে তার অফিসের পর একটা বাড়িতে গিয়ে ঢুকলো। সে আমার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তখন তার স্বামী জানালো- বিচারক সাহেব, আমি একবার বাচ্চার গুঁড়া দুধ কিনতে দোকানে গেলে দেখি এক বিধবা মহিলা টাকার অভাবে তার বাচ্চার জন্য দুধ কিনতে পারছে না। আমি তখন তাকে সাহায্য করি এবং ঠিক করি তাকে প্রতিনিয়ত সাহায্য করার।”
এভাবে প্রতিদিন কোনো না কোনো সংসারে সমস্যা সৃষ্টি হয়, যা ধীরে ধীরে ডিভোর্সে রূপ নেয়। এর প্রভাব বেশি পড়ে সন্তানদের উপর। তারা তাদের বাবা-মার ঝগড়া দেখে বড় হয়। ফলে তাদের মন মেজাজ খিটখিটে থাকে। মন সংকীর্ণ হয়ে থাকে। বাবা-মার ডিভোর্সেরও বিরূপ প্রভাব পড়ে তাদের উপর। বাবা-মা মনে করেন ডিভোর্স করে আলাদা হয়ে গেলে নতুন জীবন সঙ্গী আনলে হয়তো তাদের সন্তানকে নিজের সন্তানের মতো বড় করবে, আদর করবে। কিন্তু এটা ভুল, কখনোই সন্তানরা আরেকজনকে তার বাবা কিংবা মা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে না। অন্য একজন এসেও কখনো সহজে নিজের সন্তানের জায়গাটা আরেকজনকে দিতে পারে না। ফলে সন্তানদের জীবনটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। এমনকি স্ত্রীও হয়তো মনে করতে পারে একটা সময় সে এমন করে প্রতিশোধ নিতে পেরেছে। কিন্তু সেও আরেকজনকে সহজেই বিয়ে করে সংসার শুরু করতে পারবে না। এই অবস্থা হতে বাঁচাতে একটাই পথ আছে, তা হলো বাবা-মা ডিভোর্স না করে একজন আরেকজনকে বোঝার চেষ্টা করা। দুজনের সমস্যা বুঝতে চাওয়া। তাহলে এই ঝগড়ার অবসান হবে। এক্ষেত্রে, পুরুষদের ভূমিকা বেশি বলা যায়। একজন পুরুষই তার জীবনের সমস্যাগুলো হতে দূরে থাকতে পারে।
এক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য কিছু টিপ্স-
১. আপনার স্ত্রী আপনাকে ভালোবাসে বলেই আপনাকে হারানোর ভয় পায় এবং সে আপনাকে সন্দেহ করে।
২. আপনার সন্তান, পরিবারের প্রতি তার আগ্রহ আর দায়িত্ববোধ কাজ করে বলেই সে সব কিছু আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকতে চায়। তাই তাকে বোঝার চেষ্টা করুন, কষ্ট না দেওয়ার চেষ্টা করুন।
৩. তিনি আপনাকে ভালোবাসে বলেই আপনাকে সন্দেহ করে ফেলে, এটা তার রোগের মতো। এখানে তার কিছুই করার থাকেনা।
৪. ক্যান্সারের মতো অনেক রোগ আছে। ধরে নিন আপনার স্ত্রীও মানসিক বিষাদগ্রস্ত রোগে ভুগছে। তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। তার সকল অভিযোগ-আক্ষেপ মন দিয়ে শুনে তা শুধরানোর চেষ্টা করুন। অবশ্যই কোনো অভিযোগ কিংবা সন্দেহ আপনা থেকেই হয় না। হয়তো আপনি নিজের অজান্তে এমন কোনো ব্যবহার করেছেন যাতে সে এমন ভুল বুঝতে বাধ্য হয়েছে।
৫. সারাদিন কী হয় না হয় আপনার স্ত্রীকে দিন শেষে শেয়ার করুন।
