📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 স্বামীর সম্মান

📄 স্বামীর সম্মান


আপনি যখন কাউকে ভালোবাসবেন; তার মানে অবশ্যই সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি ভালো জানেন। প্রত্যেক স্বামী তার স্ত্রীর নিকট সম্মান ও শ্রদ্ধা পেতে চায়, তবে তা কখনোই প্রকাশ করে না। ঘর থেকে বেরিয়েই জীবিকার তাগিদে সে নানা স্বভাবের মানুষের সংস্পর্শে আসে। কেউ তাকে ছোট করে কথা বলে, কেউবা অপমান করে, আর কারো কারো ব্যবহারে সে খুব বিরক্ত হয়। কিন্তু দিন শেষে ঘরে ফিরে সে তার স্ত্রীর কাছে যথাযথ সম্মান আর ভালো ব্যবহারটুকুই আশা করে। এই অবস্থায় সে কিছু বলতে চাইলে শ্রোতা হওয়া উচিত। শত রাগ কিংবা অভিমান থাকলেও বাসায় ঢোকার সাথে সাথে তার উপর চেঁচানো ঠিক না। নতুন কোথাও গেলে স্বামীকে আগে প্রবেশ করতে দিলেও একজন স্বামী মনে মনে নিজেকে সম্মানিত ভাবে। আর বাচ্চাদের অবশ্যই তাদের বাবাকে সম্মান করাটা শেখানো উচিত। এছাড়া অতিথিদের সামনে তার চরিত্রের ভালো দিকগুলো তুলে ধরা যায়। এতে অতিথির কাছে স্বামীর সম্মানটা বেড়ে গেলে, স্ত্রীর জন্য তার মায়া এবং আবেগও বেড়ে যায়। কাজ শেষে সে ঘরে ফিরলে তাকে সুন্দর কিছু বলে প্রতিদিন স্বাগত জানানো যায়। এসব ছোট ছোট কাজ সংসারে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ভাগ্যবান তো সে মহিলা; যে তার স্বামীকে সম্মান করে এবং কোনো প্রকার হয়রানি করে না। স্বামীর খাবার শেষে তার হাত ধোয়ার পানি এবং তোয়ালের ব্যবস্থা করা স্ত্রীর দায়িত্ব। সুতরাং স্বামীকে অবমাননা করা, অকারণে কড়া ভাষায় কথা কিংবা গালিগালাজ করা ইসলাম সমর্থন করে না। স্ত্রী হিসেবে স্বামীর প্রতি খুব মনোযোগী হওয়া উচিত। অকারণে তাকে অপদস্ত করা ঠিক নয়। কেননা স্ত্রী স্বামীকে অপদস্ত করলে, পরিণামে স্বামীও স্ত্রীকে অপদস্ত করবে, এটাই স্বাভাবিক। তখনই সম্মান ও বিশ্বাসের জায়গায় ফাটল ধরা শুরু করে। এভাবে তুচ্ছ বিষয়ে কথা কাটাকাটি ধীরে ধীরে সম্পর্কের অবসান ঘটায়। এক সাথে একই ছাদের নিচে থেকেও শান্তি পাওয়া যায় না। একরাশ হতাশায় জীবন জর্জরিত হয়ে পড়ে। এক সময় এসব মানসিক অশান্তি এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে, যা আমরা আর সহ্য করতে পারি না। পরবর্তীতে বিভিন্ন অসামাজিক কিংবা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ি।

এর মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যকর দুটো ঘটনা তুলে ধরা যাক। এক দম্পতি ছিল। স্বামীর বয়স ২২ বছর আর স্ত্রী ১৯ বছর বয়সী। বিয়ের মাত্র এক বছর পেরুতেই স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়। আদালতে নেয়া হলে জানা যায়—দাম্পত্য কলহের জের ধরেই সে তার স্ত্রীকে খুন করে। তার ভাষ্যমতে, 'এক বছর হলো আমরা বিয়ে করি। শুরুতে সব ভালোই যাচ্ছিল। আস্তে আস্তে আমার স্ত্রীর ব্যবহার বদলাতে শুরু করে। এই নিয়ে আমি সব সময়ই চিন্তিত থাকতাম। ছোট ছোট ইস্যুতে সে রেগে যেত আর মুখে যা আসত, তা-ই বলত। মোটামুটি সবসময় আমাদের ঝগড়া লেগেই থাকত। আমার বাম চোখ একটু ছোট, ওই চোখে তেমন ভালো দেখতে পাই না। এটা নিয়েও আমাকে কথা শোনাত। একদিন ঝগড়ার মাঝে সে আমাকে কানা বলে গালিগালাজ শুরু করে। আমি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। আমি এতটাই ক্ষেপে যাই, কিচেন থেকে ছুরি এনে ওকে আঘাত করি। একবার, দুবার না, টানা পনের বার!'

