📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 গর্ভাবস্থা এবং প্রসবকালীন সময়

📄 গর্ভাবস্থা এবং প্রসবকালীন সময়


গর্ভাবস্থার সময়কাল একটি শিশুর জীবনের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। মায়ের পুষ্টিকর খাওয়া দাওয়ার অভ্যাস, তার শারীরিক গতিবিধি, মানসিক আচরণ তার নিজের এবং গর্ভের শিশু উভয়ের জীবনের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর সুস্বাস্থ্য বা অসুস্থতা, সক্ষমতা বা দুর্বলতা, কদর্যতা বা সৌন্দর্য, ভালো বা খারাপ আচরণের কারণ এবং বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা অনেকটা মাতৃগর্ভেই প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- অর্থ : “প্রত্যেক নারী গর্ভে যা ধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কিছু কমে ও বাড়ে, আল্লাহ সব কিছু জানেন। তাঁর কাছে প্রত্যেক বস্তুরই একটি পরিমাণ আছে।”৭৪

একটি ভ্রুণ তার মাতৃগর্ভের স্বাভাবিক রক্ত চলাচল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ করে এবং বেড়ে উঠে। সুতরাং, একজন গর্ভবতী মায়ের খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর হওয়া উচিত যেনো তা শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদানগুলি সরবরাহ করতে পারে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন- অর্থ : “আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির উপাদান থেকে। তারপর তাকে স্খলিত বিন্দুরূপে এক সংরক্ষিত স্থানে রাখি। এরপর আমি সেই বিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করি। অতঃপর সেই জমাট রক্তকে গোশতপিন্ড বানিয়ে দিই। পর্যায়ক্রমে তাকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে। সুতরাং আল্লাহ বড়ই মহিমাময়, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকর্তা।”৭৫

গর্ভাবস্থার এই পর্যায়ে বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের লোকদের জন্য একটি সুষম খাদ্যসূচি মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে একটি বড় দায়িত্ব স্বামীর উপর বর্তায় যার উচিত স্ত্রীর জন্য প্রয়োজনীয় সব খাবার সরবরাহের সর্বাত্মক চেষ্টা করা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “অর্থ : “তোমাদের উপর স্ত্রীদের অধিকার হলো তাদের জন্য পোশাক পরিচ্ছদ ও খাদ্য দ্রব্যের উত্তম ব্যবস্থা করা।”৭৬

টিকাঃ
৭৪. সুরা রাদ: ৮।
৭৫. সুরা মুমিনুন: ১২-১৪।
৭৬. সুনানে তিরমিজি: ১১০১।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 মানসিক অবস্থা

📄 মানসিক অবস্থা


একজন মায়ের তার গর্ভাবস্থায় নির্মলতা এবং একটি নতুন জীবনের প্রতি ভালবাসা অনুভব করা প্রয়োজন। এটি মা এবং তার শিশু উভয়ের জন্য উপকারী। পিতা তার সন্তানের মা-কে একটি শান্তিপূর্ণ এবং সজীব পরিবেশ দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ এবং গর্ভাবস্থার সময়কালে তার আরো কঠোর প্রচেষ্টা করা উচিত। সহানুভূতি ও ভালোবাসার মাধ্যমে স্ত্রীর সাথে স্বামীর এমন আচরণ করা উচিত যেনো তার স্ত্রী গর্ভাবস্থা নিয়ে গর্ব ও আনন্দ অনুভব করে এবং এটি ভেবে সে আরো গর্ববোধ করবে যে- অন্য একটি জীবন তার উপর নির্ভরশীল এবং সে তার সন্তানের কল্যাণের জন্য দায়বদ্ধ। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন- অর্থ : “এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে তিনি তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও মেহেরবানী সৃষ্টি করে দিয়েছেন।”

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 ঝুঁকিপূর্ণ চলন হতে বিরত থাকা

