📄 আপনার স্বামীর আত্মীয়ের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখুন
আপনার স্বামীর আত্মীয়-স্বজনদের সাথে রেষারেষিই আপনার পারিবারিক জীবনের অন্যতম সমস্যা। স্বামীর মা, বোন বা ভাইদের সাথে কিছু মহিলার ভালো সম্পর্ক থাকে না। একদিকে স্ত্রী তার স্বামীর উপর কর্তৃত্ব কায়েম করতে চায়, যাতে সে তার মা বা অন্য কোনো আত্মীয়ের দিকে গুরুত্ব দিতে না পারে। সে তাদের মধ্যে বিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। অন্যদিকে তার শাশুড়ি নিজেকে তার পুত্র এবং পুত্রবধূর অধিকারী হিসেবে বিবেচনা করে। মা তার পুত্রের ওপর কর্তৃত্ব বহাল রাখতে কঠোর চেষ্টা করে এবং সতর্ক থাকে যে- নতুন পুত্রবধূ যেন তাকে পুরোপুরি অধিকার থেকে বঞ্চিত না করে। তিনি তার পুত্রবধূ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলতে পারেন বা তার মধ্যে দোষ খুঁজে বের করতে পারেন। এই জাতীয় কর্মকাণ্ড বাইরের অনেক অশুভাকাঙ্ক্ষী দ্বারাও ঘটতে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে যদি তারা সবাই একই বাড়িতে থাকে।
যদিও এখানে দুজন মহিলার মধ্যে এই রেষারেষি হয়ে থাকে তবুও মাঝখান থেকে আসলে অশান্তি এবং হতাশা পুরুষকে ভোগায়। স্বামী এমন একটি দোটানায় আটকে পড়ে যেখানে সে কোনো পক্ষ নিতে পারে না। একদিকে হলেন- তাঁর স্ত্রী; যিনি অন্য কারো কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে চান। একজন স্বামী স্বাভাবিকভাবেই মনে করেন যে- তাকে অবশ্যই তার স্ত্রীকে সমর্থন করতে হবে এবং তাকে খুশি রাখতে হবে। অন্যদিকে তিনি তার পিতামাতার কথাও চিন্তা করেন; যারা তাকে তাঁর জীবন, শিক্ষা এবং তাঁর প্রতিপালনের জন্য তাদের নিজের জীবন ব্যয় করেছেন। তিনি অনুভব করেন যে- তাঁর বাবা-মা আশা করেন; সে তাদের প্রয়োজনের সময় তাদের সহায়তা করবে এবং তাদের ত্যাগ করা মোটেও সম্ভব না। তদুপরি যদি তিনি নিজেই কোনো কিছুর অভাব বোধ করেন তবে তাঁর বাবা-মা ছাড়া আর কে তাকে এবং তাঁর পরিবারকে সহায়তা করবে? যার ফলে, তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁর সেরা এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু তার বাবা-মা এবং আত্মীয়-স্বজন। সুতরাং একজন বিচক্ষণ পুরুষের জন্য তার স্ত্রীকে বেছে নেওয়া এবং পিতামাতাকে ত্যাগ করা বা তদ্বিপরীত করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বা এগুলির কোনোটিই সম্ভব নয়। ফলস্বরূপ, তাকে উভয় পক্ষকেই সামলাতে হয় এবং তাদের সন্তুষ্ট রাখতে হয়, যা একটি কঠিন কাজ।
পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলার একমাত্র সম্ভাব্য উপায় হলো- স্ত্রীকে কর্তব্যশীল এবং বিচক্ষণ হতে হবে। এই পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি তার সমস্যা সমাধানে তার স্ত্রীর সহায়তা পাবার প্রত্যাশা করে। যদি স্ত্রী তার শাশুড়িকে সম্মান করে, তার কাছ থেকে পরামর্শ প্রার্থনা করে এবং তার সাথে আনুগত্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তবে শাশুড়ি তার সবচেয়ে বড় সমর্থক হবে।
আপনি কি এটা বুঝতে পারেন না যে- জীবনের উত্থান-পতনের ক্ষেত্রে একে অপরের; বিশেষত আত্মীয়-স্বজনদের সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে? অন্যরা আপনাকে পরিত্যাগ করলেও তারা আপনাকে সমর্থন করবে? একে অপরকে বোঝা এবং ভালো আচরণের মাধ্যমে নিজের আত্মীয়দের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা ভালো নয় কি? নিজের কাছের সম্পর্ক ছিন্ন করে অপরিচিত ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা কী আসলেই বুদ্ধিমানের কাজ এবং ভালো কাজ? অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে- যখন কারো অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয় তখন বন্ধুরা তাকে ছেড়ে যায়। তবে পরিত্যাগ করা আত্মীয়রা তার সাহায্যের জন্য আসে। কারণ পারিবারিক বন্ধন অকৃত্রিম এবং এটা সহজে ভাঙা যায় না।