৬. আপনাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিন। আপনার কাপড়, মানিব্যাগ, চিঠি, সবকিছু তাকে দেখতে দিন।
৭. কাউকে সাহায্য করতে চাইলে স্ত্রীর সাহায্য নিন।
৮. বাইরের পার্টিতে অন্য নারী কিংবা কলিগদের সামনে স্ত্রীকে অপমান করবেন না।
৯. আপনি যদি আসলেই সুপুরুষ হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই আপনার স্ত্রীর সম্মান আপনার কাছে উপরে। অন্যের সামনে তাকে ছোট করবেন না। তাকে নিয়ে হাসি তামাশা করবেন না। কখনো ভাববেন না- আপনার স্ত্রী দাস হয়ে গেছে। উলটো আপনি একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি, যিনি জানেন- কী করলে তার পরিবার সুখী হবে, তার সন্তানরা ভালো থাকবে, সংসারে সুখ আসবে।
উপরন্তু, আল্লাহ ওই সকল ব্যক্তিকে উত্তম প্রতিদান দেন; যারা এই সময়ে ত্যাগের মত মহৎ কাজ করে। সব রকম পরিস্থিতিতে নারীর সাথে নম্র ব্যবহার করা এবং তাদের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলা উচিত, যাতে তাদের কর্ম ভালো হয়। একজন স্ত্রীর তার স্বামীর উপর অধিকার হলো, তার সকল অসচেতনতা এবং বোকামি মাফ করে দেওয়া।
এবার স্ত্রীদের জন্য কিছু কথা-
প্রিয় বোন! এটা অবশ্যই দরকার নেই যে- সব বিষয়ে সকল অবস্থায় আপনার স্বামীকে আপনার কাছে তার নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। যতক্ষণ না তার অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে; আপনার কোনো অধিকার নেই তার সাথে অপরাধীর মত ব্যবহার করার। এমন কি কোনো আইন কিংবা কোনো নিয়মও বলে না- কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে তার সাথে অপরাধীর ন্যায় ব্যবহার করা যাবে কিংবা তাকে শাস্তি দেওয়া যাবে। শুধু ধারণার উপর ভিত্তি করে কোনো অপরাধ হয়েছে বলা যায় না। আপনার কেমন লাগবে আপনাকে যদি কেউ এভাবে প্রমাণ ছাড়া সন্দেহ করে অপরাধী বলে! আপনি বিশ্বাস করুন। সন্দেহ করা পরিত্যাগ করুন। একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে মিথ্যা দোষারোপ করার ভার পাহাড়ের চেয়েও বেশি।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
অর্থ : “হে মুমিনগণ! তোমরা বেশীরভাগ সন্দেহ থেকে বিরত থাকো। অবশ্যই কিছু কিছু সন্দেহ গুনাহের কাজ।”২৭
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন- “যারা মুমিন নর নারীদেরকে মিথ্যা দোষারোপ করে কষ্ট দেয় তারা সুস্পষ্ট অপবাদ ও গুনাহ নিজেদের ঘাড়ে চাপিয়ে নেয়।”২৮
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
অর্থ : “সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ হলো- অন্যায়ভাবে কারো বদনাম করে বেড়ানো।”২৯
প্রিয় বোন!
বোকা হবেন না। কোনো শক্ত প্রমাণ ছাড়া, প্রথমে আপনার স্বামীর ভুলগুলো নোট করুন। এরপর তার ভুলের কারণ কী হতে পারে লিখুন। নিজেকে একজন স্বচ্ছ বিচারকের চেয়ারে বসিয়ে পুরো ব্যাপারটা বিবেচনা করুন। সব সময় যাই দেখছেন তাই সত্য হবে তা নয়। এমনও হতে পারে আপনার স্বামীর গাড়িতে যে চুল পাওয়া গেছে তা আপনার কিংবা তার কোনো আত্মীয়ের। হয়তো তার কোনো কলিগ বিপদে লিফট চেয়েছিল, হয়তো মা, বোনের। অনেক কিছুই হতে পারে। আপনার স্বামী কোনো নারীকে সহায়তা করছে মানে তার মন বড়। সে একজন দরিদ্র নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে মনুষ্যত্ববোধ থেকে। আপনার স্বামীর অফিসে কোনো মেয়ে কলিগ থাকলেই তাকে নিয়ে সন্দেহ করবেন না। স্বামীর কোনো ভুল পেলে সন্দেহ হলে প্রথমেই তাকে জিজ্ঞেস করুন। দুইজনে মিলে ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করুন, তাকে সুযোগ দিন। এরপর যদি দেখেন আপনি এমন কিছু জানেন যা সে বলেনি, তখন তাকে বলুন, সে হয়তো ভুলে গেছে কিংবা ভীত হয়েছিল যেন আপনি ভুল না বুঝেন। তার কথা বিশ্বাস করুন। এরপরও যদি আপনি আরো ভালোভাবে ধীরে সুস্থে খতিয়ে দেখে তার কোনো ভুল পান, তাহলে তার সাথে কথা বলুন। তাকে বলুন আপনাকে সত্যটা বলতে।
অবশ্যই এসব নিয়ে বাইরের কারো সাথে আলাপ করবেন না। কারণ শত্রুরা আপনার সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দিবে। এমনকি আরো কিছু মিথ্যা যোগ করবে আপনার জীবন ধ্বংস করার জন্য। আপনার স্বামী হয়তোবা কোনো ইস্যু না। হয়তোবা তার বড় কোনো অপরাধও নেই। কিন্তু এক ঝাঁক বোকা, সাধারণ, অদক্ষ মানুষ আপনার এই ভুল ধারণা ও অভিযোগে দয়া দেখাবে। তারা হয়তো আপনার আত্মীয়স্বজন কিংবা কাছের বন্ধু। আলোচনা শুধুমাত্র বুদ্ধিমান এবং সৎ মানুষের সাথেই করা উচিত। যদি কারো সাথে আলোচনা করেন তবে একটা সমাধান বের করে তা নিয়ে আলোচনা করুন।
যদি আপনার স্বামীর দোষ প্রমাণিত না হয়, যদি আপনার আত্মীয়স্বজনও তার দোষ না দেখে, কিন্তু তাও আপনি তার উপর সন্দেহ করেন, তবে বুঝতে হবে আপনি আসলেই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। আপনার সন্দেহের সমস্যা হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। আপনার তখন একজন মানসিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।
এই সময় আপনার স্বামীর সাথে আপনার ঝগড়া না করা কিংবা আদালতে না যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বিচ্ছেদের কথা বলবেন না, কিংবা তাকে হেনস্থা করবেন না। এমন ব্যবহার শুধুই ক্ষোভ আর সমস্যা বাড়াবে, যা হয়তো বিচ্ছেদে রূপ নিবে। অবশ্যই বোকার মত কাজ করবেন না। কিংবা আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন না। কারণ নিজেকে হত্যা করে আপনি পরকালে শান্তি পাবেন না। আর ভিত্তিহীন সন্দেহের উপর নিজেকে শেষ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আপনার কি মনে হয় না, সমস্যা সমাধান করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ?
