📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 ই'তিকাফ

📄 ই'তিকাফ


ই'তিকাফ একটি বিশিষ্ট মর্যাদাপূর্ণ 'ইবাদাত এবং আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির একটি অনন্য ব্যবস্থা। ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রাহ.) ই'তিকাফের বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন,
وَشَرَعَ لَهُمُ الاعْتِكَافَ الَّذِي مَقْصُودُهُ وَرُوحُهُ عُكُوفُ الْقَلْبِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى ، وَجَمْعِيتُهُ عَلَيْهِ وَالْحَلْوَةُ بِهِ وَالِانْقِطَاعُ عَنْ الِاشْتِغَالِ بِالْخَلْقِ وَالِاشْتِغَالُ بِهِ وَحْدَهُ سُبْحَانَهُ بِحَيْثُ يَصِيرُ ذِكْرُهُ وَحُبّهُ وَالْإِقْبَالُ عَلَيْهِ فِي مَحَلَّ هُمُومِ الْقَلْبِ وَخَطَرَاتِهِ، فَيَسْتَوْلِي عَلَيْهِ بَدَلَهَا ، وَيَصِيرُ الْهَمْ كُلَّهُ بِهِ وَالْخَطَرَاتُ كُلَّهَا بِذِكْرِهِ وَالتَّفَكَّرِ فِي تَحْصِيلِ مَرَاضِيهِ وَمَا يُقَرِّبُ مِنْهُ فَيَصِيرُ أَنْسُهُ بِاللَّهِ بَدَلًا عَنْ أُنْسِهِ بِالْخَلْقِ فَيَعُدُّهُ بِذَلِكَ لِأَنْسِهِ بِهِ يَوْمَ الْوَحْشَةِ فِي الْقُبُورِ حِينَ لَا أَنِيسَ لَهُ وَلَا مَا يَفْرَحُ بِهِ سِوَاهُ فَهَذَا مَقْصُودُ الاعْتِكَافِ الْأَعْظَمِ.
আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য ই'তিকাফের বিধান জারি করলেন। এর উদ্দেশ্য ও প্রাণ হলো- একান্ত নিভৃতে আল্লাহ তা'আলার প্রতি সর্বান্তকরণে নিবিষ্ট থাকা এবং সৃষ্টির সাথে যাবতীয় যোগাযোগ ছিন্ন করে আল্লাহর ধ্যানে একান্তই নিমগ্ন থাকা। যাতে মানবমনের যাবতীয় চিন্তা-ভাবনা জুড়ে তাঁর যিকর, ভালোবাসা ও আকর্ষণই একাধিপত্য লাভ করতে পারে। মনের যাবতীয় চিন্তাই হবে আল্লাহকে ঘিরে এবং এর সকল ভাবনার উদয় হবে তাঁর যিকরকে কেন্দ্র করে। উপরন্তু, সে নিরন্তর তাঁর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য অর্জনের চিন্তায় রত থাকবে। এভাবে সৃষ্টির পরিবর্তে আল্লাহর সাথেই তাঁর দহরম গড়ে ওঠবে। এর ফলে সে কবরের নিঃসঙ্গতার সময়- যেখানে আল্লাহ ব্যতীত কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু কিংবা কোনো আনন্দদায়ক বিষয় থাকবে না তখন- তাঁর এ সম্পর্কের ফল পেতে থাকবে। এটিই হলো ই'তিকাফের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য। ৫১৯
এ মহান উদ্দেশ্য অর্জন করার অভিপ্রায়ে ই'তিকাফের জন্য এমন মাসজিদ নির্বাচন করতে পারলে ভালো, যেখানে মু'তাকিফ কাউকে চিনবে না এবং তাকেও কেউ চিনবে না। তা হলেই নিভৃতে সর্বান্তকরণে আল্লাহ তা'আলার যিকর ও 'ইবাদাতে সর্বক্ষণ রত থাকা সম্ভব হবে।
সাইয়িদুনা ইব্রাহীম 'আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে সকল নাবী-রাসূলই ই'তিকাফ থাকতেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَ عَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السجود
এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমা'ঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ই'তিকাফকারী ও রুকূ'-সাজদাকারীদের জন্য পবিত্র রেখো। ৫২০ এ আয়াত থেকে জানা যায় যে, সাইয়িদুনা ইব্রাহীম 'আলাইহিস সালাম থেকে আল্লাহর ঘরে ই'তিকাফের সুন্নাত জারী হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ই'তিকাফের জন্য বৎসরের সেরা সময়- রামাদানের শেষ দশককে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি প্রতি বছর নিজেই রামাদানে এ সময় ই'তিকাফ থাকতেন। উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ইন্তিকাল পর্যন্ত প্রতি বছর রামাদানের শেষ দশকে ই'তিকাফে থাকতেন। তাঁর পরে তাঁর সহধর্মিণীগণ (রা.) ই'তিকাফে থাকতেন। ৫২১
বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মাতকে ই'তিকাফের জন্য উৎসাহিত করেছেন। 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
وَمَنْ اعْتَكَفَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ تَعَالَى جَعَلَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ ثَلَاثَ خَنَادِقَ كُل خَنْدَقِ أَبْعَدُ مِمَّا بَيْنَ الْحَافِقَيْنِ .
যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন ই'তিকাফ থাকলো, আল্লাহ তা'আলা তার ও জাহান্নামের মধ্যে তিনটি পরিখা সৃষ্টি করে দেবেন। প্রত্যেক পরিখার মধ্যে পূর্ব-পশ্চিম দু দিগন্তের চেয়েও বেশি ব্যবধান থাকবে। ৫২২

