📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 আল্লাহ ও রাসূলের জিম্মাদারী প্রসঙ্গে

📄 আল্লাহ ও রাসূলের জিম্মাদারী প্রসঙ্গে


আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জিম্মাদারী প্রসঙ্গে
মহান আল্লাহ বলেন,
وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلا تَنْقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا ) (النحل: ٩١)
অর্থাৎ, “আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে তঅঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং পাকাপাকি কসম করার পর তা ভঙ্গ করো না.” (সূরা নাহলঃ ৯১)
وَعَن بُرَيْدَةَ، قال: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشِ أَوْ سَرِيَّةٍ أَوْصَاهُ فِي بِتَقْوَى اللهِ، وَمَنْ مَعَهُ مِنْ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا، فَقَالَ: (( اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ، قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ ، اغْزُوا وَلَا تَغُلُّوا وَلَا تَغْدِرُوا وَلَا تَثْلُوا، وَلَا تَقْتُلُوا وَلِيدًا، وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنْ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلَاثِ خِصَالٍ، أَوْ خِلَالٍ، فَأَيَّتُهُنَّ مَا أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ، وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَلَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ، فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِن فعلوا ذلك فلهم مَا لِلْمُهَاجِرِين, وعليهم ما على المهاجرين, فإن أبوا أن يتحولوا منها, فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ، يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ الله, وَلَا يَكُونُ هُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ ، إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ, فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَسَلْهُمْ الْجِزْيَةَ، فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللهِ وَقَاتِلْهُمْ، وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللهِ ، وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلَا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللهِ وَ ذِمَّةً نَبِيِّهِ، وَلَكِنْ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ، فَإِنَّكُمْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَكُمْ وَذِمَمَ أَصْحَابِكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةً رَسُولِهِ، وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِهُمْ عَلَى حُكْمِ اللهِ، فَلَا تُنْزِهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ، وَلَكِنْ أَنْزِهُمْ عَلَى حُكْمِكَ، فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي أَتُصِيبُ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ أَمْ لَا)). رواه مسلم
অর্থাৎ, বুরাইদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ যখন কোন ক্ষুদ্র বা বৃহৎ সেনাবাহিনীতে কাউকে আমীর নির্বাচন করতেন, তখন তাকে আল্লাহকে ভয় করার এবং তার সাথী-সঙ্গী মুসলিমদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার উপদেশ দিতেন, তিনি বলতেন, “আল্লাহর নামে জিহাদ করো, যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করেছে, তাদের সাথে যুদ্ধ করো, তবে গণীমতের মালের খিয়ানত করবে না. চুক্তি ভঙ্গ করবে না. শত্রু পক্ষের অঙ্গ বিকৃতি করবে না. শিশু- দেরকে হত্যা করবে না. যখন তুমি মুশরিক শত্রুর সম্মুখীন হবে, তখন তাকে তিনটি বিষয় বা তিনটি আচরণের প্রতি আহ্বান জানাবে. তারা এগুলোর মধ্যে থেকে যেটিই গ্রহণ করবে, তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবে. প্রথমে তাদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিবে. যদি তারা তোমার এই আহ্বানে সাড়া দেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবে।