কেউ কখনও আত্মীয়-স্বজন ছাড়া কিছুই করতে পারে না। ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি অনেক থাকলেও সবারই সময় মতো আত্মীয়-স্বজনের সম্মান ও দয়ার প্রয়োজন হয়। তারাই শারীরিক ও মানসিকভাবে আপনাকে সমর্থন করতে এগিয়ে আসবে। আত্মীয়রাই সর্বদা আপনাকে বিপদ থেকে উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। প্রয়োজনের সময় তারা অন্যের চেয়ে দ্রুত আপনার সহায়তায় আসবে। যে তার স্বজনদের অস্বীকার করবে সে অনেক সাহায্যকারী হাতছাড়া করবে।
হে বোন! আপনার স্বামীর এবং আপনার নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আপনার আশেপাশের ভালো শুভাকাঙ্ক্ষীদের খুঁজে নিন। আপনার স্বামীর আত্মীয়দের সাথে মিশুন। স্বার্থপর এবং বোকা হবেন না; জ্ঞানী হোন এবং আপনার স্বামীকে যাতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। আল্লাহ ও মানুষ উভয়ের কাছেই গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য একজন উত্তম ও অনুগত স্ত্রী হোন।
📄 স্বামীর পেশাকে সম্মান করুন
কাজের জন্যে আপনার স্বামীর প্রতিনিয়ত কষ্ট করতে হয় এবং প্রত্যেকেরই কাজের ধরন ভিন্ন ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ; একজন ড্রাইভার বেশিরভাগ সময় রাস্তায় থাকেন এবং প্রতি রাতে বাড়িতে আসতে পারেন না। আবার পুলিশকে কিছু রাত বাইরে থাকতে হতে পারে। একজন চিকিৎসক বা ডাক্তার পরিবারের সাথে খুব কম সময় কাটাতে পারেন। একজন প্রভাষক বা বিজ্ঞানী রাতে প্রচুর পরিমাণে পড়াশোনা করেন। একজন মিস্ত্রি, যার পোশাক নোংরা এবং তেলের গন্ধযুক্ত। একজন কারখানার কর্মী, যে রাতে কাজ করেন। অতএব, খুব কমই এমন চাকরি রয়েছে; যা পুরোপুরি সুবিধাজনক এবং পরিবারের সদস্যরা কোনো অস্বস্তি পোষণ করে না। পরিশ্রমের চেয়ে জীবনে সৎভাবে উপার্জনের আর কোনো উত্তম উপায় নেই। পুরুষরা কঠোর পরিশ্রমের চাপ সইতে হয় সারাজীবন।
আরও একটি সমস্যা রয়েছে—যা বেশিরভাগ পরিবারের অভিযোগ। মহিলারা সাধারণত তাদের পুরুষদের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন এবং অন্ধকার হয়ে গেলে তারা তাদেরকে বাড়িতে দেখতে পছন্দ করেন। মহিলারা চান যে—তাদের স্বামীদের মোটা বেতনের একটি ভালো চাকরি থাকুক এবং একই সাথে ঘরে থাকার জন্য পর্যাপ্ত সময় চান। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে, বেশিরভাগ পুরুষের চাকরি তাদের স্ত্রীর প্রত্যাশা অনুসারে হয় না এবং কিছু পরিবারের জন্যে এটি ঝগড়া এবং তর্কের উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
একজন ড্রাইভার যিনি কয়েক রাত ধরে রাস্তায় ছিলেন, যিনি ভালো ঘুমোতে পারেননি এবং নিয়মিত খাননি, তিনি বিশ্রাম নিতে এবং পরিবারের সাথে শান্তিতে এবং আরামে সময় কাটাতে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর যখন তার স্ত্রী এক মুহূর্তও দেরি না করে চিৎকার ও কান্নাকাটি করে বলে— “এটা কেমন জীবন? আপনি আমাকে এই বাচ্চাদের সাথে কেন রেখে যান, এবং আপনি কোথায় ছিলেন? এখানকার সমস্ত কাজ আমার একাই করতে হয়। কারণ আপনি এখানে আমাকে সহায়তা করার জন্য নেই ও আমি এই দুষ্টু ছেলেমেয়েদের নিয়ে হয়রান। এমনকি আপনার গাড়ি চালানোও কোনো ভালো কাজ নয়। হয় আপনি চাকরি পরিবর্তন করুন অথবা আমার সাথে একটা বিহিত করুন। আমি আর এভাবে বাঁচতে পারছি না!”
