📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 প্রশংসা করুন

📄 প্রশংসা করুন


যদি কোনো ব্যক্তি তার কষ্টার্জিত সম্পদ আল্লাহকে খুশি রাখার উদ্দেশ্যে দান-সদকা করে বদান্য ও উদার হয়, আর সে তার এমন কাজের জন্য প্রশংসা পায় এবং তার কাজের মূল্যায়ন করা হয়; তবে তা ঐ ব্যক্তির মাঝে উষ্ণ অনুভূতি যোগায় এবং সে একটি অভীষ্টপূরণের আনন্দ পায়।

ভালো কাজ করা তখন তার স্বভাবে পরিণত হয়। নিজের সম্পদ অভাবীকে বিলিয়ে দেওয়া তার অভ্যাস হয়ে যায়। অপরদিকে যদি তার ভালো কাজের মূল্যায়ন করা না হয়, প্রশংসা না করা হয়, তাহলে সে ভালো কাজ করার উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলতে পারে।

স্বভাবিকভাবেই যখন তার ভালো কাজের প্রশংসা করা হবে না, তখন সে তার কষ্টার্জিত সম্পদ খরচ করার উৎসাহ পাবে না। কৃতজ্ঞ থাকা, অপরের তারিফ করতে পারা এগুলো একজন ব্যক্তির প্রশংসনীয় গুণ। আর এটিই সেই গোপন রহস্য যার মাধ্যমে সে দান করার প্রতি উদ্বুদ্ধ হতে পারে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে— মানবজাতির উপর তাঁর অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে—

অর্থ : “তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে— যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব। যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।”১৯

হে বোন! মনে রাখবে! তোমার স্বামীও একজন মানুষ। সবার মতো তারও প্রশংসা শুনতে ভালো লাগে। সে তার পরিবারকে ভরণপোষণ দিতে প্রস্তুত থাকে এবং সে এটাকে তার নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা মনে করে। তবে যখন তার এই দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে ধন্যবাদ দেওয়া হয় আর তার প্রশংসা করা হয়, তখন তার কাছে এই দায়িত্ব পালন বোঝা মনে হয় না।

যখনই সে ঘরের কোনো সরঞ্জাম অথবা তোমার জন্য বা বাচ্চাদের জন্য কাপড়চোপড় বা জুতা অথবা এরকম কিছু নিয়ে আসে, তখন তুমি খুশি হও এবং তাকে ধন্যবাদ জানাও। তার ছোট-বড় যে কোনো কাজ— যেমন, ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা, পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া অথবা তোমাকে টাকাপয়সা দেওয়া ইত্যাদি— যা কিছু সে করে থাকে, সব ক্ষেত্রে তাকে কৃতজ্ঞতা জানাও। তুমি যদি তোমার স্বামীর প্রশংসা কর, তাহলে সে কষ্ট করলেও তার ভালো লাগবে।

সতর্ক থেকো! সবসময়ই যে পরিবারের দায়িত্ব পালনের সুযোগ তার হবে, এমনটা মনে করো না। পরিবারে তার অবদানের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যেয়ো না। এতে সে পরিবারের মঙ্গলের ব্যাপারে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। তখন অন্য কোথাও বা তার নিজের জন্য খরচ করতে পছন্দ করবে। তোমার কোনো বন্ধু বা কোনো আত্মীয় তোমাকে একজোড়া মোজা বা একগুচ্ছ ফুল উপহার দিলেও তুমি তাকে বারবার ধন্যবাদ জানাতে। সুতরাং এটি স্বাভাবিক এবং ন্যায়সম্মত যে— তুমি তোমার স্বামীর স্নেহ ও উদার মনোভাবের জন্যে তার প্রশংসা করবে। এটা ভেবোনা যে— তার প্রশংসা করলে তুমি ছোট হয়ে যাবে। বরং এতে তুমি আরো বেশি যত্ন আর ভালোবাসা পাবে। কারণ তুমি তার এমন প্রচেষ্টা ও কাজের প্রশংসা করছো, যেখানে স্বার্থপরতা শুধুই দুর্ভাগ্য ডেকে আনে।