এরপর তুমি তাদের স্বগৃহ ত্যাগ করে মুহাজিরদের এলাকায় চলে যাওয়ার আহ্বান জানাবে। আর তাদের জানিয়ে দিবে যে, যদি তারা তা কার্যকরী করে, তবে মুহাজিরদের জন্য যে সব লাভ লোকসান ও দায়-দায়িত্ব রয়েছে, তা তাদের উপর কার্যকরী হবে। যদি তারা স্বগৃহ ত্যাগ করতে অস্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দিবে যে, তারা সাধারণ বেদুঈন মুসলিমদের মত গণ্য হবে। তাদের উপর আল্লাহর সেই বিধান কার্যকরী হবে, যা সাধারণ মুসলিমদের উপর কার্যকরী হয় এবং তারা গণীমত ও ফায় থেকে কিছুই পাবে না। অবশ্য মুসলি- মদের সাথে শামিল হয়ে যুদ্ধ করলে তার অংশীদার হবে। আর যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে তঅস্বীকার করে, তবে তাদের কাছে 'জিয য়া' (কর) প্রদানের দাবী জানাবে যদি তারা তা গ্রহণ করে নেয়, তবে তুমি তাদের তরফ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবে। তার যদি তারা এ দাবী না মানে, তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা ক'রে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়বে। আর যদি তোমরা কোন দুর্গবাসীকে অবরোধ করো এবং তারা যদি তোমার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারী চায়, তবে তুমি তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারী দিবে না। বরং তাদেরকে তোমার ও তোমার সাথীদের যিম্মাদারীতে রাখবে। কেননা, যদি তোমাদের ও তোমাদের সাথীদের যিম্মাদারী ভঙ্গ করা হয়, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারী ভঙ্গ করার চাইতে কম গুরুতর, আর যদি তোমরা কোন দুর্গের অধিবাসীদেরকে অবরোধ করো, তখন যদি তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক অবতরণ করতে চায়, তবে তোমরা তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর অবতরণ না করিয়ে তাদেরকে তোমার সিদ্ধান্তের উপর অবতরণ করতে দিবে। কেননা, তোমার জানানেই যে, তুমি তাদের মাঝে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে পারবে কি না? (মুসলিম)
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের যিম্মা এবং মুসলিমদের যিম্মার মধ্যে পার্থক্য।
২. দু'টি বিষয়ের মধ্যে যার ক্ষতি কম তার নির্দেশ।
৩. রাসূলুল্লাহ-এর বাণী, "আল্লাহর নামে তাঁর পথে জিহাদ করো.'
৪. রাসূলুল্লাহ-এর বাণী, "আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা ক'রে তাদের সাথে যুদ্ধ করো।"
৫. আল্লাহর ফয়সালা এবং আলেমদের ফয়সালার মধ্যে পার্থক্য।
৬. প্রয়োজনের সময় সাহাবীর এমন ফয়সালা করা, যার ব্যাপারে সে জানে না যে, এটা আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী হচ্ছে কি না।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এই অধ্যায়ের লক্ষ্য হলো, এমন অবস্থা ও পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচতে ও বিরত থাকতে চেষ্টা করা, যে অবস্থায় শত্রুদের সাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারী অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করার আশঙ্কা থাকে। আর এই অবস্থায় যখন অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হবে, তখন তা মুসলিমদের পক্ষ থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারীর সাথে তঅবৈধ আচরণ করা হবে এবং আল্লাহর তঅসম্মান ও দুই ক্ষতিকর জিনিসের মধ্যে অধিকতর ক্ষতিকর জনিস সম্পাদনকারী বিবেচিত হবে। আর এ থেকেই রাসূলুল্লাহ সতর্ক করেছেন, তাছাড়া এতে ইসলামকে হীন ও তুচ্ছ ভাবা হয় এবং কাফেরদেরকে এর (অঙ্গীকার ভঙ্গ করার) প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়। কারণ, অঙ্গীকার পূরণ করা হলো, ইসলামের সৌন্দর্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা ন্যায়পরায়ণ শত্রুদেরকে ইসলামকে উত্তম ভাবার এবং তার অনুসরণ করার প্রতি উৎসাহিত করে।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 আল্লাহর উপর কসম খাওয়া

📄 আল্লাহর উপর কসম খাওয়া


আল্লাহর উপর কসম খাওয়া
عَنْ جُنْدَبٍ بنِ عَبْدِ اللهِ ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : ((قَالَ رَجُلٌ : وَاللهِ لَا يَغْفِرُ اللهُ لِفُلَانٍ ، وَإِنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ: مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لَا أَغْفِرَ لِفُلَانٍ؟ فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِفُلَانٍ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ)) رواه مسلم
অর্থাৎ, জুন্দুব ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “এক ব্যক্তি বললো, আল্লাহর কসম করে বলছি, আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না। তখন মহান আল্লাহ বললেন, একে যে আমার উপর কসম করে বলে যে, আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমার আমল নষ্ট করে দিলাম।” (মুসলিম) আবূ হুরাইরা বলেন, একথা যে বলেছিলো, সে একজন ইবাদতকারী বান্দা ছিলো। তার একটি কথার কারণে দুনিয়া ও আখেরাত বরবাদ হয়ে গেলো।
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. আল্লাহর উপর কসম খাওয়া থেকে সতর্কতা। ২. জাহান্নাম আমাদের জুতোর ফিতের থেকেও নিকটে হওয়া।
৩. জান্নাতও অনুরূপ.
