📄 স্ত্রীর সেবা শুশ্রুষা করুন
স্বামী এবং স্ত্রীকে সর্বদা একে অপরের প্রতি সহযোগিতাপ্রবণ এবং প্রেমময় হওয়া প্রয়োজন। তবে অসুস্থতা এবং অনুরূপ সমস্যার সময়গুলোতে এই প্রয়োজনগুলো আরো তীব্র হয়। একজন অসুস্থ ব্যক্তির যেমন ডাক্তার এবং ওষুধের প্রয়োজন; তেমনি সেবা শুশ্রুষা ও প্রেমময় যত্নের প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে বলেছেন— অর্থ : “তারা তোমাদের আবরণ এবং তোমরা তাদের আবরণ।”৪৮
একজন ভালো সেবিকা একজন রোগীকে তার গুরুতর অবস্থা থেকে খুব দ্রুত সুস্থ করে তুলতে পারে। একজন মহিলাও তার অসুস্থতায় তার স্বামীর কাছ থেকে সেবা শুশ্রুষা আশা করে। এমনকি তার বাবা-মায়ের চেয়েও বেশী প্রত্যাশা থাকে তার স্বামীর কাছে। যে মহিলা কাজের মেয়েটির মতো ঘরের সমস্ত কাজ করে, সে তার স্বামীর কাছে এমন প্রেমময় যত্নের দাবি রাখতেই পারে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- অর্থ : “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম, আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম ব্যক্তি।”৪৯
স্ত্রীর চিকিৎসা এবং ওষুধের জন্য টাকা ব্যয় করা স্বামীর অন্যতম একটি দায়িত্ব এবং স্ত্রীর প্রয়োজনীয় হাতখরচ দেয়া তার কর্তব্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন- অর্থ : “পুরুষগণ নারীদের প্রতি দায়িত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ একের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তারা তাদের সম্পদ হতে ব্যয়ও করে।”৫০ মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলেন- অর্থ : “তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। আর যদি তাকে তোমার অপছন্দও হয়, তবুও তুমি যা অপছন্দ করছ হয়তো আল্লাহ তাতে সীমাহীন কল্যাণ দিয়ে দেবেন।”৫১
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- অর্থ : “কোনো মুমিন পুরুষ মুমিন নারীর ওপর রাগান্বিত হবে না। কেননা যদি তার কোনো কাজ খারাপ মনে হয়, তাহলে তার এমন গুণও থাকবে, যার জন্য সে তার ওপর সন্তুষ্ট হতে পারবে।”৫২ কিছু পুরুষ আছে; তারা স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ যদি বেশী বলে মনে করে, তবে ইচ্ছে করেই চিকিৎসার গাফিলতি করে; যার কারণে অনেক সময় তাদের স্ত্রী মৃত্যুবরণ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন- অর্থ : “তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণকামী হও। কারণ, তারা পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্ট। তোমরা তাদের কল্যাণকামী হও এবং তাদের ব্যাপারে সৎ-উপদেশ গ্রহণ কর।”৫০
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন- অর্থ : “তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।”৫৪
হে জনাব! আপনি যদি নিজের সুখ এবং পরিবারের উন্নতিেত মনোযোগী হোন; তবে আপনার স্ত্রী অসুস্থ হলে অবশ্যই তাকে একজন ভালো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাকে যত্নসহকারে পরিচর্যা ও সেবা শুশ্রুষা করতে হবে। তিনি আপনার জীবনসঙ্গী এবং আপনার সন্তানের মা। তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করুন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করুন। আপনার ভালোবাসা আপনার স্ত্রী বিশেষভাবে লক্ষ করেন এবং আপনার প্রতি তারও ভালোবাসা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তিনি এজন্য আপনাকে নিয়ে গর্ববোধ করবেন এবং সুস্থ হওয়ার পর আপনার প্রতি এবং সন্তানদের প্রতি আরো বেশী মনোযোগী হবেন।
