📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 পরিবারের অভিভাবক

📄 পরিবারের অভিভাবক


পুরুষ এবং নারী একটি পরিবারের প্রধান দুইটি স্তম্ভ। কিন্তু সৃষ্টির নিয়মানুসারে, পুরুষকে কিছু বিশেষ গুণাবলী দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তারা শারীরিক এবং বিচারবুদ্ধির দিক দিয়ে নারীর চেয়ে বেশি শক্তিশালী আর তাই তাদেরকে পরিবারের অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মহান আল্লাহ তাআলা পুরুষদের পরিবারের অভিভাবক হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তাআলা বলেন-
অর্থ : “পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক। কারণ- আল্লাহ তাদের একের ওপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং পুরুষেরা নিজের ধন-সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগত এবং বিনম্র। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তারা তাঁর অধিকার ও গোপন বিষয় রক্ষা করে। আল্লাহই গোপনীয় বিষয় গোপন রাখেন। যদি স্ত্রীদের অবাধ্যতার আশংকা কর তবে প্রথমে তাদের সৎ উপদেশ দাও। এরপর তাদের শয্যা থেকে পৃথক করো এবং তারপরও অনুগত না হলে তাদেরকে শাসন করো৷ এরপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের সাথে কর্কশ আচরণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত-মহীয়ান।”

পুরুষকে তার পরিবারে অধিক কঠিনতম দায়িত্বগুলো পালন করতে হয়। পুরুষ তার মেধা ও প্রজ্ঞা দ্বারা পরিবারের সবাইকে খুশি রাখতে পারে এবং তার ঘরকে সুখের স্বর্গ বানিয়ে তুলতে পারে; যেখানে স্ত্রী হতে পারে ঘরের ফেরেশতা।

অর্থ : “প্রত্যেক পুরুষই হচ্ছে তার পরিবারের অভিভাবক এবং প্রত্যেক অভিভাবকের তার অধীনস্থদের উপর দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে”।

পরিবারের দায়িত্বরত পুরুষকে বুঝতে হবে নারীরাও পুরুষের মতোই মানুষ। তারও কিছু আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীনতার অধিকার এবং নিজস্ব জীবন আছে। তাকে বুঝতে হবে- কোনো নারীকে বিয়ে করা মানে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া নয় বরং একজন সঙ্গী ও বন্ধু খুঁজে নেওয়া; যে তার সাথে বাকি জীবন কাটাবে। পুরুষকে তার দেখাশোনা করতে হবে এবং ইচ্ছা-অনিচ্ছার গুরুত্ব দিতে হবে। পুরুষ তার স্ত্রীর প্রভু নয় বরং একজন নারীরও তার স্বামীর উপর অধিকার রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে এরশাদ করেন-
অর্থ : “আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের ওপর অধিকার রয়েছে, তেমনিভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে পুরুষদের ওপর। আর (পরিবার পরিচালনার ক্ষেত্রে) নারীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।”

টিকাঃ
১. সুরা নিসা: ৩৪
২. সুরা বাকারা: ২২৮

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 স্ত্রীর দেখাশোনা করা

📄 স্ত্রীর দেখাশোনা করা


একটি পরিবারের উন্নতি এতে নিহিত আছে যে- প্রত্যেক স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি যত্নবান হবে তেমনিভাবে স্ত্রীও তার স্বামীর প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবে; যেটাকে ইসলামেও অনেক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং এটাই হলো একজন মানুষের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একজন বিবাহিত পুরুষকে জানতে হবে কীভাবে আচরণ করলে তার স্ত্রীর চরিত্র ফেরেশতাতুল্য হয়ে উঠে। স্ত্রীর আশা- আকাঙ্ক্ষা ও বৈধ চাহিদা অনুযায়ী স্বামীকে তার জীবন গড়ে তুলতে হবে। একমাত্র ভদ্র আচরণ ও ব্যবহার দ্বারা সে স্ত্রীকে তার দিকে আকৃষ্ট করতে পারে। পাশাপাশি তার ঘর-সংসারের প্রতিও আগ্রহী করে তুলতে পারে। এই বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন; যা পরবর্তীতে এই বইয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 স্ত্রীকে ভালোবাসুন

