📄 পারিবারিক অর্থনীতি
স্ত্রীর ভরনপোষণের ব্যবস্থা করা স্বামীর জন্য ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)। একজন স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং ওষুধের ব্যয় বহন করতে বাধ্য। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন- অর্থ : “বিত্তশালী স্বীয় বিত্তানুযায়ী ব্যয় করবে। আর যে সীমিত সম্পদের মালিক সে আল্লাহ প্রদত্ত সীমিত সম্পদ হতেই ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যে পরিমাণ দিয়েছেন, তারচেয়ে বেশি ব্যয় করার আদেশ কাউকে প্রদান করেন না।”৫৬
একজন জ্ঞানী ব্যক্তি তার উপার্জন অনুসারে ব্যয় করেন। তাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদাগুলো তালিকা করতে হবে এবং অগ্রাধিকার অনুসারে সেগুলো ক্রয় করতে হবে। হিসাব করে চলা একজন ব্যক্তিকে কখনোই ঋণগ্রস্ত বা দেউলিয়া হতে হয়না। আল্লাহ সুষম ব্যয়কে বিশ্বাসের নিদর্শন হিসাবে বিবেচনা করেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন- অর্থ : “ যখন তারা ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না, কার্পণ্যও করে না, বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়। ”৫৭ অর্থ : “হজরত জাবির রাযিআল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদ গ্রহীতা, দাতা ও সুদি কারবারের লেখক এবং সুদি লেনদেনের সাক্ষী সবার ওপর লানত করেছেন।”৫৮
উবাদা ইবনে সামিত রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- অর্থ : “সোনার বিনিময়ে সোনা, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম... পরিমাণে সমান সমান... হস্তান্তর পারস্পরিক হতে হবে।” আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহু থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন- অর্থ : “পরিমাণে সমান সমান না হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রূপার বিনিময়ে রূপা এবং স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন... তা পারস্পরিক হস্তান্তর হতে হবে। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এরূপই শুনেছি”৬০
আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- অর্থ : “নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মদিনায় আগমনকালে মদিনাবাসীরা এক বা দুই বছর মেয়াদে বিভিন্ন প্রকার ফল অগ্রিম ক্রয় করত। তিনি বলেন, যে কেউ খেজুর অগ্রিম ক্রয় করবে, সে যেন নির্ধারিত পরিমাপে বা নির্ধারিত ওজনে এবং নির্ধারিত মেয়াদে ক্রয় করে।”৬১ অপব্যয়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আল্লাহপাক বলেছেন- অর্থ : “হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপচয় কর না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।”৬২
অবশেষে এটি মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি যে- কৃপণতা অপব্যয়ের মতোই খারাপ। অর্থ : “হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। যিনি তোমাদের একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সহধর্মিনী সৃষ্টি করেছেন।Relatives আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।”৬৩ অর্থ সম্পদ হলো- ব্যয় করার জন্য এবং জীবনে চাহিদাগুলো পূরণ করার জন্য। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- অর্থ : “যে ব্যক্তি তার রিজিকের প্রশস্ততা ও হায়াত বৃদ্ধি চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”৬৪
একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই তার পরিবার এবং নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। সাহাবি মালিক ইবনে নাযলা রা.-এর ঘটনা— তিনি নিজেই বর্ণনা করছেন- একদিন আমি মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে বসে ছিলাম। তিনি দেখলেন আমার গায়ে ছেঁড়াফাটা কাপড়। তখন তিনি জানতে চাইলেন- অর্থ : “আপনার কি অর্থসম্পদ আছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সব রকম সম্পদই আমার রয়েছে। তিনি বললেন, "আল্লাহ যখন আপনাকে সম্পদ দিয়েছেন তাই এর চিহ্ন যেন আপনার ওপর প্রকাশ পায়।”৬৫ হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নন যিনি নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসারী এবং যথেষ্ট সম্পদের অধিকারী, তবে তার পরিবারকে তার সম্পদ থেকে দূরে রাখেন'।"৬৬
টিকাঃ
৫৬. সূরা: তালাক: ৭।
৫৭. সূরা ফুরকান: ২৫।
৫৮. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৪১৩৮।
৬০. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৫৯০; সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩৫০, ২০২৫।
৬১. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৩৯৭৩।
৬২. সূরা আরাফ: ৩১।
৬৩. সুরা নিসা: ০১।
৬৪. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ২০৬৭।
৬৫. সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং : ৫২২৩।
৬৬. তাবরানি, হাদিস নং: ২৩৪৩।
📄 শীঘ্রই ঘরে ফিরুন
একজন অবিবাহিত ব্যক্তি নিজ খেয়াল-খুশি মোতাবেক তার সময়গুলোকে অতিবাহিত করলেও বিয়ের পর তাকে অবশ্যই প্রতিটা কাজ রুটিনমাফিক সাজানো উচিত। স্ত্রীকে না জানিয়ে নিজ ইচ্ছা মোতাবেক সে কোনো জায়গায় অপ্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে পারে না। স্বামীর একটিবার ভাবা উচিত- স্ত্রী নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন সহ সকল আত্মীয় স্বজনকে বিদায় জানিয়ে, চিরচেনা আপন পরিবেশ ছেড়ে স্বামীর ঘরে এজন্য আসেনি যে- সে সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে যাবতীয় গৃহস্থালী কাজ করে যাবে। বরং প্রতিটি স্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ চাওয়া হলো- স্বামীই হবে তার জীবনসঙ্গী।
দুখ:জনক হলেও সত্য- এই জগতসংসারে এমন কতক অসাধু ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষেরও সন্ধান মেলে; যারা ঘরে স্ত্রী-সন্তান রেখে অন্য কোথাও গিয়ে রাত্রীযাপন করে। তারা যে প্রকারান্তরে স্ত্রী- সন্তানদের অধিকার খর্ব করছে; একথা কখনোই তাদের মনে উদয় হয়না। তাদের এই দুর্বিষহ যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে স্ত্রী একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটা দেয়। প্রতিটি আদর্শবান সচেতন স্বামীর অফিস শেষ করে সন্ধার আগেই ঘরে ফিরে আসা উচিৎ। স্ত্রী-সন্তানের মাঝেই তার প্রকৃত শান্তি খুঁজে নিতে হবে। এমনকি কোনো কোনো নৈশপ্রমোদ অনৈতিক ও গর্হিত না হলেও তা কখনোই পরিবারের জন্য কল্যাণ ও সুখ বয়ে আনবে না।
📄 আস্থা অর্জন করুন
বিয়ের লগনে পাত্র-পাত্রীর প্রস্তাব-সম্মতির মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী দুইদেহ একপ্রাণে পরিণত হয়ে যায়। বিয়ের পবিত্র বন্ধনের মাধ্যমে দম্পতি-যুগলের প্রত্যেকেই একে অপরের কাছে এই বলে ওয়াদাবদ্ধ হয়ে যায় যে- জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাহায্য-সহযোগিতায় একে অপরের ছায়াসঙ্গী হয়েই আজীবন থাকবে।
