📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 সৎ ও মুত্তাক্বী লোকদের সুহবাত

📄 সৎ ও মুত্তাক্বী লোকদের সুহবাত


নিঃসন্দেহে মানুষের চিন্তা-চেতনা, চরিত্র ও আচার-আচরণের ক্ষেত্রে সৎ ও মুত্তাকী লোকদের সুহবাত এবং সংশ্রবের গভীর প্রভাব রয়েছে। সাধারণত যে ব্যক্তির সাথে যার নিরন্তর ওঠাবসা হয়, তার চিন্তা, আচার-আচরণের প্রভাবও ঐ ব্যক্তির ওপর পড়ে থাকে। কেননা বন্ধুত্ব, সাহচর্য ও সংশ্রব প্রভৃতি ক্রিয়াশীল। এর দ্বারা মানুষ স্বভাবতই দ্রুত প্রভাবিত হয়। কথায় বলা হয়, 'সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।' সৎ ও দীনদার লোকদের সুহবাত নাফসকে পরিশুদ্ধ করে, ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করে, অন্তর জীবিত করে এবং সত্য পথে চলতে প্রেরণা যোগায়। পক্ষান্তরে অসৎ ও দূরাচারী লোকদের সুহবাত মানুষকে বিপথগামী করে দেয়, অন্তরকে দুনিয়ার বিভিন্ন ধান্দায় মাশগুল করে রাখে ও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল করে দেয়। বিশিষ্ট সূফী মাওলানা জালালুদ্দীন আর-রূমী (৬০৪-৬৭২হি.) (রাহ.) বলেন,
صُحْبَتْ صَالِحْ تُرَا صَالِحْ كُنَدْ صُحْبَتْ طَالِحْ تُرَا طَالِحْ كُنَدْ সৎ লোকের সংশ্রব তোমাকেও সৎ লোকে পরিণত করবে এবং অসৎ লোকের সংশ্রব তোমাকেও মন্দ লোকে পরিণত করবে।
এ কারনেই ইসলামে সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ লোকদের সুহবাত ও সংসর্গ অবলম্বনের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎ সঙ্গ বর্জনের জন্যও কঠোরভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِنَّمَا مَثَلُ الْجَلِيسِ الصَّالِحِ وَالْجَلِيسِ السَّوْءِ كَحَامِلِ الْمِسْكِ وَنَافِخِ الْكِيرِ فَحَامِلُ الْمِسْكِ إِمَّا أَنْ يُحْذِيَكَ وَإِمَّا أَنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيحًا طَيِّبَةً وَنَافِخُ الْكِيرِ
إِمَّا أَنْ يُحْرِقَ ثِيَابَكَ وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ رِيحًا خَبِيثَةٌ 'সৎসঙ্গী হলো মেস্ক বহনকারী আর অসৎ সঙ্গী হলো হাপরে ফুঁকদানকারী সদৃশ। মেস্ক বহনকারীর সান্নিধ্যে গেলে হয়তো সে তোমাকে আতর হাদিয়া দেবে অথবা তুমি তার নিকট থেকে আতর খরিদ করবে অথবা অন্ততপক্ষে তুমি সুগন্ধি পাবে। কিন্তু হাপরে ফুঁকদানকারীর সান্নিধ্যে গেলে হয়তো সে তোমার কাপড় জ্বালিয়ে ফেলবে অথবা তুমি দুর্গন্ধ পাবে। ৬২১
অন্য একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
وَمَثَلُ الْجَلِيسِ الصَّالِحِ كَمَثَلِ صَاحِبِ الْمِسْكِ إِنْ لَمْ يُصِبْكَ مِنْهُ شَيْءٌ أَصَابَكَ مِنْ رِيحِهِ وَمَثَلُ جَلِيسِ السُّوءِ كَمَثَلِ صَاحِبِ الْكِيرِ إِنْ لَمْ يُصِبْكَ مِنْ سَوَادِهِ أَصَابَكَ مِنْ دُخَانِهِ সৎসঙ্গীর দৃষ্টান্ত হলো মেস্ক বহনকারীর মতোই। যদি তুমি তার থেকে মেস্ক নাও পাও, ঘ্রাণ তো অবশ্যই পাবে। পক্ষান্তরে অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত হলো হাপরধারীর মতো। তার হাপরের স্ফুলিঙ্গ তোমার গায়ে না লাগলেও ধোঁয়া তো অবশ্যই লাগবে। ৬২২
এ হাদীসগুলো থেকে জানা যায় যে, নাফসের সংশোধন ও চরিত্রের উন্নতির ক্ষেত্রে সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ লোকদের সুহবাত একটি অতি কার্যকর ও উপকারী ব্যবস্থা। ইমাম আল-বাইহাকী [৩৮৪-৪৫৮হি.] (রাহ.) বলেন,
وَمَعْلُومٌ فِي الْعَادَاتِ أَنْ ذَا الرَّأْيِ بِمُحَالَسَتِهِ أُولِي الْأَحْلَامِ وَالنُّهَى يَزْدَادُ رَأَيَّا، وَأَنْ الْعَالِمَ يَزْدَادُ بِمُخَالَطَةِ الْعُلَمَاءِ عِلْمًا، وَكَذَلِكَ الصَّالِحُ وَالْعَاقِلُ بِمُجَالَسَةِ الصَّلَحَاءِ والْعُقَلَاءِ، فَلَا يُنْكَرُ أَنْ يَكُونَ ذُو الْخُلُقِ الْحَمِيلِ يَزْدَادُ حُسْنَ خُلُقٍ بِمُحَالَسَةِ أُولِي الْأَخْلَاقِ الْحَسَنَةِ.