📄 স্ত্রীকে ভালোবাসুন


নারীরা হলো কোমল হৃদয়ের অধিকারী ও অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভালোবাসা ও মায়া-মমতাতেই তার অস্তিত্ব। সে অন্যের নিকট ভালোবাসা কামনা করে। সে অন্যের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পেতে প্রচুর পরিমাণে ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে। এই প্রবণতা তার মাঝে এতো বেশি থাকে যে- সে উপলব্ধি করে কেউ তাকে ভালোবাসে না, অতঃপর সে নিজেকে ব্যর্থ মনে করে। সে হতাশ ও বিমর্ষ হয়ে পড়ে। কাজেই এটা সর্বজনবিদিত যে- একজন সফল মানুষের সুখী বৈবাহিক জীবনের রহস্য স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশের মধ্যে নিহিত।

প্রিয় জনাব!
আপনার স্ত্রী বিয়ের পূর্বে তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও আদরযত্নে বেড়ে উঠেছে। এখন সে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এবং তার বাকি জীবন একসাথে কাটানোর জন্য আপনাকে বেছে নিয়েছে; সে আশা করে আপনি তার ভালোবাসা ও আবেগ-অনুভূতির সকল চাহিদা পূরণ করবেন। সে তার বাবা-মা ও বন্ধু-বান্ধবের চেয়েও আপনার কাছে বেশি ভালোবাসা কামনা করে। সে আপনাকে প্রচন্ডরকম বিশ্বাস করেছে বলেই তার অস্তিত্ব আপনার কাছে অর্পণ করেছে। একটি সুখী প্রণয়ের রহস্য স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালোবাসা প্রকাশের মধ্যে লুকায়িত।

যদি আপনি তার হৃদয় জয় করতে চান- তাকে আপনার বাধ্যগত করতে চান; আপনি যদি আপনার সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে চান, যদি চান স্ত্রী আপনাকে ভালোবাসুক এবং আপনার প্রতি বিশ্বস্ত থাকুক; তাহলে সবমসময় তাকে স্নেহ করুন এবং তার প্রতি আপনার ভালোবাসা প্রকাশ করুন। স্ত্রীকে যদি স্নেহ থেকে বঞ্চিত করেন তাহলে সে তার সংসার, সন্তান এবং আপনিসহ সবকিছুর উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আপনার ঘর-বাড়ীর অবস্থা সব-সময় অগোছালো থাকবে। সে এমন একজন মানুষের জন্য কষ্ট করতে রাজি হবে না; যে তাকে ভালোবাসে না। সংসার এমন একটি জায়গা যেখানে হাজব্যান্ড-ওয়াইফের মাঝে কোনো মায়া-মমতা না থাকলে তা নরক-তুল্য হয়ে যায়; যদিও তা সাজানো গোছানো এবং বিলাসবহুল জিনিসপত্রে পরিপূর্ণ থাকে।

অশান্তির সংসারে আপনার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা তার স্নায়ুবৈকল্য হতে পারে। সে যদি আপনার দ্বারা সন্তুষ্ট না হয় তাহলে সে অন্যের নিকট গ্রহণযোগ্যতা খোঁজার চেষ্টা করবে। সে আপনার প্রতি এতোটাই অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে যে হয়তো তালাক নেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নিতে পারে। এসব কিছুর জন্য আপনি দায়ী। কেননা- আপনি তাকে সন্তুষ্ট রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এটা সত্য যে- অনেক তালাক এই ধরনের নির্দয়তার ফলস্বরূপও হয়ে থাকে। নিম্নোক্ত পরিসংখ্যানের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়; ভালোবাসার মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা, স্ত্রীর ইচ্ছার প্রতি স্বামীর উদাসীনতা, নারীর মানসিক অবস্থার গুরুত্বকে অবহেলা করা অনেক ডিভোর্সের জন্য দায়ী।