বেচারা ড্রাইভার তার স্ত্রীর মুখে এসব শুনে সে তার কাজের প্রতি সঠিকভাবে মনোনিবেশ করতে পারবে তা আশা করা যায় না এবং হয়তোবা তার জীবনকেও বিপদের মুখে পতিত করতে পারে। একই সাথে তার যাত্রীদের জীবনও বিপদাপন্ন করতে পারে।
একজন ডাক্তার; যিনি সকাল থেকে রাত অবধি অনেক অনেক রোগী দেখেন; তিনি তার স্ত্রীর এইরকম অভিযোগের সাথে মানিয়ে নিতে পারেন না। এভাবে হলে তিনি কীভাবে তার চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখবেন? একজন শ্রমিক যে কিনা রাতের শিফটে কাজ করেন, এবং তার স্ত্রী যদি কুটবুদ্ধি সম্বলিত মহিলা হয় তবে সে অবশ্যই আগ্রহের সাথে নিজের চাকরিতে মনোনিবেশ করতে পারবে না। একজন বিজ্ঞানী কীভাবে তার গবেষণার ক্ষেত্রে সফল হতে পারেন যদি তার স্ত্রী তাকে নিয়ে ক্রমাগত হাসি-ঠাট্টা করে? এগুলি সেই অভীক্ষা যা বুদ্ধিমান মহিলাদেরকে বোকা মহিলাদের থেকে পৃথক করে।
প্রিয় বোন! আমরা আমাদের ইচ্ছানুরূপ বিশ্বকে পরিচালিত করতে পারব না, তবে আমরা বিদ্যমান পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারব। পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য আপনার স্বামীর একটি চাকরি থাকা দরকার। তার চাকরির কিছু শর্ত রয়েছে; যার সাথে আপনাকে অবশ্যই মানিয়ে নিতে হবে। আপনাকে অবশ্যই আপনার পারিবারিক জীবনকে তার কাজ অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। আপনি কেন সবসময় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর কাজের দোষ খুঁজে বেড়াবেন? সুন্দর হাসি দিয়ে আপনার স্বামীকে ঘরে স্বাগত জানান এবং তার প্রতি দরদী হোন, বুদ্ধিমান হোন এবং তার কাজের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিন। যদি আপনার স্বামী একজন ড্রাইভার হয়ে থাকেন যে—বেশিরভাগ সময় রাস্তায় থাকে তবে বুঝতে চেষ্টা করুন যে—তিনি বাড়িতে থাকা আপনার জন্য এবং আপনার বাচ্চাদের জন্য টাকা রোজগারের চেষ্টা করছেন। তার চাকরিতে কোনো ভুল নেই। তিনি সমাজের একটা অংশ এবং তার সেরাটা দিয়ে তিনি সমাজের সেবা করে যাচ্ছেন। তিনি যদি অলস ব্যক্তি হতেন বা তিনি যদি কোনো অপকর্মে নিযুক্ত থাকতেন তবে কি আরও ভালো হত?
সুতরাং! দোষটি কিন্তু আপনার স্বামীর না। দোষটি আপনারই। প্রতি রাতেই তাকে বাড়িতে থাকার দাবি করা এবং সাথে সাথে আপনার নিজেকে তার বর্তমান অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পারা বা খাপ খাইয়ে নিতে না চাওয়াটাই আপনার দোষ।
তার বর্তমান পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত হয়ে সবাইকে নিয়ে আরও আরামে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা বুদ্ধিমানের কাজ নয় কি? আপনি কি পারেন না তাকে হাসিমুখে স্বাগত জানাতে এবং কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাকে ভালোবাসার দু-চারটি কথা বলে বিদায় জানিয়ে তাঁর কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহী করতে? আপনি যদি তার সাথে কোমল আচরণ করেন তবে পরিবারের প্রতি তার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং তিনি পরিবারের জন্য আরও কঠোর পরিশ্রম করতে পারবেন। তিনি আপনাদের থেকে নিজেকে দূরে দূরে রাখবেন না; যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়িতে আসার চেষ্টা করবেন; তিনি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে থাকবেন এবং মানসিকভাবেও সুস্থ থাকবেন।
যদি আপনার স্বামী একটি নাইট শিফট কর্মী হন তবে পরিবারের খরচ মেটাতে তিনি তার রাতের আরামের ঘুম বিসর্জন দিচ্ছেন। এর সাথে অভ্যস্ত হবার চেষ্টা করুন। তার চাকরিতে আপনার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন না। আপনি যদি একা বিরক্তি বোধ করেন, তবে আপনি কিছু কিছু বাড়ির কাজ করে ফেলতে পারেন। যেমন, রাতে সেলাই করা বা মাঝে মাঝে কিছু বইপত্র পড়া। সকালে আপনার স্বামী যখন কাজ থেকে ফিরে আসবে তখন তার জন্য সকালের নাস্তা তৈরি করুন। তারপর শান্ত জায়গায় তার জন্য বিছানা প্রস্তুত করুন। বাচ্চাদের শান্ত রাখুন এবং ঘুমানোর সময় তাদের পিতাকে বিরক্ত না করতে শিখিয়ে দিন। বা আপনি রাতে কম ঘুমাতে পারেন যাতে আপনি দিনের বেলা আপনার স্বামীর সাথে একসাথে বিশ্রাম নিতে পারেন। তবে ভুলে যাবেন না যে তিনি সারা রাত জেগে ছিলেন এবং দিনের বেলা তাঁর এই ঘুম আপনার রাতের ঘুমের সমান। এই পরিস্থিতিতে মহিলাদের দু-ভাবে তার কাজকর্মের আয়োজন করতে হয়, একটি তার এবং তার সন্তানদের জন্য এবং অপরটি তার স্বামীর জন্য। যদি আপনার স্বামী ড্রাইভার, ডাক্তার, কর্মী বা বিজ্ঞানী ইত্যাদি হন তবে আপনাকে অবশ্যই তার জন্য গর্বিত হওয়া উচিত।
