📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 বিশ্বস্ত ও প্রশান্ত মনোভাব

📄 বিশ্বস্ত ও প্রশান্ত মনোভাব


সকল সম্পর্কে বিশেষত সব দম্পতির মাঝে বিশ্বস্ত ও প্রশান্ত মনোভাব অপরিহার্য। দাম্পত্য জীবন সম্মিলিত জীবন, তাই প্রফুল্ল মন নিয়ে একসাথে থাকুন, একসাথে বাঁচুন। যদি স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখী জীবন উপভোগ করতে চান; তবে আপনার মনোভাবকে উদার ও ইতিবাচক রাখুন। ঝগড়াটে মনোভাব পরিহার করুন। আপনি জানেন না—ঘরে সুখ আনার ক্ষমতা রয়েছে আপনার; মমতার অগ্রদূত হয়ে স্বামী ও সন্তানকে প্রশান্তিতে আচ্ছন্ন করার যোগ্যতা আছে আপনার; উদার মনোভাব আর সুন্দর আচরণ দিয়ে তাদের মন জয় করে নেওয়ার সামর্থ্য আছে আপনার!

তাই আপনি যদি উন্নত জীবন ও স্বামীর সাথে সুসম্পর্কের আশা করেন, তবে অবহেলা করবেন না। ইতিবাচক মনোভাব ও মনোরম স্বভাব ধারণ করুন। দুজনের সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্ক সুরক্ষার হাতিয়ার। সম্পর্ক বিচ্ছেদের কারণ দুজনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ। পারিবারিক সমস্যা ও মতবিরোধের মূল উৎস, দম্পতির মাঝে মনোভাব, মূল্যবোধ ও আচরণের অসামঞ্জস্যতা। বিবাহবিচ্ছেদের পরিসংখ্যানগুলো থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। একজন মহিলা আদালতে অভিযোগ করেছিলেন, তার স্বামী সব সময় দুপুর ও রাতের খাবার বাইরে খেতে যান। স্বামী তখন বাইরে খেতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন যে—'তার স্ত্রী মোটেও স্বাভাবিক নয়, সে চরম পর্যায়ের মস্তিষ্কবিকৃত'। এই কথা শুনে স্ত্রী তাৎক্ষণিক ছুটে গিয়ে বিচারকের সামনেই স্বামীকে মারতে শুরু করে।

এই নির্বোধ মহিলা ভেবেছিল—অভিযোগ, গালিগালাজ আর মারধর করার মাধ্যমে সে স্বামীকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে পারবে। তাই সে সহজ ও বুদ্ধিদীপ্ত কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করেনি। অথচ সেটাই হতো সঠিক পদক্ষেপ। তারা দু'জনেই উপযুক্ত আচরণ করতে ভুল করেছে। আরেক মহিলা অভিযোগ করেন—তার স্বামী পনেরো মাস ধরে তার সাথে কথা বলেন না। অথচ নিজের মায়ের সাথে তার আচরণ ভালো। জবাবে স্বামী বলেন—স্ত্রীর দুর্ব্যবহারের কারণে তিনি পনেরো মাস ধরে তার সাথে কথা না বলার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বেশিরভাগ পারিবারিক কলহের সমাধান উদারতা, মমত্ববোধ এবং কোমল স্বভাবের মাধ্যমে করা সম্ভব। যদি আপনার স্বামী অপরাধ করে, আপনাকে অবহেলা করে, সম্পদ অপচয় করে অথবা পরস্পরের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটার মতো যে কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে, তবে তা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো—পরস্পর উদার হওয়া এবং বিনম্র স্বভাব অবলম্বন করা। এমন আচরণ অনুশীলনের ফলাফলগুলো অলৌকিক ঘটনার মতো হয়ে থাকে। যে মহিলা স্বামীকে কষ্ট দেয়, সে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে দূরে থাকে। এবং যে তার স্বামীকে সম্মান করে, স্বামীর আনুগত্য করে এবং তাকে কোনো দুঃখ দেয় না, সে ধন্য এবং সমৃদ্ধ হয়।

হাদিসে আছে—'মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একজন মহিলার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল, যে অধিক নামাজ, রোজা ও সদকার কারণে প্রসিদ্ধ ছিল। তবে সে তার রুক্ষ আচরণ দিয়ে সঙ্গীদেরকে কষ্ট দিত। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
❝অর্থ : “সে জাহান্নামের বাসিন্দা।”১৬

