📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 ছবি তোলা প্রসঙ্গে

📄 ছবি তোলা প্রসঙ্গে


ছবি তোলা প্রসঙ্গে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ( ( قَالَ اللَّهُ تعالى: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي ، فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةٌ، أَوْ لِيَخْلُقُوا حَبَّةٌ، أَوْ لِيَخْلُقُوا شَعِيرَةٌ))
أخرجاه
অর্থাৎ, আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন যে, আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, "সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় যালেম আর কে হতে পারে, যে কোন সৃষ্টি আমার মত সৃষ্টি করতে যায়। তোমাদের শক্তি থাকলে একটি কণা অথবা একটি দানা কিংবা একটি যব পরিণাম কোন বস্তু সৃষ্টি করো তো দেখি।” (বুখারী-মুসলিম)
وَهُمَا عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ : ( أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُضَاهُونَ بِخَلْقِ اللَّهِ ))
অর্থাৎ, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে তারাই বেশী কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টি মত চিত্র বানায়।” (বুখারী-মুসলিম)
وَلِسْلِمٍ عَنْ ابْنِ عَبَأَسٍ الله قَالَ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: ((كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ، يَجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسًا فَتُعَذِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ))
অর্থাৎ, মুসলিম শরীফে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছেন তিনি বলেছেন, “প্রত্যেক মূর্তি বা ছবি নির্মাতা দোযখে যাবে। সে যেসব মূর্তি বা ছবি বানিয়েছে, তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে এবন জীব তৈরী করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে আযাব দিতে থাকবে।”
وَهُمَا عَنْهُ مَرْفُوْعاً: ((مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا كُلَّفَ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ، وَلَيْسَ بِنَافِعٍ ))
অর্থাৎ, বুখারী ও মুসলিমে ইবনে আব্বাস থেকে মার্কু' সূত্রে বর্ণিত যে, “যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন মূর্তি বা ছবি নির্মাণ করবে, তাকে তাতে রূহ ফুঁকতে বাধ্য করা হবে। অথচ সে ফুঁকতেই পারবে না।”
وَلِمُسْلِمٍ عَنْ أَبِي الهَيَّاجِ: قَالَ: قَالَ لِي عَلِيٌّ : أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ الله : أَنْ لَا تَدَعَ صُورَةٌ إِلَّا طَمَسْتَهَا، وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ))
অর্থাৎ, মুসলিম শরীফে আবুল হায়্যাজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে আলী বলেন, "আমি কি তোমাকে ঐ কাজে পাঠাবো না, যে কাজে আমাকে রাসূলুল্লাহ পাঠিয়ে ছিলেন? আর তা হলো, কোন মূর্তি পেলে, তা মিটিয়ে দিবে এবং কোন উঁচু কবর দেখলে, তা সমান করে দিবে।”
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. ছবি নির্মাতাদের কঠোর পরিণতি,
২. এর কারণ কি তারও হুঁশয়ারী দেওয়া হয়েছে, আর তা হলো, এতে আল্লাহর সাথে বেআদবী করা হয়, যেমন, তিনি বললেন, 'সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় যালেম কে হতে পারে, যে কোন সৃষ্টি আমার মত সৃষ্টি করতে যায়।
৩. আল্লাহর মহা শক্তির এবং চিত্রকারদের অক্ষমতার কথাও বলা হয়েছে, যেমন, তিনি বলেন, "তোমাদের শক্তি থাকলে একটি কণা অথবা একটি দানা কিংবা একটি যব পরিমাণ কোন বস্তু সৃষ্টি করো তো দেখি."