হযরত ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- অর্থ : “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম, আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম ব্যক্তি।”৫৫ রোগীর সেবার মাধ্যমে দুনিয়ায় পার্থিব সম্বল যেমন অর্জিত হয় তেমনি আখিরাতের সম্বলও অর্জিত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- রোগীর সেবা শুশ্রূষাকারী বেহেশতের ফলমূল আহরণে রত থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে না প্রত্যাবর্তন করে।
টিকাঃ
৪৮. সুরা বাকারা: ১৮৭।
৪৯. সুনানে ইবন মাজাহ, হাদিস নং : ১৯৭৭; সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৮৯৫।
৫০. সুরা নিসা: ৩৪।
৫১. সূরা নিসা: ১৯।
৫২. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৪৬৯।
৫০. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ১২২৩।
৫৪. সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং: ১১৬২।
৫৫. ইবনে মাজাহ: হাদিস নং: ১৯৭৭; সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং: ৩৮৯৫।
📄 পারিবারিক অর্থনীতি
স্ত্রীর ভরনপোষণের ব্যবস্থা করা স্বামীর জন্য ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)। একজন স্বামী তার স্ত্রীর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং ওষুধের ব্যয় বহন করতে বাধ্য। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন- অর্থ : “বিত্তশালী স্বীয় বিত্তানুযায়ী ব্যয় করবে। আর যে সীমিত সম্পদের মালিক সে আল্লাহ প্রদত্ত সীমিত সম্পদ হতেই ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যে পরিমাণ দিয়েছেন, তারচেয়ে বেশি ব্যয় করার আদেশ কাউকে প্রদান করেন না।”৫৬
একজন জ্ঞানী ব্যক্তি তার উপার্জন অনুসারে ব্যয় করেন। তাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদাগুলো তালিকা করতে হবে এবং অগ্রাধিকার অনুসারে সেগুলো ক্রয় করতে হবে। হিসাব করে চলা একজন ব্যক্তিকে কখনোই ঋণগ্রস্ত বা দেউলিয়া হতে হয়না। আল্লাহ সুষম ব্যয়কে বিশ্বাসের নিদর্শন হিসাবে বিবেচনা করেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন- অর্থ : “ যখন তারা ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না, কার্পণ্যও করে না, বরং তারা আছে এতদুভয়ের মাঝে মধ্যম পন্থায়। ”৫৭ অর্থ : “হজরত জাবির রাযিআল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদ গ্রহীতা, দাতা ও সুদি কারবারের লেখক এবং সুদি লেনদেনের সাক্ষী সবার ওপর লানত করেছেন।”৫৮
উবাদা ইবনে সামিত রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- অর্থ : “সোনার বিনিময়ে সোনা, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম... পরিমাণে সমান সমান... হস্তান্তর পারস্পরিক হতে হবে।” আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহু থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন- অর্থ : “পরিমাণে সমান সমান না হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রূপার বিনিময়ে রূপা এবং স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন... তা পারস্পরিক হস্তান্তর হতে হবে। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এরূপই শুনেছি”৬০
আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- অর্থ : “নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মদিনায় আগমনকালে মদিনাবাসীরা এক বা দুই বছর মেয়াদে বিভিন্ন প্রকার ফল অগ্রিম ক্রয় করত। তিনি বলেন, যে কেউ খেজুর অগ্রিম ক্রয় করবে, সে যেন নির্ধারিত পরিমাপে বা নির্ধারিত ওজনে এবং নির্ধারিত মেয়াদে ক্রয় করে।”৬১ অপব্যয়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আল্লাহপাক বলেছেন- অর্থ : “হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপচয় কর না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।”৬২