টিকাঃ
১৬. মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৯৬৭৫। বায়হাকি, হাদিস নং: ৯৫৪৫।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 ভুল প্রত্যাশা

📄 ভুল প্রত্যাশা


প্রিয় বোন! আপনি বাড়ির নেত্রী। বুদ্ধিমতী এবং বোদ্ধা হোন। আপনার ব্যয়ের হিসাব রাখুন। আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ব্যয়ের বাজেট করুন। কারো সাথে প্রতিযোগিতা করবেন না, হিংসা করবেন না। কোনো মহিলার সুন্দর পোশাক বা কারো বাড়িতে চমৎকার কোনো বস্তু দেখে পছন্দ হলে, স্বামীর সামর্থ্যের প্রতি খেয়াল রেখে আবদার করুন। তাকে ঋণ নিতে বাধ্য করবেন না। চাহিদা পূরণের জন্য আয় বৃদ্ধির অপেক্ষা করা অথবা অপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে সঞ্চয় করা বুদ্ধিমানের কাজ।

হিংসাত্মক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত বেশিরভাগ লোভী ও স্বার্থপর নারী এসব বুঝতে চায় না। ফলে তারা স্বামীর চোখে ঘৃণার পাত্রীতে পরিণত হয়। তাদের দাবি মেটাতে গিয়ে স্বামীরা ক্লান্ত ও বিতৃষ্ণ হয়ে ওঠে। পরিশেষে এর একমাত্র সমাধান হয় বিবাহ বিচ্ছেদ অথবা রক্তপাত। তারা চায় এমন স্বামী, যে দাসের মতো তাদের সেবা করবে এবং তাদের ব্যয়ে কোনো আপত্তি করবে না। এসব মহিলারা নারীজাতির কলঙ্ক। এই উচ্চাভিলাষ তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়। ফলে তারা সন্তানের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। একাকিত্ব ঘিরে ধরে তাদেরকে। নতুন স্বামী তাদের কপালে জোটে না। জুটলেও পরের স্বামীও তাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়।

প্রিয় বোন! লোভী না হয়ে অল্পে তুষ্ট হোন। অন্যের অনুকরণ ছেড়ে নিজের পরিবারের সমৃদ্ধি ও স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করুন। আপনার স্বামীও লাগামহীন ব্যয়ে অভ্যস্ত হলে তাকে থামান এবং অপব্যয় আটকান। অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পরিবর্তে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা ভালো।

এক বর্ণনায় আছে—নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের কাছ থেকে স্বামীকে ধোঁকা না দেওয়ার ওয়াদা নিয়েছেন। জিজ্ঞেস করা হলো—স্বামীকে ধোঁকা দেওয়ার অর্থ কী? জবাবে নবীজী বললেন—
অর্থ: “অনুমতি ছাড়া স্বামীর মাল ব্যয় করে অন্যের সাথে খাতির জমানো।”১৭

আরেক বর্ণনায় হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
অর্থ: “তাকওয়ার পরে মুমিন বান্দার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হলো নেককার স্ত্রী। যে স্বামীর আদেশ অমান্য করে না এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও নিজের সতীত্বের হেফাজত করে।”১৮

টিকাঃ
১৭ আহমদ, হাদিস নং: ২৭১৩৩; তাবারানি, হাদিস নং: ২০২০৯।
১৮ ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫৭; তাবারানি, হাদিস নং: ৭৮০১।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 সহানুভূতি প্রকাশ করুন

📄 সহানুভূতি প্রকাশ করুন


আপনার স্বামীকে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে দিন। পুরুষের জীবন পরিবারের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কাছে দায়বদ্ধ। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ঘরে-বাইরে হাজারো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, সহকর্মীদের রূঢ় আচরণ, উন্নতির চিন্তা, বন্ধুবান্ধবের আবেগ-উদ্বেগসহ বহুমুখী ও ব্যাপক চাপ সইতে হয় একজন দায়িত্বশীল পুরুষকে। তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই যে- পুরুষের গড় আয়ু নারীর চেয়ে কম।

