📄 স্বামীর সাথেই থাকুন
আপনার স্বামী হয়তো বেসরকারি বা সরকারি খাতের হয়ে কাজ করছেন এবং তাঁকে অন্য কোনো শহর বা মফস্বলে তাঁর কাজের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিছু লোক এভাবেই অস্থায়ীভাবে বা স্থায়ীভাবে বাস করে থাকেন। পুরুষরা এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে বাধ্য হন। তবে কিছু মহিলা তাঁদের বাবা-মা এবং আত্মীয়দের সাথে থাকতে পছন্দ করেন। এই মহিলারা তাঁদের রাস্তা, দেয়াল এবং তাঁদের জন্মভূমির পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে যান এবং স্বামীর কাজের প্রয়োজনে যখন তাঁদের জন্মভূমি ছেড়ে যেতে হয়, তখন তাঁরা স্বামীদের দোষারোপ করেন এবং অভিযোগ করতে থাকেন যে— ‘আমার বাড়ি থেকে আমি কেন দূরে থাকব? আমি আর কতক্ষণ আমার বাড়ি এবং আমার বাবা-মা থেকে দূরে থাকব? এই জায়গায় আমার কেউ নেই। আপনি আমাকে এখানে এনেছেন? আমি এখানে থাকতে পারি না; তাই তাড়াতাড়ি এখান থেকে ছাড়া পাবার কথা ভাবুন!’
স্বামীদের এভাবে বিচলিত করা উচিত নয়। এই মহিলারা এতটাই দুর্বল মনের অধিকারী যে তারা মনে করে তাদের জন্মস্থানই হচ্ছে বসবাসের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তারা মনে করে যে তারা অন্য কোথাও তাদের জীবন উপভোগ করতে পারবে না। এমনকি মানবজাতি তার নিজের গ্রহের সাথেও সন্তুষ্ট নয়, তাই তারা অন্যান্য গ্রহগুলোতে পা রেখেছে। আপনি এমন অনেক মহিলাকে খুঁজে পাবেন, যিনি এতটাই আপত্তি করবেন যে তিনি তাঁর শহর থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে বসবাস করতেও প্রস্তুত নন। তাঁরা এটা ভাবেন যে— ‘আমি আমার সমস্ত বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনকে রেখে কেন একটি অপরিচিত জায়গায় যাওয়ার জন্য রাজি হব?’ বিষয়টা এরকম যে— মেয়েরা নিজের বাড়ি থেকে দূরে অন্য কোনো জায়গায় গিয়ে নতুন প্রতিবেশী খুঁজে পেতে পারবে কি না, তা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী নন।
প্রিয় বোন! জ্ঞানী এবং আত্মত্যাগী হোন। স্বার্থপর হবেন না। এখন আপনার স্বামীর কাজ আপনাকে নিজের শহর থেকে দূরে নিয়ে গেছে, তাঁকে এ নিয়ে কোনো জ্বালাতন করবেন না। যদি তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হন, তবে কাজের জন্য তাঁর ভ্রমণ করার আদেশ রয়েছে। যদি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা থাকে, তবে অবশ্যই অন্য কোনো জায়গায় বসবাস করা তাঁর ব্যবসার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। যদি আপনার স্বামী আপনাকে অবহিত করেন যে তাঁকে অন্য কোনো জায়গায় থাকতে হবে, তবে আপনার সাথে সাথে একমত হওয়া উচিত। তারপর তাঁকে সব গুছগাছ করতে এবং নতুন জায়গায় স্থানান্তর হতে সহায়তা করা উচিত, যেখানে আপনাকে আপনার নতুন বাড়ি হিসেবে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই নতুন বাড়িতে আপনার জীবনকে নিয়ে পরিকল্পনা করুন এবং নিজেকে এর সাথে খাপ খাইয়ে নিন। যেহেতু আপনি এলাকায় নতুন এবং সম্ভবত বাসিন্দাদের আচার-আচরণ ও বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে পরিচিত নন, তাই তাদের সাথে সতর্ক থাকুন। পরবর্তীতে আপনার স্বামীর সাহায্যে এবং তদারকিতে পুণ্যবান ও বিশ্বস্ত মহিলাদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করার চেষ্টা করুন।
প্রতিটি জায়গার নিজস্ব স্বতন্ত্রতা রয়েছে। আপনি তার দর্শনীয় স্থানগুলো এবং প্রাচীন স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখে আয়েশ করতে পারেন। আপনাকে আপনার পরিবারকে অবশ্যই একসাথে রাখতে হবে এবং আপনার স্বামীকে তাঁর কাজে উৎসাহিত করতে হবে। কিছুদিন পরে আপনি যখন আপনার নিজের নতুন বাড়িতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন, তখন এটি আপনার আগের বাড়ির চেয়েও বেশি পছন্দ হতে পারে।