আপনার স্বামী কোনো অলস ভবঘুরে নন বা কোনো অপকর্মের পেশায় নিযুক্ত নন। সুতরাং তার প্রশংসা করুন এবং তার প্রতি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করুন। তাকে তার চাকরি ছেড়ে দিতে বলবেন না বা এটা আশা করবেন না যে—সে চাকরি ছেড়ে দিক। শুধু তার বিদ্যমান পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। তিনি যদি কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন বা গবেষণা করছেন তবে তাকে বিরক্ত করবেন না। আপনি বাড়ির অন্যান্য কাজগুলি করতে পারেন। একটি বই পড়তে পারেন বা তার অনুমতি নিয়ে আপনার বন্ধুদের বা আত্মীয়দের সাথে কোথাও যেতে পারেন বা দেখা করতে পারেন। তবে যখন তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন; ঘরে থাকার চেষ্টা করুন। তার খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের বন্দোবস্ত করুন। আপনার স্বামীকে হাসিমুখে এবং ভালো আচরণের সাথে গ্রহণ করুন। আপনার দয়া এবং আন্তরিকতা প্রদর্শন করে এবং তাকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে আপনি তাকে তার ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে পারবেন।
আপনি যদি একজন ভালো স্ত্রী হন; তবে আপনি কেবল তার অগ্রগতিকেই ত্বরান্বিত করছেন না, বরং আপনি সমাজে তাঁর সেবার ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন। সব স্ত্রীলোকেরাই এই ধরনের পরিশ্রমী পুরুষদের যোগ্য হতে পারে না। সুতরাং ভালো আচরণে এবং ত্যাগ স্বীকার করে প্রমাণ করুন যে আপনি তাঁর যোগ্য।
যদি আপনার স্বামীর কাজের জন্য তাকে এমন বিশেষ পোশাক পরিধান করতে হয় যা দ্রুত ময়লা হয়ে যায়, তবে তা ঘন ঘন ধুয়ে ফেলুন। তাকে দোষারোপ করবেন না এবং তার চাকরির জন্য তাকে খারাপ কথা শোনাবেন না। তাকে চাকরি পরিবর্তন করতে বলবেন না। চাকরি পরিবর্তন করা সহজ নয়। মেকানিক হওয়াটা কি কোনো ভুলের কাজ? যেভাবেই দেখুন না কেন, এটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় এবং এর কারণে একটা পরিবারকে ভেঙে ফেলা মোটেও উচিত নয়। একজন মহিলা আদালতে বিচারককে বলেছিলেন যে—তার স্বামীর কাজ কেরোসিন বিক্রি করা এবং এর জন্য সে সবসময় খারাপ গন্ধ পেতো এবং এতে সে এই পরিস্থিতিতে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছে।
📄 স্বামীর সাথেই থাকুন
আপনার স্বামী হয়তো বেসরকারি বা সরকারি খাতের হয়ে কাজ করছেন এবং তাঁকে অন্য কোনো শহর বা মফস্বলে তাঁর কাজের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিছু লোক এভাবেই অস্থায়ীভাবে বা স্থায়ীভাবে বাস করে থাকেন। পুরুষরা এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে বাধ্য হন। তবে কিছু মহিলা তাঁদের বাবা-মা এবং আত্মীয়দের সাথে থাকতে পছন্দ করেন। এই মহিলারা তাঁদের রাস্তা, দেয়াল এবং তাঁদের জন্মভূমির পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে যান এবং স্বামীর কাজের প্রয়োজনে যখন তাঁদের জন্মভূমি ছেড়ে যেতে হয়, তখন তাঁরা স্বামীদের দোষারোপ করেন এবং অভিযোগ করতে থাকেন যে— ‘আমার বাড়ি থেকে আমি কেন দূরে থাকব? আমি আর কতক্ষণ আমার বাড়ি এবং আমার বাবা-মা থেকে দূরে থাকব? এই জায়গায় আমার কেউ নেই। আপনি আমাকে এখানে এনেছেন? আমি এখানে থাকতে পারি না; তাই তাড়াতাড়ি এখান থেকে ছাড়া পাবার কথা ভাবুন!’
স্বামীদের এভাবে বিচলিত করা উচিত নয়। এই মহিলারা এতটাই দুর্বল মনের অধিকারী যে তারা মনে করে তাদের জন্মস্থানই হচ্ছে বসবাসের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তারা মনে করে যে তারা অন্য কোথাও তাদের জীবন উপভোগ করতে পারবে না। এমনকি মানবজাতি তার নিজের গ্রহের সাথেও সন্তুষ্ট নয়, তাই তারা অন্যান্য গ্রহগুলোতে পা রেখেছে। আপনি এমন অনেক মহিলাকে খুঁজে পাবেন, যিনি এতটাই আপত্তি করবেন যে তিনি তাঁর শহর থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে বসবাস করতেও প্রস্তুত নন। তাঁরা এটা ভাবেন যে— ‘আমি আমার সমস্ত বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনকে রেখে কেন একটি অপরিচিত জায়গায় যাওয়ার জন্য রাজি হব?’ বিষয়টা এরকম যে— মেয়েরা নিজের বাড়ি থেকে দূরে অন্য কোনো জায়গায় গিয়ে নতুন প্রতিবেশী খুঁজে পেতে পারবে কি না, তা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী নন।