৪. এই হাদীসে সেই হাদীসের সমর্থন পাওয়া যায়, যাতে বলা হয়েছে, ‘মানুষ কোন চিন্তা-ভাবনা না করে এমন কথা বলে ফেলে, যার কারণে সে জাহান্নামের অনেক দূরে গিয়ে পড়ে---।’
৫. কোন কোন সময় মানুষের মুক্তি এমন কারণেও সাধিত হয়, যা তার নিকট অত্যধিক অপছন্দনীয় ছিলো।
ব্যাখ্যাঃ আল্লাহর উপর কসম খাওয়া এবং আল্লাহকে সুপারিশী হিসাবে সৃষ্টির সামনে পেশ করা হলো, আল্লাহর শানে অশিষ্টতা, আর এটা তাওহীদ পরিপন্থী জিনিস, কারণ, আল্লাহর উপর কসম খাওয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে আত্মগর্ব এবং আল্লাহর সাথে অশিষ্টতার পর্যায় পড়ে এই বিষয়গুলো সব মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কারো ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে না।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 শিরকীয় পথ বন্ধ করণে রাসূল ﷺ-এর তৎপরতা

📄 শিরকীয় পথ বন্ধ করণে রাসূল ﷺ-এর তৎপরতা


আল্লাহকে সুপারিশী হিসাবে সৃষ্টির সামনে পেশ করা যায় না
عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ له قَالَ : جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نهِكَتِ الْأَنْفُسُ وَجَاعَ الْعِيَالُ، وَهَلَكَتِ الْأَمْوَالُ، فَاسْتَسْقِ لَنَا رَبَّكَ فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِالله عَلَيْكَ، وَبِكَ عَلَى اللهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : ((سُبْحَانَ اللَّهِ، سُبْحَانَ الله !)) فَمَا زَالَ يُسَبِّحُ حَتَّى عُرِفَ ذَلِكَ فِي وُجُوهِ أَصْحَابِهِ، ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ : ((وَيْحَكَ! أَتَدْرِي مَا الله ؟ إِنَّ شَأْنُ اللهِ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ، إِنَّهُ لَا يُسْتَشْفَعُ بِاللَّهِ عَلَى أَحَدٍ مِنْ خَلْقِهِ)) وهذا الحديث ضعيف
অর্থাৎ, জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা এক গ্রাম্য লোক রাসূলুল্লাহ-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষগুলো শেষ হয়ে গেলো, পরিজন ক্ষুধায় কাতর এবং মাল-ধন ধ্বংস হয়ে গেলো, তাই আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণের দুআ করুন, আমরা আল্লাহকে আপনার সামনে এবং আপনাকে আল্লাহর সামনে সুপারিশী হিসাবে পেশ করছি, এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ আশ্চর্যান্বিত হয়ে "সুবহানাল্লাহ” পাঠ করলেন, তিনি অব্যাহতভাবে এমন করে "সুবহানাল্লাহ” পাঠ করতে ছিলেন যে, তার প্রতিক্রিয়া সাহাবীদের মুখমন্ডলে প্রকাশ পেলো, অতঃপর নবী করীম বললেন, “তোমার সর্বনাশ হোক, তুমি জানো আল্লাহ কে? আল্লাহর সম্মান-মর্যাদা এর অনেক অনেক ঊর্ধ্বে, আল্লাহকে কোন সৃষ্টির সামনে সুপারিশী হিসাবে পেশ করা যায় না.” হাদীসটি ইমাম আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন, তবে হাদীসটি দুর্বল.
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. রাসূলুল্লাহ তার কথার খন্ডন করেছেন, যে বলেছে, আমরা আল্লাহকে আপনার সামনে সুপারিশী হিসাবে পেশ করছি,
২. এই বাক্যের কারণে রাসূলুল্লাহ-এর তঅবস্থা এমনভাবে পরিবর্তন হয়ে গেলো যে, তার প্রতিক্রিয়া সাহাবীদের মুখমন্ডলেও লক্ষ্য করা গেলো.
