📘 দ্যা এনাটমি অব ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স > 📄 দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি

📄 দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি


Theme: The Politics of Disequilibrium

ভূমিকা: দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং চলমান সংকটগুলো বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় চরিত্র কেমন (National Characters) এবং আমার উপর প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব (Neighbourhood Effects) কিরকম সেটি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে দক্ষ পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশ এই অঞ্চলের রাজনীতিতে নিজেকে সক্রিয় রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের উদ্যোগে সার্ক গঠন এবং ঢাকায় বিমসটেক এর স্থায়ী সদরদপ্তর স্থাপন এই অঞ্চলে বাংলাদেশকে একটি নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। একই ভাবে আমাদের পাশ্ববর্তী অঞ্চল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্ব বাংলাদেশের কাছে শুধু আর্থিক নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ানকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আরও বেগবান করাও বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই অধ্যায়ে আমরা দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতি ও বাংলাদেশের করণীয় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা সার্ক (SAARC)
দক্ষিণ এশিয়া কৌশলগত এবং ভূরাজনৈতিক কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত এই অঞ্চলটি মোট আটটি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। দক্ষিণ এশিয়ার এই রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছিল সার্ক (SAARC)। SAARC এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- South Asian Association for Regional Cooperation! যাকে বাংলায় বলা হয়- দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। একসময় কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সফলতা হিসেবে দেখা হতো দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা সার্কের গঠনকে। কারণ সার্ক (SAARC) গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের প্রস্তাবেই। সার্ককে ঘিরে বর্তমানে যে ভূরাজনীতিটি হচ্ছে সেটি বিস্তারিত না জানলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিও বুঝতে পারা একটু জটিল হবে। সার্কের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, বাংলাদেশের উদ্যোগে সার্ক গঠন ছিল তৎকালীন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় মাইলফলক ও অর্জন। বিশ্বে তখন ঢাকার সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সফলতার স্মারক ছিল সার্ক।

সার্ক গঠন করার প্রেক্ষাপট
১৯৭৭-১৯৮১ সাল পর্যন্ত এই পাঁচ বছর বাংলাদেশ শাসন করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৭৯ সালে শ্রীলঙ্কা সফর করেন। তিনি শ্রীলঙ্কা সফরকালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে একটি আঞ্চলিক সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন এবং নিজে সক্রিয় উদ্যোগ নেন। তারপর জিয়াউর রহমানের এই উদ্যোগে তৎকালীন ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ অনুপ্রাণিত হন এবং জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সাড়া দেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি আঞ্চলিক সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুতে একাধিক সম্মেলন হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সার্কের নেতৃত্ব দেন। অবশেষে ১৯৮৩ সালে এই ৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সমবেত হয়ে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তারপর ১৯৮৫ সালে ঢাকায় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ১৯৮৭ সালে নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুকে সার্কের সদর দপ্তর হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সার্কের সদস্য রাষ্ট্র: বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান এবং আফগানিস্তান এই ৮টি দেশ সার্কের সদস্য। সার্ক প্রতিষ্ঠার সময় আফগানিস্তান সদস্য ছিল না। ২০০৭ সালে আফগানিস্তান সার্কের সদস্য পদ লাভ করে। তারপর থেকেই সার্কের মোট সদস্য রাষ্ট্র ৮টি। এবার আসি সার্ক গঠনের উদ্দেশ্য কী কী ছিল সেটি নিয়ে।

সার্কের প্রাথমিক উদ্দেশ্য
1. পারস্পরিক সহযোগিতা (Mutual Cooperation): সার্কের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, কারিগরি, বিজ্ঞান প্রভৃতি ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। একই ভাবে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গেও এই সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এমনকি প্রথমদিকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নানাবিধ সমস্যার সমাধান এবং বিভিন্ন বিষয়ে সাফল্যের ক্ষেত্রে সার্ক যথেষ্ট কৃতিত্ব দেখিয়েছিল।
2. উন্নয়ন ও স্বাধীনতা রক্ষা (Development): দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের এই রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক অগ্রগতি এবং সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো ছিল সার্কের আরেকটি অন্যতম উদ্দেশ্য। সার্কের প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের স্বাধীনতা রক্ষা করার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করার শপথ নিয়েছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলো。
3. যোগাযোগ বৃদ্ধি (Communication): সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তথ্যের আদানপ্রদান এবং সেসব দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। এমনকি প্রথমদিকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দক্ষিণ এশিয়ায় বিভিন্ন দেশে সহজে যাতায়াত ও থাকার জন্য সার্ক ভিসার নিয়মকানুনও শিথিল করতে সক্ষম হয়েছিল।
4. নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ (Security and Preventing Terrorism): দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ করাও ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য। সিকিউরিটি জোরদার করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও সংবেদনশীলতার পরিবেশ তৈরি করা ইত্যাদি।
5. হস্তক্ষেপ না করা (Sovereignty): সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা ও অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা সার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। সার্কের চার্টারে বলা হয়েছে দ্বিপাক্ষিক কিংবা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একে অপরের উপরে হস্তক্ষেপ করবে না। যেমন- পাকিস্তান-ভারত দ্বন্দ্ব হলে সেখানে এই দুটি দেশ ছাড়া সেখানে সদস্যভুক্ত অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যেহেতু এটি দ্বিপক্ষীয় সমস্যা তাই ভারত-পাকিস্তান মিলে সমাধান করে নেবে। আর অভ্যন্তরীণ বিষয়টি হচ্ছে এরকম যে, ধরুন ভারতের কাশ্মীরে কাশ্মীরী জনগণ বনাম ভারত সরকারের মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব দেখা দিল, তাই কাশ্মীর যেহেতু ভারতের অংশ তাই সেটি ভারত নিজেই সমাধান করে নেবে। সেখানে সার্কভুক্ত অন্য কোনো রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারবে না এটি হচ্ছে নিয়ম।
6. মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (Free Trade): সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় বাজার ও অর্থনৈতিক লেনদেন বৃদ্ধি করা। অর্থনৈতিক লেনদেন বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালে সার্কের দ্বাদশ সম্মেলনে সাফটা বা 'দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল' নামে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর দ্বারা সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলো আন্তঃবাণিজ্যে শুল্কের হার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি।
7. পুরস্কার (Accolades): দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষ বিশেষ কৃতী মানুষ যারা সমাজের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে অথবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেগুলো সমাজের কল্যাণে অবদান রাখবে তাদেরকে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সার্ক পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা করবে।
৪. খাদ্য নিরাপত্তা (Food Security): সংকট, দুর্যোগ ইত্যাদি সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একে অপরের সাহায্য করবে। খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে ইত্যাদি।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও সার্কের ব্যর্থতা
ভারসাম্যহীনতা (Asymmetric Relationship)
বিভিন্ন দেশের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে আমরা সাধারণত Symmetrical Relationship এবং Asymmetric Relationship নামে দুইটি পরিভাষা ব্যবহার করি। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি রাষ্ট্র যখন রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রায় সমান শক্তিশালী হয় তখন সেই দুটি দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে। কারণ সমান শক্তিশালী হওয়ায় কেউ কারো উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না এবং উভয়েই একে অপরের উপর সমানভাবে নির্ভরশীল হয়। সমান ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলোর মধ্য সম্পর্কটিকে বলা হয় Symmetrical relationship বা সমান্তরাল সম্পর্ক। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার সম্পর্ক, ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যকার সম্পর্ক, রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক ইত্যাদি। কিন্তু যখন এমন দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক হয় যেখানে একটি রাষ্ট্র রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী আর অপর রাষ্ট্রটি অনেক বেশি দুর্বল। তখন সেই দুটি রাষ্ট্রের সম্পর্ককে বলা হয় Asymmetric Relationship বা সামঞ্জস্যহীন সম্পর্ক। যেমন- যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক, ভারত ও নেপালের মধ্যকার সম্পর্ক, অস্ট্রেলিয়া ও নাউরুর মধ্যকার সম্পর্ক, চীন ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার সম্পর্ক ইত্যাদি। একটি বড় রাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ছোট রাষ্ট্রের তুলনা করলে দেখা যায় সেখানে ভারসাম্য বজায় থাকে না। কারণ বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের উপর যতটা নির্ভরশীল হবে যুক্তরাষ্ট্র কিন্তু বাংলাদেশের উপর ততটা নির্ভরশীল হবে না। নেপাল ভারতের উপর যতটা নির্ভরশীল হবে ভারত কিন্তু নেপালের উপর ততটা নির্ভরশীল হবে না। এখন সার্ক নিয়ে সমস্যাটি হচ্ছে ঠিক এখানেই। সার্কভুক্ত আটটি দেশের মধ্যে ভারতের একা যে পরিমাণ ইকোনমিক এবং রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, বাংলাদেশ এই সবগুলো দেশ একসাথে করলেও সেই পরিমাণ শক্তি হবে না। কারণ সার্কের বড় দেশ ভারতের অর্থনীতি জোটের অন্য সব দেশের মোট অর্থনীতির সঙ্গে তুলনীয়। সার্কের অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, একটি বড় দেশ ও তাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ছোট রাষ্ট্রের সংগঠন। তাই এখানে ভারত 'বড় ভাই' বা 'Big Brother Mind' এর ভূমিকাটি প্রয়োগ করছে। সার্ক ব্যর্থ হওয়ার পেছনে এই Asymmetric Relationship'টি হলো একটি অন্যতম এবং প্রাকৃতিক কারণ। এটিই বাস্তবতা। কারণ দিল্লিতে যে পরিমাণ Capital Flow হয় সেটি কাঠমুন্ডু, ইসলামাবাদ কিংবা ঢাকাতে হয় না। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে লক্ষ্য করুন সেখানে একক আধিপত্য বিস্তারকারী কোনো দেশ নেই। সেখানে ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, পোল্যান্ড, ইতালির মতো অনেকগুলো বড় রাষ্ট্র রয়েছে। তাই সেখানে কেউ একক আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। আর সেজন্য সেখানে একটি ভারসাম্য রয়েছে যেটি আমাদের সার্কে নেই।

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব
সার্কভুক্ত ৮টি রাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী দুইটি রাষ্ট্র হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। কারণ দুটি দেশেরই আছে পারমাণবিক শক্তি। কিন্তু ১৯৪৭ সালে জন্মের পর থেকেই এই দুটি রাষ্ট্র একে অপরের শত্রু। সীমান্ত নিয়ে চলছে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ। দুটি দেশের মধ্যে সবসময় যুদ্ধযুদ্ধ ভাব বিরাজ করে। তাই আঞ্চলিক স্বার্থে এই দুটি দেশ কখনো একমত হতে পারে না। কারণ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের রয়েছে আলাদা আলাদা স্বার্থ। তার উপর রয়েছে এই অঞ্চল নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতা। একদিকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ যেখানে পাকিস্তান প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বা কোয়াড যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে এই অঞ্চলে ভারত কাজ করছে। ঠিক একারণে সার্কের কোনো সিদ্ধান্তে ভারত ও পাকিস্তান একমত হতে পারে না। সার্কের গৃহীত কোন সিদ্ধান্তে এই দুই দেশের কোনো একটি ভেটো দিলে সার্কের সেই সিদ্ধান্তটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। আজ সার্ক একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ সংস্থায় পরিণত হওয়ার মূল এবং একমাত্র কারণ ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব। ভারত-পাকিস্তানের রেষারেষি সার্ককে একটি পঙ্গু সংস্থায় পরিণত করেছে। আজকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেন এত সফল? কারণটি হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে (ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, ইতালি ইত্যাদি) সীমানা নিয়ে, আধিপত্য নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মতো এত দ্বন্দ্ব নেই। মূলত, ভারত- পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় বিরোধের ক্রসফায়ারে সার্ক এখন মৃত্যুপথযাত্রী।

আঞ্চলিক বিভেদ (Regional Disintegration)
একটি অঞ্চলে সুসম্পর্ক গড়ে উঠার আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যতা (Melting Pot)। দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে ধর্ম, ভাষা, বর্ণ, গোষ্ঠী ইত্যাদির ভিত্তিতে রয়েছে নানা দল উপদল (Heterogeneous Society)। যে কারণে এই অঞ্চলে জাতিগত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, Identity Politics ইত্যাদি প্রকট।

একটি বাস্তব সত্যি হচ্ছে যে, পাকিস্তানি জনগণের মধ্যে ভারত বিরোধী মনোভাবটি Inherently বা জন্মগতভাবেই চলে আসে কাশ্মীর, সীমান্ত, ধর্মীয় ইত্যাদি কারণে। তেমনিভাবে ভারতের জনগণও ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানকে নিজেদের শত্রু ভাবে। অন্যদিকে আমরা যদি বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করি তাহলে আমরা দেখতে পাই ভারতের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের একটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান। তার অন্যতম কারণ লিথাল ওয়েপন ব্যবহার করে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে হত্যা, বন্যার পানি ছেড়ে দেওয়া, তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়া, ভারতের Citizenship Amendment Act (CAA) ইত্যাদি বিষয়গুলো। শ্রীলঙ্কায় ভারত বিরোধী মনোভাবের অন্যতম দুইটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, শ্রীলঙ্কা মনে করছে শ্রীলঙ্কার তামিল জঙ্গিদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের ঘটনার সাথে ভারত জড়িত। শ্রীলঙ্কা মনে করছে তামিল জঙ্গিদেরকে ভারত মদদ দিচ্ছে এবং সহযোগিতা করছে। দ্বিতীয়ত, শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে ভারতের হস্তক্ষেপ শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে। অর্থাৎ আঞ্চলিক ঐক্যকে দৃঢ় করবে, এমন কোনো কার্যকরী বৈশিষ্ট্য নেই দক্ষিণ এশিয়াতে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ধর্মগত (ইসলাম) একটি মিল থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো না। একই ভাবে জঙ্গিবাদের ইস্যুতে আফগানিস্তানের সাথেও বাংলাদেশের সম্পর্ক অতটা ভালো নয়। তাই সার্ক ব্যর্থ বা অকার্যকর হওয়ার পেছনে আঞ্চলিক বিভেদ বা Regional Disintegration কে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

চায়নার উপস্থিতি (China's Role to SAARC)
সার্কভুক্ত ০৮ দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হলো ভারত। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রতিবেশি রাষ্ট্র চীন অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতের চেয়েও বহুগুণে শক্তিশালী। একই অঞ্চলের বা সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ইত্যাদি দেশগুলো ভারতের কাছে আশানুরূপ সহযোগিতা পাচ্ছে না। সার্কের বা দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের কাছে এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর যে প্রত্যাশা তা ভারত আশানুরূপ মিটাতে পারছে না। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে চীন। সার্ক অকার্যকর হওয়ায় ভারতের তেমন লাভ হয়নি বরং ভারতের প্রতিবেশি দেশগুলোতে সহজভাবে প্রভাব তৈরি করতে পেরেছে প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। সার্কভুক্ত এই ছোট ছোট দেশগুলোকে 'দুই হাতে' দিচ্ছে বেইজিং। সার্কভুক্ত দেশগুলোর বড় বড় মেগা প্রজেক্টে চীন অর্থায়ন করছে এবং অবকাঠামো খাতে ঋণ দিচ্ছে চীন। তাই বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি রাষ্ট্রগুলো চীনমুখী হচ্ছে। আর ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান তো অবশ্যই চীনের 'All Time Friend' বা 'সব সময়ের বন্ধু' হিসেবে পরিচিত। নেপাল অতীতে দীর্ঘদিন ধরে ভারতের প্রভাবলয়ের মধ্যে থাকলেও গত এক দশকে চীনের কাছ থেকে সড়ক ও অবকাঠামোগত অনেক সহায়তা পেয়েছে, এখনো পাচ্ছে। এমনকি সার্ক নেতারা মাঝে মাঝে কাঠমান্ডুতে যে সরকারি বাসভবনে বসে সম্মেলন করে, তা-ও চীনের সহায়তায় তৈরি। যদিও সার্কভুক্ত দেশগুলোতে চীনের সহায়তা প্রদান ও ঋণদান প্রকল্পে চীনের মূল উদ্দেশ্য তার Debt Trap Policy এবং Belt and Road Initiative প্রকল্প বাস্তবায়ন করা, তবুও বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এসব দেশগুলো সার্কের থেকেও অধিক পরিমাণে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে চীনের উপর।