অবশেষে এটি মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি যে- কৃপণতা অপব্যয়ের মতোই খারাপ। অর্থ : “হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর। যিনি তোমাদের একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সহধর্মিনী সৃষ্টি করেছেন।Relatives আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।”৬৩ অর্থ সম্পদ হলো- ব্যয় করার জন্য এবং জীবনে চাহিদাগুলো পূরণ করার জন্য। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- অর্থ : “যে ব্যক্তি তার রিজিকের প্রশস্ততা ও হায়াত বৃদ্ধি চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”৬৪
একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই তার পরিবার এবং নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। সাহাবি মালিক ইবনে নাযলা রা.-এর ঘটনা— তিনি নিজেই বর্ণনা করছেন- একদিন আমি মসজিদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে বসে ছিলাম। তিনি দেখলেন আমার গায়ে ছেঁড়াফাটা কাপড়। তখন তিনি জানতে চাইলেন- অর্থ : “আপনার কি অর্থসম্পদ আছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সব রকম সম্পদই আমার রয়েছে। তিনি বললেন, "আল্লাহ যখন আপনাকে সম্পদ দিয়েছেন তাই এর চিহ্ন যেন আপনার ওপর প্রকাশ পায়।”৬৫ হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নন যিনি নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসারী এবং যথেষ্ট সম্পদের অধিকারী, তবে তার পরিবারকে তার সম্পদ থেকে দূরে রাখেন'।"৬৬
টিকাঃ
৫৬. সূরা: তালাক: ৭।
৫৭. সূরা ফুরকান: ২৫।
৫৮. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৪১৩৮।
৬০. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ১৫৯০; সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৩৫০, ২০২৫।
৬১. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৩৯৭৩।
৬২. সূরা আরাফ: ৩১।
৬৩. সুরা নিসা: ০১।
৬৪. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ২০৬৭।
৬৫. সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং : ৫২২৩।
৬৬. তাবরানি, হাদিস নং: ২৩৪৩।
📄 শীঘ্রই ঘরে ফিরুন
একজন অবিবাহিত ব্যক্তি নিজ খেয়াল-খুশি মোতাবেক তার সময়গুলোকে অতিবাহিত করলেও বিয়ের পর তাকে অবশ্যই প্রতিটা কাজ রুটিনমাফিক সাজানো উচিত। স্ত্রীকে না জানিয়ে নিজ ইচ্ছা মোতাবেক সে কোনো জায়গায় অপ্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে পারে না। স্বামীর একটিবার ভাবা উচিত- স্ত্রী নিজের বাবা-মা, ভাই-বোন সহ সকল আত্মীয় স্বজনকে বিদায় জানিয়ে, চিরচেনা আপন পরিবেশ ছেড়ে স্বামীর ঘরে এজন্য আসেনি যে- সে সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে যাবতীয় গৃহস্থালী কাজ করে যাবে। বরং প্রতিটি স্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ চাওয়া হলো- স্বামীই হবে তার জীবনসঙ্গী।
দুখ:জনক হলেও সত্য- এই জগতসংসারে এমন কতক অসাধু ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষেরও সন্ধান মেলে; যারা ঘরে স্ত্রী-সন্তান রেখে অন্য কোথাও গিয়ে রাত্রীযাপন করে। তারা যে প্রকারান্তরে স্ত্রী- সন্তানদের অধিকার খর্ব করছে; একথা কখনোই তাদের মনে উদয় হয়না। তাদের এই দুর্বিষহ যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে স্ত্রী একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটা দেয়। প্রতিটি আদর্শবান সচেতন স্বামীর অফিস শেষ করে সন্ধার আগেই ঘরে ফিরে আসা উচিৎ। স্ত্রী-সন্তানের মাঝেই তার প্রকৃত শান্তি খুঁজে নিতে হবে। এমনকি কোনো কোনো নৈশপ্রমোদ অনৈতিক ও গর্হিত না হলেও তা কখনোই পরিবারের জন্য কল্যাণ ও সুখ বয়ে আনবে না।