২০২০ সনের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ মাসে ঢাকায় দৈনিক ৩৯টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ প্রতি ৩৭ মিনিটে একটি তালাক হয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদ বেড়ে যাওয়ার পেছনে করোনার কারণে তৈরি হওয়া মানসিক, আর্থিকসহ নানামুখী চাপের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন এবং যোগাযোগ কমে যাওয়াকে অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। পরিসংখ্যান বলছে তালাক দেওয়ার তালিকায় নারীদের সংখ্যাই বেশি। শহুরে বা মফস্বল, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, ধনী বা শ্রমজীবী যেকোনও হিসাবেই নারীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি হারে তালাক দিচ্ছে। এর পেছনে অধিকাংশ নারীরা তাদের জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, সম্পর্কের প্রতি হতাশা এবং তাদের ইচ্ছা এবং আবেগ-অনুভূতির প্রতি স্বামীর উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।

'একজন মহিলা আদালতে জবানবন্দি দেয় যে- সে পণের টাকা পরিত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিলো এমনকি তার স্বামীকে ডিভোর্সে রাজি করানোর জন্য তাকে কিছু টাকাও প্রদান করে। সে বলে, তার স্বামী তার চেয়ে তার টিয়াপাখির প্রতি বেশি আগ্রহী। তাই সে আর তার সাথে থাকতে চায় না।'

পারিবারিক ভালোবাসা এবং বন্ধুত্ব যে কোনো কিছুর চেয়ে অধিক মূল্যবান এবং এটা আল্লাহর আলৌকিক শক্তির এক অন্যতম নিদর্শন এবং মানবজাতির জন্য এক বিশেষ নেয়ামত।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
অর্থ : “এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আর এক নিদর্শন (হচ্ছে)- তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা ওদের নিকট শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহানুভূতি সৃষ্টি করেছেন; নিশ্চয় চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে নিদর্শন আছে।”

আমাদের বন্ধু সে-ই যে তার স্ত্রীর প্রতি অধিক দয়াশীল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
অর্থ : 'তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক ভালো মানুষ তারাই, যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে।'৭ আল্লাহর নবিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই যে- তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ স্ত্রীর প্রতি দয়াশীল।

যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এ কথা বলে যে,- 'আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি' তা কখনোই স্ত্রীর হৃদয় ছেড়ে যাবে না।'

আপনার স্নেহ-ভালোবাসা অবশ্যই খাঁটি হতে হবে তবেই তা অন্যের হৃদয়কে স্পর্শ করবে এবং শুধু ভালোবাসাই যথেষ্ট নয়, স্নেহ- ভালোবাসার প্রকাশও অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি কথা এবং কাজে স্ত্রীর প্রতি অনুভূতি প্রকাশ করেন; তবে যে ভালোবাসা আপনি প্রদর্শন করেছেন তা আপনার নিকট-ই ফিরে আসবে এবং আপনাদের প্রেমের বন্ধন আরও মজবুত হবে। তাই আপনার স্ত্রীর প্রতি খোলামেলাভাবে ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে ইতস্ততবোধ করবেন না। স্ত্রীর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতিতে আপনার উচিৎ তার প্রশংসা করা। ঘরের বাইরে গেলে তাকে লিখুন এবং তাকে জানান যে- আপনি তাকে মিস করছেন। মাঝে মাঝে তার জন্য কিছু কিনে আনুন। অফিসে থাকাকালীন তাকে ফোন দিয়ে তার খোঁজ-খবর নিন। এই ধরনের ভালোবাসার প্রকাশ নারীর মনে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একজন নারী কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন-