এমন ঘটনা শুধু সদ্য বিবাহিত দম্পতির হয়, তা কিন্তু নয়। ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ তার স্ত্রীকে হত্যা করে ঠিক একই কারণে। তিনি বলেন—'হঠাৎ আমার প্রতি তার আচরণ পাল্টে যায়। আমাকে সহ্যই করতে পারত না। সব সময় আমাকে গালিগালাজ করত। একদিন বলল আমি তার সাথে সংসার করার যোগ্য না। তখন বুঝতে পারলাম, তার মনে আমার জন্য কোনো জায়গা নেই। সত্যি বলতে কী, জীবনের এই পর্যায়ে এমন কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমাকে হতাশা আর ক্ষোভ ঘিরে ফেলে, কিছু না ভেবেই তাকে খুন করে ফেলি। পাশের ঘরে কুড়াল ছিল। ওটা দিয়ে খুন করি।'

আপনি যখন কাউকে ভালোবাসবেন; তার মানে অবশ্যই সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি ভালো জানেন। প্রত্যেক স্বামী তার স্ত্রীর নিকট সম্মান ও শ্রদ্ধা পেতে চায়, তবে তা কখনোই প্রকাশ করে না। ঘর থেকে বেরিয়েই জীবিকার তাগিদে সে নানা স্বভাবের মানুষের সংস্পর্শে আসে। কেউ তাকে ছোট করে কথা বলে, কেউবা অপমান করে, আর কারো কারো ব্যবহারে সে খুব বিরক্ত হয়। কিন্তু দিন শেষে ঘরে ফিরে সে তার স্ত্রীর কাছে যথাযথ সম্মান আর ভালো ব্যবহারটুকুই আশা করে। এই অবস্থায় সে কিছু বলতে চাইলে শ্রোতা হওয়া উচিত। শত রাগ কিংবা অভিমান থাকলেও বাসায় ঢোকার সাথে সাথে তার উপর চেঁচানো ঠিক না।

নতুন কোথাও গেলে স্বামীকে আগে প্রবেশ করতে দিলেও একজন স্বামী মনে মনে নিজেকে সম্মানিত ভাবে। আর বাচ্চাদের অবশ্যই তাদের বাবাকে সম্মান করাটা শেখানো উচিত। এছাড়া অতিথিদের সামনে তার চরিত্রের ভালো দিকগুলো তুলে ধরা যায়। এতে অতিথির কাছে স্বামীর সম্মানটা বেড়ে গেলে, স্ত্রীর জন্য তার মায়া এবং আবেগও বেড়ে যায়। কাজ শেষে সে ঘরে ফিরলে তাকে সুন্দর কিছু বলে প্রতিদিন স্বাগত জানানো যায়। এসব ছোট ছোট কাজ সংসারে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ভাগ্যবান তো সে মহিলা; যে তার স্বামীকে সম্মান করে এবং কোনো প্রকার হয়রানি করে না। স্বামীর খাবার শেষে তার হাত ধোয়ার পানি এবং তোয়ালের ব্যবস্থা করা স্ত্রীর দায়িত্ব। সুতরাং স্বামীকে অবমাননা করা, অকারণে কড়া ভাষায় কথা কিংবা গালিগালাজ করা ইসলাম সমর্থন করে না। স্ত্রী হিসেবে স্বামীর প্রতি খুব মনোযোগী হওয়া উচিত। অকারণে তাকে অপদস্ত করা ঠিক নয়। কেননা স্ত্রী স্বামীকে অপদস্ত করলে, পরিণামে স্বামীও স্ত্রীকে অপদস্ত করবে, এটাই স্বাভাবিক। তখনই সম্মান ও বিশ্বাসের জায়গায় ফাটল ধরা শুরু করে। এভাবে তুচ্ছ বিষয়ে কথা কাটাকাটি ধীরে ধীরে সম্পর্কের অবসান ঘটায়। একসাথে একই ছাদের নিচে থেকেও শান্তি পাওয়া যায় না। একরাশ হতাশায় জীবন জর্জরিত হয়ে পড়ে। এক সময় এসব মানসিক অশান্তি এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে, যা আমরা আর সহ্য করতে পারি না। পরবর্তীতে বিভিন্ন অসামাজিক কিংবা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ি।

