📄 বিয়ের উদ্দেশ্য
মহান আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক-বিশ্বাস, নৈতিকতার ভিত্তিতেই সৃষ্টির সেরা বা আশরাফুল মাখলুকাত এর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়—মানুষ সামাজিক ও নৈতিক জীব। এই মানুষকেই আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষ নামক দুটি ভিন্ন রূপে সৃষ্টি করেছেন। তারা উভয়ে মিলে একটি পরিবার গঠন করবে এবং তার থেকে একটি সভ্যতার বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর সকল ধর্ম-বর্ণেই বিয়ে প্রথার প্রচলন আছে। তবে এর আনুষ্ঠানিকতা ও বাস্তবায়ন একেক ধর্মে একেক আঙ্গিকে। প্রায় সকল ধর্মেই এর গুরুত্ব সীমাহীন। ইসলাম তো একে ইবাদত হিসাবেই স্বীকৃতি দিয়েছে। সঠিক সময়ে বিয়ে করার বেশ কিছু ভালো দিক রয়েছে। যেমন—
১. বিয়ে করার মাধ্যমে একটি পরিবার গঠন করা সম্ভব। যেখানে যে কেউ মানসিক শান্তি খুঁজে পাবে। তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে। আর অবিবাহিত ব্যক্তি ঠিক যেন নীড়হীন একটি পাখি। এক সময় সে জীবনের বাস্তবতায় হারিয়ে যায়। অপরদিকে পরিবার একটি আশ্রয়স্বরূপ; যা তাকে হারিয়ে যেতে দেয় না। বিবাহিত ব্যক্তি তার জীবনের সব সুখ-দুঃখ সহজেই সঙ্গীর সাথে ভাগ করে নেয়ার সুযোগ পায়।
২. যৌবনে পা দেয়া মাত্রই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার এবং বৈধভাবে এই চাহিদা পূরণের অধিকার প্রত্যেকের থাকা উচিত। তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে সঠিক সময়ে। সঠিক সময়ে বিয়ে না করা ব্যক্তি সবসময় এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক অশান্তিতে ভোগে। এসব শারীরিক ও মানসিক সমস্যার দরুন এক সময় প্রচণ্ড হতাশ হয়ে ওঠে। কোনো কাজে মনোযোগী হতে পারে না। ফলাফল; জীবনে সফলতা থেকে সে অনেক পিছিয়ে পড়ে। তাই বিয়ে জীবনের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তরুণ সমাজের সিংহভাগই আজ বিয়ে থেকে দূরে।
৩. বিয়ের মাধ্যমে মানব জাতির ক্রমধারা অব্যাহত থাকে। একটি শিশু একদিকে যেমন বাবা-মার সব আনন্দ ও প্রশান্তির খোরাক হয়, অন্যদিকে সে তার পরিবারের ভিত্তি আরও মজবুত করে। ইসলামে বিয়ে ও সন্তান ধারণ উভয়ের প্রতি বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত রয়েছে—
অর্থ: “তাঁর আরেকটি নিদর্শন এই যে—তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের দ্বারা প্রশান্তি লাভ কর। তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া দান করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।”১
নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “আমি বিবাহ করেছি। যে আমার (এই) নীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার উম্মত নয়।”২
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন—
অর্থ: “তোমরা প্রেমময়ী অধিক সন্তানদানকারী নারীকে বিয়ে কর। কারণ—আমি (কেয়ামতের মাঠে) আমার উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গৌরব করবো।”৩
হযরত ওমর রাযিআল্লাহু আনহু বলেন—
অর্থ: “আল্লাহর কসম! মুসলমান হওয়ার পর একজন পুরুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—একজন সুন্দরী স্ত্রী, যে ভালো আচরণ করে, প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তানদানে সক্ষম।”৪
উক্ত আলোচনায় মূলত বিয়ে ও জীবন সঙ্গীর গুরুত্ব এবং শরিয়ত মোতাবেক উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধির কথাই বলা হয়েছে। কেবল নিজের একাকিত্ব কাটানো কিংবা যৌন চাহিদা পূরণ কখনোই বিয়ের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে না। কেননা—সৃষ্টি জগতের প্রতিটি প্রাণীই এমনটা করে থাকে। তবে মানুষের জীবনে বিয়ের আসল উদ্দেশ্য একটু ভিন্নই বলা যায়। আমরা এই পৃথিবীতে কেবল গতানুগতিক ধারায় খাওয়া দাওয়া, ঘুম আর আনন্দ ফুর্তি করে বেড়াবো, তারপর একদিন মরে যাব; এভাবে নিজেদেরকে শেষ করে দিতে আমরা আসিনি। সৃষ্টির সেরা হিসেবে আমাদের কর্ম হতে হবে সেরা। পৃথিবীতে আমরা মূলত আমাদের আত্মার পরীক্ষা দিতে আসি। আমাদের উদ্দেশ্য, একদিকে জ্ঞান অর্জন, সৎ কর্ম আর ভালো ব্যবহার গুণে সব জয় করা, অন্যদিকে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আমাদের লক্ষ্য হবে সহজ-সরল ও সৎ পথ অবলম্বন করে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জন করা।
মানব জাতি সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য সৃষ্টি। সে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম। খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভালো কাজ ও আচরণের মাধ্যমে মানুষ নিজের অবস্থান এমন উচ্চ স্তরে নিতে সক্ষম, যা স্বয়ং ফেরেশতারাও অর্জন করতে পারেনি। সৃষ্টিকর্তার এমনই এক অনন্য সৃষ্টি মানুষ জাতি। নবিদের দেখানো পথ ও দ্বীনের সঠিক অনুকরণে সে এই দুনিয়া ও আখিরাতে নিজের সুখ নিশ্চিত করে পরকালে চির শান্তি অর্জন করতে সক্ষম। সুতরাং! এমন অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্বীনের আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক কল্যাণের বিষয়গুলো অন্তত সবার অনুসন্ধান করা উচিত।
বলাবাহুল্য ধর্মীয় মূল্যবোধে অটল থাকা একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা কিংবা তার পাপী আত্মা পরিশুদ্ধ করার একটি মাধ্যম হলো বিয়ে। এটি সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনেরও একটি মাধ্যম বলা যায়। এক্ষেত্রে একজন ভালো জীবন সঙ্গী বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যখন দুজন আল্লাহভীরু ব্যক্তি বিয়ের মাধ্যমে একটি পরিবার তৈরি করে, দুজনই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে এক হয় এবং দুজনই হয় একই চিন্তা-ধারার অধিকারী, সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে শারীরিক পরিতৃপ্তির পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও আসে; যা পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভালোলাগা আরও বাড়িয়ে দেয়। এমন দম্পতি যৌন বিকৃতির মতো বিপজ্জনক আসক্তি থেকে সবসময় মুক্ত থাকে।
আল্লাহর নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ অন্যান্য নবিগণ তরুণ সমাজে সঠিক সময়ে বিয়ে প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রচুর জোর দিয়েছেন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
অর্থ: “আল্লাহ পাক যাকে একজন নেককার স্ত্রী দান করলেন, তাকে অর্ধেক দ্বীন পালনে সহযোগিতা করলেন। সুতরাং সে যেন বাকি অর্ধেকে আল্লাহকে ভয় করে চলে।”৫
এক্ষেত্রে এমন একটি বর্ণনাও পাওয়া যায়—
অর্থ: “যে তরুণ অল্প বয়সেই বিবাহ করে নেয়, তার পিছনে নিয়োজিত শয়তান আফসোস করে বলতে থাকে—হায়, সে আমার হাত থেকে তার দ্বীনকে রক্ষা করে নিলো!”৬ হযরত তাউস (রহ.) বলেন—“তরুণদের ইবাদত পূর্ণাঙ্গ হয় না বিয়ে করা ছাড়া।”৭