আপনি দেখতে পাবেন যে আপনার নতুন প্রতিবেশীরা আপনার পুরোনো প্রতিবেশীদের চেয়ে ভালো। নতুন জায়গায় যদি আপনার পূর্ববর্তী শহরের বিলাসিতাগুলো না থাকে, তবে নতুন জীবনের সাথে অভ্যস্ত হয়ে নিন এবং এর সুবিধাগুলোর সন্ধান করুন। এখানে আপনি সতেজ এবং আরও ভালো মানের খাবার পাচ্ছেন। যদি শহুরে উন্নত রাস্তা না থাকে, তবে দেখুন, আপনি বিষাক্ত বাতাস, লোকজন এবং গাড়ির বিকট আওয়াজ থেকে দূরে থাকছেন। আপনার গ্রামের লোকেদের কথা ভাবুন যারা কাদা এবং ইটের তৈরি ঘরে সুখে জীবনযাপন করছেন। তারা শহর জীবনের বিলাসিতা এবং তাদের সুন্দর দুর্গের মতো বাড়িগুলোর দিকে কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ করে না। তাদের প্রয়োজনীয়তা এবং বঞ্চনার দিকটা ভেবে দেখুন। আপনি যদি তাদের কোনোভাবে সহায়তা করতে পারেন, তবে তাতে দ্বিধা করবেন না এবং আপনার স্বামীকে তাদের সহায়তা করতে অনুপ্রাণিত করবেন। আপনি যদি জ্ঞানী হন এবং আপনার দায়িত্ব পালন করেন, তবে আপনি নতুন জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারবেন। আপনি আপনার স্বামীর উন্নতিতে সহায়ক হতে পারবেন। এইভাবে আপনি একজন সম্মানিত এবং একনিষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন। আপনার স্বামীর সুনজরে থাকবেন এবং মানুষের কাছেও জনপ্রিয়তা অর্জন করবেন। তাছাড়া আল্লাহ তাআলাও আপনার ওপর সন্তুষ্ট হবেন।
স্বামীর সাথেই থাকুন
আপনার স্বামী হয়তো বেসরকারি বা সরকারি খাতের হয়ে কাজ করছেন এবং তাকে অন্য কোনো শহর বা এলাকায় তার কাজের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিছু লোক এভাবেই অস্থায়ীভাবে বা স্থায়ীভাবে বাস করে থাকেন। পুরুষরা এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে বাধ্য হন। তবে কিছু মহিলা তাদের বাবা-মা এবং আত্মীয়দের সাথে থাকতে পছন্দ করেন। এই মহিলারা তাদের রাস্তা, দেয়াল এবং তাদের জন্মভূমির পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে যান এবং স্বামীর কাজের প্রয়োজনে যখন তাদের জন্মভূমি ছেড়ে যেতে হয়, তখন তাদের স্বামীদের দোষারোপ করেন এবং অভিযোগ করতে থাকেন যে— ‘আমার বাড়ি থেকে আমি কেন দূরে থাকব? আমি আর কতক্ষণ আমার বাড়ি এবং আমার বাবা-মা থেকে দূরে থাকব? এই জায়গায় আমার কেউ নেই। আপনি আমাকে এখানে কেন এনেছেন? আমি এখানে থাকতে পারি না; তাই তাড়াতাড়ি এখান থেকে ছাড়া পাবার কথা ভাবুন!’
স্বামীদের এভাবে বিচলিত করা উচিত নয়। এই মহিলাগুলি এতটাই দুর্বল-মনের অধিকারী যে— তারা মনে করে তাদের জন্মস্থানই হচ্ছে বসবাসের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এরা মনে করে যে এরা অন্য কোথাও এদের জীবন উপভোগ করতে পারবে না।
এমনকি মানবজাতি তার নিজের গ্রহের সাথেও সন্তুষ্ট নয়, তাই তারা অন্যান্য গ্রহগুলোতে পা রেখেছে। আপনি এমনও অনেক মহিলাকে খুঁজে পাবেন, যিনি এতটাই আপত্তি করবেন যে— তিনি তার শহর থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে বসবাস করতেও প্রস্তুত নন। তারা এটা ভাবে যে— 'আমি আমার সমস্ত বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনকে রেখে কেন একটি অপরিচিত জায়গায় যাওয়ার জন্য রাজি হবো?' বিষয়টা এরকম যে— মেয়েরা নিজের বাড়ি থেকে দূরে অন্য কোনো জায়গায় গিয়ে নতুন প্রতিবেশী খুঁজে পেতে পারবে কি না তা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী নন।
