📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 অযথা অভিযোগ করবেন না

📄 অযথা অভিযোগ করবেন না


জীবনে অনেক সমস্যাই থাকে। এমন কেউ নেই যে সে তার পরিস্থিতি নিয়ে পুরোপুরি খুশি। কিছু লোকেরা তাদের কষ্টের তুলনায়, অন্যের চেয়ে বেশি ধৈর্যশীল। তারা তাদের কষ্ট ও পরিশ্রম কে মাথায় রাখে এবং তা প্রকাশের যথার্থ সময় ছাড়া সেটা প্রকাশ করে না। অন্য দিকে, এমন অনেক লোক আছে যারা এতই দুর্বল যে, তারা কখনো নিজের সমস্যার কথা নিজের মধ্যে রাখতে পারে না। তারা অভিযোগ করতে এতটাই অভ্যস্ত যে- অন্যদের সাথে দেখা হওয়ার সাথে সাথেই, তারা তাদের জীবনের সমস্যা নিয়ে সমালোচনা করা শুরু করে দেয়। যেখানেই তারা যায় এবং যখনই কোনো সমাবেশে উপস্থিত হয়, তখনই তারা তাদের প্রতিদিনের সমস্যাগুলোর সম্পর্কে সমালোচনা করা শুরু করে দেয়। যা অন্যদের জীবনকেও প্রভাবিত করতে থাকে (যেন মনে হয় অন্যের সুখ নষ্ট করার জন্য শয়টান নিজেই তাদেরকে একটি মিশনে নামিয়েছে)।

এজন্য বেশিরভাগ বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়স্বজন এসব বিষয়ে নিজেকে জড়াতে চায় না এবং তাদের থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করে। তবে তাদের স্ত্রীর জন্য বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তাদের বাচ্চাদের জন্যও। কারণ আর কেউ যখন তাদের এই সমালোচনা শুনার জন্য প্রস্তুত থাকে না, তখন এইসব পুরুষরা তাদের পরিবারের সাথেই তাদের সমস্যর কথাগুলো বলতে থাকে। তারা কখনও কখনও তাদের ব্যয়, ট্যাক্স, বন্ধু, সহকর্মী, তাদের ব্যবসা, রোগ, চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ে অভিযোগ করতেই থাকে। এই পুরুষেরা খুবই হতাশাবাদী এবং পৃথিবীতে ভালো কোনোকিছুই তারা দেখতে পায় না। তারা নিজেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিশেষত তাদের পরিবারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকে।

শ্রদ্ধেয় পাঠক! সারাক্ষণ অভিযোগ করে কী লাভ? ক্রুদ্ধ হয়ে আপনি কী অর্জন করবেন? কেন আপনি ট্যাক্সি ড্রাইভারের উপর করা রাগ, আপনার পরিবারের উপর দেখাবেন? আপনার ব্যবসার ক্ষতি হলে কেনো আপনি আপনার স্ত্রীকে তার জন্য দোষারোপ করবেন? আপনি ভুলে যাবেন না যে- আপনার এই মনোভাব আপনার পরিবারকে আপনার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। তারা আপনার উপর এবং বাড়ির সকলের উপর বিরক্ত হয়ে উঠবে। এমনকি তারা বাড়ি থেকে পালাতে পারে এবং বিভিন্ন কুট-জালের ফাঁদে পড়ে দুর্নীতি ও অপরাধের শিকার হতে পারে। সর্বোপরি এটি তাদের উপর একটি প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। আপনার পরিবারের সুখ নষ্ট না করাটা কী আপনার জন্য ভালো নয়? বাড়ি ফিরে, আপনি আপনার সমস্যাগুলি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার পরিবারের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, হাসি-ঠাট্টা করুন। তাদের সঙ্গোকে উপভোগ করুন।