একজন বিশ্বস্ত, ধার্মিক জীবন সঙ্গীর সান্নিধ্যে যে কেউই সম্মানের সাথে সৎ জীবন যাপন করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, কোনো ব্যক্তি গোপন গুনাহ এড়াতে চাইলে তার জন্য বিয়ে বাধ্যতামূলক। কেননা—গোপন গুনাহ এতটাই ভয়াবহ যে—এটি আমাদের ইবাদত অসম্পূর্ণ করে রাখে, নষ্ট করে দেয়। এক্ষেত্রে ধার্মিক দম্পতি একে অপরকে গোপন কিংবা প্রকাশ্য সব ধরনের গুনাহ থেকে হেফাজত করার চেষ্টা করে এবং ইবাদাতে আরও বেশি আগ্রহী করে তোলে। তারা একে অপরের ইবাদতে সঙ্গী হয়ে সাহায্য করে।
আচ্ছা—একজন ব্যক্তির পক্ষে তার স্ত্রীর সাহায্য ছাড়া আল্লাহর পথে একনিষ্ঠ ভাবে অটল থাকা কি আদৌও সম্ভব? অথবা দুনিয়াবি সমস্ত আইন কানুন মেনে সাধারণ জীবন যাপন করা, সমাজে সততা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করা কিংবা সৎ উদ্দেশ্যে দান করা, এসব কাজ স্ত্রীর পুরোপুরি সহযোগিতা ছাড়া কি সম্ভব? একজন দ্বীনি জীবন সঙ্গী আপনাকে সব সময় সৎ কাজে আহ্বান করবে, ঠিক যেমনভাবে অসৎ ব্যক্তি খারাপ কাজে আহ্বান করে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্ররোচণায় আমরা খারাপ কাজে না জড়িয়ে পড়ি। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হলো জীবন সঙ্গীর আচরণ ও দ্বীনের প্রতি মূল্যবোধের দিকটা খেয়াল রাখা।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন—
অর্থ: “তাকওয়ার পরে মুমিন বান্দার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হলো, নেককার স্ত্রী। যাকে আদেশ করলে মান্য করে, যার দিকে তাকালে পুলক লাভ হয়, তার বিষয়ে কোনো কসম করলে সে স্বামীর কসমের মূল্যায়ন করে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার মাল ও নিজের সত্তার হেফাজত করে।”৮
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন—
অর্থ: “যে ব্যক্তি চরিত্র ঠিক রাখার জন্য বিবাহ করে, তাকে সহযোগিতা করা আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে পড়ে।”৯
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো—
অর্থ: 'সর্বোত্তম নারী কে?' তিনি বললেন, “সর্বোত্তম নারী হলো, স্বামী যাকে দেখলে পুলকিত হয়, আদেশ করলে মেনে নেয়, স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও নিজের সতীত্বের হেফাজত করে।”১০
টিকাঃ
১. সূরা রূম: ২১।
২. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫০৬৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৩৪০৩।
৩. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ২০৫০, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ২০৪৩; বাইহাকি, হাদিস নং: ২৭৩৩।
৪. সুনানে কুবরা, হাদিস নং: ১৩৪৮০; শুআবুল ঈমান, হাদিস নং: ৮৭২৪।
৫. মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭২৯।
৬. মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং: ২০৪১।
৭. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং: ১৬১৫৯।
৮. সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫৭; তাবারানি, হাদিস নং: ৭৮০১।
৯. সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ৭৮৬; মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭২৬।
১০. মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭৪২১; সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১।
মহান আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক-বিশ্বাস, নৈতিকতার ভিত্তিতেই সৃষ্টির সেরা বা আশরাফুল মাখলুকাত এর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়—মানুষ সামাজিক ও নৈতিক জীব। এই মানুষকেই আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষ নামক দুটি ভিন্ন রূপে সৃষ্টি করেছেন। তারা উভয়ে মিলে একটি পরিবার গঠন করবে এবং তার থেকে একটি সভ্যতার বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর সকল ধর্ম-বর্ণেই বিয়ে প্রথার প্রচলন আছে। তবে এর আনুষ্ঠানিকতা ও বাস্তবায়ন একেক ধর্মে একেক আঙ্গিকে। প্রায় সকল ধর্মেই এর গুরুত্ব সীমাহীন। ইসলাম তো একে ইবাদত হিসাবেই স্বীকৃতি দিয়েছে। সঠিক সময়ে বিয়ে করার বেশ কিছু ভালো দিক রয়েছে। যেমন—
১. বিয়ে করার মাধ্যমে একটি পরিবার গঠন করা সম্ভব। যেখানে যে কেউ মানসিক শান্তি খুঁজে পাবে। তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে। আর অবিবাহিত ব্যক্তি ঠিক যেন নীড়হীন একটি পাখি। এক সময় সে জীবনের বাস্তবতায় হারিয়ে যায়। অপরদিকে পরিবার একটি আশ্রয়স্বরূপ; যা তাকে হারিয়ে যেতে দেয় না। বিবাহিত ব্যক্তি তার জীবনের সব সুখ-দুঃখ সহজেই সঙ্গীর সাথে ভাগ করে নেয়ার সুযোগ পায়।
২. যৌবনে পা দেয়া মাত্রই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার এবং বৈধভাবে এই চাহিদা পূরণের অধিকার প্রত্যেকের থাকা উচিত। তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে সঠিক সময়ে। সঠিক সময়ে বিয়ে না করা ব্যক্তি সবসময় এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক অশান্তিতে ভোগে। এসব শারীরিক ও মানসিক সমস্যার দরুন এক সময় প্রচণ্ড হতাশ হয়ে ওঠে। কোনো কাজে মনোযোগী হতে পারে না। ফলাফল; জীবনে সফলতা থেকে সে অনেক পিছিয়ে পড়ে। তাই বিয়ে জীবনের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তরুণ সমাজের সিংহভাগই আজ বিয়ে থেকে দূরে।
৩. বিয়ের মাধ্যমে মানব জাতির ক্রমধারা অব্যাহত থাকে। একটি শিশু একদিকে যেমন বাবা-মার সব আনন্দ ও প্রশান্তির খোরাক হয়, অন্যদিকে সে তার পরিবারের ভিত্তি আরও মজবুত করে।
ইসলামে বিয়ে ও সন্তান ধারণ উভয়ের প্রতি বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত রয়েছে—
অর্থ : "তাঁর আরেকটি নিদর্শন এই যে—তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের দ্বারা প্রশান্তি লাভ কর। তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া দান করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।"১
নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ : “আমি বিবাহ করেছি। যে আমার (এই) নীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার উম্মত নয়।”২
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন—
অর্থ : “তোমরা প্রেমময়ী অধিক সন্তানদানকারী নারীকে বিয়ে কর। কারণ—আমি (কেয়ামতের মাঠে) আমার উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গৌরব করবো।”৩
হযরত ওমর রাযিআল্লাহু আনহু বলেন—
অর্থ : “আল্লাহর কসম! মুসলমান হওয়ার পর একজন পুরুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—একজন সুন্দরী স্ত্রী, যে ভালো আচরণ করে, প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তানদানে সক্ষম।”৪