নিয়মিত হচ্ছে না শীর্ষ সম্মেলন (Irregular SAARC Summit)
১৯৮৫ সালে গঠিত হওয়া সার্কের বয়স ৩৭ অতিক্রম করলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখ করার মতো তেমন কোনো অর্জন নেই সার্কের। সার্কভুক্ত দেশগুলোর দেড়শো কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৪০ ভাগই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। প্রতি দুই বছর পরপর সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে একটি সম্মেলন করা হচ্ছে সার্কের নিয়ম। কিন্তু প্রতি দুই বছর অন্তর আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলন এখন অনিয়মিত হয়ে গিয়েছে। যেখানে পৃথিবীর সকল সফল আঞ্চলিক সংস্থাগুলো নিয়মিত সম্মেলন আয়োজন করছে সেখানে দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সার্কের শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে না বললেই চলে। ২০১৬ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে সার্কের ১৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের উরির সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সম্মেলন বয়কট করে ভারত। ভারতের সাথে সাথে এই সম্মেলন বয়কট করে বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। এরপর থেকে মোটামুটি অকার্যকর দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাময়ী এই সংস্থাটি। পরবর্তীতে আর সম্মেলনটি হয়নি। সার্কের এখন পর্যন্ত ১৮টি শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে। এর তিন দশকের ইতিহাসে দ্বিপক্ষীয় বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে বার্ষিক সার্ক সম্মেলন ১১ বার স্থগিত করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সার্কের অধীনে অসংখ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে সেগুলো পর্যাপ্তভাবে এখনো কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) প্রায়শই সার্কের একটি বিশিষ্ট ফলাফল হিসেবে হাইলাইট করা হয়, তবে তা এখনো কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে শুরু করে করোনাকালীন কোনো দৃশ্যমান গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ সার্ক থেকে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাস্তবায়ন হচ্ছে না সাফটা চুক্তি- [The South Asian Free Trade Area (SAFTA)]
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) এর মূল কথা ছিল সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো কম শুল্কে বাণিজ্য হবে এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সার্কভুক্তদেশগুলো এ চুক্তি স্বাক্ষর করে। সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অবশেষে ২০০৬ সালের পহেলা জানুয়ারি সার্ক সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করার মাধ্যমে সাফটা চুক্তি বলবৎ করা হয়েছিল। বিনিয়োগ, উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনার প্রসার, বাণিজ্যের প্রসার ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশসমূহের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সাফটার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। সাফটা চুক্তির ভূমিকায়ও সুবিধাজনক বাণিজ্য ব্যবস্থায় সদস্যভুক্ত দেশসমূহে আন্তঃসীমান্ত পণ্য আদান-প্রদানের অসুবিধা দূরীকরণের মাধ্যমে উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার অভিপ্রায় ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছিল। এছাড়া ভিসামুক্ত দক্ষিণ এশিয়া ও অভিন্ন মুদ্রা চালুর ব্যাপারটিও আলোচনা হয়েছিল।

২৫ অনুচ্ছেদ সম্বলিত সাফটা চুক্তিতে নিম্নোক্ত চারটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য চিহ্নিত করা হয়েছে :
এক, চুক্তিভুক্ত সদস্যদেশসমূহের বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ ও এ সকল দেশে আন্তঃসীমানা পণ্য আদানপ্রদানের প্রবাহকে সহায়তা প্রদান।
দুই. এ সকল দেশে স্বকীয় অর্থনৈতিক অবস্থার আলোকে মুক্তবাণিজ্য এলাকাভুক্ত অঞ্চলে ন্যায্য প্রতিযোগিতার এবং পক্ষপাতমুক্ত ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সুবিধাদির প্রবর্তন।
তিন. সাফটা চুক্তির বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, যুগ্ম ব্যবস্থাপনা এবং বিরোধের নিষ্পত্তি।
চার. আঞ্চলিক সহযোগিতার অধিকতর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো স্থাপন এবং পারস্পরিক সুবিধাদি বৃদ্ধি। সার্ক সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছিল।

বাণিজ্য প্রসারিতকরণের উদ্দেশ্যে সাফটা বা SAFTA চুক্তিটি ছিল সার্কের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সফলতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল সাফটা চুক্তির ফলে চুক্তিভুক্ত দেশসমূহে বাণিজ্যের প্রসার ঘটেনি। দেখা যায় যে, এ চুক্তির বাস্তবায়ন বাণিজ্য উদারীকরণ পরিকল্পনার মধ্যেই সীমিত। দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও অসহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে এই চুক্তির ফলে বাণিজ্যের পরিধিও বাড়েনি, পরিমাণও বৃদ্ধি পায়নি। উল্লেখ্য, অনেকেই একটি বিষয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। সেটি হলো সাফটা (SAFTA) ও সাপটার (SAPTA) মধ্যে (একটিতে 'F' অন্যটাতে 'P')। ২০০৪ সালে স্বাক্ষরিত হওয়া সাফটা চুক্তির পূর্বে বাণিজ্য সংক্রান্ত আরেকটি চুক্তি ১৯৯৩ সালে ঢাকায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ঐ চুক্তিটি ইংরেজিতে SAARC Preferential Trading Arrangement, সংক্ষেপে SAPTA (সাপটা) নামে অভিহিত। সাপটার আওতায় চুক্তিবদ্ধ দেশসমূহের মধ্যে বাণিজ্য উদারীকরণ, বাণিজ্যের ভারসাম্যহীনতার ক্ষতিকর দিক প্রতিরোধ করা, সব পণ্যের জন্য শুল্কহ্রাস, খাতভিত্তিক পণ্যের আদান-প্রদান এবং প্রত্যক্ষ বাণিজ্য ইত্যাদি ছিল সাপটার উদ্দেশ্য। সাপটা (SAPTA) চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি বলেই ২০০৬ সালে সাপটা চুক্তি বিলোপ করে সাফটা (SAFTA) চুক্তি গ্রহণ করা হয়েছিল।

সার্ক মোটরযান চুক্তি (এমভিএ)
২০১৪ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে আয়োজিত ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় "সার্ক রিজিওনাল মোটর ভেহিক্যাল এগ্রিমেন্ট” নামে। এই চুক্তির মূল বিষয়বস্তু ছিল এরকম যে, সার্কের সবগুলো সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে এমন একটি সড়ক তৈরি করা হবে যার মাধ্যমে ঠিক ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতোই সার্কভুক্ত দেশগুলোও কোনো ভিসা ছাড়াই নিজের ইচ্ছেমতো এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরতে পারবে। একই ভাবে রেলপথেও সার্ক অঞ্চলের যে-কোনো দেশে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করা যাবে। এভাবেই স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে। 'সার্ক রিজিওনাল মোটর ভেহিক্যাল এগ্রিমেন্ট ফর সার্ক মেম্বারস স্টেটস' শীর্ষক চুক্তির তৈরি করা খসড়ায় এটিও বলা হয়েছিল সরকারি- বেসরকারি দুই ধরনের ট্রাক বা বাস চলাচল করতে পারবে। অনুমোদন নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেও ট্রানজিট নিতে পারবেন যে-কোনো সার্ক নাগরিক। তবে পরিবহন গাড়িগুলোর বৈধ নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, বিমা পলিসি থাকতে হবে এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন সনদও নিতে হবে। আবার পণ্য খালাস ও উঠানো যাবে। তবে গাড়ি প্রবেশের সময় প্রতিটি দেশের নির্ধারিত কাস্টম শুল্ক দিতে হবে। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে গাড়ি চালানোর জন্য গাড়িচালকের বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে, যা সার্ক সচিবালয় বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করবে। এছাড়া দুর্ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে গাড়ির আঞ্চলিক বিমার শর্ত রাখা হয়েছে। যে-কোনো দেশেই এ বিমা করা যাবে। আর যেহেতু শ্রীলঙ্কা ও দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ সরাসরি কোনো রাষ্ট্রের সাথে সংযুক্ত নয় তাই এই দুটি দেশ নির্দিষ্ট সমুদ্র বন্দরে এসে তারপর সেখান থেকে সড়কপথে যেখানে ইচ্ছে সেখানে যেতে পারবে। এই এগ্রিমেন্ট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর শুধু পাকিস্তান ছাড়া সবগুলো দেশ রাজি হয়েছিল। পাকিস্তান এই চুক্তিতে রাজি না হওয়ার কারণে এটি আর সফল হয়নি। এখন প্রশ্ন হতে পারে- পাকিস্তান কেন এই অভিন্ন সড়কপথের বিরোধিতা করছে? উত্তরটি হচ্ছে দুইটি। প্রথমত, পাকিস্তানের ভয় দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশকে সংযুক্ত করে এমন একটি সড়ক পথ হলে সেটির সবচেয়ে সুবিধা লাভ করবে ভারত। পাকিস্তান মনে করছে ভারতের বিশাল জনসংখ্যা থাকায় এই সড়কপথে ভারতের আধিপত্য বৃদ্ধি পাবে যা পাকিস্তানের জন্য হুমকি। বিভিন্ন রাষ্ট্রে অবাধ চলাচলের সুযোগ হয়ে গেলে এই অঞ্চলে ভারতের গোয়েন্দা তৎপরতা বহুগুণে বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা পাকিস্তানের। দ্বিতীয়ত, চীন হচ্ছে পাকিস্তানের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোকে চীন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাই দক্ষিণ এশিয়াতে যদি একটি অভিন্ন সড়কপথ হয়ে যায় তাহলে সেটি চীনের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ দেশগুলো তখন চীনের প্রকল্পের উপর কম নির্ভরশীল হবে। যেহেতু চীন এটি চাচ্ছে না, তাই পাকিস্তান এই সার্ক মোটরযান চুক্তিতে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

উপ আঞ্চলিকতাবাদ (Sub Regionalism)
সার্ক মোটরযান চুক্তি (এমভিএ) থেকে পাকিস্তান সরে যাওয়ায় সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। তাই ভারত ও বাংলাদেশ উপ আঞ্চলিকতাবাদের দিকে জোর দিয়েছে। জোর দিচ্ছে উপ আঞ্চলিক "বিবিআইএন” কাঠামোর উপর। বিবিআইএন বা “বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল সংযুক্তি” হলো সার্কভুক্ত চারটি দেশ নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি পরিকাঠামো। যেটির উদ্দেশ্য জলের উৎসের সঠিক ব্যবহার এবং এই চারটি দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সার্ক গঠনের ১২ বছর পর যখন ১৯৯৭ সালে বিবিআইএন (BBIN) গঠিত হয় তখনই বলা হয়েছিল সার্কের গুরুত্ব কমে যাবে। ভুটান এই উপ আঞ্চলিক উদ্যোগে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শামিল হয়নি। কারণ ভুটান মনে করে, এই উদ্যোগে শামিল হলে তার পরিবেশ ও প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে ভুটানের Gross National Happiness (GNH) বৃদ্ধির লক্ষ্য ব্যাহত হবে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সুখী দেশ ভুটান তার জীবনযাপনের মান বিচার করার জন্য জিডিপি এর পরিবর্তে Gross National Happiness (GNH) কে ব্যবহার করে।

বিমসটেক গঠন, সার্কের সম্ভাবনা ও পুনরায় কার্যকরী করে তোলার উপায়
বিমসটেক বা BIMSTEC এর প্রেক্ষাপট: ১৯৯৭ সালের ৬ জুন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে- ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড এই চারটি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংস্থা BISTEC (বিসটেক)। সংস্থার নাম দেওয়া হয়েছিল উপরিউক্ত চারটি দেশের নামের অদ্যাক্ষর দিয়ে। পূর্ণরূপ হচ্ছে BISTEC: Bangladesh, India, Sri Lanka, Thailand Economic Cooperation। পরে ১৯৯৭ সালে যখন মিয়ানমার এতে যোগ দেয় তখন BISTEC- এর সাথে M যুক্ত হয়ে তা হয়ে যায় BIMSTEC। তারপর ২০০৪ সালে নেপাল ও ভুটান জোটে যোগ দেয়। জোটের সদস্য সংখ্যা হয়ে দাঁড়ায় ০৭ টি- ভারত, বাংলাদেশ, নোপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড। এর মধ্যে প্রথম পাঁচটি দেশ দক্ষিণ এশিয়ার আর পরবর্তী দুইটি দেশ (মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড) দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ার। আমরা জানি যে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য স্বতন্ত্র আঞ্চলিক সংস্থা হচ্ছে সার্ক (SAARC) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য স্বতন্ত্র আঞ্চলিক সংস্থা হচ্ছে আসিয়ান (ASEAN)।

কিন্তু বিমসটেক এমন একটি সংস্থা যেখানে দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এই দুইটি অঞ্চলেরই সমন্বয় ঘটেছে। তাই অনেকে বিমসটেককে Inter-Regional বা আন্তঃআঞ্চলিক সংস্থাও বলে থাকেন। একই ভাবে বিমসটেককে একটি উপ-আঞ্চলিক সংস্থাও বলা হয় এই অর্থে যে, এখানে সার্কের সবগুলো দেশ নেই এবং আসিয়ানেরও সবগুলো দেশ নেই। প্রতিষ্ঠার ৭ বছর পর ২০০৪ সালের ৩১ জুলাই বিমসটেকের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং জোট সদস্য ৭টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা এতে অংশগ্রহণ করেন। প্রথম শীর্ষ সম্মেলনে নামের সংক্ষিপ্ত রূপটি অর্থাৎ BIMSTEC এটি ঠিক রেখে পূর্ণরূপটি পরিবর্তন করা হয়। পূর্ণরূপ দেওয়া হয় "BIMSTEC- Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation"। বিমসটেক এর স্থায়ী সদরদপ্তর বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত এবং ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা উদ্বোধন করেন।

বিমসটেক-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
বিমসটেক এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বঙ্গোপসাগর উপকূলের দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা। ব্যবসা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পর্যটন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন, মৎস্য সম্পদ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পোশাক ও চামড়া শিল্প ইত্যাদি ক্ষেত্রগুলোতে পরস্পরকে সহযোগিতা করা।

বিমসটেক এর ১৪টি সেক্টর: পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে বিমসটেকে মোট ১৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই চৌদ্দটি সেক্টরের দায়িত্ব আবার সদস্যভুক্ত সাতটি দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
১. Business: ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে প্রধান ভূমিকা পালন এবং দেখাশোনার দায়িত্বে থাকবে বাংলাদেশ।
২. Climate Change: জলবায়ু পরিবর্তন এর ক্ষেত্রে সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ নেতৃত্বে থাকবে।
৩. Transportation: পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ভারত মুখ্য ভূমিকা পালন করবে।
৪. Tourism: পর্যটন খাতের সহযোগিতায় থাকবে ভারত।
৫. Preventing Terrorism: সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেবে ভারত।
৬. Environment: পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও সহযোগিতা করবে ভারত।
৭. Natural Resources: প্রাকৃতিক সম্পদ বিশেষ করে Energy খাতের সহযোগিতায় মুখ্য ভূমিকা পালন করবে মায়ানমার।
৮. Agriculture: কৃষি খাতে সহযোগিতায় মিয়ানমার প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
৯. Technology: প্রযুক্তি খাতের দায়িত্বে থাকবে শ্রীলঙ্কা।
১০. Fisheries: মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে থাইল্যান্ড।
১১. Communication: জনসংযোগ অথবা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়গুলো দেখাশোনা করবে থাইল্যান্ড।
১২. Public Health: সদস্যভুক্ত দেশগুলোর জনস্বাস্থ্যে নজর রাখবে থাইল্যান্ড।
১৩. Poverty Alleviation: দারিদ্র্য দূরীকরণের দায়িত্বে থাকবে নেপাল।
১৪. Culture: সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো দেখাশোনা করবে ভুটান।

সার্ক ও বিমসটেক এর মধ্যে তুলনা
বিশ্লেষকদের দাবি বাংলাদেশ ও ভারত দুটি রাষ্ট্রেরই পাকিস্তান ছাড়া এই অঞ্চলে আরেকটি আলাদা জোট গঠন করার অভিপ্রায় ছিল। ২০১৬ সালে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে সার্কের সামিট বাতিল হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে 'BRICS- BIMSTEC Outreach Summit' নামে একটি সম্মেলন হয়। আর সেখানে ভারতেরও প্রস্তাব ছিল SAARC without Pakistan এমন কিছু করার জন্য। তাই বিমসটেকে যেহেতু পাকিস্তান নেই তাই সার্ককে বিমসটেকের বিকল্প ভাবা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, সার্কের গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে দ্বিপাক্ষিক দ্বন্দ্ব নিয়ে সার্কে আলোচনা করা যাবে না। কিন্তু আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে সার্ক আজকে অচল দ্বিপাক্ষিক দ্বন্দ্বের কারণেই। ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব, আফগানিস্তান-ভারত দ্বন্দ্ব, বাংলাদেশ-ভারত সমস্যা ইত্যাদি দ্বিপাক্ষিক দ্বন্দ্ব যদি সার্ক সমাধান করতে না পারে তাহলে সার্কের কাজ কী? সার্ক যদি এসব দ্বিপাক্ষিক দ্বন্দ্বের সমাধানকে তার গঠনতন্ত্রের বাহিরে রাখে তাহলে সার্কের প্রয়োজন শেষ হয়ে গিয়েছে বলাটাই উত্তম। সেদিক থেকে বিমসটেকে গুরুত্বারোপ করাটাই শ্রেয়। তৃতীয়ত, সার্কে কোন প্রস্তাব পাশ হতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের পরিবর্তে ১০০% ভোট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে কোনো প্রস্তাব পাশ হতে শতভাগ সমর্থন পাওয়া অসম্ভব। ভারত যেই প্রস্তাবে হ্যাঁ বলবে পাকিস্তান সেই প্রস্তাবে না বলবে এটাই স্বাভাবিক। তাই কোনো প্রস্তাব শতভাগ ভোটও পাবে না এবং প্রস্তাব আজীবন প্রস্তাব আকারেই থাকবে; কখনো পাশ হবে না। তাই সার্কের পরিবর্তে বিমসটেকে গুরুত্বারোপ করা যেতে পারে। চতুর্থত, বিমসটেকে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। সমুদ্র জয়ের পর বাংলাদেশের কাছেও বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়াও বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে ইন্দো-প্যাসিফিক, অকাস, জাপানের বিগ-বি, চীনের আগ্রহ ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রমাণ করে এই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সার্কের চেয়ে বিমসটেকের দিকে ঝুঁকাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে সদস্য দেশগুলো।