প্রিয় বোন! জ্ঞানী এবং আত্মত্যাগী হোন। স্বার্থপর হবেন না। এখন আপনার স্বামীর কাজ আপনাকে নিজের শহর থেকে দূরে নিয়ে গেছে, তাঁকে এ নিয়ে কোনো জ্বালাতন করবেন না। যদি তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হন, তবে কাজের জন্য তাঁর ভ্রমণ করার আদেশ রয়েছে। যদি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা থাকে, তবে অবশ্যই অন্য কোনো জায়গায় বসবাস করা তাঁর ব্যবসার জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। যদি আপনার স্বামী আপনাকে অবহিত করেন যে তাঁকে অন্য কোনো জায়গায় থাকতে হবে, তবে আপনার সাথে সাথে একমত হওয়া উচিত। তারপর তাঁকে সব গুছগাছ করতে এবং নতুন জায়গায় স্থানান্তর হতে সহায়তা করা উচিত, যেখানে আপনাকে আপনার নতুন বাড়ি হিসেবে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই নতুন বাড়িতে আপনার জীবনকে নিয়ে পরিকল্পনা করুন এবং নিজেকে এর সাথে খাপ খাইয়ে নিন। যেহেতু আপনি এলাকায় নতুন এবং সম্ভবত বাসিন্দাদের আচার-আচরণ ও বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে পরিচিত নন, তাই তাদের সাথে সতর্ক থাকুন। পরবর্তীতে আপনার স্বামীর সাহায্যে এবং তদারকিতে পুণ্যবান ও বিশ্বস্ত মহিলাদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করার চেষ্টা করুন।
প্রতিটি জায়গার নিজস্ব স্বতন্ত্রতা রয়েছে। আপনি তার দর্শনীয় স্থানগুলো এবং প্রাচীন স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখে আয়েশ করতে পারেন। আপনাকে আপনার পরিবারকে অবশ্যই একসাথে রাখতে হবে এবং আপনার স্বামীকে তাঁর কাজে উৎসাহিত করতে হবে। কিছুদিন পরে আপনি যখন আপনার নিজের নতুন বাড়িতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন, তখন এটি আপনার আগের বাড়ির চেয়েও বেশি পছন্দ হতে পারে।
আপনি দেখতে পাবেন যে আপনার নতুন প্রতিবেশীরা আপনার পুরোনো প্রতিবেশীদের চেয়ে ভালো। নতুন জায়গায় যদি আপনার পূর্ববর্তী শহরের বিলাসিতাগুলো না থাকে, তবে নতুন জীবনের সাথে অভ্যস্ত হয়ে নিন এবং এর সুবিধাগুলোর সন্ধান করুন। এখানে আপনি সতেজ এবং আরও ভালো মানের খাবার পাচ্ছেন। যদি শহুরে উন্নত রাস্তা না থাকে, তবে দেখুন, আপনি বিষাক্ত বাতাস, লোকজন এবং গাড়ির বিকট আওয়াজ থেকে দূরে থাকছেন। আপনার গ্রামের লোকেদের কথা ভাবুন যারা কাদা এবং ইটের তৈরি ঘরে সুখে জীবনযাপন করছেন। তারা শহর জীবনের বিলাসিতা এবং তাদের সুন্দর দুর্গের মতো বাড়িগুলোর দিকে কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ করে না। তাদের প্রয়োজনীয়তা এবং বঞ্চনার দিকটা ভেবে দেখুন। আপনি যদি তাদের কোনোভাবে সহায়তা করতে পারেন, তবে তাতে দ্বিধা করবেন না এবং আপনার স্বামীকে তাদের সহায়তা করতে অনুপ্রাণিত করবেন। আপনি যদি জ্ঞানী হন এবং আপনার দায়িত্ব পালন করেন, তবে আপনি নতুন জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারবেন। আপনি আপনার স্বামীর উন্নতিতে সহায়ক হতে পারবেন। এইভাবে আপনি একজন সম্মানিত এবং একনিষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন। আপনার স্বামীর সুনজরে থাকবেন এবং মানুষের কাছেও জনপ্রিয়তা অর্জন করবেন। তাছাড়া আল্লাহ তাআলাও আপনার ওপর সন্তুষ্ট হবেন।
স্বামীর সাথেই থাকুন
আপনার স্বামী হয়তো বেসরকারি বা সরকারি খাতের হয়ে কাজ করছেন এবং তাকে অন্য কোনো শহর বা এলাকায় তার কাজের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিছু লোক এভাবেই অস্থায়ীভাবে বা স্থায়ীভাবে বাস করে থাকেন। পুরুষরা এই পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে বাধ্য হন। তবে কিছু মহিলা তাদের বাবা-মা এবং আত্মীয়দের সাথে থাকতে পছন্দ করেন। এই মহিলারা তাদের রাস্তা, দেয়াল এবং তাদের জন্মভূমির পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে যান এবং স্বামীর কাজের প্রয়োজনে যখন তাদের জন্মভূমি ছেড়ে যেতে হয়, তখন তাদের স্বামীদের দোষারোপ করেন এবং অভিযোগ করতে থাকেন যে— ‘আমার বাড়ি থেকে আমি কেন দূরে থাকব? আমি আর কতক্ষণ আমার বাড়ি এবং আমার বাবা-মা থেকে দূরে থাকব? এই জায়গায় আমার কেউ নেই। আপনি আমাকে এখানে কেন এনেছেন? আমি এখানে থাকতে পারি না; তাই তাড়াতাড়ি এখান থেকে ছাড়া পাবার কথা ভাবুন!’