উক্ত আলোচনায় মূলত বিয়ে ও জীবন সঙ্গীর গুরুত্ব এবং শরিয়ত মোতাবেক উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধির কথাই বলা হয়েছে। কেবল নিজের একাকিত্ব কাটানো কিংবা যৌন চাহিদা পূরণ কখনোই বিয়ের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে না। কেননা—সৃষ্টি জগতের প্রতিটি প্রাণীই এমনটা করে থাকে। তবে মানুষের জীবনে বিয়ের আসল উদ্দেশ্য একটু ভিন্নই বলা যায়। আমরা এই পৃথিবীতে কেবল গতানুগতিক ধারায় খাওয়া দাওয়া, ঘুম আর আনন্দ ফুর্তি করে বেড়াবো, তারপর একদিন মরে যাব; এভাবে নিজেদেরকে শেষ করে দিতে আমরা আসিনি।
সৃষ্টির সেরা হিসেবে আমাদের কর্ম হতে হবে সেরা। পৃথিবীতে আমরা মূলত আমাদের আত্মার পরীক্ষা দিতে আসি। আমাদের উদ্দেশ্য, একদিকে জ্ঞান অর্জন, সৎ কর্ম আর ভালো ব্যবহার গুণে সব জয় করা, অন্যদিকে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আমাদের লক্ষ্য হবে সহজ-সরল ও সৎ পথ অবলম্বন করে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জন করা।
মানব জাতি সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য সৃষ্টি। সে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম। খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভালো কাজ ও আচরণের মাধ্যমে মানুষ নিজের অবস্থান এমন উচ্চ স্তরে নিতে সক্ষম, যা স্বয়ং ফেরেশতারাও অর্জন করতে পারেনি। সৃষ্টিকর্তার এমনই এক অনন্য সৃষ্টি মানুষ জাতি। নবিদের দেখানো পথ ও দ্বীনের সঠিক অনুকরণে সে এই দুনিয়া ও আখিরাতে নিজের সুখ নিশ্চিত করে পরকালে চির শান্তি অর্জন করতে সক্ষম। সুতরাং! এমন অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্বীনের আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক কল্যাণের বিষয়গুলো অন্তত সবার অনুসন্ধান করা উচিত।
বলাবাহুল্য ধর্মীয় মূল্যবোধে অটল থাকা একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা কিংবা তার পাপী আত্মা পরিশুদ্ধ করার একটি মাধ্যম হলো বিয়ে। এটি সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনেরও একটি মাধ্যম বলা যায়। এক্ষেত্রে একজন ভালো জীবন সঙ্গী বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যখন দুজন আল্লাহভীরু ব্যক্তি বিয়ের মাধ্যমে একটি পরিবার তৈরি করে, দুজনই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে এক হয় এবং দুজনই হয় একই চিন্তা-ধারার অধিকারী, সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে শারীরিক পরিতৃপ্তির পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও আসে; যা পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভালোলাগা আরও বাড়িয়ে দেয়। এমন দম্পতি যৌন বিকৃতির মতো বিপজ্জনক আসক্তি থেকে সবসময় মুক্ত থাকে।
আল্লাহর নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ অন্যান্য নবিগণ তরুণ সমাজে সঠিক সময়ে বিয়ে প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রচুর জোর দিয়েছেন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
অর্থ : “আল্লাহ পাক যাকে একজন নেককার স্ত্রী দান করলেন, তাকে অর্ধেক দ্বীন পালনে সহযোগিতা করলেন। সুতরাং সে যেন বাকি অর্ধেকে আল্লাহকে ভয় করে চলে।”৫
এক্ষেত্রে এমন একটি বর্ণনাও পাওয়া যায়—
অর্থ : “যে তরুণ অল্প বয়সেই বিবাহ করে নেয়, তার পিছনে নিয়োজিত শয়তান আফসোস করে বলতে থাকে—হায়, সে আমার হাত থেকে তার দ্বীনকে রক্ষা করে নিলো!”৬ হযরত তাউস (রহ.) বলেন— “তরুণদের ইবাদত পূর্ণাঙ্গ হয় না বিয়ে করা ছাড়া।”৭
একজন বিশ্বস্ত, ধার্মিক জীবন সঙ্গীর সান্নিধ্যে যে কেউই সম্মানের সাথে সৎ জীবন যাপন করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, কোনো ব্যক্তি গোপন গুনাহ এড়াতে চাইলে তার জন্য বিয়ে বাধ্যতামূলক। কেননা—গোপন গুনাহ এতটাই ভয়াবহ যে—এটি আমাদের ইবাদত অসম্পূর্ণ করে রাখে, নষ্ট করে দেয়। এক্ষেত্রে ধার্মিক দম্পতি একে অপরকে গোপন কিংবা প্রকাশ্য সব ধরনের গুনাহ থেকে হেফাজত করার চেষ্টা করে এবং ইবাদাতে আরও বেশি আগ্রহী করে তোলে। তারা একে অপরের ইবাদতে সঙ্গী হয়ে সাহায্য করে।
আচ্ছা—একজন ব্যক্তির পক্ষে তার স্ত্রীর সাহায্য ছাড়া আল্লাহর পথে একনিষ্ঠ ভাবে অটল থাকা কি আদৌও সম্ভব? অথবা দুনিয়াবি সমস্ত আইন কানুন মেনে সাধারণ জীবন যাপন করা, সমাজে সততা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করা কিংবা সৎ উদ্দেশ্যে দান করা, এসব কাজ স্ত্রীর পুরোপুরি সহযোগিতা ছাড়া কি সম্ভব? একজন দ্বীনি জীবন সঙ্গী আপনাকে সব সময় সৎ কাজে আহ্বান করবে, ঠিক যেমনভাবে অসৎ ব্যক্তি খারাপ কাজে আহ্বান করে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্ররোচণায় আমরা খারাপ কাজে না জড়িয়ে পড়ি। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হলো জীবন সঙ্গীর আচরণ ও দ্বীনের প্রতি মূল্যবোধের দিকটা খেয়াল রাখা।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন—
অর্থ: “তাকওয়ার পরে মুমিন বান্দার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হলো, নেককার স্ত্রী। যাকে আদেশ করলে মান্য করে, যার দিকে তাকালে পুলক লাভ হয়, তার বিষয়ে কোনো কসম করলে সে স্বামীর কসমের মূল্যায়ন করে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার মাল ও নিজের সত্ত্বার হেফাজত করে।”৮
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন—
অর্থ : “যে ব্যক্তি চরিত্র ঠিক রাখার জন্য বিবাহ করে, তাকে সহযোগিতা করা আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে পড়ে।”৯
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো—
অর্থ : 'সর্বোত্তম নারী কে?' তিনি বললেন, “সর্বোত্তম নারী হলো, স্বামী যাকে দেখলে পুলকিত হয়, আদেশ করলে মেনে নেয়, স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও নিজের সতীত্বের হেফাজত করে।”১০
টিকাঃ
১. সূরা রূম: ২১।
২. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫০৬৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৩৪০৩।
৩. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ২০৫০, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ২০৪৩; বাইহাকি, হাদিস নং: ২৭৩৩।
৪. সুনানে কুবরা, হাদিস নং: ১৩৪৮০; শুআবুল ঈমান, হাদিস নং: ৮৭২৪।
৫. মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭২৯।
৬. মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং: ২০৪১।
৭. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং: ১৬১৫৯।
৮. সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫৭; তাবারানি, হাদিস নং: ৭৮০১।
৯. সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ৭৮৬; মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭২৬।
