📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 তাকে সন্তুষ্ট রাখুন এবং সহানুভূতি প্রকাশ করুন

📄 তাকে সন্তুষ্ট রাখুন এবং সহানুভূতি প্রকাশ করুন


একজন মহিলাও পুরুষের মতো আবেগীয় পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়। সে আনন্দ, রাগ, দুঃখ ইত্যাদি অনুভব করে। সে ঘরের কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে; বাচ্চাদের উপর বিরক্ত হয়। এসময় অন্যদের সমালোচনা তাকে মর্মাহত করতে পারে। সে অন্যান্য মানুষের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে পারে। মোটকথা- অনেক সমস্যা মহিলাদের এমনভাবে প্রভাবিত করে যে- সে ছোটোখাটো ব্যাপারেও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এটা বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, কারণ তারা খুবই সংবেদনশীল এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পুরুষের চেয়ে তুলনামূলক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়। নারীরা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে তাকে সন্তুষ্ট রাখা উচিৎ। একজন বিশ্বস্ত জীবনসঙ্গী হিসেবে পুরুষের উচিৎ তাকে সান্ত্বনা দেওয়া কারণ তার স্ত্রী তাকে বিশ্বাস করে।

প্রিয় জনাব!
আপনি যখন আপনার স্ত্রীকে রাগান্বিত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান, তার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। ঘরে প্রবেশ করে যদি দেখেন সে আপনাকে সম্ভাষণ করছে না তাহলে আপনি তাকে সালাম দিন। এতে আপনি ছোট হয়ে যাবেন না। তার সাথে হাসিমুখে কথা বলুন। কর্কশ ভাষা পরিহার করুন। তার ঘরের কাজে সাহায্য করুন। তাকে কোনভাবেই রাগান্বিত করে তুলবেন না। তাকে উত্ত্যক্ত করবেন না। সে যদি কথা বলতে না চায়, তাকে তার মতো ছেড়ে দিন। তাকে বলবেন না, “তোমার কী সমস্যা?”

সে যদি কথা বলতে চায় তবে তার কথা শুনুন এবং তার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করুন। এমন ভান করুন যেন তার সমস্যা নিয়ে তার চেয়ে আপনি বেশি চিন্তিত। তাকে তার অভিযোগ প্রকাশ করতে দিন। অতঃপর একজন দয়ালু প্রিয়জনের মতো অর্থাৎ একজন সহানুভূতিশীল স্বামীর মতো তার সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করুন। তাকে ধৈর্য ধরতে উৎসাহ দিন। যুক্তি ও বুদ্ধি দ্বারা সমস্যাগুলো মামুলি হিসেবে তার কাছে তুলে ধরুন। তাকে সাহস দিন এবং তার বিরক্তির কারণ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুন। ধৈর্য ধরুন এবং তার সাথে যৌক্তিক আচরণ করুন। এতে সে অবশ্যই উপকৃত হবে এবং আপনাদের সাংসারিক জীবন দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। অপরপক্ষে আপনার ভুল আচরণ তাকে আরও ঝামেলায় ফেলে দিবে। এর প্রভাব আপনার উপরেও পড়বে এবং তা থেকে ঝগড়াবিবাদের সৃষ্টি হতে পারে যার ফলে আপনারা দুইজনেই কষ্ট পাবেন।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 দোষ ধরবেন না

📄 দোষ ধরবেন না


পৃথিবীতে কোনো মানুষই সর্ব গুণসম্পন্ন হয় না। কেউই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। কেউ হয়তো খুব মোটা বা কেউ হয়তো খুব চিকন। কারো মুখ বড় হতে পারে, আবার কারো নাক বা দাঁত বড় হতে পারে। কেউ নোংরা হতে পারে আবার কেউ অভদ্র, লাজুক, নির্লজ্জ, হতাশাগ্রস্ত, বদমেজাজি, হিংসুক, অলস বা স্বার্থপর হতে পারে। কোনো মহিলা হয়তো ভালো রান্না পারেন না আবার কেউ হয়তোবা অতিথি সেবায় খুব একটা পারদর্শী নয়। কেউ হয়তো খুব বেশি খায়, আবার কেউ হয়তো বেহিসেবী খরচ করে। মোটথায়- প্রত্যেকেই অসম্পূর্ণ এবং পৃথিবীতে কেউই নিখুঁত নয়। পুরুষেরা সাধারণত বিয়ের আগে তার স্ত্রীকে সমস্ত দোষত্রুটি মুক্ত হিসেবে কল্পনা করে। তারা ভুলে যায় যে, পৃথিবীতে কেউই ফেরেশতা নয়। এরপর এই লোকগুলো বিয়ের পর যখন দেখে তার স্ত্রী নিখুঁত নয়, তখন তাদের দোষ ধরতে শুরু করে। এমনকি তারা তাদের বিবাহকে ব্যর্থ হিসেবে বিবেচনা করে এবং নিজেদেরকে দুর্ভাগ্যবান ভাবতে থাকে। এসব লোকরা সবসময় হাহাকার করতে থাকে এবং তার স্ত্রীর ছোটখাটো ত্রুটিগুলোকেও রেহাই দেয় না। কিছু পুরুষ স্ত্রীদের দোষত্রুটিগুলোকে বাড়িয়ে পাহাড়সম করে তোলে।

তারা প্রায়ই এইসব দোষত্রুটি নিয়ে তাদের স্ত্রীদের অপমান করে। এমনকি তারা এইসমস্ত ব্যাপার বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজনদের কাছে তুলে ধরতেও দ্বিধা করে না। ফলশ্রুতিতে, তাদের দাম্পত্যজীবনে ফাটল ধরতে শুরু করে। মহিলাটি হতাশাগ্ৰস্ত হয়ে পড়ে এবং স্বামী ও সংসারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যে সবসময় তার সমালোচনা করে তার জন্য কিছু করাকে অর্থহীন ভাবতে থাকে যা তাকে প্রতিশোধ নেওয়ার দিকে ধাবিত করতে পারে।

এক লোক তার স্ত্রীকে বললো- “তোমার নাক কী বড় আর কুৎসিত!” তখন তার স্ত্রী জবাব দিলো- “তোমার বিশ্রী চেহারা আর বিকৃত আকৃতির মতো এতো খারাপ তো না!”

এরপর লোকটি বলতে পারে- “তোমার পায়ে কী দুর্গন্ধ!” মহিলা উত্তর দিলো- “তোমার বিশাল মুখ বন্ধ করো।”

ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। এই ধরনের কথাবার্তা চলতে থাকলে ঘর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়, দম্পতিরা নিজেদেরকে অপমান-অবমাননা করতে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে তারা তাদের জীবন উপভোগ করতে ব্যর্থ হয়। কারণ- যে ঘরে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা নেই, সে ঘর কখনো শান্তির নীড় হয়ে উঠতে পারে না। তদুপরি, যে পুরুষ নিজেকে দুর্ভাগ্যবান মনে করে এবং বিবাহকে ব্যর্থ মনে করে, সে তার স্ত্রীকে ক্রমাগত অপমান করতে থাকে যার ফলে তারা দুইজনই মানসিক অশান্তি এবং অন্যান্য অসুস্থতায় ভুগতে থাকে। ঝগড়া- বিবাদের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে এক সময় তালাক ও বিচ্ছেদের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

বিচ্ছেদ কারো জন্যই সুখকর না, বিশেষ করে যদি সেই পরিবারে সন্তান থাকে। আমাদের সমাজ তালাকপ্রাপ্তদের তেমন একটা সম্মান দেয় না। এছাড়া তালাকের ফলে একজন পুরুষের যে আর্থিক ক্ষতি হয়, তা সহজে পূরণ করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে সে যদি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চায় সেক্ষেত্রে তাকে অনেক খরচ করতে হয়। উপরন্তু, একজন তালাকপ্রাপ্ত লোক যে- তার আশানুরূপ স্ত্রী খুঁজে পাবে এটিও নিশ্চিত নয়। তার পূর্বে বিয়ে করার রেকর্ড থাকায় পুনরায় বিয়ে করাও সহজ হবে না। এমনকি সে পরবর্তীতে যেই মহিলাকে খুঁজে পাবে তারও অবশ্যই কিছু ত্রুটি থাকবে। এমনকি সে তার প্রথম স্ত্রীর চেয়েও খারাপ হতে পারে। তখন লোকটিকে তার সাথে মানিয়ে চলতে হবে। এর কারণ কিছু পুরুষ এতোটাই অহংকারী হয় যে নিজের ত্রুটি স্বীকার করতে চায় না। দ্বিতীয় বিয়েতে সন্তুষ্ট এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এমনও হয় যে, অনেক লোক তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যায়।

প্রিয় জনাব!
আপনি কেনো আপনার স্ত্রীর দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ান! কেনো ছোটখাটো ভুলগুলোকে এতো গুরুত্ব দেন! কেনো তার ঘাটতিগুলোকে এতো বড় করে দেখেন; যা আপনার পরিবারে অশান্তির কারণ হয়! আপনি কি কখনো কোনো নিখুঁত মহিলা দেখেছেন? আপনি নিজে কি নিখুঁত? এই তুচ্ছ দোষত্রুটিগুলো কী এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে যার কারণে আপনি নিজের বিবাহিত জীবনকে বিপন্ন করে তুলতে পারেন?