আপনি যদি তারপরও আপনার স্বামীর সাথে একটা সঠিক সমাধানে না যেতে পারেন, কিংবা আসলেই সে অন্য কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে যায়, তাহলে আপনিই দোষারোপিত হবেন। হয়তো আপনিই তার মনে জায়গা করে নিতে পারেননি। কারণ আপনি তার মন জয় করার জন্য পর্যাপ্ত চেষ্টা করেননি। তাই আপনার আর তার জীবনের মধ্যে একটা খালি জায়গা তৈরি হয়েছে। তাই বলে ভেঙে পড়বেন না। এখনো সময় আছে, আপনার ভাব-ভঙ্গিতে পরিবর্তন আনুন এবং এমন আচরণ করুন যা আপনার স্বামীকে আকৃষ্ট করবে।
টিকাঃ
২৭ সূরা হুজুরাত : ১২।
২৮ সূরা আহযাব: ৫৮।
২৯ তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম : ৫২৪৫।
📄 নিন্দুকের কথায় কান দিবেন না
কিছু কিছু মানুষের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে একটি হলো একে অপরের সমালোচনা করা। এই স্বভাবটি জন্মগত নয়, চরিত্রগত। এটি মানুষের মধ্যে দ্বিধা, হতাশা, বৈরাগ্য এবং কলহের সৃষ্টি করে। এটি পরিবারে সুসম্পর্ক নষ্ট করে বিবাদের সৃষ্টি করে। এটি স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দূরত্ব তৈরি করে এবং এর কারণে খুনাখুনিও হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত এটি মানুষের মাঝে এত ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে, এটি মানুষের কাছে এখন আর অপরাধ বলে মনে হয় না। মানুষ সমালোচনা ও গীবতকে কোনো আড্ডার সাধারণ বিষয় মনে করে।
মহিলাদের আলোচনায় এটি খুব বেশি হয়ে থাকে। দুজন মহিলার দেখা হলেই তারা সমালোচনা শুরু করে দেয়। যেন তারা প্রতিযোগিতা করে অন্যের সমালোচনা করে। তারা মাঝে মাঝে তাদের স্বামী নিয়ে কথা বলে। উদাহরণস্বরূপ—তারা তাদের চেহারা বা চাকরি নিয়ে আলোচনা করে এবং অন্যের স্বামীর দোষ খুঁজে বেড়ায়। যেমন—কারো স্বামী মেকানিক বা মুচি হলে তারা এটি নিয়ে একজন আরেকজনের সাথে সমালোচনা করে। কারো স্বামী ড্রাইভার হলে বলে—'তোমার স্বামী সব সময় বাইরে বাইরে থাকে। কীভাবে সংসার করো তার সাথে?' কসাই হলে বলে—'তোমার স্বামী সব সময় দুর্গন্ধে থাকে।' কারো স্বামী কম পয়সা রোজগার করলে বলে—'এত কম টাকা দিয়ে সংসার চালাও কীভাবে? তাকে কেন বিয়ে করেছিলে? তুমি এত সুন্দরী হয়ে এমন পুঁচকে বেঁটে বিয়ে করলে! তোমার কি খারাপ লাগে না? তোমার বাবা-মা কীভাবে এটা মেনে নিল! তারা কি তোমার ওপর বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল? তুমি এর থেকে ভালো কাউকে বিয়ে করতে পারতে। তুমি কেন তাকেই বেছে নিলে? সে না তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যায়, না তোমাকে শপিংয়ে নিয়ে যায়। তাছাড়া তোমার স্বামী দেখতে কী ভয়ানক! কীভাবে থাকো তুমি তার সাথে? এত শিক্ষিতা হয়ে কীভাবে পারলে তাকে বিয়ে করতে?'