১০. মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭৪২১; সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১।
মহান আল্লাহ তাআলা মানব জাতিকে জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক-বিশ্বাস, নৈতিকতার ভিত্তিতেই সৃষ্টির সেরা বা আশরাফুল মাখলুকাত এর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়—মানুষ সামাজিক ও নৈতিক জীব। এই মানুষকেই আল্লাহ তাআলা নারী-পুরুষ নামক দুটি ভিন্ন রূপে সৃষ্টি করেছেন। তারা উভয়ে মিলে একটি পরিবার গঠন করবে এবং তার থেকে একটি সভ্যতার বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হবে। পৃথিবীর সকল ধর্ম-বর্ণেই বিয়ে প্রথার প্রচলন আছে। তবে এর আনুষ্ঠানিকতা ও বাস্তবায়ন একেক ধর্মে একেক আঙ্গিকে। প্রায় সকল ধর্মেই এর গুরুত্ব সীমাহীন। ইসলাম তো একে ইবাদত হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছে। সঠিক সময়ে বিয়ে করার বেশ কিছু ভালো দিক রয়েছে। যেমন—
১. বিয়ে করার মাধ্যমে একটি পরিবার গঠন করা সম্ভব। যেখানে যে কেউ মানসিক শান্তি খুঁজে পাবে, তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে। আর অবিবাহিত ব্যক্তি ঠিক যেন নীড়হীন একটি পাখি। এক সময় সে জীবনের বাস্তবতায় হারিয়ে যায়। অপরদিকে পরিবার একটি আশ্রয়স্বরূপ; যা তাকে হারিয়ে যেতে দেয় না। বিবাহিত ব্যক্তি তার জীবনের সব সুখ-দুঃখ সহজেই সঙ্গীর সাথে ভাগ করে নেয়ার সুযোগ পায়।
২. যৌবনে পা দেয়া মাত্রই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষিত হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার এবং বৈধভাবে এই চাহিদা পূরণের অধিকার প্রত্যেকের থাকা উচিত। তবে সেটা অবশ্যই হতে হবে সঠিক সময়ে। সঠিক সময়ে বিয়ে না করা ব্যক্তি সবসময় এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক অশান্তিতে ভোগে। এসব শারীরিক ও মানসিক সমস্যার দরুন এক সময় প্রচণ্ড হতাশ হয়ে ওঠে। কোনো কাজে মনোযোগী হতে পারে না। ফলাফল; জীবনে সফলতা থেকে সে অনেক পিছিয়ে পড়ে। তাই বিয়ে জীবনের জন্য একটি অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তরুণ সমাজের সিংহভাগই আজ বিয়ে থেকে দূরে।
৩. বিয়ের মাধ্যমে মানব জাতির ক্রমধারা অব্যাহত থাকে। একটি শিশু একদিকে যেমন বাবা-মার সব আনন্দ ও প্রশান্তির খোরাক হয়, অন্যদিকে সে তার পরিবারের ভিত্তি আরও মজবুত করে।
ইসলামে বিয়ে ও সন্তান ধারণ উভয়ের প্রতি বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত রয়েছে—
অর্থ: "তাঁর আরেকটি নিদর্শন এই যে—তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের দ্বারা প্রশান্তি লাভ কর। তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া দান করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।”১
নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “আমি বিবাহ করেছি। যে আমার (এই) নীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে আমার উম্মত নয়।”২
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন—
অর্থ: “তোমরা প্রেমময়ী অধিক সন্তানদানকারী নারীকে বিয়ে কর। কারণ—আমি (কেয়ামতের মাঠে) আমার উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গৌরব করবো।”৩
হযরত ওমর রাযিআল্লাহু আনহু বলেন—
অর্থ: “আল্লাহর কসম! মুসলমান হওয়ার পর একজন পুরুষের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—একজন সুন্দরী স্ত্রী, যে ভালো আচরণ করে, প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তানদানে সক্ষম।”৪
উক্ত আলোচনায় মূলত বিয়ে ও জীবন সঙ্গীর গুরুত্ব এবং শরিয়ত মোতাবেক উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধির কথাই বলা হয়েছে। কেবল নিজের একাকিত্ব কাটানো কিংবা যৌন চাহিদা পূরণ কখনোই বিয়ের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে না। কেননা—সৃষ্টি জগতের প্রতিটি প্রাণীই এমনটা করে থাকে। তবে মানুষের জীবনে বিয়ের আসল উদ্দেশ্য একটু ভিন্নই বলা যায়। আমরা এই পৃথিবীতে কেবল গতানুগতিক ধারায় খাওয়া দাওয়া, ঘুম আর আনন্দ ফুর্তি করে বেড়াবো, তারপর একদিন মরে যাব; এভাবে নিজেদেরকে শেষ করে দিতে আমরা আসিনি।
সৃষ্টির সেরা হিসেবে আমাদের কর্ম হতে হবে সেরা। পৃথিবীতে আমরা মূলত আমাদের আত্মার পরীক্ষা দিতে আসি। আমাদের উদ্দেশ্য, একদিকে জ্ঞান অর্জন, সৎ কর্ম আর ভালো ব্যবহার গুণে সব জয় করা, অন্যদিকে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আমাদের লক্ষ্য হবে সহজ-সরল ও সৎ পথ অবলম্বন করে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জন করা।
মানব জাতি সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য সৃষ্টি। সে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম। খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভালো কাজ ও আচরণের মাধ্যমে মানুষ নিজের অবস্থান এমন উচ্চ স্তরে নিতে সক্ষম, যা স্বয়ং ফেরেশতারাও অর্জন করতে পারেনি। সৃষ্টিকর্তার এমনই এক অনন্য সৃষ্টি মানুষ জাতি। নবিদের দেখানো পথ ও দ্বীনের সঠিক অনুকরণে সে এই দুনিয়া ও আখিরাতে নিজের সুখ নিশ্চিত করে পরকালে চির শান্তি অর্জন করতে সক্ষম। সুতরাং! এমন অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্বীনের আধ্যাত্মিক ও বাহ্যিক কল্যাণের বিষয়গুলো অন্তত সবার অনুসন্ধান করা উচিত।
বলাবাহুল্য ধর্মীয় মূল্যবোধে অটল থাকা একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা কিংবা তার পাপী আত্মা পরিশুদ্ধ করার একটি মাধ্যম হলো বিয়ে। এটি সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনেরও একটি মাধ্যম বলা যায়। এক্ষেত্রে একজন ভালো জীবন সঙ্গী বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যখন দুজন আল্লাহভীরু ব্যক্তি বিয়ের মাধ্যমে একটি পরিবার তৈরি করে, দুজনই গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে এক হয় এবং দুজনই হয় একই চিন্তা-ধারার অধিকারী, সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে শারীরিক পরিতৃপ্তির পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও আসে; যা পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভালোলাগা আরও বাড়িয়ে দেয়। এমন দম্পতি যৌন বিকৃতির মতো বিপজ্জনক আসক্তি থেকে সবসময় মুক্ত থাকে।
আল্লাহর নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ অন্যান্য নবিগণ তরুণ সমাজে সঠিক সময়ে বিয়ে প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রচুর জোর দিয়েছেন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
অর্থ: “আল্লাহ পাক যাকে একজন নেককার স্ত্রী দান করলেন, তাকে অর্ধেক দ্বীন পালনে সহযোগিতা করলেন। সুতরাং সে যেন বাকি অর্ধেকে আল্লাহকে ভয় করে চলে।”৫
