📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 সমালোচকদের নিন্দনীয় কথাকে এড়িয়ে চলুন

📄 সমালোচকদের নিন্দনীয় কথাকে এড়িয়ে চলুন


কিছু লোকের অন্যের সম্পর্কে নিন্দা করার অভ্যাস রয়েছে। এই ঘৃণ্য আচরণ বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করে এবং পরিবারে ভাঙন ধরাতে পারে। এমনকি এটি হত্যাকাণ্ডের কারণও হতে পারে। এই ঘৃণ্য আচরণের অনেক কারণ রয়েছে। যেমন হিংসা, ক্রোধ, প্রতিহিংসা ও শত্রুতা। কিছু লোক নিজেদের অহংকারকে অক্ষুণ্ণ রাখতে, অন্যদের মনোযোগ নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করতে অথবা কারও প্রতি সহানুভূতি দেখাতে কুৎসা রটনা করে থাকে। কিন্তু, এটি খুব কমই দেখা যায় যে, কুৎসা রটানো হয়েছে ভালো উদ্দেশ্যে।

সুতরাং! একজন জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ব্যক্তির উচিত এই ধরনের কুৎসিত বিষয়কে এড়িয়ে চলা। অবশ্যই তিনি ওই ব্যক্তির বক্তব্যকে বিশ্লেষণ করবেন যাতে তিনি ঐ ব্যক্তির দুষ্ট উদ্দেশ্য দ্বারা প্রতারিত বা প্রভাবিত না হন।

পুরুষদের মনে রাখা উচিত যে- আপাত দৃষ্টিতে তাদের মা, বোন ও ভাইদের সাথে তাদের স্ত্রীদের সম্পর্ক ভালো বলে মনে হলেও তা কিছুক্ষেত্রে সত্যি নয়। এর কারণ হচ্ছে- বিয়ের আগে পিতা-মাতার সংসারে একজন পুরুষের খুব বেশী স্বাধীনতা থাকে না। তার পিতা মাতা, যারা তাকে বড় করে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তারা প্রত্যাশা করেন তাদের ছেলে বৃদ্ধ বয়সে তাদের জন্য সাহায্যকারী হবে। এমনকি ছেলেদের বিয়ে এবং স্বাধীনতা দেবার পরও পিতা-মাতা প্রত্যাশা করেন যে- তাদের ছেলে তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা অনুযায়ী চলবে। তারা আরও প্রত্যাশা করেন যে- তাদের ছেলে তাদের প্রতি অধিক মনোযোগী হবে তার স্ত্রীর চেয়েও। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তার উল্টোটা। যখন একজন পুরুষ তার বৈবাহিক জীবন শুরু করেন, তখন তিনি তার নতুন পরিবার, স্ত্রী এবং স্বাধীনতার প্রতি অধিক মনোযোগী হন। তিনি তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা অনুভব করতে শুরু করেন এবং তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। যতই তিনি এদিকে মনোনিবেশ করতে শুরু করেন, ততই তিনি তার পিতা-মাতা থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন।

এভাবেই তার মা ও বোনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা ভাবতে শুরু করে যে- নতুন বউ তাদের ছেলেকে তাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। এমনও হতে পারে তারা নতুন বউকে তাদের ছেলের পরিবার থেকে পৃথক করবার জন্য দোষারোপ করতে পারে।

কিছু মায়েরা ভাবেন যে- এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো স্ত্রীদের প্রতি তাদের ছেলেদের ভালোবাসা নিঃশেষ করাকে। এই ধরনের মায়েরা তাদের পুত্রবধূর দোষ বের করেন, তাদের সম্পর্কে কুৎসা রটান এবং তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন।

যদি একজন মানুষ সাধারণ অথবা সহজ সরল হন তবে তিনি তার মায়ের রটানো কুৎসা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে তিনি তার পরিবারের হাতের খেলার পুতুল হয়ে ওঠেন। পিতা-মাতার দ্বারা প্ররোচিত হয়ে তিনি তার স্ত্রীর দোষ ত্রুটি খুঁজে বের করেন এবং তার সাথে খারাপ আচরণ করতে শুরু করেন। তখন তিনি হরহামেশাই তার স্ত্রীর সমালোচনা করে থাকেন। ফলশ্রুতিতে পরিবারটিতে বিষণ্ণতা নেমে আসে। পুরুষদের মা ও বোনদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ফলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দেয়াল তৈরি হয়। এমনকি তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে একজন গৃহবধূ আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে পারে।