সমাজে মহিলাদের একটা বড় অংশ এসব কথার সম্মুখীন হয়। মহিলারা এসব বলতে বলতে আর এর পরিণতি চিন্তা করে না। তারা এটা ভাবে না যে, তাদের এই গল্প ও সমালোচনায় কারো তালাক হতে পারে। এমনকি বিষয়টি খুন পর্যন্ত গড়াতে পারে। এই জাতীয় মহিলারা সত্যি মানবী রূপে রাক্ষস। তারা পরিবারের শত্রু। তারা পরিবারের মধ্যে কলহের সৃষ্টি করে এবং সংসারকে অন্ধকার এবং ভয়াবহ অন্ধকূপে পরিণত করে। এদের কী করা উচিত? এটি আমাদের সমাজের একটি অংশ। যদিও ইসলাম আমাদের এ জাতীয় কর্ম থেকে দূরে থাকতে দৃঢ়ভাবে নির্দেশ দিয়েছে তবুও আমরা সেগুলি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—
অর্থ : “তোমরা যারা নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করছো কিন্তু অন্তরে ঈমান নেই, তারা মন দিয়ে শোনো, মুসলমানের সমালোচনা করো না, তাদের দোষ খুঁজতে যেওনা, যে ব্যক্তি মুসলমানের দোষ খুঁজে বেড়ায় আল্লাহ তাআলা তার দোষ খোঁজেন। আর আল্লাহ যার দোষ খোঁজেন সে নিজের ঘরে বসে থেকেও লাঞ্ছিত হয়।”৩০
এসব দুষ্ট চরিত্রের মহিলার এক বা বহু লক্ষ্য থাকতে পারে। মানুষের সংসার ভেঙে প্রতিশোধ নিতে তারা এসব সমালোচনা করে। অনেকে ঈর্ষান্বিত হয়ে বা নিজের আত্ম-গৌরব অর্জনের কারণেও এটি করতে পারে। তারা তাদের নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে বা সহজ সরল মহিলাদের প্রতারিত করতেও এসব কাজ করতে পারে। তারা তাদের সহানুভূতি দেখানোর ভান করতে পারে। তাদের কোনো লক্ষ্য নেই, তারা তাদের একঘেয়েমি দূর করতে এবং নিজেদের বিনোদনের জন্য এসব কাজ করে। এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, কারো মঙ্গলের জন্য কেউ এসব কাজ করে না। এসব কর্মকাণ্ড বিপর্যয় ডেকে আনে। সম্মানিত পাঠকগণ! যারা আমার লেখাটি পড়ছেন আপনারা নিশ্চয়ই এমন কর্মকাণ্ডের ফল দেখেছেন।
একজন মহিলা আদালতে বলেছিল—
“একটা লোক আমার স্বামীর নিন্দা করত; যাতে আমার এবং আমার স্বামীর মধ্যে সংঘাত ঘটে। সে সব সময় বলত আমার স্বামী আমার জন্য উপযুক্ত নয়। লোকটি আমাকে বোঝাতো, আমার স্বামী আমাকে বোঝে না, আমার প্রতি তার কোনো আবেগ নেই। সে সব সময় চাইত আমি যেন আমার স্বামীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করি। ফলশ্রুতিতে আমি তার কথায় পড়ে আমরা দুইজনে মিলে আমার স্বামীকে খুন করি।” এসব শুনে বিচারক বলল— “এখন আপনি এসব মিষ্টি কথার পিছনে দুষ্ট উদ্দেশ্যগুলি বুঝতে পেরেছেন। যদি আপনি আপনার স্বামী এবং শিশুদের ভালোবাসতেন, তবে মানব-আকৃতির শয়তানের ভাষায় প্রভাবিত হতেন না। এসব মিথ্যা বন্ধুত্বে পড়ে নিজের ক্ষতি করতেন না।”
এরা আপনার বন্ধু না, এটা নিশ্চিত থাকুন। এরা আপনাকে আপনার পরিবার থেকে আলাদা করতে চায়। এসব কথায় কান দিবেন না এবং এদের বিশ্বাস করবেন না। তীক্ষ্ণভাবে এদের খারাপ উদ্দেশ্যগুলি অনুসন্ধান করার চেষ্টা করুন। যখনই তারা আপনার স্বামীকে নিয়ে সমালোচনা করবে তখনই তাদের থামিয়ে দিবেন। এটা বলতে সংকোচবোধ করবেন না যে— 'যদি আমার শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকতে চাও তাহলে আমার স্বামীকে নিয়ে কথা বলা বন্ধ করো। তাকে নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার তোমার নেই। আমি আমার স্বামীকে ভালোবাসি এবং সে অনেক ভালো।' যখন আপনি জোর গলায় বলবেন আপনি আপনার স্বামী সন্তানকে ভালোবাসেন, তখন তারা এটা বুঝতে পেরে আপনাকে কুপথে প্ররোচিত করতে ব্যর্থ হবে। তারা আর আপনাকে উত্যক্ত করবে না। তাদের মন খারাপ হবে বা তাদের সাথে বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাবে এসব চিন্তা করবেন না। যদি তারা আপনার সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকে তাহলে তারা আপনার কথায় কষ্ট পাবে না বরং তারা আপনাকে ধন্যবাদ দিবে। যদি তারা আপনার শত্রু হয় তাহলে তাদের এড়িয়ে চলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। মানুষরূপী এসব শয়তানদের কথার জবাব দিন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্ব শেষ করে দিন।