উত্তমব্যক্তি কখনোই তার কৃত প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করে না। তার ওয়াদার হেরফের করে না। কালের পরিক্রমায় সময় হয়তো কখনো কখনো খারাপ যেতেই পারে। তাই বলে কথার নড়চড় করা মোটেই শোভনীয় নয়। তার স্ত্রী যখন নবযৌবনা তরুণী ছিল- তখন তার অন্যকোনো সুদর্শন যুবককে বেছে নেয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু সে তা না করে বর্তমান স্বামীকেই বেছে নিয়েছে। পরে স্ত্রীর বয়স একটু বেড়ে গেলে স্বামী যদি স্ত্রীকে ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে সুখের তালাশ করে, এর চাইতে বড় অকৃতজ্ঞতা ও নেমকহারামি আর কিছুই হতে পারে না। যে স্ত্রী তিলে তিলে একটি সংসার গড়ে তুলেছে, তিনি কিছুতেই এটি মেনে নিতে পারবেন না যে, তাঁর স্বামী পরনারীর পেছনে ঘুরঘুর করবে। যে স্ত্রী সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে সংসারের যাবতীয় কাজ নিজেই সম্পন্ন করে, সে কখনোই চাইবে না, অসুস্থতার সময় স্বামী তাকে এড়িয়ে চলবে, প্রেম-ভালোবাসা, যত্ন-আত্তি, সেবা-শুশ্রুষা থেকে বঞ্চিত করবে।
আপনি তো চারপেয়ে জন্তু নন যে- শুধু খাবেন-দাবেন আর আনন্দ-ফুর্তি, মৌজ-মাস্তি করেই জীবনটা পার করে দেবেন। আপনি তো রক্ত-মাংসে গড়া বোধ-অনুভূতি সম্পন্ন একজন সুবিবেচক মানুষ। আপনার জন্য কি কোনভাবেই সমিচীন হতে পারে; অশালীন কর্মের নিষিদ্ধ নেশায় বুঁদ হয়ে নিজ বৈধ স্ত্রীকে ফেলে পরনারীর সান্নিধ্যে গমন করা? নিজ স্ত্রীর হক আদায় না করে বারবনিতার দেহে সুখের সন্ধান করা? যদি অবলীলায় এমনটি করেই যান- তাহলে শুনে নিন; আপনার পতন অবশ্যম্ভাবী। শীঘ্রই আপনাকে এর চরম খেসারত দিতে হবে। ক্ষণিকের পুলক অনুভব করার জন্য অবৈধ প্রণয়গ্রহণ অচিরেই আপনাকে নিজের কাছেই অপরাধী করে তুলবে। যৌনকামনার মোহ কেটে যাওয়া মাত্রই আপনার অপরাধবোধ আপনার বিবেককে দংশন করে মানসিক অশান্তিতে ছেয়ে ফেলবে।
এছাড়া সামাজিকভাবেও আপনি হেয় প্রতিপন্নের সম্মুখীন হবেন। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলেই আপনাকে বাঁকা চোখে দেখবে। এমনকি আপনার সন্তান-সন্ততিও আপনাকে পিতা হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করবে। তারা আপনাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেনা। সন্তান যেখানে মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে, আপনার সন্তান সেখানে আপনার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।
সুতরাং স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অবহেলা নয়, বরং যথাযথ সেবা- শুশ্রুষা করে সুস্থ করে তোলা স্বামীর অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য। স্ত্রী যদি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তারপরও স্বামী তার স্ত্রীর ছায়া হয়ে পাশে থেকে সঙ্গ দিবে। স্ত্রীর দুঃসময়ে তাকে সাহচর্য দিয়ে সান্ত্বনার বাণী শুনাবে। একবার ভাবুন তো! তার জায়গায় যদি আপনি হতেন, আপনার দুঃসময়ে সে যদি আপনাকে ছেড়ে চলে যেত, তাহলে আপনার কাছে কেমন লাগতো? সুতরাং তার কাছে আপনি যেমন আচরণ আশা করেন, তার সাথে ঠিক সেরূপ ব্যবহারই করুন। হয়ে উঠুন তার একান্ত আস্তাভাজন ব্যক্তিত্বে। পরিণত হোন তার হরিহর আত্মা ও দিলজিগার সখাতে।