এই সংক্রান্ত কিছু হাদিস

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— “জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী হবে নারী।” কারণ জানতে চাইলে নবিজী বললেন—

অর্থ : “কারণ তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ, অল্পতেই তার অনুগ্রহ ভুলে যায়। সারাজীবন স্বামী তার যথাযথ খেয়াল রাখার পরও কখনো এর ব্যতিক্রম হয়ে গেলে তারা বলতে শুরু করে, 'জীবনে কখনো তোমার থেকে ভালো কিছু পাইনি'।”২০

আরেক বর্ণনায় আছে—

অর্থ : “যখন কোন নারী তার স্বামীকে বলে, 'জীবনে কখনো তোমার থেকে ভালো কিছু পাইনি', তখন তার সব নেক আমল বরবাদ হয়ে যায়।”২১

বিখ্যাত তাবেয়ি হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়িবের কাছে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নালিশ করলে তিনি বলেন— নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

অর্থ : “যে নারী স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার দিকে ফিরেও তাকাবেন না।”২২

টিকাঃ
১৯ সূরা ইবরাহিম : ৭।
২০ সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ২৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২১০৯।
২১ ইবনে আদি, হাদিস নং: ৭৭৯।
২২ মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদিস নং: ১৩৯৯০, মুস্তাদরাক, হাদিস নং: ২৮২০।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 তার দোষ ধরতে যাবেন না

📄 তার দোষ ধরতে যাবেন না


কেউই নিখুঁত নয়। কেউ বেশি লম্বা কেউ খাটো, কেউ অতিরিক্ত মোটা কেউ আবার খুব চিকন, কারো নাক বড় তো কারো ছোট, কেউ বাচাল কেউ আবার মিতভাষী, কারো মেজাজ গরম কারো ঠাণ্ডা, কেউ খুব কালো বর্ণের তো কেউ ফর্সা বর্ণের, কেউ বেশি খায় কেউ কম, এভাবে আরো অনেক বলা যায়। বেশিরভাগ মানুষের মাঝেই এরকম কোনো না কোনো দোষত্রুটি আছে। প্রত্যেকেই চায়- তার সঙ্গী হবে একেবারে নিখুঁত। এমন আশা করা আসলে অবান্তর।

নিজের স্বামীকে নিখুঁত মনে করে এমন কোনো মহিলা বাস্তবে খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ তার স্বামীর দোষত্রুটি অন্বেষণ করলে নিঃসন্দেহে কোনো না কোনো দোষ খুঁজে পাবেই। অনেক মহিলা আছে- যারা স্বামীর মাঝে সামান্য একটি দোষ পেলেই সে ব্যাপারে এত অতিরঞ্জন করে, যা অসহ্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই দোষ তখন স্বামীর সকল যোগ্যতাকে ছাপিয়ে যায়। এসব মহিলা সবসময় অন্য পুরুষের সাথে তাদের স্বামীর তুলনা করে। তারা কল্পনায় এমন এক আদর্শ পুরুষ তৈরি করে রেখেছে, যার গুণাগুণ তাদের স্বামীর সাথে মিলে না।

