📄 অন্তরের জীবনী শক্তি অর্জন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, مَّثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي .لا يَذْكُرُ رَبَّهُ مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ -"যে ব্যক্তি তার রাব্বকে স্মরণ করে আর যে তার রাব্বকে স্মরণ করে না তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তি।”৫৪৬ অর্থাৎ 'যিকর' হলো মানুষের অন্তরের খোরাক। এ খোরাক অর্জন করেই তা জীবনপ্রাপ্ত হয় আর এ খোরাকের অভাবেই তার মৃত্যু ঘটে। ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রাহ.) বলেন, 'যিকর' হলো কালব ও রূহের খাদ্যস্বরূপ। ৫৪৭ বান্দাহ যতো বেশি আল্লাহকে স্মরণ করবে, তার কালব ততো বেশি সজীব, পরিপুষ্ট ও প্রশান্ত হবে এবং তার রূহের শক্তি ততো বেশি বাড়বে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করা ছেড়ে দেবে, তার কালব খাদ্যের অভাবে কিংবা কুখাদ্যের কারণে প্রথমে রোগগ্রস্ত হবে, পরে রোগ বাড়তে বাড়তে মারা যাবে এবং তার রূহ শক্তিহীন হয়ে পড়বে।
টিকাঃ
৫৪৬. বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাব: আদ-দা'ওয়াত), হা. নং: ৬০৪৪
৫৪৭. ইবনুল কাইয়্যিম, আল-ওয়াবিলুস সাইয়িব, পৃ. ৬৩
📄 আত্মিক রোগের প্রতিষেধক
অনেক লোকের অন্তর কঠিন, নির্দয় ও গাফিল হয়ে থাকে। এটা অন্তরের একটি বড় রোগ। যিকর হলো অন্তরের এ রোগ দূরীভূত করার মহৌষধ ও প্রতিষেধক। ৫৪৮ এর দ্বারা অন্তরে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসার সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি হয় এবং এ কারণে তার কাঠিন্য ও গাফলাতি-ভাব দূরীভূত হয়। জনৈক ব্যক্তি বিশিষ্ট তাবি'ঈ আল-হাসান আল-বাসরী (রাহ.)-এর নিকট এসে তার অন্তরের কাঠিন্যের কথা জানালো। তখন তিনি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন, أذيه بالذكر "যিকরের মাধ্যমে তাকে বিগলিত ও নম্র করো।” ৫৪৯ বিশিষ্ট তাবি'ঈ মাকহুল (রাহ.) বলেন, إِنَّ ذِكْرَ اللَّهِ شِفَاء وَإِنْ ذِكْرَ .النَّاسِ دَاء-"আল্লাহর যিকর হলো (আত্মিক রোগের) মহা প্রতিষেধক আর মানুষের যিকর হলো (আত্মিক) রোগ বিশেষ।”৫৫°
টিকাঃ
৫৪৮. ইবনুল কাইয়্যিম, আল-ওয়াবিলুস সাইয়িব, পৃ. ৯৯
৫৪৯. ইবনুল কাইয়্যিম, আল-ওয়াবিলুস সাইয়িব, পৃ. ৯৯ ও রাওদাতুল মুহিব্বীন.., পৃ. ১৬৭
৫৫0. বাইহাকী, শু'আবুল ঈমান, (১০: মাহাব্বাতুল্লাহ), হা. নং: ৭০৫; ইবনুল কাইয়্যিম, আল- ওয়াবিলুস সাইয়িব, পৃ. ৯৯