এক্ষেত্রে এমন একটি বর্ণনাও পাওয়া যায়—
অর্থ: “যে তরুণ অল্প বয়সেই বিবাহ করে নেয়, তার পিছনে নিয়োজিত শয়তান আফসোস করে বলতে থাকে—হায়, সে আমার হাত থেকে তার দ্বীনকে রক্ষা করে নিলো!”৬ হযরত তাউস (রহ.) বলেন— “তরুণদের ইবাদত পূর্ণাঙ্গ হয় না বিয়ে করা ছাড়া।”৭
একজন বিশ্বস্ত, ধার্মিক জীবন সঙ্গীর সান্নিধ্যে যে কেউই সম্মানের সাথে সৎ জীবন যাপন করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, কোনো ব্যক্তি গোপন গুনাহ এড়াতে চাইলে তার জন্য বিয়ে বাধ্যতামূলক। কেননা—গোপন গুনাহ এতটাই ভয়াবহ যে—এটি আমাদের ইবাদত অসম্পূর্ণ করে রাখে, নষ্ট করে দেয়। এক্ষেত্রে ধার্মিক দম্পতি একে অপরকে গোপন কিংবা প্রকাশ্য সব ধরনের গুনাহ থেকে হেফাজত করার চেষ্টা করে এবং ইবাদাতে আরও বেশি আগ্রহী করে তোলে। তারা একে অপরের ইবাদতে সঙ্গী হয়ে সাহায্য করে।
আচ্ছা—একজন ব্যক্তির পক্ষে তার স্ত্রীর সাহায্য ছাড়া আল্লাহর পথে একনিষ্ঠ ভাবে অটল থাকা কি আদৌও সম্ভব? অথবা দুনিয়াবি সমস্ত আইন কানুন মেনে সাধারণ জীবন যাপন করা, সমাজে সততা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করা কিংবা সৎ উদ্দেশ্যে দান করা, এসব কাজ স্ত্রীর পুরোপুরি সহযোগিতা ছাড়া কি সম্ভব? একজন দ্বীনি জীবন সঙ্গী আপনাকে সব সময় সৎ কাজে আহ্বান করবে, ঠিক যেমনভাবে অসৎ ব্যক্তি খারাপ কাজে আহ্বান করে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার প্ররোচণায় আমরা খারাপ কাজে না জড়িয়ে পড়ি। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হলো জীবন সঙ্গীর আচরণ ও দ্বীনের প্রতি মূল্যবোধের দিকটা খেয়াল রাখা।
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন—
অর্থ: “তাকওয়ার পরে মুমিন বান্দার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হলো, নেককার স্ত্রী। যাকে আদেশ করলে মান্য করে, যার দিকে তাকালে পুলক লাভ হয়, তার বিষয়ে কোনো কসম করলে সে স্বামীর কসমের মূল্যায়ন করে, স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার মাল ও নিজের সত্তার হেফাজত করে।”৮
মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন—
অর্থ: “যে ব্যক্তি চরিত্র ঠিক রাখার জন্য বিবাহ করে, তাকে সহযোগিতা করা আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে পড়ে।”৯
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো—
অর্থ: 'সর্বোত্তম নারী কে?' তিনি বললেন, “সর্বোত্তম নারী হলো, স্বামী যাকে দেখলে পুলকিত হয়, আদেশ করলে মেনে নেয়, স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার সম্পদ ও নিজের সতীত্বের হেফাজত করে।”১০
টিকাঃ
১. সূরা রূম: ২১।
২. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫০৬৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৩৪০৩।
৩. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ২০৫০, সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ২০৪৩; বাইহাকি, হাদিস নং: ২৭৩৩।
৪. সুনানে কুবরা, হাদিস নং: ১৩৪৮০; শুআবুল ঈমান, হাদিস নং: ৮৭২৪।
৫. মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭২৯।
৬. মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং: ২০৪১।
৭. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং: ১৬১৫৯।
৮. সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫৭; তাবারানি, হাদিস নং: ৭৮০১।
৯. সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ৭৮৬; মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭২৬।
১০. মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭৪২১; সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১।
📄 স্বামীর সাথে বসবাস
স্বামী-স্ত্রী একসাথে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর কাজ হলো স্বামীর প্রতি খেয়াল রাখা, তার যত্ন নেওয়া। আর এটি মোটেও সহজ কাজ নয়। যে নারী সংসারে তার দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত নয়, সে কখনোই তা করতে সক্ষম হবে না। ধরুন আপনি একটি চাকরি করবেন বলে ঠিক করেছেন, এখন সেই চাকরি পেতে হলে আপনার অবশ্যই যোগ্যতার প্রয়োজন হবে। সাথে ন্যূনতম দক্ষতাও দরকার। ঠিক এমনি করে একজন আদর্শ স্ত্রী হিসেবে স্বামীর মন জয় করার জন্যও যোগ্যতার প্রয়োজন। আশেপাশে একটু তাকালেই বোঝা যায়—দুজন মানুষ একই ছাদের নিচে পাশাপাশি থেকেও কতটা দূরে। সবাই স্বামীর মন জয় করতে পারে না। স্বামীর মনে জায়গা পেতেও ন্যূনতম যোগ্যতা প্রয়োজন। আর তা মোটেও সার্টিফিকেটের যোগ্যতা নয়। এক্ষেত্রে একজন আদর্শ স্ত্রীই পারে তার স্বামীকে খারাপ কাজ থেকে দূরে সরিয়ে ভালো কাজের উৎসাহ দিতে, তার স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে। পুরুষকে একজন আদর্শ স্বামী কিংবা একজন আদর্শ বাবা হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে তার স্ত্রীর ভূমিকা অনন্য।
সত্যিকার পুরুষ তাকেই বলা উচিত; যে নিজের পরিবারকে আগলে রাখে এবং সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনা করে। আর পুরুষের মাঝে এমন অসাধারণ পরিবর্তন আনার ক্ষমতা মহান আল্লাহ নারীকে দিয়েছেন। একজন নারীই পারে ভালোবাসা দিয়ে একজন পুরুষের স্বভাবে পরিবর্তন আনতে। তবে পরিবারের সুখ ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারের দুঃখও কিন্তু তার হাতে। একজন নারী তার সংসারকে একটি স্বর্গে পরিণত করতে পারে, আবার সে চাইলে তা জ্বলন্ত নরকও হতে পারে। সে তার স্বামীকে সাফল্যের শীর্ষে কিংবা দুর্ভাগ্যের চরম প্রান্তে ছুঁড়ে ফেলতে পারে। একজন ধৈর্যশীল, বিনয়ী স্ত্রী সবচেয়ে নিকৃষ্ট পুরুষটিকেও বদলে দিয়ে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে। নারীরা এক বিস্ময়কর ক্ষমতার অধিকারী হয়ে জন্মায়। কেননা—তার যা ইচ্ছে তা-ই সে অর্জন করতে সক্ষম।
স্বামীর সংসার সামলানো ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একে জিহাদ (আল্লাহর পথে পবিত্র যুদ্ধ)-এর সমপর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। আরও বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে; জিহাদ বলতে মূলত ইসলামের অগ্রগতি, রক্ষা ও সম্মানের জন্য সংগ্রামকে বোঝানো হয়; একে পবিত্র যুদ্ধও বলা যায়। এটি আল্লাহর নিকট সর্বোচ্চ ইবাদতগুলোর একটি। আর স্বামীর খেদমত, তাকে সঠিক পথে আনা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তাই স্ত্রীর এমন কাজগুলোকে ইসলামে জিহাদের মর্যাদা দেওয়া হয়। একবার নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক নারীকে জিজ্ঞেস করলেন—
অর্থ: “তুমি তোমার স্বামীর সাথে কেমন আচরণ কর?” তিনি বললেন, 'নিজের সাধ্যের মধ্যে আমি তার সেবা-যত্নে বিন্দুমাত্রও ত্রুটি করি না।' নবিজী বললেন— “সাবধান থেকো! তার সেবাই তোমাকে জান্নাতে পৌঁছাবে বা জাহান্নামে”। ১১
নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন—
অর্থ: “যে নারী তার স্বামীকে সন্তুষ্ট রেখে মৃত্যুবরণ করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” ১২ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন— “যে নারী স্বামীর মুখাপেক্ষী হওয়া সত্ত্বেও তার কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, আল্লাহ তাআলা তার দিকে ফিরেও তাকান না।” ১৩
টিকাঃ
১১. মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ১৯০০৩; মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮১৮।
১২. জামে তিরমিজি, হাদিস নং: ১১৯৫; সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫৪।
১৩. সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৯০৮৬; বায়হাকি, হাদিস নং: ১৪৭২০; মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮২০।
স্বামী-স্ত্রী একসাথে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর কাজ হলো স্বামীর প্রতি খেয়াল রাখা, তার যত্ন নেওয়া। আর এটি মোটেও সহজ কাজ নয়। যে নারী সংসারে তার দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত নয়, সে কখনোই তা করতে সক্ষম হবে না। ধরুন আপনি একটি চাকরি করবেন বলে ঠিক করেছেন, এখন সেই চাকরি পেতে হলে আপনার অবশ্যই যোগ্যতার প্রয়োজন হবে। সাথে ন্যূনতম দক্ষতাও দরকার। ঠিক এমনি করে একজন আদর্শ স্ত্রী হিসেবে স্বামীর মন জয় করার জন্যও যোগ্যতার প্রয়োজন। আশেপাশে একটু তাকালেই বোঝা যায়— দু'জন মানুষ একই ছাদের নিচে পাশাপাশি থেকেও কতটা দূরে। সবাই স্বামীর মন জয় করতে পারে না। স্বামীর মনে জায়গা পেতেও ন্যূনতম যোগ্যতা প্রয়োজন। আর তা মোটেও সার্টিফিকেটের যোগ্যতা নয়। এক্ষেত্রে একজন আদর্শ স্ত্রীই পারে তার স্বামীকে খারাপ কাজ থেকে দূরে সরিয়ে ভালো কাজের উৎসাহ দিতে, তার স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে। পুরুষকে একজন আদর্শ স্বামী কিংবা একজন আদর্শ বাবা হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে তার স্ত্রীর ভূমিকা অনন্য।
সত্যিকার পুরুষ তাকেই বলা উচিত; যে নিজের পরিবারকে আগলে রাখে এবং সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনা করে। আর পুরুষের মাঝে এমন অসাধারণ পরিবর্তন আনার ক্ষমতা মহান আল্লাহ নারীকে দিয়েছেন। একজন নারীই পারে ভালোবাসা দিয়ে একজন পুরুষের স্বভাবে পরিবর্তন আনতে। তবে পরিবারের সুখ ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারের দুঃখও কিন্তু তার হাতে। একজন নারী তার সংসারকে একটি স্বর্গে পরিণত করতে পারে, আবার সে চাইলে তা জ্বলন্ত নরকও হতে পারে। সে তার স্বামীকে সাফল্যের শীর্ষে কিংবা দুর্ভাগ্যের চরম প্রান্তে ছুঁড়ে ফেলতে পারে। একজন ধৈর্যশীল, বিনয়ী স্ত্রী সবচেয়ে নিকৃষ্ট পুরুষটিকেও বদলে দিয়ে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দিতে পারে। নারীরা এক বিস্ময়কর ক্ষমতার অধিকারী হয়ে জন্মায়। কেননা— তার যা ইচ্ছে তা-ই সে অর্জন করতে সক্ষম।
স্বামীর সংসার সামলানো ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একে জিহাদ (আল্লাহর পথে পবিত্র যুদ্ধ)-এর সমপর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। আরও বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে; জিহাদ বলতে মূলত ইসলামের অগ্রগতি, রক্ষা ও সম্মানের জন্য সংগ্রামকে বোঝানো হয়; একে পবিত্র যুদ্ধও বলা যায়। এটি আল্লাহর নিকট সর্বোচ্চ ইবাদতগুলোর একটি। আর স্বামীর খেদমত, তাকে সঠিক পথে আনা খুব একটা সহজ কাজ নয়। তাই স্ত্রীর এমন কাজগুলোকে ইসলামে জিহাদের মর্যাদা দেওয়া হয়। একবার নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক নারীকে জিজ্ঞেস করলেন—
অর্থ: “তুমি তোমার স্বামীর সাথে কেমন আচরণ কর?” তিনি বললেন, 'নিজের সাধ্যের মধ্যে আমি তার সেবা-যত্নে বিন্দুমাত্রও ত্রুটি করি না।' নবিজী বললেন— “সাবধান থেকো! তার সেবাই তোমাকে জান্নাতে পৌঁছাবে বা জাহান্নামে”। ১১
নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন—
অর্থ: “যে নারী তার স্বামীকে সন্তুষ্ট রেখে মৃত্যুবরণ করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” ১২ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন— “যে নারী স্বামীর মুখাপেক্ষী হওয়া সত্ত্বেও তার কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, আল্লাহ তাআলা তার দিকে ফিরেও তাকান না।” ১৩
টিকাঃ
১১. মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ১৯০০৩; মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮১৮।
১২. জামে তিরমিজি, হাদিস নং: ১১৯৫; সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫৪।
১৩. সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৯০৮৬; বায়হাকি, হাদিস নং: ১৪৭২০; মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮২০।
📄 সহৃদয়তা
আমরা সাধারণত এমন জীবনসঙ্গী পাওয়ার আশা করি যে আমাদের অনেক বেশি ভালোবাসবে। কেননা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা না থাকলে পরিবারে নিজেকে খুব একা মনে হয়। নারীরা অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কোমল আর মায়াময়। প্রকৃতিগতভাবেই সকলে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
শোনো বোন! তোমার স্বামীও এর ব্যতিক্রম নয়। সেও কোমলতায়, মায়ায় আকৃষ্ট হয়। তারও ভালোবাসার প্রয়োজন। বিয়ের আগে বাবা-মা তাকে যেমনটা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছিলেন, সে এখন তার স্ত্রীর কাছেই তা আশা করে। অন্য সবার মতো সেও একটু বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় থাকে। আবার এই মানুষটাই সংসারে আহারের জোগান দিতে, স্ত্রীকে আরেকটু ভালো রাখতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে। স্ত্রীর সব কষ্ট ভাগ করে নেয়; স্বামী হিসেবে স্ত্রীকে ঠিক সেভাবেই যত্ন করে যেমনটা মেয়েটিকে তার বাবা-মা করতেন। অতএব, তাকে বুঝতে দেওয়া উচিত—সে আসলেই তোমার জীবনে কতটা গুরুত্ব বহন করে।
প্রেম হলো একটি দ্বিমুখী সম্পর্ক, যা দুটি মনকে এক করে। একবার বিশ বছরের এক যুবক ৩৯ বছর বয়সী এক বিধবা মহিলার প্রেমে পড়েছিল। মহিলাটি ছিল তার বাড়িওয়ালা। প্রেমে পড়ার কারণ, ছেলেটি মহিলার মায়া-মমতা দেখে তার প্রতি মুগ্ধ হয়েছিল। অতঃপর তাদের বিয়েও হয়।