নিশ্চিত থাকুন যে- আপনি যদি যৌক্তিক ও ন্যায্য দৃষ্টিভঙ্গিতে আপনার স্ত্রীর দিকে নজর দেন তাহলে তার অনেক ভালো দিকও দেখতে পাবেন। তখন দেখবেন- তার গুণাবলী তার ঘাটতি ছাড়িয়ে যাবে। ইসলাম এই ধরনের আচরণকে ক্ষতিকর ও অপছন্দনীয় হিসেবে বিবেচনা করে এবং অন্যের দোষত্রুটি খুঁজে বের করতে নিষেধ করে।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 সমালোচকদের নিন্দনীয় কথাকে এড়িয়ে চলুন

📄 সমালোচকদের নিন্দনীয় কথাকে এড়িয়ে চলুন


কিছু লোকের অন্যের সম্পর্কে নিন্দা করার অভ্যাস রয়েছে। এই ঘৃণ্য আচরণ বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জনের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করে এবং পরিবারে ভাঙন ধরাতে পারে। এমনকি এটি হত্যাকাণ্ডের কারণও হতে পারে। এই ঘৃণ্য আচরণের অনেক কারণ রয়েছে। যেমন হিংসা, ক্রোধ, প্রতিহিংসা ও শত্রুতা। কিছু লোক নিজেদের অহংকারকে অক্ষুণ্ণ রাখতে, অন্যদের মনোযোগ নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করতে অথবা কারও প্রতি সহানুভূতি দেখাতে কুৎসা রটনা করে থাকে। কিন্তু, এটি খুব কমই দেখা যায় যে, কুৎসা রটানো হয়েছে ভালো উদ্দেশ্যে।

সুতরাং! একজন জ্ঞানী ও বিচক্ষণ ব্যক্তির উচিত এই ধরনের কুৎসিত বিষয়কে এড়িয়ে চলা। অবশ্যই তিনি ওই ব্যক্তির বক্তব্যকে বিশ্লেষণ করবেন যাতে তিনি ঐ ব্যক্তির দুষ্ট উদ্দেশ্য দ্বারা প্রতারিত বা প্রভাবিত না হন।

পুরুষদের মনে রাখা উচিত যে- আপাত দৃষ্টিতে তাদের মা, বোন ও ভাইদের সাথে তাদের স্ত্রীদের সম্পর্ক ভালো বলে মনে হলেও তা কিছুক্ষেত্রে সত্যি নয়। এর কারণ হচ্ছে- বিয়ের আগে পিতা-মাতার সংসারে একজন পুরুষের খুব বেশী স্বাধীনতা থাকে না। তার পিতা মাতা, যারা তাকে বড় করে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তারা প্রত্যাশা করেন তাদের ছেলে বৃদ্ধ বয়সে তাদের জন্য সাহায্যকারী হবে। এমনকি ছেলেদের বিয়ে এবং স্বাধীনতা দেবার পরও পিতা-মাতা প্রত্যাশা করেন যে- তাদের ছেলে তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা অনুযায়ী চলবে। তারা আরও প্রত্যাশা করেন যে- তাদের ছেলে তাদের প্রতি অধিক মনোযোগী হবে তার স্ত্রীর চেয়েও। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তার উল্টোটা। যখন একজন পুরুষ তার বৈবাহিক জীবন শুরু করেন, তখন তিনি তার নতুন পরিবার, স্ত্রী এবং স্বাধীনতার প্রতি অধিক মনোযোগী হন। তিনি তার স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা অনুভব করতে শুরু করেন এবং তার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। যতই তিনি এদিকে মনোনিবেশ করতে শুরু করেন, ততই তিনি তার পিতা-মাতা থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন।

এভাবেই তার মা ও বোনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা ভাবতে শুরু করে যে- নতুন বউ তাদের ছেলেকে তাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। এমনও হতে পারে তারা নতুন বউকে তাদের ছেলের পরিবার থেকে পৃথক করবার জন্য দোষারোপ করতে পারে।

কিছু মায়েরা ভাবেন যে- এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো স্ত্রীদের প্রতি তাদের ছেলেদের ভালোবাসা নিঃশেষ করাকে। এই ধরনের মায়েরা তাদের পুত্রবধূর দোষ বের করেন, তাদের সম্পর্কে কুৎসা রটান এবং তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন।

