📄 আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি
হাজ্জ হলো আল্লাহ তা'আলার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি ও তাঁর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য কর্মশালা। হাজী ইহরাম বাঁধার সময় থেকেই এ নৈকট্য লাভের এক উর্বর পরিবেশ উপলব্ধি করার সুযোগ লাভ করে। সে ইহরামের সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিধানের মধ্য দিয়ে বাহ্যিকভাবে আড়ম্বরহীন একান্ত আল্লাহ প্রেমিক বান্দাহ হিসেবে নিজেকে মহান রাব্বুল 'আলামীনের দরবারে পেশ করে। এটি তাকে দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ এবং তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে শেখায়। এ সময় সে সমগ্র দুনিয়ার প্রাপ্তি প্রত্যাশার চাইতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্যকেই আরাধ্য জ্ঞান লাভ করে এবং তাঁর কণ্ঠে বারংবার অনুরণিত হয় - لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنَّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ ، لَا شَرِيكَ لَكَ.
আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত। আমি উপস্থিত, আপনার কোনো অংশীদার নেই। আমি উপস্থিত, নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা, সমস্ত নি'মাত এবং রাজত্ব আপনারই, আপনার কোনো অংশীদার নেই।
মূলত আল্লাহর নিকট উপস্থিতির এই অন্তর নিংড়ানো ঘোষণা একজন হাজ্জ পালনকারীর মহান রাব্বের নিকট পৌঁছানোর অনুভূতিকে শাণিত করে। সে তখন মনে প্রাণে উপলব্ধি করতে পারে, সে যেন লা-শারীক মহামহিয়ান এক অসীম সাম্রাজ্যের মালিক ও তার স্রষ্টার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার রাব্বের নৈকট্যের অনাবিল ঝর্ণাধারায় সে অবগাহন করে ধন্য হচ্ছে। একজন বান্দাহর এর চেয়ে আর বড় কল্যাণ প্রাপ্তির কোনো কিছু থাকতে পারে কি?
📄 আখিরাতের অনুভূতি শক্তিকরণ
হাজ্জ আখিরাতমুখী জীবনগড়ার বাস্তব শিক্ষা গ্রহণের একটি কর্মশালাও। কাফনের মতো সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিধান করে খালি মাথায় যখন একজন হাজী ইহরাম বাঁধে, তখন সে সরাসরি মৃত্যু ও তৎপরবর্তী জীবনকে উপলব্ধি করার এক মোক্ষম সুযোগ লাভ করে। একজন মৃত ব্যক্তি যেমন কোনো কিছুই করতে পারে না, ইহরাম অবস্থায় একজন হাজীরও ঠিক তেমনি কিছু করার থাকে না। কোনো পোকামাকড় তাকে কামড়ালেও তাকে মারার কোনো সামান্য অধিকারও নেই। উস্কোখুস্কো চুলটিও বিন্যস্ত করার কোনো সুযোগ নেই। শরীর থেকে কোনো পশমটি পর্যন্ত খসানো তার জন্য বৈধ বলে স্বীকৃত নয়। সে যেন একজন মৃত মানুষ। তদুপরি 'আরাফাতে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি একজন হাজীকে কিয়ামাতের ময়দানের পরিবেশকেই বাস্তবভাবে উপলব্ধি করতে সহায়তা করে। মোটকথা, হাজ্জের সময় বিভিন্ন আহকামের অনুশীলন দুনিয়ার মায়াজালে আক্রান্ত নানা ভোগবিলাসে লিপ্ত থাকা মানুষকে জীবনের অবশিষ্ট সময়ে আখিরাতমুখী জীবন গড়তে শেখায় এবং দুনিয়ার জীবনের দুঃখ-বেদনা, প্রাপ্তি-প্রত্যাশা, গ্রহণ-বর্জন, সহজ ও কঠিন পরীক্ষায় সঠিকভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলে।