📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 সপ্তাহে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা

📄 সপ্তাহে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা


সপ্তাহে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখারও বিশেষ ফাযীলাত রয়েছে। এ দুটি দিনে বান্দাহর 'আমালসমূহ আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়ে থাকে এবং তিনি বিশেষভাবে বান্দাহর গুনাহসমূহ ক্ষমা করে থাকেন। এ কারণে সপ্তাহে এ দুটি দিনেও রোযা রাখা মুস্তাহাব্ব। ওয়াছিলা ইবনুল আসকা' (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন এবং বলতেন, تُعْرَضُ فِيْهُمَا الْأَعْمَالُ عَلَى الله تَبَارَكَ وَتَعَالَى. "এ দুটি দিনে বান্দাহর 'আমালসমূহ আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়।”৪৯৫ আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَأَحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ. ""আমালসমূহ সোমবার ও বৃহস্পতিবার পেশ করা হয়। তাই আমি চাই যে, রোযাদার অবস্থায় আমার 'আমাল পেশ করা হোক।”৪৯৬ আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে আরো বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন। এ দুদিন রোযা রাখার কারণ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, إِنَّ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ يَغْفِرُ اللَّهُ فِيهِمَا لِكُلِّ مُسْلِمٍ -“এ দু দিন আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক মুসলিমকেই ক্ষমা করে দেন।”৪৯৭
তবে এ দু দিনের মধ্যে বৃহস্পতিবারের চাইতে সোমবারে রোযা রাখার তাৎপর্য বেশি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিতই এ দিন রোযা রাখতেন। একবার তাঁকে সোমবার রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তখন তিনি জবাব দিয়েছিলেন যে, ذَاكَ يَوْمَ وُلِدْتُ فِيهِ وَيَوْمَ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلَى -"ঐ দিন হলো আমার জন্মের দিন এবং আমার নুবুওয়াত লাভের অর্থাৎ আমার ওপর ওহী নাযিলের দিন।”৪৯৮

টিকাঃ
৪৯৫. তাবারানী, আল-মু'জামুল কাবীর, হা. নং: ২৩৩
৪৯৬. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব: আস-সাওম) হা. নং: ৭৪৭ ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি হাসান-গারীব। শাইখ আলবানী (রাহ.)-এর মতে, এটি সাহীহ লি-গাইরিহি। (আলবানী, সাহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, খ. ১, পৃ. ২৫১, হা. নং: ১০৪১)
৪৯৭. ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ১৭৪০ এ হাদীসটি সাহীহ। (আলবানী, সাহীহু সুনানি ইবনি মাজাহ, খ. ১, পৃ. ২৯০, হা. নং: ১৪১৫)
৪৯৮. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৮০৪; আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা. নং: ২২৫৯৪

📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 ‘আরাফার দিন রোযা রাখা

📄 ‘আরাফার দিন রোযা রাখা


যুল হিজ্জাহ মাসের প্রথম নয় দিন রোযা রাখাও মুস্তাহাব্ব। ৪৯৯ তন্মধ্যে নয় তারিখ 'আরাফার দিন হাজ্জব্রত পালন রত নয়- এমন লোকদের জন্য রোযা রাখার বিশেষ ফাযীলাত রয়েছে। এ দিনের রোযা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ -"তা বিগত এক বৎসরের এবং আগামী এক বৎসরের যাবতীয় পাপ মোচন করে দেয়।”৫০০