এর মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যকর দুটো ঘটনা তুলে ধরা যাক। এক দম্পতি ছিল। স্বামীর বয়স ২২ বছর আর স্ত্রী ১৯ বছর বয়সী। বিয়ের মাত্র এক বছর পেরুতেই স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়। আদালতে নেওয়া হলে জানা যায়—দাম্পত্য কলহের জের ধরেই সে তার স্ত্রীকে খুন করে। তার ভাষ্যমতে, ‘এক বছর হলো আমরা বিয়ে করি। শুরুতে সব ভালোই যাচ্ছিল। আস্তে আস্তে আমার স্ত্রীর ব্যবহার বদলাতে শুরু করে। এই নিয়ে আমি সব সময়ই চিন্তিত থাকতাম। ছোট ছোট ইস্যুতে সে রেগে যেত আর মুখে যা আসত, তাই বলত। মোটামুটি সবসময় আমাদের ঝগড়া লেগেই থাকত। আমার বাম চোখ একটু ছোট, ওই চোখে তেমন ভালো দেখতে পাই না। এটা নিয়েও আমাকে কথা শোনাত। একদিন ঝগড়ার মাঝে সে আমাকে কানা বলে গালিগালাজ শুরু করে। আমি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। আমি এতটাই ক্ষেপে যাই, কিচেন থেকে ছুরি এনে ওকে আঘাত করি। একবার, দুবার না, টানা পনের বার!’

এমন ঘটনা শুধু সদ্য বিবাহিত দম্পতির হয়, তা কিন্তু নয়। ৭০ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধ তার স্ত্রীকে হত্যা করে ঠিক একই কারণে। তিনি বলেন—‘হঠাৎ আমার প্রতি তার আচরণ পাল্টে যায়। আমাকে সহ্যই করতে পারত না। সব সময় আমাকে গালিগালাজ করত। একদিন বলল আমি তার সাথে সংসার করার যোগ্য না। তখন বুঝতে পারলাম, তার মনে আমার জন্য কোনো জায়গা নেই। সত্যি বলতে কি, জীবনের এই পর্যায়ে এমন কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমাকে হতাশা আর ক্ষোভ ঘিরে ফেলে, কিছু না ভেবেই তাকে খুন করে ফেলি। পাশের ঘরে কুড়াল ছিল। ওটা দিয়ে খুন করি।’

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 অভিযোগ এবং সমাধান

📄 অভিযোগ এবং সমাধান


জীবনে সমস্যা ও অভিযোগ নেই এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। প্রত্যেকেই তার সমস্যাগুলো কাছের মানুষকে বলতে ভালোবাসে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্রত্যেক কাজের সুনির্ধারিত সময় ও উপযুক্ত জায়গা আছে। তাই অভিযোগ করার উপযুক্ত সময় এবং পরিস্থিতি খুঁজে নেওয়া উচিত।