একবার এক বিবাহিত নারী তার বিবাহের দুই সপ্তাহের শেষ দিকে আলপিন খান। আলপিনগুলো তার পাকস্থলী থেকে বের করার পর তিনি হাসপাতালে বলেন- প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আমার বিবাহ হয়েছিল। যেই দিন আমি আমার স্বামীর ঘরে প্রবেশ করি, সেদিন আমিও অন্যান্য বিবাহিত নারীদের মতো নিজেকে সৌভাগ্যবান অনুভব করেছিলাম। কিন্তু দুদিন পরেই আমার স্বামী ও তার বোন আমার দোষ ত্রুটি খুঁজে বের করতে লাগলো। তাদের আচরণ আমার জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। অবশেষে আমি নিজেকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং কিছু আলপিন খাই।

আরেকটি ঘটনা- এক নারী তার স্বামীর ভাইদের কটু কথায় ভীষণ অপমানিত হয়। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে সে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এখানে একজন নতুন বিবাহিত নারী তার শাশুড়ি এবং স্বামীর ভাইদের মন্দ আচরণের দ্বারা এতটাই কষ্ট পেয়েছিল যে- সে নিজেকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে।

সুতরাং মা, বোন ও দেবরের সমালোচনা, মন্দ আচরণ এবং নিন্দনীয় ভাষা খুবই ক্ষতিকর হতে পারে এবং তাই একজন পুরুষের তাদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। অবশ্যই লোকদের মুখ বন্ধ করা সম্ভব নয় তবে তাদের বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করার জন্য অনুপ্রাণিত করা সম্ভব। একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর সম্পর্কে তার মা ও বোনের করা সমালোচনার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা- তারা অনেকক্ষেত্রেই সহানুভূতি বা ভালো উদ্দেশ্য থেকে এই ধরনের সমালোচনা করে না, বরং হিংসা, শত্রুতা ও স্বার্থপরতা থেকে করে। তাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, যখন সে তার স্ত্রীর অনেক কাছে চলে আসে তখন তার পরিবার তার স্ত্রীকে তাদের শত্রু এবং তাদের ছেলের দখলদার হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। ফলশ্রুতিতে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা যাতে বৃদ্ধি না পায় তার উপায় খুঁজে বেড়ায়।

প্রিয় জনাব!
সংক্ষেপে বলতে গেলে- এই ধরনের মা-বোনেরা এবং ভাইয়েরা আপনার সুখ নিয়ে চিন্তিত নয় বরং তাদের নিজেদের স্বার্থ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা যদি আপনার সুখ নিয়ে চিন্তিত থাকতো তবে তারা ভিন্ন কিছু করত। এটি খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার যে- পিতা-মাতারা যেই নারীর সাথে তার ছেলের বিয়ে দেন তার সম্পর্কে বিয়ের আগে ভূয়সী প্রশংসা করেন। কিন্তু একবার তাদের ছেলে সেই নারীকে বিয়ে করার পর তারা সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করেন।

জনাব! প্রতারিত হবেন না। আপনার পরিবার আপনার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যেই দোষ ত্রুটিগুলোর উল্লেখ করেছে সেগুলো প্রাসঙ্গিক নয়; এমনকি সেগুলো যদি তুচ্ছ ভুল হয়েও থাকে তবে মনে রাখবেন যে- কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। যাইহোক- আপনার মা, বোন অথবা যারা আপনার স্ত্রীর সমালোচনা করেন তারা কী ভুলের ঊর্ধ্বে? তাদের মন্দ কথায় মনোযোগ দিয়ে, আপনি আপনার পারিবারিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছেন। এমনকি আপনি এই অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে বিবাহ-বিচ্ছেদের আশ্রয় নিতে পারেন যা আপনার মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হবে।

পুনরায় বিবাহ করা সহজ নয়। এমনকি আপনি যদি অন্য নারীকে বিবাহ করেন স্পষ্টতই আপনি বলতে পারছেন না- তিনি আপনার আগের স্ত্রীর চেয়ে ভালো হবেন। আবার আপনি কীভাবে নিশ্চিত হন আপনার পরিবার তার সাথে আপনার আগের স্ত্রীর মত মন্দ আচরণ করবে না?