৩. তিনি 'আপনাকে আল্লাহর সামনে সুপারিশী হিসাবে পেশ করছি,' এ কথার খন্ডন করেন নাই।
৪. 'সুবহানাল্লাহ' তাফসীর সম্পর্কে অবহিত করণ, ৫. মুসলিমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বৃষ্টির জন্য দুআ করতে বলতেন,
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ আল্লাহকে সুপারিশী হিসাবে সৃষ্টির সামনে পেশ করার ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, তাঁর মহান সত্ত্বা এই মাধ্যম হওয়ার বহু ঊর্ধ্বে কেননা, সাধারণতঃ যাকে মাধ্যম মানানো হয়, তার মর্যাদা-সম্মান তার থেকে কম হয়, যার সামনে মাধ্যম পেশ করা হয়। আর এটা হলো আল্লাহর সাথে বে-আদবী করা, কাজেই তা ত্যাগ করতে হবে। কারণ, সুপারিশকারীরা তাঁর নিকট তাঁর অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করতে পারবে না। সকলেই তো তাঁর নিকট ভীত-সন্ত্রস্ত থাকবে। তাহলে আল্লাহকেই কেমন করে সুপারিশকারী বানানো যায়? তাঁর সত্ত্বা এমন মহান ও বিশাল, যাঁর সামনে গর্দানসমূহ ঝুঁকে যায় এবং সার্বভৌমত্ব যাঁর বশ্যতা স্বীকার করে।
তাওহীদের সমর্থনে এবং শির্কের পথ বন্ধ করণে নবী করীম ﷺ-এর তৎপরতা
عَنْ عَبْدِ اللهِ بن الشخير ، قَالَ : انْطَلَقْتُ فِي وَفْدِ بَنِي عَامِرٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقُلْنَا : أَنتَ سَيِّدُنَا ، فَقَالَ : ((السَّيِّدُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى)) قُلْنَا: وَأَفْضَلْنَا فَضْلًا، وَأَعْظَمُنَا طَوْلًا، فَقَالَ : (( قُولُوا بِقَوْلِكُمْ أَوْ بَعْضٍ قَوْلِكُمْ وَلَا يَسْتَجْرِيَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ)) رواه أبو داود بسند جيد
অর্থাৎ, আব্দুল্লাহ ইবনে শিখীর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বনী আমেরের একটি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ -এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমরা বললাম, আপনি আমাদের সম্রাট, তখন তিনি বললেন, সকলের সম্রাট হলেন বরকতময় মহান আল্লাহ। আমরা বললাম, আপনি আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং আমাদের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল। তখন তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের কথা বা এই ধরনের কোন কোন কথা বলতে পারো। সাবধান! শয়তান যেন তোমাদেরকে ফাঁসিয়ে না দেয়।” (হাদীসটি ইমাম আবূ দাউদ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন.)
عَنْ أَنَسٍ الله أَنَّ نَاسًا قَالُوا : يَا رَسُوْلَ اللهِ، يَا خَيْرَنَا وَابْنَ خَيْرِنَا، وَ سَيِّدَنَا وَابْنَ سَيِّدَنَا، فَقَالَ النَّبِيُّ : ((يَا أَيُّهَا النَّاسُ قُولُوا بِقَوْلِكُمْ، وَلَا يَسْتَهْوِيَنَّكُمْ الشَّيْطَانُ، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، مَا أُحِبُّ أَنْ تَرْفَعُونِي فَوْقَ مَنْزِلَتِيَ الَّتِي أَنزَلَنِي الله عز وجل )) رواه النسائي بسند جيد
অর্থাৎ, আনাস থেকে বর্ণিত যে, লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের মধ্যে উত্তম এবং উত্তম ব্যক্তির সন্তান, আপনি আমাদের সরদার এবং আমাদের সরদারের সন্তান। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, “হে মানব সমাজ, তোমরা তোমাদের কথা বলো। তবে সাবধান, শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে। আমি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি চাইনা যে, তোমরা আমাকে ঐ স্থানের আরো উর্ধ্বে তুলে দাও, যে স্থানে মহান আল্লাহ আমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।” (হাদীসটি ইমাম নাসায়ী উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন.)
