📄 অপ্রয়োজনীয় বা অনর্থক কাজ করা
একজন মু'মিন যেমন অনর্থক ও বাজে কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকেন, তেমনি তিনি যে কোনো অনর্থক ও বাজে কার্যকলাপ থেকেও বিরত থাকেন। আল্লাহ তা'আলা প্রকৃত মু'মিনদের গুণাবলির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ -“আর যারা অনর্থক বিষয় থেকে বিরত থাকে। "৪৩৫ অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا -“এবং তারা যখন অসার কার্যকলাপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন তারা ভদ্রভাবে চলে যায়।” এ আয়াতগুলো থেকে জানা যায়, মু'মিনরা কখনো বাজে ও অসার কার্যকলাপে লিপ্ত তো হতেই পারে না এবং এরূপ কাজের পাশেও তারা যায় না। এটা সত্যিকার ঈমানের পরিপন্থী। তবে ঘটনাচক্রে যদি তাদের কখনো কোনো বাজে ও অনর্থক কার্যকলাপের পাশ দিয়ে গমন করতে হয়, তখন তারা ভদ্র ও সম্ভ্রান্ত লোকদের ন্যায় চলে যায়। ইব্রাহীম ইবনু মায়সারাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন ইবনু মাস'উদ (রা.) ঘটনাক্রমে একটি বাজে কাজের পাশ দিয়ে গমন করেন। তিনি সেখানে না দাঁড়িয়ে সোজা চলে যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা জানতে পেরে বললেন, أصبح ابن مَسْعُودٍ وَأَمْسَى كَرِيمًا “ইবনু মাস'উদ ভদ্র হয়ে গেছে।” অতঃপর ইবনু মায়সারাহ (রা.) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। ৪৩৬
মোট কথা, যে সব কাজে কোনো উপকারিতা নেই; বরং ক্ষতিই বিদ্যমান, তা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। তবে যে সব কাজে কোনো উপকারও নেই, ক্ষতিও নেই, এ সব অর্থহীন বিষয়ও বর্জন করে চলা ন্যূনপক্ষে উত্তম ও প্রশংসনীয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ -"মানুষ যখন অনর্থক বিষয় ত্যাগ করে, তখন তার ইসলাম সৌন্দর্যমণ্ডিত হতে পারে। "৪৩৭ অন্য একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুত্তাকীর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, لَا يَبْلُغُ الْعَبْدُ أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُتَّقِينَ حَتَّى يَدَعَ مَا لَا بَأْسَ بِهِ حذرًا لِمَا بِهِ الْبَأْسُ . পৌঁছতে পারবে না, যে যাবত না সে অবাঞ্ছিত বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় (অনেক) নির্দোষ বিষয়ও বর্জন করে চলবে। "৪৩৮ এ কারণেই উপযুক্ত আয়াতগুলোতে অনর্থক ও অর্থহীন কাজ এড়িয়ে চলাকে পরিপূর্ণ মু'মিনের বিশেষ গুণরূপে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিকাঃ
৪৩৫. আল কোরআন, ২৩ (সূরা আল-মু'মিনূন): ৩
৪৩৬. ইবনু কাসীর, তাফসীরুল কোরআনিল 'আযীম, খ. ৬. পৃ. ১৩১
৪৩৭. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব আয-যুহদ), হা. নং: ২৩১৭, ২৩১৮; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, (কিতাব: আল-ফিতান), হা. নং: ৩৯৭৬ ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি গারীব। শাইখ আলবানী (রাহ.)-এর গবেষণা মতে, এটি সাহীহ। (আলবানী, সাহীহু ও দা'ঈফু সুনানিত তিরমিযী, খ. ৫, পৃ. ৩১৭)
৪৩৮. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব সিফাতুল কিয়ামাহ,...), হা. নং: ২৪৫১; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, (কিতাব: আয-যুহদ), হা. নং: ৪২১৫ ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি হাসান-গারীব। শাইখ আলবানী (রাহ.)-এর গবেষণা মতে, এটি দা'ঈফ। (আলবানী, সাহীহু ও দা'ঈফু সুনানিত তিরমিযী, খ. ৫, পৃ. ৪৫১)