আপনার মা, বোন এবং অন্যদের জানানো উচিত যে- আপনি আপনার স্ত্রীকে আপনার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করেন এবং তাকে ভালোবাসেন। আপনাকে অবশ্যই তাদেরকে জানিয়ে দিতে হবে যে- তাদের উচিত আপনার স্ত্রীর সম্পর্কে কটু কথা বলা বন্ধ করা। যখন তারা আপনার দৃঢ় মনোভাব বুঝতে পারবে তখন তারা আপনাকে আর প্রভাবিত করতে চেষ্টা করবে না এবং হয়তোবা আপনিও আপনার স্ত্রী শান্তি খুঁজে পাবেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে কিছু মায়েরা ও বোনেরা সহজে হাল ছেড়ে দেয় না এবং আশ্রয় নেয় জঘন্য অভিযোগের। সমস্যাটা এতই মারাত্মক হয়ে উঠে যে- একজন ব্যক্তি তার মায়ের কথায় তার স্ত্রীকে তালাক অথবা খুন করতে পারে।

এক নব দম্পতি তাদের বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন আদালতে নিয়ে গিয়েছিল। লোকটি আদালতে বলেছিল- আমার স্ত্রী খুলনায় বসবাসরত আমার ভাইকে প্রেমের চিঠি লেখেন। গত রাতে আমি তার কয়েকটি চিঠি পেয়েছি। তার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, আমার শাশুড়ি মা এবং ননদ আমাকে পছন্দ করেন না এবং ক্রমাগত আমার দোষ ত্রুটি ধরায় ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু তাদের ওই দুষ্ট কাজগুলো আমার স্বামীকে প্রভাবিত করতে পারেনি, তাই তারা এখন কিছু নকল প্রেমের চিঠি আমার পোশাকের মধ্যে রেখেছে যাতে আমার স্বামী তাতে প্ররোচিত হয়ে আমাকে ডিভোর্স দেন। আদালত নব দম্পতির মধ্যে পুনরায় মিলন ঘটান এবং স্বামীকে পরামর্শ প্রদান করে যে- সে যেন তার মা ও বোনকে তার স্ত্রীর সম্পর্কে মন্দ কাজগুলো বন্ধ করতে বলে।

একজন চৌত্রিশ বছর বয়সী নারী নিজের ওপর এক বোতল কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রতিবেশীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি হাসপাতালে বলেন- আমি আমার স্বামী এবং তার মায়ের সাথে বাস করি। আমার শাশুড়ি ক্রমাগত আমার দোষ ত্রুটি খুঁজে বেড়ান। তিনি অজুহাত সৃষ্টি করেন এবং আমার উপর চড়াও হন। তিনি আমার ও আমার স্বামীর মধ্যে দেয়াল তৈরি করার একটি সুযোগও হাতছাড়া করেন না। গতকাল আমি কেনাকাটা করতে গিয়েছিলাম এবং দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বিদ্যালয়ের এক পুরানো সহপাঠীর সাথে দেখা হয়। আমরা কিছুক্ষণ কথা বলেছিলাম এবং তারপর আমি বাড়ি ফিরে আসি। আমার শাশুড়ি আমাকে প্রশ্ন করতে লাগলেন, বাড়ি ফিরতে আমার কেন এত দেরি হল? আমি ব্যাখ্যা করলাম কিন্তু তিনি তাতে সন্তুষ্ট হলেন না। তিনি বলেছিলেন যে আমি মিথ্যা বলছি এবং তিনি আরও বললেন যে- আমাদের রাস্তার কসাই এর সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে। আমি ভীষণ অপমানিত ও হতাশ হয়ে নিজেকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

সুতরাং! একজন ব্যক্তিকে সবসময় এই ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত, না হলে ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে। তার উচিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে ভালভাবে অনুসন্ধান করা এবং অন্ধভাবে কোনো সিদ্ধান্তে না আসা।

অবশ্যই একজন পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের লালন-পালন করতে অনেক পরিশ্রম ও দুর্ভোগ সহ্য করেন। এভাবেই সন্তানরা তাদের পিতামাতার সকল আশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। তারা প্রত্যাশা করেন তাদের সন্তানরা বৃদ্ধ বয়সে তাদের সাহায্যকারী হবে এবং তাদের প্রত্যাশা অবশ্যই যৌক্তিক। সুতরাং এটি মোটেও ঠিক নয় যে, যখন কেউ স্বাধীনতা পায় তখন সে তার পিতা মাতার ওপর তার অর্পিত কর্তব্যগুলো ভুলে যাবে। এমনকি তার বিবাহের পরেও পিতা মাতার ন্যায়সঙ্গত চাওয়াগুলো পূরণ করতে হবে। তাকে অবশ্যই তাদের যথাযথ সম্মান করতে হবে এবং তাদের সামনে নম্র থাকতে হবে। পিতা মাতার যদি অর্থ সাহায্য প্রয়োজন হয় তবে সে সাহায্য করতে দায়বদ্ধ। একজন পুরুষের তার পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত নয় এবং অবশ্যই তার বাড়িতে তাদের যত্ন করা উচিত। তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের বলবেন তার পিতা-মাতাকে সম্মান করতে। তিনি তার স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলবেন যে- যদি সে তার পিতা-মাতাকে সম্মান করে তবে তার পিতা-মাতা তাকে বিরক্ত করবেন না। বরং তার জন্য গর্বিত হবেন এবং তাকে সাহায্য করবেন।