এভাবে বিয়ে করে কী পেলো আর কী পেলোনা সেটা নিয়ে শুধুই অভিযোগ করে যায়। এরা এক সময় নিজেদেরকে দুর্ভাগা আর ব্যর্থ ভাবতে থাকে, যা তাদেরকে ধীরে ধীরে হিংসুক ও রাগী বানিয়ে দেয়। একজন নারীর এহেন আচরণ তার স্বামীর উপর কী প্রভাব ফেলে? হয়ত তার স্বামী খুবই ধৈর্যশীল, সে তার সমস্ত রাগ ও দুর্ব্যবহার সহ্য করে নেয়। কিন্তু মনে মনে সে অপমান বোধ করে। স্ত্রীর প্রতি বিরক্ত হয়ে ওঠে। ফলে তারা তর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরস্পরের দোষ-ত্রুটি বড় করে দেখা শুরু করে। একে অপরের ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয় এবং তাদের জীবন রেশারেশিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। অতঃপর হয়তো কষ্ট করে একসাথে জীবনযাপন করে নয়তো তালাকের পথ বেছে নেয়। উভয় ক্ষেত্রেই তাদের দুজনেরই ক্ষতি। দ্বিতীয় বিয়ের পর যে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে- কিছু নারী একেবারেই বিবেকহীন আর তাদের মূর্খতার উপর একগুঁয়ে। এরা তুচ্ছ বিষয় নিয়েও পরিবারকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে। নিচে এই জাতীয় নারীদের কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো-

“এক নারী স্বামীকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যায়। কারণ- তার স্বামী থেকে নাকি দুর্গন্ধ আসে। এই সমস্যার সমাধান না হলে সে বাড়িতে ফিরবে না বলে জানিয়ে দেয়। স্বামীর অনুরোধের ভিত্তিতে আদালত তাদেরকে পুনরায় মিল করে দেয় এবং স্ত্রী স্বামীর কাছে ফিরে আসে। যখন তারা বাসায় পৌছায় মেয়েটি তখনও ঐ দুর্গন্ধ পেতে থাকে। তাই সে অন্য রুমে চলে যায়। এভাবে চলতে থাকায় একপর্যায়ে তার স্বামী পাগল হয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে।”

“একজন মহিলা দন্তচিকিৎসকের স্বামী তার তিন বছর পরে স্নাতক পাস করার কারণে সে স্বামীকে তালাক দিয়ে দেয়। কারণ স্বামী নাকি তার যোগ্য নয়।”

“একজন মহিলা বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করার কারণ ছিলো, তার স্বামী মেঝেতে বসে হাতে নিয়ে খাবার খেতো, প্রতিদিন শেভ করতো না, আর অন্যদের সাথে সামাজিকভাবে চলতো না।”

অবশ্যই সব মেয়েরা এই রকম না। অনেকেই আছে যারা বেশ বুদ্ধিমতি, বাস্তববাদী এবং যথেষ্ট সচেতন। তারা স্বামীর দুর্বলতার ব্যাপারে অতিরঞ্জন করে বৈবাহিক জীবন ও সুখ-শান্তিকে বিপর্যস্ত করে না।

হে বোন! তোমার স্বামীও তোমার মতোই একজন মানুষ। সে হয়তো নিখুঁত নয়, কিন্তু তার অনেক যোগ্যতা থাকতে পারে। যদি বিয়ের সময় তুমি ও তোমার পরিবার রাজি হয়ে থাকো, তাহলে তোমার স্বামীর দুর্বলতা খুঁজতে যেও না। তার ছোট ছোট ত্রুটিগুলোকে বড় করে দেখো না। তাকে এমন আদর্শ পুরুষের সাথে তুলনা করো না, যাকে তুমি নিজের মনে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছো। তোমার স্বামীর মধ্যে কিছু দোষ থাকতে পারে, যা অন্যের মাঝে নেই। তবে তোমার মনে রাখতে হবে যে- অন্য পুরুষদের মধ্যে অন্যান্য ত্রুটি থাকতে পারে, যা তোমার স্বামীর মাঝে নেই। তার যেসব যোগ্যতা আছে তার উপর সন্তুষ্ট থাকো। ফলস্বরূপ তুমি দেখতে পাবে যে- তার গুণাবলী তার দোষ-ত্রুটিকে ছাড়িয়ে যাবে।

