📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের প্রকৃষ্ট ব্যবস্থা

📄 আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের প্রকৃষ্ট ব্যবস্থা


মানুষ অনেক বিষয়ের প্রশিক্ষণ পায় সালাতের মাধ্যমে। মানুষের বেয়াড়া কুপ্রবৃত্তির লাগাম টেনে ধরা এবং নাফসকে সংশোধিত ও দীপ্তিময় করার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সালাত। সালাতে নাফসকে বিনম্র ও অহঙ্কারমুক্ত করার অনুশীলনের ফলে কুপ্রবৃত্তি জেগে ওঠার সুযোগ পায় না এবং খারাপ অভ্যাসও নামাযীর আচার-আচরণে স্থান পায় না। এভাবে পরিশুদ্ধ হবার পর নামাযী সমাজকেও কল্যাণ ও উন্নতির দিকে নিয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوعًا . إِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوعًا ، وَإِذَا مَسَّهُ الْخَيْرُ مَنُوعًا . إِلَّا الْمُصَلِّينَ . الَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ دَائِمُونَ
মানুষকে খুবই অস্থিরচিত্ত দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে বিপদগ্রস্ত হলে হা-হুতাশ করতে থাকে এবং ঐশ্বর্যশালী হলে কৃপণ হয়ে পড়ে, তবে তারা নয়, যারা সালাত আদায় করে, যারা তাদের সালাতে সদা নিষ্ঠাবান। ¹²⁰
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ "আর সালাত কায়িম করো। নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীলতা ও পাপ থেকে বিরত রাখে।”¹²¹
বলাই বাহুল্য, মানুষের নাফসের মধ্যে রয়েছে বিভিন্নরূপ প্রবৃত্তি ও প্রবণতা। এ সব প্রবৃত্তি ও প্রবণতাকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা ও ব্যবহার করা সম্ভব হলে মানুষ পরিপূর্ণতার চরম শিখরে আরোহন করতে সক্ষম হবে। মানুষের সমস্যা হলো তারা অসচেতনতা বা উন্মত্ত অবস্থা থেকে মুক্ত নয়। প্রতিটি মানুষের ভেতরে যে উন্মত্ততা থাকে, তাকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে। মহান আল্লাহর স্মরণ ও আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়ার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। সালাতে আল্লাহর স্মরণ শাণিত ও প্রদীপ্ত হয়। মানুষ যখন সালাত আদায় করে, তখন তার ভেতরের সতর্ককারী বিবেক সজীব বা প্রাণবন্ত হয়। এ বিবেক তাকে বারংবার অশ্লীলতা ও অন্যায়ের ব্যাপারে সতর্ক করতে থাকে। এ বিষয়গুলোর উচ্চারণ ও পুনরাবৃত্তি নাফসকে বিনম্র ও ভীত-সন্ত্রস্ত রাখে। এ জন্য বারবার সালাত আদায়ের বিধান দেয়া হয়েছে। সাওম বছরে একবার, হাজ্জও একবার; কিন্তু সালাত বার বার পড়তে হয়। সালাতের বিশেষ গুরুত্বটা এখানেই। সালাত নিয়মিতভাবে বিনয় ও মনোযোগসহ পড়া হলে শুধু নামাযীর নাফসই নয়, একই সাথে তার আশপাশের পরিবেশও কোমল, বিনম্র ও সুরভিত হয়। সমাজে প্রকৃত ও বিনম্র নামাযীর সংখ্যা যত বাড়বে, ততই স্বার্থপরতা, সংকীর্ণতা, লোভ-লালসা এবং অন্যায়-অবিচারের অন্ধকার কমে যাবে; বরং মুক্তি ও কল্যাণের আলো দিনের পর দিন মানুষের মধ্যে প্রদীপ্ততর হয়ে ওঠবে।

টিকাঃ
১২০. আল কোরআন, সূরা আল-মা'আরিজ, ৭০: ১৯-২৩
১২১. আল কোরআন, সূরা আল-'আনকাবুত, ২৯: ৪৫

📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম

📄 আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম


সালাত আল্লাহর ভালোবাসা ও নৈকট্য লাভের প্রধান মাধ্যম। এর সাহায্যে একজন মু'মিন অন্তত দিনে পাঁচবার আল্লাহ তা'আলার দরবারে উপস্থিত হবার এবং তাঁর সাথে কথা বলার সুযোগ পায়। এ কারণে সালাতকে معراج المؤمن (মু'মিনের মি'রাজ) বলা হয়। ¹²² এতে বান্দাহ তার প্রতিটি অবস্থায় এবং প্রতিটি যিকর ও দু'আর মাধ্যমে প্রকারান্তরে আল্লাহ তা'আলার সাথে গোপন আলাপচারিতায় লিপ্ত হয়। হাদীসে কুদসীতে সূরা ফাতিহা সম্পর্কে বর্ণিত আছে, যখন বান্দাহ সূরা ফাতিহা পাঠ করে, তখন আল্লাহ তা'আলা তার প্রতিটি কথার উত্তর দিয়ে থাকেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
قَسَمْتُ الصَّلاةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ). قَالَ اللَّهُ تَعَالَى حَمِدَنِي عَبْدِي وَإِذَا قَالَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ). قَالَ اللَّهُ تَعَالَى أَثْنَى عَلَيَّ عَبْدِي. وَإِذَا قَالَ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ. قَالَ مَحْدَنِي عَبْدِي فَإِذَا قَالَ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ). قَالَ هَذَا بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ. فَإِذَا قَالَ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ). قَالَ هَذَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ.
'সালাত (অর্থাৎ সূরাতুল ফাতিহা) কে আমি আমার এবং আমার বান্দাহর মধ্যে দুভাগে বিভক্ত করেছি। অর্ধেক আমার জন্য আর অর্ধেক আমার বান্দাহর জন্য। আমার বান্দাহ যা চায়, তা তাকে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন বান্দাহ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ বলে, তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, আমার বান্দাহ আমার প্রশংসা করেছে। আর যখন الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ বলে, তখন তিনি বলেন যে, আমার বান্দাহ আমার গুণগান করেছে। আর যখন مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ বলে, তখন তিনি বলেন, আমার বান্দাহ আমার মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছে। আর যখন إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ বলে, তখন তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যেই রইলো। আর বান্দাহ যা চায়, তা তাকে দেয়া হবে। আর যখন اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غيرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ বলে, তখন তিনি বলেন, এটা আমার বান্দাহর জন্য রইলো আর আমার বান্দাহ যা চাইবে তা-ই পাবে। ¹²³

টিকাঃ
১২২. মুল্লা আল-কারী, আল-মিরকাত, খ. ১, পৃ. ১৩৪
কেউ কেউ কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বক্তব্যরূপে বর্ণনা করে থাকেন। আমি কোনো হাদীসগ্রন্থেই এটি তাঁর বক্তব্যরূপে খোঁজে পাইনি। আমার ধারণা, এটি কোনো বুযর্গ 'আলিমের কথা হবে।
১২৩. মুসলিম, আস-সাহীহ, (কিতাব: আস-সালাত), হা. নং: ৯০৪