📄 আস্থা অর্জন করুন
বিয়ের লগনে পাত্র-পাত্রীর প্রস্তাব-সম্মতির মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী দুইদেহ একপ্রাণে পরিণত হয়ে যায়। বিয়ের পবিত্র বন্ধনের মাধ্যমে দম্পতি-যুগলের প্রত্যেকেই একে অপরের কাছে এই বলে ওয়াদাবদ্ধ হয়ে যায় যে- জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাহায্য-সহযোগিতায় একে অপরের ছায়াসঙ্গী হয়েই আজীবন থাকবে।
উত্তমব্যক্তি কখনোই তার কৃত প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করে না। তার ওয়াদার হেরফের করে না। কালের পরিক্রমায় সময় হয়তো কখনো কখনো খারাপ যেতেই পারে। তাই বলে কথার নড়চড় করা মোটেই শোভনীয় নয়। তার স্ত্রী যখন নবযৌবনা তরুণী ছিল- তখন তার অন্যকোনো সুদর্শন যুবককে বেছে নেয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু সে তা না করে বর্তমান স্বামীকেই বেছে নিয়েছে। পরে স্ত্রীর বয়স একটু বেড়ে গেলে স্বামী যদি স্ত্রীকে ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে সুখের তালাশ করে, এর চাইতে বড় অকৃতজ্ঞতা ও নেমকহারামি আর কিছুই হতে পারে না। যে স্ত্রী তিলে তিলে একটি সংসার গড়ে তুলেছে, তিনি কিছুতেই এটি মেনে নিতে পারবেন না যে, তাঁর স্বামী পরনারীর পেছনে ঘুরঘুর করবে। যে স্ত্রী সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে সংসারের যাবতীয় কাজ নিজেই সম্পন্ন করে, সে কখনোই চাইবে না, অসুস্থতার সময় স্বামী তাকে এড়িয়ে চলবে, প্রেম-ভালোবাসা, যত্ন-আত্তি, সেবা-শুশ্রুষা থেকে বঞ্চিত করবে।
আপনি তো চারপেয়ে জন্তু নন যে- শুধু খাবেন-দাবেন আর আনন্দ-ফুর্তি, মৌজ-মাস্তি করেই জীবনটা পার করে দেবেন। আপনি তো রক্ত-মাংসে গড়া বোধ-অনুভূতি সম্পন্ন একজন সুবিবেচক মানুষ। আপনার জন্য কি কোনভাবেই সমিচীন হতে পারে; অশালীন কর্মের নিষিদ্ধ নেশায় বুঁদ হয়ে নিজ বৈধ স্ত্রীকে ফেলে পরনারীর সান্নিধ্যে গমন করা? নিজ স্ত্রীর হক আদায় না করে বারবনিতার দেহে সুখের সন্ধান করা? যদি অবলীলায় এমনটি করেই যান- তাহলে শুনে নিন; আপনার পতন অবশ্যম্ভাবী। শীঘ্রই আপনাকে এর চরম খেসারত দিতে হবে। ক্ষণিকের পুলক অনুভব করার জন্য অবৈধ প্রণয়গ্রহণ অচিরেই আপনাকে নিজের কাছেই অপরাধী করে তুলবে। যৌনকামনার মোহ কেটে যাওয়া মাত্রই আপনার অপরাধবোধ আপনার বিবেককে দংশন করে মানসিক অশান্তিতে ছেয়ে ফেলবে।
এছাড়া সামাজিকভাবেও আপনি হেয় প্রতিপন্নের সম্মুখীন হবেন। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সকলেই আপনাকে বাঁকা চোখে দেখবে। এমনকি আপনার সন্তান-সন্ততিও আপনাকে পিতা হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করবে। তারা আপনাকে যথাযথ মূল্যায়ন করবেনা। সন্তান যেখানে মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে, আপনার সন্তান সেখানে আপনার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।
সুতরাং স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অবহেলা নয়, বরং যথাযথ সেবা- শুশ্রুষা করে সুস্থ করে তোলা স্বামীর অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য। স্ত্রী যদি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তারপরও স্বামী তার স্ত্রীর ছায়া হয়ে পাশে থেকে সঙ্গ দিবে। স্ত্রীর দুঃসময়ে তাকে সাহচর্য দিয়ে সান্ত্বনার বাণী শুনাবে। একবার ভাবুন তো! তার জায়গায় যদি আপনি হতেন, আপনার দুঃসময়ে সে যদি আপনাকে ছেড়ে চলে যেত, তাহলে আপনার কাছে কেমন লাগতো? সুতরাং তার কাছে আপনি যেমন আচরণ আশা করেন, তার সাথে ঠিক সেরূপ ব্যবহারই করুন। হয়ে উঠুন তার একান্ত আস্তাভাজন ব্যক্তিত্বে। পরিণত হোন তার হরিহর আত্মা ও দিলজিগার সখাতে।