স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি যখন জ্ঞানীদের সাথে ওঠাবসা করে, তখন তার বুদ্ধিমত্তা আরো বৃদ্ধি পায়। একজন 'আলিম যখন অন্য আলিমগণের সংস্পর্শে আসে, তখন তার 'ইলম আরো বৃদ্ধি পায়। অনুরূপভাবে একজন সৎ, ন্যায়বান ও জ্ঞানী লোক অন্য সৎ, ন্যায়বান ও জ্ঞানী লোকদের সুহবাতে এলেও তা-ই হয়। কাজেই সৎ গুণাবলি সম্পন্ন ব্যক্তিদের সুহবাতে একজন সচ্চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তির নৈতিকতার উৎকর্ষ সাধন হবে- এটাও অনস্বীকার্য। ৬২৩
সাহাবা কিরাম (রা.) জাহিলিয়্যাতের ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকার পর একমাত্র নাবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সুহবাত ও সংশ্রবের মাধ্যমে লাভ করেছিলেন পরিশুদ্ধ আত্মা, উন্নত চরিত্র, পবিত্র জীবন ও উচ্চ মর্যাদা। হানযালাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আবূ বাক্ (রা.) আমার সাথে সাক্ষাত করলেন এবং বললেন, হানযালাহ! কেমন আছো? আমি বললাম, হানযালাহ মুনাফিক হয়ে গেছে। আবূ বাক্ (রা.) এটা শোনে আশ্চর্যান্তি হয়ে বললেন, সুবহানাল্লাহ! তুমি এ-ই কী কথা বলছো! আমি বললাম, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম সান্নিধ্যে অবস্থান করি এবং তিনি আমাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, তখন আমাদের মনে হয় যেন, আমরা এগুলো নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামেরসান্নিধ্য থেকে চলে আসি, তখন আমরা পরিবার-পরিজন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাগতিক ধন-সম্পদের মোহে অধিকতর লিপ্ত হয়ে পড়ি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামেরসান্নিধ্যের সব কিছু ভুলে যাই। এটা শোনে আবু বাক্ (রা.) বললেন, আল্লাহর কসম! আমার অবস্থা তো অনুরূপ। অতঃপর আমি এবং আবূ বাক্ (রা.) গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামেরখিদমাতে উপস্থিত হলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! হানযালাহ তো মুনাফিক হয়ে গেছে। এটা শোনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা কিভাবে?
আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যখন আপনার সান্নিধ্যে অবস্থান করি এবং আপনি আমাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, তখন আমাদের মনে হয় যেন, আমরা এগুলো নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু আমরা যখন আপনার সান্নিধ্য থেকে চলে আসি, তখন আমরা পরিবার-পরিজন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাগতিক ধন-সম্পদের মোহে লিপ্ত হয়ে পড়ি এবং দীনের সব কিছু ভুলে যাই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنْ لَوْ تَدُومُونَ عَلَى مَا تَكُونُونَ عِنْدِي وَفِي الذِّكْرِ لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى فُرُشِكُمْ وَفِي طُرُقِكُمْ وَلَكِنْ يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً.
ঐ আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ নিবদ্ধ! তোমরা আমার সামনে অবস্থানকালীন সময়ে যেরূপ থাকো, সর্বদা যদি ঐ রূপ থাকতে পারতে এবং সর্বক্ষণ আল্লাহকে স্মরণ রাখতে পারতে, তা হলে ফেরেশতাগণ তোমাদের বিছানায় ও চলার পথে তোমাদের সাথে মুসাফাহা করতো। কিন্তু হে হানযালাহ! এক এক সময় এক অবস্থার সৃষ্টি হয়। (অর্থাৎ আল্লাহর রাসূলের সান্নিধ্যে আসলে এক মনোভাব সৃষ্টি হয় এবং এখান থেকে চলে যেয়ে জাগতিক জীবনে লিপ্ত হয়ে গেলে মনোভাবের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। কেননা প্রত্যেকটি বস্তুর একটা নিজস্ব প্রতিক্রিয়া আছে।) এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার বলেছেন। ৬২৪
এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সুহবাতের সুবাদে সাহাবীগণের অন্তরে ঈমানের এমন জ্যোতি উদয় হয়, যাতে তাঁদের অন্তরসমূহ দুনিয়ার আবিলতা থেকে পরিশুদ্ধি লাভ করে, তাঁদের রূহানী শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তাঁরা এক একজন আদর্শ ও আলোকিত মানবরূপে গড়ে ওঠে। অনুরূপভাবে তাবি'ঈগণও সাহাবা কিরাম (রা.)-এর সুহবাত ও সংশ্রবের মাধ্যমে পবিত্র অন্তরসম্পন্ন উচ্চ মর্যাদাশীল মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। কাজেই নাফসের সংশোধন, অন্তরকে জীবিতকরণ, চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন ও সত্য পথে অটল থাকার ক্ষেত্রে সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও মুত্তাকী লোকদের সুহবাত ও সংশ্রব যে অতিশয় প্রয়োজন ও ভীষণ ফলদায়ক, সে কথা বলাই বাহুল্য। কারণ, নাফসের এমন অনেক সূক্ষ্ম ও গোপনীয় ব্যাধি রয়েছে, যেগুলো কেবল নিজের 'ইলম ও বুদ্ধি-বিবেচনা দিয়ে অনুভব করা সম্ভব নয়। আর কেউ কেউ এ ব্যাধিগুলো অনুভব করতে পারলেও তা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। তা ছাড়া সব কিছু জানার পরও সর্বপরিস্থিতিতে সত্য ও ন্যায়ের ওপর অটল থাকা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার! এরূপ ঘটনাও ঘটে থাকে যে, কোনো কোনো 'আলিম মনে করেন যে, তাঁরা চরিত্রের দিক দিয়ে উচ্চ মানসম্পন্ন ও আল্লাহভীরু এবং তাঁরা সত্য ও ন্যায়ের ওপর অটল রয়েছেন। অথচ কার্যত দেখা যায় যে, তাঁদের চরিত্রের মধ্যে নানা মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে এবং তাঁরা সত্য ও ন্যায় থেকেও অনেক দূরে। এ জাতীয় আত্মপ্রবঞ্চিত লোকদের প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴾فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ ﴿-"তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে ত্রুটিমুক্ত মনে করো না। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে বেশি জানেন যে, কে (সত্যিকার অর্থে) পরহেয করে চলে।”৬২৫ অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ﴾أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يُزَكُّونَ أَنْفُسَهُمْ بَلِ اللَّهُ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ ﴿-"আপনি কি দেখেননি সেসব লোককে, যারা নিজেদেরকে পবিত্র ও ত্রুটিমুক্ত বলে দাবি করে। বস্তুতপক্ষে আল্লাহ তা'আলাই যাকে চান তাকে পরিশুদ্ধ করেন।”৬২৬ অন্য একটি আয়াতে অন্তরের পরিশুদ্ধিকে আল্লাহ তা'আলা মানুষের ওপর তাঁর বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহরূপে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ﴾وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ مَا زَكَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ أَبَدًا وَلَكِنَّ اللَّهَ يُزَكِّي مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ﴿ যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ না হতো, তবে তোমাদের মধ্যে কেউ পরিশুদ্ধ হতে পারতো না। বস্তুতপক্ষে আল্লাহ তা'আলাই যাকে চান তাকে পরিশুদ্ধ করেন। আর আল্লাহ হলেন সম্যক শ্রবণকারী ও মহাবিজ্ঞ। ৬২৭
কাজেই জানা যায় যে, কেবল 'ইলম অর্জনই নৈতিক সংশোধন লাভের জন্য যথেষ্ট নয়। এর জন্য সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ লোকদের সংসর্গে অবস্থান করে 'আমালী তারবিয়াত (প্রশিক্ষণ) হাসিল করারও প্রয়োজন রয়েছে। 'ইলম কেবল সঠিক- সহজ-সরল পথ প্রদর্শন করে মাত্র। আর শুধু পথ জেনে নেওয়াই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য যথেষ্ট নয়, যতক্ষণ সাহস করে পদক্ষেপ না নেওয়া হবে, পথ অতিক্রম করা না হবে। সুতরাং প্রত্যেক মু'মিনকে তার অভীষ্ট, লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য প্রয়োজন- সৎ, ন্যায়-নিষ্ঠ ও মুত্তাকী লোকদের সুহবাত ও সংশ্রব, যাঁরা তাকে তার দোষ-ত্রুটিগুলো দেখিয়ে দিতে পারবেন এবং সংশোধন করতে পারবেন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, الْمُؤْمِنُ .مراةُ الْمُؤْمِنِ وَالْمُؤْمِنُ أَخُوِ الْمُؤْمِنِ- "এক মু'মিন অপর মু'মিনের জন্য আয়নাস্বরূপ এবং এক মু'মিন হচ্ছে অপর মু'মিনের ভাই।”৬২৮ এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, প্রত্যেক মু'মিনের কর্তব্য হলো, সে যখনই তার মু'মিন ভাইয়ের মধ্যে কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি দেখতে পাবে, তখন সে তাকে একান্ত ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোবৃত্তি থেকে পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে শোধরানোর চেষ্টা করবে। এ কারণেই কোনো মু'মিনের জন্য সত্যনিষ্ঠ মু'মিন সমাজ ও দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী বসবাস করা সমীচীন নয়। এ অবস্থায় বিপথগামী হওয়ার ও শাইতানের ফাঁদে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা'আলা সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ লোকদের সাথে বসবাস করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ ﴾أمنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ- "হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে ভয় করো এবং সত্যনিষ্ঠ লোকদের সাথে থাকো।”৬২৯ অন্য আয়াতে তিনি বলেন, - وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ সকাল-বিকাল আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাঁকে ডাকে, আপনি তাঁদের সান্নিধ্যে ধৈর্যের সাথে অবস্থান করুন। "৬৩০ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন হাদীসে উম্মাতকে একাকী, নিঃসঙ্গ এবং জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অবস্থান করা থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, إِنَّ الشَّيْطَانَ ذِئْبُ الإِنْسَانِ كَذِئْبِ الْغَنَمِ يَأْخُذُ الشَّاةَ الشَّاذَّةَ وَالْقَاصِيَةَ وَالنَّاحِيَةَ وَإِيَّاكُمْ وَالشَّعَابَ وَعَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ وَالْعَامَّةِ মেষপালের জন্য যেমন নেকড়ে বাঘ রয়েছে, তেমনি শাইতান হলো মানুষের নেকড়ে বাঘ। নেকড়ে বাঘ দল থেকে বিচ্ছিন, দূরে অবস্থানকারী ও একপাশে অবস্থানকারী মেষকে পাকড়াও করে। কাজেই তোমরা (লোকালয় থেকে দূরে গিয়ে) পাহাড়ে-পবর্তে অবস্থান করা থেকে বেঁচে থাকো। তোমরা দল ও সাধারণ জনগণের সাথে বসবাস করো। ৬৩১
