📄 বিবাহ বিচ্ছেদ
যদিও বিবাহবিচ্ছেদকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে- তবে এটি সবচেয়ে ঘৃণিত ও খারাপ কাজ। কেননা- তালাক আল্লাহর আরশকে কাঁপিয়ে দেয়। আস-সাদিক (রহ.) বলেন- “আল্লাহ ঐ ঘরকে পছন্দ করেন যা বিবাহের মাধ্যমে আবাদ করা হয় এবং ঐ ঘরকে অপছন্দ করেন যা তালাকের মাধ্যমে পরিত্যক্ত হয়ে যায়। আল্লাহর নিকট তালাকের চেয়ে ঘৃণ্য আর কিছু নেই”।
বিয়ে হচ্ছে একটি ঐশ্বরিক চুক্তি, যার মাধ্যমে দুইজন মানুষ মৃত্যু পর্যন্ত বন্ধু, সমব্যথী এবং প্রেমিক-প্রেমিকার মতো একসাথে থাকে। বিয়ে কোনও কাম-লালসাপূর্ণ বিষয় নয়- কোন তুচ্ছ বিষয়ের অজুহাতে একটি দম্পতি বিবাহিত সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে না। যদিও তালাক আইনত স্বীকৃত, তবুও এটি একটি মারাত্মক ঘৃণিত কাজ এবং এটিকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিৎ। স্বার্থপরতার কারণে স্বামী বা স্ত্রী একটি ছোট সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে এবং বিবাহিত জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
যে দম্পতি বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী নয়; তারা এই ধরনের ছোটোখাটো বিষয়ের ফাঁদে পড়ে তালাকের আবেদন করতে পারে। বিবাহবিচ্ছেদের চিন্তা মাথায় আসলেই তাড়াহুড়ো করা উচিৎ না। বরং তাদের সতর্কতার সাথে এর পরবর্তী পরিণতি এবং তাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে বিশদভাবে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। এক্ষেত্রে দুইটি বিষয় অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।
প্রথমত- তালাকের পরে বেশিরভাগ দম্পতিই পুণরায় বিবাহ করতে চায়। কিন্তু, তাদের মনে রাখা উচিৎ যে- তালাকের পরে ব্যক্তি তালাক প্রাপ্ত হিসেবে বিবেচিত হয় যা বিয়ের বাজারে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। একজন মানুষের পূর্ববর্তী বিয়ে ও তালাকের উপর ভিত্তি করে একজন নারী তার বিশ্বস্ততা ও চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতে পারে। একজন তালাকপ্রাপ্ত মানুষকে বাকি জীবন একা কাটাতে হতে পারে এবং সে একাকিত্বে ভুগতে পারে। নিঃসঙ্গতা এতোটাই কঠিন পরিস্থিতি যে- একাকী মানুষ এই অসহনীয় জীবনের চেয়ে অনেকক্ষেত্রেই মৃত্যুকে বেশি পছন্দ করে।
দ্বিতীয়ত- যদি কোনো দম্পতি বিচ্ছেদ চায়; তাহলে তাদের অবশ্যই সন্তানদের কথা বিবেচনা করতে হবে। পরিবারের বাবা-মা একসাথে থেকে সন্তানদের লালনপালন করার মধ্যে ছেলে-মেয়েদের জীবনের সুখ-শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য নিহিত। কিন্তু তাদের এই পরিবার ভেঙে গেলে তারা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়। শুধু বাবা তাদের দেখাশোনা করলে তারা মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হবে। তারা সৎ মায়ের সাথে থাকলে জীবন উপভোগ করতে পারবেনা। তালাক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। পরিবারের সন্তানরা অসহায় ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। বাবা-মায়ের স্বার্থপরতার কারণে শিশুরা ভুক্তভোগী হয়।
হে জনাব/ জনাবা! আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ও আপনার মাসুম বাচ্চার কথা চিন্তা করে, একে অপরের প্রতি সদয় হোন। একে অপরের ছোটোখাটো সমস্যাগুলোকে বাড়িয়ে তুলবেন না এবং আপনার যুক্তিতে অটল থাকবেন না। একে অপরের দোষ খুঁজে বেড়াবেন না। আপনার এবং আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করুন। মনে রাখবেন, আপনার সন্তানরা আপনার উপর আস্থা রাখে এবং তাদের সুখ-শান্তি আপনাদের উপর নির্ভর করে। তাদের প্রতি দয়া করুন এবং তাদের জীবন ধ্বংস করবেন না। যদি আপনি তাদের একান্ত ইচ্ছাগুলোকে অবহেলা করেন এবং তাদের ছোট হৃদয় ভেঙে দেন, তাহলে আপনি তাদের জীবনে অশান্তি সৃষ্টির দায় এড়াতে পারবেন না। এতে, আপনিও তাদের সাথে একত্রে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনে ব্যর্থ হবেন- আর এভাবেই জীবনের এক পর্যায়ে গিয়ে আপনি অশান্তির দাবানলে জ্বলতে থাকবেন।