সারা দিনের পরিশ্রমে স্বামী খুব ক্লান্ত ও নার্ভাস থাকলেও অনেক বোকা ও স্বার্থপর নারী তা বুঝতে পারে না। স্বামীর প্রফুল্লতা ফিরে আসার অপেক্ষা না করেই তারা অভিযোগের অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করতে শুরু করে। বলতে থাকে— “আপনি আমাকে এসব দুষ্ট বাচ্চার মাঝে ছেড়ে গেছেন, এখন ফিরে এসেছেন তো নিজের প্রয়োজনে। আপনার এই ছেলে রিফাত মোটেই পড়াশোনা করে না, পরীক্ষায় সে খারাপ করেছে। আমি আজ অনেক পরিশ্রম করেছি, আমি খুবই ক্লান্ত। কেউ আমার কষ্ট বোঝে না। বাচ্চারা আমাকে বাড়ির কাজে সামান্য সহায়তা করে না। যদি আমার কোনো বাচ্চাই না হতো। যাই হোক— আপনার বোন আজ আমার সাথে ছিল। তার কী হয়েছে আমি জানি না, সে এমন ভাব করছিল; যেন আমি তার বাবার উত্তরাধিকার সম্পদ গিলে খেয়েছি। আপনার মা থেকে আল্লাহ আমাকে বাঁচান। তিনি অগোচরে আমার বদনাম করে বেড়ান। আমি তাদের দ্বারা ভীষণ বিরক্ত।”

এছাড়াও— “আমি আজ ভুল করে চাকু দিয়ে আমার আঙুল কেটে ফেলেছি। গতকাল শহিদুলের বিয়েতে যাওয়ার মোটেও ইচ্ছে ছিল না আমার। আপনি কি সেদিন অমুকের স্ত্রীকে খেয়াল করেছেন? কী সাজ তার! আমার সেই সৌভাগ্য কোথায়! প্রকৃত স্বামী তো সে; যে তার স্ত্রীকে পছন্দ করে এবং সুন্দর সুন্দর জিনিস কিনে দেয়, শপিংয়ে নিয়ে যায়। অমুক খুবই ভাগ্যবতী; যে তার স্বামী তাকে খুব ভালোবাসে, তিনি আপনার মতো নন। আপনার বাচ্চাদের সেবা করে আমি এই আবদ্ধ ঘরে আর এক মুহূর্তও থাকতে পারছি না। আপনার যা খুশি করুন।”

এমন আচরণ ভুল। এসব নারী মনে করে তাদের স্বামী প্রতিদিন সকালে যেন পিকনিক বা আনন্দযাত্রায় বের হন, অফিসে নয়। অথচ একজন পুরুষ প্রতিদিন কত যে সমস্যার সম্মুখীন হন!

প্রিয় বোন! আপনার স্বামী কাজের সময় কত অদ্ভুত আর অসভ্য লোকের মুখোমুখি হয়ে সারাদিন অফিসে ব্যস্ত থাকেন, আপনি তা জানেন কি! তাই বাড়িতে ফিরে সে ভীষণ ক্লান্ত থাকে। তার সামনে তখন একসাথে সমস্ত অভিযোগ উপস্থাপন করা উচিত নয়। তিনি একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে দোষী মনে করবেন। বুঝতে শিখুন, তার প্রতি বিনীত হোন।

প্রিয় বোন! অসময়ে অভিযোগ করার এই অভ্যাস আল্লাহর জন্য বাদ দিন। উপযুক্ত সময় খুঁজে বের করুন। অতঃপর অভিযোগ না করে আসল সমস্যাগুলো উপস্থাপন করুন। এতে আপনার প্রতি স্বামীর বৈরী মনোভাব তৈরির সুযোগ থাকবে না এবং পারিবারিক বন্ধন সুরক্ষিত থাকবে। ইনশাআল্লাহ।

ইসলামের শেষ নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
অর্থ: “যে নারী তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, জান্নাতের হুরগণ তাকে অভিশম্পাত করে বলে— ‘আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন। তাকে কষ্ট দিও না। সে তো তোমার কাছে দুদিনের অতিথি। অচিরেই সে আমাদের কাছে চলে আসবে’।”১৪

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন— অর্থ: “সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো স্ত্রী হিসেবে এমন নারী পাওয়া, যে তার স্বামীর সাথে দুর্ব্যবহার করে, মুখে মুখে তর্ক করে স্বামীকে কষ্ট দেয়।”১৫

তাই স্বামীর স্বাচ্ছন্দ্যের খেয়াল রাখুন। কাউকে কষ্ট দিয়ে মানসিক চাপে ফেলে কৃত্রিম ভালোবাসায় বাধ্য করা মারাত্মক ভুল কাজ। আপনি স্বামী ও পরিবার সম্পর্কে সচেতন হলে আপনার উচিত অবশ্যই এমন অযৌক্তিক মনোভাব পরিহার করা। আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, অসদাচরণ আপনার পারিবারিক জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে!