অন্য একটি হাদীসে তিনি বলেন,
فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَنَالَ بُحْبُوحَةَ الْجَنَّةِ فَلْيَلْزَمُ الْجَمَاعَةَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ وَهُوَ مِنْ الاثْنَيْنِ أَبْعَدُ
তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করতে চাইবে, সে যেন দলকে আঁকড়ে ধরে। কেননা শাইতান একজনের সাথে বিদ্যমান থাকে। সে দুজন থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে। ৬৩২
তিনি আরো বলেন, يَدُ اللَّهُ مَعَ الْجَمَاعَةِ وَمَنْ شَذْ شُذْ إِلَى النَّارِ -"আল্লাহর হাত (অর্থাৎ সর্মথন বা সহযোগিতা) থাকে দলের সাথে। আর যে ব্যক্তি দল থেকে বিচ্ছিন্ন, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”৬৩৩ আল্লাহ তা'আলা সকল মু'মিনকেই সম্মিলিতভাবে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا -“আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু (কোরআন বা ইসলাম) কে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো, পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।”৬৩৪ বলাই বাহুল্য, আল্লাহর এ রজ্জু ছিঁড়ে যেতে পারে না। তবে অবশ্য হাত থেকে ফসকে যেতে পারে। তাই এ রজ্জুজুটি হাত থেকে ফসকে যাবার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে সম্মিলিতভাবে আঁকড়ে ধরো। যদি কদাচিৎ কারো হাত ফসকে যায়, তা হলে অন্যরা মিলে তার হাত ধরে ফেলবে এবং রজ্জুর সাথে পুনরায় সংযুক্ত করে দেবে। এ কারণে ইসলামে কেবল নিজে সৎ কর্ম করা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাকেই যথেষ্ট মনে করা হয় না; বরং অপরকেও সৎকাজের আদেশ দেয়া ও অন্যায় থেকে বারণ করাকে একটি অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্যরূপে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

টিকাঃ
৬২১. বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাব: আল-বুয়ূ'), হা. নং: ১৯৯৫, (কিতাব: আয-যাবা'য়িহ ওয়াস সাইদ), হা. নং: ৫২১৪; মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আর-বির ওয়াস সিলাতু...), হা. নং: ৬৮৬০
৬২২. আবু দাউদ, আস-সুনান, (কিতাব: আল-আদাব), হা. নং: ৪৮৩১
৬২৩. বাইহাকী, শু'আবুল ঈমান, (৫৭: হুসনুল খুলুক), খ. ১০, পৃ. ৩৫১
৬২৪. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আত-তাওবাহ), হা. নং: ৭১৪২
৬২৫. আল-কোরআন, সূরা আন-নাজম, ৫৩: ৩২
৬২৬. আল-কোরআন, সূরা আন-নিসা', ৪: ৪৯
৬২৭. আল-কোরআন, সূরা আন-নূর, ২৪: ২১
৬২৮. আবূ দাউদ, আস-সুনান, (কিতাব: আল-আদাব), হা. নং: ৪৯২০
৬২৯. আল-কোরআন, সূরা আত-তাওবাহ, ৯: ১১৯
৬৩০. আল-কোরআন, সূরা আল-কাহফ, ১৮: ২৮
৬৩১. আহমাদ, আল-মুসনাদ, (হাদীসু মু'আয রা.), হা. নং: ২২১০৭; তাবারানী, আল-মু'জামুল কাবীর, হা. নং: ৩৪৪
৬৩২. আহমাদ, আল-মুসনাদ, (মুসনাদু 'উমার রা.), হা. নং: ১৭৭
৬৩৩. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব: আল-ফিতান), হা. নং: ২১৬৭
৬৩৪. আল-কোরআন, সূরা আলু-'ইমরান, ৩: ১০৩

📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 গ্রন্থপঞ্জি

📄 গ্রন্থপঞ্জি


ক. আল-কোরআন
খ. আত-তাফসীর ও 'উলূমুল কোরআন
ফাররা', আবু যাকারিয়া ইয়াহয়া (১৪৪-২০৭ হি.), মা'আনিউল কোরআন
তাবারী, আবূ জা'ফার (২২৪-৩১০ হি.), জামি'উল বায়ান ফী তা'ভীলিল কোরআন, বৈরূত : মু'আসসাসাতুর রিসালাহ, ২০০০
ইবনু আবী হাতিম, 'আবদুর রাহমান আর-রাযী (২৪০-৩২৭ হি.), তাফসীরুল কোরআনিল 'আযীম
জাসসাস, আবূ বাক্স (৩০৫-৩৭০ হি.), আহকামুল কোরআন
আল-কিয়া আল-হারাসী, 'ইমাদুদ্দীন 'আলী (৪৫০-৫০৪ হি.), আহকামুল কোরআন
বাগাভী, মুহয়ুস সুন্নাহ (৪৩২-৫১৬ হি.), মা'আলিমুত তানযীল, রিয়াদ: দারু তাইয়িবাহ, ১৯৯৭
যামাখশারী, আবুল কাসিম মাহমূদ (৪৬৭-৫৩৮ হি.), আল-কাশশাফ 'আন হাকা'য়িকিত তানযীল
রাযী, ফাখরুদ্দীন মুহাম্মাদ (৫৪৪-৬০৬ হি.), মাফাতীহুল গায়ব
কুরতুবী, 'আবু 'আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ (মৃ. ৬৭১হি.), আল-জামি' লি আহকামিল কোরআনিল কারীম
বায়দাবী, নাসিরুদ্দীন (মৃ.৬৮৫ হি.), আনওয়ারুত তানযীল ওয়া আসরারুত তাভীল
ইবনু কাসীর, আবুল ফিদা (৭০১-৭৭৪ হি.), তাফসীরুল কুর'আনিল 'আযীম, রিয়াদ: দারু তাইয়িবাহ, ১৯৯৯
সা'লাবী, আবদুর রাহমান (৭৮৬-৮৭৫ হি.), আল-জাওয়াহিরুল হিসান ফী তাফসীরিল কোরআন
হাক্কী, ইসমা'ঈল (মৃ.১১২৭ হি.), রূহুল বায়ান ফী তাফসীরিল কোরআন
ইবনু 'উজাইবাহ, আহমাদ আশ-শাযুলী (১১৬০-১২২৪ হি.), আল-বাহরুল মাদীদ, বৈরূত: দারুল কুতুবিল 'ইলমিয়‍্যাহ, ২০০২
আলুসী, শিহাবুদ্দীন মাহমূদ (১২১৭-১২৭০হি.), রূহুল মা'আনী ফী তাফসীরিল কুর'আনিল 'আযীম ওয়াস সাব'ইল মাসানী
শাফী', মুফতী মুহাম্মদ (), মা'আরিফুল কোরআন (অনু. ও সম্পা: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান), আল-মাদীনা: বাদশাহ ফাহদ কোরআন মুদ্রণ প্রকল্প, ১৪১৩হি.