টিকাঃ
৪৯৯. আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ أَنْ يُتَعدَ لَهُ فِيهَا مِنْ عَشْرِ ذِي الْحِمَّةِ ، يَعْدِلُ صِيَامُ كُلِّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامٍ سَنَةٍ ..... "যে সকল দিবসে আল্লাহ তা'আলার 'ইবাদাত করা হয় তন্মধ্যে তাঁর নিকট যুল হিজ্জাহ মাসের (প্রথম) দশ দিনের চাইতে অধিকতর প্রিয় কোনো দিবস নেই। এ দিবসসমূহের মধ্যে প্রতিদিনের রোযা এক বৎসর রোযা রাখার সমান মর্যাদা সম্পন্ন।..." (তিরমিযী, আস-সুনান, কিতাব: আস- সাওম হা. নং: ৭৫৮; বাযযার, আল-মুসনাদ, হা.নং: ৭৮১৬) ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি গারীব। শাইখ নাসির উদ্দীন আল-আলবানী (রাহ.)-এর গবেষণা মতে, এটি দা'ঈফ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জনৈক স্ত্রী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ تِسْعًا مِنْ ذِي الْحِجَّةِ وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুলহিজ্জার নয়টি রোযা, আশূরার দিন এবং প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখতেন, ।" (নাসাঈ, আস-সুনান, কিতাব: আস-সাওম, হা. নং: ২৪১৭) শাইখ নাসির উদ্দীন আলু-আলবানী (রাহ.)-এর গবেষণা মতে, এ হাদীসটি সাহীহ।
৫০০. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৮০৪

📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 শা'বান মাসে বেশি বেশি রোযা রাখা

📄 শা'বান মাসে বেশি বেশি রোযা রাখা


শা'বান মাস অত্যন্ত বারকাতের মাস। তাই এ মাসে বেশি বেশি রোযা রাখা মুস্তাহাব্ব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও অন্য যে কোনো মাসের চাইতে এ মাসে বেশি করে রোযা রাখতেন। উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, وَمَا رَأَيْتُهُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ "আমি তাঁকে শা'বান মাসে যে অধিক হারে রোযা রাখতে দেখেছি, অন্য কোনো মাসে তাঁকে সে হারে রোযা রাখতে দেখিনি।”৫০১ কিন্তু এ মাসে নির্দিষ্টভাবে কেবল ১৫ তারিখ রোযা রাখার প্রসঙ্গটি কোনো বিশুদ্ধ হাদীস থেকে সুপ্রমাণিত নয়। এতদসংক্রান্ত বর্ণিত হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল। অনেকেই এ হাদীসটিকে মাওদূ' (জাল) বলেও আখ্যায়িত করেছেন। ৫০২

টিকাঃ
৫০১. বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সাওম), হা. নং: ১৮৬৮; মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং:২৭৭৯
৫০২. এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা পড়ুন, বিদ'আত ৩য় খণ্ড, পৃ. ১১২-৪

📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 সপ্তাহে শনি ও রোববার রোযা রাখা

📄 সপ্তাহে শনি ও রোববার রোযা রাখা


সপ্তাহে শনি ও রোববার রোযা রাখাও মুস্তাহাব্ব। কেননা এ দিন দুটি মুশরিকদের সাপ্তাহিক 'ঈদের দিন। তাই এ দিনগুলোতে রোযা রাখা প্রকারান্তরে তাদের বিরোধিতা করার নামান্তর। বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে সাদৃশ্য রক্ষা করা থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি নিজেও এ দিন দুটিতে প্রায়ই রোযা রাখতেন। উম্মুল মু'মিনীন 'উম্মু সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, أكْثَرُ مَا كَانَ يَصُوْمُ مِنَ الْأَيَّامِ يَوْمُ السَّبْتِ وَالْأَحَدِ ، كَانَ يَقُولُ : إِنَّهُمَا يَوْمًا عِيْدٍ لِلْمُشْرِكِينَ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَهُمْ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দিনগুলোতে অধিকাংশ রোযা রাখতেন, তা হলো শনিবার ও রোববার। তিনি বলতেন, এ দিন দুটি মুশরিকদের উৎসবের দিন। আমি চাই যে, তাদের বিরোধিতা করি। ৫০০

টিকাঃ
৫০৩. ইবনু হিব্বান, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সাওম), হা. নং: ৩৬১৬; ইবনু খুযায়মাহ, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২১৬৭ বিশিষ্ট মুহাদ্দিস শু'আইব আল-আরনাউত (রাহ.) বলেন, হাদীসটির সনদ শক্তিশালী। শাইখ আলবানী (রাহ.)-এর মতে, এটি হাসান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00