ইসলামে ধৈর্যের কথাও বলা হয়েছে এবং জীবনের সমস্যাগুলোর উপর অভিযোগ-অনুশোচনা না করে ধৈর্য ধারণ করলে তার জন্য পুরস্কার বরাদ্দ করা হয়েছে। যখন মুসলমানদের উপর কষ্ট আসে, তখন তাদের আল্লাহর উপর অভিযোগ/ অনুশোচনা করা উচিত না বরং সমস্ত সমস্যার মূল চাবিকাঠির অধিকারী আল্লাহর কাছে তাদের সাহায্য চাওয়া উচিত।'

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 অযথা দোষ খোঁজা থেকে বিরত থাকুন

📄 অযথা দোষ খোঁজা থেকে বিরত থাকুন


কিছু পুরুষ ক্রমাগত সমস্ত কিছুতে ত্রুটি খুঁজতেই থাকে। তারা প্রতিটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে চিৎকার শুরু করে যে- “এই টেবিলটি কেন নোংরা হয়ে আছে? দুপুরের খাবার কেন এখনও প্রস্তুত হয়নি? ফুলদানিটি কেনো এখানে? ছাই রাখার পাত্রটি মেঝেতে কেনো?” ইত্যাদি ইত্যাদি। কিছু পুরুষ এত দ্রুত তার মনোভাব পরিবর্তন করে যে- এটি তাদের পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং কখনও কখনও এই আচরণের ফলে তাদের পরিবারের বিচ্ছেদও ঘটে। অবশ্যই আমরা বলছি না যে- পুরুষের তাদের স্ত্রীদের কী করা উচিত এবং কী করা উচিত না সেটা বলার কোনো অধিকার নেই।

মহিলারাও যেন পরিবার সম্পর্কিত পরামর্শের বিষয়ে একগুঁয়েমি না দেখায়। যদিও পুরুষেরা পরিবারের অভিভাবক হিসেবে নিজের কর্তব্যটি যাতে সঠিকভাবে পালন করতে পারে সে হিসেবে নিজের বুদ্ধি ও যুক্তিসংগত কাজ করা উচিত। স্ত্রী যদি বাড়ির কাজে কোনো পরামর্শ দেয় তবে সেটা বিবেচনায় নিতে আন্তরিক মনোভাব রাখাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতপক্ষে, যেহেতু একজন পুরুষের হাতে পরিবারের সমস্ত কাজে অংশ নেওয়ার মত পর্যাপ্ত সময় থাকে না এবং কোন বিষয়ে যদি তার পর্যাপ্ত দক্ষতা না থাকে, তবে পরিবারের কিছু বিষয় স্ত্রীর উপর ছেড়ে দেয়াই তার জন্য সুবিধাজনক। ঘর চালানোর ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির উচিত তার স্ত্রীকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেওয়া। যদিও পুরুষরা প্রায় ক্ষেত্রেই জোর না করে পরামর্শ দেয়ার অজুহাতে তাদের সিদ্ধান্ত স্ত্রীদের উপর চাপিয়ে দেয়। যখন একজন বুদ্ধিমান মহিলা কোনও বিষয়ে তার স্বামীর ইচ্ছাটা বুঝতে পারে, তখন সে তা মেনে চলার চেষ্টা করে।

অতএব, একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা যারা একে অপরের সম্পর্কে এবং তাদের পরিবারের সম্পর্কে যত্নশীল, তখন তারা যে কোনো বিষয়ে পরস্পর বিনীতভাবে আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। এইভাবে, বেশিরভাগ মহিলারা তার স্বামীর সিদ্ধান্তে সম্মতি দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়। তবে তার স্বামী যদি ক্রমাগত তার দোষ খুঁজতেই থাকে এবং অশান্তির সৃষ্টি করতে থাকে তখন তার স্ত্রী নেতিবাচক মনোভাব এর উপর অভ্যস্ত হতে থাকে এবং ফলস্বরূপ এই মনোভাবটি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। যার থেকে কোন ভালো ফলাফল আর আশা করা যায় না।