তাছাড়া তুমি নিজে যেখানে নিখুঁত নও সেখানে কেন একজন নিখুঁত স্বামী পাওয়ার স্বপ্ন দেখো। তুমি যদি নিজেকে নিখুঁত মনে করে গর্বিত হও তবে অন্যকে জিজ্ঞাসা করো। তোমার মাঝেও দুর্বলতা আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

অর্থ: “তোমরা যারা নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করছো কিন্তু অন্তরে ঈমান নেই, তারা মন দিয়ে শোনো, মুসলমানের সমালোচনা করো না, তাদের দোষ খুঁজতে যেয়ো না, যে ব্যক্তি মুসলমানের দোষ খুঁজে বেড়ায় আল্লাহ তাআলা তার দোষ খোঁজেন। আর আল্লাহ যার দোষ খোঁজেন সে নিজের ঘরে বসে থেকেও লাঞ্ছিত হয়।”২৩

তুচ্ছ জিনিসকে কেন তুমি অতিরঞ্জিত করবে? সামান্য কিছুর জন্য কেন তুমি তোমার জীবন ধ্বংস করবে? বুদ্ধিমান হও। অসার, মূর্খ হয়ো না। তোমার স্বামীর দোষত্রুটি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করো। আর কখনোও তার সামনে বা অগোচরে এসব নিয়ে আলোচনা করো না। পরিবারে আন্তরিক একটি পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করো এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নেয়ামত উপভোগ করো।

যাই হোক- হয়ত তোমার স্বামীর চরিত্রে এমন কিছু দোষ থাকতে পারে, যা তুমি সংশোধন করে দিতে পারো। যদি তা হয় তবে ধৈর্যধারণ করে ও সতর্ক আচরণের মাধ্যমে তুমি সফল হতে পারবে। তার সমালোচনা করা ও তার সাথে ঝগড়া করা তোমার জন্যে উচিত নয়। বরং তোমার উচিত হলো- তাকে বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে বলা।

টিকাঃ
২৩. সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ১৮৭৪।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 স্বামীকে নিয়েই সুখে থাকুন

📄 স্বামীকে নিয়েই সুখে থাকুন


হে বোন! তোমার স্বামী ছাড়া অন্য কারও দিকে নজর দিও না। বিয়ের আগে হয়তো তোমার আরও অনেক প্রস্তাব ছিল। হয়তো ঐ প্রস্তাবগুলো ছিল সুন্দর, শিক্ষিত, সম্পদশালী ছেলেদের পক্ষ থেকে, যাদেরকে তুমি বিয়ে করতে চেয়েছিলে। বিয়ের আগে এরকম আশা করা, স্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক ছিল। তবে এখন তুমি তোমার জীবনসঙ্গী বেছে নিয়েছো এবং তার সাথে সারা জীবন একত্রে থাকার জন্য একটি পবিত্র চুক্তি স্বাক্ষর করেছো। তাই এখন অতীতের সবকিছু ভুলে যাও। অবশ্যই এখন তোমার উচিত অতীতের সব ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা ও বিয়ের সেই সব প্রস্তাব ভুলে যাওয়া।

নিজের স্বামী ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পুরুষকে ভেবো না। স্বামীকে নিয়েই সুখে থাকো। তুমি যদি তা না করো তবে নিজেই নিজেকে চাপে ফেলে দিবে। যেহেতু তুমি তোমার স্বামীর সাথে সংসার করতে রাজি হয়েছো, তাহলে কেন এখন অন্য পুরুষের দিকে মনোযোগ দিবে? কেন তাকে অন্য ছেলেদের সাথে তুলনা করবে? নিজেকে কষ্ট দেওয়া এবং নিজের মানসিক যন্ত্রণা বাড়ানো ছাড়া অন্য পুরুষদের দিকে তাকিয়ে তুমি কী আর অর্জন করতে পারবে?