একজন মু'মিন যেমন অনর্থক ও বাজে কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকেন, তেমনি তিনি যে কোনো অনর্থক ও বাজে কার্যকলাপ থেকেও বিরত থাকেন। আল্লাহ তা'আলা প্রকৃত মু'মিনদের গুণাবলির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ -“আর যারা অনর্থক বিষয় থেকে বিরত থাকে। "৪৩৫ অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا -“এবং তারা যখন অসার কার্যকলাপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন তারা ভদ্রভাবে চলে যায়।” এ আয়াতগুলো থেকে জানা যায়, মু'মিনরা কখনো বাজে ও অসার কার্যকলাপে লিপ্ত তো হতেই পারে না এবং এরূপ কাজের পাশেও তারা যায় না। এটা সত্যিকার ঈমানের পরিপন্থী। তবে ঘটনাচক্রে যদি তাদের কখনো কোনো বাজে ও অনর্থক কার্যকলাপের পাশ দিয়ে গমন করতে হয়, তখন তারা ভদ্র ও সম্ভ্রান্ত লোকদের ন্যায় চলে যায়। ইব্রাহীম ইবনু মায়সারাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন ইবনু মাস'উদ (রা.) ঘটনাক্রমে একটি বাজে কাজের পাশ দিয়ে গমন করেন। তিনি সেখানে না দাঁড়িয়ে সোজা চলে যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথা জানতে পেরে বললেন, أصبح ابن مَسْعُودٍ وَأَمْسَى كَرِيمًا “ইবনু মাস'উদ ভদ্র হয়ে গেছে।" অতঃপর ইবনু মায়সারাহ (রা.) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। ৪৩৬
মোট কথা, যে সব কাজে কোনো উপকারিতা নেই; বরং ক্ষতিই বিদ্যমান, তা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। তবে যে সব কাজে কোনো উপকারও নেই, ক্ষতিও নেই, এ সব অর্থহীন বিষয়ও বর্জন করে চলা ন্যূনপক্ষে উত্তম ও প্রশংসনীয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ -"মানুষ যখন অনর্থক বিষয় ত্যাগ করে, তখন তার ইসলাম সৌন্দর্যমণ্ডিত হতে পারে। "৪৩৭ অন্য একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুত্তাকীর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, لَا يَبْلُغُ الْعَبْدُ أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُتَّقِينَ حَتَّى يَدَعَ مَا لَا بَأْسَ بِهِ حذرًا لِمَا بِهِ الْبَأْسُ . পৌঁছতে পারবে না, যে যাবত না সে অবাঞ্ছিত বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় (অনেক) নির্দোষ বিষয়ও বর্জন করে চলবে। "৪৩৮ এ কারণেই উপযুক্ত আয়াতগুলোতে অনর্থক ও অর্থহীন কাজ এড়িয়ে চলাকে পরিপূর্ণ মু'মিনের বিশেষ গুণরূপে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিকাঃ
৪৩৫. আল কোরআন, ২৩ (সূরা আল-মু'মিনূন): ৩
৪৩৬. ইবনু কাসীর, তাফসীরুল কোরআনিল 'আযীম, খ. ৬. পৃ. ১৩১
৪৩৭. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব আয-যুহদ), হা. নং: ২৩১৭, ২৩১৮; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, (কিতাব: আল-ফিতান), হা. নং: ৩৯৭৬ ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি গারীব। শাইখ আলবানী (রাহ.)-এর গবেষণা মতে, এটি সাহীহ। (আলবানী, সাহীহু ও দা'ঈফু সুনানিত তিরমিযী, খ. ৫, পৃ. ৩১৭)
৪৩৮. তিরমিযী, আস-সুনান, (কিতাব সিফাতুল কিয়ামাহ,...), হা. নং: ২৪৫১; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, (কিতাব: আয-যুহদ), হা. নং: ৪২১৫ ইমাম তিরমিযী (রাহ.) বলেন, হাদীসটি হাসান-গারীব। শাইখ আলবানী (রাহ.)-এর গবেষণা মতে, এটি দা'ঈফ। (আলবানী, সাহীহু ও দা'ঈফু সুনানিত তিরমিযী, খ. ৫, পৃ. ৪৫১)