যে মহিলার স্বামী এমন মনোভাব পোষণ করে সে তার স্বামীর কোনো কথাই গুরুত্ব সহকারে নেয় না। এমনকি সে তার স্বামীর গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিকেও তখন অবহেলার চোখে দেখা শুরু করে। সে নিজেই ভাবতে থাকে- “আমি কেনো এতো কষ্ট করবো, যদি আমার স্বামী কখনই আমার কোনো কাজে সন্তুষ্ট না হয়? সে কেবল তার স্বামীকেই দোষারোপ করবে না, এমনকি তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারে। তখন তাদের বাড়ি একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়ে উঠবে। এইভাবে একটি পরিবার ভেঙে যায় এবং বিচ্ছেদ হতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে একজন মহিলা কখনই নিজেকে দোষারোপ করে না, কারণ একজন বিজ্ঞ এবং ধৈর্যশীল স্ত্রীও তার স্বামীর এমন অমানবিক আচরণের কারণে তার ধৈর্য সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলে। তখন সে ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করে, দাবি করে যে- তার স্ত্রী তার বাড়ি ছেড়ে দুমাস আগে চলে গিয়ে তার বাবা-মার সাথে থাকছে। তারপর আরও অনুসন্ধান করা শুরু করলে, ওই ব্যক্তির স্ত্রী তখন বলে যে- আমার স্বামী আমার ঘর সামলানোর পদ্ধতি পছন্দ করে না। তিনি আমার রান্না, আমার বাড়ির কাজ পরিচালনা সম্পর্কে ক্রমাগত সমালোচনা এবং অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে। তাই আমি তাকে ছেড়ে চলে এসেছি।

পুরুষদের মনে রাখা উচিত যে- সংসারের কাজটা তাদের স্ত্রীদের দায়িত্ব পালনের একটি জায়গা। এই জায়গায় তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বা তাদের পুতুল হিসাবে বিবেচনা করাটা সম্পূর্ণরূপে একটি ভুল কাজ। তারা যেভাবে পছন্দ করে সেভাবেই তাদের সংসারের কাজ করতে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ফলস্বরূপ- আপনার স্ত্রী উৎসাহের সাথে তার কাজগুলো করবে এবং আপনিও সুখী থাকবেন এবং আপনার বাড়ি হয়ে উঠবে “একটি সুখী পরিবার”।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 তাকে সন্তুষ্ট রাখুন এবং সহানুভূতি প্রকাশ করুন

📄 তাকে সন্তুষ্ট রাখুন এবং সহানুভূতি প্রকাশ করুন


একজন মহিলাও পুরুষের মতো আবেগীয় পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়। সে আনন্দ, রাগ, দুঃখ ইত্যাদি অনুভব করে। সে ঘরের কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে; বাচ্চাদের উপর বিরক্ত হয়। এসময় অন্যদের সমালোচনা তাকে মর্মাহত করতে পারে। সে অন্যান্য মানুষের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে পারে। মোটকথা- অনেক সমস্যা মহিলাদের এমনভাবে প্রভাবিত করে যে- সে ছোটোখাটো ব্যাপারেও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এটা বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, কারণ তারা খুবই সংবেদনশীল এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পুরুষের চেয়ে তুলনামূলক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়। নারীরা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে তাকে সন্তুষ্ট রাখা উচিৎ। একজন বিশ্বস্ত জীবনসঙ্গী হিসেবে পুরুষের উচিৎ তাকে সান্ত্বনা দেওয়া কারণ তার স্ত্রী তাকে বিশ্বাস করে।

প্রিয় জনাব!
আপনি যখন আপনার স্ত্রীকে রাগান্বিত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান, তার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। ঘরে প্রবেশ করে যদি দেখেন সে আপনাকে সম্ভাষণ করছে না তাহলে আপনি তাকে সালাম দিন। এতে আপনি ছোট হয়ে যাবেন না। তার সাথে হাসিমুখে কথা বলুন। কর্কশ ভাষা পরিহার করুন। তার ঘরের কাজে সাহায্য করুন। তাকে কোনভাবেই রাগান্বিত করে তুলবেন না। তাকে উত্ত্যক্ত করবেন না। সে যদি কথা বলতে না চায়, তাকে তার মতো ছেড়ে দিন। তাকে বলবেন না, “তোমার কী সমস্যা?”