📘 তাযকিয়াতুন নাফস > 📄 সালাত থেকে সুফল পাওয়ার শর্ত

📄 সালাত থেকে সুফল পাওয়ার শর্ত


সালাতের প্রাণ হলো বিনয় ও একাগ্রতা। ইমাম গাযালী (রাহ.) বলেন, الصلاة الخشوع، وحضور القلب مع القراءة، والذكر بالتفهم সালাতের স্তম্ভ হলো বিনয়, একান্ত মনোনিবেশ সহকারে কোরআন তিলাওয়াত এবং গভীর উপলব্ধিসহ আল্লাহর যিকর।”¹²⁴ কাজেই সালাত থেকে উপর্যুক্ত উপকারিতাসমূহ পেতে হলে পূর্ণ নিষ্ঠা, বিনয়, ভয় ও আশা, একাগ্রতা, চিন্তা-ফিকর ও ধীর-সুস্থতার সাথে তা আদায় করতে হবে। তা না হলে সালাত থেকে প্রকৃত ও যথার্থ সুফল পাওয়া যাবে না। আল্লাহ তা'আলা সফল মু'মিনগণের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ (۱) الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ (২)-"নিশ্চিতভাবে সফলকাম হয়েছে সে সব মু'মিন, যারা নিজেদের সালাতে বিনয়াবনত হয়।”¹²⁵ আয়াতে উল্লেখিত 'খুশু' শব্দের অর্থ হলো- কারো সামনে ঝুঁকে পড়া, দমিত বা বশীভূত হওয়া, বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করা। উল্লেখ্য যে, এরূপ অবস্থার সম্পর্ক যেমন মনের সাথে হয়ে থাকে, তেমনি দেহের বাহ্যিক অবস্থার সাথেও হয়ে থাকে। মনের 'খুশু' হচ্ছে, মানুষ কারোর ভীতি, শ্রেষ্ঠত্ব, প্রতাপ ও পরাক্রমতার দরুন সন্ত্রস্ত ও আড়ষ্ট থাকবে। আর দেহের খুশু হচ্ছে, যখন সে তার সামনে যাবে, তখন মাথা নত হয়ে যাবে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঢিলে হয়ে যাবে, দৃষ্টি নত হবে, কণ্ঠস্বর নিম্নগামী হবে এবং কোনো জবরদস্ত প্রতাপশালী ব্যক্তির সামনে উপস্থিত হলে মানুষের মধ্যে যে স্বাভাবিক ভীতি সঞ্চার হয়, তার যাবতীয় চিহ্ন তার মধ্যে ফুটে ওঠবে। সালাতে খুশ্' বলতে মন ও দেহের এ অবস্থাটা বোঝায় এবং এটা সালাতের আসল প্রাণ। বর্ণনা করা হয় যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে দেখলেন এবং সাথে সাথে এও দেখলেন যে, সে নিজের দাড়ি নিয়ে খেলা করছে। এ অবস্থা দেখে তিনি বললেন, لَوْ خَشَعَ قَلْبُهُ لَخَشَعَتْ جَوَارِحُهُ "যদি তার মনে খুশ্ থাকতো, তা হলে তার দেহেও খুশূ'র সঞ্চার হতো।”¹²⁶ যদিও খুশূ'র সম্পর্ক মূলত মনের সাথে এবং মনের খুশৃ' আপনা-আপনি দেহে সঞ্চারিত হয়, তবুও শারী'আতে এমন কিছু নিয়ম-কানুন নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে, যা একদিকে মনের খুশু' সৃষ্টিতে সহায়তা করে এবং অন্যদিকে মনের খুশূ'র হ্রাস-বৃদ্ধির অবস্থায় সালাতের কর্মকাণ্ডকে বাহ্যিক দিক দিয়ে একটি বিশেষ মানদণ্ডে প্রতিষ্ঠিত রাখে। এ নিয়ম-কানুনগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে, সালাত আদায়রত ব্যক্তি যেন ডানে-বামে না ফিরে এবং মাথা ওঠিয়ে ওপরের দিকে না তাকায়। সালাতের মধ্যে নড়াচড়া করা এবং বিভিন্ন দিকে ঝুঁকে পড়া নিষিদ্ধ। বারবার কাপড় গুটানো অথবা ঝাড়া কিংবা কাপড় নিয়ে খেলা করা জায়িয নয়। সাজদায় যাওয়ার সময় বসার জায়গা বা সাজদার জায়গা পরিষ্কার করার চেষ্টা করতেও নিষেধ করা হয়েছে। গর্বিত ভঙ্গিতে খাড়া হওয়া, জোরে জোরে আড়মোড়া ভাঙ্গা ও ঢেকুর তোলাও সালাতের মধ্যে বে-আদবী হিসেবে গণ্য। তাড়াহুড়া করে টপাটপ সালাত পড়ে নেওয়াও ভীষণ অপছন্দনীয়। নির্দেশ হলো, সালাতের প্রত্যেকটি কাজ পুরোপুরি ধীরস্থিরভাবে শান্ত সমাহিত চিত্তে সম্পন্ন করতে হবে। এক একটি কাজ যেমন রুকু, সাজদাহ, কিয়াম ও জালসাহ প্রভৃতি যতক্ষণ পুরোপুরি শেষ না হয়, ততক্ষণ অন্য কাজ শুরু করা যাবে না। এ বাহ্যিক আদবের সাথে সাথে সালাতের মধ্যে জেনে-বোঝে সালাতের সাথে অসংশ্লিষ্ট ও অবান্তর কথা চিন্তা করা থেকে দূরে থাকার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিচ্ছাকৃত চিন্তা-ভাবনা মনের মধ্যে আসা ও আসতে থাকা মানুষ মাত্রেরই একটি স্বভাবগত দুর্বলতা। কিন্তু মানুষের পূর্ণ প্রচেষ্টা থাকতে হবে, সালাতের সময় তার মন যেন আল্লাহ তা'আলার প্রতি পূর্ণ আকৃষ্ট থাকে এবং মুখে সে যা কিছু উচ্চারণ করে মনও যেন তারই আর্জি পেশ করে। এ সময়ের মধ্যে মনে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্য চিন্তা-ভাবনা এসে যায়, তা হলে যখনই মানুষের মধ্যে এর অনুভূতি সজাগ হবে, তখনই তার মনোযোগ সে দিক থেকে সরিয়ে নিয়ে পুনরায় সালাতের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। সাইয়িদুনা 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, رَكْعَتَانِ مُقْتَصِدَتَانِ فِي تَفْكِير خير "গাফিল অন্তর নিয়ে (অর্থাৎ একান্ত মনঃসংযোগ ব্যতীত) সারা রাত জেগে নামায পড়ার চেয়ে চিন্তা-ভাবনার সাথে ভারসাম্যপূর্ণ দু রাক'আত নামায পড়াই উত্তম।”¹²⁷ বিশিষ্ট তাবি'ঈ আল-হাসান আল-বাসরী (রাহ.) বলেন, كل صلاة لا يحضر فيها القلب فهي إلى العقوبة أسرع "সালাতের মধ্যে অন্তর উপস্থিত থাকবে না, সে সালাত দ্রুত শাস্তির দিকে নিয়ে যাবে।”¹²⁸ বর্ণিত রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি মনে মনে এভাবে কাঁদতেন যে, তাঁর বক্ষদেশ টগবগ করতো। মুতাররিফ (রা.) তাঁর পিতা 'আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
أتيتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُصَلِّي وَلِحَوْفِهِ لِصَدْرِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيرِ الْمِرْجَلِ يَعْنِي يَبْكِي.
একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলাম। তখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন। এ সময় তাঁর বক্ষদেশ টগবগ করছিল যেমন রান্না করার সময় ডেক বা হাঁড়ি টগবগ করে থাকে। অর্থাৎ তিনি কাঁদতেছিলেন। ¹²⁹
সাইয়িদুনা 'আলী (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি সালাত আদায়ের জন্য তৈরি হতেন, তখন তাঁর দেহে কম্পন শুরু হয়ে যেতো। ¹³⁰ বর্ণিত আছে, জনৈক ব্যক্তি বিশিষ্ট যাহিদ হাতিম আল-আসাম্ম [মৃ.২৩৭ হি.] (রাহ.)-এর নিকট তাঁর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি জবাব দেন,
যখন সালাতের সময় হয়, তখন আমি একটি যাহিরী ওযু করি এবং একটি বাতিনী ওযু করি। পানি দ্বারা যাহিরী ওযু করি এবং তাওবাহ দ্বারা বাতিনী ওযু করি। অতঃপর মাসজিদে গিয়ে এমনিভাবে সালাতে দাঁড়াই যেন, কা'বাগৃহ আমার সামনে, ডানে জান্নাত, বাঁয়ে জাহান্নাম। আমি যেন পুলসিরাতের ওপর দাঁড়িয়ে আছি এবং মালাকুল মাওত আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন। অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাকবীর বলি, আদবের সাথে দণ্ডায়মান হই, মর্যাদার সাথে কোরআন পাঠ করি, অত্যন্ত ভয় ও বিনয়ের সাথে রুকূ' ও সাজদা করি। অত্যন্ত সম্মানের সাথে বসে তাশাহ্হুদ পাঠ করি এবং কৃতজ্ঞতার সাথে সালামের মাধ্যমে সালাত শেষ করি। ¹³¹