যদি একজন মানুষ সাধারণ অথবা সহজ সরল হন তবে তিনি তার মায়ের রটানো কুৎসা দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন। স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে তিনি তার পরিবারের হাতের খেলার পুতুল হয়ে ওঠেন। পিতা-মাতার দ্বারা প্ররোচিত হয়ে তিনি তার স্ত্রীর দোষ ত্রুটি খুঁজে বের করেন এবং তার সাথে খারাপ আচরণ করতে শুরু করেন। তখন তিনি হরহামেশাই তার স্ত্রীর সমালোচনা করে থাকেন। ফলশ্রুতিতে পরিবারটিতে বিষণ্ণতা নেমে আসে। পুরুষদের মা ও বোনদের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ফলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দেয়াল তৈরি হয়। এমনকি তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে একজন গৃহবধূ আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে পারে।

একবার এক বিবাহিত নারী তার বিবাহের দুই সপ্তাহের শেষ দিকে আলপিন খান। আলপিনগুলো তার পাকস্থলী থেকে বের করার পর তিনি হাসপাতালে বলেন- প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আমার বিবাহ হয়েছিল। যেই দিন আমি আমার স্বামীর ঘরে প্রবেশ করি, সেদিন আমিও অন্যান্য বিবাহিত নারীদের মতো নিজেকে সৌভাগ্যবান অনুভব করেছিলাম। কিন্তু দুদিন পরেই আমার স্বামী ও তার বোন আমার দোষ ত্রুটি খুঁজে বের করতে লাগলো। তাদের আচরণ আমার জীবনকে কঠিন করে তুলেছিল। অবশেষে আমি নিজেকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং কিছু আলপিন খাই।

আরেকটি ঘটনা- এক নারী তার স্বামীর ভাইদের কটু কথায় ভীষণ অপমানিত হয়। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে সে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এখানে একজন নতুন বিবাহিত নারী তার শাশুড়ি এবং স্বামীর ভাইদের মন্দ আচরণের দ্বারা এতটাই কষ্ট পেয়েছিল যে- সে নিজেকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে।

সুতরাং মা, বোন ও দেবরের সমালোচনা, মন্দ আচরণ এবং নিন্দনীয় ভাষা খুবই ক্ষতিকর হতে পারে এবং তাই একজন পুরুষের তাদের সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। অবশ্যই লোকদের মুখ বন্ধ করা সম্ভব নয় তবে তাদের বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করার জন্য অনুপ্রাণিত করা সম্ভব। একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর সম্পর্কে তার মা ও বোনের করা সমালোচনার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা- তারা অনেকক্ষেত্রেই সহানুভূতি বা ভালো উদ্দেশ্য থেকে এই ধরনের সমালোচনা করে না, বরং হিংসা, শত্রুতা ও স্বার্থপরতা থেকে করে। তাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, যখন সে তার স্ত্রীর অনেক কাছে চলে আসে তখন তার পরিবার তার স্ত্রীকে তাদের শত্রু এবং তাদের ছেলের দখলদার হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। ফলশ্রুতিতে তারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা যাতে বৃদ্ধি না পায় তার উপায় খুঁজে বেড়ায়।

প্রিয় জনাব!
সংক্ষেপে বলতে গেলে- এই ধরনের মা-বোনেরা এবং ভাইয়েরা আপনার সুখ নিয়ে চিন্তিত নয় বরং তাদের নিজেদের স্বার্থ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা যদি আপনার সুখ নিয়ে চিন্তিত থাকতো তবে তারা ভিন্ন কিছু করত। এটি খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার যে- পিতা-মাতারা যেই নারীর সাথে তার ছেলের বিয়ে দেন তার সম্পর্কে বিয়ের আগে ভূয়সী প্রশংসা করেন। কিন্তু একবার তাদের ছেলে সেই নারীকে বিয়ে করার পর তারা সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করেন।

জনাব! প্রতারিত হবেন না। আপনার পরিবার আপনার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যেই দোষ ত্রুটিগুলোর উল্লেখ করেছে সেগুলো প্রাসঙ্গিক নয়; এমনকি সেগুলো যদি তুচ্ছ ভুল হয়েও থাকে তবে মনে রাখবেন যে- কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। যাইহোক- আপনার মা, বোন অথবা যারা আপনার স্ত্রীর সমালোচনা করেন তারা কী ভুলের ঊর্ধ্বে? তাদের মন্দ কথায় মনোযোগ দিয়ে, আপনি আপনার পারিবারিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছেন। এমনকি আপনি এই অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে বিবাহ-বিচ্ছেদের আশ্রয় নিতে পারেন যা আপনার মানসিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হবে।

পুনরায় বিবাহ করা সহজ নয়। এমনকি আপনি যদি অন্য নারীকে বিবাহ করেন স্পষ্টতই আপনি বলতে পারছেন না- তিনি আপনার আগের স্ত্রীর চেয়ে ভালো হবেন। আবার আপনি কীভাবে নিশ্চিত হন আপনার পরিবার তার সাথে আপনার আগের স্ত্রীর মত মন্দ আচরণ করবে না?