রাগিব ইস্পাহানী, আবুল কাসিম আল-হুসাইন (মৃ. ৫০২ হি.), আল-মুফরাদাতু ফী গারীবিল কোরআন
গ. আল-হাদীস
গ.১ ইমাম মালিক (৯৩-১৭৯হি.), আল-মুওয়াত্তা
'আবদুর রাযযাক আস-সান'আনী, (১২৬-২১১হি.), আল-মুসান্নাফ, বৈরূত: আল- মাকতাবুল ইসলামী, ১৪০৩ হি.
সা'ঈদ ইবনু মানসুর (মৃ.২২৭ হি.), আস-সুনান, রিয়াদ: দারুল 'উসাইমী, ১৪১৪
ইবনু আবী শাইবাহ, আবূ বাকর 'আবদুলাহ (১৫৯-২৩৫হি.), আল-মুসান্নাফ ফিল আহাদীস আসার
আহমাদ, ইমাম ইবনু হাম্বাল (১৬৪-২৪১হি.), আল-মুসনাদ
দারিমী, আবূ মুহাম্মাদ 'আবদুল্লাহ (১৮১-২৫৫হি.), আস-সুনান
বুখারী, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা'ঈল (১৯৪-২৫৬ হি.), আল-জামি' আস-সাহীহ
মুসলিম, ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশায়রী (২০৪-২৬১হি.), আস-সাহীহ
ইবনু মাজাহ, আবূ 'আবদুলাহ মুহাম্মাদ (২০৯-২৭৩ হি.), আস-সুনান
আবূ দাউদ, সুলাইমান (২০২-২৭৫ হি.), আস-সুনান
তিরমিযী, আবূ 'ঈসা মুহাম্মাদ (২০৯-২৭৯ হি.), আল-জামি'
হারিস, ইবনু আবী উসামাহ (১৮৬-২৮২হি.), আল-মুসনাদ, মাদীনা: মারকাযু খিদমাতিস সুন্নাহ, ১৯৯২
নাসা'ঈ, আহমাদ (২১৫-৩০৩হি.), আস-সুনানুস সুগরা ---, আস-সুনানুল কুবরা
আবূ বাক্স আশ-শাইবানী (২০৬-২৮৭হি.), আল-আহাদ ওয়াল মাসানী, রিয়াদ: দারুর রায়াহ, ১৯৯১
বাযযার, আবূ বাকর আহমাদ (মৃ.২৯২হি.), আল-বাহরুয যাখির (মুসনাদুল বাযযার)
আবূ ইয়া'লা, আহমাদ আল-মুসিলী (মৃ.৩০৭হি.), আল-মুসনাদ
ইবনু খুযাইমাহ, আবূ বাকর মুহাম্মাদ (২২৩-৩১১হি.), আস-সাহীহ
আবূ 'আওয়ানাহ, ইয়া'কূব আন-নাইশাপূরী (মৃ.৩১৬), আল-মুস্তাখরাজ
তাহাভী, আবূ জা'ফার আহমাদ (২৩৯-৩২১হি.), শারহু মা'আনিয়িল আসার ---, মুশকিলুল আছার
আবূ বাকর আদ-দীনাউরী, আহমাদ (মৃ.৩৩৩ হি.), আল-মুজালাসাতু ওয়া জাওয়াহিরুল 'ইলম
ইবনু হিব্বান, আবু হাতিম আল-বাস্তী (মৃ.৩৫৪হি.), আল-মুসনাদুস সাহীহ
তাবারানী, আবুল কাসিম সুলাইমান (২৬০-৩৬০হি.), আল-মু'জামুল কাবীর ---, আল- মু'জামুল আওসাত---, আল-মু'জামুস সাগীর, মুসনাদুশ শামিয়ীন
দারা-কুতনী, 'আলী ইবনু 'উমার (৩০৬-৩৮৫হি.), আস-সুনান, বৈরূত: দারুল মা'আরিফাহ, ১৯৬৬
হাকিম, মুহাম্মাদ আন-নাইশাপুরী (৩২১-৪০৫হি.), আল-মুস্তাদরাক 'আলাস সাহীহাইন
কাদা'ঈ, মুহাম্মাদ (মৃ.৪৫৪হি.), মুসনাদুশ শিহাব, বৈরূত : মু'আসসাসাতুর রিসালাহ, ১৯৮৬
বাইহাকী, আবূ বাকর আহমাদ (৩৮৪-৪৫৮হি.), শু'আবুল ঈমান---, আস-সুনানুল কুবরা
ইবনু রাজাব আল-হাম্বালী, 'আবদুর রাহমান (৭৩৬-৭৯৫ হি.), জামি'উল 'উলূম ওয়াল হিকাম
হাইসামী, নূরুদ্দীন (৭৩৫-৮০৭হি.), মাজমা'উয যাওয়া'য়িদ ওয়া মানবা'উল ফাওয়া'য়িদ, বৈরূত, ১৯৬৭---, বুগইয়াতুল বাহিছ 'আন যাওয়িদি মুসনাদিল হারিছ