প্রিয় বোন! জ্ঞানশীল এবং আত্মত্যাগী হোন। স্বার্থপর হবেন না। এখন আপনার স্বামীর কাজ আপনাকে নিজের শহর থেকে দূরে নিয়ে গেছে, তাকে এ নিয়ে কোনো জ্বালাতন করবেন না। যদি তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হন তবে কাজের জন্য তার ভ্রমণ করার আদেশ রয়েছে। যদি তার কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা থাকে, তবে অবশ্যই অন্য কোনো জায়গায় বসবাস করা তার ব্যবসায়ের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। যদি আপনার স্বামী আপনাকে অবহিত করেন যে তাকে অন্য কোনো জায়গায় থাকতে হবে, তবে আপনার সাথে সাথে একমত হওয়া উচিত। তারপরে তাকে সব গুছগাছ করতে এবং নতুন জায়গায় স্থানান্তর হতে আপনার সহায়তা করা উচিত; যেখানে আপনাকে আপনার নতুন বাড়ি হিসেবে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করতে হবে। এই নতুন বাড়িতে আপনার জীবনকে নিয়ে পরিকল্পনা করুন এবং নিজেকে এর সাথে খাপ খাইয়ে নিন। যেহেতু আপনি এলাকায় নতুন এবং সম্ভবত বাসিন্দাদের আচার-আচরণ ও বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে পরিচিত নন, তাই তাদের সাথে সতর্ক থাকুন। এবং পরবর্তীতে আপনার স্বামীর সহায়তায় ও তদারকিতে পুণ্যবান ও বিশ্বস্ত মহিলাদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করার চেষ্টা করুন।
প্রতিটি জায়গার নিজস্ব স্বতন্ত্রতা রয়েছে। আপনি তার দর্শনীয় স্থানগুলো এবং প্রাচীন স্থাপনাগুলিতে ঘুরে দেখে আয়েশ করতে পারেন। আপনাকে আপনার পরিবারকে অবশ্যই একসাথে রাখতে হবে এবং আপনার স্বামীকে তার কাজে উৎসাহিত করতে হবে। কিছুদিন পরে আপনি যখন আপনার নিজের নতুন বাড়িতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন, তখন এটি আপনার হয়ে যাবে।
আগের বাড়ির চেয়েও এটি আপনার বেশি পছন্দ হতে পারে। আপনি দেখতে পাবেন যে— আপনার নতুন প্রতিবেশীরা আপনার পুরনো প্রতিবেশীদের চেয়ে ভালো। নতুন জায়গায় যদি আপনার পূর্ববর্তী শহরের বিলাসিতাগুলো না থাকে, তবে নতুন জীবনের সাথে অভ্যস্ত হয়ে নিন এবং এর সুবিধাগুলোর সন্ধান করুন। এখানে আপনি সতেজ এবং আরও ভালো মানের খাবার পাচ্ছেন। যদি শহুরে উন্নত রাস্তা না থাকে তবে দেখুন— আপনি বিষাক্ত বাতাস, হট্টগোল এবং গাড়ির বিকট আওয়াজ থেকে দূরে থাকছেন। আপনার গ্রামের লোকেদের কথা ভাবুন যারা কাদা এবং ইটের তৈরি ঘরে সুখে জীবনযাপন করছেন। তারা শহর জীবনের বিলাসিতা এবং সুন্দর দুর্গের মতো বাড়িগুলির দিকে কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ করে না। তাদের প্রয়োজনীয়তা এবং বঞ্চনার দিকটা ভেবে দেখুন। আপনি যদি তাদের কোনোভাবে সহযোগিতা করতে পারেন তবে তাতে দ্বিধা করবেন না, এবং আপনার স্বামীকে তাদের সহায়তা করতে অনুপ্রাণিত করবেন। আপনি যদি জ্ঞানী হন এবং আপনার দায়িত্ব পালন করেন তবে আপনি নতুন জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারবেন। আপনি আপনার স্বামীর উন্নতিতে সহায়ক হতে পারবেন। এইভাবে আপনি একজন সম্মানিত এবং একনিষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন। আপনার স্বামীর সুনজরে থাকবেন এবং মানুষের কাছেও জনপ্রিয়তা অর্জন করবেন। তাছাড়া আল্লাহ তাআলাও আপনার ওপর সন্তুষ্ট হবেন।
📄 যদি আপনার স্বামী বাড়িতে বসে কাজ করেন