দুজনের প্রতি দুজন যদি সমান আবেগী হয়, তবে সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত হয়। এক্ষেত্রে ডিভোর্সের আশঙ্কাও কমে যায়। তবে গর্বের সাথে কখনো এমনটা ভেবো না যে, তোমার স্বামী প্রথম দেখাতেই তোমার প্রেমে পড়েছিল বলে সে আর কখনোই বদলাবে না। যে প্রেম শুধু রূপের সৌন্দর্য দেখে হয়, তা কখনো স্থায়ী হয় না। চিরস্থায়ী প্রেম হলো খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো। ভালোবাসা দিয়ে কোনো পুরুষকে আপন করে নিলে সেও স্ত্রীর জন্য নিজের সবকিছু বিলিয়ে তাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত থাকে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হলে সেই সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত থাকে।
গবেষণায় দেখা যায়, সুখী দম্পতির স্বাস্থ্য তুলনামূলক ভালো থাকে। তাদের রোগবালাইয়ের আশঙ্কাও কম থাকে। আর নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক ভালো না থাকা দম্পতি সব সময় হতাশায় ভোগে। এক সময় ঝগড়া-বিবাদ এড়াতে পরস্পর একটা দূরত্ব তৈরি করে। স্বামী যতটুকু সম্ভব বাইরে থাকার চেষ্টা করে।
আমরা সাধারণত এমন জীবন সঙ্গী পাবার আশা করি, যে আমাদের অনেক বেশি ভালোবাসবে। কেননা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা না থাকলে পরিবারে নিজেকে খুব একা মনে হয়। নারীরা অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কোমল আর মায়াময়। প্রকৃতিগতভাবেই সকলে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়।
শোনো বোন! তোমার স্বামীও এর ব্যতিক্রম নয়। সেও কোমলতায়, মায়ায় আকৃষ্ট হয়। তারও ভালোবাসার প্রয়োজন। বিয়ের আগে বাবা-মা তাকে যেমনটা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছিল, সে এখন তার স্ত্রীর কাছেই তা আশা করে। অন্য সবার মতো সেও একটু বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় থাকে। আবার এই মানুষটাই সংসারে আহারের জোগান দিতে, স্ত্রীকে আরেকটু ভালো রাখতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে। স্ত্রীর সব কষ্ট ভাগ করে নেয়, স্বামী হিসেবে স্ত্রীকে ঠিক সেভাবেই যত্ন করে যেমনটা মেয়েটিকে তার বাবা-মা করত। অতএব, তাকে বুঝতে দেয়া উচিত—সে আসলেই তোমার জীবনে কতটা গুরুত্ব বহন করে।
প্রেম হলো একটি দ্বিমুখী সম্পর্ক, যা দুটি মনকে এক করে। একবার বিশ বছরের এক যুবক ৩৯ বছর বয়সী এক বিধবা মহিলার প্রেমে পড়েছিল। মহিলাটি ছিল তার বাড়িওয়ালা। প্রেমে পড়ার কারণ, ছেলেটি মহিলার মায়া-মমতা দেখে তার প্রতি মুগ্ধ হয়েছিল। অতঃপর তাদের বিয়েও হয়।
দুজনের প্রতি দুজন যদি সমান আবেগী হয়, তবে সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত হয়। এক্ষেত্রে ডিভোর্সের আশঙ্কাও কমে যায়। তবে গর্বের সাথে কখনো এমনটা ভেবো না যে—তোমার স্বামী প্রথম দেখাতেই তোমার প্রেমে পড়েছিল বলে সে আর কখনোই বদলাবে না। যে প্রেম শুধু রূপের সৌন্দর্য দেখে হয়, তা কখনো স্থায়ী হয় না। চিরস্থায়ী প্রেম হলো খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো। ভালোবাসা দিয়ে কোনো পুরুষকে আপন করে নিলে, সেও স্ত্রীর জন্য নিজের সবকিছু বিলিয়ে তাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত থাকে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হলে সেই সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত থাকে।
গবেষণায় দেখা যায়—সুখী দম্পতির স্বাস্থ্য তুলনামূলক ভালো থাকে। তাদের রোগবালাইয়ের আশঙ্কাও কম থাকে আর নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক ভালো না থাকা দম্পতি সব সময় হতাশায় ভোগে। এক সময় ঝগড়া-বিবাদ এড়াতে পরস্পর একটা দূরত্ব তৈরি করে। স্বামী যতটুকু সম্ভব বাইরে থাকার চেষ্টা করে।
📄 স্বামীর সম্মান
আপনি যখন কাউকে ভালোবাসবেন; তার মানে অবশ্যই সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি ভালো জানেন। প্রত্যেক স্বামী তার স্ত্রীর নিকট সম্মান ও শ্রদ্ধা পেতে চায়, তবে তা কখনোই প্রকাশ করে না। ঘর থেকে বেরিয়েই জীবিকার তাগিদে সে নানা স্বভাবের মানুষের সংস্পর্শে আসে। কেউ তাকে ছোট করে কথা বলে, কেউবা অপমান করে, আর কারো কারো ব্যবহারে সে খুব বিরক্ত হয়। কিন্তু দিন শেষে ঘরে ফিরে সে তার স্ত্রীর কাছে যথাযথ সম্মান আর ভালো ব্যবহারটুকুই আশা করে। এই অবস্থায় সে কিছু বলতে চাইলে শ্রোতা হওয়া উচিত। শত রাগ কিংবা অভিমান থাকলেও বাসায় ঢোকার সাথে সাথে তার উপর চেঁচানো ঠিক না। নতুন কোথাও গেলে স্বামীকে আগে প্রবেশ করতে দিলেও একজন স্বামী মনে মনে নিজেকে সম্মানিত ভাবে। আর বাচ্চাদের অবশ্যই তাদের বাবাকে সম্মান করাটা শেখানো উচিত। এছাড়া অতিথিদের সামনে তার চরিত্রের ভালো দিকগুলো তুলে ধরা যায়। এতে অতিথির কাছে স্বামীর সম্মানটা বেড়ে গেলে, স্ত্রীর জন্য তার মায়া এবং আবেগও বেড়ে যায়। কাজ শেষে সে ঘরে ফিরলে তাকে সুন্দর কিছু বলে প্রতিদিন স্বাগত জানানো যায়। এসব ছোট ছোট কাজ সংসারে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ভাগ্যবান তো সে মহিলা; যে তার স্বামীকে সম্মান করে এবং কোনো প্রকার হয়রানি করে না। স্বামীর খাবার শেষে তার হাত ধোয়ার পানি এবং তোয়ালের ব্যবস্থা করা স্ত্রীর দায়িত্ব। সুতরাং স্বামীকে অবমাননা করা, অকারণে কড়া ভাষায় কথা কিংবা গালিগালাজ করা ইসলাম সমর্থন করে না। স্ত্রী হিসেবে স্বামীর প্রতি খুব মনোযোগী হওয়া উচিত। অকারণে তাকে অপদস্ত করা ঠিক নয়। কেননা স্ত্রী স্বামীকে অপদস্ত করলে, পরিণামে স্বামীও স্ত্রীকে অপদস্ত করবে, এটাই স্বাভাবিক। তখনই সম্মান ও বিশ্বাসের জায়গায় ফাটল ধরা শুরু করে। এভাবে তুচ্ছ বিষয়ে কথা কাটাকাটি ধীরে ধীরে সম্পর্কের অবসান ঘটায়। এক সাথে একই ছাদের নিচে থেকেও শান্তি পাওয়া যায় না। একরাশ হতাশায় জীবন জর্জরিত হয়ে পড়ে। এক সময় এসব মানসিক অশান্তি এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে, যা আমরা আর সহ্য করতে পারি না। পরবর্তীতে বিভিন্ন অসামাজিক কিংবা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ি।
এর মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যকর দুটো ঘটনা তুলে ধরা যাক। এক দম্পতি ছিল। স্বামীর বয়স ২২ বছর আর স্ত্রী ১৯ বছর বয়সী। বিয়ের মাত্র এক বছর পেরুতেই স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়। আদালতে নেয়া হলে জানা যায়—দাম্পত্য কলহের জের ধরেই সে তার স্ত্রীকে খুন করে। তার ভাষ্যমতে, 'এক বছর হলো আমরা বিয়ে করি। শুরুতে সব ভালোই যাচ্ছিল। আস্তে আস্তে আমার স্ত্রীর ব্যবহার বদলাতে শুরু করে। এই নিয়ে আমি সব সময়ই চিন্তিত থাকতাম। ছোট ছোট ইস্যুতে সে রেগে যেত আর মুখে যা আসত, তা-ই বলত। মোটামুটি সবসময় আমাদের ঝগড়া লেগেই থাকত। আমার বাম চোখ একটু ছোট, ওই চোখে তেমন ভালো দেখতে পাই না। এটা নিয়েও আমাকে কথা শোনাত। একদিন ঝগড়ার মাঝে সে আমাকে কানা বলে গালিগালাজ শুরু করে। আমি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। আমি এতটাই ক্ষেপে যাই, কিচেন থেকে ছুরি এনে ওকে আঘাত করি। একবার, দুবার না, টানা পনের বার!'
