📄 বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ
বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ
عَنْ أُيِّ بْنِ كَعْبٍ له قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ : ((لَا تَسُبُّوا الرِّيحَ فَإِذَا رَأَيْتُمْ مَا تَكْرَهُونَ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرَتْ بِهِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ)) صححه الترمذي
অর্থাৎ, উবায় ইবনে কা'ব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “তোমরা বায়ুকে গালি দিও না. যদি অবাঞ্ছনীয় কোন কিছু দেখো, তাহলে বলো, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এই বায়ুর এবং যা তার মধ্যে নিহিত ও তা যার আদেশপ্রাপ্ত তার কল্যাণ কামনা করছি, আর আমি তোমার নিকট এই বায়ুর এবং তাতে নিহিত অনিষ্ট থেকে ও তা যার আদেশপ্রাপ্ত তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি.” (ইমাম তিরমিযী হাদীসটি সঠিক বলেছেন)
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ, ২. মানুষ অপছন্দনীয় কিছু দেখলে, উপকারী জিনিসের দিকে পথ নির্দেশ. ৩. বায়ু যে আদেশপ্রাপ্ত তার শিক্ষা দেওয়া. ৪. কখনো তাকে কল্যাণের আদেশ দেওয়া হয়, আবার কখনো অকল্যাণের.
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এটা পূর্বে উল্লিখিত যুগকে গালি দেওয়ার মতনই ব্যাপার, তবে পার্থক্য হলো, ঐ অধ্যায় ছিলো যুগের সমস্ত কিছুকে গালি দেওয়াকে পরিব্যাপ্ত, আর এই অধ্যায় হলো, বায়ুকে গালি দেওয়ার সাথে নির্দিষ্ট. এটা হারাম হওয়ার সাথে সাথে বিবেক-বুদ্ধির দুর্বলতাও বটে. কারণ, এটা মহান আল্লাহর পরিচালনায় পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত তাই তাকে গালি দিলে, সে গালি তার পরিচালকের উপর বর্তায়, তবে অধিকান্ত বায়ুকে গালি দেওয়ার সময় গালিদাতার অন্তরে যেহেতু এই অর্থ (গালি আল্লাহর উপর বর্তায়) থাকে না, তা নাহলে ব্যাপার আরো কঠিন হতো। কিন্তু আসলে এই মনে করে কোন মুসলিম গালি দেয় না।
বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ
عَنْ أُيِّ بْنِ كَعْبٍ له قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ : ((لَا تَسُبُّوا الرِّيحَ فَإِذَا رَأَيْتُمْ مَا تَكْرَهُونَ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرَتْ بِهِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ)) صححه الترمذي
অর্থাৎ, উবায় ইবনে কা'ব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “তোমরা বায়ুকে গালি দিও না. যদি অবাঞ্ছনীয় কোন কিছু দেখো, তাহলে বলো, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এই বায়ুর এবং যা তার মধ্যে নিহিত ও তা যার আদেশপ্রাপ্ত তার কল্যাণ কামনা করছি, আর আমি তোমার নিকট এই বায়ুর এবং তাতে নিহিত অনিষ্ট থেকে ও তা যার আদেশপ্রাপ্ত তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি.” (ইমাম তিরমিযী হাদীসটি সঠিক বলেছেন)
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ, ২. মানুষ অপছন্দনীয় কিছু দেখলে, উপকারী জিনিসের দিকে পথ নির্দেশ. ৩. বায়ু যে আদেশপ্রাপ্ত তার শিক্ষা দেওয়া. ৪. কখনো তাকে কল্যাণের আদেশ দেওয়া হয়, আবার কখনো অকল্যাণের.