যাদের স্বামী বাইরে কাজ করেন তারা সাধারণত বাড়িতে স্বাধীন। কিন্তু কিছু পুরুষ বাড়িতে বসেই কাজ করেন। যেমন- কবি, লেখক কিংবা বিজ্ঞানী, যাদের প্রচুর পরিমাণে পড়াশোনা করতে হয়। এমন পুরুষদের স্ত্রীরা নিজের বাড়িতে তেমন একটা স্বাধীন নন। আর তাই তাদের জীবনযাপন অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। উল্লেখিত কাজগুলোর জন্য একাগ্রতা, প্রতিভা আর ধীশক্তি আবশ্যক। সুতরাং, এসবের জন্য একাগ্রতা ও নীরবতা দরকার। শান্ত পরিবেশে এক ঘণ্টা কাজ, একটি ব্যস্ত ও কোলাহলময় পরিবেশে বেশ কয়েক ঘণ্টার কাজের সমান। বিষয়টি পরিষ্কার। একদিকে স্বামীর কাজের জন্য একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন আর অন্যদিকে নিজে বাড়িতে মুক্তভাবে নিজের কাজ করার চেষ্টা করুন। যদি কোনো বোন বাড়ির যাবতীয় বিষয়গুলো এমনভাবে সাজাতে পারেন যাতে তাঁর স্বামী নিজের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন তবে বলতেই হয় তিনি অবশ্যই একটি অত্যন্ত মূল্যবান কাজ সম্পাদন করতে পেরেছেন।
এরূপ অর্জন নিশ্চিতভাবে সহজ নয়। বিশেষত- যখন আশপাশে বাচ্চারা থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি অবশ্যই সম্পন্ন করা উচিত। কারণ- কাজে স্বামীর অগ্রগতি এটার ওপরই নির্ভর করে। স্ত্রী যদি স্বামীকে সহযোগিতা করেন তবে তিনি তাঁকে একজন সম্মানিত পুরুষে পরিণত করতে পারেন, যিনি স্ত্রী এবং সমাজের কাছে সুনাম অর্জন করবেন। একজন বোন যার স্বামী বাড়িতে বসে কাজ করেন, তার জন্য স্বামীর কাছে বাচ্চা সামলানো, দরজা খুলে দেওয়া, রান্নাঘর বা গৃহকর্মে সাহায্য করা, বাচ্চাদের শাসন করা; এসব আশা করা উচিত নয়; বরং তিনি যখন কাজ করেন তখন এটা মনে করা উচিত যে- তিনি বাড়িতে নেই।
প্রিয় বোন! যখন আপনার স্বামী অধ্যয়ন কক্ষে যেতে চান; তার বই, খাতা-কলম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন। একবার তার কক্ষ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছানো হয়ে গেলে তাকে একা ছেড়ে দিন। সেখানে সজোরে কথা বলবেন না এবং বাচ্চাদেরকে শোরগোল করতে দেবেন না। আপনার বাচ্চাদের বাবা যখন কাজ করছেন তখন তাদের শেখান তারা যেন শোরগোল করে না খেলে। নিত্যদিনের বিষয় নিয়ে তার সাথে অহেতুক কথা বলবেন না। টেলিফোনে আপনি সাড়া দিন যখন তাতে কেউ ফোন করে। যদি কেউ তাকে দেখতে বা কথা বলতে চায় তবে তাদের বলুন তিনি ব্যস্ত। তার অবসর সময়ে অতিথিদের সাথে আনন্দ বিনোদন করুন। তিনি কাজে ব্যস্ত না থাকলে বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনকে আমন্ত্রণ জানান। আপনার আবদারে আপনার সত্যিকারের বন্ধুরা মর্মাহত হবেন না। আপনি যখন আপনার গৃহস্থালির কাজ করছেন, তাকে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করুন। তার কাজে বাধা দেবেন না। সম্ভবত, কিছু বোন মনে করেন এভাবে জীবন অসম্ভব। তারা হয়তো বলতে পারেন, কোনো মহিলার পক্ষে গৃহস্থালির কাজকর্ম করা, একই সাথে স্বামীর যত্ন নেওয়া আর তার কাজের ব্যাঘাত হতে না দেওয়া কি সম্ভব?
এটা সত্য যে এরূপ জীবন অস্বাভাবিক ও কঠিন বলে মনে হবে; কিন্তু যদি প্রশ্নকারী বোনেরা তাদের স্বামীর কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করেন, তবে তারা উপযুক্ত পরিকল্পনা, নিষ্ঠা আর প্রজ্ঞার মাধ্যমে সমস্যা মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এরূপ পরিস্থিতিতে কিছু বোনের মধ্যে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। অন্যথায়, একটি সাধারণ পারিবারিক জীবন পরিচালনা করা অস্বাভাবিক কোনো কাজ নয়।
প্রিয় বোন! একটি বই লেখা, একটি উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ বা দরকারী প্রবন্ধ লেখা, একটি চমৎকার কবিতা লেখা, একটি মূল্যবান চিত্রকর্ম তৈরি করা, বা বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধান করা সহজ কাজ নয়। তবে, আপনার নিষ্ঠা এবং সহযোগিতা এটাকে সম্ভব করে তোলে। আপনি কি আপনার বাসনা ত্যাগ করে এবং আপনার জীবনে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনার স্বামীকে তার কাজে সাহায্য করতে প্রস্তুত নন?
