📄 আস্থা অর্জন করুন
বিয়ের লগনে পাত্র-পাত্রীর প্রস্তাব-সম্মতির মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী দুইদেহ একপ্রাণে পরিণত হয়ে যায়। বিয়ের পবিত্র বন্ধনের মাধ্যমে দম্পতি-যুগলের প্রত্যেকেই একে অপরের কাছে এই বলে ওয়াদাবদ্ধ হয়ে যায় যে- জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাহায্য-সহযোগিতায় একে অপরের ছায়াসঙ্গী হয়েই আজীবন থাকবে।
উত্তমব্যক্তি কখনোই তার কৃত প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করে না। তার ওয়াদার হেরফের করে না। কালের পরিক্রমায় সময় হয়তো কখনো কখনো খারাপ যেতেই পারে। তাই বলে কথার নড়চড় করা মোটেই শোভনীয় নয়। তার স্ত্রী যখন নবযৌবনা তরুণী ছিল- তখন তার অন্যকোনো সুদর্শন যুবককে বেছে নেয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু সে তা না করে বর্তমান স্বামীকেই বেছে নিয়েছে। পরে স্ত্রীর বয়স একটু বেড়ে গেলে স্বামী যদি স্ত্রীকে ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে সুখের তালাশ করে, এর চাইতে বড় অকৃতজ্ঞতা ও নেমকহারামি আর কিছুই হতে পারে না। যে স্ত্রী তিলে তিলে একটি সংসার গড়ে তুলেছে, তিনি কিছুতেই এটি মেনে নিতে পারবেন না যে, তাঁর স্বামী পরনারীর পেছনে ঘুরঘুর করবে। যে স্ত্রী সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে সংসারের যাবতীয় কাজ নিজেই সম্পন্ন করে, সে কখনোই চাইবে না, অসুস্থতার সময় স্বামী তাকে এড়িয়ে চলবে, প্রেম-ভালোবাসা, যত্ন-আত্তি, সেবা-শুশ্রুষা থেকে বঞ্চিত করবে।
আপনি তো চারপেয়ে জন্তু নন যে- শুধু খাবেন-দাবেন আর আনন্দ-ফুর্তি, মৌজ-মাস্তি করেই জীবনটা পার করে দেবেন। আপনি তো রক্ত-মাংসে গড়া বোধ-অনুভূতি সম্পন্ন একজন সুবিবেচক মানুষ। আপনার জন্য কি কোনভাবেই সমিচীন হতে পারে; অশালীন কর্মের নিষিদ্ধ নেশায় বুঁদ হয়ে নিজ বৈধ স্ত্রীকে ফেলে পরনারীর সান্নিধ্যে গমন করা? নিজ স্ত্রীর হক আদায় না করে বারবনিতার দেহে সুখের সন্ধান করা? যদি অবলীলায় এমনটি করেই যান- তাহলে শুনে নিন; আপনার পতন অবশ্যম্ভাবী। শীঘ্রই আপনাকে এর চরম খেসারত দিতে হবে। ক্ষণিকের পুলক অনুভব করার জন্য অবৈধ প্রণয়গ্রহণ অচিরেই আপনাকে নিজের কাছেই অপরাধী করে তুলবে। যৌনকামনার মোহ কেটে যাওয়া মাত্রই আপনার অপরাধবোধ আপনার বিবেককে দংশন করে মানসিক অশান্তিতে ছেয়ে ফেলবে।
এছাড়া সামাজিকভাবেও আপনি হেয় প্রতিপন্নের সম্মুখীন হবেন। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলেই আপনাকে বাঁকা চোখে দেখবে। এমনকি আপনার সন্তান-সন্ততিও আপনাকে পিতা হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করবে। তারা আপনাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেনা। সন্তান যেখানে মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে, আপনার সন্তান সেখানে আপনার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।
সুতরাং স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অবহেলা নয়, বরং যথাযথ সেবা- শুশ্রুষা করে সুস্থ করে তোলা স্বামীর অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য। স্ত্রী যদি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তারপরও স্বামী তার স্ত্রীর ছায়া হয়ে পাশে থেকে সঙ্গ দিবে। স্ত্রীর দুঃসময়ে তাকে সাহচর্য দিয়ে সান্ত্বনার বাণী শুনাবে। একবার ভাবুন তো! তার জায়গায় যদি আপনি হতেন, আপনার দুঃসময়ে সে যদি আপনাকে ছেড়ে চলে যেত, তাহলে আপনার কাছে কেমন লাগতো? সুতরাং তার কাছে আপনি যেমন আচরণ আশা করেন, তার সাথে ঠিক সেরূপ ব্যবহারই করুন। হয়ে উঠুন তার একান্ত আস্তাভাজন ব্যক্তিত্বে। পরিণত হোন তার হরিহর আত্মা ও দিলজিগার সখাতে।
📄 শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষণ
নববিবাহিতা স্ত্রীকেও সাংসারিক কাজকর্মের মৌলিক বিষয়াদি মোটামুটি জানা থাকা চাই। স্ত্রী তার স্বামীর সেবা, রান্নাবান্না, ধোয়ামোছা, কাপড় সেলাই, পোশাক ইস্ত্রী, আসবাবপত্র সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা, মেহমানদের আদর-আপ্যায়ন করা, পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, সন্তানদের লালন পালন করা প্রভৃতি বিষয়ে সে স্বচ্ছ ধারণা রাখে- এতটুকু আশা প্রতিটি স্বামী তার স্ত্রীর কাছ থেকে করতেই পারে। তবে সবসময় সেই ধারণা বাস্তব নাও হতে পারে। কারণ- বর্তমান সময়কার অনেক মেয়েই আছেন; যাদের গৃহস্থালী বিষয়ক জ্ঞান একেবারে নেই বললেই চলে।
সুতরাং স্বামীরই উচিত স্ত্রীকে পরিপক্ক হয়ে উঠতে সাহায্য করা। কারণ সাধারণত স্বামীরা স্ত্রীদের চাইতে বয়সে বড় হয়ে থাকে, স্ত্রীদের তুলনায় তাদের অভিজ্ঞার ঝুলিও থাকে বেশ ভারী। একজন স্বামীই পারে স্ত্রীকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে, নিজের জানা বিষয়গুলো তাকে শেখাতে। নৈতিক গুণে বলিয়ান হওয়ার জন্য স্ত্রীকে সর্বদাই স্বামী অনুপ্রাণিত করবে। বিভিন্ন আত্মোন্নয়নমূলক বই কিনে দিবে। অবসরে বই পড়তে উৎসাহিত করবে। স্ত্রীর কোন ভুলত্রুটি নজরে এলে সেটি হিকমাহ' ও বুদ্ধিমত্তার সাথে সুন্দরভাবে ধরিয়ে দিবে। কঠোরতা ভাব দেখানো যাবেনা।
প্রত্যেক মুসলিম স্বামীর একথা মাথায় রাখা চাই- তার স্ত্রীও মুসলিম। কিন্তু সে বিবাহপূর্ব জীবনে ইসলামি অনুশাসন মেনে চলাতে অভ্যস্ত নাও হয়ে উঠতে পারে। ওজু-গোসল, পাক-পবিত্রতা, নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাতসহ ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোও হয়তো পিত্রালয় থেকে তার শেখা হয়ে ওঠেনি। তাই ইসলামের বিধিনিষেধের ব্যাপারে অবহিত করে সেই অনুসারে স্ত্রীকে জীবন যাপনে অভ্যস্ত করে তোলা স্বামীর দায়িত্ব। নিজে না পারলে অন্যের সহায়তা নিয়ে হলেও স্ত্রীকে শেখাতেই হবে।
কিয়ামতের দিন এমন স্ত্রীর স্বামীর সরকারকে আল্লাহর সামনে কঠোর জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। যে ব্যাপারে হুশিয়ারি করে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- অর্থ : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং পরিবার- পরিজনকে এমন আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।”৬৭ এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়া মাত্রই জনৈক সাহাবি কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন- “আমি নিজেকেই তো জাহান্নামের আগুন থেকে সর্বাংশে বাঁচাতে পারছিনা, তাহলে কীভাবে আমি স্ত্রী-সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখতে পারবো? তখন নবিজি বললেন- ইসলামের করণীয় বিষয়গুলো পালনে তাদেরকে গুরুত্বের সাথে আদেশ করলে এবং শরিয়তের বর্জনীয় বিষয়গুলো পালনে তাদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করলে আপনার উপর আরোপিত দায়িত্ব পালন হয়ে যাবে।"৬৮
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন- অর্থ : “মনে রেখো, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। প্রত্যেককেই নিজ নিজ পরিবারের সদস্য ও অধীনস্থ ব্যক্তিদের সম্পর্কে কৈফিয়ত দিতে হবে।”৬৯
টিকাঃ
৬৭. সূরা তাহরিম: ৬।
৬৮. তাফসিরে মারেফুল কুরআন, খ. ৪ পৃ: ১২৪।
৬৯. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৮৯৩।
📄 সন্তান গ্রহণ