বিমসটেকে কেন আগ্রহ ভারতের?
সার্কের সঙ্গে বিমসটেকের গঠনগত পার্থক্য হলো সার্কের সদস্যভুক্ত আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, পাকিস্তান বিমসটেেকে নেই। আবার বিমসটেকের মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড সার্কে নেই। গঠনগত এই ভিন্নতার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ভারত চাইছে সার্কের মৃতদেহের উপর বিমসটেক সক্রিয় হয়ে উঠুক। কারণ, সার্কের একটি স্যাটেলাইট এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোয় গাড়ি চলাচলের (মোটরযান চুক্তি) যে প্রস্তাব ভারত দিয়েছিল সেখানে পাকিস্তান বিরোধিতা করেছিল। কারণ পাকিস্তান চীনের সঙ্গে তার অর্থনৈতিক করিডোর গড়ছে। ভারত-পাকিস্তান এসব দ্বন্দ্বের কারণে ভারত বিগত কয়েকবছর ধরে সার্কের পরিবর্তে বিমসটেকে বেশি জোর দিচ্ছে। কারণ বিমসটেক এ পাকিস্তান নেই। এমনকি পাকিস্তানকে সার্কের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে অনিচ্ছুক ভারত, যার জন্য তারা বিমসটেককে পুনরুজ্জীবিত করেছে। সার্কের পরিবর্তে ভারতের বর্তমান চিন্তা বিমসটেককে নিয়ে। দেখুন এখানে বিমসটেক বলতে বোঝানো হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দেশগুলো। সেটি নামের মধ্যেই স্পষ্ট করে বলা আছে -Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation I

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ভুটান ও নেপাল মোটেই বঙ্গোপসাগর লাগোয়া দেশ নয়। বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে তাদের কোনো সীমানাও নেই। ভুটান ও নেপাল হচ্ছে ভারতের উত্তরে অবস্থিত। মূলত, ভারতের চাপে বা অনুরোধেই যে তারা এই জোটভুক্ত হয়েছে, সেটি অনুমান করা যায়। সার্ককে নিষ্ক্রিয় করে বিমসটেককে শক্তি যুগিয়ে ভারত মূলত কয়েকটি উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চাইছে। প্রথমত, পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া। এটির মূল পয়েন্ট আঞ্চলিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে একঘরে করা। পাকিস্তান সার্কে থাকলেও বিমসটেেকে তাদের নেওয়া হয়নি। এমনকি তাদেরকে সদস্য হওয়ার জন্যেও অনুরোধ করা হয়নি। ভারতের উদ্দেশ্য সার্ককে নিষ্ক্রিয় করে বিমসটেককে সক্রিয় করার মাধ্যমে পাকিস্তানকে এই অঞ্চলে কোণঠাসা করা। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারকে অন্তর্ভুক্ত করা। কারণ ভারত দিল্লি থেকে সেভেন সিস্টার্সভুক্ত রাজ্যগুলো হয়ে মিয়ানমার দিয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত সড়কপথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবে। তৃতীয়ত, ভারতের উদ্দেশ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের উদীয়মান আধিপত্য মোকাবিলাতেও বিমসটেক কাজে লাগবে। আসলে সার্ককে নিষ্ক্রিয় করে বিমসটেককে সক্রিয় করার মাধ্যমে ভারতে যে খুব বেশি সফলতা পেয়েছে বিষয়টি এরকম নয়। সার্কের মতো বিমসটেকও এখন মৃতপ্রায়। প্রথম কারণ হলো ভারত ও ভুটান ছাড়া বিমসটেকের অপর পাঁচটি দেশ ইতোমধ্যে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরই) যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ উভয়ই বিমসটেকের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো সুফল পাচ্ছে না বাংলাদেশ। একই ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতও এগিয়ে আসছে না। বরং রোহিঙ্গা সমস্যার শুরুতেই ভারতের সমর্থন মিয়ানমারের দিকে। তাই বাংলাদেশ সার্কের মতো বিমসটেকেও তার আগ্রহ হারিয়েছে।

মূল্যায়ন: সার্কে দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ না থাকলেও অতীতে সার্কের মাধ্যমে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের চরম উত্তেজনা দুইবার সমাধান হয়েছিল। প্রথমবার ১৯৮৭ সালে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সার্কের দ্বিতীয় সম্মেলনে। ১৯৮৬-১৯৮৭ তে রাজস্থান সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সৈন্য সমাবেশ ঘটেছিল। তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জিয়াউল হক, আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজিব গান্ধী। 'অপারেশন ব্রাসট্যাক্স' নামে এই সৈন্য সমাবেশের মধ্যেই বেঙ্গালুরুতে সার্কের দ্বিতীয় সম্মেলনে জিয়াউল হক ও রাজীব গান্ধী বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের সেই ব্যক্তিগত আলাপের পর তৎক্ষণাৎ সৈন্য সমাবেশ সরিয়ে পরিস্থিতি ঠান্ডা হয়েছিল। দ্বিতীয়টি ২০০১-২০০২ সালে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে পুনরায় সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। ২০০৪ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ১২তম সার্ক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান সফর করেন। তাদের সাথে আলোচনা হয়। তারপর হঠাৎ করেই দুই দেশের সাথে সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। কিন্তু সময়ের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। একুশ শতকের তৃতীয় দশকে এসে বিশ্ব রাজনীতির অনেক কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানকে নিয়ে পরাশক্তি চীনের পরিকল্পনা, ভারতকে নিয়ে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে আরও জটিল করে তুলবে সামনের দিনগুলো। তাই ভারত-পাকিস্তান বৈরিতার কোনো সমাধান আসলে নেই। আমরা যতই বলি যে, সার্ককে পুনরায় কার্যকরী করে তুলতে সার্ক সনদ সংস্কারের প্রয়োজন। আসলে সনদ সংস্কার করেও আদৌ কোনো লাভ নেই যতদিন পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের কোনো সমাধান না হয়। আর পৃথিবী যতদিন থাকবে ভারত-পাকিস্তানের দ্বন্দ্বও ততদিন থাকবে। দু-দেশের মধ্যে শুধু বর্ডার নিয়েই কনফ্লিক্ট নয়, সমস্যাটি মনস্তাত্ত্বিক, ধর্মীয় বিভাজন, তন্মধ্যে আবার কাশ্মীর ইস্যু, আঞ্চলিক আধিপত্য, দু-দেশকে নিয়ে পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনীতি ইত্যাদি এই দুই দেশের সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। তাই সার্ককে কার্যকরী করে তোলার জন্য বুদ্ধিজীবীদের থেকে যতই পরামর্শ আসুক না কেন আদতে কোনো লাভ নেই। তাই সার্ক নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো কিছু নেই। তাই বাংলাদেশেরও উচিত এসব কথিত আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর উপর জোর না দিয়ে ধনী রাষ্ট্রগুলোর সাথে কীভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন করে নিজের স্বার্থ হাসিল করা যায় সেদিকে মনোযোগ দেওয়া। বাংলাদেশের উচিত জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে জাতীয় শক্তিকে আরও শক্তিশালী করা।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংস্থা আসিয়ান এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এর ভূমিকা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তথা আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলো-সহ চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের যে কূটনৈতিক সম্পর্ক সেটিকে পূর্বমুখী পররাষ্ট্রনীতি বা Look East Diplomacy বলা হয়। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে এই রাষ্ট্রগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে দেখছে। মিয়ানমার, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম ইত্যাদি হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই রাষ্ট্রগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা হচ্ছে আসিয়ান (ASEAN)। ১৯৬৭ সালের ৮ আগস্ট গঠিত হওয়া এই জোটের পূর্ণরূপ হচ্ছে- Association of Southeast Asian Nations (ASEAN)। আসিয়ান এর মূলনীতি হচ্ছে; (ক) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একে অপরের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা, (খ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংগঠিত চলমান সংঘাতগুলো নিষ্পত্তিকরণ, (গ) একে অপরের জাতীয় পরিচয়ের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা ইত্যাদি। এবার আসি আসিয়ানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে। এই আঞ্চলিক জোটের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনে আলোচনা করা এবং সমাধানের চেষ্টা করা। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা, কারিগরি ও প্রশাসনিক উন্নতি সাধনের মাধ্যমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দারিদ্র্য-ক্ষুধা, নিরক্ষরতা এবং স্বাস্থ্য সমস্যা দূরীকরণের মাধ্যমে জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধিতে কাজ করা। তৃতীয়ত, ন্যায়বিচার, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতিসংঘ সনদকে আমলে নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা।

আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় ক্যারেক্টার ভিন্ন ভিন্ন। তাই এই অঞ্চলের যে-কোনো ইস্যুত্তে তাদের অবস্থানও ভিন্ন। রাষ্ট্রগুলোর People to People সম্পর্কের দিকে নজর দিলে দেখা যায় যে, এখানকার বাসিন্দাদের ধর্মপরিচয় ভিন্ন। তবে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, প্রায় সবগুলো দেশেই রয়েছে পরিপক্ক গণতন্ত্রের অভাব। থাইল্যান্ডে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেনাবাহিনীর সক্রিয়তা লক্ষণীয়। লাওসে আবার একদলীয় শাসন বিদ্যমান (Catch-all Party)। উল্লেখ্য, এই Catch-all Party এর মূল কথা হচ্ছে, রাষ্ট্রের অন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে দমিয়ে রেখে একা আধিপত্য বিস্তার করা। এটিকে আবার অনেকে Big Tent হিসেবে উল্লেখ করে। ঐতিহাসিকভাবে মিয়ানমারে সেনাশাসন বিদ্যমান। মাঝখানে যে কয়েকদিন মিয়ানমারে গণতন্ত্র ছিল সেখানে আবার পার্লামেন্টের মোট আসনের ২৫% বরাদ্দ ছিল সেনাবাহিনীর জন্য। এখন আবার পুরো দেশের শাসনক্ষমতা দখলে নিয়েছে দেশটির মিলিটারি জান্তারা। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনাই এই তিনটি দেশ মুসলিম প্রধান। ব্রুনাইতে রয়েছে রাজতন্ত্র। মালয়েশিয়াতে গণতন্ত্র থাকলেও সেটি অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। যাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় Controlled Democracy বলা হয়। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে যে-সকল স্বৈরশাসক ক্ষমতায় রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম কম্বোডিয়ার শাসক। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হলেন হুন সেন, যিনি ১৯৮৪ থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ বছর ক্ষমতায় আছেন। ভিয়েতনামে চলছে মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা একদলীয় শাসন। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় চরিত্র ও একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রভাব থাকলেও আসিয়ান গোষ্ঠীর কার্যপ্রণালিতে মানবাধিকারের বিষয়টি মুখ্য। ফলে আসিয়ানভুক্ত দেশ মিয়ানমারে মানবতা সংকট তথা রোহিঙ্গাদের উপর ইথনিক ক্লিনজিং এর বিষয়টিকে আসিয়ান ভালো চোখে দেখছে না।

দ্বিতীয়ত, আসিয়ানভুক্ত দশটি দেশের মধ্যে তিনটি দেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী উদ্বাস্তু হিসেবে আছে। দেশ তিনটি হলো থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। থাইল্যান্ডে প্রায় ৩০ হাজার, মালয়েশিয়াতে দুই লাখ, ইন্দোনেশিয়াতেও ৩০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় গ্রহণ করেছে। তিনটি দেশই বর্তমানে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে। অর্থাৎ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের যে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হবে এ নিয়ে আসিয়ানভুক্ত এই তিনটি দেশের অবস্থানই এক। তৃতীয়ত, ২০১৮ সালে আসিয়ান জোটের সেক্রেটারি জেনারেল রাখাইনের সার্বিক পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিয়ে জোর দেন এবং একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন। ২০১৯ সালে পুনরায় আসিয়ান জোট রোহিঙ্গাদের সংকট সমাধান এবং নিরসনের উপায় খুঁজতে বাংলাদেশের ক্যাম্পে অবস্থান করা ১১ লাখ রোহিঙ্গার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে 'যাচাই-বাছাইয়ের' পর প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু করা যায় এমন মত দেওয়া হয়েছিল। এই ব্যাপারে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনে আসিয়ান সচিবালয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে। চতুর্থত, ২০২১ সালে আসিয়ান জোটের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষ বৈঠক হয় ব্রুনেইয়ে। সেই বৈঠকে জোটভুক্ত ০৯টি সদস্য রাষ্ট্র অংশগ্রহণ করলেও মিয়ানমারকে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। তথা এটি থেকে প্রতীয়মান যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র-সহ আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোও ভালো চোখে নিচ্ছে না।

যেহেতু আসিয়ানভুক্ত অনেকগুলো রাষ্ট্রেই কমবেশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বিদ্যমান তাই ঐ দেশগুলোও চায় এই সমস্যার একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হোক। এক্ষেত্রে আসিয়ান সাংগঠনিকভাবে দেশগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। বাংলাদেশও চাচ্ছে এই সমর্থনকে জোরালো করার মাধ্যমে মিয়ানমারের উপর কূটনৈতিক চাপ আরও বেশি বেগবান করতে。

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণ
দক্ষিণ চীন সাগরের যারা অংশীজন তাদের মধ্যে অধিকাংশই আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্র। পূর্ব চীন সাগর থেকে দক্ষিণ চীন সাগর পর্যন্ত মাঝখানের এই অঞ্চলটিকে বলা হয় 'Global Energy Interstate' বা বৈশ্বিক এনার্জির আন্তঃরাজ্য'। কারণ এখানে রয়েছে প্রচুর তেল-গ্যাস। তাই চীন দখল করে নিতে চায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগর। তাই চীন এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনকে। ফিলিপাইন আন্তর্জাতিক আদালতে এ নিয়ে মামলাও করেছে। চীন এখানে কৃত্রিম স্যাটেলাইটও তৈরি করেছে, দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ায় চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে বহুগুণে। দক্ষিণ চীন সাগরকে বলা হয় এশিয়ার ভূমধ্যসাগর (Asian Mediterranean)। ভূমধ্যসাগর যেমন ইউরোপের প্রবেশদ্বার তেমনিভাবে বৈশ্বিক এনার্জির আন্তঃরাজ্যের প্রবেশদ্বার হচ্ছে দক্ষিণ চীন সাগর। এসব বিবেচনায় আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর রয়েছে একটি স্বতন্ত্র গুরুত্ব।

উপরিউক্ত ঘটনার সাথে আমরা একটি মিল খুঁজে পাই। আর ইতিহাসের মজাটি এখানেই। ভিন্নরূপে যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। আজকের একুশ শতকে চীন তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ দক্ষিণ চীন সাগরকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে এসেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোকে তাদের ন্যায্য হিস্যা না দিয়ে। ঠিক একই ভাবে ঊনবিংশ শতাব্দীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে হটিয়ে সমৃদ্ধিশালী ক্যারিবিয়ান সাগর দখল করে নিয়েছিল। সমৃদ্ধিশীল দক্ষিণ চীন সাগরের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নজরও দীর্ঘদিনের, এই সাগরের আশেপাশে তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে সামরিক ঘাঁটি। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার শাসনামলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নিয়ে স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতে সশরীরে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে সফর করেছেন। এই অঞ্চলের কথা মাথায় রেখে জো বাইডেন ক্ষমতায় এসেই অস্ট্রেলিয়ার সাথে আবদ্ধ হয়েছেন 'অকাস' চুক্তিতে। ব্রুনেইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আসিয়ান জোটের শীর্ষ বৈঠকে (ওয়েবিনার) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই অঞ্চলে কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জো বাইডেন আসিয়ান ব্লককে ১০ কোটি ২০ লক্ষ ডলার প্রদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

একুশ শতকের আগামী দশকে এই অঞ্চল কতটা অনিরাপদ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনীতি বিশ্লেষক রবার্ট ক্যাপলানের মতে, “একুশ শতকে দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যাপক ঝুঁকিতে পড়বে।” আর এটিকেই টার্ম হিসেবে বলা হচ্ছে The End of a Stable Pacific তথা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তির সমাপ্তি। আধিপত্যবাদ বিস্তারের লড়াই নিয়ে সাবেক মধ্যপ্রাচ্যের মতো এই অঞ্চল পরিণত হবে ভূরাজনীতির প্লে-গ্রাউন্ডে। হয়তোবা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধটি হতে পারে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে কেন্দ্র করেই। এই অঞ্চলের আশেপাশের অধিকাংশ রাষ্ট্রই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি (Unipolar Military Dominance)। এই অঞ্চলের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার সাথেও ইসরায়েল বর্তমানে সম্পর্ক নরমালাইজেশন এর দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

Question to think about?
মিয়ানমার আসিয়ানভুক্ত একটি রাষ্ট্র। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের আচরণে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটছে না। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ানকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান বেগবান করতে পারে?