৪. পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, ছবি নির্মাতারা মানুষের মধ্যে সব থেকে বেশী শাস্তির সম্মুখীন হবে।
৫. মহান আল্লাহ প্রত্যেক ছবির পরিবর্তে এমন জীব সৃষ্টি করবেন, যা ছবি নির্মাতাদেরকে জাহান্নামে আযাব দিবে।
৬. ছবি নির্মাতাদেরকে তাতে রূহ ফুঁকতে বাধ্য করা হবে।
৭. ছবি পাওয়া গেলে, তা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এটা পূর্বে উল্লিখিত অধ্যায়েরই অংশ, যাতে বলা হয়েছে যে, নিয়ত এবং কথা ও কাজে আল্লাহর শরীক বানানো জায়েয নয়, আর শরীক বলতে তাঁর সাথে কোন কিছুর তুলনা করা, যদিও এই তুলনা অনেক দূর থেকে হয়। সুতরাং কোন জীব-জন্তুর ছবি নির্মাণ করলে, তা আল্লাহর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা হয় এবং তাঁর সৃষ্টিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হয়। যার কারণে শরীয়ত প্রণেতা এর উপর ধমক দিয়েছে।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 বেশী কসম খাওয়া প্রসঙ্গে

📄 বেশী কসম খাওয়া প্রসঙ্গে


বেশী কসম প্রসঙ্গে
মহান আল্লাহ বলেন, ﴿وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ ﴾ (المائدة: ۸۹)
অর্থাৎ, “তোমরা স্বীয় শপথসমূহ রক্ষা করো” (সূরা মায়েদাঃ ৮৯)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: ((الْخَلِفُ مُنَفِّقَةٌ لِلسِّلْعَةِ، mُمْحِقَةٌ لِلْبَرَكَةِ)) أخرجاه
অর্থাৎ, আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলু- ল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন "কসম পণ্য দ্রব্যকে অধিক বিক্রয় করে, (কিন্তু) তার বরকত নষ্ট করে” (বুখারী-মুসলিম)
عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَلَا يُزَكِّيهِمْ، وَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ : أَشَيْمِطُ زَانٍ، وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرُ، وَرَجُلٌ جَعَلَ اللهُ لَهُ بِضَاعَةٌ فَلَا يَبِيعُ إِلَّا بِيَمِينِهِ وَلَا يَشْتَرِي إِلَّا بِيَمِينِهِ)) رواه الطبراني بسند صحيح
অর্থাৎ, সালমান ফারসী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "কিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য থাকবে পীড়াদায়ক শাস্তি। বৃদ্ধ ব্যভিচারী, দরিদ্র দাম্ভিক এবং সেই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু সে কসম না খেয়ে বেচা-কেনা করে না।” ইমাম তাবরানী সহী সনদে বর্ণনা করেছেন।
وفي الصحيح عن عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهُ ﷺ : (( خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، قَالَ عِمْرَانُ: فَلَا أَدْرِي أَذْكَرَ بَعْدَ قَرْنِهِ قَرْنَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا ؟ ثُمَّ إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلَا يُؤْتَمَنُونَ، وَيَنْظُرُونَ وَلَا يَفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمْ السَّمَنُ))
সহী বুখারীতে ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "সব থেকে উত্তম উম্মত হচ্ছে আমার যুগের উম্মত, অতঃপর তাঁদের পরের যুগের, অতঃপর তাঁদের পরের যুগের ইমরান ইবনে হুসাইন বলেন, জানি না রাসূলুল্লাহ তাঁর যুগের পর দু'বার বলেছেন, না তিনবার বলেছেন, অতঃপর তোমাদের পর এমন জাতির আবির্ভাব ঘটবে, যাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়ার পূর্বেই সাক্ষ্য দিবে। তারা আমানতের খিয়ানতকারী হবে, তার রক্ষাকারী হবে না। মানত করবে, কিন্তু তা পূরণ করবে না এবং তাদের মধ্যে স্থূলত্ব প্রকাশ পাবে।”
وَفِيهِ عَن ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: ((خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَجِيءُ أَقْوَامٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ ))
অর্থাৎ, বুখারীতেই ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “সব থেকে উত্তম লোক হলো আমার যুগের লোক। অতঃপর তাদের পরের যুগের লোক, অতঃপর তাদের পরের যুগের লোক। অতঃপর এমন জাতির আবির্ভাব ঘটবে, যাদের কারো কসমের উপর সাক্ষ্য অতিক্রম করবে এবং তাদের সাক্ষ্যের উপর কসম অতিক্রম করবে।”