স্বামীদের এভাবে বিচলিত করা উচিত নয়। এই মহিলাগুলি এতটাই দুর্বল-মনের অধিকারী যে— তারা মনে করে তাদের জন্মস্থানই হচ্ছে বসবাসের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এরা মনে করে যে এরা অন্য কোথাও এদের জীবন উপভোগ করতে পারবে না।
এমনকি মানবজাতি তার নিজের গ্রহের সাথেও সন্তুষ্ট নয়, তাই তারা অন্যান্য গ্রহগুলোতে পা রেখেছে। আপনি এমনও অনেক মহিলাকে খুঁজে পাবেন, যিনি এতটাই আপত্তি করবেন যে— তিনি তার শহর থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে বসবাস করতেও প্রস্তুত নন। তারা এটা ভাবে যে— 'আমি আমার সমস্ত বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনকে রেখে কেন একটি অপরিচিত জায়গায় যাওয়ার জন্য রাজি হবো?' বিষয়টা এরকম যে— মেয়েরা নিজের বাড়ি থেকে দূরে অন্য কোনো জায়গায় গিয়ে নতুন প্রতিবেশী খুঁজে পেতে পারবে কি না তা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী নন।
প্রিয় বোন! জ্ঞানশীল এবং আত্মত্যাগী হোন। স্বার্থপর হবেন না। এখন আপনার স্বামীর কাজ আপনাকে নিজের শহর থেকে দূরে নিয়ে গেছে, তাকে এ নিয়ে কোনো জ্বালাতন করবেন না। যদি তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হন তবে কাজের জন্য তার ভ্রমণ করার আদেশ রয়েছে। যদি তার কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসা থাকে, তবে অবশ্যই অন্য কোনো জায়গায় বসবাস করা তার ব্যবসায়ের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। যদি আপনার স্বামী আপনাকে অবহিত করেন যে তাকে অন্য কোনো জায়গায় থাকতে হবে, তবে আপনার সাথে সাথে একমত হওয়া উচিত। তারপরে তাকে সব গুছগাছ করতে এবং নতুন জায়গায় স্থানান্তর হতে আপনার সহায়তা করা উচিত; যেখানে আপনাকে আপনার নতুন বাড়ি হিসেবে মানিয়ে নেবার চেষ্টা করতে হবে। এই নতুন বাড়িতে আপনার জীবনকে নিয়ে পরিকল্পনা করুন এবং নিজেকে এর সাথে খাপ খাইয়ে নিন। যেহেতু আপনি এলাকায় নতুন এবং সম্ভবত বাসিন্দাদের আচার-আচরণ ও বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে পরিচিত নন, তাই তাদের সাথে সতর্ক থাকুন। এবং পরবর্তীতে আপনার স্বামীর সহায়তায় ও তদারকিতে পুণ্যবান ও বিশ্বস্ত মহিলাদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করার চেষ্টা করুন।
প্রতিটি জায়গার নিজস্ব স্বতন্ত্রতা রয়েছে। আপনি তার দর্শনীয় স্থানগুলো এবং প্রাচীন স্থাপনাগুলিতে ঘুরে দেখে আয়েশ করতে পারেন। আপনাকে আপনার পরিবারকে অবশ্যই একসাথে রাখতে হবে এবং আপনার স্বামীকে তার কাজে উৎসাহিত করতে হবে। কিছুদিন পরে আপনি যখন আপনার নিজের নতুন বাড়িতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন, তখন এটি আপনার হয়ে যাবে।
আগের বাড়ির চেয়েও এটি আপনার বেশি পছন্দ হতে পারে। আপনি দেখতে পাবেন যে— আপনার নতুন প্রতিবেশীরা আপনার পুরনো প্রতিবেশীদের চেয়ে ভালো। নতুন জায়গায় যদি আপনার পূর্ববর্তী শহরের বিলাসিতাগুলো না থাকে, তবে নতুন জীবনের সাথে অভ্যস্ত হয়ে নিন এবং এর সুবিধাগুলোর সন্ধান করুন। এখানে আপনি সতেজ এবং আরও ভালো মানের খাবার পাচ্ছেন। যদি শহুরে উন্নত রাস্তা না থাকে তবে দেখুন— আপনি বিষাক্ত বাতাস, হট্টগোল এবং গাড়ির বিকট আওয়াজ থেকে দূরে থাকছেন। আপনার গ্রামের লোকেদের কথা ভাবুন যারা কাদা এবং ইটের তৈরি ঘরে সুখে জীবনযাপন করছেন। তারা শহর জীবনের বিলাসিতা এবং সুন্দর দুর্গের মতো বাড়িগুলির দিকে কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ করে না। তাদের প্রয়োজনীয়তা এবং বঞ্চনার দিকটা ভেবে দেখুন। আপনি যদি তাদের কোনোভাবে সহযোগিতা করতে পারেন তবে তাতে দ্বিধা করবেন না, এবং আপনার স্বামীকে তাদের সহায়তা করতে অনুপ্রাণিত করবেন। আপনি যদি জ্ঞানী হন এবং আপনার দায়িত্ব পালন করেন তবে আপনি নতুন জায়গায় স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারবেন। আপনি আপনার স্বামীর উন্নতিতে সহায়ক হতে পারবেন। এইভাবে আপনি একজন সম্মানিত এবং একনিষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন। আপনার স্বামীর সুনজরে থাকবেন এবং মানুষের কাছেও জনপ্রিয়তা অর্জন করবেন। তাছাড়া আল্লাহ তাআলাও আপনার ওপর সন্তুষ্ট হবেন।