সহায়ক গ্রন্থাবলি:
1. Ganguly, Sumit (2020), India, Pakistan, and Bangladesh: Civil-Military Relations, Oxford: Oxford University Press
2. Khan, Zafar (2019), Balancing and stabilizing South Asia: Challenges and opportunities for sustainable peace and stability, International Journal of Conflict Management
3. Kaplan, Robert D. (2015), Asia's Cauldron: The South China Sea and the End of a Stable Pacific, Random House Trade Paperbacks
4. Beckwith, Christopher I. (2009), Empires of the Silk Road, Princeton University Press
5. Brass, Paul R. (2013), Routledge Handbook of South Asian Politics: India, Pakistan, Bangladesh, Sri Lanka, and Nepal, Routledge
6. DeVotta, Neil (2015), An Introduction to South Asian Politics, Routledge
7. Collins, Allan (2013), Building a People-oriented Security Community the ASEAN Way, Abingdon, Oxfordshire/New York: Routledge,
8. Lee, Yoong, ed. (2011), ASEAN Matters! Reflecting on the Association of Southeast Asian Nations, Singapore: World Scientific Publishing,

📘 দ্যা এনাটমি অব ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স > 📄 বাংলাদেশ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা

📄 বাংলাদেশ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা


Theme: Major Leaps by a Minor Power
"There is some self-interest behind every friendship. There is no friendship without self-interests. This is a bitter Truth." -Chanakya

ভূমিকা: যে-কোনো রাষ্ট্রের জন্য ইউরোপের বিশাল বাজারে নিজেদের প্রবেশাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ এটি একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, কূটনীতি ইত্যাদি প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ইউরোপ মহাদেশের রয়েছে একটি স্বতন্ত্রতা। বর্তমান একুশ শতকের তৃতীয় দশকে এসে ইউরোপে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। একই ভাবে রাশিয়ার সাথে আমাদের রয়েছে ঐতিহাসিক সম্পর্ক। তাই এই অধ্যায়টিতে আমরা আলোচনা করব বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি থেকে শুরু করে রাশিয়ার সাথে মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এবং এই ঘনিষ্ঠতা কেন বাংলাদেশের জন্য সমস্যাজনক। কিছু সমসাময়িক জটিল প্রশ্ন দিয়ে এই অধ্যায়টি শুরু করা যাক। কোন ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাথে ঐতিহাসিকভাবে ভালো সম্পর্কে থাকা রাশিয়া আজ মিয়ানমারের পক্ষে? মিয়ানমারের সাথে চীনের আপাতদৃষ্টিতে ভালো সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে একটি পরোক্ষ দ্বন্দ্ব চলমান রয়েছে। এখন প্রশ্নটি হচ্ছে সেই দ্বন্দ্বটি আসলে কী নিয়ে? ফ্রান্স ও বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন যাত্রাটি ইউরোপে বাংলাদেশের জন্য যে সম্ভাবনার ক্ষেত্র উন্মোচন করছে তা বাংলাদেশ কীভাবে কাজে লাগাতে পারে?

বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি
১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। স্বীকৃতি দানের একদিন পরেই তথা ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সাথে সোভিয়েতের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বর্তমানে মস্কোতে আমাদের দূতাবাস রয়েছে। ঢাকাতেও রাশিয়ার একটি দূতাবাস এবং চট্টগ্রামে একটি কনস্যুলেট-জেনারেল রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা
রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত এর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। ১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পদগর্নি পাক বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধের জন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে চিঠি লিখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ০৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সাথে ভারতের সরাসরি যুদ্ধ বেঁধে গেলে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ বাহিনী গঠন করে। যুক্তরাষ্ট্র তখন পাকিস্তানের সমর্থনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ ছিল না। পক্ষ-বিপক্ষ দেখানো হলো ভারত ও পাকিস্তানকে। অথচ যুদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। ৭ ডিসেম্বর সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি হলো। পাকিস্তানের পক্ষে ভোট পড়ল ১০৪ এবং বিপক্ষে মাত্র ১১। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে জাতিসংঘে ভেটো প্রদান করে। জাতিসংঘের সেই ভোটাভুটিতে কোনো মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়নি। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের বেরিয়ে যাওয়া মুসলিম ঐতিহ্যের পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করেছিল মুসলিম রাষ্ট্রগুলো। সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে শুধু একবার না তিন তিনবার জাতিসংঘে ভেটো দিয়েছিল। বেলজিয়াম, ইতালি ও জাপান যৌথভাবে পুনরায় জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনলে সোভিয়েত ইউনিয়ন আবারও ভেটো প্রদান করে। তারপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর উপর ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হলে নিক্সন প্রশাসন পুনরায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন তৃতীয়বারের মতো নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রয়োগ করে। জাতিসংঘে রাশিয়ার ভেটো মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত করেছিল। ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার ৭ম নৌবহরকে মোকাবিলার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নও তাদের পারমাণবিক অস্ত্রবহনকারী সাবমেরিন বহর পাঠায়। সোভিয়েত নৌবহরের আগমনের ফলে মার্কিন নৌবহর পাকিস্তানকে সহায়তা করতে ব্যর্থ হয়। মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা আমরা সর্বদা কৃতজ্ঞতার সাথেই স্মরণ করি।

যুদ্ধপরবর্তী সময়ে রাশিয়ার ভূমিকা
১৯৭২ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মস্কো সফরে যান এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় সহায়তার জন্য সোভিয়েত সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেই সফরে বাংলাদেশ ও সোভিয়েতের মধ্যে "Soviet Union-Bangladesh Joint Declaration 1972" নামে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা, সামরিক, চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী সদ্য স্বাধীন ভঙ্গুর বাংলাদেশের পুনর্গঠনেও এগিয়ে এসেছিল রাশিয়া।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন চট্টগ্রাম বন্দরে, মংলা বন্দরে এবং কর্ণফুলি নদীতে পাকসেনারা অসংখ্য স্থল মাইন পুঁতে রেখেছিল। যে-কারণে বন্দরগুলো পুরোপুরি অচলাবস্থায় ছিল। এমনকি বাংলাদেশের হাতেও ছিল না তেমন কোনো নৌযান। পুঁতে রাখা মাইন ও নৌযানের অভাবে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠেছিল।

ওই চুক্তির কারণেই বঙ্গবন্ধুর সোভিয়েত সফরের মাত্র একমাসের মাথায় তথা এপ্রিল মাসে মাইন অপসারণে এগিয়ে আসে সোভিয়েত নৌবাহিনীর একটি মাইন অপসারণকারী দল। দীর্ঘ সময় ধরে এসব মাইন অপসারণে কাজ করেন সোভিয়েত মেরিন সেনারা। এমনকি মাইন বিস্ফোরণে ইউরি রেদকিন নামক একজন সোভিয়েত মেরিন প্রাণ হারান। অবশেষে সোভিয়েত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে। এভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রতি তার সাহায্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। তাছাড়াও তখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিমানবাহিনীকে 'মিগ-২১ ইউএম' যুদ্ধবিমান দিয়ে সোভিয়েত আমাদেরকে সহায়তা করেছিল।

সম্পর্কের পালাবদল
১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে সোভিয়েতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। পরবর্তী সামরিক শাসকরা সোভিয়েত বিরোধী জোট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক আফগানিস্তানে আক্রমণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের প্রতিবাদে যে ৬৪টি রাষ্ট্র ১৯৮০ সালে মস্কোয় অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস বয়কট করেছিল তার মধ্যে বাংলাদেশও একটি। আফগানিস্তান ইস্যুকে কেন্দ্র করে ১৩ জন সোভিয়েত দূতাবাস কর্মকর্তাকেও বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করেছিল। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেল এই তিনটি ক্ষেত্রের উন্নয়নে বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। সোভিয়েত অর্থায়নে নরসিংদীতে বাংলাদেশের বৃহত্তম তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়।

একবিংশ শতাব্দীর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-রাশিয়া
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বাংলাদেশ রাশিয়াকে সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। সোভিয়েতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক পুনরায় উন্নতি হতে শুরু করে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের সফরে রাশিয়া যান। সেখানে ভ্লাদিমির পুতিন ও শেখ হাসিনার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ৭টি এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) ও ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাবনা জেলার রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে প্রাক-কাঠামো নির্মাণ বিষয়ে ৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি, ১০০ কোটি ডলারের সামরিক অস্ত্র ক্রয় সম্পর্কিত ঋণ চুক্তি ও বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে রাশিয়ার সহযোগিতায় পারমাণবিক শক্তি তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর মস্কো সফরের পর এটাই ছিল বাংলাদেশের সাথে রাশিয়ার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ থেকে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু, আর ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়া সফর করেন। অন্যদিকে এই পর্যন্ত কোনো রুশ প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসেননি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ রাশিয়ার কাছ থেকে 'ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান' এবং 'এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার' ক্রয় করে। বর্তমানে বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীতে সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহকারী রাষ্ট্রের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সাথে আমাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

১৯৭১ এবং ২০১৭ এই দুটি সালের মধ্যে ফারাক অনেক। ১৯৭১ এ পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের গণহত্যাতে বিরোধিতা করেছিল রাশিয়া। একাত্তরে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিপক্ষে থাকলেও রোহিঙ্গা প্রশ্নে আজ আমাদের পক্ষে। মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়া আমাদের পক্ষে থাকলেও আজ রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের বিপক্ষে। দুটি দেশের মধ্যে বিপরীত অবস্থান। রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক জাতিগত নিধনকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ আজকের রাশিয়া। রোহিঙ্গাদের জঙ্গি গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেছে রাশিয়া। অথচ একাত্তরে ছিল উল্টো। তখন ভারতীয় উপমহাদেশে রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক স্বার্থ থাকলেও আদর্শগত একটি ব্যাপার ছিল বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার। একাত্তরে রাশিয়ার ভূমিকা শুধু জাতীয় স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়নি, এর পেছনে কিছু নীতিগত অবস্থানও ছিল।

মিয়ানমার-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন দিক
একটি প্রশ্ন হচ্ছে- মিয়ানমারকে কেন রাশিয়ার প্রয়োজন? ঝুঁকিহীন কৌশলে রাশিয়া যেভাবে এগুচ্ছে সেটার একটি স্বরূপ উন্মোচন করার চেষ্টা করব।

প্রথমত, মিয়ানমারে রাশিয়ার স্বার্থ অর্থনৈতিক ও সামরিক। রাখাইন রাজ্যের গ্যাস-তেল চীন একা ভোগ করবে, রাশিয়া এটা চায় না। চীন ইতোমধ্যে নিজ দেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সরাসরি সড়ক ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ নির্মাণ করেছে। পূর্ব রাখাইনে চীন গভীর সমুদ্রবন্দর এবং গ্যাস ও জ্বালানি তেলের টার্মিনাল তৈরি করেছে। সম্পূর্ণ মিয়ানমার চীন ও ভারতের হাতে ছেড়ে না দিয়ে রাশিয়াও মিয়ানমারের সামরিক বাজারটি দখলে রাখতে চায়। সে-কারণেই রাশিয়া মিয়ানমার বিমানবাহিনীকে তাদের অত্যাধুনিক 'মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান' সরবরাহ করে আসছে এবং সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করছে। মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ছাড়াও ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান, ওরলান-১০ই গোয়েন্দা ড্রোন, মি-৩৫পি হেলিকপ্টার, পান্তসির এস-১ বিমান, পেচোরা-২এম ক্ষেপনাস্ত্র ইত্যাদি সকল আধুনিক রুশ অস্ত্রের অন্যতম ক্রেতা মিয়ানমার। ১৯৯০-এর পর রাশিয়ার সহযোগিতায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর শক্তি বেড়েছে বহুগুণ। মিয়ানমার সেনাদের রাশিয়া প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। রুশ অর্থায়নে মিয়ানমারে একটি পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে। আণবিক শক্তি রপ্তানি ও সামরিক সরঞ্জামাদি রপ্তানির মাধ্যমে রাশিয়া তার ফরেইন রিজার্ভ অর্জন করতে চায়।

দ্বিতীয়ত, নোবেল লরিয়েট অং সান সূচি একজন পশ্চিমাপন্থি রাজনীতিবিদ এবং তার দুই সন্তানও ব্রিটিশ নাগরিক। মিয়ানমারে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় থাকুক সেটা রাশিয়া চায় না। আর গণতান্ত্রিক সরকার রাশিয়া থেকে তেমন অস্ত্র ক্রয়ও করবে না। কারণ গণতান্ত্রিক সরকারের তুলনায় সেনাশাসকদের অস্ত্রের বেশি প্রয়োজন। তাই রাশিয়াপন্থি সেনাবাহিনী মিয়ানমারে ক্ষমতায় থাকুক সেটাই রাশিয়ার ইচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাশিয়া বর্তমানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিচ্ছে। রাশিয়াকে মিয়ানমারের 'Key Backer' বা 'প্রধান রক্ষাকর্তা' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

তৃতীয়ত, মিয়ানমারের মতো রাশিয়াকেও নিজ দেশেই বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও রাশিয়ার সংখ্যালঘু চেচেনদের অবস্থা খুব একটি ভিন্ন নয়। রোহিঙ্গাদের উপর যেভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে রাশিয়াতে চেচেনদের উপরও একই কায়দায় নির্যাতন চালানো হয়। বড় ভাই রাশিয়ার কাছ থেকেই হয়তো বার্মিজ সেনারা এই শিক্ষাটি পেয়েছে।

চতুর্থত, রাশিয়া মিয়ানমারকে আসিয়ানের প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ ভৌগোলিকভাবে মিয়ানমারের কৌশলগত অবস্থান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে নজরদারি রাখা সহজ। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসেফিক কৌশলের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোও রয়েছে। তাই ভারত মহাসাগরের তীরে অবস্থিত মিয়ানমারে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে পারলে এই অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটেও মিয়ানমার রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ。

পঞ্চমত, রাশিয়ার সাথে মিয়ানমারের কোন সীমানা নেই। দুই মহাদেশে দুটি দেশের অবস্থান। তাই মিয়ানমার ইস্যুতে রাশিয়ার নিরাপত্তার কোন ঝুঁকিও নেই। মস্কো থেকে মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুনের দূরত্ব সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি। মিয়ানমারে বড় ধরনের কোন গৃহযুদ্ধ বা সংঘাত সৃষ্টি হলেও রাশিয়ায় প্রত্যক্ষ কোন প্রভাব পড়বে না। তাই বার্মিজ সেনাদের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সহায়তা করলে রাশিয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।

ষষ্ঠত, মিয়ানমারে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে দমন করতে হাজারের মতো বার্মিজ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। কাচিন রাজ্যে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানে সেনাবাহিনীকে বিমান হামলা করতে হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সেনাশক্তির বদলে বিমানশক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। যে কারণে মিয়ানমারের বিমানবাহিনীকে রাশিয়ার দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

চীন-মিয়ানমার সম্পর্কের ফাটল
চীন সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অনেকগুলো বিদ্রোহী গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠী মিয়ানমার সরকার থেকে দীর্ঘদিন স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে যুদ্ধ করেছে। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক শাসক ক্ষমতায় আসার পূর্বে তথা গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন অং সান সূচির চেষ্টায় প্রায় ১৪টি বিদ্রোহী বাহিনী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও আটটি গোষ্ঠী স্বায়ত্তশাসন না পাওয়া অবধি তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার মত দেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দাবি এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে গোপনে অস্ত্র বিক্রি করছে চীন। চীনের অস্ত্র ব্যবহার করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের সবচেয়ে পুরোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের (কেএনইউ) সঙ্গে সম্প্রতি সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এ সহিংসতা থেকে বাঁচতেই কারেন রাজ্য থেকে পালিয়ে অনেকে থাইল্যান্ড সীমান্তে আশ্রয় নিচ্ছে। তাছাড়াও কাচিন বিদ্রোহী, সান স্টেট আর্মি, টাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ও ওয়াহ স্টেট আর্মিকে চীন এখনো সহায়তা জুগিয়ে যাচ্ছে। এই সংগঠনগুলো চীনের পরোক্ষ সহায়তায় তাদের জায়গায় নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করেছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি অদৃশ্য ফাটল তৈরি হয়েছে চীন-মিয়ানমার সম্পর্কে। মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে এসব বিদ্রোহীদের সহায়তা দিয়ে আসছে চীন। প্রশ্ন হচ্ছে- তাহলে মিয়ানমারের সেনারা চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? কারণ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অর্থনৈতিক দিক থেকে চীনের উপর নির্ভরশীল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। তাই মিয়ানমারের অর্থনীতি বাঁচাতে চীনের বিকল্প নেই সেনা শাসকদের কাছে। আর চীন সেই সুযোগটিকে কাজে লাগাচ্ছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহীদেরকে একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে চীন।

এখন প্রশ্ন হতে পারে চীনের বিষয়টি না হয় বুঝলাম কিন্তু ভারতকে কেন মিয়ানমারের প্রয়োজন? চীনের দ্বিমুখী আচরণে মিয়ানমার কিছুটা অসন্তুষ্ট। কিন্তু মিয়ানমার যে চীনের উপর কিছুটা অসন্তুষ্ট সেটা কখনো প্রকাশ্যে নিয়ে আসে না চীনের উপর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার কথা বিবেচনা করে। তাই নিজ দেশের মধ্যে চীনা সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে দমন করতে ভারতের সহযোগিতা প্রয়োজন মিয়ানমারের। আর ভারতেরও প্রয়োজন মিয়ানমারকে। ভারতের সেভেন সিস্টার্সভুক্ত রাজ্যগুলোর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো মিয়ানমারে আশ্রয় নিয়ে থাকে। তাই তাদেরকে দমন করতেও ভারতের প্রয়োজন মিয়ানমারকে।

বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক: সম্ভাবনার নতুন দুয়ার
ফ্রান্স বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করে। এরই ধারাবাহিকতায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিটারেন্ড ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সফর করেন। এর দশ বছরের মাথায় তথা ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্যারিস ভ্রমণ করেন। তারপর পর্যায়ক্রমে ২০০৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান এবং ২০১০ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ফ্রান্স সফরে যান। উপরের বর্ণনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিতে ফ্রান্সকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্কের নতুন দিক
২০২১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্স সফর করেন। সেই সফরে বাংলাদেশ ফ্রান্সের সাথে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি (অভিপ্রায়পত্র বা লেটার অব ইনটেন্ট) স্বাক্ষর করে। এই চুক্তিগুলোতে মোটাদাগে ছয়টি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়; এক. আর্থিক সহযোগিতা, দুই. বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, তিন. প্রযুক্তিগত সহায়তা, চার. প্রযোজনের নিরিখে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা, পাঁচ. প্রযুক্তি স্থানান্তর ও প্রশিক্ষণ সবিধা দেওয়া, ছয়. বিমান নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন করা ইত্যাদি। তাই নির্দ্বিধায় এটি বলা যায় যে, ফ্রান্সের সাথে বাংলাদেশের এই চুক্তি আমাদের একটি অন্যতম কূটনৈতিক বিজয় এবং কূটনৈতিক পরিপক্কতার (Diplomatic Maturity) বহিঃপ্রকাশ।

বাংলাদেশের জন্য একটি আশার বাণী হলো যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ফ্রান্স বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে। প্রথমত, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি ফ্রান্স আন্তরিকতার সহিত দেখছে। দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের তহবিল নিশ্চিত করতে ফ্রান্স বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তৃতীয়ত, শুধু সাময়িক সময়ের জন্যই নয় বরং রোহিঙ্গাদের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ফ্রান্স বাংলাদেশকে এই বিষয়ে সহায়তা করবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বাণিজ্যও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের মতো। প্রথমত, যে দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে সে তালিকায় ফ্রান্সের অবস্থান পঞ্চম। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ফ্রান্স থেকে জাহাজ ও বিমানের যন্ত্রাংশ আমদানি করে। তৃতীয়ত, ইউরোপীয় বাজার থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি করার মাধ্যমে বাংলাদেশ যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে তার একটি অন্যতম অংশ আসে ফ্রান্স থেকে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রযুক্তি বিনিময়ের মতো সম্মতিপত্র সই করেছে ফ্রান্স।

সবশেষ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম জি-২০ সম্মেলন শেষে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ঢাকা সফরে আসেন। বিমানবন্দরে রাডার সিস্টেম স্থাপন, স্যাটেলাইট তৈরির ইউনিট স্থাপন ও রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রেসিডেন্ট ম্যাঁখোর এ সফর বাংলাদেশের জন্য নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।

বাংলাদেশ যে-কারণে ফ্রান্সের কাছে গুরুত্বপূর্ণ
চারটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশ ফ্রান্সের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে。

এক. ইউরোপ ও আফ্রিকায় শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ও রাজনৈতিক সংকটের কোনো Diplomatic Settlement বা কূটনৈতিক বন্দোবস্ত করার সুযোগ ফ্রান্সের হয়ে উঠেনি। তাই দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিষয়ে চীন-রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝামাঝি একটা অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটির কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের রয়েছে ভূ-কৌশলগত সুবিধা। যার ফলে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তাই এই অঞ্চলে ফ্রান্স বাংলাদেশকে তার পাশে চায়।

দুই. উভয় দেশের মূল লক্ষ্য সামগ্রিক সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে একটি অবাধ, মুক্ত এবং নিরাপদ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা। একটি বিষয় প্রতীয়মান যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের পাশাপাশি ফ্রান্সের কাছেও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফ্রান্সও এখানে নিজের সম্ভাবনা দেখছে।

তিন. এই অঞ্চলে রয়েছে দুটি শক্তিশালী বাজার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে আঞ্চলিক সংস্থা সার্ক এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ানের যে বিশাল বাজারটি রয়েছে ফ্রান্স সেখানে তার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চায়। আর এজন্য এই দুটি অঞ্চলের প্রবেশপথ (Gateway) হিসেবে বাংলাদেশ ফ্রান্সের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
চার. আফ্রিকায় সাম্রাজ্য হাতছাড়া হওয়ায় সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে ফ্রান্স। তাই এই সময়ে ফ্রান্সের দরকার নতুন ব্যবসায়িক গন্তব্য। দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ হতে পারে ফ্রান্সের জন্য প্রযুক্তি রপ্তানির অন্যতম অংশীদার। গত কয়েক বছরে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্রান্স বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। ঢাকায় ফরাসি দূতাবাসের তথ্য মতে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৯৯০ সালে ২১০ মিলিয়ন ইউরো থেকে বর্তমানে ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক যেভাবে ফলপ্রসূ হতে পারে
প্রথমত, জাতিসংঘের একটি স্থায়ী সদস্য হিসেবে ফ্রান্সের ভেটো পাওয়ার রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ফ্রান্স আন্তরিক হওয়ায় তাদের আন্তর্জাতিক শক্তিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিশাল সহযোগিতা পেতে পারে। আর এই সুযোগটি বাংলাদেশকে কূটনৈতিক দক্ষতার সাথে কাজে লাগাতে হবে। দ্বিতীয়ত, ফরাসী প্রেসিডেন্টের এই সফর শুধু ফ্রান্স-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই উন্নয়ন করবে না বরং ইউরোপীয় অন্যান্য শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সাথেও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের যাত্রাটি উন্মোচিত করবে। বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর, সার্ক ও আসিয়ানের বিশাল বাজার ইত্যাদি কারণে ফ্রান্সের দেখাদেখি ইউরোপিয় অন্যান্য দেশ স্পেন, জার্মানি, ইতালিও ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতি জোর দিতে পারে। তৃতীয়ত, ফ্রান্স অন্যান্য দেশে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করে তা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নগণ্য। তাই নতুন এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে কীভাবে ফরাসি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উপর আকৃষ্ট করানো যায় সেদিকেও নজর দিতে হবে。

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ইংল্যান্ড বেরিয়ে যাওয়ায় ফ্রান্স এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম শক্তি। বলা যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে হর্তাকর্তা হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। তাই ফ্রান্সের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে নিজেদের প্রবেশাধিকার আরো বেশি বৃদ্ধি করতে পারে সেটি নির্ভর করে আমাদের Diplomatic Capital এর উপর। অপরদিকে ফ্রান্সের সহায়তায় ও অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার একটি সুযোগ ছিলো এই সফর।

Question to think about?
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ইংল্যান্ড বেরিয়ে যাওয়ায় ফ্রান্স এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম শক্তি। বলা যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে হর্তাকর্তা হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। তাই ফ্রান্সের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে নিজেদের প্রবেশাধিকারকে আরও বেশি বৃদ্ধি করতে পারে?

সহায়ক গ্রন্থাবলি:
1. Rieker, Pernille (2018), French Foreign Policy in a Changing World: Practising Grandeur, Palgrave Macmillan
2. Ambrosio, Thomas and Vandrovec, Geoffrey (2013), Mapping the Geopolitics of the Russian Federation: The Federal Assembly Addresses of Putin and Medvedev, Geopolitics Routledge
3. Gvosdev, Nikolas K. and Marsh, Christopher (2013), Russian Foreign Policy: Interests, Vectors, and Sectors, Washington: CQ Press
4. Kanet, Roger E. (2011), Kanet, Roger E (ed.), Russian foreign policy in the 21st century, London
5. Lanuzo, Steve L. (2018), The Impact of Political Liberalization on Sino Myanmar Cooperation, Naval Postgraduate School
6. Legvold, Robert (2007), Russian Foreign Policy in the 21st Century and the Shadow of the Past, Columbia University Press
7. Egreteau, Renaud (2008), India's Ambitions in Burma: More Frustration than Success? Asian Survey
8. Mankoff, Jeffrey (2011), Russian Foreign Policy: The Return of Great Power Politics, Rowman & Littlefield
9. Myers, Steven Lee (2015), The New Tsar: The Rise and Reign of Vladimir Putin, New York: Alfred A. Knopf
10. Stent, Angela E. (2014), The Limits of Partnership: U.S. Russian Relations in the Twenty-First Century, Princeton University Press.
11. Yian, Goh Geok (2010), The Question of 'China' in Burmese Chronicles, Journal of Southeast Asian Studies

📘 দ্যা এনাটমি অব ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স > 📄 আগামীর বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের করণীয়

📄 আগামীর বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের করণীয়


Theme: The Half Has Never Been Told

"The prosperity of a country depends, not on the abundance of its revenues, nor on the strength of its fortifications, nor on the beauty of its public buildings; but it consists in the number of its cultivated citizens, in its men of education, enlightenment and character." - Martin Luther

ভূমিকা: বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া দ্বন্দ্ব, চীন- জাপান দ্বন্দ্ব, চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব ইত্যাদি বিষয়গুলো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি কূটনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও অনুন্নত তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহ, যাদের জাতীয় শক্তি অনেকটাই দুর্বল, তাদের প্রায়ই আঞ্চলিক ভূরাজনীতির সমীকরণে পরস্পরবিরোধী প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয়। কারণ এক পক্ষের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের কারণে পরবর্তীতে অন্য পক্ষের রোষানলে পড়ে সমর্থন হারাবার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা এটিই প্রমাণ করে। এরকম একটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বে বাংলাদেশের বাজার সম্প্রসারণ, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে, পোশাক শিল্পে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে- বাংলাদেশের করণীয় কী হওয়া উচিত তাই নিয়ে আলোচনা থাকবে এই অধ্যায়টিতে। একদিকে নয়া সাম্রাজ্যবাদী চীনের উত্থান, বিশ্ব পরিমণ্ডলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাব হ্রাস, দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য ভারতের সুস্পষ্ট প্রয়াস এবং তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক সুবিধা ও ঝুঁকিসমূহ ইত্যাদি বিষয়গুলো আমলে নিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি কেমন হওয়া চাই তা একটি মুখ্য বিষয়।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা
1. Conflict-Free Borders: বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধার মধ্যে একটি হচ্ছে ভারতের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত সংঘাত নেই। যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের ভাবমূর্তিকে সমুন্নত করছে।
2. No Secessionist Movements: বাংলাদেশ একটি তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্র হলেও বাংলাদেশে এখন কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারেনি। যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বকে (Internal Sovereignty) আরও শক্তিশালী করে।
3. Seven Sisters of India: ভারতের সেভেন সিস্টার্স প্রদেশগুলোর উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের জন্য খুবই প্রয়োজন। কারণ এই সকল প্রদেশগুলো দূরে হওয়ায় কলকাতা বন্দরের সাথে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা ভারতের জন্য খুবই কঠিন। তাই ভারতের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ।
4. Geographical Proximity to the Global Power: ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি জনবহুল দেশ। বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তরাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তরাংশ এবং ৮৮°০১′ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থান। যা সাধারণত আমাদের পরম অবস্থান (Absolute Location) নির্দেশ করে। দ্বিতীয়ত, উদীয়মান শক্তি চীন ও ভারতের প্রতিবেশি হওয়ায় বাংলাদেশের রয়েছে একটি ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব।
5. A Gateway Between ASEAN and SAARC: একদিকে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত, অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বের দুই উদীয়মান পরাশক্তি চীন ও ভারতের বিশেষ কাছাকাছি অবস্থান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে খুব সহজে বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগরের উন্মুক্ত নীল জলভাগে প্রবেশের সুবিধার সম্ভাব্যতা আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বে ভূরাজনৈতিক দিক থেকে করে তুলেছে বিশেষ গুরুত্ববহ। তথা আঞ্চলিক সংস্থা সার্ক এবং আসিয়ান এর সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান।
6. Bay of Bengal: দক্ষিণে বিশাল জলরাশি Bay of Bengal অবস্থিত। এই অবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সুযোগ। বঙ্গোপসাগরকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক করিডোরের একটি 'হাবে' বা কেন্দ্রে পরিণত হতে এবং দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে যোগাযোগে অবদান রাখার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের সমস্যা ও ঝুঁকিসমূহ
1. Rohingya Crisis: রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য অন্যতম একটি সংকট। এটি শুধু বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্যই নয় বরং পুরো দক্ষিণ ও দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
2. Open to the Ocean: বাংলাদেশ একটি সমুদ্র তীরবর্তী দেশ হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলস্বরূপ বাংলাদেশের উপর মারাত্মক প্রভাব (hazards) পড়তে পারে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক ক্ষতি সাধন করে।
3. Surrounded by India: প্রতিবেশি রাষ্ট্রের প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই নির্ধারণ করে একটি দেশের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ কেমন হবে। সেক্ষেত্রে পাশের রাষ্ট্রটি যদি আয়তনে বড় হয় এবং তাদের জাতীয় শক্তি বেশি থাকে তাহলে স্বাভাবিকভাবে তুলনামূলক ছোট রাষ্ট্রটি ঐ রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কারণ তুলনামূলক বড় রাষ্ট্রটির সাথে তার অনেক অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক বিষয়াদি জড়িত। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের তিন দিকেই ভারত হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য একটি ভৌগোলিক জটিলতা (strategic complexity) দেখা দিয়েছে।
4. Vulnerability to climate change: বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলস্বরূপ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল একসময় সমুদ্রের তলদেশ নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
5. War-torn South Asian region: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সামরিক প্রতিযোগিতা তা আগামীতে এই অঞ্চলে একটি যুদ্ধাবস্থা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামকে ব্যবহার করে চীন যাতে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে প্রবেশ না করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নজর সেদিকে। একই ভাবে চট্টগ্রাম থেকে চীনের বিতর্কিত তিব্বত অঞ্চলটি অনেক নিকটে। তাই বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যেন তিব্বতের উপর প্রভাব ফেলতে না পারে চীনের নজরও সেদিকে।
6. Chittagong Hill Track: পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনসংখ্যার নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং জাতিতাত্ত্বিক ভিন্নতা ভবিষ্যতে আমাদের জাতীয় সংহতিকে (National Integrity) ব্যাহত করতে পারে।

তাই বাংলাদেশের ভৌগোলিক ঝুঁকিগুলোকে কীভাবে সফলতার সাথে মোকাবিলা করা যায় এবং বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলোকে কীভাবে দক্ষতার সাথে কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনা যায় সেই কথা মাথায় রেখে নীতি নির্ধারণ করতে হবে।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রাগম্যাটিক সমাধান হবে '13-Fold Ways' এর আলোকে
এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপত্তা সংকট। তাই এই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত তা নিয়ে আলোচনায় আসা যাক। তাই বাস্তবতার নিরিখে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ যেভাবে এগুতে পারে তার ১৩টি পথ বাতলে দেওয়ার চেষ্টা করব। এই ১৩টি মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানকে আমরা 'A 13- Fold Sollution'ও বলতে পারি।