কিছু দম্পতির দৈরথের অন্যতম একটি কারণ থাকে- সন্তানগ্রহণ। কোনো পরিবারে দেখা যায়; স্ত্রী সন্তান গ্রহণে আগ্রহী কিন্তু স্বামীর রয়ে যায় ঘোর আপত্তি। আবার কখনো এর উল্টোও হয়- স্বামী চাইছে কিন্তু স্ত্রী এখনই চাইছে না। তাদের এই মতানৈক্য অনেক সময় এতটাই ভয়াবহ রূপ ধারণ করে যে- তা শেষপর্যন্ত ডিভোর্স পর্যন্ত গড়ায়।
সন্তানের প্রতি অনুরাগ, বাচ্চা গ্রহণের প্রতি অদম্য ইচ্ছা প্রভৃতি হলো মানবজাতির স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। কারণ সন্তানলাভ মানবজনমকে সার্থক করে তোলে। এটি মানবজাতির সর্বোত্তম সম্পদ। সন্তানের মাধ্যমে বাবা-মা তাঁদের মরণের পরও যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকেন। সন্তানহীন দম্পতিযুগল একাকিত্বের যন্ত্রণায় ভোগেন। বার্ধক্যের সময় সহায়-সম্বলহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেন। একটি বাড়ি থাকবে; কিন্তু তা কচি কাঁচার কোলাহলে মুখরিত হবে না, এ যেনো জনমানবহীন বিরান ঘর। সন্তানলাভের মাধ্যমেই সংসারের ভিত্তিমূল সুদৃঢ় হয়, এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়। এক হাদিসে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- অর্থ : “তোমরা অধিক সন্তান প্রসবকারী স্ত্রীলোককে বিয়ে করো এবং বংশ বৃদ্ধি করো। কেননা, কিয়ামতের দিন তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে আমি অন্যান্য উম্মতের ওপর গর্ব করবো।"৭০
শিশুর প্রতি অনুরাগ ও মমত্ববোধ হলো- মানবজাতির স্বভাবজাত আবেগের প্রাণোচ্ছল বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু কিছু মানুষের মাঝে এই সহজাত স্নেহবাৎসল্যের ছিটেফোঁটাও নেই। শিশুদের ব্যাপারে তাদের মাঝে একপ্রকার বিরূপ মানসিকতা কাজ করে। আর্থিক দৈন্যদশার দোহাই দিয়ে তারা সন্তান গ্রহন থেকে বিরত থাকে। অথচ সমগ্র সৃষ্টজীবের জীবিকা নির্বাহের দায়িত্বভার স্বয়ং আল্লাহই নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- অর্থ : “বিশ্বজগতে বিদ্যমান প্রত্যেক প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর উপরই ন্যস্ত।”৭১
সন্তান লালন পালন করা একেবারেই সহজসাধ্য কাজ নয়। তাকে কোলে পিঠে করে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। তবে আনন্দের সাথে কাজ করে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে তা অনেকটাই সহনীয় হয়ে ওঠে। সন্তান প্রতিপালন অনেক উপভোগ্য হয়ে ওঠে। প্রকৃতির স্বভাবজাত ধারাকে লংঘন করে সকল দোষ স্ত্রীর উপর চাপিয়ে তাকে ডিভোর্স দেয়া কখনোই ন্যায়সংগত হতে পারেনা।
যথাশীঘ্র সন্তান নিয়ে ফেলাটা মঙ্গলজনক এবং বয়স বাড়ার আগে আগেই সন্তান নেয়ার পাঠটি চুকিয়ে ফেলা চাই। কারণ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে বলা যায় যে, মধ্যবয়সী মাতাপিতার সন্তান বার্ধক্যে উপনিত মাতাপিতার সন্তানের চাইতে পরিনত ও জ্ঞানী হয়।
অনেক দম্পতির মাঝে দেখা দেয় সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে দ্বৈরথ। কেউ চায় ছেলে, কেউ চায় মেয়ে। এই প্রসংগে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- অর্থ: "আকাশ মণ্ডলী ও বিশ্বচরাচরের উপর একচ্ছত্র ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। তিনি যা ইচ্ছা করেন, তাই সৃজন করেন। যাকে চান, কন্যাসন্তান দান করেন। যাকে চান, পুত্রসন্তান দান করেন। কাউকে পুত্র-কন্যা উভয় সন্তানই দান করেন। আবার কাউকে রাখেন সন্তানহীন দম্পতি।”