📄 যদি আপনার স্বামী বাড়িতে বসে কাজ করেন
যাদের স্বামী বাইরে কাজ করেন তারা সাধারণত বাড়িতে স্বাধীন। কিন্তু কিছু পুরুষ বাড়িতে বসেই কাজ করেন। যেমন- কবি, লেখক কিংবা বিজ্ঞানী, যাদের প্রচুর পরিমাণে পড়াশোনা করতে হয়। এমন পুরুষদের স্ত্রীরা নিজের বাড়িতে তেমন একটা স্বাধীন নন। আর তাই তাদের জীবনযাপন অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। উল্লেখিত কাজগুলোর জন্য একাগ্রতা, প্রতিভা আর ধীশক্তি আবশ্যক। সুতরাং, এসবের জন্য একাগ্রতা ও নীরবতা দরকার। শান্ত পরিবেশে এক ঘণ্টা কাজ, একটি ব্যস্ত ও কোলাহলময় পরিবেশে বেশ কয়েক ঘণ্টার কাজের সমান। বিষয়টি পরিষ্কার। একদিকে স্বামীর কাজের জন্য একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন আর অন্যদিকে নিজে বাড়িতে মুক্তভাবে নিজের কাজ করার চেষ্টা করুন। যদি কোনো বোন বাড়ির যাবতীয় বিষয়গুলো এমনভাবে সাজাতে পারেন যাতে তাঁর স্বামী নিজের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন তবে বলতেই হয় তিনি অবশ্যই একটি অত্যন্ত মূল্যবান কাজ সম্পাদন করতে পেরেছেন।
এরূপ অর্জন নিশ্চিতভাবে সহজ নয়। বিশেষত- যখন আশপাশে বাচ্চারা থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি অবশ্যই সম্পন্ন করা উচিত। কারণ- কাজে স্বামীর অগ্রগতি এটার ওপরই নির্ভর করে। স্ত্রী যদি স্বামীকে সহযোগিতা করেন তবে তিনি তাঁকে একজন সম্মানিত পুরুষে পরিণত করতে পারেন, যিনি স্ত্রী এবং সমাজের কাছে সুনাম অর্জন করবেন। একজন বোন যার স্বামী বাড়িতে বসে কাজ করেন, তার জন্য স্বামীর কাছে বাচ্চা সামলানো, দরজা খুলে দেওয়া, রান্নাঘর বা গৃহকর্মে সাহায্য করা, বাচ্চাদের শাসন করা; এসব আশা করা উচিত নয়; বরং তিনি যখন কাজ করেন তখন এটা মনে করা উচিত যে- তিনি বাড়িতে নেই।
প্রিয় বোন! যখন আপনার স্বামী অধ্যয়ন কক্ষে যেতে চান; তার বই, খাতা-কলম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন। একবার তার কক্ষ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছানো হয়ে গেলে তাকে একা ছেড়ে দিন। সেখানে সজোরে কথা বলবেন না এবং বাচ্চাদেরকে শোরগোল করতে দেবেন না। আপনার বাচ্চাদের বাবা যখন কাজ করছেন তখন তাদের শেখান তারা যেন শোরগোল করে না খেলে। নিত্যদিনের বিষয় নিয়ে তার সাথে অহেতুক কথা বলবেন না। টেলিফোনে আপনি সাড়া দিন যখন তাতে কেউ ফোন করে। যদি কেউ তাকে দেখতে বা কথা বলতে চায় তবে তাদের বলুন তিনি ব্যস্ত। তার অবসর সময়ে অতিথিদের সাথে আনন্দ বিনোদন করুন। তিনি কাজে ব্যস্ত না থাকলে বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনকে আমন্ত্রণ জানান। আপনার আবদারে আপনার সত্যিকারের বন্ধুরা মর্মাহত হবেন না। আপনি যখন আপনার গৃহস্থালির কাজ করছেন, তাকে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করুন। তার কাজে বাধা দেবেন না। সম্ভবত, কিছু বোন মনে করেন এভাবে জীবন অসম্ভব। তারা হয়তো বলতে পারেন, কোনো মহিলার পক্ষে গৃহস্থালির কাজকর্ম করা, একই সাথে স্বামীর যত্ন নেওয়া আর তার কাজের ব্যাঘাত হতে না দেওয়া কি সম্ভব?
এটা সত্য যে এরূপ জীবন অস্বাভাবিক ও কঠিন বলে মনে হবে; কিন্তু যদি প্রশ্নকারী বোনেরা তাদের স্বামীর কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করেন, তবে তারা উপযুক্ত পরিকল্পনা, নিষ্ঠা আর প্রজ্ঞার মাধ্যমে সমস্যা মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এরূপ পরিস্থিতিতে কিছু বোনের মধ্যে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। অন্যথায়, একটি সাধারণ পারিবারিক জীবন পরিচালনা করা অস্বাভাবিক কোনো কাজ নয়।
প্রিয় বোন! একটি বই লেখা, একটি উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ বা দরকারী প্রবন্ধ লেখা, একটি চমৎকার কবিতা লেখা, একটি মূল্যবান চিত্রকর্ম তৈরি করা, বা বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধান করা সহজ কাজ নয়। তবে, আপনার নিষ্ঠা এবং সহযোগিতা এটাকে সম্ভব করে তোলে। আপনি কি আপনার বাসনা ত্যাগ করে এবং আপনার জীবনে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনার স্বামীকে তার কাজে সাহায্য করতে প্রস্তুত নন?