যদি আপনার স্বামী বাড়িতে বসে কাজ করেন
যাদের স্বামী বাইরে কাজ করেন তারা সাধারণত বাড়িতে স্বাধীন। কিন্তু কিছু পুরুষ বাড়িতে বসেই কাজ করেন। যেমন- কবি, লেখক কিংবা বিজ্ঞানী, যাদের প্রচুর পরিমাণে পড়াশোনা করতে হয়। এমন পুরুষদের স্ত্রীরা নিজের বাড়িতে তেমন একটা স্বাধীন নন। আর তাই তাদের জীবনযাপন অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। উল্লেখিত কাজগুলোর জন্য একাগ্রতা, প্রতিভা আর ধীশক্তি আবশ্যক। সুতরাং, এসবের জন্য একাগ্রতা ও নীরবতা দরকার। শান্ত পরিবেশে এক ঘণ্টা কাজ, একটি ব্যস্ত ও কোলাহলময় পরিবেশে বেশ কয়েক ঘণ্টার কাজের সমান। বিষয়টি পরিষ্কার। একদিকে স্বামীর কাজের জন্য একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন আর অন্যদিকে নিজে বাড়িতে মুক্তভাবে নিজের কাজ করার চেষ্টা করুন। যদি কোনো বোন বাড়ির যাবতীয় বিষয়গুলো এমনভাবে সাজাতে পারেন যাতে তাঁর স্বামী নিজের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন তবে বলতেই হয় তিনি অবশ্যই একটি অত্যন্ত মূল্যবান কাজ সম্পাদন করতে পেরেছেন।
এরূপ অর্জন নিশ্চিতভাবে সহজ নয়। বিশেষত- যখন আশপাশে বাচ্চারা থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি অবশ্যই সম্পন্ন করা উচিত। কারণ- কাজে স্বামীর অগ্রগতি এটার উপরই নির্ভর করে। স্ত্রী যদি স্বামীকে সহযোগিতা করেন তবে তিনি তাঁকে একজন সম্মানিত পুরুষে পরিণত করতে পারেন, যিনি স্ত্রী এবং সমাজের কাছে সুনাম অর্জন করবেন। একজন বোন; যার স্বামী বাড়িতে বসে কাজ করেন, তার জন্য স্বামীর কাছে বাচ্চা সামলানো, দরজা খুলে দেওয়া, রান্নাঘর বা গৃহকর্মে সাহায্য করা, বাচ্চাদের শাসন করা; এসব আশা করা উচিত নয়; বরং তিনি যখন কাজ করেন তখন এটা মনে করা উচিত যে- তিনি বাড়িতে নেই।
প্রিয় বোন! যখন আপনার স্বামী অধ্যয়ন কক্ষে যেতে চান; তার বই, খাতা-কলম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন। একবার তার কক্ষ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছানো হয়ে গেলে তাকে একা ছেড়ে দিন। সেখানে সজোরে কথা বলবেন না এবং বাচ্চাদেরকে শোরগোল করতে দেবেন না। আপনার বাচ্চাদের বাবা যখন কাজ করছেন তখন তাদের শেখান তারা যেন শোরগোল করে না খেলে। নিত্যদিনের বিষয় নিয়ে তার সাথে অহেতুক কথা বলবেন না। টেলিফোনে আপনি সাড়া দিন যখন তাতে কেউ ফোন করে। যদি কেউ তাকে দেখতে বা কথা বলতে চায় তবে তাদের বলুন তিনি ব্যস্ত। তার অবসর সময়ে অতিথিদের সাথে আনন্দ বিনোদন করুন। তিনি কাজে ব্যস্ত না থাকলে বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনকে আমন্ত্রণ জানান। আপনার আবদারে আপনার সত্যিকারের বন্ধুরা মর্মাহত হবেন না। আপনি যখন আপনার গৃহস্থালির কাজ করছেন, তাকে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করুন। তার কাজে বাধা দেবেন না। সম্ভবত, কিছু বোন মনে করেন এভাবে জীবন অসম্ভব। তারা হয়তো বলতে পারেন, কোনো মহিলার পক্ষে গৃহস্থালির কাজকর্ম করা, একই সাথে স্বামীর যত্ন নেওয়া আর তার কাজের ব্যাঘাত হতে না দেওয়া কি সম্ভব?
এটা সত্য যে এইরূপ জীবন অস্বাভাবিক ও কঠিন বলে মনে হবে; কিন্তু যদি প্রশ্নকারী বোনেরা তাদের স্বামীর কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করেন, তবে তারা উপযুক্ত পরিকল্পনা, নিষ্ঠা আর প্রজ্ঞার মাধ্যমে সমস্যা মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এরূপ পরিস্থিতিতে কিছু বোনের মধ্যে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। অন্যথায়, একটি সাধারণ পারিবারিক জীবন পরিচালনা করা অস্বাভাবিক কোনো কাজ নয়।
প্রিয় বোন! একটি বই লেখা, একটি উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ বা দরকারী প্রবন্ধ লেখা, একটি চমৎকার কবিতা লেখা, একটি মূল্যবান চিত্রকর্ম তৈরি করা, বা বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধান করা সহজ কাজ নয়। তবে, আপনার নিষ্ঠা এবং সহযোগিতা এটাকে সম্ভব করে তোলে। আপনি কি আপনার বাসনা ত্যাগ করে এবং আপনার জীবনে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনার স্বামীকে তার কাজে সাহায্য করতে প্রস্তুত নন?