এক চিকিৎসক আদালতে বলেছিলেন— ‘আমি বিবাহিত জীবনে কখনও আমার স্ত্রীকে উপযুক্ত গৃহবধূর রূপে দেখিনি। আমাদের ঘর সর্বদা জঞ্জাল হয়ে থাকে। সব সময় সে বিকট স্বরে গালাগালি করে। তার প্রতি আমি খুবই বিরক্ত। তাকে এক কাড়ি টাকা দেওয়ার পরে আমি বিচ্ছেদ পেয়েছিলাম।’ তিনি আনন্দের সাথে বলেছিলেন, ‘সে যদি আমার সমস্ত সম্পদ—এমনকি আমার মেডিকেল ডিগ্রিও—চাইত, তবুও আমি তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সব তার হাতে তুলে দিতাম!’

ভেবে দেখুন! কত জঘন্য! এমন স্বামীরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, জীবনকে অর্থহীন ভাবতে থাকে। আর এই মনোভাব মস্তিষ্ক থেকে সাধারণত মোছা যায় না। ফলে এমন ব্যক্তিরা বন্ধুবান্ধবের সাথে খুব কম মেশে, মানুষের সাথে কথাবার্তা কম বলে, আর তখন বিভিন্ন মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই উদ্বেগ ও শূন্যতার বিরূপ প্রভাব জীবনের সকল ক্ষেত্রে বিস্তার লাভ করে। এমন ব্যক্তিরা জীবনের খেই হারিয়ে ফেলে, সব সময় মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকে।

টিকাঃ
১৪. মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ২২১০১; জামে তিরমিজি, হাদিস নং: ১১৭৪।
১৫. মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭৩২।

জীবনে সমস্যা ও অভিযোগ নেই এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। প্রত্যেকেই তার সমস্যাগুলো কাছের মানুষকে বলতে ভালোবাসে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, প্রত্যেক কাজের সুনির্ধারিত সময় ও উপযুক্ত জায়গা আছে। তাই অভিযোগ করার উপযুক্ত সময় এবং পরিস্থিতি খুঁজে নেওয়া উচিত।

সারা দিনের পরিশ্রমে স্বামী খুব ক্লান্ত ও নার্ভাস থাকলেও অনেক বোকা ও স্বার্থপর নারীরা তা বুঝতে পারে না। স্বামীর প্রফুল্লতা ফিরে আসার অপেক্ষা না করেই তারা অভিযোগের অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করতে শুরু করে। বলতে থাকে- “আপনি আমাকে এসব দুষ্ট বাচ্চার মাঝে ছেড়ে গেছেন, এখন ফিরে এসেছেন তো নিজের প্রয়োজনে। আপনার এই ছেলে রিফাত মোটেই পড়াশোনা করে না, পরীক্ষায় সে খারাপ করেছে। আমি আজ অনেক পরিশ্রম করেছি, আমি খুবই ক্লান্ত। কেউ আমার কষ্ট বোঝে না। বাচ্চারা আমাকে বাড়ির কাজে সামান্য সহায়তা করে না। যদি আমার কোনো বাচ্চাই না হত। যাইহোক— আপনার বোন আজ আমার সাথে ছিল। তার কী হয়েছে আমি জানি না, সে এমন ভাব করছিল; যেন আমি তার বাবার উত্তরাধিকার সম্পদ গিলে খেয়েছে। আপনার মা থেকে আল্লাহ আমাকে বাঁচান। তিনি অগোচরে আমার বদনাম করে বেড়ান। আমি তাদের দ্বারা ভীষণ বিরক্ত।”