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. বাড়াবাড়ি করা থেকে মানুষকে সতর্ক করণ.
২. যদি কাউকে 'হে আমাদের সরদার' বলা হয়, তাহলে তার কি বলা উচিত.
৩. হক্ব কথা বলা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ তাদেরকে এই বলে সতর্ক করলেন যে, 'শয়তান যেন তোমাদের ফাঁসিয়ে না দেয়'.
৪. রাসূলুল্লাহ-এর বাণী, "আমি চাইনা যে, তোমরা আমাকে আমার উপযুক্ত স্থানের ঊর্ধ্বে তুলে দাও.”
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ- এই অধ্যায়ের মত একটি অধ্যায় পূর্বে উল্লেখ হয়েছে, লেখক এখানে আবার ঐ ধরনের কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন তাওহীদের গুরুত্বের দিকে লক্ষ্য করে। বস্তুতঃ তাওহীদে পূর্ণতা অর্জন এবং তার হেফাযত ও সংরক্ষণ ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না শির্ক পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এমন সকল পথ থেকে বাঁচতে চেষ্টা করা হবে। তবে উভয় অধ্যায়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রথম অধ্যায়ে তাওহীদের সমর্থন করা হয়েছে কর্মের দ্বারা সম্পাদিত শির্কের পথ বন্ধ করে। আর এই অধ্যায়ে তার হেফাযত করা হয়েছে কথার দ্বারা সংঘটিত শির্কের পথ বন্ধ করে। অতএব প্রত্যেক বাড়াবাড়িমূলক কথা-বার্তা যদ্বারা শির্কে পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তা থেকে বাঁচা অত্যাবশ্যক, আর এই ধরনের কথা ত্যাগ না করলে তাওহীদ পূর্ণতা লাভ করবে না। সার কথা হলো, তাওহীদের শর্তাবলী, তার রুক্সসমূহ, তার পরিপূরক বিষয়গুলো এবং যে জিনিস তাকে বাস্তব রূপ দান করে, এগুলো সব সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না করতে পারলে। এবং তাওহীদ বিনষ্টকারী প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় বিষয় থেকে বাঁচতে না পারলে, তা পূর্ণতা লাভ করবে না। ইতি পূর্বেও বিস্তারিত অনেক আলোচনা হয়েছে যা এই বিষয়কে আরো পরিষ্কার করে দেয়।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী

📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী


অধ্যায় মহান আল্লাহর বাণী, ﴿وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ﴾ [الزمر: ٦٧]
অর্থাৎ, "তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি, কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে।” (সূরা যুমারঃ ৬৭)
عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ ﷺ قَالَ : جَاءَ حَبْرٌ مِنْ الْأَحْبَارِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ ، إِنَّا نَجِدُ أَنَّ اللَّهَ يَجْعَلُ السَّمَوَاتِ عَلَى إِصْبَعِ، وَالْأَرَضِينَ عَلَى إِصْبَعِ، وَالشَّجَرَ عَلَى إِصْبَعِ، وَالْمَاءَ، وَالثَّرَى عَلَى إِصْبَعِ، وَسَائِرَ الخَلَائِقِ عَلَى إِصْبَعِ، فَيَقُولُ أَنَا المَلِكُ، فَضَحِكَ النَّبِيُّ ﷺ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ تَصْدِيقًا لِقَوْلِ الْحَبْرِ، ثُمَّ قَرَأَ: ﴿وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ )
অর্থাৎ, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, এক ইয়াহুদী পণ্ডিত রাসূলুল্লাহ -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, হে মুহাম্মাদ, আমরা তো আল্লাহকে এরূপ পাই যে, তিনি আকাশ মন্ডলীকে এক আঙ্গুলে, ভূ-মন্ডলকে এক আঙ্গুলে, বৃক্ষরা- জিকে এক আঙ্গুলে, সমুদয় পানিকে এক আঙ্গুলে, সমস্ত সমাধিস্থ বস্তুকে এক আঙ্গুলে এবং সকল সৃষ্টিকূলকে এক আঙ্গুলে ধারণ ক’রে।
বলবেন, আমিই সম্রাট, একজন ইয়াহুদী পণ্ডিতের মুখ থেকে সত্যের এই ঘোষণা শুনে নবী করীম ﷺ এমনভাবে হেসে গেলেন যে তাঁর চোয়ালের দাঁতগুলো প্রকাশিত হয়ে গেলো, অতঃপর তিনি পাঠ করলেন, "তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি, কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে।”
وفي رواية لمسلم : ((وَالْجِبَالَ وَالشَّجَرَ عَلَى إِصْبَعِ، ثُمَّ يَهُزُّهُنَّ فَيَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا الْمَلِكُ ))
অর্থাৎ, মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় এসেছে যে, "পাহাড়-পর্বত ও বৃক্ষাদি এক আঙ্গুলে ধারণ করবেন, অতঃপর ওগুলো ঝাঁকাবেন আর বলবেন, আমিই মহারাজ, আমিই সম্রাট."