আলোচ্য আয়াত থেকে সহজেই অনুমিত হওয়া যায়, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে স্বামী স্ত্রীর কোন হাত নেই। বরং এটি হলো, আসমানী ফায়সালা। তাদের এই বর্বরতা জাহেলি যুগের নৃশংসতাকেও হার মানায়। যার কিঞ্চিত বর্ণনা পবিত্র কুরআনে চিত্রায়িত হয়েছে। অর্থ : “যখন তাদের কাউকে কোন সন্তান জন্মগ্রহণের সুসংবাদ দেয়া হতো, তখন রাগে-ক্ষোভে তাদের চেহারা পাংশু বর্ণ ধারণ করতো। তখন সে জনসমাগম এড়িয়ে চলতো। চক্ষুলজ্জার ভয়ে সে সমাজ, পাড়া-প্রতিবেশীদের থেকে পালিয়ে বেড়াতো। আহ, কতোইনা নিকৃষ্ট তার কলুষিত চিন্তাধারা!।”৭৩
কন্যা সন্তানের জনক-জননীর প্রতি সুসংবাদের বিবরণ দিয়ে নবিজি বলেন- যে ব্যক্তি তিন কন্যাসন্তানকে লালন পালন করবে, অথবা তিন সহোদরা বোনের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিবে; জান্নাত লাভ তার জন্য অবধারিত হয়ে যাবে। কয়েকটি দিক বিবেচনা করে পুত্রসন্তানের চাইতে কন্যাসন্তানই উত্তম। প্রথমত- ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা পিতামাতার সেবাযত্ন ও আদর আপ্যায়ন বেশী করে থাকে। দ্বিতীয়ত- ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের লালন পালনে মাতা-পিতার কম অর্থ ব্যয় হয়। তৃতীয়ত- নিজ ঔরসজাত ছেলে সন্তানের চাইতেও মেয়ের ঘরের নাতী-নাতনীরা তাদের নানাভাই ও নানুআপুর সেবা যত্নে বেশী মনোযোগী হয়ে থাকে।
টিকাঃ
৭০. ইবনে কাছির, খণ্ড: ৩ পৃষ্ঠা: ৩৮৩।
৭১. সূরা হুদ: ০৬।
৭৩. সূরা নাহল: ৫৮-৫৯।
📄 গর্ভাবস্থা এবং প্রসবকালীন সময়
গর্ভাবস্থার সময়কাল একটি শিশুর জীবনের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। মায়ের পুষ্টিকর খাওয়া দাওয়ার অভ্যাস, তার শারীরিক গতিবিধি, মানসিক আচরণ তার নিজের এবং গর্ভের শিশু উভয়ের জীবনের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর সুস্বাস্থ্য বা অসুস্থতা, সক্ষমতা বা দুর্বলতা, কদর্যতা বা সৌন্দর্য, ভালো বা খারাপ আচরণের কারণ এবং বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা অনেকটা মাতৃগর্ভেই প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন- অর্থ : “প্রত্যেক নারী গর্ভে যা ধারণ করে এবং জরায়ুতে যা কিছু কমে ও বাড়ে, আল্লাহ সব কিছু জানেন। তাঁর কাছে প্রত্যেক বস্তুরই একটি পরিমাণ আছে।”৭৪
একটি ভ্রুণ তার মাতৃগর্ভের স্বাভাবিক রক্ত চলাচল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ করে এবং বেড়ে উঠে। সুতরাং, একজন গর্ভবতী মায়ের খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর হওয়া উচিত যেনো তা শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদানগুলি সরবরাহ করতে পারে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন- অর্থ : “আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির উপাদান থেকে। তারপর তাকে স্খলিত বিন্দুরূপে এক সংরক্ষিত স্থানে রাখি। এরপর আমি সেই বিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করি। অতঃপর সেই জমাট রক্তকে গোশতপিন্ড বানিয়ে দিই। পর্যায়ক্রমে তাকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে। সুতরাং আল্লাহ বড়ই মহিমাময়, যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকর্তা।”৭৫
গর্ভাবস্থার এই পর্যায়ে বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের লোকদের জন্য একটি সুষম খাদ্যসূচি মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে একটি বড় দায়িত্ব স্বামীর উপর বর্তায় যার উচিত স্ত্রীর জন্য প্রয়োজনীয় সব খাবার সরবরাহের সর্বাত্মক চেষ্টা করা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “অর্থ : “তোমাদের উপর স্ত্রীদের অধিকার হলো তাদের জন্য পোশাক পরিচ্ছদ ও খাদ্য দ্রব্যের উত্তম ব্যবস্থা করা।”৭৬
টিকাঃ
৭৪. সুরা রাদ: ৮।
৭৫. সুরা মুমিনুন: ১২-১৪।
৭৬. সুনানে তিরমিজি: ১১০১।