আপনার মা, বোন এবং অন্যদের জানানো উচিত যে- আপনি আপনার স্ত্রীকে আপনার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করেন এবং তাকে ভালোবাসেন। আপনাকে অবশ্যই তাদেরকে জানিয়ে দিতে হবে যে- তাদের উচিত আপনার স্ত্রীর সম্পর্কে কটু কথা বলা বন্ধ করা। যখন তারা আপনার দৃঢ় মনোভাব বুঝতে পারবে তখন তারা আপনাকে আর প্রভাবিত করতে চেষ্টা করবে না এবং হয়তোবা আপনিও আপনার স্ত্রী শান্তি খুঁজে পাবেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে কিছু মায়েরা ও বোনেরা সহজে হাল ছেড়ে দেয় না এবং আশ্রয় নেয় জঘন্য অভিযোগের। সমস্যাটা এতই মারাত্মক হয়ে উঠে যে- একজন ব্যক্তি তার মায়ের কথায় তার স্ত্রীকে তালাক অথবা খুন করতে পারে।

এক নব দম্পতি তাদের বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন আদালতে নিয়ে গিয়েছিল। লোকটি আদালতে বলেছিল- আমার স্ত্রী খুলনায় বসবাসরত আমার ভাইকে প্রেমের চিঠি লেখেন। গত রাতে আমি তার কয়েকটি চিঠি পেয়েছি। তার স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, আমার শাশুড়ি মা এবং ননদ আমাকে পছন্দ করেন না এবং ক্রমাগত আমার দোষ ত্রুটি ধরায় ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু তাদের ওই দুষ্ট কাজগুলো আমার স্বামীকে প্রভাবিত করতে পারেনি, তাই তারা এখন কিছু নকল প্রেমের চিঠি আমার পোশাকের মধ্যে রেখেছে যাতে আমার স্বামী তাতে প্ররোচিত হয়ে আমাকে ডিভোর্স দেন। আদালত নব দম্পতির মধ্যে পুনরায় মিলন ঘটান এবং স্বামীকে পরামর্শ প্রদান করে যে- সে যেন তার মা ও বোনকে তার স্ত্রীর সম্পর্কে মন্দ কাজগুলো বন্ধ করতে বলে।

একজন চৌত্রিশ বছর বয়সী নারী নিজের ওপর এক বোতল কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রতিবেশীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি হাসপাতালে বলেন- আমি আমার স্বামী এবং তার মায়ের সাথে বাস করি। আমার শাশুড়ি ক্রমাগত আমার দোষ ত্রুটি খুঁজে বেড়ান। তিনি অজুহাত সৃষ্টি করেন এবং আমার উপর চড়াও হন। তিনি আমার ও আমার স্বামীর মধ্যে দেয়াল তৈরি করার একটি সুযোগও হাতছাড়া করেন না। গতকাল আমি কেনাকাটা করতে গিয়েছিলাম এবং দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বিদ্যালয়ের এক পুরানো সহপাঠীর সাথে দেখা হয়। আমরা কিছুক্ষণ কথা বলেছিলাম এবং তারপর আমি বাড়ি ফিরে আসি। আমার শাশুড়ি আমাকে প্রশ্ন করতে লাগলেন, বাড়ি ফিরতে আমার কেন এত দেরি হল? আমি ব্যাখ্যা করলাম কিন্তু তিনি তাতে সন্তুষ্ট হলেন না। তিনি বলেছিলেন যে আমি মিথ্যা বলছি এবং তিনি আরও বললেন যে- আমাদের রাস্তার কসাই এর সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে। আমি ভীষণ অপমানিত ও হতাশ হয়ে নিজেকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

সুতরাং! একজন ব্যক্তিকে সবসময় এই ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত, না হলে ভয়ঙ্কর পরিণতি হতে পারে। তার উচিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে ভালভাবে অনুসন্ধান করা এবং অন্ধভাবে কোনো সিদ্ধান্তে না আসা।