জীবনের এই কঠিন বোঝা সামলাতে পুরুষের প্রয়োজন হয় একটু সান্ত্বনা-সহানুভূতির। আপনার স্বামীও এর ব্যতিক্রম নন। তাই তিনিও আপনার কাছে সান্ত্বনা-সহানুভূতির প্রত্যাশী। দিনশেষে আপনাকেই তিনি সান্ত্বনার উৎসমূল ও শেষ আশ্রয় মনে করেন। অতএব তার প্রত্যাশা ও প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা করুন। কাজ শেষে যখন তিনি ঘরে ফিরেন, তাকে বুঝতে দিন যে- তার প্রত্যাশা পূরণে আপনি সদা উন্মুখ।

পারিবারিক ঝামেলা উত্থাপন করার আগে তাকে বিশ্রাম নিতে দিন। তার উদ্যমতা ফেরাতে সহায়তা করুন। রসিকতা ও উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় করুন। তার ক্লান্তি, ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মিটান। তারপর তার ভালো-মন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। যদি তিনি কথা বলতে রাজি হন, তবে মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনুন এবং তার প্রতি সহানুভূতি দেখান, সত্যিকারের উদ্বেগ প্রকাশ করার চেষ্টা করুন। তাকে বুঝতে সহায়তা করুন যে- তার সমস্যাগুলির সমাধান ততো কঠিন নয়। তাকে সান্ত্বনা ও উৎসাহ দিন।

আপনি এমন কিছু বলতে পারেন- “অনেকেই তো এসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্য দিয়ে সব সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এটা আপনার জীবনের জন্য পরীক্ষা। এর বিনিময়ে হয়তো আপনি বড় কিছু অর্জন করতে যাচ্ছেন। তাই হতাশ না হয়ে বিচক্ষণতার সাথে এর মোকাবেলা করুন।”

অতঃপর সমস্যা সমাধানের কোনো উপায় আপনার জানা থাকলে তার সাথে শেয়ার করুন। অন্যথায় যোগ্য কারো সাথে পরামর্শ করে সমাধানের পথ নির্ণয় করুন।

প্রিয় বোন! বিপদের সময় আপনার মনোযোগ ও ভালোবাসা আপনার স্বামীর একান্ত প্রয়োজন। অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের মতো তাকে উপলব্ধি করে, যত্নশীল স্ত্রী হয়ে তাকে নার্সিং করুন। একজন মনোবিজ্ঞানী আপনাকে যে সঠিক নির্দেশনা দেবেন; তা অন্য কারো কাছে কি পাবেন? তার মনোবলকে শক্তিশালী রাখুন, সাহসকে প্রশ্রয় দিন। আপনার স্বামীর কল্যাণে আপনি ছাড়া আর কে একনিষ্ঠ ও উদ্বিগ্ন হবে! আপনার অনুরাগ তাকে শক্তি জোগাবে, সমস্যা মোকাবেলায় সাহায্য করবে, মানসিক চাপ থেকে তাকে মুক্তি দিবে।

ফলস্বরূপ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বন্ধন আরও মজবুত হবে; বৈবাহিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে। পৃথিবীতে উত্তম স্ত্রীর চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। আর ভালো স্ত্রী স্বামীর আনন্দে খুশি হন, সন্তানের প্রতি হন সদয় ও সহানুভূতিশীল। তারা স্বামীর মন মতো চলেন ও স্বামীকে চাপে ফেলেন না।

সুতরাং হে প্রিয় মা-বোন! আপনার স্বামীকে ভালোবাসুন। সব ক্ষেত্রে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পত্নীগণকে নিজের আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করুন। তারপর দেখুন! জীবন কত সুন্দর হয়!

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 প্রশংসা করুন

📄 প্রশংসা করুন


যদি কোনো ব্যক্তি তার কষ্টার্জিত সম্পদ আল্লাহকে খুশি রাখার উদ্দেশ্যে দান-সদকা করে বদান্য ও উদার হয়, আর সে তার এমন কাজের জন্য প্রশংসা পায় এবং তার কাজের মূল্যায়ন করা হয়; তবে তা ঐ ব্যক্তির মাঝে উষ্ণ অনুভূতি যোগায় এবং সে একটি অভীষ্টপূরণের আনন্দ পায়।

ভালো কাজ করা তখন তার স্বভাবে পরিণত হয়। নিজের সম্পদ অভাবীকে বিলিয়ে দেওয়া তার অভ্যাস হয়ে যায়। অপরদিকে যদি তার ভালো কাজের মূল্যায়ন করা না হয়, প্রশংসা না করা হয়, তাহলে সে ভালো কাজ করার উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলতে পারে।