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এটা পূর্বে উল্লিখিত যুগকে গালি দেওয়ার মতনই ব্যাপার, তবে পার্থক্য হলো, ঐ অধ্যায় ছিলো যুগের সমস্ত কিছুকে গালি দেওয়াকে পরিব্যাপ্ত, আর এই অধ্যায় হলো, বায়ুকে গালি দেওয়ার সাথে নির্দিষ্ট. এটা হারাম হওয়ার সাথে সাথে বিবেক-বুদ্ধির দুর্বলতাও বটে. কারণ, এটা মহান আল্লাহর পরিচালনায় পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত তাই তাকে গালি দিলে, সে গালি তার পরিচালকের উপর বর্তায়, তবে অধিকান্ত বায়ুকে গালি দেওয়ার সময় গালিদাতার অন্তরে যেহেতু এই অর্থ (গালি আল্লাহর উপর বর্তায়) থাকে না, তা নাহলে ব্যাপার আরো কঠিন হতো। কিন্তু আসলে এই মনে করে কোন মুসলিম গালি দেয় না।
📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
অধ্যায় মহান আল্লাহর বাণী, يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ ﴾ [آل عمران: ١٥٤]
অর্থাৎ, “আল্লাহ সম্পর্কে তাদের মিথ্যা ধারণা হচ্ছিলো মুর্খদের মত। তারা বলছিলো, আমাদের হাতে কি কিছু নেই? তুমি বলো, সব কিছুই আল্লাহর হাতে” (সূরা আল ইমরানঃ ১৫৪ ) তিনি আরো বলেন,
الظَّانِّينَ بِاللَّهِ ظَنَّ السَّوْءِ عَلَيْهِمْ دَائِرَةُ السَّوْءِ﴾ (الفتح : ٦)
অর্থাৎ, “যারা আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করে, তাদের জন্য মন্দ পরিণাম।” (সূরা ফাত্হঃ ৬) ইবনে কাইয়ূম (রহঃ) প্রথম আয়াটি সম্পর্কে বলেন যে, এর ব্যাখ্যা এইভাবে করা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলের সহযোগিতা করবেন না এবং তাঁর ব্যাপার আরো দুর্বল হয়ে যাবে। আর এও বলা হয়েছে যে, তাঁকে যাকিছু পৌঁছে, তা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ও তাঁর কৌশলের ভিত্তিতে নয়, অর্থাৎ, তিনি (ইবনে কাইয়ূম) ব্যাখ্যা করেছেন যে, তারা (মুনাফেকরা) আল্লাহর হিকমত ও তাঁর শক্তি তাস্বীকার করেছে এবং এ কথার ও অস্বীকার করেছে যে, তাঁর রাসূলের কার্যকলাপ পূর্ণতা লাভ ও তাঁর দ্বীন সমস্ত দ্বীনের উপর বিজয় লাভ করবে। আর এটাই হলো, খারাপ ধারণা, যা মুশরিকরা ও মুনাফেকরা পোষণ করতো।
আর এই ধারণা এই জন্য ছিলো যে, তারা মহান আল্লাহর ব্যাপারে এমন চিন্তা-ভাবনা করতো, যা তাঁরও উপযুক্ত নয় এবং তাঁর হিকমত, প্রশংসা ও সত্যিকার অঙ্গীকারের সামনে এই রকম মনে করা উচিতও নয়। সুতরাং যে এই ধারণা পোষণ করে যে, আল্লাহ মিথ্যাকে সত্যের উপর সব সময়ের জন্য বিজয় দান করবেন, ফলে সত্য দুর্বল হয়ে যাবে অথবা মনে করে যে, যা কিছু হয় এগুলো তাঁর ফয়সালা ও তাঁর নির্ধারিত ভাগ্যের ভিত্তিতে নয় কিংবা মনে করে যে, আল্লাহর ভাগ্য নির্ধারণ পরিপূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তি নয় যে, তিনি এর জন্য প্রশংসার অধিকারী হতে পারেন, বরং তা তাঁর খেয়াল-খুশীর ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে, এ সবই হলো কাফেরদের ধারণা, আর কাফেরদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ, অর্থাৎ, জাহান্নাম।