অবশ্যই একজন পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের লালন-পালন করতে অনেক পরিশ্রম ও দুর্ভোগ সহ্য করেন। এভাবেই সন্তানরা তাদের পিতামাতার সকল আশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। তারা প্রত্যাশা করেন তাদের সন্তানরা বৃদ্ধ বয়সে তাদের সাহায্যকারী হবে এবং তাদের প্রত্যাশা অবশ্যই যৌক্তিক। সুতরাং এটি মোটেও ঠিক নয় যে, যখন কেউ স্বাধীনতা পায় তখন সে তার পিতা মাতার ওপর তার অর্পিত কর্তব্যগুলো ভুলে যাবে। এমনকি তার বিবাহের পরেও পিতা মাতার ন্যায়সঙ্গত চাওয়াগুলো পূরণ করতে হবে। তাকে অবশ্যই তাদের যথাযথ সম্মান করতে হবে এবং তাদের সামনে নম্র থাকতে হবে। পিতা মাতার যদি অর্থ সাহায্য প্রয়োজন হয় তবে সে সাহায্য করতে দায়বদ্ধ। একজন পুরুষের তার পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত নয় এবং অবশ্যই তার বাড়িতে তাদের যত্ন করা উচিত। তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের বলবেন তার পিতা-মাতাকে সম্মান করতে। তিনি তার স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলবেন যে- যদি সে তার পিতা-মাতাকে সম্মান করে তবে তার পিতা-মাতা তাকে বিরক্ত করবেন না। বরং তার জন্য গর্বিত হবেন এবং তাকে সাহায্য করবেন।

অবশেষে নারীদের মনে করিয়ে দেয়া প্রয়োজন যে- তাদের স্বামীরা বিয়ের পর তাদের পিতা মাতাকে ত্যাগ করবে নারীদের এমন আশা করার কোন অধিকার নেই। এটা সম্ভবও নয়- ন্যায়সঙ্গতও নয়। একজন বুদ্ধিমান নারী তার শ্বশুরবাড়িতে এমনভাবে আচরণ করেন যাতে তারা তাকে তাদের নিজেদের পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলে মনে করেন। এটি কেবলমাত্র তখনই সম্ভব যখন তিনি তাদের সম্মান করেন, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ চান এবং তাদের সহায়তা করেন ইত্যাদি।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 তার ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন

📄 তার ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন


আল্লাহর নিষ্পাপ বান্দারা ছাড়া, (যাদেরকে পাপ থেকে বিরত রাখার ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা শপথ করেছেন) কোনো মানুষই নিখুঁত নয় এবং আমাদের সবার দ্বারাই কমবেশি ভুল-ভ্রান্তি হয়ে যায়। এটি সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; তা পুরুষ হোক কিংবা নারী। নারীদের ক্ষেত্রে ভুলগুলো হতে পারে, তার স্বামীর সাথে রুঢ় আচরণ করা, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করা, তার সাথে রুঢ় হওয়া বা অসতর্ক হওয়ার দরুন তার আর্থিক ক্ষতির কারণ হওয়া ইত্যাদি। অবশ্য এটা ঠিক যে, স্বামী-স্ত্রীর উচিত একে অপরকে সন্তুষ্ট রাখা, রাজি-খুশি রাখা এবং একে অপরের অসন্তুষ্টির কারণ না হওয়া। যাইহোক, এটা খুব কমই হয় যে একজন বা উভয়েই এই লাইন থেকে বিচ্যুত হয় না। কিছু মানুষ মনে করেন যে- স্ত্রীর ব্যাপারে তাদের কঠোর হওয়া উচিত; যেহেতু তারা বিশ্বাস করে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে স্ত্রীকে বিরত রাখার এটাই সঠিক পথ।

কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রায়শ এটার বিপরীত দৃশ্যই প্রদর্শন করে। একজন নারী, যার স্বামী তার সাথে কঠোর, তিনি হয়ত কিছু সময়ের জন্য তার সাথে মানিয়ে নেন, কিন্তু হতাশার ফলস্বরূপ শেষমেষ তিনি প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন। তিনি ধীরে ধীরে তার স্বামীর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে বিরোধ দেখান এবং সংসারের প্রতি উদাসীন হয়ে যান। এভাবেই একজন স্বামী যিনি তার স্ত্রীর ভুলের ব্যাপারে ক্ষমা সুলভ নন, তিনি প্রকৃতপক্ষে তার স্ত্রীকে উদ্ধত ও অবাধ্য হতে সাহায্য করছেন। তিনি হয়ত এমন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে যেতে পারেন, কিন্তু তাকে নিশ্চিতভাবেই ভাবতে হবে যে, জীবনের বাকিটা পথ তার স্ত্রীর সাথে তাকে পাড়ি দিতে হবে। বাকি জীবন পর্যন্ত তাদের উভয়কেই তিক্ততার মধ্যে বেঁচে থাকতে হবে তাদের। অথবা তিনি তার স্ত্রীকে একা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং যতটা সম্ভব তার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে তার স্ত্রী ভাবতে পারেন তিনি হয়ত জিতে গেছেন এবং তার স্বামীর ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যেতে পারেন। এটা এমন পর্যায়েও পৌছাতে পারে যে স্ত্রী সুচিন্তিত ভাবে বড় কোনো ভুল করে ফেলার পরেও স্বামী এ ব্যাপারে চুপ থাকে। এভাবে তাদের দাম্পত্য-সম্পর্ক দিনে দিনে তিক্ত হয়ে যেতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা বিবাহবিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়। স্মরণ রাখতে হবে যে বিবাহবিচ্ছেদ উভয়পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর কারণ নতুন জীবন শুরু করা কোনো সহজ বিষয় নয়।

