📄 যা বলার ছিল
আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। সমস্ত প্রশংসা সেই মহান সত্তার প্রতি; যিনি আমাকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দান করেছেন। লাখো কোটি দরূদ এবং সালাম প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি।
পরিবার হলো সমাজ তথা দেশ ও জাতি গঠনের প্রধান সূতিকাগার। অনুকূল ও প্রেমময় পারিবারিক পরিবেশ মেধার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পারিবারের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সাফল্যকে ত্বরান্বিত করে; মনকে প্রশান্ত করে এবং জীবনকে আনন্দে পরিপূর্ণ করে তোলে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক যতো গভীর, মমতাপূর্ণ ও প্রেমময় হবে; পারস্পরিক আচার-আচরণ যত ইতিবাচক, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত হবে জীবন ততো সুখী, পরিতৃপ্ত ও সার্থক হবে। সুখী পরিবারের ভিত্তি হচ্ছে ভালোবাসা, মমতা, শ্রদ্ধা, শৃঙ্খলা ও আত্মিক একাত্মতা। সব সময় মনে রাখতে হবে, পরিবারে নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। এই আত্মিক একাত্মতাই সুখ সমৃদ্ধির ভিত্তি।
আমাদের সমাজে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত তা অনেকের কাছেই সুস্পষ্ট নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক ভালোবাসা, আনুগত্য, সহযোগিতা ও সমঝোতার। এখানে স্বামীর কর্তৃত্ব বেশি বলে তিনি যেমন ক্ষমতা প্রদর্শন করবেন না, তদ্রুপ স্ত্রীকেও সর্বদা স্বামীর আনুগত্য প্রদর্শন ও তাঁকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে পারিবারিক যে কোনো কলহ-বিবাদ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। বর্তমানে বিয়ে-বিচ্ছেদের যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে- তার পেছনে মূল সমস্যা হিসেবে আনুগত্য, সহযোগিতা ও সমঝোতার ভাব না থাকাকেই মনে করা হয়।
ইসলাম এক পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এতে পরিবার গঠন, পরিচালনা, পরিবারের সদস্যদের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। পারিবারিক জীবনে সুখ, শান্তি ও কল্যাণ পেতে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক আন্তরিকতা ও ভালোবাসার পাশাপাশি প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশিত পথ ও পদ্ধতি অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই।
সুখময় সংসারকে জান্নাতের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। অপরদিকে অশান্তি ও কলহ-বিবাদে জড়ানো পরিবারের তুলনা শুধু জাহান্নামের সঙ্গেই চলে। যেসব পরিবারে ধর্ম ও নৈতিকতার চর্চা কম হয় সেখানেই অশান্তি ও কলহ-বিবাদ বেশি ঘটে বলে গবেষণায় বেরিয়ে আসছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যেমন নেতৃত্বের প্রয়োজন, তেমনি পরিবারও নেতৃত্ববিহীন চলতে পারে না। ইসলাম স্বামীকে নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করেছে আর নেতৃত্বের দাবি হলো- তার অধীনস্থ থাকা এবং আনুগত্য করা। একজন আদর্শ স্বামীর জন্য প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখানো পথ এর চেয়ে উত্তম পথ আর কী হতে পারে! তবে দাম্পত্য কলহ রোধে স্বামীর পাশাপাশি স্ত্রীরও ব্যাপক ভূমিকা রাখা চাই। সংসারে একজন স্বামীর জন্য পালনীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে এ বইতে আলোচনা করা হয়েছে。
স্বামীর আন্তরিকতা, ত্যাগ এবং ধৈর্যের মাধ্যমেই পরিবারে স্ত্রীকে সম্মানিত করা হয়ে থাকে। তাই বইটিতে সংসারে একজন স্বামীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
'দ্য কেয়ারিং হাজব্যান্ড' নামক এই বইটির বেশির ভাগ নিবন্ধ 'প্রিন্সিপল'স অব ম্যারিজ এ্যন্ড ফ্যামিলি ইথিক'স' নামক ইংরেজি বই-এর ছায়াবলম্বনে নিজের মতো করে লেখা হয়েছে। এজন্য মূল বইয়ের লেখকের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ। এই ছোট্ট বইটি যদি কোনো পুরুষ অধ্যয়নের আওতায় রাখেন, আশা করা যায়- তাঁর জীবন সুবিন্যস্ত হয়ে উঠবে এবং তিনি নিজের পরিবারকে সুশৃঙ্খল করার প্রয়োজনীয় প্রেরণা পাবেন- 'ইনশাআল্লাহ'।
একটি বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সুখী পরিবার গড়ে তুলতে এই বইটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে- ইনশাআল্লাহ। সকলের পথচলা সুন্দর হোক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সবাইকে সিরাতুল মুসতাকিমের পথে অটল ও অবিচল রাখুন এবং এই বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কবুল করুন। আমীন।