সুয়ূতী, জালালুদ্দীন (৮৪৯-৯১১হি.), আল-জামি'উল কাবীর---, আল-জামি'উস সাগীর
'আলী আল-মুত্তাকী, 'আলাউদ্দীন 'আলী (৮৮৮-৯৭৫হি.), কানযুল 'উম্মাল
গ.২ ইবনুল মুবারাক, 'আবদুল্লাহ (১১৮-১৮১হি.), আয-যুহদ ওয়ার রাকা'য়িক
ইমাম ইবনু হাম্বাল (১৬৪-২৪১হি.), আয-যুহদ
বুখারী (১৯৪-২৫৬ হি.), আল-আদাবুল মুফরাদ
তিরমিযী, আবূ 'ঈসা মুহাম্মাদ (২০৯-২৭৯ হি.), আশ-শামা'য়িল
ইবনু আবিদ্দুনিয়া, 'আবদুল্লাহ (২০৮-২৮১হি.), ইসলাহুল মাল----, ইবনু আবিদ্দুনিয়া, আত-তাওবাহ----, আল-ইখলাসু ওয়ান নিয়‍্যাতু
ইবনুদ দারীস আল-বাজালী, মুহাম্মাদ (২০০-২৯৪ হি.), ফাদা'য়িলুল কোরআন
মারওয়াযী, মুহাম্মাদ ইবনু নাসর (২০২-২৯৪ হি.), মুখতাসারু কিয়ামিল লায়ল
খাল্লাল, আবূ বাকর (মৃ.৩১১হি.) আল-হাসসু 'আলাত তিজারাতি ওয়াস সিনা 'আতি
আল-ফাকিহী, আবূ 'আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ (মৃ. ৩৫৩ হি.), আখবারু মাক্কা
আজুররী, আবূ বাক্র মুহাম্মাদ (মৃ.৩৬০ হি.), আখলাকু হামালাতিল কোরআন
আবুশ শাইখ আল-ইস্পাহানী (২৭৪-৩৬৯ হি.), আল-'আযমাতু, রিয়াদ: দারুল 'আসিমাতু, ১৪০৮ হি.
ইবনুল মুকরী, আবূ বাকর মুহাম্মাদ, (২৮৫-৩৮১হি.), আল-মু'জাম
বাইহাকী (৩৮৪-৪৫৮হি.), আয-যুহদুল কাবীর
বাগাভী, মুহয়ুস সুন্নাহ (৪৩২-৫১৬ হি.), আল-আনওয়ারু ফী শামা'য়িলিন নাবী,
ইবনু রাজাব আল-হাম্বালী, 'আবদুর রাহমান (৭৩৬-৭৯৫ হি.), কালিমাতুল ইখলাস
গ.৩ ইবনু তাহির আল-মাকদিসী, মুহাম্মাদ (৪৪৮-৫০৭ হি.), যাখীরাতুল হুফফায, রিয়াদ: দারুস সালাফ, ১৯৯৬
ইবনুল জাওযী, আবুল ফারাজ 'আবদুর রাহমান (৫৮০-৬৫৬হি.), আল-মাওদু'আত
আবুল ফাদল আল-'ইরাকী, 'আবদুর রাহীম (৭২৫-৮০৬হি.), আল-মুগনী 'আন হামলিল আসফার ফী তাখরীজু আহাদীসিল ইহয়া'
মুল্লা আল-কারী, 'আলী (মৃ.১০১৪হি.), আল-মাওদূ'আতুল কুবরা
আলবানী, মুহাম্মাদ নাসির উদ্দীন (১৩৩২-১৪২০হি.), আস-সিলসালাতুস সাহীহাহ---, আস-সিলসিলাতুদ দা'ঈফাতু ওয়াল মাওদু'আতু---, সাহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব---, সাহীহ ও দা'য়ীফুল জামি'ইস সাগীর
ঘ. শারহুল হাদীস ও 'উলূমুল হাদীস
ইবনু 'আবদিল বার, ইউসূফ (৩৬৮-৪৬৩ হি.), আত-তামহীদ লিমা ফিল মুওয়াত্তা মিনাল মা'আনী ওয়াল আসানীদ
নাবাবী, আবূ যাকারিয়া ইয়াহয়া (৬৩১-৬৭৬হি.), আল-মিনহাজু শারহু সাহীহি মুসলিম
ইবনু রাজাব, যায়নুদ্দীন আবুল ফারাজ আল-হাম্বালী (৭৩৬-৭৯৫হি.), ফাতহুল বারী
ইবনুল হাজার আল-'আসকালানী (৭৭৩-৮৫২হি.), ফাতহুল বারী, বৈরূত: দারুল মা'রিফাহ
'আইনী, বাদরুদ্দীন মাহমূদ (৭৬২-৮৫৫হি.), 'উমদাতুল কারী, বৈরূত: দারু ইহয়ায়িত তুরাছিল 'আরবী, তা.বি.
মুল্লা আল-কারী, 'আলী (মৃ.১০১৪হি.), মিরকাতুল মাফাতীহ, দিল্লী, তা.বি.