সে যদি কথা বলতে চায় তবে তার কথা শুনুন এবং তার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করুন। এমন ভান করুন যেন তার সমস্যা নিয়ে তার চেয়ে আপনি বেশি চিন্তিত। তাকে তার অভিযোগ প্রকাশ করতে দিন। অতঃপর একজন দয়ালু প্রিয়জনের মতো অর্থাৎ একজন সহানুভূতিশীল স্বামীর মতো তার সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করুন। তাকে ধৈর্য ধরতে উৎসাহ দিন। যুক্তি ও বুদ্ধি দ্বারা সমস্যাগুলো মামুলি হিসেবে তার কাছে তুলে ধরুন। তাকে সাহস দিন এবং তার বিরক্তির কারণ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুন। ধৈর্য ধরুন এবং তার সাথে যৌক্তিক আচরণ করুন। এতে সে অবশ্যই উপকৃত হবে এবং আপনাদের সাংসারিক জীবন দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। অপরপক্ষে আপনার ভুল আচরণ তাকে আরও ঝামেলায় ফেলে দিবে। এর প্রভাব আপনার উপরেও পড়বে এবং তা থেকে ঝগড়াবিবাদের সৃষ্টি হতে পারে যার ফলে আপনারা দুইজনেই কষ্ট পাবেন।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 দোষ ধরবেন না

📄 দোষ ধরবেন না


পৃথিবীতে কোনো মানুষই সর্ব গুণসম্পন্ন হয় না। কেউই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। কেউ হয়তো খুব মোটা বা কেউ হয়তো খুব চিকন। কারো মুখ বড় হতে পারে, আবার কারো নাক বা দাঁত বড় হতে পারে। কেউ নোংরা হতে পারে আবার কেউ অভদ্র, লাজুক, নির্লজ্জ, হতাশাগ্রস্ত, বদমেজাজি, হিংসুক, অলস বা স্বার্থপর হতে পারে। কোনো মহিলা হয়তো ভালো রান্না পারেন না আবার কেউ হয়তোবা অতিথি সেবায় খুব একটা পারদর্শী নয়। কেউ হয়তো খুব বেশি খায়, আবার কেউ হয়তো বেহিসেবী খরচ করে। মোটথায়- প্রত্যেকেই অসম্পূর্ণ এবং পৃথিবীতে কেউই নিখুঁত নয়। পুরুষেরা সাধারণত বিয়ের আগে তার স্ত্রীকে সমস্ত দোষত্রুটি মুক্ত হিসেবে কল্পনা করে। তারা ভুলে যায় যে, পৃথিবীতে কেউই ফেরেশতা নয়। এরপর এই লোকগুলো বিয়ের পর যখন দেখে তার স্ত্রী নিখুঁত নয়, তখন তাদের দোষ ধরতে শুরু করে। এমনকি তারা তাদের বিবাহকে ব্যর্থ হিসেবে বিবেচনা করে এবং নিজেদেরকে দুর্ভাগ্যবান ভাবতে থাকে। এসব লোকরা সবসময় হাহাকার করতে থাকে এবং তার স্ত্রীর ছোটখাটো ত্রুটিগুলোকেও রেহাই দেয় না। কিছু পুরুষ স্ত্রীদের দোষত্রুটিগুলোকে বাড়িয়ে পাহাড়সম করে তোলে।

তারা প্রায়ই এইসব দোষত্রুটি নিয়ে তাদের স্ত্রীদের অপমান করে। এমনকি তারা এইসমস্ত ব্যাপার বন্ধুবান্ধব আত্মীয়স্বজনদের কাছে তুলে ধরতেও দ্বিধা করে না। ফলশ্রুতিতে, তাদের দাম্পত্যজীবনে ফাটল ধরতে শুরু করে। মহিলাটি হতাশাগ্ৰস্ত হয়ে পড়ে এবং স্বামী ও সংসারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যে সবসময় তার সমালোচনা করে তার জন্য কিছু করাকে অর্থহীন ভাবতে থাকে যা তাকে প্রতিশোধ নেওয়ার দিকে ধাবিত করতে পারে।

এক লোক তার স্ত্রীকে বললো- “তোমার নাক কী বড় আর কুৎসিত!” তখন তার স্ত্রী জবাব দিলো- “তোমার বিশ্রী চেহারা আর বিকৃত আকৃতির মতো এতো খারাপ তো না!”