টিকাঃ
৫১৯. ইবনুল কাইয়্যিম, যাদুল মা'আদ, খ. ২, পৃ. ৮৭
৫২০. আল-কোরআন, ২ (সূরা আল-বাকারাহ): ১২৫
৫২১. বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাব: আল-ই'তিকাফ), হা. নং: ১৯২২; মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আল-ই'তিকাফ), হা. নং: ২৮৪১
৫২২. তাবারানী, আল-মু'জামুল কাবীর, হা. নং: ৭৫৩৭; বাইহাকী, শু'আবুল ঈমান, (২৪: আল- ই'তিকাফ), হা. নং: ৩৬৭৯ এ হাদীসটি দা'ঈফ। (আলবানী, দা'ঈফুত তারগীব ওয়াত তারহীব, খ. ২, ৯৫, হা. নং: ১৫৭৩)

📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 রাসূলুল্লাহ সা.-এর ওপর বেশি বেশি সালাত ও সালাম পাঠ

📄 রাসূলুল্লাহ সা.-এর ওপর বেশি বেশি সালাত ও সালাম পাঠ


রাসূলুল্লাহ সা.-এর ওপর বেশি বেশি সালাত ও সালাম পাঠ একটি গুরুত্বপূর্ণ 'আমাল। এ 'আমালের মাধ্যমে একসাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়। এটি মু'মিনের আত্মার একটি খোরাক। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামেরওপর সালাত ও সালাম পাঠের পদ্ধতি, উপকারিতা ও না পড়ার ক্ষতি সম্পর্কে বিশদ বিবরণ রয়েছে। পবিত্র কুর'আনেও এর প্রতি ব্যাপক তাগিদ রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تسليما
নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নাবীর ওপর রাহমাত প্রেরণ করেন। হে মু'মিনগণ, তোমরা নবীর জন্য রাহমাতের দু'আ করো এবং তাঁর প্রতি সালাম পাঠাও। ৫২৩
এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা মু'মিনদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামেরওপর সালাত ও সালাম পেশ করার নির্দেশ দান করেছেন। তবে অন্যান্য নির্দেশের তুলনায় এ নির্দেশের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে, এটা এমন একটা কাজ, যেটি তিনি নিজেও করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণও করেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর সালাত ও সালাম পাঠের বহু ফাযীলাত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই বলেছেন, مَنْ صَلَّى عَلَى وَاحِدَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا - "যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার সালাত পাঠ করে, আল্লাহ তা'আলা তার ওপর দশবার রাহমাত বর্ষণ করেন।” ৫২৪ শুধু তাই নয়; কোনো কোনো রিওয়ায়াতে এও এসেছে যে, وَحُطَّتْ عَنْهُ عَشْرُ خَطِيئَاتٍ وَرُفِعَتْ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ - "তার আমলনামা থেকে দশটি গুনাহ মুছে দেয়া হয় এবং তার জন্য দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।” ৫২৫ 'আবদুর রাহমান ইবনু 'আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাসজিদ থেকে বের হয়ে কোনো এক খেজুর বাগানে ঢুকে পড়লেন। আমি তাঁর পেছনে অনুসরণ করলাম। অতঃপর তিনি সাজদারত হলেন। তাঁর সাজদা খুবই দীর্ঘায়িত হলো। এমনকি আমি এতে খুবই ভীত-সন্ত্রস্ত হলাম। না জানি, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে মৃত্যু দান করলেন এবং জান কাব্য করে নিলেন। তারপর আমি তাঁর খুব কাছে গিয়ে দেখতে লাগলাম। তিনি মাথা উঠিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আবদুর রাহমান! তুমি এখানে কেন এসেছো? 'আবদুর রাহমান (রা.) বলেন, আমি আমার ভীতিকর অবস্থার কথা বললাম। অতঃপর তিনি বললেন,
إِنَّ جَبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامِ قَالَ لِي أَنَا أَبَشِّرُكَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلٌ يَقُولُ لَكَ مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ صَلَّيْتُ عَلَيْهِ وَمَنْ سَلَّمَ عَلَيْكَ سَلَّمْتُ عَلَيْهِ.
নিঃসন্দেহে জিব্রা'ঈল (আ.) আমাকে বলেছেন, আমি কি আপনাকে সুসংবাদ দেবো না? নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা বলেন, যে ব্যক্তি আপনার ওপর সালাত পাঠ করে, আমি তার প্রতি রাহমাত বর্ষণ করি। আর যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাম পেশ করে, আমি তার শান্তি বিধান করি। ৫২৬
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামেরওপর সালাত ও সালাম পাঠ তাঁর প্রতি ভালোবাসার একটি শ্রেষ্ঠ নিদর্শনও। কেউ ঐকান্তিকভাবে এ 'আমাল করলে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসায় সিক্ত হবেই। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশাপাশি আল্লাহ তা'আলাও বান্দাহর প্রতি রাহমাতের দৃষ্টিপাত করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلَاةً - "ক্বিয়ামাতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী সেই ব্যক্তি হবে, যে আমার ওপর অধিক মাত্রায় সালাত পাঠ করবে।”৫২৭ 'উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