“কোনো এক শরতের রাতে আমার বিয়ে হয়। আমরা খুব সুখে শান্তিতে বসবাস করতাম। আমি নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী নারী মনে করতাম। আমি তার ছোট্ট বাড়িটিতে ছয়টি বছর একসাথে থেকেছি। আমি যখন বুঝতে পারি আমি গর্ভবতী হয়েছি তখন আরও শতগুণ আনন্দ অনুভব করি। আমি যখন স্বামীকে এই খবর জানাই; তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে খুশিতে কেঁদে ফেলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। এরপর তিনি বাইরে গিয়ে নিজের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে আমার জন্য একটি হীরার নেকলেস কিনে আনেন। তিনি আমাকে নেকলেসটি দিয়ে বলেন- “আমি আমার জীবনে দেখা পৃথিবীর সেরা নারীকে এই নেকলেসটি উপহার দিচ্ছি।” এই ঘটনা তার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার বেশিদিন আগের নয়।

টিকাঃ
৭. আল্লাহর নবিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই যে- তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ স্ত্রীর প্রতি দয়াশীল।

📘 দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড 📄 আপনার স্ত্রীকে সম্মান করুন

📄 আপনার স্ত্রীকে সম্মান করুন


একজন নারী নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করতেই পারে যেভাবে পারে একজন পুরুষ। সেও অন্যদের কাছ থেকে সম্মান পেতে পছন্দ করে। সে কষ্ট পায় যখন কেউ তাকে অপমান করে বা হেয় করে। তার ভালো লাগে; যখন সে সম্মান পায় এবং তাদেরকে সে ঘৃণা করে; যারা তার সম্মানহানি করতে চায়।

প্রিয় জনাব!
আপনার স্ত্রী আপনার কাছ থেকে অন্যদের চেয়ে বেশি সম্মান পাওয়ার হকদার। তার জীবন-সঙ্গী এবং সবচেয়ে ভালো বন্ধুর কাছে যত্ন পাওয়ার প্রতিটি অধিকার সে রাখে। সে আপনার এবং আপনার ছেলেমেয়েদের ভালোর জন্য কাজ করে তাই সে আপনার কাছ থেকে তার চেষ্টা-প্রচেষ্টার মূল্যায়ন এবং সম্মানের আশা করে। তাকে সম্মান দেখানোতে আপনার সম্মান তো কমবেই না বরং এটা তার প্রতি আপনার ভালোবাসা এবং আকর্ষণেরই প্রমাণ বহন করবে। তাই তাকে অন্যের চেয়ে বেশি সম্মান করুন এবং তার সাথে নম্রভাবে কথা বলুন। তার উপর অযথা চিৎকার চেঁচামেছি করবেন না। তাকে সম্মানজনক এবং গুণবাচক শব্দগুলো দ্বারা সম্বোধন করুন। যখন আপনি ঘরে প্রবেশ করবেন, যদি সে সালাম জানাতে ভুলে যায়, আপনি নিজেই তাকে সালাম দিন, উত্তম হয় আপনিই আগে তাকে সালাম দেওয়া। যখন ঘরের বাইরে যাবেন তাকে বিদায় সম্ভাষণ (আল্লাহ হাফেজ) জানান। তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করবেন না যখন আপনি ভ্রমণে বের হন বা ঘরের বাইরে যান। তার সাথে ফোনে কথা বলুন! এসএমএস করুন। যখন অনেক মানুষের মাঝে থাকেন তখনও তাকে সম্মান করুন। সব ধরনের অপমানজনক ও মানহানিকর আচরণ বর্জন করুন। তাকে কখনও গালাগালি করবেন না এমনকি মজার ছলেও তাকে উত্যক্ত করবেন না। এটা ভাববেন না যে; আপনি তার অনেক কাছের মানুষ বলে আপনি তাকে নিয়ে মজা করলে সে কিছু মনে করবে না। সে হয়ত মুখে কিছু বলবে না কিন্তু মনে মনে বিষয়টাকে অপছন্দ করবে। একজন সম্মানিত মহিলা, বয়স ৩৫ এর কাছাকাছি, তার ডিভোর্স রিকুয়েস্টে বলেন-