ইবরাহীম নাখয়ী (রহঃ) বলেন, ছোটতে সাক্ষ্য দানের কারণে বড়রা আমাদেরকে শাস্তি দিতেন।
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. কসম রক্ষা করার উপদেশ। ২. এই অবহতি করণ যে, কসমে পণ্য দ্রব্য চালু হয় এবং পরে তার বরকত নষ্ট করে। ৩. যে কসম ব্যতীত কেনা-বেচা করে না, তার শাস্তি কঠিন।
৪. এই সাবধানতা যে, ছোট ছোট কারণেও অপরাধ বড় আকার ধারণ করে।
৫. কসম তলব না করা সত্ত্বেও যারা কসম খায়, তাদের নিন্দাবাদ।
৬. রাসূলুল্লাহ কর্তৃক তিনটি অথবা চারটি যুগের প্রশংসা এবং এই যুগের পর কি হবে তার উল্লেখ।
৭. সাক্ষ্য চাওয়ার পূর্বেই যারা সাক্ষ্য দেয়, তাদের নিন্দাবাদ।
৮. সাল্ফে সালেহীনগণ সাক্ষ্য দানের কারণে ছোটদের মারতেন।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ প্রকৃতপক্ষে কসমের বিধান প্রণীত হয়েছে যার উপর কসম খাওয়া হয়, সেই জিনিসকে পাকা-পোক্ত করার জন্য এবং স্রষ্টার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য। তাই আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করা ওয়াজিব। আর গায়রুল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ শির্কের অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহকে পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন হলো, তাঁর নামে সত্য শপথ গ্রহণ করা এবং অধিকহারে কসম না খেয়ে তাঁর নামের সম্মান রক্ষা করা। আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম এবং অধিকহারে কসম খাওয়া হলো, তাঁর সম্মান পরিপন্থী বিষয় যা তাওহীদের প্রাণ।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 আল্লাহ ও রাসূলের জিম্মাদারী প্রসঙ্গে

📄 আল্লাহ ও রাসূলের জিম্মাদারী প্রসঙ্গে


আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জিম্মাদারী প্রসঙ্গে
মহান আল্লাহ বলেন,
وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلا تَنْقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا ) (النحل: ٩١)
অর্থাৎ, “আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে তঅঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং পাকাপাকি কসম করার পর তা ভঙ্গ করো না.” (সূরা নাহলঃ ৯১)
وَعَن بُرَيْدَةَ، قال: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشِ أَوْ سَرِيَّةٍ أَوْصَاهُ فِي بِتَقْوَى اللهِ، وَمَنْ مَعَهُ مِنْ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا، فَقَالَ: (( اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ، قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ ، اغْزُوا وَلَا تَغُلُّوا وَلَا تَغْدِرُوا وَلَا تَثْلُوا، وَلَا تَقْتُلُوا وَلِيدًا، وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنْ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلَاثِ خِصَالٍ، أَوْ خِلَالٍ، فَأَيَّتُهُنَّ مَا أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ، وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَلَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ، فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِن فعلوا ذلك فلهم مَا لِلْمُهَاجِرِين, وعليهم ما على المهاجرين, فإن أبوا أن يتحولوا منها, فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ، يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ الله, وَلَا يَكُونُ هُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ ، إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ, فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَسَلْهُمْ الْجِزْيَةَ، فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللهِ وَقَاتِلْهُمْ، وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللهِ ، وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلَا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللهِ وَ ذِمَّةً نَبِيِّهِ، وَلَكِنْ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ، فَإِنَّكُمْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَكُمْ وَذِمَمَ أَصْحَابِكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةً رَسُولِهِ، وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِهُمْ عَلَى حُكْمِ اللهِ، فَلَا تُنْزِهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ، وَلَكِنْ أَنْزِهُمْ عَلَى حُكْمِكَ، فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي أَتُصِيبُ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ أَمْ لَا)). رواه مسلم
অর্থাৎ, বুরাইদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ যখন কোন ক্ষুদ্র বা বৃহৎ সেনাবাহিনীতে কাউকে আমীর নির্বাচন করতেন, তখন তাকে আল্লাহকে ভয় করার এবং তার সাথী-সঙ্গী মুসলিমদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার উপদেশ দিতেন, তিনি বলতেন, “আল্লাহর নামে জিহাদ করো, যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করেছে, তাদের সাথে যুদ্ধ করো, তবে গণীমতের মালের খিয়ানত করবে না. চুক্তি ভঙ্গ করবে না. শত্রু পক্ষের অঙ্গ বিকৃতি করবে না. শিশু- দেরকে হত্যা করবে না. যখন তুমি মুশরিক শত্রুর সম্মুখীন হবে, তখন তাকে তিনটি বিষয় বা তিনটি আচরণের প্রতি আহ্বান জানাবে. তারা এগুলোর মধ্যে থেকে যেটিই গ্রহণ করবে, তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবে. প্রথমে তাদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিবে. যদি তারা তোমার এই আহ্বানে সাড়া দেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবে।
এরপর তুমি তাদের স্বগৃহ ত্যাগ করে মুহাজিরদের এলাকায় চলে যাওয়ার আহ্বান জানাবে। আর তাদের জানিয়ে দিবে যে, যদি তারা তা কার্যকরী করে, তবে মুহাজিরদের জন্য যে সব লাভ লোকসান ও দায়-দায়িত্ব রয়েছে, তা তাদের উপর কার্যকরী হবে। যদি তারা স্বগৃহ ত্যাগ করতে অস্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দিবে যে, তারা সাধারণ বেদুঈন মুসলিমদের মত গণ্য হবে। তাদের উপর আল্লাহর সেই বিধান কার্যকরী হবে, যা সাধারণ মুসলিমদের উপর কার্যকরী হয় এবং তারা গণীমত ও ফায় থেকে কিছুই পাবে না। অবশ্য মুসলি- মদের সাথে শামিল হয়ে যুদ্ধ করলে তার অংশীদার হবে। আর যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করতে তঅস্বীকার করে, তবে তাদের কাছে 'জিয য়া' (কর) প্রদানের দাবী জানাবে যদি তারা তা গ্রহণ করে নেয়, তবে তুমি তাদের তরফ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকবে। তার যদি তারা এ দাবী না মানে, তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা ক'রে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়বে। আর যদি তোমরা কোন দুর্গবাসীকে অবরোধ করো এবং তারা যদি তোমার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারী চায়, তবে তুমি তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারী দিবে না। বরং তাদেরকে তোমার ও তোমার সাথীদের যিম্মাদারীতে রাখবে। কেননা, যদি তোমাদের ও তোমাদের সাথীদের যিম্মাদারী ভঙ্গ করা হয়, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারী ভঙ্গ করার চাইতে কম গুরুতর, আর যদি তোমরা কোন দুর্গের অধিবাসীদেরকে অবরোধ করো, তখন যদি তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক অবতরণ করতে চায়, তবে তোমরা তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর অবতরণ না করিয়ে তাদেরকে তোমার সিদ্ধান্তের উপর অবতরণ করতে দিবে। কেননা, তোমার জানানেই যে, তুমি তাদের মাঝে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে পারবে কি না? (মুসলিম)
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের যিম্মা এবং মুসলিমদের যিম্মার মধ্যে পার্থক্য।
২. দু'টি বিষয়ের মধ্যে যার ক্ষতি কম তার নির্দেশ।
৩. রাসূলুল্লাহ-এর বাণী, "আল্লাহর নামে তাঁর পথে জিহাদ করো.'