এমন ঘটনা শুধু সদ্য বিবাহিত দম্পতির হয়, তা কিন্তু নয়। ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ তার স্ত্রীকে হত্যা করে ঠিক একই কারণে। তিনি বলেন—'হঠাৎ আমার প্রতি তার আচরণ পাল্টে যায়। আমাকে সহ্যই করতে পারত না। সব সময় আমাকে গালিগালাজ করত। একদিন বলল আমি তার সাথে সংসার করার যোগ্য না। তখন বুঝতে পারলাম, তার মনে আমার জন্য কোনো জায়গা নেই। সত্যি বলতে কী, জীবনের এই পর্যায়ে এমন কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমাকে হতাশা আর ক্ষোভ ঘিরে ফেলে, কিছু না ভেবেই তাকে খুন করে ফেলি। পাশের ঘরে কুড়াল ছিল। ওটা দিয়ে খুন করি।'
আপনি যখন কাউকে ভালোবাসবেন; তার মানে অবশ্যই সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি ভালো জানেন। প্রত্যেক স্বামী তার স্ত্রীর নিকট সম্মান ও শ্রদ্ধা পেতে চায়, তবে তা কখনোই প্রকাশ করে না। ঘর থেকে বেরিয়েই জীবিকার তাগিদে সে নানা স্বভাবের মানুষের সংস্পর্শে আসে। কেউ তাকে ছোট করে কথা বলে, কেউবা অপমান করে, আর কারো কারো ব্যবহারে সে খুব বিরক্ত হয়। কিন্তু দিন শেষে ঘরে ফিরে সে তার স্ত্রীর কাছে যথাযথ সম্মান আর ভালো ব্যবহারটুকুই আশা করে। এই অবস্থায় সে কিছু বলতে চাইলে শ্রোতা হওয়া উচিত। শত রাগ কিংবা অভিমান থাকলেও বাসায় ঢোকার সাথে সাথে তার উপর চেঁচানো ঠিক না।
নতুন কোথাও গেলে স্বামীকে আগে প্রবেশ করতে দিলেও একজন স্বামী মনে মনে নিজেকে সম্মানিত ভাবে। আর বাচ্চাদের অবশ্যই তাদের বাবাকে সম্মান করাটা শেখানো উচিত। এছাড়া অতিথিদের সামনে তার চরিত্রের ভালো দিকগুলো তুলে ধরা যায়। এতে অতিথির কাছে স্বামীর সম্মানটা বেড়ে গেলে, স্ত্রীর জন্য তার মায়া এবং আবেগও বেড়ে যায়। কাজ শেষে সে ঘরে ফিরলে তাকে সুন্দর কিছু বলে প্রতিদিন স্বাগত জানানো যায়। এসব ছোট ছোট কাজ সংসারে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ভাগ্যবান তো সে মহিলা; যে তার স্বামীকে সম্মান করে এবং কোনো প্রকার হয়রানি করে না। স্বামীর খাবার শেষে তার হাত ধোয়ার পানি এবং তোয়ালের ব্যবস্থা করা স্ত্রীর দায়িত্ব। সুতরাং স্বামীকে অবমাননা করা, অকারণে কড়া ভাষায় কথা কিংবা গালিগালাজ করা ইসলাম সমর্থন করে না। স্ত্রী হিসেবে স্বামীর প্রতি খুব মনোযোগী হওয়া উচিত। অকারণে তাকে অপদস্ত করা ঠিক নয়। কেননা স্ত্রী স্বামীকে অপদস্ত করলে, পরিণামে স্বামীও স্ত্রীকে অপদস্ত করবে, এটাই স্বাভাবিক। তখনই সম্মান ও বিশ্বাসের জায়গায় ফাটল ধরা শুরু করে। এভাবে তুচ্ছ বিষয়ে কথা কাটাকাটি ধীরে ধীরে সম্পর্কের অবসান ঘটায়। একসাথে একই ছাদের নিচে থেকেও শান্তি পাওয়া যায় না। একরাশ হতাশায় জীবন জর্জরিত হয়ে পড়ে। এক সময় এসব মানসিক অশান্তি এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে, যা আমরা আর সহ্য করতে পারি না। পরবর্তীতে বিভিন্ন অসামাজিক কিংবা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ি।
এর মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যকর দুটো ঘটনা তুলে ধরা যাক। এক দম্পতি ছিল। স্বামীর বয়স ২২ বছর আর স্ত্রী ১৯ বছর বয়সী। বিয়ের মাত্র এক বছর পেরুতেই স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন হয়। আদালতে নেওয়া হলে জানা যায়—দাম্পত্য কলহের জের ধরেই সে তার স্ত্রীকে খুন করে। তার ভাষ্যমতে, ‘এক বছর হলো আমরা বিয়ে করি। শুরুতে সব ভালোই যাচ্ছিল। আস্তে আস্তে আমার স্ত্রীর ব্যবহার বদলাতে শুরু করে। এই নিয়ে আমি সব সময়ই চিন্তিত থাকতাম। ছোট ছোট ইস্যুতে সে রেগে যেত আর মুখে যা আসত, তাই বলত। মোটামুটি সবসময় আমাদের ঝগড়া লেগেই থাকত। আমার বাম চোখ একটু ছোট, ওই চোখে তেমন ভালো দেখতে পাই না। এটা নিয়েও আমাকে কথা শোনাত। একদিন ঝগড়ার মাঝে সে আমাকে কানা বলে গালিগালাজ শুরু করে। আমি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। আমি এতটাই ক্ষেপে যাই, কিচেন থেকে ছুরি এনে ওকে আঘাত করি। একবার, দুবার না, টানা পনের বার!’
এমন ঘটনা শুধু সদ্য বিবাহিত দম্পতির হয়, তা কিন্তু নয়। ৭০ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধ তার স্ত্রীকে হত্যা করে ঠিক একই কারণে। তিনি বলেন—‘হঠাৎ আমার প্রতি তার আচরণ পাল্টে যায়। আমাকে সহ্যই করতে পারত না। সব সময় আমাকে গালিগালাজ করত। একদিন বলল আমি তার সাথে সংসার করার যোগ্য না। তখন বুঝতে পারলাম, তার মনে আমার জন্য কোনো জায়গা নেই। সত্যি বলতে কি, জীবনের এই পর্যায়ে এমন কথা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমাকে হতাশা আর ক্ষোভ ঘিরে ফেলে, কিছু না ভেবেই তাকে খুন করে ফেলি। পাশের ঘরে কুড়াল ছিল। ওটা দিয়ে খুন করি।’