📄 শাওয়াল মাসে ৬টি রোযা রাখা
মাহে রামাদানের পর শাওয়াল মাসে ৬টি রোযা রাখারও বিশেষ ফাযীলাত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِنا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ فَكَأَنَّمَا صَامَ السَّنَةَ كُلِّهَا. - ব্যক্তি মাহে রামাদানে রোযা রাখলো এবং এর পরপর শাওয়ালে আরো ছয়টি রোযা রাখলো, তা হলে সে যেন গোটা বছরই রোযা রাখলো।”৪৯০
টিকাঃ
৪৯০. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৮১৫; আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা. নং: ১৪৩০২
📄 প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখা
প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখাও সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, صَوْمُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كله - “তিন দিন রোযা রাখা পুরো বছর রোযা রাখার সমতুল্য ৪৯১ এ তিনটি রোযা কেউ ইচ্ছে করলে প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখও রাখতে পারে অথবা মাসের কোনো এক সোমবার, তারপর বৃহস্পতিবার, অতঃপর পরবর্তী সোমবারও রাখতে পারে। অথবা মাসের শুরুতেও পরপর রাখতে পারে কিংবা শেষেও পরপর রাখতে পারে অথবা মাসের যে কোনো তিন দিনও রাখতে পারে। মু'আযাহ আল-'আদাভিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার সাইয়িদাহ 'আয়িশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ -“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন?" তিনি জবাব দেন, হ্যাঁ। পুনরায় মু'আযাহ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, مِنْ أَى أَيَّامِ الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ -"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাসের কোন্ কোন্ দিন রোযা রাখতেন?" 'আয়িশা (রা.) উত্তর দেন, - لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ يَصُومُ.
রোযা রাখতেন- এরূপ কোনো ব্যাপার তিনি হিসাব করতেন না। "৪৯২ তবে এ তিনটি রোযা প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ ৪৯৩ রাখা উত্তম। এ প্রসঙ্গে আবূ যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, يَا أَبَا ذَرِّ إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ "আবূ যার! যদি তুমি মাসে তিনটি করে রোযা রাখো, তা হলে মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোযা রাখো।”৪৯৪
টিকাঃ
৪৯১. বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সাওম), হা. নং: ১৮৭৮
৪৯২. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৮০১
৪৯৩. মাসের এ তিন দিনের চন্দ্রালোকিত রাতসমূহ যেহেতু দিনের মতোই উজ্জ্বল থাকে, তাই এ দিনগুলোকে 'আইয়ামুল বীদ' (أيام البيض) (অর্থাৎ উজ্জ্বল দিন বলা হয়। এ কারণে এ তিন দিনের রোযাকে 'আইয়ামুল বীদের রোযা' বলা হয়।
৪৯৪. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব: আস-সাওম), হা. নং: ৭৬১; ইবনু খুযাইমাহ, আস-সাহীহ, হা. নং: ২১২৮ ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি হাসান।
📄 সপ্তাহে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা
সপ্তাহে প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখারও বিশেষ ফাযীলাত রয়েছে। এ দুটি দিনে বান্দাহর 'আমালসমূহ আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়ে থাকে এবং তিনি বিশেষভাবে বান্দাহর গুনাহসমূহ ক্ষমা করে থাকেন। এ কারণে সপ্তাহে এ দুটি দিনেও রোযা রাখা মুস্তাহাব্ব। ওয়াছিলা ইবনুল আসকা' (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন এবং বলতেন, تُعْرَضُ فِيْهُمَا الْأَعْمَالُ عَلَى الله تَبَارَكَ وَتَعَالَى. "এ দুটি দিনে বান্দাহর 'আমালসমূহ আল্লাহর নিকট পেশ করা হয়।”