📄 স্বামীর অগ্রগতি সাধনে সহায়ক হোন
আপনার সহায়তায় তিনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি হয়ে উঠবেন আর তখন আপনিই হবেন তাঁর সামাজিক অবস্থানের অংশীদার। আপনার স্বামীর কাজের অগ্রগতি সাধনে আপনি সহায়তা করুন। মানুষ প্রাকৃতিকভাবে সম্ভাব্য সফলতা অর্জন করতে সক্ষম। আমাদের সকলের মধ্যে পরিপূর্ণতা অর্জনের প্রতি ভালোবাসা বিদ্যমান; আর তা অর্জনের জন্যই আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। কারো জন্যই কেবল অস্তিত্ব নিয়ে তুষ্ট থাকা এবং সৃষ্টির উদ্দেশ্য ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তাঁকে অবশ্যই তাঁর জীবদ্দশায় পরিপূর্ণতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। যদিও অনেকে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করে কিন্তু সকলে সফল হয় না। এজন্য প্রয়োজন উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং প্রচুর পরিশ্রম। তাছাড়া অগ্রগতি অর্জনের জন্য তাঁকে অবশ্যই এর ভিত্তি প্রস্তুত এবং বাধা অপসারণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
একজন পুরুষের ব্যক্তিত্ব অনেকাংশে তাঁর স্ত্রীর উপর নির্ভর করে। একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীর উন্নতিতে ততটাই সহায়ক হতে পারেন যতটা এর পক্ষে ক্ষতিকারক।
প্রিয় বোন! সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রসমূহের মাধ্যমে আপনার স্বামীর জন্য একটি ভালো অবস্থানের কথা চিন্তা করুন এবং সেটা অর্জনে তাঁকে উৎসাহিত করুন। যদি তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী হন বা পড়া এবং গবেষণার মাধ্যমে তিনি তাঁর জ্ঞানকে বৃদ্ধি করতে চান তবে তাঁকে থামিয়ে দেবেন না। তাঁর সংকল্প পূরণে উৎসাহ দিন। আপনার জীবনকে এমনভাবে সাজান যা তাঁর অগ্রগতির অন্তরায় নয়। বাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁকে উন্নতি করতে সহায়তা করুন। যদি তিনি নিরক্ষর হন, তবে তাঁকে উৎসাহিত করুন এবং নৈশবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করুন। যদি তিনি শিক্ষিত হন তবে তাঁকে আরও বেশি পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করুন। যদি তিনি কোনো হাসপাতালের চিকিৎসক হন, তবে চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ক পত্রিকা এবং অন্যান্য নিবন্ধ পড়তে বলুন। যদি তিনি একজন শিক্ষক, প্রকৌশলী বা বিচারক হন, তবে সেই বিষয় সংক্রান্ত বই এবং নিবন্ধসমূহ পড়তে বলুন। আপনার মনে রাখা উচিত, আপনার স্বামী যে অবস্থানেই থাকুক না কেন সেখানেই তাঁর অগ্রগতির সুযোগ রয়েছে। সৃষ্টির নিয়মানুসারে যে পথ তাঁর জন্য প্রশস্ত হয়েছে তা হতে তাঁকে বিচ্যুত হতে দেবেন না। বই পড়তে উৎসাহ দিন। তাঁর ব্যক্তিত্বের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত হতে দেবেন না। যদি তিনি বই কেনার বা সংগ্রহ করার সময় না পান তবে আপনার তদারকিতে প্রয়োজনীয় বইগুলো সংগ্রহ করুন। তাঁকে সেগুলো দিন এবং পড়তে উৎসাহিত করুন। আপনারও বইপত্র এবং কার্যকরী সাময়িকী পড়া উচিত। যদি পড়ার মধ্যে আপনি এমন কোনো নথি খুঁজে পান যা আপনার স্বামীর জন্য দরকারি তবে সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করুন।
এই ধরণের আচরণের কতক সুবিধা রয়েছে:
- এই ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে আপনার স্বামী একজন জ্ঞানী ব্যক্তি হয়ে উঠবেন, যিনি আপনার এবং তাঁর নিজের প্রতি আস্থাশীল হবেন। উপরন্তু, তিনি একজন দীপ্তিমান বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠবেন যার সেবা তাঁর এবং সমাজের জন্য কল্যাণকর হবে।
- যেহেতু তিনি অধ্যয়ন এবং গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্টির বিধানগুলো মেনে চলছেন, সেহেতু তিনি মানসিক এবং স্নায়ুবিক সমস্যায় আক্রান্ত হবেন না।
- যেহেতু তিনি অগ্রগতির পথে আছেন এবং পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখান, আবার আপনার এবং বাচ্চাদের সাথে আরও বেশি সম্পৃক্ত হন; সেহেতু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকাণ্ডের দিকে আকৃষ্ট হবেন না এবং মারাত্মক নেশার ফাঁদেও পড়বেন না। নিশ্চিত হোন যে তিনি বিভ্রান্তিতে নেই।
📄 স্বামীকে স্বাধীনতা দিন