৪. রাসূলুল্লাহ-এর বাণী, "আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা ক'রে তাদের সাথে যুদ্ধ করো।"
৫. আল্লাহর ফয়সালা এবং আলেমদের ফয়সালার মধ্যে পার্থক্য।
৬. প্রয়োজনের সময় সাহাবীর এমন ফয়সালা করা, যার ব্যাপারে সে জানে না যে, এটা আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী হচ্ছে কি না।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এই অধ্যায়ের লক্ষ্য হলো, এমন অবস্থা ও পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া থেকে বাঁচতে ও বিরত থাকতে চেষ্টা করা, যে অবস্থায় শত্রুদের সাথে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারী অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করার আশঙ্কা থাকে। আর এই অবস্থায় যখন অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হবে, তখন তা মুসলিমদের পক্ষ থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারীর সাথে তঅবৈধ আচরণ করা হবে এবং আল্লাহর তঅসম্মান ও দুই ক্ষতিকর জিনিসের মধ্যে অধিকতর ক্ষতিকর জনিস সম্পাদনকারী বিবেচিত হবে। আর এ থেকেই রাসূলুল্লাহ সতর্ক করেছেন, তাছাড়া এতে ইসলামকে হীন ও তুচ্ছ ভাবা হয় এবং কাফেরদেরকে এর (অঙ্গীকার ভঙ্গ করার) প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়। কারণ, অঙ্গীকার পূরণ করা হলো, ইসলামের সৌন্দর্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা ন্যায়পরায়ণ শত্রুদেরকে ইসলামকে উত্তম ভাবার এবং তার অনুসরণ করার প্রতি উৎসাহিত করে।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 আল্লাহর উপর কসম খাওয়া

📄 আল্লাহর উপর কসম খাওয়া


আল্লাহর উপর কসম খাওয়া
عَنْ جُنْدَبٍ بنِ عَبْدِ اللهِ ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : ((قَالَ رَجُلٌ : وَاللهِ لَا يَغْفِرُ اللهُ لِفُلَانٍ ، وَإِنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ: مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لَا أَغْفِرَ لِفُلَانٍ؟ فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِفُلَانٍ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ)) رواه مسلم
অর্থাৎ, জুন্দুব ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “এক ব্যক্তি বললো, আল্লাহর কসম করে বলছি, আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না। তখন মহান আল্লাহ বললেন, একে যে আমার উপর কসম করে বলে যে, আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমার আমল নষ্ট করে দিলাম।” (মুসলিম) আবূ হুরাইরা বলেন, একথা যে বলেছিলো, সে একজন ইবাদতকারী বান্দা ছিলো। তার একটি কথার কারণে দুনিয়া ও আখেরাত বরবাদ হয়ে গেলো।
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. আল্লাহর উপর কসম খাওয়া থেকে সতর্কতা। ২. জাহান্নাম আমাদের জুতোর ফিতের থেকেও নিকটে হওয়া।
৩. জান্নাতও অনুরূপ.
৪. এই হাদীসে সেই হাদীসের সমর্থন পাওয়া যায়, যাতে বলা হয়েছে, ‘মানুষ কোন চিন্তা-ভাবনা না করে এমন কথা বলে ফেলে, যার কারণে সে জাহান্নামের অনেক দূরে গিয়ে পড়ে---।’
৫. কোন কোন সময় মানুষের মুক্তি এমন কারণেও সাধিত হয়, যা তার নিকট অত্যধিক অপছন্দনীয় ছিলো।
ব্যাখ্যাঃ আল্লাহর উপর কসম খাওয়া এবং আল্লাহকে সুপারিশী হিসাবে সৃষ্টির সামনে পেশ করা হলো, আল্লাহর শানে অশিষ্টতা, আর এটা তাওহীদ পরিপন্থী জিনিস, কারণ, আল্লাহর উপর কসম খাওয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে আত্মগর্ব এবং আল্লাহর সাথে অশিষ্টতার পর্যায় পড়ে এই বিষয়গুলো সব মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কারো ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00