এছাড়াও- "আমি আজ ভুল করে চাকু দিয়ে আমার আঙ্গুল কেটে ফেলেছি। গতকাল শহিদুলের বিয়েতে যাওয়ার মোটেও ইচ্ছে ছিল না আমার। আপনি কি সেদিন অমুকের স্ত্রীকে খেয়াল করেছেন? কী সাজ তার! আমার সেই সৌভাগ্য কোথায়! প্রকৃত স্বামী তো সে; যে তার স্ত্রীকে পছন্দ করে এবং সুন্দর সুন্দর জিনিস কিনে দেয়, শপিংয়ে নিয়ে যায়। অমুক খুবই ভাগ্যবতী; যে তার স্বামী তাকে খুব ভালোবাসে, তিনি আপনার মতো নন। আপনার বাচ্চাদের সেবা করে আমি এই আবদ্ধ ঘরে আর এক মুহূর্তও থাকতে পারছি না। আপনার যা খুশি করুন।”

এমন আচরণ ভুল। এসব নারী মনে করে তাদের স্বামী প্রতিদিন সকালে যেন পিকনিক বা আনন্দযাত্রায় বের হয়, অফিসে নয়। অথচ একজন পুরুষ প্রতিদিন কত যে সমস্যার সম্মুখীন হন!

প্রিয় বোন! আপনার স্বামী কাজের সময় কত অদ্ভুত আর অসভ্য লোকের মুখোমুখি হয়ে সারাদিন অফিসে ব্যস্ত থাকেন, আপনি তা জানেন কি! তাই বাড়িতে ফিরে সে ভীষণ ক্লান্ত থাকে। তার সামনে তখন একসাথে সমস্ত অভিযোগ উপস্থাপন করা উচিত নয়। তিনি একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে দোষী মনে করবেন। বুঝতে শিখুন, তার প্রতি বিনীত হোন।

প্রিয় বোন! অসময়ে অভিযোগ করার এই অভ্যাস আল্লাহর জন্য বাদ দিন। উপযুক্ত সময় খুঁজে বের করুন। অতঃপর অভিযোগ না করে আসল সমস্যাগুলো উপস্থাপন করুন। এতে আপনার প্রতি স্বামীর বৈরী মনোভাব তৈরির সুযোগ থাকবে না এবং পারিবারিক বন্ধন সুরক্ষিত থাকবে। ইনশাআল্লাহ।

ইসলামের শেষ নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
অর্থ : “যে নারী তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, জান্নাতের হুরগণ তাকে অভিশম্পাত করে বলে- 'আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন। তাকে কষ্ট দিওনা। সে তো তোমার কাছে দুদিনের অতিথি। অচিরেই সে আমাদের কাছে চলে আসবে'।”১৪

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন- অর্থ : “সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো স্ত্রী হিসেবে এমন নারী পাওয়া, যে তার স্বামীর সাথে দুর্ব্যবহার করে, মুখে মুখে তর্ক করে স্বামীকে কষ্ট দেয়।”১৫

তাই স্বামীর স্বাচ্ছন্দের খেয়াল রাখুন। কাউকে কষ্ট দিয়ে মানসিক চাপে ফেলে কৃত্রিম ভালোবাসায় বাধ্য করা মারাত্মক ভুল কাজ। আপনি স্বামী ও পরিবার সম্পর্কে সচেতন হলে আপনার উচিত অবশ্যই এমন অযৌক্তিক মনোভাব পরিহার করা। আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, অসদাচরণ আপনার পারিবারিক জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে!

এক চিকিৎসক আদালতে বলেছিলেন- 'আমি বিবাহিত জীবনে কখনও আমার স্ত্রীকে উপযুক্ত গৃহবধূর রূপে দেখিনি। আমাদের ঘর সর্বদা জঞ্জাল হয়ে থাকে। সব সময় সে বিকট স্বরে গালাগালি করে। তার প্রতি আমি খুবই বিরক্ত। তাকে এক কাড়ি টাকা দেওয়ার পরে আমি বিচ্ছেদ পেয়েছিলাম।' তিনি আনন্দের সাথে বলেছিলেন, 'সে যদি আমার সমস্ত সম্পদ -এমনকি আমার মেডিকেল ডিগ্রিও- চাইত, তবুও আমি তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সব তার হাতে তুলে দিতাম'!