যে তার চোখকে স্বাধীন ছেড়ে দেয়, সে সর্বদা কষ্টে থাকে আর স্থায়ীভাবে হিংসা-বিদ্বেষের মধ্যে আটকা পড়ে; এটাই স্বাভাবিক। অন্য পুরুষদের দিকে তাকিয়ে এবং তোমার স্বামীকে তাদের সাথে তুলনা করে তুমি হয়তো এমন এক ব্যক্তির সন্ধান পাবে যার মাঝে তোমার স্বামীর দোষগুলো নেই। তুমি তখন ভাবতে পারো ঐ ব্যক্তি নিখুঁত। কারণ তার দোষত্রুটি কোথায় তুমি তা জানো না। তারপর তুমি নিজের বিয়েকে একটি ব্যর্থতা হিসেবে ধরে নিতে পারো; যা তোমাকে ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে।

“আঠারো বছরের এক মেয়েকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। যে তার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। মেয়েটি পুলিশকে জানায়, বিয়ের তিন বছর পর এক সময় তার কাছে মনে হয়েছে, সে তার স্বামীকে ভালোবাসে না। মেয়েটি বলে- 'আমি প্রায়ই আমার স্বামীর চেহারা অন্য পুরুষের সাথে তুলনা করতাম আর ওর সাথে বিয়ে হওয়ায় আফসোস করতাম।”

হে বোন! তুমি যদি তোমার বৈবাহিক জীবন স্থায়ী করতে চাও, যদি মানসিক অশান্তি থেকে বাঁচতে চাও, যদি একটি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চাও, তাহলে স্বার্থ ও অর্থের মোহের পেছনে ছোটা বন্ধ করো। কখনো অন্য পুরুষের প্রশংসা করো না। নিজের স্বামী ছাড়া অন্য লোককে নিয়ে ভেবো না। মনে মনে এমন আফসোস করো না, 'হায়, আমার যদি অমুকের সাথে বিয়ে হতো! আমার স্বামী যদি অমুকের মতো সুদর্শন হতো! হায়, আমার স্বামী যদি এমন ভালো একটা চাকরি করতো! হায় এটা, হায় ওটা!'

কেন? কেন নিজেকে এসব চিন্তার মাঝে বন্দী করে রাখছো? কেন নিজ হাতে নিজের বৈবাহিক জীবনের ভিত দুর্বল করে দিচ্ছো? ধরো, এসব আকাঙ্ক্ষার কোনোটা সফল হয়ে গেলো; এবার তুমি কি নিশ্চিত যে- এটা আসলেই তোমাকে সুখ এনে দেবে? তোমার কী ধারণা, যেসব পুরুষকে দেখে মনে হয় তাদের সব আছে, কোনো অভাব নেই, তাদের সবার স্ত্রী তাদেরকে নিয়ে খুব সুখী?

হে বোন! তোমার স্বামী যদি কখনো এটা সন্দেহ করে বসে যে- তুমি অন্য পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছো, তাহলে তার মনটা ভেঙে যাবে, তোমার প্রতি সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। সাবধান! কখনো কোনো পুরুষের সাথে হাসি-তামাশা, ওঠাবসা ইত্যাদি করো না। পুরুষের মন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাদের স্ত্রী অন্য পুরুষের ছবি দেখে প্রশংসা করবে, এতোটুকুও তারা সহ্য করতে পারে না।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 পর্দা করুন

📄 পর্দা করুন


নারী ও পুরুষের পর্দার ব্যাপারে ইসলামে কতগুলো বিধান রয়েছে, যা উভয়ের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। আবার এমন কতগুলো বিধান রয়েছে যা বিশেষভাবে নারীর জন্য প্রযোজ্য। কেননা নারী জাতির মধ্যে সৃষ্টিগতভাবেই আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন, তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে কোমল, সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে। প্রকৃতিগতভাবেই তারা মুগ্ধকর, আকর্ষণীয়, পছন্দনীয় ও ভালোবাসার পাত্রী।