বিচ্ছেদের পরে যে সুখ আসবে সেটাও নিশ্চিত নয়। তাই, কঠোরতা সবসময় কার্যকর নয় এবং প্রায়শ অনাকাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনে যা আমরা মিডিয়া/ফেসবুকের মাধ্যমে দেখতে পাই। তাই সর্বোত্কৃষ্ট উপায় হল মধ্যমপন্থা অবলম্বণ করা এবং যৌক্তিক আচরণ করা।

আপনার স্ত্রীর ছোটখাট এবং অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো ক্ষমা করে দিন। কারো ভুলের জন্য চিৎকার-চেঁচামেচির দরকার নেই; যা ভুলবশত হয়ে যায়। নিজেদের ভুলের পুনরাবৃত্তি রোধ করার উদ্দেশ্যে অবশ্যই একজন অন্যজনকে উপদেশ দিতেই পারেন। মানুষ অজ্ঞতার দরুন অনেক ভুল করে ফেলে। তাই উত্তম হল ধৈর্যের সাথে নসিহা করা; যাতে তারা তাদের ভুল কাজগুলোকে বা ভুল ধারনাগুলোকে সংশোধন করে। অতঃপর উচিত নয় আপনার স্ত্রীকে জোর করে ভুল সংশোধনে বাধ্য করা, তার পরিবর্তে আপনার উচিত তাকে তার ভুলের ব্যাপারে যৌক্তিকভাবে বোঝানো এবং এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলোর ব্যাপারেও পরামর্শ দিন যাতে তিনি এই ভুলের আর পুনরাবৃত্তি না করেন। এতে শুধু পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই বৃদ্ধি পাবে না, অধিকন্তু ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তিও রোধ হবে। এটাই বুদ্ধিমানের কাজ; একজন পুরুষের জন্য তার স্ত্রীর ভুলগুলোকে যৌক্তিকভাবে থামানোর। কিন্তু তিনি যদি ক্রমাগত ভুল করেই যান, আবারো তার উচিত তার ভুলগুলোকে ক্ষমা করে দেওয়া এবং তা এড়িয়ে যাওয়া। এটা ভুল হবে তাকে শাস্তি দেয়া এবং তাকে ভুল প্রমান করার চেষ্টা করা যাতে সে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য হয়। এটা এজন্যই যে মহিলারা প্রকৃতিগতভাবেই জেদী হয় এবং অযথা কড়াকড়ি তাদেরকে আগের চেয়ে আরো বেশি মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাতে উস্কানি দিতে পারে। এটা আরো অপ্রীতিকর এবং ভয়ঙ্কর ঘটনা বয়ে আনতে পারে- এমনকি বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

ইসলাম এই স্পর্শকাতর ব্যাপারটি উপলব্ধি করে পুরুষদেরকে মহিলাদের জন্য দায়িত্ববান করেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- অর্থ : 'তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।”

এটা আপনার স্ত্রীর অধিকার যে আপনি তার সাথে দয়ালু আচরন করবেন। কারণ- সে আপনার নিশ্চয়তায় থাকে, আপনার উচিত তার ভরণপোষণ করা এবং পোশাক পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করা এবং তার অজ্ঞতাবশত করা ভুল কাজগুলোকে মাফ করে দেয়া। একজন স্বামীকে অবশ্যই তার স্ত্রীর ভরনপোষণ এবং পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ক্ষমা করে দিতে হবে সেই সমস্ত ভুলগুলো যা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ে গেছে। যে তার অধীনস্তদের শাস্তি দেয় সে সম্মানিত হওয়ার বা উচ্চপদের আশা করতে পারে না।