যথাযোগ্য উপায়ে কাজ করা এবং অগ্রগতির জন্য পুরুষদের ব্যবসা সমিতি কিংবা কাজে স্বাধীনতা থাকা উচিত। যদি তারা তাদের কাজকর্মে বাধাপ্রাপ্ত হন তবে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। একজন জ্ঞানী বোন তার স্বামীর কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা উচিত নয়; কারণ তার জানা উচিত যে— স্বামীর যে স্বাধীনতা প্রয়োজন তা অস্বীকার এবং তার কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার ফলে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। বুদ্ধিমান এবং অভিজ্ঞ পুরুষদের নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের পুরুষরা সবসময় বুদ্ধিমান আচরণ করেন; তাদের কেউ প্রতারিত করতে পারে না; তারা তাদের বন্ধু এবং শত্রু উভয়কেই চেনেন। তবে এমন কিছু পুরুষ আছেন যারা সহজ-সরল; তারা সহজেই অন্যের দ্বারা প্রতারিত এবং প্রভাবিত হতে পারেন। এমন ছদ্মবেশী লোকেরাও রয়েছে যারা এসব সহজ-সরল পুরুষদের জন্য অপেক্ষা করে থাকে। এরা সৎকর্মশীল হওয়ার ভান করে, সহজ-সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে এবং দুর্নীতির দিকে টেনে নিয়ে যায়। দূষিত সমাজ আর মানুষের একরোখা স্বভাবের কারণে এরূপ পরিস্থিতি বদলায় না।
সহজ-সরল মানুষটি কিছু সময়ের জন্য তার পরিস্থিতি বুঝতে পারেন না, কিন্তু এক সময় তিনি সজাগ হন এবং নিজেকে এক গভীর ফাঁদে শনাক্ত করেন যেখান থেকে নিস্তারের কোনো উপায় নেই। যদি আপনি নিজের চারপাশে তাকান, এমন অসংখ্য দুর্ভাগা মানুষকে দেখতে পাবেন। সম্ভবত, তাদের কারও ফাঁদে পড়ার বা দুর্নীতিবাজ হওয়ার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু তাদের স্বকীয় সরলতা, অজ্ঞতা আর অসাবধানতার কারণে তারা এখন সমাজের দুর্নীতিবাজদের শিকার। এই হিসাবে সাধারণ পুরুষদের যত্ন নেওয়া দরকার। জ্ঞানী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের মহা উপকার করতে পারেন। এই কাজের জন্য উত্তম হলেন এসব পুরুষদের স্ত্রীরা। একজন জ্ঞানী ও চতুর স্ত্রী তার হিতৈষী ও জ্ঞানী মনোভাব দ্বারা স্বামীর প্রতি এই কাজগুলো উত্তমরূপে সম্পাদন করতে সক্ষম।
এমন বোনদেরও তাদের স্বামীর ব্যাপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করা বা তাদের 'কী করণীয় এবং কী করণীয় নয়' তা না বলার কথা মনে রাখা উচিত। এর কারণ হলো— পুরুষরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্যের হাতে হাতিয়ার হয়ে থাকতে অপছন্দ করেন; অন্যথায় তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন। তবে একজন বিজ্ঞ বোন পরোক্ষভাবে তার স্বামীর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্বামীর অজান্তেই তার সহযোগিতার প্রতি নজর রাখেন। এমনও হয় যে— কিছু পুরুষ, কিছু সময়, স্বাভাবিকের চেয়ে দেরিতে বাড়ি ফেরেন। যদি ব্যাপারটি এমন হয় এবং দেরিতে বাড়ি ফেরার পরিমাণ গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে থাকে, তবে চিন্তার প্রয়োজন নেই, কারণ পুরুষরা মাঝে মধ্যেই কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়েন যা তারা তাদের কাজের শেষে সমাধানের চেষ্টা করেন।
কিন্তু যদি দেরিতে ফেরার পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমা ছাড়িয়ে যায় তবে স্ত্রীর সে বিষয়ে তদন্তের চেষ্টা করা উচিত। কিন্তু তদন্ত করা সহজ কাজ নয়; এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য এবং বিজ্ঞতা। এক্ষেত্রে অবশ্যই রাগ কিংবা বিরোধ এড়িয়ে যেতে হবে। স্বামীর সাথে নমনীয় এবং বিনয়ের সাথে কথা বলা উচিত। কেন তিনি আগের চেয়ে দেরিতে বাড়ি ফেরেন আর কোথায় ছিলেন তা জানতে চাওয়া উচিত। স্ত্রীর উচিত বিভিন্ন সময় এবং সুযোগে বিজ্ঞতা আর ধৈর্য সহকারে বিষয়টি অনুসন্ধান করা। যদি তিনি জানতে পারেন যে তার স্বামী চাকরির কারণে বা বৈজ্ঞানিক, ধর্মীয় এবং নৈতিক সম্মেলনে যোগদান করার কারণে দেরি করে বাড়ি ফেরেন তবে স্ত্রীর উচিত তাকে একা ছেড়ে দেওয়া।
যদি তিনি মনে করেন তার স্বামী নতুন বন্ধু পেয়েছেন, তাহলে সেটা কে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা উচিত। যদি সেই নতুন বন্ধুটি একজন আচারনিষ্ঠ ব্যক্তি হন তবে চিন্তিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনকি এটি পরামর্শ দেওয়া হয় যে— স্ত্রীর উচিত স্বামীকে সেই নতুন বন্ধুত্বের প্রতি উৎসাহিত করা, কারণ— একজন ভালো বন্ধু একটি মহান আশীর্বাদ তুল্য।