وفي رواية للبخاري (( يَجْعَلُ السَّمَوَاتِ عَلَى إِصْبَعِ، وَالْمَاءَ، وَالثَّرَى عَلَى إِصْبَعِ، وَسَائِرَ الخَلْقِ عَلَى إِصْبَعِ )) أخرجاه
অর্থাৎ, আর বুখারী শরীফের এক বর্ণনায় এসেছে যে, আকাশ মন্ডলকে এক আঙ্গুলে, সমুদয় পানি ও ভূ-গর্ভস্থিত সকল বস্তুকে এক আঙ্গুলে এবং সমস্ত সৃষ্টিকুলকে এক আঙ্গুলে ধারণ করবেন."
والمسلم عن ابن عمر مرفوعا : (( يَطْوِي اللَّهُ السَّمَاوَاتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِيَدِهِ الْيُمْنَى ، ثُمَّ يَقُولُ : أَنَا المَلِكُ، أَيْنَ الْجَبَّارُونَ؟ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ؟ ثُمَّ يَطْوِي الْأَرَضِينَ السَّبْعَ بِشِمَالِهِ، ثُمَّ يَقُولُ : أَنَا المَلِكُ، أَيْنَ الْجَبَّارُونَ؟ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ ؟))
অর্থাৎ, মুসলিম শরীফে ইবনে উমার থেকে মার্কু' সূত্রে বর্ণিত যে, মহান আল্লাহ কিয়ামত দিবসে আকাশ মন্ডলকে মুড়িয়ে স্বীয় ডান হাতে ধারণ ক'রে বলবেন, আমি মহারাজ, অত্যাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়? অতঃপর সপ্ত যনীনকে মুড়িয়ে স্বীয় বাম হাতে ধারণ ক'রে বলবেন, আমিই মহারাজ, অত্যাচারীরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়?"
وَرُوِيَ عَن ابْنِ عَبَّأَسٍ ﷺ قَالَ : مَا السَّمَوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُوْنَ السَّبْعُ فِي كَفَّ الرَّحْمَنِ إِلَّا كَخَرْدَلَةٍ فِي يَدِ أَحَدِكُمْ.