1. Realistic Policy গ্রহণ। এই সংকট সমাধানে বাংলাদেশের প্রয়োজন ভাববাদী চেতনা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতিতে জোর দেওয়া।
2. Shuttle Diplomacy'র সফল প্রয়োগ ঘটিয়ে কীভাবে তৃতীয় আরেকটি শক্তিশালী দেশকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে বাধ্য করানো যায় সেদিকে নজর দিতে হবে।
3. Soft Power'র ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে বার্মিজ সেনাদের নিষ্ঠুরতা তুলে ধরে কীভাবে বাংলাদেশের পক্ষে উল্লেখযোগ্য হারে বৈশ্বিক জনমত গঠন করা যায় সেটিও প্রাধান্য দিতে হবে।
4. Preventive diplomacy'র দিকেই হাঁটতে হবে। রাখাইন অঞ্চলে চীনের একচেটিয়া স্বার্থ এবং মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী বঙ্গোপসাগরে আবিষ্কৃত তেল-গ্যাসের উপর যুক্তরাষ্ট্রের লোভনীয় নজর- বাংলাদেশকে এই বার্তাটি দিচ্ছে যে, এই অঞ্চলটি যত স্থিতিশীল রাখা যায় ততই আমাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মঙ্গলজনক। তাই মিয়ানমারের সাথে সরাসরি সংঘাত বা দ্বন্দ্বে লিপ্ত না হয়ে এবং এই অঞ্চলে একটি যুদ্ধাবস্থা তৈরি করা ব্যতীত কীভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করা সম্ভব সেদিকে নজর দিতে হবে।
5. Backchannel Diplomacy'র কৌশলগত প্রয়োগ প্রয়োজন। ব্যাকচ্যানেল কূটনীতির মাধ্যমে তথা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ, প্রভাবশালী নাগরিক, বৈশ্বিক অঙ্গনে প্রভাব রয়েছে এমন অ-রাষ্ট্রীয় কর্মক, মিডিয়া কাল্ট ইত্যাদির মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বৈশ্বিক অঙ্গনে জোরদার করতে হবে।
6. Bargaining Power'টি সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পরাশক্তিগুলোর কাছে বাংলাদেশের যে গুরুত্ব সেটিকে সদ্ব্যবহার করতে হবে। পরাশক্তিদের কাছে বাংলাদেশের এই গুরুত্বের বিষয়টি কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান বেগবান করতে হবে।
7. প্রতিবেশি রাষ্ট্রের কাছে আমাদের যে ভৌগোলিক শক্তি বা Geographical Capital রয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। বন্ধু বা শত্রু রাষ্ট্র পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু প্রতিবেশি রাষ্ট্র কখনো পরিবর্তন করা যায় না। সব দেশই নিজের স্বার্থ আগে দেখবে, কূটনৈতিক অঙ্গনে এটাই স্বাভাবিক। অন্য দেশ যতটা সম্ভব দরকষাকষি করে তাদের স্বার্থটি আদায় করে নিচ্ছে। ভারতের সাথে দরকষাকষি বলুন আর কূটনীতির দিক থেকে বলুন আমাদেরকে আরও পারদর্শী হতে হবে। আমাদেরও উচিত পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে আরেকটু পেশাদার হওয়ার মাধ্যমে ভারতকে এই বিষয়টি বোঝানো যে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারত যেন বাংলাদেশের পক্ষে থাকে। ভারতের যাতায়াত, বাণিজ্য সুবিধা, সেভেন সিস্টার্সে অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং ট্রান্সশিপমেন্টের মতো বিষয়গুলো ভারতকেও বাংলাদেশের উপর অধিক নির্ভরশীল করে তুলেছে। বাংলাদেশের উপর ভারতের যে নির্ভরশীলতা সেটিকেই কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতকে বাংলাদেশের পক্ষে নিয়ে আসতে হবে। একটি আঞ্চলিক উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারত এই সমস্যা সমাধানে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
8. বর্তমান বাংলাদেশের যে Diplomatic Capital রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কনভিন্স করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বাড়াতে হবে।
9. Animal Spirit দিয়ে বা Capital Inject করার মাধ্যমে আমাদের পুরোনো দিনের মিত্র রাষ্ট্র বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে জাগিয়ে তুলতে হবে; যাতে করে Good Office হিসেবে অন্তত কেউ একজন আমাদের পক্ষে এগিয়ে আসে।
10. Shopkeeper diplomacy'র প্রয়োগ বা এটিতে আরও দক্ষ হতে হবে। একজন দোকানদার যেভাবে তার কাস্টমার থেকে দরকষাকষির মাধ্যমে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের উচিত চীনের সাথে দরকষাকষি করে সবটুকু জাতীয় স্বার্থ আদায় করে নেওয়া। 'চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' কিংবা 'String of Pearls Strategy'র কারণে মিয়ানমার যদি চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশ কেন নয়? বাংলাদেশও তো চীনের এই দুটি প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার। মিয়ানমার যদি তাদের গুরুত্বের কথাটি বুঝিয়ে চীনের সাথে দরকষাকষি করার মাধ্যমে তাদের স্বার্থটি আদায় করে নিতে পারে আমরা কেন বাংলাদেশের গুরুত্বটি চীনকে বুঝিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসতে পারছি না? তাই আমাদের উচিত Shopkeeper diplomacy তে আরও বেশি কুশলী হওয়া।
11. Track III Diplomacy'র প্রয়োগ। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি সমাধান করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে জাতিসংঘ কিংবা বিশ্বব্যাংককে সদা তৎপর রাখা। বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সদা তৎপর রাখতে বাংলাদেশের উচিত বৈশ্বিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটকে একটি নিরাপত্তা সংকট (Security Crisis) হিসেবে উপস্থাপন না করে বরং একটি মানবাধিকার সংকট (Humanitarian Crisis) হিসেবে উপস্থাপন করা। এতে করে বৈশ্বিক জনমত গঠনটি অনেক বেশি ত্বরান্বিত হবে।
12. আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ানের Political Goodwill কে কাজে লাগানো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ানভুক্ত কিছু রাষ্ট্র যেমন- থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি তারাও তাদের দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চাচ্ছে। সংস্থা হিসেবে আসিয়ানও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আগ্রহী। মিয়ানমার যেহেতু আসিয়ানের একটি সদস্য রাষ্ট্র, তাই বাংলাদেশের উচিত আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ানকে কাজে লাগিয়ে এই বিষয়টি আরও জোরদার করা।
13. Democratic diplomacy'র ব্যবহার। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বিশ্বের এমন প্রতিটি রাষ্ট্র বার্মিজ সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গাদের উপর জাতিগত নিধনকে তিরস্কার করেছিল। জাতিগত নিধন যে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ তা বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করার মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো সাধারণত বৈশ্বিক মানবাধিকার নিয়ে অধিক সচেতন। ইথনিক ক্লিনজিং যেহেতু একটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন তাই এই বিষয়টিকে ফোকাস করে পুনরায় বিশ্ববাসীকে জাগিয়ে তুলতে হবে。

উপরিউক্ত এই '13-Fold Ways' এর আলোকে আশাকরি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের উপর বাংলাদেশ নজর দেবে। এই ১৩টি পদ্ধতি একসাথে প্রয়োগ করলে আমরা বিশ্বাস করি রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ত্বরান্বিত করা সম্ভব। মাত্র দুই একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করে ব্যর্থ হলে আশাহত হওয়া যাবে না বরং তা প্রয়োগের চেষ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর 'RIPEN' প্রস্তাবনাটি বাস্তবায়ন করা
প্রবাসীদেরকে উন্নয়নে সম্পৃক্তকরণের উদ্দেশ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন 'RIPEN' নামে একটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেটি নিয়ে তেমন তোড়জোড় পাইনি। তবে আমরা চাই এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। RIPEN এর পূর্ণরূপ হচ্ছে; R- Remittance, I- Investment, P- Philanthropy, E- Exchange of Expertise, N- Networking। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রস্তাবটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনেক সময়োপযোগী।
• RIPEN এর 'R' হলো রেমিট্যান্স। রেমিট্যান্স বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় সরকার বিষয়টি দেখাশোনার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব প্রদান করেছে। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য একটি বিশেষ সেল থাকার প্রস্তাব করেছেন। এটি আসলেই প্রয়োজন।
• RIPEN-এর 'I' হলো ইনভেস্টমেন্ট। বহু প্রবাসী বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আসেন। তাই বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রবাসীদেরকেও কাজে লাগাতে হবে। প্রবাসীদের বিনিয়োগ প্রস্তাব কাজে লাগাতে বিনিয়োগের শর্ত ও পদ্ধতি আরও সহজতর করার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যেমন- বর্তমানে গণচীনের ৬৬ শতাংশ বৈদেশিক বিনিয়োগ আসে তাদের প্রবাসী চীনাদের মাধ্যমে। ভারতের অবস্থাও একই রকম। বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের জয়জয়কার। তাই বাংলাদেশের প্রবাসীদের কাজে লাগিয়ে কীভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে।
• RIPEN-এর 'P' হচ্ছে Philanthropy। প্রবাসীরা অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতালের সরঞ্জামাদি ইত্যাদি অনেক কিছু দান করে থাকেন। তাই হয়রানিমুক্তভাবে এসব দানসামগ্রীর ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সেল তৈরি করা যেতে পারে।
• RIPEN-এর 'E' হচ্ছে Exchange of Expertise and Experiancel পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় আমাদের ছেলে-মেয়েরা যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার সিকিউরিটির উপর বড় বড় কাজ করে, তারা সেখানে বড় বড় কনসালট্যান্ট। তারা অনেক সময় স্বদেশের জন্য সস্তায় সার্ভিস দেয়, এমনকি বিনা পয়সায়। প্রবাসে বড় বড় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক আছেন। তারা যখন দেশে আসেন, তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে একটি সেল তৈরি করা যেতে পারে। এতে উভয় পক্ষ লাভবান হবে। প্রবাসীরা কিছু দিতে পারলে খুশি হবেন। আর দেশবাসীও উপকৃত হবে।
• RIPEN-এর 'N' হচ্ছে নেটওয়ার্কিং। বিদেশে নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধিতে আমাদের কাজ করতে হবে।

Productive Efficiency: এই পরিভাষাটির মানে হচ্ছে যত কম খরচে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করা যায়। বাংলাদেশে সস্তা শ্রমের প্রাপ্যতা থাকায় আমরা কম খরচেই মানসম্মত তৈরি পোশাক উৎপাদন করতে পারি। অর্থাৎ আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পে যথেষ্ট Productive Efficiency রয়েছে。
Allocative Efficiency: এই পরিভাষাটির মানে হচ্ছে ঠিক তেমন পণ্যটি ভোক্তার কাছে উপস্থাপন করা যেমনটি সে চায়। বাস্তবতা হচ্ছে আমরা কম খরচে মানসম্মত তৈরি পোশাক উৎপাদন করতে পারলেও গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন করতে পারছি না। যেমন- বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের তুলনায় চীনা ও ভিয়েতনামের তৈরি পোশাকে অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে (Diversification)। অর্থাৎ আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পে Productive Efficiency থাকলেও বৈশ্বিক বাজারে Allocative Efficiency তুলনামূলক কম। তাই বর্তমান সরকারকে এই বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সহিত আমলে নিতে হবে।

বৈশ্বিক পোশাকে মূল্য নির্ধারণে বাংলাদেশের ভূমিকা
বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় কিন্তু আমাদের পোশাকের নিজস্ব কোনো ব্রান্ড নেই। এ জন্য বিশ্ব বাজারে পোশাকের মূল্য নির্ধারণে আমাদের কোনো ভূমিকা থাকে না। এ দেশের বায়িং হাউসগুলো পোশাকের যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, সেটাই আমাদেরকে মেনে নিতে হয়। তারা সাধারণত আমাদের শ্রমিকের মজুরি-সহ বিভিন্ন খরচ জেনে একটি মূল্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। আর সেটাই আমাদের মেনে নিতে হচ্ছে। তাই আমাদের পোশাকের একটি ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারলে মূল্য নির্ধারণে আমাদের একটি ভূমিকা থাকত। আমাদের নীতি প্রণয়নে এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।

বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব
1. Frictional Unemployment: কোনো একটি উপযুক্ত চাকরি পেতে যদি দীর্ঘসময় প্রয়োজন হয় তখন এই সময়টি ধরে যে বেকারত্বের সৃষ্টি হয় সেটিকেই Frictional Unemployment বলা হয়। বাস্তবতা হলেও এটি সত্যি যে, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একজনকে বিসিএস ক্যাডার হতে প্রায় তিন বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। এই দীর্ঘ সময়টি ধরে সে যখন বেকার অবস্থায় থাকে তখন সেটিকে Frictional Unemployment হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। দ্বিতীয়ত, যখন কোনো অফিসে একটি শূন্য পদ সৃষ্টি হয় তখন ঐ শূন্য পদে নিয়োগের জন্য যখন কোনো দক্ষ জনশক্তি না পাওয়া যায় তখন ঐ পদটি একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য খালি থাকে। তাই দক্ষতার অভাবে এই পদ খালি থাকা অবস্থায় বেকারত্ব কিন্তু কমছে না। এভাবে এই শূন্য পদ খালি থাকার ফলে দীর্ঘ সময়ের যে বেকারত্ব সৃষ্টি হয় সেটিও Frictional Unemployment এর উদাহরণ। তৃতীয়ত, এই দক্ষ জনশক্তির অভাবে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানি বা মাল্টিন্যাশনাল করপোরেশনের উচ্চপদস্থ পদগুলোতে অসংখ্য ভারতীয় ও জাপানিজরা কাজ করছে। ফলে বেকারত্ব থেকেই যায়। তাই বাংলাদেশের উচিত Frictional Unemployment কীভাবে উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা যায় সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া।
2. Structural Unemployment: একুশ শতকের বিশ্বটি হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবও আমাদের দোরগোড়ায়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সময়ে চিত্রটি এমন হবে যে, একটি রোবট একাই দশজনের কাজ করে দেবে। এর ফলশ্রুতিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের চাকরি হারাবে। ম্যানুফ্যাকচারিং জবগুলোতেও মানুষের জায়গায় প্রতিস্থাপিত হবে নতুন নতুন প্রযুক্তি। এভাবে নতুন নতুন প্রযুক্তির কারণে যে বেকারত্ব সৃষ্টি হয় সেটিকেই Structural Unemployment বলা হয়। এর প্রভাব ইতোমধ্যে কিছুটা বাংলাদেশের উপরেও পড়তে শুরু করেছে। গত কয়েকবছর আগেও বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে নারী শ্রমিকদের আধিক্য ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে যে, পোশাক শিল্পে ক্রমবর্ধমান হারে নারী শ্রমিকদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আমরা আমাদের নারীদেরকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারছি না। তাই এই আগত Structural Unemployment কে মোকাবিলা করতে বাংলাদেশের উচিত চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে মাথায় রেখে নীতি নির্ধারণ করা।
3. Cyclical Unemployment: একটি দেশের সার্বিক বেকারত্বকেই Cyclical Unemployment বলা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে যেহেতু সকল বেকারের জন্য চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাই আমাদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানব সম্পদে পরিণত করে মধ্যপ্রাচ্য-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

Industry Shift
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনে হঠাৎ জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দেয়। এটি শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই মনে হবে ব্রিটেনে তেলের অপ্রতুলতা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি আদৌ তা নয়। ব্রিটেনে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল ছিল ঠিকই কিন্তু সে তেল শোধনাগার থেকে শিল্পকারখানা-সহ পেট্রোল স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ট্রাক ড্রাইভার ছিল না। যে- কারণে ব্রিটিশ সরকারকে এই সংকট নিরসনে সে-দেশের সেনাবাহিনীকে ট্রাক চালানোর জন্য মাঠে নামাতে হয়েছিল। একই ভাবে উন্নত দেশগুলোতে উৎপাদনশীল কাজগুলো করার জন্য বর্তমানে পর্যাপ্ত লোকবল পাওয়া যাচ্ছে না। জার্মানিতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জার্মানিতে দশ লাখেরও অধিক সিরিয়ান শরণার্থী দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় গ্রহণ করলেও জার্মান সরকার বর্তমানে তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাবার কোনো তোড়জোড় করছে না। কারণ জার্মানিতে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক। তাই তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং কাজগুলো করার লোকবল সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জার্মানির ম্যানুফ্যাকচারিং কাজগুলো সম্পাদন করছে সেখানে আশ্রয় নেওয়া সিরিয়ান শরণার্থীরা। উপরে উল্লিখিত ব্রিটেন ও জার্মানির এই দুটি ঘটনা আমাদের তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে এই বার্তাটি দিচ্ছে যে, আগামীর বিশ্বে মানব পরিচালিত কলকারখানাগুলো উত্তরের প্রযুক্তি নির্ভর উন্নত রাষ্ট্রগুলো থেকে শিফট করে দক্ষিণের অনুন্নত দেশগুলোতে চলে আসবে। অনুন্নত দেশগুলোতে যেহেতু অসংখ্য শ্রমিক সহজলভ্য; তাই ভবিষ্যতে কলকারখানাগুলোও গড়ে উঠবে এসকল অনুন্নত দেশগুলোতে। তাই বাংলাদেশ এই ভবিষ্যৎ সুযোগটিকে কাজে লাগানোর জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা-সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

শেষকথা: আপনারা পুরো বই জুড়ে দেখেছেন আমরা যে বিষয়টিই আলোচনা করেছি সেখানে কোনো না কোনো ভাবে বাংলাদেশকে সম্পর্কযুক্ত করার চেষ্টা করেছি। আমরা যা-ই আলোচনা করি না কেন দিনশেষে বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হতে পারে অথবা একটি ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা কী হবে সেটাই ছিল মুখ্য বিষয়। অর্থাৎ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিরীক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে আনাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা এই বইটি সমাপ্তি করছি বাংলাদেশকে দিয়েই। বিশ্বে যতই প্রগতি আসুক, বিশ্ব যতই উন্নত হোক, বাংলাদেশে যদি তার ছোঁয়া না আসে তাহলে আদতে আমাদের কোনো লাভ নেই। কারণ দিনশেষে আমাদের বাংলাদেশেকেই ধারণ করতে হয়, ধারণ করতে হবে।

📘 দ্যা এনাটমি অব ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স > 📄 নির্ঘণ্ট

📄 নির্ঘণ্ট


প্রথম অধ্যায়: আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে যত কথা
•International Politics
•Extractive Capability
•Regulative Capability
•Distributive Capability
•Symbolic Capability
•Power (in International Politics)
•Power blocks
•Polarity (মেরুকরণ)
•Unipolarity (একমেরু বিশ্ব)
•Biopolarity (দ্বিমেরু বিশ্ব)
•Multipolarity (বহুমেরু বিশ্ব)
•Hard Power
•Soft Power
•Smart Power
•Soft Power Diplomacy
• বাংলাদেশের কূটনৈতিক শক্তি
•National Interests (জাতীয় স্বার্থ)
•Core interests (প্রধান স্বার্থ)
•Peripheral Interests (গৌণ স্বার্থ)
• জাতীয় স্বার্থ ও পররাষ্ট্রনীতি
•Idealist theorist
•Realist theorist
•The Arab-Isreal Normalization
•Ping-Pong Diplomacy

