📄 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুরো জীবনাচার ও রীতি-নীতি
পবিত্র হাদীসে যে সব জায়গায় সুন্নাতের গুরুত্ব ও অনুসরণ সম্পর্কে 'সুন্নাত' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, সে সব জায়গায় তা দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুরো জীবনাচার ও রীতি-নীতিকে বোঝানো হয়েছে। পরবর্তীকালে প্রচলিত ফিকহী পরিভাষার আলোকে তন্মধ্যে কোনোটি ফারয ও 1- হতে পারে, কোনোটি ওয়াজিব, সুন্নাত ও মুস্তাহাব্বও হতে পারে।
📄 ওয়াজিবের নিচের এবং মুস্তাহাবের ওপরের স্তরের কাজ
সুন্নাত শব্দের ব্যবহার কখনো এমন বিষয়সমূহের ওপর হয়, যা হুকমের দিক থেকে ওয়াজিব স্তরের নিচে এবং মুস্তাহাব্ব স্তরের ওপরে। যেমন- বলা হয়, উযুতে অমুক অমুক কাজ সুন্নাত, সালাতে অমুক অমুক কাজ সুন্নাত।
📄 আদাব, শিষ্টাচার
সুন্নাত শব্দটি কখনো আদাব অর্থেও ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়- মাসজিদে প্রবেশ করার সুন্নাত, মাসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাত, পানাহারের সুন্নাত, পোশাক পরার সুন্নাত ইত্যাদি।
📄 সম্পূর্ণ নির্দোষ ও সাধারণ জীবন যাপন
সুন্নাত শব্দটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের সে সব কাজের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যে কাজগুলো তিনি কখনো দুনিয়ার প্রতি চূড়ান্ত অনাসক্তিমূলক ভাব থেকেই সম্পাদন করতেন। যেমন- অতি সাধারণ পানাহার, অমসৃণ পোশাক-পরিচ্ছদ, চট বা চাটাইয়ের ওপর শয়ন ও সম্পদ জমা না রাখা প্রভৃতি।
উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপরিউক্ত তিন প্রকারের সুন্নাতের মতো এ চতুর্থ প্রকার সুন্নাতের অনুসরণের ব্যাপারে ব্যাপকভাবে উৎসাহ প্রদান করেননি। তবে কারো পক্ষে যদি নিজের শরীরে সীমাহীন ব্যাঘাত সৃষ্টি করা বা অপরের অধিকারের কোনোরূপ ক্ষতি সাধন করা ব্যতীত এ প্রকার সুন্নাতের অনুসরণ করা সম্ভব হয়, তা হলে এটা নিঃসন্দেহে তার জন্য সাওয়াব ও সৌভাগ্য লাভের কারণ হবে। তবে নিজের শরীরের অত্যাবশ্যকীয় অধিকার বা অপরের অধিকারের কোনোরূপ ক্ষতি সাধন করে এ প্রকার সুন্নাতের অনুসরণ করতে চেষ্টা করা শারী'আতে কাম্য নয়।