অবশেষে নারীদের মনে করিয়ে দেয়া প্রয়োজন যে- তাদের স্বামীরা বিয়ের পর তাদের পিতা মাতাকে ত্যাগ করবে নারীদের এমন আশা করার কোন অধিকার নেই। এটা সম্ভবও নয়- ন্যায়সঙ্গতও নয়। একজন বুদ্ধিমান নারী তার শ্বশুরবাড়িতে এমনভাবে আচরণ করেন যাতে তারা তাকে তাদের নিজেদের পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলে মনে করেন। এটি কেবলমাত্র তখনই সম্ভব যখন তিনি তাদের সম্মান করেন, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ চান এবং তাদের সহায়তা করেন ইত্যাদি।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 তার ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন

📄 তার ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন


আল্লাহর নিষ্পাপ বান্দারা ছাড়া, (যাদেরকে পাপ থেকে বিরত রাখার ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা শপথ করেছেন) কোনো মানুষই নিখুঁত নয় এবং আমাদের সবার দ্বারাই কমবেশি ভুল-ভ্রান্তি হয়ে যায়। এটি সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; তা পুরুষ হোক কিংবা নারী। নারীদের ক্ষেত্রে ভুলগুলো হতে পারে, তার স্বামীর সাথে রুঢ় আচরণ করা, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করা, তার সাথে রুঢ় হওয়া বা অসতর্ক হওয়ার দরুন তার আর্থিক ক্ষতির কারণ হওয়া ইত্যাদি। অবশ্য এটা ঠিক যে, স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অপরকে সন্তুষ্ট রাখা, রাজি-খুশি রাখা এবং একে অপরের অসন্তুষ্টির কারণ না হওয়া। যাইহোক, এটা খুব কমই হয় যে একজন বা উভয়েই এই লাইন থেকে বিচ্যুত হয় না। কিছু মানুষ মনে করেন যে- স্ত্রীর ব্যাপারে তাদের কঠোর হওয়া উচিত; যেহেতু তারা বিশ্বাস করে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে স্ত্রীকে বিরত রাখার এটাই সঠিক পথ।

কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রায়শ এটার বিপরীত দৃশ্যই প্রদর্শন করে। একজন নারী, যার স্বামী তার সাথে কঠোর, তিনি হয়ত কিছু সময়ের জন্য তার সাথে মানিয়ে নেন, কিন্তু হতাশার ফলস্বরূপ শেষমেষ তিনি প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন। তিনি ধীরে ধীরে তার স্বামীর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে বিরোধ দেখান এবং সংসারের প্রতি উদাসীন হয়ে যান। এভাবেই একজন স্বামী যিনি তার স্ত্রীর ভুলের ব্যাপারে ক্ষমা সুলভ নন, তিনি প্রকৃতপক্ষে তার স্ত্রীকে উদ্ধত ও অবাধ্য হতে সাহায্য করছেন। তিনি হয়ত এমন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে যেতে পারেন, কিন্তু তাকে নিশ্চিতভাবেই ভাবতে হবে যে, জীবনের বাকিটা পথ তার স্ত্রীর সাথে তাকে পাড়ি দিতে হবে। বাকি জীবন পর্যন্ত তাদের উভয়কেই তিক্ততার মধ্যে বেঁচে থাকতে হবে তাদের। অথবা তিনি তার স্ত্রীকে একা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং যতটা সম্ভব তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে তার স্ত্রী ভাবতে পারেন তিনি হয়ত জিতে গেছেন এবং তার স্বামীর ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যেতে পারেন। এটা এমন পর্যায়েও পৌছাতে পারে যে স্ত্রী সুচিন্তিত ভাবে বড় কোনো ভুল করে ফেলার পরেও স্বামী এ ব্যাপারে চুপ থাকে। এভাবে তাদের দাম্পত্য-সম্পর্ক দিনে দিনে তিক্ত হয়ে যেতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা বিবাহবিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়। স্মরণ রাখতে হবে যে বিবাহবিচ্ছেদ উভয়পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর কারণ নতুন জীবন শুরু করা কোনো সহজ বিষয় নয়।