যদি আপনি মনে করেন, আপনার স্বামী বিপথগামী হয়ে পড়েছেন বা দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য লোকদের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছেন তবে আপনার অবিলম্বে তাকে থামানো উচিত। এরকম পরিস্থিতিতে একজন স্ত্রীর উপর অনেক বড় দায়িত্ব থাকে। অসচেতনতার কারণে পরিস্থিতিটির সামান্যতম অপব্যবহার পারিবারিক জীবনকে নষ্ট করে দিতে পারে।
এটি এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে কিছু বোনের বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজনীয় এবং স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তাকে মনে রাখতে হবে, ঝগড়া কিংবা তর্ক কোনো সমাধান নয় এবং এর ফলাফলও উল্টো হতে পারে। একজন বোন, যিনি এমন পরিস্থিতির শিকার, তিনি দুটি কাজ করতে পারেন:
প্রথমত— বাড়ির পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা। নিজেকে ও নিজের আচরণ পরখ করতে হবে। অবশ্যই স্বামীর এমন আচরণের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে, কেন তার স্বামী পরিবারের প্রতি উদাসীন আর বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি হয়ত দেখবেন যে তার নিজের আচরণই এর কারণ ছিল; অথবা তিনি নিজেই; কিংবা হয়ত তার রান্না করা খাবার, ভঙ্গিমা বা বাড়ির বিভিন্ন বিষয়ে স্বামীর চাহিদার প্রতি উদাসীন ছিলেন। এইরূপ বিষয়গুলো পুরুষদের বাড়ি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তারা তখন তাদের সমস্যাগুলি ভুলে যাওয়ার জন্য বাইরের বিপথগামী কাজে জড়িয়ে পড়েন। এক্ষেত্রে স্ত্রী, স্বামীকে তার অসুবিধা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন এবং সেগুলো সমাধানে সহায়তা করতে পারেন। যদি কোনো বোন নিজেকে সংশোধন করেন এবং স্বামীর চাহিদা অনুসারে ঘরকে পরিবর্তন করেন, তবে তিনি আশা রাখতে পারেন যে— তার স্বামী আবারও আগের মতো সংসারে ফিরবেন এবং খারাপ স্থানসমূহ এড়াতে পারবেন।
দ্বিতীয়ত— তাকে যতটা সম্ভব সহৃদয়তা দেখাতে হবে। স্ত্রীর উচিত স্বামীকে পরামর্শ দেওয়া এবং তার কর্মের ভয়াবহ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এমনকি, খারাপ সঙ্গ ছেড়ে দেওয়ার জন্য কাকুতি সহকারে অনুরোধ করা। তাকে অবশ্যই বলতে হবে, 'আমি আপনাকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ভালোবাসি। আমি আপনাকে নিয়ে গর্বিত। আপনাকে সবকিছুর চেয়ে বেশি পছন্দ করি আর আমি নিজেকে আপনার প্রতি একান্তভাবে নিয়োজিত করতে প্রস্তুত। কিন্তু আমি একটা বিষয় নিয়ে মনঃক্ষুণ্ণ; আপনার মতো একজন ব্যক্তির কেন এই ধরনের বন্ধুবান্ধব থাকবে? কেনই বা আপনি এমন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবেন? এই জাতীয় কাজ তো আপনার জন্য উপযুক্ত নয়। দয়া করে এসব ছেড়ে দিন।'
স্ত্রীর অবশ্যই এমন মনোভাব অব্যাহত রাখতে হবে যতক্ষণ না তিনি তার স্বামীর মন জয় করতে পারছেন। এটা হতেই পারে যে— স্বামী বাজে অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন আর তাই তিনি স্ত্রীর কথা সহজে মেনে নিতে পারছেন না, তাহলেও স্ত্রীর হতাশ হওয়া যাবে না। তার উচিত আরও বেশি শক্তি ও ধৈর্য সহকারে নিজের লক্ষ্যকে অনুসরণ করা। পুরুষদের উপর নারীদের এক অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ আর প্রভাব রয়েছে। সুতরাং স্ত্রী যদি নিজের মন স্থির রাখতে পারেন তবে তিনি যা চান তা করতে সক্ষম হবেন। তিনি যদি স্বামীকে দুর্নীতির নোংরামি থেকে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে তিনি তা করতে পারবেন। যদি তিনি বিজ্ঞতার সাথে কাজ করতে পারেন তাহলে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি। যাই হোক না কেন, সহিংস বা কঠোর মনোভাব নিয়ে স্বামীর সাথে ব্যবহার করা উচিত নয়, যতক্ষণ না দেখেন যে তার প্রতি সদয় ও বিনয়ী হয়ে কোনো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। আর তারপরই চরম হওয়া, বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া বা অন্য কোনো উপায় যথাসাধ্য ব্যবহার করে স্বামীকে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু তা প্রতিশোধ হিসাবে নয়। হ্যাঁ, স্বামীর দেখাশোনা করা প্রত্যেক স্ত্রীর কর্তব্য। এটি একটি কঠিন দায়িত্ব।