ভেবে দেখুন! কত জঘন্য! এমন স্বামীরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, জীবনকে অর্থহীন ভাবতে থাকে। আর এই মনোভাব মস্তিষ্ক থেকে সাধারণত মোছা যায় না। ফলে এমন ব্যক্তিরা বন্ধুবান্ধবের সাথে খুব কম মিশে, মানুষের সাথে কথাবার্তা কম বলে, আর তখন বিভিন্ন মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই উদ্বেগ ও শূন্যতার বিরূপ প্রভাব জীবনের সকল ক্ষেত্রে বিস্তার লাভ করে। এমন ব্যক্তিরা জীবনের খেই হারিয়ে ফেলে, সব সময় মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকে।

টিকাঃ
১৪ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ২২১০১; জামে তিরমিজি, হাদিস নং: ১১৭৪।
১৫ মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭৩২।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 বিশ্বস্ত ও প্রশান্ত মনোভাব

📄 বিশ্বস্ত ও প্রশান্ত মনোভাব


সকল সম্পর্কে বিশেষত সব দম্পতির মাঝে বিশ্বস্ত ও প্রশান্ত মনোভাব অপরিহার্য। দাম্পত্য জীবন সম্মিলিত জীবন, তাই প্রফুল্ল মন নিয়ে একসাথে থাকুন, একসাথে বাঁচুন। যদি স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখী জীবন উপভোগ করতে চান; তবে আপনার মনোভাবকে উদার ও ইতিবাচক রাখুন। ঝগড়াটে মনোভাব পরিহার করুন। আপনি জানেন না—ঘরে সুখ আনার ক্ষমতা রয়েছে আপনার; মমতার অগ্রদূত হয়ে স্বামী ও সন্তানকে প্রশান্তিতে আচ্ছন্ন করার যোগ্যতা আছে আপনার; উদার মনোভাব আর সুন্দর আচরণ দিয়ে তাদের মন জয় করে নেওয়ার সামর্থ্য আছে আপনার!

তাই আপনি যদি উন্নত জীবন ও স্বামীর সাথে সুসম্পর্কের আশা করেন, তবে অবহেলা করবেন না। ইতিবাচক মনোভাব ও মনোরম স্বভাব ধারণ করুন। দুজনের সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার সম্পর্ক সুরক্ষার হাতিয়ার। সম্পর্ক বিচ্ছেদের কারণ দুজনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ। পারিবারিক সমস্যা ও মতবিরোধের মূল উৎস, দম্পতির মাঝে মনোভাব, মূল্যবোধ ও আচরণের অসামঞ্জস্যতা। বিবাহবিচ্ছেদের পরিসংখ্যানগুলো থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। একজন মহিলা আদালতে অভিযোগ করেছিলেন, তার স্বামী সব সময় দুপুর ও রাতের খাবার বাইরে খেতে যান। স্বামী তখন বাইরে খেতে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন যে—'তার স্ত্রী মোটেও স্বাভাবিক নয়, সে চরম পর্যায়ের মস্তিষ্কবিকৃত'। এই কথা শুনে স্ত্রী তাৎক্ষণিক ছুটে গিয়ে বিচারকের সামনেই স্বামীকে মারতে শুরু করে।

এই নির্বোধ মহিলা ভেবেছিল—অভিযোগ, গালিগালাজ আর মারধর করার মাধ্যমে সে স্বামীকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে পারবে। তাই সে সহজ ও বুদ্ধিদীপ্ত কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করেনি। অথচ সেটাই হতো সঠিক পদক্ষেপ। তারা দু'জনেই উপযুক্ত আচরণ করতে ভুল করেছে। আরেক মহিলা অভিযোগ করেন—তার স্বামী পনেরো মাস ধরে তার সাথে কথা বলেন না। অথচ নিজের মায়ের সাথে তার আচরণ ভালো। জবাবে স্বামী বলেন—স্ত্রীর দুর্ব্যবহারের কারণে তিনি পনেরো মাস ধরে তার সাথে কথা না বলার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

বেশিরভাগ পারিবারিক কলহের সমাধান উদারতা, মমত্ববোধ এবং কোমল স্বভাবের মাধ্যমে করা সম্ভব। যদি আপনার স্বামী অপরাধ করে, আপনাকে অবহেলা করে, সম্পদ অপচয় করে অথবা পরস্পরের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটার মতো যে কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে, তবে তা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো—পরস্পর উদার হওয়া এবং বিনম্র স্বভাব অবলম্বন করা। এমন আচরণ অনুশীলনের ফলাফলগুলো অলৌকিক ঘটনার মতো হয়ে থাকে। যে মহিলা স্বামীকে কষ্ট দেয়, সে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে দূরে থাকে। এবং যে তার স্বামীকে সম্মান করে, স্বামীর আনুগত্য করে এবং তাকে কোনো দুঃখ দেয় না, সে ধন্য এবং সমৃদ্ধ হয়।