স্বভাবিকভাবেই যখন তার ভালো কাজের প্রশংসা করা হবে না, তখন সে তার কষ্টার্জিত সম্পদ খরচ করার উৎসাহ পাবে না। কৃতজ্ঞ থাকা, অপরের তারিফ করতে পারা এগুলো একজন ব্যক্তির প্রশংসনীয় গুণ। আর এটিই সেই গোপন রহস্য যার মাধ্যমে সে দান করার প্রতি উদ্বুদ্ধ হতে পারে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে— মানবজাতির উপর তাঁর অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে—

অর্থ : “তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে— যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব। যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।”১৯

হে বোন! মনে রাখবে! তোমার স্বামীও একজন মানুষ। সবার মতো তারও প্রশংসা শুনতে ভালো লাগে। সে তার পরিবারকে ভরণপোষণ দিতে প্রস্তুত থাকে এবং সে এটাকে তার নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা মনে করে। তবে যখন তার এই দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে ধন্যবাদ দেওয়া হয় আর তার প্রশংসা করা হয়, তখন তার কাছে এই দায়িত্ব পালন বোঝা মনে হয় না।

যখনই সে ঘরের কোনো সরঞ্জাম অথবা তোমার জন্য বা বাচ্চাদের জন্য কাপড়চোপড় বা জুতা অথবা এরকম কিছু নিয়ে আসে, তখন তুমি খুশি হও এবং তাকে ধন্যবাদ জানাও। তার ছোট-বড় যে কোনো কাজ— যেমন, ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা, পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া অথবা তোমাকে টাকাপয়সা দেওয়া ইত্যাদি— যা কিছু সে করে থাকে, সব ক্ষেত্রে তাকে কৃতজ্ঞতা জানাও। তুমি যদি তোমার স্বামীর প্রশংসা কর, তাহলে সে কষ্ট করলেও তার ভালো লাগবে।

সতর্ক থেকো! সবসময়ই যে পরিবারের দায়িত্ব পালনের সুযোগ তার হবে, এমনটা মনে করো না। পরিবারে তার অবদানের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যেয়ো না। এতে সে পরিবারের মঙ্গলের ব্যাপারে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। তখন অন্য কোথাও বা তার নিজের জন্য খরচ করতে পছন্দ করবে। তোমার কোনো বন্ধু বা কোনো আত্মীয় তোমাকে একজোড়া মোজা বা একগুচ্ছ ফুল উপহার দিলেও তুমি তাকে বারবার ধন্যবাদ জানাতে। সুতরাং এটি স্বাভাবিক এবং ন্যায়সম্মত যে— তুমি তোমার স্বামীর স্নেহ ও উদার মনোভাবের জন্যে তার প্রশংসা করবে। এটা ভেবোনা যে— তার প্রশংসা করলে তুমি ছোট হয়ে যাবে। বরং এতে তুমি আরো বেশি যত্ন আর ভালোবাসা পাবে। কারণ তুমি তার এমন প্রচেষ্টা ও কাজের প্রশংসা করছো, যেখানে স্বার্থপরতা শুধুই দুর্ভাগ্য ডেকে আনে।

এই সংক্রান্ত কিছু হাদিস

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— “জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী হবে নারী।” কারণ জানতে চাইলে নবিজী বললেন—

অর্থ : “কারণ তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ, অল্পতেই তার অনুগ্রহ ভুলে যায়। সারাজীবন স্বামী তার যথাযথ খেয়াল রাখার পরও কখনো এর ব্যতিক্রম হয়ে গেলে তারা বলতে শুরু করে, 'জীবনে কখনো তোমার থেকে ভালো কিছু পাইনি'।”২০

আরেক বর্ণনায় আছে—

অর্থ : “যখন কোন নারী তার স্বামীকে বলে, 'জীবনে কখনো তোমার থেকে ভালো কিছু পাইনি', তখন তার সব নেক আমল বরবাদ হয়ে যায়।”২১

বিখ্যাত তাবেয়ি হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়িবের কাছে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নালিশ করলে তিনি বলেন— নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

অর্থ : “যে নারী স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার দিকে ফিরেও তাকাবেন না।”২২

টিকাঃ
১৯ সূরা ইবরাহিম : ৭।
২০ সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ২৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২১০৯।
২১ ইবনে আদি, হাদিস নং: ৭৭৯।
২২ মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদিস নং: ১৩৯৯০, মুস্তাদরাক, হাদিস নং: ২৮২০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00