৪৯৫ আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَأَحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ. ""আমালসমূহ সোমবার ও বৃহস্পতিবার পেশ করা হয়। তাই আমি চাই যে, রোযাদার অবস্থায় আমার 'আমাল পেশ করা হোক।”৪৯৬ আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে আরো বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন। এ দুদিন রোযা রাখার কারণ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, إِنَّ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ يَغْفِرُ اللَّهُ فِيهِمَا لِكُلِّ مُسْلِمٍ -“এ দু দিন আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক মুসলিমকেই ক্ষমা করে দেন।”৪৯৭
তবে এ দু দিনের মধ্যে বৃহস্পতিবারের চাইতে সোমবারে রোযা রাখার তাৎপর্য বেশি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিতই এ দিন রোযা রাখতেন। একবার তাঁকে সোমবার রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তখন তিনি জবাব দিয়েছিলেন যে, ذَاكَ يَوْمَ وُلِدْتُ فِيهِ وَيَوْمَ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلَى -"ঐ দিন হলো আমার জন্মের দিন এবং আমার নুবুওয়াত লাভের অর্থাৎ আমার ওপর ওহী নাযিলের দিন।”৪৯৮
টিকাঃ
৪৯৫. তাবারানী, আল-মু'জামুল কাবীর, হা. নং: ২৩৩
৪৯৬. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব: আস-সাওম) হা. নং: ৭৪৭ ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি হাসান-গারীব। শাইখ আলবানী (রাহ.)-এর মতে, এটি সাহীহ লি-গাইরিহি। (আলবানী, সাহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব, খ. ১, পৃ. ২৫১, হা. নং: ১০৪১)
৪৯৭. ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ১৭৪০ এ হাদীসটি সাহীহ। (আলবানী, সাহীহু সুনানি ইবনি মাজাহ, খ. ১, পৃ. ২৯০, হা. নং: ১৪১৫)
৪৯৮. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৮০৪; আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা. নং: ২২৫৯৪
📄 ‘আরাফার দিন রোযা রাখা
যুল হিজ্জাহ মাসের প্রথম নয় দিন রোযা রাখাও মুস্তাহাব্ব। ৪৯৯ তন্মধ্যে নয় তারিখ 'আরাফার দিন হাজ্জব্রত পালন রত নয়- এমন লোকদের জন্য রোযা রাখার বিশেষ ফাযীলাত রয়েছে। এ দিনের রোযা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ -"তা বিগত এক বৎসরের এবং আগামী এক বৎসরের যাবতীয় পাপ মোচন করে দেয়।”৫০০
টিকাঃ
৪৯৯. আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ أَنْ يُتَعدَ لَهُ فِيهَا مِنْ عَشْرِ ذِي الْحِمَّةِ ، يَعْدِلُ صِيَامُ كُلِّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامٍ سَنَةٍ ..... "যে সকল দিবসে আল্লাহ তা'আলার 'ইবাদাত করা হয় তন্মধ্যে তাঁর নিকট যুল হিজ্জাহ মাসের (প্রথম) দশ দিনের চাইতে অধিকতর প্রিয় কোনো দিবস নেই। এ দিবসসমূহের মধ্যে প্রতিদিনের রোযা এক বৎসর রোযা রাখার সমান মর্যাদা সম্পন্ন।..." (তিরমিযী, আস-সুনান, কিতাব: আস- সাওম হা. নং: ৭৫৮; বাযযার, আল-মুসনাদ, হা.নং: ৭৮১৬) ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি গারীব। শাইখ নাসির উদ্দীন আল-আলবানী (রাহ.)-এর গবেষণা মতে, এটি দা'ঈফ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জনৈক স্ত্রী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ تِسْعًا مِنْ ذِي الْحِجَّةِ وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুলহিজ্জার নয়টি রোযা, আশূরার দিন এবং প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখতেন, ।" (নাসাঈ, আস-সুনান, কিতাব: আস-সাওম, হা. নং: ২৪১৭) শাইখ নাসির উদ্দীন আলু-আলবানী (রাহ.)-এর গবেষণা মতে, এ হাদীসটি সাহীহ।
৫০০. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৮০৪