“আমরা বিয়ে করেছি বারো বছর হলো। আমার স্বামী একজন ভালো মানুষ। ভালো এবং অমায়িক মানুষ হবার মতো তার অনেক গুণ রয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো এটা বুঝতে চাননি যে আমি তার স্ত্রী এবং তারই দুই সন্তানের মা। তিনি সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে নিজেকে একজন জুতসই ব্যক্তি মনে করেন, কিন্ত তিনি সেখানে আমাকে বিরক্ত এবং অপমান করার মাধ্যমে নিজেকে জাহির করেন। আপনারা এটা বিশ্বাসই করতে পারবেন না যে- আমি এতে কতটা আহত হই। আমার স্নায়ুতন্ত্র এসব কারণে এমনভাবে প্রভাবিত হয়েছে যে আমাকে মানসিক চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হয় প্রতিনিয়ত। এ ব্যপারে আমি আমার স্বামীর সাথে অনেকবার কথা বলেছি। আমি তাকে অনেকবার অনুরোধ করেছি আমার সাথে এভাবে আচরণ না করতে। আমি তার সামনে “তার স্ত্রী” হিসেবে আমার অবস্থান এবং বয়সের ম্যাচুরিটির বিষয়টা তুলে ধরে বলেছি যে তার জন্য এটা উচিত না অন্যদের সামনে আমার সাথে ঠাট্টা করা যাতে তারা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে পারে। আমি এতে সবার সামনে বিব্রতবোধ করি। যেহেতু আমি কখনোই একজন রসিক বা মজাদার মানুষ ছিলাম না, আমি তার সাথে পেরে উঠতাম না। যেহেতু উনি আমার সমস্যাগুলোকে পাত্তাই দেন না আমি তার থেকে আলাদা হয়ে যেতে চাই। আমি জানি আমি নিজে নিজে সুখী হতে পারব না, কিন্ত আমি এমন একজন পুরুষের সাথে বসবাস করতে পারব না যিনি প্রতিনিয়তই আমাকে হেয় করেন।

সব স্ত্রীই চায় যে তাদের স্বামীরা তাদের সম্মান করুক এবং সবাই এটা অপছন্দ করবে যে- তাদের স্বামীরা তাদের অপমান করবে। যদি কোনো স্ত্রী তার স্বামীর অপমানের সামনে চুপ করে থাকে তার মানে এই না যে সে এটা পছন্দ করে। যদি আপনি আপনার স্ত্রীকে সম্মান করেন সেও আপনাকে সম্মান করবে এবং এভাবে আপনাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরালো হবে। আপনি অন্যদের কাছ থেকেও সম্মান পেতে পারেন। যদি আপনি তার সাথে খারাপ আচরণ করেন সেও আপনার সাথে তাই করবে। আবারো দোষটা আপনার, তার না।

প্রিয় জনাব!
বিয়ে করা মানে দাস কেনা না। আপনি একজন মুক্ত মানুষের সাথে দাসের মতো আচরণ করতে পারেন না। আপনার স্ত্রী আপনাকে বিয়ে করেছে এইজন্য যে- যাতে সে তার বাকি জীবন এমন পুরুষের সাথে কাটাতে পারে; যাকে সে ভালবাসে। সে আপনার কাছে তাই আশা করে যা আপনি তার কাছে থেকে আশা করেন। তাই তার সাথে তেমন আচরণই করুন; যেমন আচরণ আপনি তার কাছ থেকে আশা করেন। যে বিয়ে করে, সে যেনো তার স্ত্রীকে সম্মান করে। কারণ, যে একজন মুসলিমকে সম্মান করবে, আল্লাহও তাকে সম্মানিত করবেন।” এছাড়াও মহৎ ব্যক্তি ছাড়া তার স্ত্রীকে কেউ সম্মান করে না, আর নীচ ব্যক্তি ছাড়া কেউ তার স্ত্রীকে অপমান করে না। যে তার পরিবারকে অপমান করবে সে তার জীবন থেকে সুখ হারিয়ে ফেলবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px