إِنَّ الدُّعَاءَ مَوْقُوفٌ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَا يَصْعَدُ مِنْهُ شَيْءٍ حَتَّى تُصَلِّيَ عَلَى نَبِيِّكَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
দু'আ আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে স্থগিত অবস্থায় থাকে। তা ওপরে ওঠে না, যে যাবত না তুমি নাবীর ওপর সালাত পাঠ করবে। ৫২৮
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামেরওপর সালাত ও সালাম পাঠ করার অনেক নিয়ম-পদ্ধতি রয়েছে। নামাযের মধ্যে প্রসিদ্ধ দরূদে ইব্রাহীমীটি পাঠ করা সুন্নাত। তবে সাধারণত কোনো স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম যখন উচ্চারণ করা হবে, তখন তাঁর ওপর সালাত পাঠ করা ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে 'আলিমগণ সাইয়িদুনা আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত-একটি হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করেন। তিনি বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلْيُصَلِّ عَلَيَّ- “যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হয়, সে যেন তৎক্ষণাৎ আমার ওপর সালাত পাঠ করে।”৫২৯ তবে একই মাজলিসে বারবার নাম উচ্চারিত হলে একবার সালাত পাঠ করলেই ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়। তবে প্রতিবার পাঠ করা মুস্তাহাব্ব। এ ছাড়া যে কোনো সময় ঐকান্তিকভাবে সালাত ও সালাম পাঠ করা অনেক পুণ্যের কাজ। বিশেষ করে জুমু'আর দিন ও রাতে সালাত ও সালাম পাঠ করা খুবই কল্যাণকর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, أَكْثِرُوا عَلَيَّ الصَّلَاةَ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ، وَلَيْلَةِ الْجُمُعَةِ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ كُنْتُ لَهُ شهِيدًا، أَوْ شَافِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
তোমরা জুমু'আর দিন ও রাতে আমার ওপর বেশি করে সালাত পাঠ করো। যে ব্যক্তি এরূপ করবে কিয়ামাতের দিন আমি তার জন্য সাক্ষী ও সুপারিশকারী হবো। ৫৩০
উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সালাত ও সালামের মুখাপেক্ষী নন। এর কারণ, তিনি নিজেই রাহমাতুল লিল 'আলামীন, বিশ্ব জাহানের জন্য দয়ার সাগর। আমাদের সালাত ও সালাম পাঠানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁকে সম্মান করা, তা'যীম করা, তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁর নাম চর্চা করা। তাঁর এ অনন্য সম্মান ও মর্যাদা আল্লাহ তা'আলাই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সালাত ও সালাম পাঠানোর বিনিময়ে বহুগুণে যে প্রাপ্তি, তা আমাদের নিজেদেরই। বস্তুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাহাব্বাত অর্জন এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ-সুন্নাত অনুসরণের যে চেষ্টা-সাধনা ও অনুশীলন- প্রকৃতপক্ষে সেটি ঈমানেরই মেহনাত।

টিকাঃ
৫২৩. আল-কোরআন, ৩৩ (সূরা আল-আহযাব): ৫৬
৫২৪. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সালাত), হা. নং: ৯৩৯
৫২৫. নাসা'ঈ, আস-সুনান, (কিতাব: সিফাতুস সালাت), হা, নং: ১২৯৭
৫২৬. আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা. নং: ১৬৬২; হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, (কিতাব: আল-ইমামাহ), হা. নং: ৮১০, (কিতাব: আদ-দু'আ), হা. নং: ২০১৯ বিশিষ্ট মুহাদ্দিস শু'আইব আল-আরনাউত (রাহ.) বলেন, হাদীসটি হাসান লি-গাইরিহি।
৫২৭. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব: আল-বিত্র), হা. নং: ৪৮৪; ইবনু হিব্বান, আস-সাহীহ, হা. নং: ৯১১ ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি হাসান-গারীব।
৫২৮. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব: আল-বিত্র), হা. নং: ৪৮৬ শাইখ আলবানী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি হাসান।
৫২৯. তাবারানী, আল-মু'জামুল আওসাত, হা. নং: ৪৯৪৮; নাসা'ঈ, আস-সুনানুল কুবরা, হা. নং: ৯৮৮৯ শাইখ আলবানী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি সাহীহ লি-গাইরিহি। (আলবানী, সাহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, খ. ২, পৃ. ১৩৪, হা. নং: ১৬৫৭
৫৩০. বাইহাকী, শু'আবুল ঈমান, (২১: আস-সালাত), হা. নং: ২৭৭১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00