দ্বিতীয় অধ্যায়: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্র ও অ-রাষ্ট্রীয় কর্মক
•আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাবক
•State Actors (রাষ্ট্রীয় কর্মক)
•Non State Actors (অ-রাষ্ট্রীয় কর্মক)
•Idea of State (রাষ্ট্রের আধুনিক ধারণা)
•Political System (রাজনৈতিক ব্যবস্থা)
•System Theory (ডেভিড ইস্টন)
•Monopoly on Violence (ম্যাক্সওয়েবার)
•রাষ্ট্র ও সরকারের মধ্যে পার্থক্য
•রাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরণ (Types of State)
•Status Quo State (যুক্তরাষ্ট্র)
•Revisionist State (চীন)
•De Jure State (আইনি রাষ্ট্র)
•De Facto State (কার্যত রাষ্ট্র)
•Failed State (ব্যর্থ রাষ্ট্র)
•Fragile State (ভঙ্গুর রাষ্ট্র)
• ব্যর্থ রাষ্ট্র ও ভঙ্গুর রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য
•Nanny State (গায়ে পড়া রাষ্ট্র)
•Deep State (রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র)
•Narco State (নিকৃষ্ট রাষ্ট্র)
•Banana Republic কী এবং কারা?
•Neo patrimonial State
•Intermediate State
• Sovereignty (সার্বভোমত্ব)
•Internal Sovereignty
•External Sovereignty
•Westphalian Sovereignty
• রাষ্ট্র গঠনের উপাদান হিসেবে সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব
• মানবিক হস্তক্ষেপ (Humanitarian Intervention)
•Humanitarian Aid
•Military sanctions
•Sport Sanctions
•Diplomatic Sanctions
•Economic Sanctions
•Smart Sanctions
•Responsibility to Protect (R2P or RtoP)
•Non-State Actors বা অ-রাষ্ট্রীয় কর্মক
•People's Movement
•Business magnates
•Multinational Corporations (MNCs)
•Smart contracts
•International Media Agencies
•Non-governmental organizations (NGOs)
•Violent Non-State Actors (VNSA)
•McDonaldization
•Googlization
•Hollywoodization
•Disneyization
•Pentagonization

তৃতীয় অধ্যায়: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তত্ত্বসমূহ
•Theory A Symbiotic Realism Theory (বাস্তববাদ তত্ত্ব)
•Political Realism
•Normative Goal
•Relative Gain
•Zero-Sum Game
•Anarchy (নৈরাজ্য)
•The Anarchical Society
•State-centrism
•Self-help System
•Coercion
•Cost-Benefit Calculations
•Classical Realism
•Neo-realism (নব্য বাস্তববাদ)
•Offensive realism (আক্রমনাত্মক বাস্তববাদ)
•Defensive realism (প্রতিরোধমূলক বাস্তববাদ)
•Liberalism (উদারতাবাদ)
•Rejection of Power Politics
•Absolute Gains
•Win-Win Game/Non-Zero-Sum Game
•International Cooperation
•Regime Theory
•Neoliberalism (নব্য উদারতাবাদ)
•Autarky System
•Liberal Institutionalism
•Constructivism (গঠনবাদ)
•Historical Relationship
•Identities
•Ideas and Interests
•State's behavior
•Democratic Peace Theory (গণতান্ত্রিক শান্তি তত্ত্ব)
•Perpetual Peace
•Economic Peace Theory
•Commercial Liberalism Theory
•বাংলাদেশ ও অর্থনৈতিক শান্তি তত্ত্ব
•Dependency theory
•Core-peripheral Model
•Dependency trap
•Feminism (আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নারীবাদী তত্ত্ব)
•Liberal feminism (উদার নারীবাদ)
•Radical feminism
•Socialist and Marxist feminism
•Cultural feminism
•Eco feminism
•Feminist peace theory (নারীবাদী শান্তি তত্ত্ব)
•Wartime sexual violence
•Shadow Pandemic (ছায়া মহামারী)
•Hegemonic stability theory (HST)
•Preponderance of Power
•After Hegemony

চতুর্থ অধ্যায়: শক্তি ও নিরাপত্তা
•National Power (জাতির শক্তি)
•Psychological Power
•Weapons of Mass Destruction (WMD)
• জাতীয় শক্তি প্রয়োগের মাধ্যম
•Balance of Power (শক্তি সাম্য)
•Policy of Nuclear Deterrence
•Military Alliance (সামরিক জোট)
•Economic Alliance (অর্থনৈতিক জোট)
•Local Balance (স্থানীয় ভারসাম্য)
•Regional Balance (আঞ্চলিক ভারসাম্য)
•Armaments (অস্ত্রসজ্জা)
•Disarmament (নিরস্ত্রীকরণ)
• নিরস্ত্রীকরণের উদ্দেশ্যে গৃহীত পদক্ষেপ
• জেনেভা নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন
•Non-Proliferation Treaty (NPT)
• মার্কিন ও সোভিয়েতের যৌথ প্রচেষ্টা
•SALT-I
•SALT-II
•START-I
•START-II
• রাসায়নিক অস্ত্র নীরস্ত্রীকরণ সংস্থা
• Security (নিরাপত্তা)
•Traditional Security (প্রচলিত নিরাপত্তা)
•Non-Traditional Security (অপ্রচলিত নিরাপত্তা)
•The Frankfurt School of Security
•The Copenhagen School of Security
• বাংলাদেশের নিরাপত্তা কৌশল কেমন হওয়া উচিত
• Alliance (জোটে অংশগ্রহণ)
•Balance of Power (শক্তিসাম্য)
•Collective Security (যৌথ নিরাপত্তা)
•Pilot Fish Behaviour

পঞ্চম অধ্যায়: নয়া বিশ্বব্যবস্থা
•New World Order বা নয়া বিশ্বব্যবস্থা
• কীভাবে চলবে নয়া এই বিশ্বব্যবস্থা
•Thesis
•Antithesis
•Synthesis
•Dialectical Materialism
•Welfare Economy
• সভ্যতার সংঘাত (Clash of Civilizations)
•Sino-Islamic connection
•Clash of Ignorance
•Two forms of conflict
•Theory of “band-wagoning
•War against Terrorism
•World Order After Covid-19
•Multipolar System বা বহু-মেরু ব্যবস্থা
•Covid Nationalism (করোনা-জাতীয়তাবাদ)
•The rise of surveillance state
• 'State of Exception'
• 'Naked Life'

ষষ্ঠ অধ্যায় : আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাসমূহ
•Country vs State
• রাষ্ট্রের উপদান হিসেবে ভূখণ্ডের গুরুত্ব
•Power and Authority
•Political Power and Politics
•Government and Governance
•Sovereign State and Vassal State
•Tributary State
•বিশ্বকে বিভক্তকরণ (Three World Model)
•First World (প্রথম বিশ্ব)
•Second World (দ্বিতীয় বিশ্ব)
•Third World (তৃতীয় বিশ্ব)
•Fourth World (চতুর্থ বিশ্ব)
•Types of Relationships (সম্পর্কের ধরণ)
•Regionalism (আঞ্চলিকতাবাদ)
•আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতাবাদ
• উপ আঞ্চলিকতাবাদ (Sub Regionalism)
•Trans Regionalism
•Regionalization (আঞ্চলিকীকরণ)
• ফাংশনালিজম তত্ত্ব (Functionalism Theory)
•Organic Solidarity
• উত্তর আধুনিকতাবাদ (Postmodernism)
•Traditional Society
•Modern Society
•Postmodern Society
•technological slave

সপ্তম অধ্যায় : পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতি
•Diplomatic Manoeuvres
•Determinants of Foreign Policy
• পররাষ্ট্রনীতির অভ্যন্তরীণ উপাদান
•Geographical Location
•Size of the state
•Economic Resources
•Military Might
• পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে বহিঃউপাদান
•History (অতীত ইতিহাস)
•Ideology (রাষ্ট্রের মতাদর্শ)
•Global Institutions
•International Law
•Neighbourhood effect
• পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়া
•Decision Making Process
•Rational Actor Model
•Agenda Setting
•Alternative Policy
•Cost-Benefit Analysis
•Maximization of State Interests
•SWOT Model
•Governmental Bargaining Model
•PEST Analysis
• পররাষ্ট্রনীতির ধরন
•Wolf warrior diplomacy
•Chinese Nationalism
•Sick Man of Asia
•Economic Diplomacy- অর্থনৈতিক কূটনীতি
•Manufacturing Hub
•Technological Adaptation
•Gainful Employment
•Export Diversification
•Ensuring Quality to Expatriates
•Public Diplomacy- জনকূটনীতি
•Dual Track Diplomacy- দ্বৈত ট্র্যাক কূটনীতি
•Joint Comprehensive Plan of Action
•Culinary Diplomacy
•Ghastro-diplomacy
•Food diplomacy
•Ad hoc Diplomacy
•Cheque-book Diplomacy- চেকবুক কূটনীতি
•Track I Diplomacy
•Track II Diplomacy
•Track III Diplomacy
•Multi Track Diplomacy
•Nine Track Diplomacy

অষ্টম অধ্যায়: অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি
• অ্যাম্বাসেডর ও হাইকমিশনার এর মধ্যে পার্থক্য
• Ambassador (রাষ্ট্রদূত)
•High Commissioner (হাই কমিশনার)
• যুক্তরাষ্ট্র যেকারণে কমনওয়েলথ এর সদস্য নয়
•Foreign Policy - পররাষ্ট্রনীতি
•Diplomacy - কূটনীতি
• Treaty- চুক্তি/ সন্ধিপত্র
• Accords- চুক্তি
• Convention- নিয়মপত্র
• Ramsar Convention- রামসার কনভেনশন
•Modus Vivendi- অস্থায়ী চুক্তি
•Peace Treaty (শান্তি চুক্তি)
• Paris Peace Accords
• Korean Armistice Agreement
• Peace of Westphalia
•Treaty of Sevres
•Treaty of Versailles
• Letter of Intent
•Memorandum of Understanding (MOU)
• Envoy (দূত)
• Emissary (গূঢ়সংবাদবাহক)
• Embassy (দূতাবাস)
•Consulate General- কনসুলেট জেনারেল
• Embassy Officials (দূতাবাসের কর্মকর্তা)
• Ambassador-in-residence
• An ambassador-at-large
•Diplomatic Immunity (কূটনীতিক সুবিধা)
•Persona Non Grata
• Ambassadress
• Brand ambassador
•Charge d'Affaires/ ad interim
• Minister Plenipotentiary
•Rapporteur
•Unilateralism- একলা চলো নীতি
•Shanghai Five- সাংহাই ফাইভ
•Sin Fein- সিনফেইন
•মৈত্রী চুক্তি ও নিরাপত্তা চুক্তির মধ্যে পার্থক্য
• Preventive Diplomacy (প্রতিরোধমূলক কূটনীতি)
•Gunboat Diplomacy (গানবোট কূটনীতি)
• 'Big Stick Diplomacy'
• 'Big B Initiative'
• "Bargaining Power"
•Primitive Communism (আদিম সমাজতন্ত্র)
• Household Economy
• 'Good Life'
•CMC Model
•MCM Model
• পুঁজিবাদের ভিত্তি (Foundation of Capitalism)
• Absolute Advantage Theory
•Comparative Advantage Theory
•Competitive Advantage Theory
• প্রথম শিল্প বিপ্লব (First Industrial Revolution)
• Capitalism (পুঁজিবাদ)
• Imperialism and Colonialism
•Fascism (ফ্যাসিবাদ)
• Nazism (নাৎসিবাদ)
•Feudalism (সামন্তবাদ)
•Marxism (মার্ক্সবাদ)
• Labour as a product
•Individualism
•Class struggle
• 'Base and Superstructure'
•Fourth Industrial Revolution (চতুর্থ শিল্পবিপ্লব)
• 'Creative Destruction'
•Agrarian Society
• Embedded System
•Internet of Everything (IOE)
•Socialism (সমাজতন্ত্র) and Communism (সাম্যবাদ)
• সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের মধ্যে পার্থক্য কি?
• পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য
• Planned Economy
•Command Economy
• Centralized Economy
• পুঁজিবাদ কেন টিকে গিয়েছে?
•Globalisation (বিশ্বায়ন)
• Driving Forces of Globalization
•বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি
• Economic Shift
• Technological Shift
• Political Shift
• Institutional Shift
• বিশ্বায়নের প্রভাব ও বাংলাদেশ
• Traditionalist School
• Liberal School
• Transformationalist School
• মুক্তবাজার অর্থনীতি (Free Market Economy)
• শুক ও অশুল্ক বাঁধা (Tariffs and Non-Tariff Barriers)
•Important Licences
•Export control
• Quotas
• Subsidies
•Embargo
•সংরক্ষণবাদ (Protectionism)
•The Infant-Industry Argument
•Dumping and Anti-dumping
•Below-Cost Pricing
• Unfair Competition
•Predatory Pricing
•Anti-Dumping Policy
•Balance of Payment (লেনদেন ভারসাম্য)
•Balance of Trade (বাণিজ্যিক ভারসাম্য)
•Trade Deficit
•Trade Surplus
•Most Favoured Nation (MFN)
• Trade enhancement
• Reducing trade diversion
• Trade balance for small countries
•Bailout Policy (বেইল আউট)
• State Intervention
• Market Distortion

নবম অধ্যায়: বৈশ্বিক পরিবেশ ও জলবায়ু কূটনীতি
• Tragedy of the Commons
• 'Game Theory'
• Non-Excludable
•Non-Rivalrous
•Public Good
•Collective Good
• Social Good
• Global Commons:
•Externality
• 'Positive Externality'
• Negative Externality
•Social Cost
• যেভাবে হতে পারে জলবায়ু সমস্যার সমাধান
• Regulatory Policies
• Market-based Policies
• Rebound Effects
• Price Choice Policy
•Permit Market Policy
• Cap and Trade Policy
•Green Economy
•Paris Climate Agreement
•Net Zero Emissions
•Solar Energy
•Climate Financing
•Global Minimum Tax on Big Business
•বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতি
• জলবায়ু মোকাবিলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপ
•Environmental Standards

দশম অধ্যায় : রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ও মতাদর্শসমূহ
• রাষ্ট্রের আদি উৎস (Origin of the State)
• জাতি এবং জাতীয়তাবাদ
• রাষ্ট্রের উপাদান (Elements of State)
• জাতিতাত্ত্বিক রাষ্ট্র (Nation-State)
• বহুজাতিক রাষ্ট্র (Multinational State)
• ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা (National Integrity)
• Monarchy বা রাজতন্ত্র
• 'Aristotelian Forms of Government'
•Tyranny বা স্বৈরতন্ত্র
• Aristocracy বা অভিজাততন্ত্র
•Oligarchy বা গোষ্ঠীতন্ত্র
•Polity বা বহুজনের শাসন
•Rule by Many
•Democracy বা গণতন্ত্র
•Mob Rule
• আধুনিক রাষ্ট্রের গঠন
•Modern State Formation
• 'Bellicose Theory'
• আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা
• আধুনিক গণতন্ত্র
•Periodic Election
•Institutional Independence
• Secularism (ধর্ম নিরপেক্ষতা)
•Pluralism (বহুত্ববাদ)
• 'We vs They'
• Solitarist Approach
•Identity Politics
• Binary Opposition
• Constitutionalism
• Liberal Democracy বা উদার গণতন্ত্র
•Electoral Democracy বা নির্বাচনী গণতন্ত্র
• State Mechanism বা রাষ্ট্রযন্ত্র
• Representative Democracy
• Legislative Branch
•Executive Branch
• Judiciary Branch
•Power Division বা ক্ষমতার বিভাজন
•বিল ও আইন
• Presidential Form of Government
• Parliamentary Form of Government
• Dual Executive System
• Semi Presidential System
•হাইব্রিড সিস্টেম
•Islamic Republic (ইসলামি প্রজাতন্ত্র)
• ইসলামিক রাজতন্ত্র (Islamic Monarchy)
• রাজনৈতিক দল কীভাবে গঠিত হয়?
• 'Social Cleavage'

একাদশ অধ্যায়: উপনিবেশবাদের একাল সেকাল
• 'A Five-Way Junction'
• উপনিবেশবাদ (Colonialism)
• Direct Colonialism
•Indirect Colonialism
• সাম্রাজ্যবাদ (Imperialism)
• Neo Colonialism
• উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের সূচনা
•ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কার
• মশলা যুদ্ধ
•অ্যাজটেক, মায়া ও ইনকা সভ্যতা
• সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধ ও ব্রিটেনের পরাশক্তি
• 'First Global Conflict'
• Seven Years War
•the Sugar Act
• The Stamp Act
• The Townshend Acts
• Boston Tea Party-1773
• বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মিল যেখানে
• প্যারিস শান্তি চুক্তি
•যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভ
• 'Manifest Destiny'
• Constitutional Dependency
• ABC Island
• দাস ব্যবসা (Slave Trade)
•ল্যাটিন আমেরিকা বলতে কাদেরকে বোঝায়?
• Viceroyalty of New Spain
• Viceroyalty of Peru
•Viceroyalty of the River Plate
• Viceroyalty of New Granada
•দি গ্রান্ড ক্যানেল অব নিকারাগুয়া
• The Last Stage of Imperialism