স্বামী চায় স্ত্রীর মধুরতা, ভালোবাসা, রংঢং, সৌন্দর্য, হাসি-তামাশা, রসিকতা ইত্যাদি শুধুমাত্র সে-ই উপভোগ করবে। স্ত্রী অন্য পুরুষদের থেকে এসব লুকিয়ে রাখবে। পুরুষের মানসিক প্রকৃতিই এমন; এরা নিজের স্ত্রীর দিকে অন্য লোকের তাকানোটাও সহ্য করতে পারে না। তার স্ত্রীর সাথে অন্য লোকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য করে। সে চায় তার স্ত্রী ইসলামি পর্দা পালন করুক, নারীর জন্য ইসলামের সংবিধিবদ্ধ পোশাক পরিধান করুক।

একজন মুসলমান নারী ইসলামের আচার-আচরণ ও নিয়ম-কানুন পালনের মাধ্যমে তার স্বামীর আইনগত অধিকার রক্ষা করে। যেকোনো সৎ পুরুষেরই স্ত্রীর এ ধরনের গুণাবলির প্রতি আকাঙ্ক্ষা থাকবে। নারীর সামাজিক আচার-আচরণ যদি ইসলামি আচার-নীতির ওপর গড়ে ওঠে তবে সে তার স্বামীকে মানসিকভাবে শান্তিতে রাখতে পারবে। তখন তার স্বামী পরিবারের জন্য রোজগার করতে আগ্রহ পাবে, স্ত্রীর প্রতি অধিক ভালোবাসা দেখাবে। এসকল স্বামীরা পর-নারীর প্রতি আকৃষ্ট হবে না।

অপরদিকে যে পুরুষের স্ত্রী ইসলামের পর্দার বিধান পালন করে না, নিজের সৌন্দর্য পরপুরুষকে দেখিয়ে বেড়ায় এবং তাদের সাথে চলাফেরা করে, সে সকল স্বামীগণ মারাত্মকভাবে বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। সে মনে করে যে— স্ত্রী তার অধিকার নষ্ট করছে। এই সকল স্বামীগণ সব সময় মর্ম-যাতনা ও হতাশায় ভোগে এবং আস্তে আস্তে পরিবারের প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে।

সুতরাং সমাজ ও নারীজাতির কল্যাণের স্বার্থে নারীকে শালীন পোশাক পরিধান করতে হবে। লোকসমাজে সাজসজ্জাবিহীন অবস্থায় চলাফেরা করতে হবে। নিজের সৌন্দর্য, শোভা অপরের দৃষ্টির আড়ালে রাখতে হবে।

পর্দা পালন করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন—

অর্থ: “ঈমানদার নারীদেরকে বলুন— তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং যেন তাদের স্বামী, পিতা, পুত্র, শ্বশুর, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও যে সকল বালক নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”২৪

সমাজে পর্দা করে চললে নারীজাতি নিজেরাই বিভিন্নভাবে উপকৃত হবে। যেমন—

প্রথমত— এর মাধ্যমে একজন নারী সামাজিক মর্যাদা ও অভ্যন্তরীণ মূল্যবোধকে উত্তমভাবে সংরক্ষণ করতে পারে। নিজেদেরকে স্রেফ প্রদর্শনী পণ্য হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

দ্বিতীয়ত— স্বামীর প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসার কার্যকর প্রমাণ পেশ করতে পারে। ফলশ্রুতিতে, পরিবারে একটি আন্তরিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। অসুস্থ পরিবেশ ও ঝগড়াঝাটি রোধ করা সম্ভব হয়। সংক্ষেপে বললে এধরনের মহিলারা স্বামীর মন জয় করতে পারে এবং পরিবারে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