স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার অন্যতম একটি কারণ হলো- পারিবারিক বিষয়গুলোতে শাশুড়ির নাক গলানো। একজন মা, তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার আগে আশা করে তার মেয়ের স্বামী সব দিক দিয়ে পারফেক্ট হবে এবং তার সাথেই বিয়ে দিতে তিনি অনুমতি দেন যেখানে ছেলেটি তার মেয়েকে সুখী রাখতে পারবে। অনেক সময় তিনি তার জামাতাকে আশানুরূপ পান এবং অনেক সময় পান না। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তিনি তাকে প্রভাবিত করতে চান যতক্ষন পর্যন্ত না তিনি তার কাছে গ্রহনযোগ্য না হোন এবং এই জন্য তিনি প্রতিটি উপায় অবলম্বন করেন। যেমন, তার এবং অন্যদের অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগান এবং বিভিন্ন ফন্দি করা শুরু করেন। তিনি মাঝেমাঝে সহানুভূতিশীল মাঝেমাঝে কঠোর হওয়ার ভান করেন। তিনি তার পথপ্রদর্শক এবং কাজের সংশোধক হিসেবে পাশে থাকতে পারেন বা অভিযোগও করতে পারেন।

যাইহোক, তার লক্ষ্য অর্জন করার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো তার মেয়েকে প্রভাবিত করা; যাতে সে তার স্বামীর অবাধ্য না হয়। কিন্তু বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, তিনি তার মেয়েকে ব্যবহার করেন এবং এমনভাবে নির্দেশ দেন যাতে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আচরণ করে। কাজেই স্বামী তার স্ত্রীকে একদিন একরকম অন্যদিন অন্যরকম হিসেবে পায়, একদিন কঠোর তো অন্যদিন সহনশীল। একজন অনভিজ্ঞ নারী এটা ভাবতে পারে যে তার মা তার বিয়ের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল এবং তাই তার উপদেশও মেনে চলতে হবে। এভাবে যদি তার স্বামী তার মায়ের (শাশুড়ির) মনমত না হয়, তখন সংসারে ঝগড়া শুরু হয়ে যায় যা ডিভোর্স এমনকি খুন পর্যন্ত গড়ায়। এই জন্যেই কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের সাথে তার শাশুড়িদের ভালো সম্পর্ক থাকে না। তারা তাদের স্ত্রীর অবাধ্যতার জন্য শাশুড়িদেরকে দায়ী করে এবং বিশ্বাস করে যে তাদের মায়েরা তাদের মেয়েদের এসব আচরণ/কথা শিখিয়ে দেয়।

একজন শাশুড়ি যখন তার মেয়ের জীবনে হস্তক্ষেপ করে এটা ভালোর উদ্দেশ্যে থেকেই, খারাপের জন্য নয়। তিনি সহানুভূতিশীল হতে চান; কিন্তু মাঝেমাঝে অজ্ঞতার দরুন কিছু ভুল পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন বা ক্ষতিকর উপদেশ দিয়ে থাকেন। তাই এই ব্যাপারে কারোরই বেশি প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত নয়। একজন মা এবং মেয়ের সম্পর্ক হলো একটি প্রাকৃতিক সম্পর্ক; যা সহজেই ভেঙে পড়ে না এবং যে তা ভাঙার চেষ্টা করবে নিশ্চিতভাবেই সে ব্যর্থ হবে। এই ধরনের চেষ্টা প্রকৃতি-বিরোধী এবং কোনভাবেই তা সমর্থনযোগ্য নয়। যেভাবে একজন স্বামী তার পিতা-মাতার ব্যপারে আগ্রহী তেমনিভাবে একজন স্ত্রীও। ফলত শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের সাথে উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখাই দুপক্ষের জন্যই কল্যাণকর। তাই সদাচরণ থেকে বিচ্যুত হবেন না, জ্ঞানী হোন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে সদয় আচরণ করুন নিজের দাম্পত্য জীবনকে সফল করার জন্য।

হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন- অর্থ : “ 'তুমি যখন খাবে, তাকেও খাওয়াবে এবং তুমি যখন পরবে, তাকেও পরাবে। চেহারায় কখনো প্রহার করবে না, অসদাচরণ করবে না।' মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে দীর্ঘ বয়ানের একপর্যায়ে বলেছিলেন- অর্থ : 'অতএব, তোমরা স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা রহমানকে ভয় করো, কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে গ্রহণ করেছ এবং তোমরা আল্লাহর হুকুমেই তাদের লজ্জাস্থানকে হালাল হিসেবে পেয়েছ।১০ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন- অর্থ : 'কোনো মুমিন পুরুষ মুমিন নারীর ওপর রুষ্ট হবে না, কেননা যদি তার কোনো কাজ খারাপ মনে হয়, তাহলে তার এমন গুণও থাকবে, যার ওপর সে সন্তুষ্ট হতে পারবে।১১

টিকাঃ
৮. সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং: ১১৬২।
১০. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১২১৮।
১১. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১৪৬৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px