এরপর লোকটি বলতে পারে- “তোমার পায়ে কী দুর্গন্ধ!” মহিলা উত্তর দিলো- “তোমার বিশাল মুখ বন্ধ করো।”

ইত্যাদি আরও অনেক কিছু। এই ধরনের কথাবার্তা চলতে থাকলে ঘর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়, দম্পতিরা নিজেদেরকে অপমান-অবমাননা করতে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে তারা তাদের জীবন উপভোগ করতে ব্যর্থ হয়। কারণ- যে ঘরে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা নেই, সে ঘর কখনো শান্তির নীড় হয়ে উঠতে পারে না। তদুপরি, যে পুরুষ নিজেকে দুর্ভাগ্যবান মনে করে এবং বিবাহকে ব্যর্থ মনে করে, সে তার স্ত্রীকে ক্রমাগত অপমান করতে থাকে যার ফলে তারা দুইজনই মানসিক অশান্তি এবং অন্যান্য অসুস্থতায় ভুগতে থাকে। ঝগড়া- বিবাদের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে এক সময় তালাক ও বিচ্ছেদের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

বিচ্ছেদ কারো জন্যই সুখকর না, বিশেষ করে যদি সেই পরিবারে সন্তান থাকে। আমাদের সমাজ তালাকপ্রাপ্তদের তেমন একটা সম্মান দেয় না। এছাড়া তালাকের ফলে একজন পুরুষের যে আর্থিক ক্ষতি হয়, তা সহজে পূরণ করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে সে যদি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চায় সেক্ষেত্রে তাকে অনেক খরচ করতে হয়। উপরন্তু, একজন তালাকপ্রাপ্ত লোক যে- তার আশানুরূপ স্ত্রী খুঁজে পাবে এটিও নিশ্চিত নয়। তার পূর্বে বিয়ে করার রেকর্ড থাকায় পুনরায় বিয়ে করাও সহজ হবে না। এমনকি সে পরবর্তীতে যেই মহিলাকে খুঁজে পাবে তারও অবশ্যই কিছু ত্রুটি থাকবে। এমনকি সে তার প্রথম স্ত্রীর চেয়েও খারাপ হতে পারে। তখন লোকটিকে তার সাথে মানিয়ে চলতে হবে। এর কারণ কিছু পুরুষ এতোটাই অহংকারী হয় যে নিজের ত্রুটি স্বীকার করতে চায় না। দ্বিতীয় বিয়েতে সন্তুষ্ট এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এমনও হয় যে, অনেক লোক তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যায়।

প্রিয় জনাব!
আপনি কেনো আপনার স্ত্রীর দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ান! কেনো ছোটখাটো ভুলগুলোকে এতো গুরুত্ব দেন! কেনো তার ঘাটতিগুলোকে এতো বড় করে দেখেন; যা আপনার পরিবারে অশান্তির কারণ হয়! আপনি কি কখনো কোনো নিখুঁত মহিলা দেখেছেন? আপনি নিজে কি নিখুঁত? এই তুচ্ছ দোষত্রুটিগুলো কী এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে যার কারণে আপনি নিজের বিবাহিত জীবনকে বিপন্ন করে তুলতে পারেন?

নিশ্চিত থাকুন যে- আপনি যদি যৌক্তিক ও ন্যায্য দৃষ্টিভঙ্গিতে আপনার স্ত্রীর দিকে নজর দেন তাহলে তার অনেক ভালো দিকও দেখতে পাবেন। তখন দেখবেন- তার গুণাবলী তার ঘাটতি ছাড়িয়ে যাবে। ইসলাম এই ধরনের আচরণকে ক্ষতিকর ও অপছন্দনীয় হিসেবে বিবেচনা করে এবং অন্যের দোষত্রুটি খুঁজে বের করতে নিষেধ করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px