দ্বাদশ অধ্যায়: যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা ও রাজনীতি
• 'The Chicago Boys'
• Affirmative Action
• 'bail-out'
• যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা
•Principle of Checks and Balances
•Cabinet System
• The Spoil System
• 'Pendleton Act'
• Judiciary System of America
• 'Judicial Review'
• 'The Third House'
• Three Branches of Government
•Separation of Power (ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি)
•A Rigid Constitution
•A Living Constitution
•Dual Government (দ্বৈত সরকার)
•Peaceful Power Distribution
•Delegated Powers (হস্তান্তরিত ক্ষমতা)
• Implied Powers (অনুমিত ক্ষমতা)
• Inherent Powers (অন্তনির্হিত ক্ষমতা)
• Dual Citizenship (দ্বৈত নাগরিকতা)
•Dual Constitution
•Gerrymandering
• যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ব্যবস্থা
• Philadelphia Constitutional Convention
• Double Position
•Royal Presidency
•Caucus (ককাস)
•Primary (প্রাইমারি)
•Super Tuesday (সুপার টিউসডে)
• Party Presidential Debate (নির্বাচনী বিতর্ক)
•Electoral College
• Electoral Vote
• Line of Succession (শূন্য পদ পূরণ)
• Temporarily Transferring Power
• Why Tuesday & November?
• Symbol for Election
• Winner Takes All
• Impeachment (অভিশংসন)
• Former Presidents Act of 1958
• যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়?
• Party Loyalty
• Candidate characteristics
• 'Battle Ground'
• 'Swing states'
• Two Party System
• Grand Old Party (GOP)
• 'Programmatic Politics'
• 'Politics Meets Policies'
• Catch and Release policy
• Family Detention
• Family Separation
• Chain Migration
• Progressive tax
• Regressive tax
• Proportionate tax
• Supply Side Economy
• Demand Side Economy
• Interventionist economy
• Kitchen Table Issues
• Welfare State

ত্রয়োদশ অধ্যায় : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি
• Department of State
• Secretary of State
• Pocket Veto
• Proliferation of Nuclear Weapons
• যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কেন এত নিখুঁত
• Little Legislatures
• যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির আদ্যোপান্ত
• Monroe Doctrine
• The Fourteen Points
• Marshall Plan
• CENTO
• SEATO
• Strategic Arms Limitation Talks (SALT)
• National Character
• Camp David
• War Against Terrorism
• 'P5+1'
• Loss Aversion Theory
• Behavioural Economy
• Strategic Failure
• 'Biggest Miscalculation'
• Deceptive diplomacy
• Hegemonic Sovereignty
• 'The Limits Of Power'
• The Limits of Power
• হেজিমনি (Hegemony)
• Desensitization
• 'Yellow Journalism'
• Platt Amendment

চতুর্দশ অধ্যায় : যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সংকট
• A Status of Forces Agreement (SOFA)
• Entry and Exit
• Tax liabilities
• Criminal Status
• সোফা এগ্রিমেন্ট ও ঝুঁকিসমূহ
• Non-Proliferation Treaty (NPT)
• UNIIMOG
• Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty (CTBT)
• Humanitarian Assistance Needs Assessment (HANA)
• Generalized System of Preferences (GSP)
• Trade Act of 1974
• One Man Against the World
• Tilt Policy
• A man of vast conception
• Non-Aligned Movement (NAM)
• Track I এবং Track II পলিসি
• The Trial of Henry Kissinger

পঞ্চদশ অধ্যায় : ল্যাটিন আমেরিকার সমসাময়িক রাজনীতি
• মনরো ডকট্রিন
• Camarilla
• Least Democratic Policy
• Non-Interventionist Policy
• Policy of Isolation
• Pan-Americanism
• Western Hemisphere
• Roosevelt Corollary
• চীনের 'Pragmatic Embrace Strategy'
• A Prelude to a Second Cold War
• Checkbook Diplomacy
• Antipodal point
• বাংলাদেশ ও চিলি: ভাগ্য যেন একসূত্রে গাঁথা
• ভেনেজুয়েলা : বাংলাদেশের জন্য রয়েছে শিক্ষা
• Deep state
• Kleptocracy
• Kakistocracy
• Ruled by worst people
• Plutocracy
• Dutch Disease
• বলিভিয়া: একুশ শতকে রেজিম (regime) পরিবর্তনের নতুন প্যাটার্ন
•Mass Upsurge
•Military-People Coup
•Bolivian political crisis
•Runoff Voting/Two Round System
• একজন চে গুয়েভারা ও তার আদর্শ
• ল্যাটিন আমেরিকায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা
•'Truman Doctrine'
•Anti-Americanism

ষোড়শ অধ্যায়: ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত ও আগামীর বিশ্ব
•Promised Land
•Spanish Inquisition
•Wall of Jerusalem
•Zionism
•The State of the Jews
•First Aliyah
•Second Aliyah
•The two-state Solution
•Nakba Day
•The Palestinian Catastrophe
• প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ
• দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
• তৃতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
• চতুর্থ আরব-ইসরাইল যুদ্ধ
•Palestine Liberation Organization (PLO)
•Oil Weapon
• অসলো চুক্তি
• হামাস ও ফাতাহ
•ফাতাহ-হামাস দ্বন্দ্বের সূচনা
•ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা
•Term-Length
•Renewable Indefinitely
•Qualition Government
•Open list ও Close list
• ইসরায়েলি প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ
• 'Nascent Democracy'
• 'Soft Totalitarianism'
•Digital Authoritarianism'
•Mass Surveillance
• 'Political Earthquake'
• 'NSO Group'
•The Citizen Lab
•The Pegasus Project

সপ্তদশ অধ্যায়: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও ভূরাজনীতি
• উপসাগরীয় দ্বন্দ্ব ও ভূরাজনীতি
•Gulf State
• মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও ভূরাজনীতি
• প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ
•Operation Scorch Sword
•Persian Gulf War
•The mother of all battles
• দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধ
•Weapons of Mass Destruction (WMD)
•বাংলাদেশ কেন উপসাগরীয় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে?
• ইরাকের সাথে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক
• আরব বসন্ত
• ইয়েমেন সংকট এবং তার ভবিষ্যৎ
• কায়রো চুক্তি
• দুই ইয়েমেনের একত্রীকরণ হয় যেভাবে
• মধ্যাপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব
• ইরান যেভাবে শিয়া রাষ্ট্র হলো?
•Greater Parisian State
• সিরিয়া সংকট এবং এর সমাধান
•Endless War
• ফ্রী সিরিয়ান আর্মি
• কোন দিকে মোড় নিচ্ছে কুর্দি সংকট
• সম্ভব্য কুর্দি রাষ্ট্র হলে মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি কী কী?

অষ্টাদশ অধ্যায়: সৌদি রাজনীতি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সংকট
• সৌদি আরবের সরকার ব্যবস্থা
•Absolute Monarchy
•Hereditary monarchy
•Basic Law of Saudi Arabia
•Alms tax
•a panel of Islamic clergy
•Heir presumptive
•GCC ও সৌদি-কাতার দ্বন্দ্ব
• সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের করণীয়
• গালফ শিল্ড-১
• সৌদি-ইরান দ্বন্দ্বের গতিপ্রকৃতি
•Middle Eastern Cold War
•Religious Schism
•Theocratic State
• ইরান-ইরাক যুদ্ধ
•Iran-Iraq War
•Hezbollah Al-Hejaz
•A continuation of the Cold War
•Heartburn
•Battle for Supremacy
•Controlling Oil Prices
•সৌদি-ইরান দ্বন্দ্বের সমাধান
•Saudi-Iranian Rapprochement

উনবিংশ অধ্যায় : আধুনিক ইরান : সংকট ও সম্ভাবনা
• রোড টু ইরানিয়ান রেভ্যুলেশন
•Gunpowder Empires
•Operation Ajax
•TPAJAX Project
•Operation Boot
•1953 Iranian coup d'état
• সাভাক (SAVAK)
• ব্লাক ফ্রাইডে
• ইরানের শাসনকাঠামো ও গণতন্ত্র বিভ্রাট
•Rogue State
•অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট
• কাউন্সিল অব গার্ডিয়ান্স
•এক্সপিডিসি কাউন্সিল
•Controlled Democracy
•The Democratic Paradox
•Political Paradigm
•Political Gridlocks
•Misformation
•Rogue Democracy
•Kirkpatrick Doctrine
•অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং এর কার্যপ্রণালী
•Conservatism
•Foreign Policy Dilemma
•Economic Sanctions
•অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা যেভাবে কাজ করে
•Embargo
•Oil Embargo
•Arms Embargo
•Unilateral Sanction
•Multilateral Sanctions
•Universal Sanction
•Smart Embargo
•Bounce Back Nation

বিংশ অধ্যায়: সমসাময়িক আফ্রিকার ভূ-রাজনীতি
• ইথিওপিয়াতে তাইগ্রে গৃহযুদ্ধ
•Tigray People's Liberation Front
• ইথিওপিয়ার সরকারব্যবস্থা
•Ethnofederalism
• ইথিওপিয়াতে গৃহযুদ্ধের কারণ
• গৃহযুদ্ধের ভবিষ্যৎ
•মিশর-ইথিওপিয়া দ্বন্দ্বের স্বরূপ
•মিশর- ইথিওপিয়া দ্বন্দ্বের কারণসমূহ
•Water Politics
•মিশর-ইথিওপিয়া দ্বন্দ্বের ভবিষ্যৎ
•Futile Negotiations
• আগামীর বিশ্ব রাজনীতিতে মরক্কো কেন ফ্যাক্টর
•Arab Isreal Normalization
•Iron Wal Trap
•Fifth Column
• তিউনিসিয়ার সংকট ও ভূরাজনীতি
•New-Destour
•Second Republic
•Cohabitation
• তিউনিসিয়া নিয়ে ভূরাজনীতি

একবিংশ অধ্যায়: জাতিগত সংঘাতের আড়ালে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ
• স্বাধীনতা পূর্ব আফগানিস্তান
• স্বাধীনতা উত্তর আফগানিস্তান
• তালেবানদের আবির্ভাব
• আল-কায়দার উত্থান
• যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বন্দ্বের সূচনা
• টুইন টাওয়ারের ঘটনা:
• ন্যাটো জোটের আফগানিস্তান আক্রমণ
• তালেবান সরকারের পতন
• মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কারণ
•Normative Goal
•Realistic Goal
•Snowball Effect
•Confessionalist
• জাতিগত সংঘাতের আড়ালে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ

দ্বাবিংশ অধ্যায়: এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও নতুন সমীকরণ
•Maps tell us everything
•Chessboard
•America is Awesome
•পাকিস্তান: দ্যা Lifeline অব চীন
•The Wakhan Corridor
• যেখানে ব্যর্থ হবে চীনের 'Debt Trap' পলিসি
•ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ইরান
•ভারতের কূটনৈতিক ব্যর্থতা (Miscalculation)
•'Diplomatic Failure'
• সামুদ্রিক আধিপত্যে আরো একধাপ এগিয়ে চীন
• এশিয়ার ভূরাজনীতি
•Back Channel Diplomacy
•Culture of Peace
•Geographical Anathema
•The Curse of Geography
•Prisoners of Geography
•Bargaining Power

ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের গতিপ্রকৃতি
• আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের উত্থান
• যুক্তরাষ্ট্র ও আল-কায়দার মধ্যকার দ্বন্দ্ব
•আল-কায়দার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
•আল-কায়েদার ক্রমবিকাশ
•The Awakening
•Opening Eyes
•Arising and Standing up
•আইএস এবং আল-কায়দার মধ্যে পার্থক্য
• যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ
•Nixon Doctrine
•Blowback
•War Machine
•Shadow supremacy

চতুর্বিংশ অধ্যায়: নয়া স্নায়ুযুদ্ধ: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ
•The Coming Anarchy
•National Humiliation
•Debt Trap Policy
•Thucydides Trap
•Declining Power
•Rising Power
• পেলপোনেশিয়ান যুদ্ধ
• ভূরাজনীতির নতুন গ্রাউন্ড
•Political Shift
•Political Earthquake
•Play Ground
•War Against Terrorism
• এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল
•Central Control
•Peripheral Control
•Peripheral System
•Geopolitical Hub
•Like Minded Countries
•Build Back Better World
•ANZUS
• চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নয়া স্নায়ুযুদ্ধ
•Indo-Pacific Region
•Indo-Pacific Strategy
•Rebalancing to Asia
• বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ
•Build Back Better World (B3W)
•Belt and Road Initiative
•Quadrilateral Security Dialogue
• বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক সংকট
•Foreign Policy Dilemma
• অকাস (AUKUS)
•Trilateral Security Pact
•Three English-Speaking Maritime Democracies
• Animal Spirit
• অকাস চুক্তি নিয়ে যেকারণে ফ্রান্স ক্ষুব্ধ
• নিউজিল্যান্ডের প্রতিক্রিয়া কি?
• অকাসের সাথে আনজুস ট্রিটির পার্থক্য
• ভারতকে যেকারণে রাখা হয়নি?
• জাপানকে কেন রাখা হয় নি?
• চীনের প্রতিক্রিয়া কি?
•The Cold War Mentality
• কী ঘটবে ভবিষ্যতে?
•Conflict over Hegemony
•Intellectual Property

পঞ্চবিংশ অধ্যায়: চীন ও আগামীর বিশ্ব
•Naval Century
•Prison of Nations
•Political Limbo
• চীন যেভাবে পরাশক্তি হয়ে ওঠে
•Modernization
•Progressive Realization
•Military Modernization
•Opium War
•Tributary State
•Military Humiliation
•Self-Strengthening Movement
•Political Modernization
•Hundred Day Reform
•Fragmented Modernization
•Kuomintang
•Soviet Model Modernization
•The Maoist Model
•Commune System
•Cultural Revolution
•The Dengist Model
•Chinese Model of Socialism
•Agricultural Responsibility System
•তৃতীয় বিপ্লব
•Demigod
•'Geopolitical Tug Of War
•The Geopolitical Jousting
•The Incursion in South China Sea
•Naval Aggression
•Indo Pacific Region
•The Heart of World Trade
•Border Provocations in Ladakh
•The Great Tibet
•Conflict over Tibetan identity
•Erasure of Tibetan identity
•Water weapons
•The Tug of War
•The People's Republic of China
•The Republic of China
•Self-governing system
•Nations Rejuvenation
•Strategic ambiguity
•First Island Chain
•Semiconductor technology
•America is Back
•Fudge Factor?
•Nine Dash Line
•Ten Dash Line
•Militarisation of South China Sea
•Exclusive Economic Zone
•If you want peace, prepare for war
•Si vis pacem para bellum
•Shatter Zones

ষড়বিংশ অধ্যায় : বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের করণীয়
•Big Game
•String of pearls
•Pearl Trade Policy
• মুক্তার মালা নীতি
•passive victim
•Fair-Weather Friends
•Unfriendly Act
•Under-Invoicing
•China's Leverage
•Sleeping Giant
•Infrastructure War
•Diplomatic Manoeuvre
•Machiavellian Strategy

সপ্তবিংশ অধ্যায়: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা
•Nationalist Period
•Reformist Period
•Opportunistic Period
•Clientlike Political Culture
•Shuttle Diplomacy
•Direct Relationship
•Principal to Principal Contact
•Strait of Malacca
•Malacca Dilemma

অষ্টাবিংশ অধ্যায়: দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি
•National Characters
•Neighbourhood Effects
• দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা সার্ক (SAARC)
• সার্কের প্রাথমিক উদ্দেশ্য
• মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (Free Trade)
• দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও সার্কের ব্যর্থতা
• ভারসাম্যহীনতা (Asymmetric Relationship)
• ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব
• আঞ্চলিক বিভেদ (Regional Disintegration)
•Heterogeneous Society
• চায়নার উপস্থিতি (China's Role to SAARC)
•সাফটা চুক্তি- [The South Asian Free Trade Area (SAFTA)]
• সার্ক মোটরযান চুক্তি (এমভিএ)
• উপ আঞ্চলিকতাবাদ (Sub Regionalism)
• বিমসটেক বা BIMSTEC
• বিমসটেক-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
• বিমসটেক এর ১৪টি সেক্টর
• সার্ক ও বিমসটেক এর মধ্যে তুলনা
• বিমসটেকে কেন আগ্রহ ভারতের?
• রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আসিয়ানের ভূমিকা
• দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণ
• Asian Mediterranean
• Global Energy Interstate
• End of a Stable Pacific
• Unipolar Military Dominance

ঊনত্রিংশ অধ্যায় : বাংলাদেশ : দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা
• বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি
• মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা
• যুদ্ধপরবর্তী সময়ে রাশিয়ার ভূমিকা
• একবিংশ শতাব্দীর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-রাশিয়া
• মিয়ানমার-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন দিক
• চীন-মিয়ানমার সম্পর্কের ফাটল
• বাংলাদেশ-ফ্রান্স সম্পর্ক : সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

ত্রিংশ অধ্যায় : আগামীর বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের করণীয়
• War-torn South Asian region
• বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব ও সম্ভাবনা
• বাংলাদেশের ভৌগোলিক সমস্যা ও ঝুঁকিসমূহ
• রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে 13-Fold Ways নীতি
• Geographical Capital
• Diplomatic Capital
• Shopkeeper diplomacy
• Political Goodwill
• Democratic diplomacy
• পররাষ্ট্রমন্ত্রীর 'RIPEN' প্রস্তাবনা
• Productive Efficiency
• Allocative Efficiency
• Frictional Unemployment
• Structural Unemployment
• Cyclical Unemployment
• Industry Shift

সমাপ্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00