তৃতীয়ত— ইসলামি পর্দাপ্রথা পালনের মাধ্যমে অবৈধ কুদৃষ্টি বন্ধ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে ঝগড়া-ফাসাদ বন্ধ হয় ও পারিবারিক বন্ধনের ভিত্তি মজবুত হয়। ফলে পারিবারিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

চতুর্থত— মহিলারা যদি যথাযথভাবে পর্দা পালন করে তবে যুবসমাজ ভুল পথে যাওয়া থেকে বাঁচবে। তাদের চরিত্র সংরক্ষিত থাকবে, এতে নারীরও উপকার হবে।

পঞ্চমত— সকল মহিলা যদি সঠিক পর্দা পালন করে তবে স্ত্রীরা সবাই নিশ্চিন্তে থাকতে পারবে যে— ঘরের বাইরে গেলে তার স্বামী কোনো দুশ্চরিত্রার প্রতি আকৃষ্ট হবে না এবং পরিবারের প্রতি মনোযোগ হারাবে না।

ইসলাম নারীজাতির সৃষ্টিগত বিশেষ প্রকৃতির ব্যাপারে সচেতন। সেই সাথে নারীকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবেও বিবেচনা করেছে এবং তার ওপর বেশ কিছু দায়িত্বও আরোপ করেছে। ইসলাম চায় নারী পর্দা রক্ষা করে তার সামাজিক দায়িত্বগুলো পালন করুক। এতে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ মেয়াদি স্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও নিরাপত্তা রক্ষা হবে। জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত হবে। তবে একজন নারী অবশ্যই তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার লাভ করবে আল্লাহ প্রদত্ত ধর্মীয় দায়িত্বগুলো পালনের মাধ্যমে।

সম্মানিতা বোন!

তুমি যদি পরিবারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চাও, তুমি যদি নারী অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হও, যদি যুবকদের মানসিক সুস্থতার ব্যাপারে যত্নশীল হও এবং তাদের নৈতিক অধঃপতন রোধ করতে চাও, যদি বখাটেদের থেকে নারীর অসম্মান রোধ করতে চাও, সর্বোপরি যদি একজন বিশ্বাসী ও ত্যাগী মুসলিম হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাও, তবে তোমাকে ইসলামি পর্দা পূর্ণভাবে পালন করতে হবে। স্বীয় সৌন্দর্য নন-মাহরামদের সামনে প্রদর্শন কোরো না। এটা নিজের ঘরে শুধু মাহরামদের সামনেই কেবল প্রকাশ করো। তোমাকে পর্দা করতে হবে স্বামীর ভাই ও তাদের ছেলেদের সামনে, পর্দা করতে হবে খালু, ফুফা, খালাতো, চাচাতো, মামাতো ও ফুফাতো ভাইদের সামনে। তাদের সামনে ইসলামি পর্দা অনুযায়ী কাপড় না পরা গুনাহের কাজ এবং তাতে তোমার স্বামীর মন খারাপ হতে পারে। যদিও সে হয়তো কখনো তা উল্লেখ করবে না। একজন নারীর জন্য তার শ্বশুর, আপন ভাই ও তার ভাগ্নের সামনে ওইভাবে পর্দা করার প্রয়োজন নেই। তবে উত্তম হলো সে তাদের সামনেও একটি নির্দিষ্ট ইসলামি পর্দা মেনে চলবে। অর্থাৎ একজন নারী তার স্বামীর সামনে নিজেকে যতটা আকর্ষণীয় করবে, উপরোক্ত আত্মীয়দের সামনে ততটা করা উচিত হবে না। কারণ বেশিরভাগ পুরুষ চায় না, তার স্ত্রী অন্য ছেলের সামনে সাজবে বা আকর্ষণীয় কাপড় পরবে। আর এটা ভুলে গেলে চলবে না যে— মানসিক শান্তি এবং স্ত্রীর প্রতি স্বামীর বিশ্বাস একটি পরিবার টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

টিকাঃ
২৪ সূরা নূর : ৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00