📄 শিক্ষাদান ও প্রশিক্ষণ
নববিবাহিতা স্ত্রীকেও সাংসারিক কাজকর্মের মৌলিক বিষয়াদি মোটামুটি জানা থাকা চাই। স্ত্রী তার স্বামীর সেবা, রান্নাবান্না, ধোয়ামোছা, কাপড় সেলাই, পোশাক ইস্ত্রী, আসবাবপত্র সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা, মেহমানদের আদর-আপ্যায়ন করা, পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, সন্তানদের লালন পালন করা প্রভৃতি বিষয়ে সে স্বচ্ছ ধারণা রাখে- এতটুকু আশা প্রতিটি স্বামী তার স্ত্রীর কাছ থেকে করতেই পারে। তবে সবসময় সেই ধারণা বাস্তব নাও হতে পারে। কারণ- বর্তমান সময়কার অনেক মেয়েই আছেন; যাদের গৃহস্থালী বিষয়ক জ্ঞান একেবারে নেই বললেই চলে।
সুতরাং স্বামীরই উচিত স্ত্রীকে পরিপক্ক হয়ে উঠতে সাহায্য করা। কারণ সাধারণত স্বামীরা স্ত্রীদের চাইতে বয়সে বড় হয়ে থাকে, স্ত্রীদের তুলনায় তাদের অভিজ্ঞার ঝুলিও থাকে বেশ ভারী। একজন স্বামীই পারে স্ত্রীকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে, নিজের জানা বিষয়গুলো তাকে শেখাতে। নৈতিক গুণে বলিয়ান হওয়ার জন্য স্ত্রীকে সর্বদাই স্বামী অনুপ্রাণিত করবে। বিভিন্ন আত্মোন্নয়নমূলক বই কিনে দিবে। অবসরে বই পড়তে উৎসাহিত করবে। স্ত্রীর কোন ভুলত্রুটি নজরে এলে সেটি হিকমাহ' ও বুদ্ধিমত্তার সাথে সুন্দরভাবে ধরিয়ে দিবে। কঠোরতা ভাব দেখানো যাবেনা।
প্রত্যেক মুসলিম স্বামীর একথা মাথায় রাখা চাই- তার স্ত্রীও মুসলিম। কিন্তু সে বিবাহপূর্ব জীবনে ইসলামি অনুশাসন মেনে চলাতে অভ্যস্ত নাও হয়ে উঠতে পারে। ওজু-গোসল, পাক-পবিত্রতা, নামাজ-রোজা, হজ্জ-যাকাতসহ ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোও হয়তো পিত্রালয় থেকে তার শেখা হয়ে ওঠেনি। তাই ইসলামের বিধিনিষেধের ব্যাপারে অবহিত করে সেই অনুসারে স্ত্রীকে জীবন যাপনে অভ্যস্ত করে তোলা স্বামীর দায়িত্ব। নিজে না পারলে অন্যের সহায়তা নিয়ে হলেও স্ত্রীকে শেখাতেই হবে।
কিয়ামতের দিন এমন স্ত্রীর স্বামীর সরকারকে আল্লাহর সামনে কঠোর জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। যে ব্যাপারে হুশিয়ারি করে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- অর্থ : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং পরিবার- পরিজনকে এমন আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।”৬৭ এই আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়া মাত্রই জনৈক সাহাবি কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন- “আমি নিজেকেই তো জাহান্নামের আগুন থেকে সর্বাংশে বাঁচাতে পারছিনা, তাহলে কীভাবে আমি স্ত্রী-সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখতে পারবো? তখন নবিজি বললেন- ইসলামের করণীয় বিষয়গুলো পালনে তাদেরকে গুরুত্বের সাথে আদেশ করলে এবং শরিয়তের বর্জনীয় বিষয়গুলো পালনে তাদেরকে কঠোরভাবে নিষেধ করলে আপনার উপর আরোপিত দায়িত্ব পালন হয়ে যাবে।"৬৮
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন- অর্থ : “মনে রেখো, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। প্রত্যেককেই নিজ নিজ পরিবারের সদস্য ও অধীনস্থ ব্যক্তিদের সম্পর্কে কৈফিয়ত দিতে হবে।”৬৯
টিকাঃ
৬৭. সূরা তাহরিম: ৬।
৬৮. তাফসিরে মারেফুল কুরআন, খ. ৪ পৃ: ১২৪।
৬৯. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৮৯৩।