বিচ্ছেদের পরে যে সুখ আসবে সেটাও নিশ্চিত নয়। তাই, কঠোরতা সবসময় কার্যকর নয় এবং প্রায়শ অনাকাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে যা আমরা মিডিয়া/ফেসবুকের মাধ্যমে দেখতে পাই। তাই সর্বোত্কৃষ্ট উপায় হল মধ্যমপন্থা অবলম্বণ করা এবং যৌক্তিক আচরণ করা।

আপনার স্ত্রীর ছোটখাট এবং অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো ক্ষমা করে দিন। কারো ভুলের জন্য চিৎকার-চেঁচামেচির দরকার নেই; যা ভুলবশত হয়ে যায়। নিজেদের ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধ করার উদ্দেশ্যে অবশ্যই একজন অন্যজনকে উপদেশ দিতেই পারেন। মানুষ অজ্ঞতার দরুন অনেক ভুল করে ফেলে। তাই উত্তম হল ধৈর্যের সাথে নসিহা করা; যাতে তারা তাদের ভুল কাজগুলোকে বা ভুল ধারনাগুলোকে সংশোধন করে। অতঃপর উচিত নয় আপনার স্ত্রীকে জোর করে ভুল সংশোধনে বাধ্য করা, তার পরিবর্তে আপনার উচিত তাকে তার ভুলের ব্যাপারে যৌক্তিকভাবে বোঝানো এবং এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলোর ব্যাপারেও পরামর্শ দিন যাতে তিনি এই ভুলের আর পুনরাবৃত্তি না করেন। এতে শুধু পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই বৃদ্ধি পাবে না, অধিকন্তু ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তিও রোধ হবে। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ; একজন পুরুষের জন্য তার স্ত্রীর ভুলগুলোকে যৌক্তিকভাবে থামানোর। কিন্তু তিনি যদি ক্রমাগত ভুল করেই যান, আবারো তার উচিত তার ভুলগুলোকে ক্ষমা করে দেওয়া এবং তা এড়িয়ে যাওয়া। এটা ভুল হবে তাকে শাস্তি দেয়া এবং তাকে ভুল প্রমান করার চেষ্টা করা যাতে সে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য হয়। এটা এজন্যই যে মহিলারা প্রকৃতিগতভাবেই জেদী হয় এবং অযথা কড়াকড়ি তাদেরকে আগের চেয়ে আরো বেশি মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাতে উস্কানি দিতে পারে। এটা আরো অপ্রীতিকর এবং ভয়ঙ্কর ঘটনা বয়ে আনতে পারে- এমনকি বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

ইসলাম এই স্পর্শকাতর ব্যাপারটি উপলব্ধি করে পুরুষদেরকে মহিলাদের জন্য দায়িত্ববান করেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- অর্থ : 'তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।”

এটা আপনার স্ত্রীর অধিকার যে আপনি তার সাথে দয়ালু আচরন করবেন। কারণ- সে আপনার নিশ্চয়তায় থাকে, আপনার উচিত তার ভরণপোষণ করা এবং পোশাক পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করা এবং তার অজ্ঞতাবশত করা ভুল কাজগুলোকে মাফ করে দেয়া। একজন স্বামীকে অবশ্যই তার স্ত্রীর ভরনপোষণ এবং পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ক্ষমা করে দিতে হবে সেই সমস্ত ভুলগুলো যা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ে গেছে। যে তার অধীনস্তদের শাস্তি দেয় সে সম্মানিত হওয়ার বা উচ্চপদের আশা করতে পারে না।

স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার অন্যতম একটি কারণ হলো- পারিবারিক বিষয়গুলোতে শাশুড়ির নাক গলানো। একজন মা, তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার আগে আশা করে তার মেয়ের স্বামী সব দিক দিয়ে পারফেক্ট হবে এবং তার সাথেই বিয়ে দিতে তিনি অনুমতি দেন যেখানে ছেলেটি তার মেয়েকে সুখী রাখতে পারবে। অনেক সময় তিনি তার জামাতাকে আশানুরূপ পান এবং অনেক সময় পান না। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তিনি তাকে প্রভাবিত করতে চান যতক্ষন পর্যন্ত না তিনি তার কাছে গ্রহনযোগ্য না হোন এবং এই জন্য তিনি প্রতিটি উপায় অবলম্বন করেন। যেমন, তার এবং অন্যদের অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগান এবং বিভিন্ন ফন্দি করা শুরু করেন। তিনি মাঝেমাঝে সহানুভূতিশীল মাঝেমাঝে কঠোর হওয়ার ভান করেন। তিনি তার পথপ্রদর্শক এবং কাজের সংশোধক হিসেবে পাশে থাকতে পারেন বা অভিযোগও করতে পারেন।

যাইহোক, তার লক্ষ্য অর্জন করার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো তার মেয়েকে প্রভাবিত করা; যাতে সে তার স্বামীর অবাধ্য না হয়। কিন্তু বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, তিনি তার মেয়েকে ব্যবহার করেন এবং এমনভাবে নির্দেশ দেন যাতে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আচরণ করে। কাজেই স্বামী তার স্ত্রীকে একদিন একরকম অন্যদিন অন্যরকম হিসেবে পায়, একদিন কঠোর তো অন্যদিন সহনশীল। একজন অনভিজ্ঞ নারী এটা ভাবতে পারে যে তার মা তার বিয়ের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল এবং তাই তার উপদেশও মেনে চলতে হবে। এভাবে যদি তার স্বামী তার মায়ের (শাশুড়ির) মনমত না হয়, তখন সংসারে ঝগড়া শুরু হয়ে যায় যা ডিভোর্স এমনকি খুন পর্যন্ত গড়ায়। এই জন্যেই কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের সাথে তার শাশুড়িদের ভালো সম্পর্ক থাকে না। তারা তাদের স্ত্রীর অবাধ্যতার জন্য শাশুড়িদেরকে দায়ী করে এবং বিশ্বাস করে যে তাদের মায়েরা তাদের মেয়েদের এসব আচরণ/কথা শিখিয়ে দেয়।

একজন শাশুড়ি যখন তার মেয়ের জীবনে হস্তক্ষেপ করে এটা ভালোর উদ্দেশ্যে থেকেই, খারাপের জন্য নয়। তিনি সহানুভূতিশীল হতে চান; কিন্তু মাঝেমাঝে অজ্ঞতার দরুন কিছু ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন বা ক্ষতিকর উপদেশ দিয়ে থাকেন। তাই এই ব্যাপারে কারোরই বেশি প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত নয়। একজন মা এবং মেয়ের সম্পর্ক হলো একটি প্রাকৃতিক সম্পর্ক; যা সহজেই ভেঙে পড়ে না এবং যে তা ভাঙার চেষ্টা করবে নিশ্চিতভাবেই সে ব্যর্থ হবে। এই ধরনের চেষ্টা প্রকৃতি-বিরোধী এবং কোনভাবেই তা সমর্থনযোগ্য নয়। যেভাবে একজন স্বামী তার পিতা-মাতার ব্যপারে আগ্রহী তেমনিভাবে একজন স্ত্রীও। ফলত শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের সাথে উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখাই দুপক্ষের জন্যই কল্যাণকর। তাই সদাচরণ থেকে বিচ্যুত হবেন না, জ্ঞানী হোন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে সদয় আচরণ করুন নিজের দাম্পত্য জীবনকে সফল করার জন্য।

হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- অর্থ : “ 'তুমি যখন খাবে, তাকেও খাওয়াবে এবং তুমি যখন পরবে, তাকেও পরাবে। চেহারায় কখনো প্রহার করবে না, অসদাচরণ করবে না।' মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে দীর্ঘ বয়ানের একপর্যায়ে বলেছিলেন- অর্থ : 'অতএব, তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা রহমানকে ভয় করো, কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে গ্রহণ করেছ এবং তোমরা আল্লাহর হুকুমেই তাদের লজ্জাস্থানকে হালাল হিসেবে পেয়েছ।১০ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন- অর্থ : 'কোনো মুমিন পুরুষ মুমিন নারীর ওপর রুষ্ট হবে না, কেননা যদি তার কোনো কাজ খারাপ মনে হয়, তাহলে তার এমন গুণও থাকবে, যার ওপর সে সন্তুষ্ট হতে পারবে।১১

টিকাঃ
৮. সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং: ১১৬২।
১০. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১২১৮।
১১. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৪৬৯।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 মনোযোগী হোন

📄 মনোযোগী হোন


নারী জাতি হলো- আবেগপ্রবণ যারা যুক্তির ঊর্ধ্বে গিয়ে আবেগে বশীভূত হয়ে বেশী কাজ করে। তারা পুরুষদের তুলনায় সহজ সরল ও অধিক সংবেদনশীল। নারীদের প্রতারিত করা সহজ। কারণ আবেগ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে তাদের নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক ভাবে পুরুষদের থেকে কিছুটা কম। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গেলে নারীরা সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তারা খুব অল্পতেই আনন্দিত হয় বা মন খারাপ করে ফেলে। তাই স্বামী যদি তার স্ত্রীর আচার-আচরণ ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা করে ফেলতে পারে তাহলে অনেক বিপদকেই পাশ কাটানো যায়।