টিকাঃ
৩০ সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ১১৪০।
📄 সংসারে মায়ের চেয়ে স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিন
আপনার স্বামী-সন্তান যখন বাড়িতে থাকে তখন তাদের যত্ন নেয়া আপনার কর্তব্য। বিয়ে করার পর একটা মেয়ের দায়িত্ব বেড়ে যায়। শ্বশুরবাড়িতে একটা মেয়ের তার স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এমনকি তার পিতামাতা এবং তার স্বামী পরস্পরবিরোধী হলেও স্বামীকে মানতে হবে। তার নিজের পিতামাতা এতে অসন্তুষ্ট হলেও স্বামীকেই মানতে হবে। কেউ তার স্বামীর অবাধ্য হলে এর বিপরীতে তাদের সংসারজীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
উপরন্তু অনেক মা উপযুক্ত শিক্ষা ও জ্ঞান পান না। কিছু মা এখনও বুঝতে পারেন না যে—তাদের নিজের কন্যাকে তাদের স্বামীর সাথে বোঝাপড়া করার জন্য ছেড়ে দেওয়া উচিত। একটি দম্পতি যদি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয় তাহলে তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। যেহেতু মায়েরা এই বিষয়টি সম্পর্কে অসচেতন, তাই তারা নিজের ইচ্ছামতো মেয়ের সংসার করে দিতে চান। তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মেয়ের সংসারে হস্তক্ষেপ করতে চান। এসব কাজে তারা তাদের ছোট্ট মেয়েটাকে ব্যবহার করেন, যে এসব সমস্যার ব্যাপারে খুবই অনভিজ্ঞ। এসব মায়েরা প্রতিনিয়ত বলে থাকেন কীভাবে থাকতে হবে, কী করতে হবে, কী বলতে হবে, কী না বলতে হবে। অসহায় মেয়েটা, যে দায়ী।' আরেক লোক তার শাশুড়ির হস্তক্ষেপে বিরক্ত হয়ে ট্যাক্সি থেকে লাফ দিয়েছিল।
যে কন্যারা নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মায়েদের এই ধরনের কথা মেনে চলে, নিঃসন্দেহে তারা নিজেদের ওপর আঘাত আনে। যেসব মহিলা নিজেদের সংসারের প্রতি সচেতন তারা কোনোদিন তাদের ইচ্ছা দ্বারা প্রভাবিত হবে না এবং মানবে না। এটা শতভাগ সত্য। চালাক ও বুদ্ধিমান মহিলারা তাদের মায়ের উপদেশগুলো তাদের পারিবারিক জীবনে প্রয়োগ করার আগে সবসময় যাচাই-বাছাই করবে। তার সাথে পরিবারের সম্পর্ক খারাপ ও ভয়াবহ না হলে সে উপদেশগুলো বাস্তবায়ন করবে। এক্ষেত্রে সে তার মায়ের ইচ্ছার সাথে সম্মতি দিতে পারে। তাছাড়া, সে যদি বুঝতে সক্ষম হয় তার মা অজ্ঞ ও তার উপদেশগুলো ঝগড়া-বিবাদের সৃষ্টি করে, তাহলে সে তার মায়ের উপদেশ এড়িয়ে চলতে পারে।
যাইহোক, একটি মেয়ের সামনে দুটি পথ আছে—
১. মায়ের কথা মতো চলে পারিবারিক অশান্তি বৃদ্ধি করা; ২. মায়ের কথা উপেক্ষা করে স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া।
তালাকের পর একজন মেয়ে তার পিতামাতার সাথে থাকতে পারে। কিন্তু পরিবারের লোকজন খুব বেশি দিন তাকে মেনে নিতে চাইবে না, তারা তার থেকে মুক্তি চাইবে। সেও পরিবারের সবার সামনে সংকোচ ও অপমান বোধ করবে। একা বাস করাও সম্ভব না। আবার অন্য একটা বিয়ে করাও সহজ না। সে কীভাবে নিশ্চিত হবে যাকে সে বিয়ে করবে সে তার সন্তানের জন্য ভালো হবে? নতুন কাউকে বিয়ে করলে তার সন্তানের কী হবে? হতাশাগ্রস্ত হয়ে সে নিজেকে শেষ করে ফেলতে পারে। এমনও তো হতে পারে, যাকে সে বিয়ে করবে তার সাথে জীবন এতো বেশি জটিল হয়ে উঠল যে সে নিজের কাছ থেকে পালাতে চাইবে অথবা নিজেকে মেরে ফেলতে চাইবে!