📄 ঝুঁকিপূর্ণ চলন হতে বিরত থাকা


একজন গর্ভবতী মহিলার শ্রমসাধ্য কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা উচিত এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নেওয়া উচিত। ভারী জিনিসপত্র উত্তোলন বা শরীরের দ্রুত সঞ্চালনের ফলে তার নিজের বা অনাগত সন্তানের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বা উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে। গর্ভবতী মহিলাদের যে কোনো ধরনের ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং তাদের স্বামীদের উচিত ভারী বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো নিজের তত্ত্বাবধায়নে করা। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন- অর্থ : “পুরুষগণ নারীদের প্রতি দায়িত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ একের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তারা তাদের সম্পদ হতে ব্যয়ও করে।”৭৮

টিকাঃ
৭৮. সুরা নিসা: ৩৪।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 প্রসববেদনার ভয়

📄 প্রসববেদনার ভয়


একটি শিশু প্রসব করা কোনো সহজ ঘটনা নয়। প্রসববেদনা কখনো কখনো মারাত্মক হতে পারে। গর্ভবতী মহিলারা প্রায়ই প্রসববেদনা এবং শিশু-জন্মের সাথে সম্পর্কিত সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত হন এবং সন্তান জন্মদানের পর তিনি এসব চিন্তা থেকে মুক্তি লাভ করেন। যদিও মহিলাদের গর্ভাবস্থার সাথে মানিয়ে নেয়া, তার প্রাত্যহিক অপরিহার্য কাজগুলো করা এবং তার সন্তানদের খাওয়ানো সহ সংশ্লিষ্ট কাজে আন্তরিক থাকা উচিত। পুরুষদেরও উচিত— সন্তানদের লালনপালন করার ক্ষেত্রে স্ত্রীকে সহায়তা করা।

আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল কারিমে বলেন- অর্থ : “তারা তোমাদের আবরণ এবং তোমরা তাদের আবরণ।”৭৯

সৃষ্টির নিয়মানুসারে- যদিও ভ্রূণ একজন মহিলার গর্ভে বিকাশ লাভ করা শুরু করে; কিন্তু সন্তানের বাবাও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সুতরাং পুরুষদের উচিত সন্তানের জন্মের সময় তাদের স্ত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য যা কিছু সম্ভব করা এবং জরুরীভাবে যদি কোনো কিছু প্রয়োজন হয় তবে তার ব্যবস্থা করা। গর্ভবতী স্ত্রীর চিকিৎসা ও প্রসবের সুবিধার জন্য যা প্রয়োজন তার জন্য একজন স্বামীর সর্বাত্মক চেষ্টা করা উচিত। কারণ- এটি একজন স্বামীর একইসাথে ইসলামিক ও মানবিক দায়িত্ব।

এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন- অর্থ : “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।”৮০

একজন স্বামীর উচিত— তাদের সন্তান জন্মের পর তার স্ত্রীর সাথেই থাকার চেষ্টা করা। তবে যদি তিনি তা করতে সক্ষম না হন তবে তার উচিত স্ত্রীর সাথে মোবাইল যোগে প্রতি মুহূর্তের খোঁজ খবর নেয়া এবং কোনো আত্মীয়কে তার কাছে থাকার জন্য প্রেরণ করা। স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে স্বামীর নিজেরই যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত এবং ঘরের কাজকর্মে স্ত্রীকে সহায়তা করা উচিত; যেনো স্ত্রী পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম করার সুযোগ পান এবং তার হারানো শক্তি আবার ফিরে পেতে সক্ষম হন। যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে ভাল ব্যবহার করেন; আল্লাহ তাআলা সে ব্যক্তিকে পরকালে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবেন।

ইবন আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- অর্থ : “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম, আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম ব্যক্তি।”৮১

একজন স্বামী; যিনি তার স্ত্রীর সাথে ভালো আচরণ করেন; তাদের পারিবারিক জীবন আরো প্রাণবন্ত এবং স্নেহ ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়। পরিবারের ভিত্তিগুলি আরো মজবুত হয়। এতে তার স্ত্রী, তার স্বামীর প্রেম ও ভালোবাসার অনুভূতি কখনোই ভুলতে পারেনা। ফলে, তাদের বিবাহের বন্ধন আরো দৃঢ় হয়।

টিকাঃ
৭৯. সুরা বাকারা: ১৮৭।
৮০. সুরা আর রূম: ২১।
৮১. ইবন মাজাহ, হাদিস নং: ১৯৭৭; জামে তিরমিজি, হাদিস নং: ৩৮৯৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px