অর্থাৎ, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, সপ্তাকাশ ও সপ্ত যমীন রহমানের হাতের তালুতে ঐ রকম ক্ষুদ্র, যেমন তোমাদের কারো হাতে সরিষার দানা।
وَقَالَ ابْنُ جَرِيرٍ : حَدَّثَنِي يُونُسُ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: قَالَ ابْنُ زَيْدٍ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ (( مَا السَّمَوَاتُ السَّبْعُ فِي الكُرْسِيِّ إِلَّا كَدَرَاهِمَ سَبْعَةِ أُلْقِيَتْ فِي تُرْسِ ))
অর্থাৎ, ইবনে জারির বলেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন ইউনুস, তিনি বলেন, আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন, ইবনে যায়েদ বলেছেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, কুরসীর মধ্যে সপ্তাকাশের অবস্থান ঐরকমই হয়, যেমন একটি ঢালের মধ্যে কয়েকটি দিরহাম ফেলে রাখা হয়।
وَقَالَ أَبُو ذَرٍ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ الله ﷺ يَقُولُ : (( مَا الكُرْسِيُّ فِي العَرْشِ إِلَّا كَحَلَقَةٍ مِنْ حَدِيدٍ أُلْقِيَتْ بَيْنَ ظَهْرَيَّ فَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ))
অর্থাৎ, আবূ যার বলেন, আমি রাসূলুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন যে, আরশের মধ্যে কুরসী অবস্থান ঠিক ঐ রকমই, যেমন যমীনের কোন এক ময়দানে একটি লোহার আংটি পড়ে থাকে।
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ : (( بَيْنَ السَّمَاءِ الدُّنْيَا وَالَّتِي تَلِيْهَا خَمْسَمَائَةُ عَامٍ، وَبَيْنَ كُلِّ سَمَاءٍ وَسَمَاءٍ خَمْسَمَائَةُ عَامٍ، وَبَيْنَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ وَالكُرْسِيِّ خَمْسَمَائَةُ عَامِ، بَيْنَ الكُرْسِيِّ وَالمَاءِ خَمْسَمَائَةُ عَامٍ، وَالْعَرْشُ فَوْقَ المَاءِ، وَاللَّهُ فَوْقَ العَرْشِ، لَا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ أَعْمَالِكُمْ)) أخرجه ابن مهدي عن حماد بن سلمة عن عاصم عن زر عن عبد الله. ورواه بنحوه المسعودي عن عاصم عن أبي وائل عن عبد الله. قاله الحافظ الذهبي رحمه الله تعالى، قال: وله طرق
অর্থাৎ, ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশ এবং তার কাছাকাছি আকাশের মধ্যে পাঁচশত বছরের দূরত্ব রয়েছে, আর প্রত্যেক দুই আকাশের মধ্যে পাঁচশত বছরের দূরত্ব রয়েছে, সপ্তাকাশ ও কুরসীর মধ্যে পাঁচশত বছরের ব্যবধান রয়েছে, আর কুরসী এবং পানির মধ্যে পাঁচশত বছরের ব্যবধান রয়েছে, আর আল্লাহর আরশ রয়েছে পানির উপরে, আর আল্লাহ আরশের উপর সমাসীন, তোমাদের আমলের কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন থাকে না। এই হাদীসটি ইবনে মাহদী বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ হতে, তিনি আ'সেম থেকে, তিনি যার হতে এবং তিনি আব্দুল্লাহ হতে। এইভাবে মাসঊদী আ'সেম হতে, তিনি আবী ওয়ায়েল হতে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন, আর এই তথ্য দিয়েছেন হাফিয যাহবী (রহঃ), তিনি বলেন, এই হাদীস আরো অনেক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
عَنْ عَبَّاس بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ (( هَلْ تَدْرُوْنَ كَمْ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ؟ )) قُلْنَا اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: (( بَيْنَهُمَا مَسِيْرَةُ خَمْسٍ مِائَةِ سَنَةٍ، وَمِنْ كُلِّ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءٍ مَسِيْرَةً خَمْسٍ مِائَةِ سَنَةٍ، وَكِثَفُ كُلِّ سَمَاءٍ مَسِيْرَةُ خَمْسٍ مِائَةِ سَنَةٍ، وَفَوْقَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ بَحْرٌ ، بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلَاهُ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَاللهُ تَبَarَكَ وَتَعَالَى فَوْقَ ذَلِكَ، وَلَيْسَ يَخْفَى عَلَيْهِ مِنْ أَعْمَالِ بَنِي آدَمَ شَيْءٌ))
আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "তোমরা জান কি আসমান ও যমীনের মধ্যে দূরত্ব কত?” আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সর্বাধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন, "উভয়ের মধ্যে দূরত্ব হলো পাঁচশত বছরের পথ। প্রত্যেক দুই আসমানের মধ্যে ব্যবধান হলো পাঁচশত বছরের পথ। প্রত্যেক আসমানের গভীরতা হলো পাঁচশত বছরের পথ। আর সপ্তাকাশ ও আরশের মধ্যে রয়েছে বিরাট এক সমুদ্র সেই সমুদ্রের ঊর্ধ্বভাগ ও নিম্নভাগের মধ্যে ততটাই ব্যবধান রয়েছে, যতটা আসমান ও যমীনের মধ্যে। মহান আল্লাহ তার উপর সমাসীন, আদম সন্তানের আমলের কোন কিছুই তাঁর নিকট গুপ্ত নয়।” (আবূ দাউদ)
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. সূরা যুমারের আয়াতের তাফসীর।
২. রাসূলুল্লাহ-এর যুগে এই সব জ্ঞানের এবং তার অনুরূপ জ্ঞানের কথার প্রচলন ছিলো, যা তারা অস্বীকারও করতো না এবং তার অপব্যাখ্যাও করতো না।
৩. যখন ইয়াহুদী বিদ্যান রাসূলুল্লাহ-এর নিকট তার উল্লেখ করলো, তখন তিনি তার সত্যায়ন করলেন এবং তার যথার্থতার ভিত্তিতে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলো।
৪. ইয়াহুদী বিদ্যানের মুখে এই বিরাট জ্ঞানের কথা শুনে রাসূলুল্লাহ -এর হাসি ও আনন্দের প্রকাশ।
৫. সুস্পষ্টভাবে আল্লাহর দু'টি হাতের উল্লেখ, আকাশমন্ডল ডান হাতে এবং ভু-মন্ডল অপর হাতে অবস্থিত থাকা।
৬. অপর হাতকে বাম হাত নামে আখ্যায়িত করণ।
৭. এই ক্ষেত্রে অত্যাচারীদের এবং অহংকারীদের উল্লেখ।
৮. রাসূলুল্লাহ-এর বাণী, "যেমন তোমাদের কারো হাতে সরিষার দানা."
৯. আসমানের তুলনায় কুরসীর বিশালতা।
১০. কুরসীর তুলনায় আরশের বিশালতা।
১১. আরশ হলো কুরসী ও পানি ব্যতীত অন্য বস্তু
১২. দুই আসমানের মধ্যেকার দূরত্ব কত?
১৩. সপ্তাকাশ এবং কুরসীর মধ্যে দূরত্ব কত?
১৪. কুরসী ও পানির মধ্যে দূরত্ব কত?
১৫. আরশ পানির উপর প্রতিষ্ঠিত।
১৬. আল্লাহ আরশের উপর সমাসীন।
১৭. আসমান ও যমীনের মধ্যে ব্যবধান কত?
১৮. প্রত্যেক আসমানের গভীরতা হলো পাঁচশত বছরের পথ।
১৯. সপ্তাকাশের উপরে যে সমুদ্র তার ঊর্ধ্বভাগ ও নিম্নভাগের মধ্যে ব্যবধান হলো পাঁচশত বছরের পথ, মহান আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ “তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি।” লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর কিতাবকে এই অধ্যায়ের মাধ্যমে সমাপ্তি করেছেন, আর এতে এমন সব শরীয়তী উক্তির উল্লেখ করেছেন, যা মহান প্রতিপালকের মাহাত্ম্য, তাঁর বিরাটত্ব এবং তাঁর গৌরব ও মহিমাকে প্রমাণিত করে ও সকল সৃষ্টিকুল তাঁর সামনে অবনত হয়ে তাঁর গৌরব ও মাহাত্ম্যের সাক্ষ্য দেয়, কেননা, এই মহান গৌরব ও পূর্ণ গুণের অধিকারী হওয়াই সব থেকে বড় প্রমাণ যে, তিনিই একমাত্র উপাস্য, তিনিই প্রশংসিত, অত্যধিক সম্মান ও বিনয় এবং যাবতীয় ভালবাসা ও ইবাদত তাঁরই জন্য নিবেদন করা অপরিহার্য, তিনিই সত্য। তিনি ব্যতীত সবই বাতিল ও তাবাস্তব, আর এটাই হলো প্রকৃত তাওহীদ এবং তার প্রাণ।
পরিশেষে আল্লাহর নিকট কামনা করি, তিনি যেন আমাদের অন্তরকে তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান দিয়ে এবং তাঁর প্রতি ভালবাসায় ভরে দেন, তিনিই সর্বাধিক দাতা ও বড় মেহেরবান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00