একবার এক মহিলা তার মা ও অন্যান্য মানুষের স্বার্থপর ও নির্বোধ উপদেশের পরিণতি চিন্তা করল। তার স্বামীর সাথে যেন তার সম্পর্কের অবনতি না হয় তাই সে দৃঢ়ভাবে তাদের কথাগুলো প্রত্যাখ্যান করল। সে তার মাকে বলল—
“আমি এখন বিবাহিত। সংসার ঠিক রাখতে ও স্বামীকে সন্তুষ্ট করতে আমাকেই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আমি বরং তার সাথে ভালো আচরণ করব, কারণ সে আমার জীবনসঙ্গী। আমাকে সাহায্য করা ও আমাকে খুশি করার সামর্থ্য তার আছে। সে তার জীবনের সব উত্থান-পতন, সবকিছু আমাকে বলে। আমার পছন্দে তাকে আমি বিয়ে করেছি। যদি আমাদের মাঝে কোনো সমস্যা হয় তাহলে আমরা নিজেরা এটা সমাধান করতে চেষ্টা করব। আমাদের জীবন নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করতে পারব। তোমার হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে। আমার সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে চাইলে আমাদের জীবনে হস্তক্ষেপ করো না। আমার স্বামীকে নিয়ে সমালোচনা করা বন্ধ করো নইলে তোমার সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।”
যদি আপনার মা এসব কথা শোনার পর নাক গলানো বন্ধ করেন তাহলে তিনি ভবিষ্যতে এই কাজ আর করবেন না। যদি তিনি আপনার কোনো কথার দাম না দেন তাহলে তার সাথে থাকার দরকার নেই। এভাবে নিজেকে সামলে একটি আরামদায়ক জীবনযাপন আপনি করতে পারেন।
আপনার পিতামাতা থেকে দূরে থাকলে হয়তো আপনি পরিবারের সদস্যদের কাছে ছোট হবেন কিন্তু এর থেকে বেশি সম্মান আপনি আপনার স্বামীর কাছ থেকে পাবেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “আমি কি বলে দেবো তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে জান্নাতি কারা? যারা মমতাময়ী, অধিক সন্তান প্রসবকারী, স্বামীবান্ধব, নিজের দোষ বা স্বামীর দোষ উভয় ক্ষেত্রেই সে স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমার চোখে ঘুম নামবে না।”৩১
সুনান নাসাঈতে আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একদা জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো নারী সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেন—
অর্থ: “যে নারী স্বামীকে আনন্দিত করে, যখন স্বামী তার দিকে তাকায়। যে নারী স্বামীর আনুগত্য করে, যখন স্বামী তাকে আদেশ দেয়। যে নারী স্বামীর সম্পদ ও নিজ নফসের ব্যাপারে, এমন কোনো কর্মে লিপ্ত হয় না, যা স্বামীর অপছন্দ।”৩২
টিকাঃ
৩১ সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৯০৯৪।
৩২ সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১, মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭৩০।