মুনাভী, মুহাম্মাদ আবদুর রা'উফ (৯৫২-১০৩১ হি.), ফায়দুল কাদীর, বৈরূত: দারুল কুতুবিল 'ইলমিয়্যাহ, ১৯৯৪---, আত-তায়সীর বি-শারহিল জামি'ইস সাগীর, রিয়াদ: মাকতাবাতুল ইমাম আশ-শাফি'য়ী, ১৯৮৮
যারকানী, মুহাম্মাদ (১০৫৫-১১২২হি.), শারহুল মুওয়াত্তা
মুহাম্মাদ 'আলী আল-বাকরী (মৃ.১০৫৭ হি.), দালীলুল ফালিহীন লি তুরুকি রিয়াদিস সালিহীন
যাফর 'আহমাদ উসমানী, ই'লাউস সুনান
উসায়মীন, মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ (মৃ.১৪২১ হি.), শারহু রিয়াদিস সালিহীন
সালিহ, ড. সুবহী, 'উলূমুল হাদীস ওয়া মুস্তালাহুহু, (বৈরূত: দারুল 'ইলম, ১৯৯১)
৬. 'আকাইদ
বাইহাকী, আবূ বাকর আহমাদ (৩৮৪-৪৫৮হি.), আল-আসমা' ওয়াস-সিফাত
ইবনুল জাওযী, আবুল ফারাজ 'আবদুর রাহমান (৫৮০-৬৫৬হি.), তালবীসু ইবলীস, বৈরূত: দারুল ফিকর, ২০০১
ইবনুল হাজ্জ, আবু 'আবদিল্লাহ মুহাম্মাদ আল-'আবদারী (৭৩৭হি.), আল-মাদখাল, দারুত তুরাস
শাতিবী, আবু ইসহাক ইব্রাহীম (মৃ.৭৯০হি.), আল-ই'তিসাম, রিয়াদ: মাকতাবাতুর রিয়াদ আল-হাদীসা, তা.বি.
সুয়ূতী, জালালুদ্দীন (৮৪৯-৯১১হি.), আল-আমরু বিল ইত্তিবা'ওয়ান নাহয় 'আনিল ইবতিদা'
'আলী মাহফুয, শাইখ, আল-ইবদা' ফী মাদাররিল ইবতিদা', (অনু: সুন্নাত ও বিদ'আত, মুহাম্মদ গিয়াসুদ্দীন), দেওবন্দ: যমযম বুক ডিপো, ২০০৪
শুকাইরী, মুহাম্মাদ আবদুস সালাম, আস-সুনান ওয়াল মুবতাদা'আত
ইবনু 'আশূর, আত-তাহরীর ওয়াত তানভীর, তিউনিস: দারু সাহনূন, ১৯৯৭
সালিহ আল-ফাওযান, ইয়া'নাতুল মুস্তাফীদ বি-শারহি কিতাবিত তাওহীদ, মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ২০০২
তুওয়াইজারী, হাম্মদ ইবনু 'আবদিল্লাহ, ইসবাতু 'উলুয়িল্লাহ
আহমদ আলী, বিদ'আত ১ম- ৩য় খণ্ড
চ. ফিকহ ও ফাতাওয়া
শাফি'ঈ, মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস (১৫০-২০৪হি.), আল-উম্ম, বৈরূত দারুল মা'আরিফাহ
ইবনু তাইমিয়্যাহ, আহমাদ (৬৬১-৭২৮ হি.), মাজমু'উল ফাতাওয়া
ইবনু মুফলিহ, শামসুদ্দীন আল-মাকদিসী (৭০৮-৭৬৩হি.), আল-ফুরূ', 'আলামুল কুতুব
নাবাবী, ইয়াহইয়া (৬৩১-৬৭৬হি.), আল-মাজমূ' শারহুল মুহায্যাব, আল-মাত'বাআতুল, মুনীরিয়‍্যাহ
যাইনুদ্দীন আল-'ইরাকী, আবদুর রাহীম (৭২৫-৮০৬ হি.), তারহুত তাসরীব ফী শারহিত তাকরীব
মিরদাভী, 'আলাউদ্দীন (৮১৭-৮৮৫হি.), আল-ইনসাফ ফী মা'আরিফাতির রাজিহ মিনাল খিলাফ, বৈরূত: দারু ইহয়া'ইত্ তুরাসিল আরবী
দাসূকী, মুহাম্মাদ (মৃ.১২৩০ হি.) আল-হাশিয়াতু 'আলাশ শারহিল কাবীর,
ইবনু 'আবিদীন, মুহাম্মাদ আমীন (১২৪৪-১৩০৬ হি.), রাদ্দুল মুহতার, বৈরূত: দারুল কুতুবিল 'ইলমিয়্যাহ
আল-মাওসু'আতুল ফিকহিয়্যাহ, কুয়েত : ওয়াযারাতুল আওকাফ ওয়াশ শুয়ূনিল ইসলামিয়্যাহ, ১৯৯৫
ছ. রাকা'ইক, আখলাক ও আদাব
আবূ তালিব আল-মাক্কী (৩৮৬হি.), মুহাম্মাদ, কুতুল কুলুব
কুশাইরী, আবুল কাসিম (৩৭৬-৪৬৫ হি.), আর-রিসালাতুল কুশাইরিয়‍্যাহ
দাতা গঞ্জে বখশ, 'আলী-আলহাজবিরী (৪০০-৪৬৫হি.), কাশফুল মাহজুব, (অনু: মুহাম্মদ সিরাজুল হক), ঢাকা: ইসলামিয়া কোরআন মহল, ১৯৯৯
গাযালী, আবু হামিদ মুহাম্মদ (৪৫০-৫০৫হি.), ইহয়াউ 'উলূমিদ্দীন---, বিদায়াতুল হিদায়াহ
ইবনুল কাইয়্যিম, মুহাম্মাদ (৬৯১-৭৫১ হি.), মাদারিজুস সালিকীন---, আল- ওয়াবিলুস সাইয়ি---, রাওদাতুল মুহিব্বীন..