হাদিসে আছে—'মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একজন মহিলার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল, যে অধিক নামাজ, রোজা ও সদকার কারণে প্রসিদ্ধ ছিল। তবে সে তার রুক্ষ আচরণ দিয়ে সঙ্গীদেরকে কষ্ট দিত। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
❝অর্থ : “সে জাহান্নামের বাসিন্দা।”১৬

টিকাঃ
১৬. মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৯৬৭৫। বায়হাকি, হাদিস নং: ৯৫৪৫।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 ভুল প্রত্যাশা

📄 ভুল প্রত্যাশা


প্রিয় বোন! আপনি বাড়ির নেত্রী। বুদ্ধিমতী এবং বোদ্ধা হোন। আপনার ব্যয়ের হিসাব রাখুন। আয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ব্যয়ের বাজেট করুন। কারো সাথে প্রতিযোগিতা করবেন না, হিংসা করবেন না। কোনো মহিলার সুন্দর পোশাক বা কারো বাড়িতে চমৎকার কোনো বস্তু দেখে পছন্দ হলে, স্বামীর সামর্থ্যের প্রতি খেয়াল রেখে আবদার করুন। তাকে ঋণ নিতে বাধ্য করবেন না। চাহিদা পূরণের জন্য আয় বৃদ্ধির অপেক্ষা করা অথবা অপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে সঞ্চয় করা বুদ্ধিমানের কাজ।

হিংসাত্মক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত বেশিরভাগ লোভী ও স্বার্থপর নারী এসব বুঝতে চায় না। ফলে তারা স্বামীর চোখে ঘৃণার পাত্রীতে পরিণত হয়। তাদের দাবি মেটাতে গিয়ে স্বামীরা ক্লান্ত ও বিতৃষ্ণ হয়ে ওঠে। পরিশেষে এর একমাত্র সমাধান হয় বিবাহ বিচ্ছেদ অথবা রক্তপাত। তারা চায় এমন স্বামী, যে দাসের মতো তাদের সেবা করবে এবং তাদের ব্যয়ে কোনো আপত্তি করবে না। এসব মহিলারা নারীজাতির কলঙ্ক। এই উচ্চাভিলাষ তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়। ফলে তারা সন্তানের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। একাকিত্ব ঘিরে ধরে তাদেরকে। নতুন স্বামী তাদের কপালে জোটে না। জুটলেও পরের স্বামীও তাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়।

প্রিয় বোন! লোভী না হয়ে অল্পে তুষ্ট হোন। অন্যের অনুকরণ ছেড়ে নিজের পরিবারের সমৃদ্ধি ও স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করুন। আপনার স্বামীও লাগামহীন ব্যয়ে অভ্যস্ত হলে তাকে থামান এবং অপব্যয় আটকান। অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পরিবর্তে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করা ভালো।

এক বর্ণনায় আছে—নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের কাছ থেকে স্বামীকে ধোঁকা না দেওয়ার ওয়াদা নিয়েছেন। জিজ্ঞেস করা হলো—স্বামীকে ধোঁকা দেওয়ার অর্থ কী? জবাবে নবীজী বললেন—
অর্থ: “অনুমতি ছাড়া স্বামীর মাল ব্যয় করে অন্যের সাথে খাতির জমানো।”১৭

আরেক বর্ণনায় হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
অর্থ: “তাকওয়ার পরে মুমিন বান্দার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হলো নেককার স্ত্রী। যে স্বামীর আদেশ অমান্য করে না এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও নিজের সতীত্বের হেফাজত করে।”১৮

টিকাঃ
১৭ আহমদ, হাদিস নং: ২৭১৩৩; তাবারানি, হাদিস নং: ২০২০৯।
১৮ ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫৭; তাবারানি, হাদিস নং: ৭৮০১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00