আর এই কারণেই পবিত্র ধর্ম ইসলাম পুরুষকে তার পরিবারের অভিভাবক হিসেবে মনোনীত করেছে এবং পরিবারের সকল দায়িত্ব তার উপর অর্পণ করেছে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন- অর্থ : 'পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক। কারণ- আল্লাহ তাদেরকে নারীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং পুরুষেরা নিজের ধন-সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা স্বামীর প্রতি অনুগত এবং বিনয়ী। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তারা তাঁর অধিকার ও গোপন বিষয় রক্ষা করে যেমন করে আল্লাহ গোপনীয় বিষয় গোপন রাখেন।১২

সুতরাং একজন পুরুষ; যাকে তার পরিবারের রক্ষণাবেক্ষক হিসেবে আল্লাহ পাঠিয়েছেন, কোনো ক্রমেই তার স্ত্রীর কর্মকাণ্ডের প্রতি উদাসীন হওয়া চলবে না। স্বামীর উচিত তার স্ত্রীর অন্যের সাথে চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের তত্ত্বাবধান করা, তার দৃষ্টি রাখতে হবে স্ত্রী যেন ভুল লোকের সাথে কোনো কাজে বা পথে পা না বাড়ায়। স্বামী তার স্ত্রীকে অসৎ সঙ্গের অপকারিতার বিষয়টি যুক্তি দিয়ে বুঝাবে। স্ত্রী যেন অশালীন বা যৌন উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলতে পারে এমন কোনো পোশাক পরে বাইরে যেতে না পারে তা স্বামীকে নিশ্চিত করতে হবে। স্ত্রীকে কোনো প্রকার খারাপ কর্মকাণ্ডে বা অপ্রয়োজনীয় আড্ডায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না।

একজন পুরুষ যে তার স্ত্রীকে অশালীন পোশাক পরে বাইরে বের হতে দিচ্ছে, যার তার সাথে বন্ধু হতে দিচ্ছে এবং খারাপ লোকদের আড্ডায় যেতে বারণ করছে না খুব সম্ভবত সে তার নিজের স্ত্রীর ও সন্তানদের সাথে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা করছে। এই ধরনের আচরণ তার স্ত্রীকে হাজারো রকমের বিপদজনক পরিস্থিতিতে পতিত করতে পারে যার থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যাবে না। পেট্রোল হলো দাহ্য তরল এবং এতে সহজেই আগুন ধরে যেতে পারে, তাই আগুনের সামনে পেট্রোল রেখে এতে আগুন ধরবে না ভেবে বসে থাকা বোকামো ভাবনা ছাড়া কিছুই না।

স্বামীকে হতে হবে মধ্যমপন্থী; তার মানে হলো- স্বামী কখনো তার স্ত্রীর প্রতি অতিরিক্ত কঠোর ও খিটখিটে হওয়া চলবে না আবার উদাসীনও হওয়া যাবে না। পুরুষদের মতো নারীদেরও স্বাধীনতা দরকার আছে এবং স্ত্রীর অধিকার রয়েছে এমন বিষয় গুলোতে তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। স্ত্রীকে অবশ্যই তার পিতা মাতা, ভাই-বোনদের সাথে যোগাযোগ করতে দিতে হবে এবং হালাল আত্মীয় স্বজনদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করার স্বাধীনতা প্রদান করতে হবে। কেন স্বামী তার স্ত্রীকে নিকট আত্মীয়ের সাথে দেখা করতে বাধা দিবে? সে কী জানে না যে অতিরিক্ত কঠোরতা তার স্ত্রীকে অবাধ্য হওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে?

টিকাঃ
১২. সুরা নিসা: ৩৪

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 একজন স্বামীর নৈতিক অধিকারসমূহ

📄 একজন স্বামীর নৈতিক অধিকারসমূহ


স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলেই একটা সুন্দর পরিবার গড়ে তোলে। একটি ছোটো, সুন্দর সংসার! যেখানে তারা একে অপরের সবটুকু সুখ-দুঃখ শেয়ার করে। পরিবারের বিভিন্ন কাজে তারা একে অপরকে সাহায্য করে। কিন্তু তারপরেও কোথায় যেনো একটা কমতি থেকেই যায়। মতের অমিল হয়ে যায় কোথাও না কোথাও। সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একজন পুরুষ মনে করে পরিবারের সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা একমাত্র তার হাতে। স্ত্রীর সাথে একপ্রকার অমিমাংসিত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। কেননা- স্ত্রীরও অধিকার আছে সিদ্ধান্ত নেয়ার; যেহেতু পরিবারটা দুজনের। আর এভাবেই ছোট ছোট ব্যাপার থেকে বড় ধরনের কলহ সৃষ্টি হয়, দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