ইবনু রাজাব, 'আবদুর রাহমান (৭৩৬-৭৯৫হি.), লাতা'য়িফুল মা'আরিফ
মুজাদ্দিদ আলফে সানী, আহমাদ আল-ফারুকী (৯৭১-১০৩৪হি.), আল-মাকতুবাত
খাদিমী, আবূ সা'ঈদ মুহাম্মাদ (১১১৩-১১৭৬হি.), বারীকাতুন মাহমুদিয়্যাতুন ফী শারহিত তারীকাতিল মুহাম্মাদিয়‍্যাহ
ইবনুল জাওযী, আবুল ফারাজ 'আবদুর রাহমান (৫৮০-৬৫৬হি.), আত-তাযকিরাতু ফিল ওয়ায
ইবনু মুফলিহ, শামসুদ্দীন আল-মাকদিসী (৭০৮-৭৬৩ হি.), আল-আদাবুশ শার 'ইয়‍্যাহ
শাওকানী, মুহাম্মাদ (১১৭৩-১২৫০ হি.), তুহফাতুয যাকিরীনা শারহু 'উদ্দাতিল হিসনিল হাসীন
থানবী, আশরাফ 'আলী, মালফ্যাতে হাকীমুল উম্মাত---, মুনাজাতে মাকবুল---, কামালাতে আশরাফিয়া
মাওদূদী, সাইয়িদ আবুল আ'লা (১৩২১-১৩৯৯ হি.), ইসলামী আন্দোলন: সাফল্যের শর্তাবলী
আহমাদ ফারীদ, ড., তাযকিয়াতুন নুস
'আবদুল হাদী, ইসলাহুল কুলুব
আবদুল জব্বার, মাওলানা মুহাম্মদ, আল-ইহসান (সংকলন), চট্টগ্রাম: শাহ আবদুল জব্বার আশ-শরফ একাডেমী, ১৯৯৯---, এলমে তাছাউফের হাকীকত
'আবদুর রাযযাক, আল-বাদর, ফিকহুল আদ'ইয়াতি ওয়াল আযকার
আবদুল মালেক, মাওলানা, মুহাম্মদ, তাসাওউফ: তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ, ঢাকা: মাকতাবাতুল আশরাফ, ১৪২৮ হি.
জ. সীরাত, রিজাল ও তারীখ
ওয়াকিদী, মুহাম্মাদ (১৩০-২০৭ হি.), ফুতুহুশ শাম
ইবনু সা'দ, মুহাম্মাদ (১৬৮-২৩০হি.), আত-তাবাকাতুল কুবরা, বৈরূত: দারু সাদির, ১৯৬৮
সালামী, আবূ 'আবদির রাহমান (৩২৫-৪১২হি.), তাবাকাতুস সূফিয়্যাহ
আবূ নু'আইম আল-ইস্পাহানী, আহমাদ (৩৩৬-৪৩০হি.), হিলয়াতুল আওলিয়াহ
ইবনু 'আসাকির (৪৯৯-৫৭১হি.), 'আলী আদ-দিমাশকী, তারীখু দিমাশক (তারীখু ইবনি 'আসাকির)
ইবনুল আছীর, 'ইযযুদ্দীন (৫৫৫-৬৩০হি.), উসদুল গাবাহ ফী মা'রিফাতিস সাহাবাহ---, আল-কামিল ফিত তারীখ
ইবনুল জাওযী (৫৮০-৬৫৬হি.), সিফাতুস সাফওয়াতি
মুহিব্বুদ্দীন আত-তাবারী, আহমাদ (৬১৫-৬৯৪ হি.), আর-রিয়াদুন নাদিরাতু ফী মানাকিবিল আশারাহ
যাহাবী, আবু 'আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ (৬৭৩-৭৪৮হি.), সিয়ারু 'আলামিন নুবালা'
ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওযিয়‍্যাহ (৬৯১-৭৫১হি.), যাদুল মা'আদ ফী হাদয়ি খায়রিল 'ইবাদ
ইবনু কাসীর, আবুল ফিদা ইসমা'ঈল (৭০০-৭৭৪হি.) আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ
ইবনু হাজার আল-'আসকালানী (৭৭৩-৮৫২হি.), লিসানুল মীযান----, আল-ইসাবাহ ফী তামীযিস সাহাবাহ'
বা. বিবিধ
'আলী (রা.) (মৃ.৪০ হি.), দিওয়ানু 'আলী রা.
ইবনুল মুবারাক, আবদুল্লাহ (১১৮-১৮১হি.), দিওয়ানু ইবনিল মুবারাক
ইবনু 'আব্দ রাব্বিহি, আহমাদ (২৪৬-৩২৮ হি.), আল-'ইকদুল ফারীদ
ইবনু হিব্বান, আবূ হাতিম মুহাম্মাদ (মৃ. ৩৫৪ হি.), রাওদাতুল 'উকালা
সা'লাবী, আবদুল মালিক (৩৫০-৪২৯হি.), ইয়াতীমাতুদ দাহর
ইবনু 'আবদিল বারর (৩৬৮-৪৬৩হি.), বাহজাতুল মাজালিস ওয়া উনসুল মাজালিস
যামাখশারী, আবুল কাসিম মাহমূদ (৪৬৭-৫৩৮হি.), রাবী 'উল আবরার
ইবনু সা'ঈদ আল-আন্দালুসী, আলী (৬১০-৬৮৫ হি.), আল-মুরাক্কিসাত ওয়াল মুতাররিবাত
বুসীরী, শারফুদ্দীন (৬০৮-৬৯৬), দিওয়ানুল বুসীরী
আবশীহী, মুহাম্মাদ (৭৯০-৮৫২ হি.), আল-মুস্তাতরাফ ফী কুল্লি ফান্নিন মুস্তাযরাফ
ঋগ্বেদ, কলকাত: হরফ প্রকাশনী, ২০০৪
নীরুকুমার চাকমা, বুদ্ধ ধর্ম ও দর্শন, ঢাকা: অবসর প্রকাশনী, ১৯৯০,
সনাতন ধর্ম কী এবং কেন, (সংকলন): ভবেশ রায়, ঢাকা নিউ এজ পাবলিকেশন্স

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00