টিকাঃ
১২৪. গাযালী, বিদায়াতুল হিদায়াহ, পৃ. ১১
১২৫. আল কোরআন, সূরা আল-মু'মিনূন, ২৩: ১-২
১২৬. এ হাদীসটি সাইয়িদুনা 'আলী (রা.) ও আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত রয়েছে। (সুলামী, আবূ 'আবদির রাহমান, আদাবুস সুহবাত, পৃ. ১২৩, হা. নং: ২০৬; আল-হাকীম আত-তিরমিযী, নাওয়াদিরুল উসূল, খ. ৩, পৃ. ৩১০; 'আলাউদ্দীন আল-হিন্দী, কানযুল 'উম্মাল, খ. ৮, পৃ. ১৯৭, হা. নং: ২২৫৩০) এ রিওয়ায়াত দুটির সনদ অত্যন্ত দুর্বল। তবে বিশিষ্ট সাহাবী হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান ও বিশিষ্ট তাবি'ঈ সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রা.) থেকে এ জাতীয় বক্তব্য বর্ণিত রয়েছে। (ইবনুল মুবারাক, আয-যুহদ, হা. নং: ১১৮৮; আবু নাসর আল-মারওয়াযী, তা'যীম কাদরিস সালাত, খ. ১, পৃ. ১৯৪, হা. নং: ১৫০, ১৫১; 'আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ, অধ্যায়: সালাত, পরিচ্ছেদ: আল-'আবসু ফিস সালাত), হা. নং। ৩৩০৮) উল্লেখ্য যে, 'হাদীসের উপর্যুক্ত কথাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বক্তব্যরূপে সুপ্রমাণিত নয়; তবে এটা যে হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান ও সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়‍্যাব (রা.) প্রমুখের বক্তব্য- তা অধিকতর বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত।
১২৭. ইবনু মুবারাক, আয-যুহদ ওয়ার রাকা'য়িক, খ. ১, পৃ. ৩০৫, খ. ৩, পৃ. ১৮৩ (হা. নং: ২৮৯, ১১৩৪]; মারওয়াযী, মুখতাসারু কিয়ামিল লায়ল, পৃ. ২১৫; আবুশ শাইখ আল-ইস্পাহানী, আল-'আযমাতু, হা. নং ৪৩
১২৮. গাযালী, ইহয়া.., খ. ১, পৃ. ১৫৭ ও বিদায়াতুল হিদায়াহ, পৃ. ১১; আবু তালিব আল-মাক্কী, কুতুল কুলুব, খ. ২, পৃ. ১৬০
১২৯. নাসা'ঈ, আস-সুনান, (কিতাব: সিফাতুস সালাত), হা. নং: ১২১৪; আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা. নং: ১৬৩১৭, ১৬৩২৬
ছাবিত (রা.) তাঁর পিতা থেকেও এরূপ একটি হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, [কিতাব: আল-ইমামাহা, হা. নং: ৯৭১)
১৩০. দাতা গঞ্জে বখশ, কাশফুল মাহজুব, পৃ. ১৬১
১৩১. দাতা গঞ্জে বখশ, কাশফুল মাহজুব, পৃ.১৬১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00