যদি আপনার স্বামী বাড়িতে বসে কাজ করেন
যাদের স্বামী বাইরে কাজ করেন তারা সাধারণত বাড়িতে স্বাধীন। কিন্তু কিছু পুরুষ বাড়িতে বসেই কাজ করেন। যেমন- কবি, লেখক কিংবা বিজ্ঞানী, যাদের প্রচুর পরিমাণে পড়াশোনা করতে হয়। এমন পুরুষদের স্ত্রীরা নিজের বাড়িতে তেমন একটা স্বাধীন নন। আর তাই তাদের জীবনযাপন অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। উল্লেখিত কাজগুলোর জন্য একাগ্রতা, প্রতিভা আর ধীশক্তি আবশ্যক। সুতরাং, এসবের জন্য একাগ্রতা ও নীরবতা দরকার। শান্ত পরিবেশে এক ঘণ্টা কাজ, একটি ব্যস্ত ও কোলাহলময় পরিবেশে বেশ কয়েক ঘণ্টার কাজের সমান। বিষয়টি পরিষ্কার। একদিকে স্বামীর কাজের জন্য একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন আর অন্যদিকে নিজে বাড়িতে মুক্তভাবে নিজের কাজ করার চেষ্টা করুন। যদি কোনো বোন বাড়ির যাবতীয় বিষয়গুলো এমনভাবে সাজাতে পারেন যাতে তাঁর স্বামী নিজের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন তবে বলতেই হয় তিনি অবশ্যই একটি অত্যন্ত মূল্যবান কাজ সম্পাদন করতে পেরেছেন।
এরূপ অর্জন নিশ্চিতভাবে সহজ নয়। বিশেষত- যখন আশপাশে বাচ্চারা থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি অবশ্যই সম্পন্ন করা উচিত। কারণ- কাজে স্বামীর অগ্রগতি এটার উপরই নির্ভর করে। স্ত্রী যদি স্বামীকে সহযোগিতা করেন তবে তিনি তাঁকে একজন সম্মানিত পুরুষে পরিণত করতে পারেন, যিনি স্ত্রী এবং সমাজের কাছে সুনাম অর্জন করবেন। একজন বোন; যার স্বামী বাড়িতে বসে কাজ করেন, তার জন্য স্বামীর কাছে বাচ্চা সামলানো, দরজা খুলে দেওয়া, রান্নাঘর বা গৃহকর্মে সাহায্য করা, বাচ্চাদের শাসন করা; এসব আশা করা উচিত নয়; বরং তিনি যখন কাজ করেন তখন এটা মনে করা উচিত যে- তিনি বাড়িতে নেই।
প্রিয় বোন! যখন আপনার স্বামী অধ্যয়ন কক্ষে যেতে চান; তার বই, খাতা-কলম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন। একবার তার কক্ষ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছানো হয়ে গেলে তাকে একা ছেড়ে দিন। সেখানে সজোরে কথা বলবেন না এবং বাচ্চাদেরকে শোরগোল করতে দেবেন না। আপনার বাচ্চাদের বাবা যখন কাজ করছেন তখন তাদের শেখান তারা যেন শোরগোল করে না খেলে। নিত্যদিনের বিষয় নিয়ে তার সাথে অহেতুক কথা বলবেন না। টেলিফোনে আপনি সাড়া দিন যখন তাতে কেউ ফোন করে। যদি কেউ তাকে দেখতে বা কথা বলতে চায় তবে তাদের বলুন তিনি ব্যস্ত। তার অবসর সময়ে অতিথিদের সাথে আনন্দ বিনোদন করুন। তিনি কাজে ব্যস্ত না থাকলে বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়স্বজনকে আমন্ত্রণ জানান। আপনার আবদারে আপনার সত্যিকারের বন্ধুরা মর্মাহত হবেন না। আপনি যখন আপনার গৃহস্থালির কাজ করছেন, তাকে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করুন। তার কাজে বাধা দেবেন না। সম্ভবত, কিছু বোন মনে করেন এভাবে জীবন অসম্ভব। তারা হয়তো বলতে পারেন, কোনো মহিলার পক্ষে গৃহস্থালির কাজকর্ম করা, একই সাথে স্বামীর যত্ন নেওয়া আর তার কাজের ব্যাঘাত হতে না দেওয়া কি সম্ভব?
এটা সত্য যে এইরূপ জীবন অস্বাভাবিক ও কঠিন বলে মনে হবে; কিন্তু যদি প্রশ্নকারী বোনেরা তাদের স্বামীর কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করেন, তবে তারা উপযুক্ত পরিকল্পনা, নিষ্ঠা আর প্রজ্ঞার মাধ্যমে সমস্যা মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এরূপ পরিস্থিতিতে কিছু বোনের মধ্যে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়। অন্যথায়, একটি সাধারণ পারিবারিক জীবন পরিচালনা করা অস্বাভাবিক কোনো কাজ নয়।
প্রিয় বোন! একটি বই লেখা, একটি উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ বা দরকারী প্রবন্ধ লেখা, একটি চমৎকার কবিতা লেখা, একটি মূল্যবান চিত্রকর্ম তৈরি করা, বা বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধান করা সহজ কাজ নয়। তবে, আপনার নিষ্ঠা এবং সহযোগিতা এটাকে সম্ভব করে তোলে। আপনি কি আপনার বাসনা ত্যাগ করে এবং আপনার জীবনে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনার স্বামীকে তার কাজে সাহায্য করতে প্রস্তুত নন?