পুরুষত্ব খাটিয়ে স্ত্রীর প্রতি অত্যাচার করার নজির কম নয়। অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রীকে কাজের হুকুম দিয়ে থাকে। যদি কোনোভাবে তাতে ভুল হয় বা স্ত্রী করতে দ্বিধা জানিয়ে থাকে সেক্ষেত্রে পুরুষটি অনেক সময় ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তাদের ধারণা- এটা তাদের অধিকার। তারা তাদের স্ত্রীর সাথে রাগ দেখাবে- হিংস্র হবে। প্রয়োজন হলে শারীরিক অত্যাচার করবে। কিন্তু এটা একদম ঠিক নয়। "আইয়্যাম এ জাহেলিয়াত" এর যুগে এমনটা ছিলো। তখন এভাবে নারীদের অত্যাচার করা হতো। কিন্তু আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই প্রথা নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন।

যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে আঘাত করে, সে তার আত্মার এমন ক্ষতি করে যে সে নানা জটিলতায় ভুগতে পারে; এবং পারিবারিক ভালবাসা এবং উষ্ণতা তার জীবন থেকে ক্রমশ দূরে যাবে। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- "হে পুরুষরা! তোমাদের মধ্যে কেউ তার স্ত্রীর গায়ে হাত তুললে অবশ্যই অনুতপ্ত হবে। তোমার স্ত্রী কে জড়িয়ে ধরবে।"১৩

ইসলাম কেবলমাত্র দুটি ক্ষেত্রে তার স্ত্রীকে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার পরামর্শ দেয় যেখানে তার অধিকার লঙ্ঘিত হয়- ১. একজন পুরুষকে ইসলামিকভাবে এবং আইনতভাবে তার স্ত্রীর কাছ থেকে যৌন তৃপ্তি- সন্তুষ্টি পেতে এবং এই সম্পর্ক থেকে সমস্ত প্রকার উপভোগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বামীর যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা স্ত্রীর কর্তব্য। যদি কোনো মহিলা তার স্বামীকে সন্তুষ্ট করতে অস্বীকার করে তবে স্বামীর প্রথমে তাকে সুশৃঙ্খলভাবে রাজি করানো উচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন- অর্থ : "এবং যাদের বিষয়ে তুমি আশঙ্কা করো তাদেরকে উপদেশ দাও এবং তাদেরকে নির্জন জায়গায় ছেড়ে দাও এবং তাদেরকে মারধর কর; তবে যদি তারা তোমার কথা মেনে চলে তবে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অনুসরণ করবে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী।”১৪

পুরুষদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলির কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়- ক. স্ত্রীর শারীরিক শাস্তির লক্ষ্য শিক্ষার উপায় হওয়া উচিত- প্রতিশোধ গ্রহণের নয়; খ. হাত দিয়ে বা হালকা কিছু ব্যবহার করে আঘাত করা উচিত; গ. ত্বকের বর্ণকে পরিবর্তনের জন্য যে পরিমাণ আঘাত করা যায় তা অনুমোদিত নয়; ঘ. শরীরের সংবেদনশীল অংশ যেমন চোখ, মাথা, পেট ইত্যাদি অংশে মারার অনুমতি নেই; ঙ. শারীরিক শাস্তি এতটা কঠোর হওয়া উচিত নয় যতটা দম্পতির মধ্যে ঘৃণা তৈরি করতে পারে। চ. কোনো ব্যক্তির যদি তার ইচ্ছার সাথে সম্মতি না রাখার বৈধ কারণ থাকে (অসুস্থতা বা পিরিয়ড); তবে তার স্ত্রীকে আঘাত করার অনুমতি নেই।১৫

একজন মহিলা তার স্বামীর অনুমতি পাওয়ার পরেই বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন। তবে এই ক্ষেত্রে পুরুষদের স্ত্রীর সাথে খুব বেশি কঠোর হওয়া উচিত নয়। তাদের পক্ষে যখনই সম্ভব প্রয়োজনে তাদের স্ত্রীদের বাইরে যেতে দেওয়া উচিত। তবে কোনো মহিলা স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নির্দিষ্ট কাজে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন- ক. ধর্মের প্রয়োজনীয় আদেশগুলি শেখার জন্য বাড়ির বাইরে যাওয়া। খ. হজের জন্য বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময়। গ. ঋণ/দেনা শোধ করার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া। ১৬

টিকাঃ
১৩. সুনানে দরামি: ৩২৪২।
১৪. সুরা নিসা: ৩৪।
১৫. ইমদাদুল ফতোয়া: ৩/১২০।
১৬. ইমদাদুল ফতোয়া: ৪/১২০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px