📄 একদিন পর পর রোযা রাখা
একদিন পর পর রোযা রাখা অর্থাৎ একদিন রোযা রাখা, পরদিন রোযা রাখা ছেড়ে দেয়া। এ প্রকারের রোযা নাফল সিয়াম সাধনার সর্বোত্তম পদ্ধতি। দা'উদ 'আলাইহিস সালাম এভাবে রোযা রাখতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, إِنْ أَحَبُّ الصيام إلى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ ، كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا. "আল্লাহর নিকট সর্বচেয়ে প্রিয় সিয়াম সাধনা হলো দাউদ 'আলাইহিস সালামের সিয়াম সাধনা। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন রোযা রাখা ছেড়ে দিতেন। "৪৮৫
টিকাঃ
৪৮৫. বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাব: আল-আম্বিয়া), হা. নং:৩২৩৮; মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৭৯৬
📄 ‘আশূরার রোযা রাখা
মাহে রামাদানের পর সবচেয়ে ফাযীলাতপূর্ণ সিয়াম সাধনা হলো মুহাররাম মাসের সিয়াম সাধনা। বিশেষ করে এ মাসের ১০ তারিখ 'আশুরার দিনটি অনেক বারকাত, ফাযীলাত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিন রোযা রাখা বড় পুণ্যের কাজ। বিভিন্ন হাদীসে এ দিন রোযা রাখতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বছর নিয়মিত এ দিন রোযা রাখতেন। আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাদীনায় হিজরাতের পর দেখলেন যে, পবিত্র আশুরার দিন ইয়াহুদীরা রোযা পালন করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ দিন কেন তোমরা রোযা পালন করো? তারা উত্তর দিলো, এটি অত্যন্ত মর্যাদাবান ও পবিত্র দিন। এ দিন আল্লাহ তা'আলা বানী ইসরা'ঈলকে ফির'আউনের কবল থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং ফির'আউন ও তার দলকে নীল নদে ডুবিয়ে চিরতরে খতম করে দেন। এ জন্য মূসা 'আলাইহিস সালাম এ দিন আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ রোযা রেখেছিলেন। এ কথা শোনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسى مِنْكُمْ-"তা হলে তো আমিই তোমাদের চেয়ে মূসা 'আলাইহিস সালামের অধিকতর ঘনিষ্ঠ ও নিকটবর্তী। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দিন রোযা রাখলেন এবং সকলকে রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন। "৪৮৬
উল্লেখ্য যে, কেবল মুহাররামের ১০ তারিখ একদিন রোযা রাখা সমীচীন নয়। এতে ইয়াহুদীদের সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয়। এ কারণে এর আগে ৯ তারিখ কিংবা এর পরে ১১ তারিখ আরো একদিন অথবা ৯, ১০ ও ১১ তারিখ এক সাথে তিন দিন রোযা রাখা উত্তম। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, صُومُوا يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَخَالِفُوا فِيهِ الْيَهُودَ صُومُوا قَبْلَهُ يَوْمًا وَبَعْدَهُ يَوْمًا. "তোমরা আশূরার দিন রোযা রাখবে, তবে তোমাদের রোযা যেন ইয়াহুদীদের রোযার সাথে মিলে না যায়। তাই তোমরা আশূরার পূর্বে ও পরে আরো দুদিন রোযা পালন করবে। ৪৮৭ অন্য একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِل لأَصُومَنَّ التَّاسِيعَ -“যদি আমি আগামী বৎসর পর্যন্ত জীবিত থাকি, তবে অবশ্যই আমি ৯ তারিখও রোযা রাখবো।”৪৮৮ এ দিন রোযা রাখার ফাযীলাত প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, يُكَفِّرُ السَّئَةَ الْمَاضِيَةَ"- এ দিনের রোযা বিগত এক বৎসরের যাবতীয় পাপ মোচন করে দেয়। ৪৮৯
টিকাঃ
৪৮৬. বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সাওম), হা. নং: ১৯০০
৪৮৭. আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা. নং:২১৫৪
৪৮৮. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৭২৩
৪৮৯. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৮০৪
📄 শাওয়াল মাসে ৬টি রোযা রাখা
মাহে রামাদানের পর শাওয়াল মাসে ৬টি রোযা রাখারও বিশেষ ফাযীলাত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِنا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ فَكَأَنَّمَا صَامَ السَّنَةَ كُلِّهَا. - ব্যক্তি মাহে রামাদানে রোযা রাখলো এবং এর পরপর শাওয়ালে আরো ছয়টি রোযা রাখলো, তা হলে সে যেন গোটা বছরই রোযা রাখলো।”৪৯০
টিকাঃ
৪৯০. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৮১৫; আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা. নং: ১৪৩০২
📄 প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখা
প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখাও সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, صَوْمُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كله - “তিন দিন রোযা রাখা পুরো বছর রোযা রাখার সমতুল্য ৪৯১ এ তিনটি রোযা কেউ ইচ্ছে করলে প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখও রাখতে পারে অথবা মাসের কোনো এক সোমবার, তারপর বৃহস্পতিবার, অতঃপর পরবর্তী সোমবারও রাখতে পারে। অথবা মাসের শুরুতেও পরপর রাখতে পারে কিংবা শেষেও পরপর রাখতে পারে অথবা মাসের যে কোনো তিন দিনও রাখতে পারে। মু'আযাহ আল-'আদাভিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার সাইয়িদাহ 'আয়িশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ -“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন?" তিনি জবাব দেন, হ্যাঁ। পুনরায় মু'আযাহ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, مِنْ أَى أَيَّامِ الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ -"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাসের কোন্ কোন্ দিন রোযা রাখতেন?" 'আয়িশা (রা.) উত্তর দেন, - لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ يَصُومُ.
রোযা রাখতেন- এরূপ কোনো ব্যাপার তিনি হিসাব করতেন না। "৪৯২ তবে এ তিনটি রোযা প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ ৪৯৩ রাখা উত্তম। এ প্রসঙ্গে আবূ যার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, يَا أَبَا ذَرِّ إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلَاثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ "আবূ যার! যদি তুমি মাসে তিনটি করে রোযা রাখো, তা হলে মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোযা রাখো।”৪৯৪
টিকাঃ
৪৯১. বুখারী, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সাওম), হা. নং: ১৮৭৮
৪৯২. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সিয়াম), হা. নং: ২৮০১
৪৯৩. মাসের এ তিন দিনের চন্দ্রালোকিত রাতসমূহ যেহেতু দিনের মতোই উজ্জ্বল থাকে, তাই এ দিনগুলোকে 'আইয়ামুল বীদ' (أيام البيض) (অর্থাৎ উজ্জ্বল দিন বলা হয়। এ কারণে এ তিন দিনের রোযাকে 'আইয়ামুল বীদের রোযা' বলা হয়।
৪৯৪. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব: আস-সাওম), হা. নং: ৭৬১; ইবনু খুযাইমাহ, আস-সাহীহ, হা. নং: ২১২৮ ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি হাসান।