অধিকাংশ মানুষ তাদের জন্য আল্লাহ যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং অন্যদের সাথেও তিনি যা করেন, সে ব্যাপারে আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করে। এ থেকে কেবল সেই নিরাপদ, যে আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর হিকমত ও প্রশংসার দাবী সম্পর্কে জানে, অতএব নিজের মঙ্গলকামী সকল বুদ্ধিজীবীর উচিত উল্লিখিত ব্যাপারটির গুরুত্ব দেওয়া এবং তার প্রতিপালকের ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ করা থেকে প্রত্যাবর্তন সহ আল্লাহর নিকট এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। যদি তুমি খোঁজ করো, তাহলে দেখবে যে, অনেকেই ভাগ্যের ব্যাপারে খুবই কঠোর ও তাকে তিরস্কার ক'রে বলে, এ রকম ঐ রকম হওয়া উচিত ছিলো। এতে কেউ কিছু কম করে বলে, আবার কেউ কিছু বেশী করে বলে। তুমি ভেবে দেখো, তুমি কি এই মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে আছো? আরবী কবীতার অর্থ হলো, যদি তুমি (মন্দ ধারণা থেকে) বেঁচে গিয়ে থাকো, তাহলে তুমি বিরাট জিনিস থেকে বেঁচে গিয়েছো। অন্যথায় আমি মনে করি না যে, তুমি বেঁচে গেছো।
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. সূরা আলে-ইমরানের আয়াতের তাফসীর। ২. সূরা ফাতত্ত্বের আয়াতের তাফসীর, ৩. এই ব্যাপারগুলো অসংখ্য প্রকারের। ৪. যে আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলী এবং নিজের ব্যাপারে জ্ঞান রাখে, সে ব্যতীত কেউ বেঁচে নেই।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ
'আল্লাহ সম্পর্কে তাদের মিথ্যা ধারণা হচ্ছিলো মুর্খদের মত।' অর্থাৎ, বান্দার ঈমান ও তাওহীদ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা লাভ করবে না, যতক্ষণ না সে, আল্লাহ তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলী ও তিনি স্বীয় পূর্ণ সত্ত্বা সম্পর্কে যা কিছু বলেছেন, তার উপর বিশ্বাস স্থাপন না করবে, তাঁর খবর দেওয়া সব কিছুর সত্যায়ন না করবে, দ্বীনের সহযোগিতার ব্যাপারে তাঁর অঙ্গীকার যে সত্য, তা মনে না করবে এবং সত্যকে সত্য ও মিথ্যাকে মিথ্যা না ভাববে। কেননা, এই সবের উপর বিশ্বাস ও তার প্রতি তুষ্টতা হলো, ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। যে ধারণাই এর বিরোধিতা করবে, তা জাহেলী যুগের তাওহীদ পরিপন্থী ধারণা বিবেচিত হবে। কারণ, তা হলো আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা, তাঁর পূর্ণ সত্ত্বার অস্বীকৃতি এবং তিনি যার খবর দিয়েছেন, তা মিথ্যা সাবস্ত্য করা ও তাঁর অঙ্গীকারের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
📄 যারা ভাগ্যকে অস্বীকার করে
যারা ভাগ্যকে অস্বীকার করে
ইবনে উমার বলেন, সেই সত্ত্বার শপথ, যাঁর হাতে ইবনে উমারের প্রাণ, তোমাদের কারো নিকট যদি ওহুদ পাহাড় সমান সোনা থাকে। অতঃপর সে যদি সমস্ত সোনা আল্লাহর পথে ব্যয় করে দেয়, তবে আল্লাহ তা ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে ভাগ্যের উপর ঈমান আনবে। অতঃপর স্বীয় কথার সমর্থনে নবী করীম -এর এই বাণী পেশ করেন,
( ( الإِيْمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالقَدْرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ )) رواه مسلم
অর্থাৎ, “ঈমান হলো এই যে, তুমি আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাকুলের উপর, তাঁর অবতীর্ণ কিতাবসমূহের উপর, তাঁর প্রেরিত রাসূলগণের উপর এবং শেষ দিবসের উপর ঈমান আনবে, আর তুমি ঈমান আনবে ভাগ্যের ভাল-মন্দের উপর।”
উবাদা ইবনে সামিত থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর পুত্রকে লক্ষ্য ক'রে বলেছিলেন, হে বৎস, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে না, যতক্ষণ না এই অবগতি লাভ করবে যে, যে বিপদ তোমার উপর অপতিত, তা অবধারিত ছিলো। আর যা তোমার উপর আপতিত হয় নি, তা হওয়ারই ছিলো না। আমি রাসূলুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন,
إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللهُ الْقَلَمَ ، فَقَالَ لَهُ اكْتُبْ، قَالَ: رَبِّ وَمَاذَا أَكْتُبُ؟ قَالَ: اكْتُبْ مَقَادِيرَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ))
অর্থাৎ, “সর্ব প্রথম আল্লাহ যে জিনিস সৃষ্টি করেন, তা হলো কলম. অতঃপর তাকে বলেন, লিখো, কলম বললো, হে আমার প্রতিপালক! কি লিখবো? তিনি বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু সৃষ্টি হবে, তাদের সকলের ভাগ্য লিখো." হে বৎস, আমি রাসূলুল্লাহকে এটাও বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন,
(( مَنْ مَاتَ عَلَى غَيْرِ هَذَا فَلَيْسَ مِنِّي ))
অর্থাৎ, “যে ব্যক্তি এর বিপরীত ধারণা নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে, সে আমার উম্মতের মধ্যেকার গণ্য হবে না.” ইমাম আহমদ (রহঃ)র অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে,
أَوَّلُ مَا خَلَقَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى الْقَلَمُ ، فَقَالَ لَهُ: اكْتُبْ، فَجَرَى فِي تِلْكَ السَّاعَةِ مَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ))
অর্থাৎ, “সর্ব প্রথম মহান আল্লাহ কলম সৃষ্টি করে বলেন, লিখো। তখন তা শেষ দিবস পর্যন্ত যা কিছু হওয়ার ছিলো, তা লিখে দেওয়ার কাজে লেগে গেলো." ইবনে ওয়াহাবের এক বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
(( فَمَنْ لَمْ يُؤْمِنْ بِالقَدْرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ أَحْرَقَهُ اللَّهُ بِالنَّارِ ))
অর্থাৎ, “যে ব্যক্তি ভাগ্যের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে না, তাকে আল্লাহ আগুন দিয়ে জ্বালাবেন." মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থে ইবনে দায়লামী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন,
أَتَيْتُ أَبَيَّ بْنَ كَعْبٍ، فَقُلْتُ لَهُ : وَقَعَ فِي نَفْسِي شَيْءٌ مِنْ الْقَدَرِ، فَحَدَّثْنِي بِشَيْءٍ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُذْهِبَهُ مِنْ قَلْبِي، فَقَالَ: لَوْ أَنْفَقْتَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْكَ حَتَّى تُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ، وَتَعْلَمَ أَنَّ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ، وَأَنَّ مَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ، وَلَوْ مُتَّ عَلَى غَيْرِ هَذَا لَكُنْتَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، قَالَ : ثُمَّ أَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، وَ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ، وَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، فَكُلُّهُمْ فَحَدَّثَنِي بِمِثْلِ ذَلِكَ عَنْ النَّبِيِّ )) حديث صحيح رواه الحاكم في صحيحه
অর্থাৎ, আমি উবাই ইবনে কা'বের নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমার অন্তরে ভাগ্যের ব্যাপারে কিছু সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি হয়েছে, তাই তুমি কোন হাদীস বর্ণনা করো, হতে পারে আল্লাহ তা আমার তান্তর থেকে দূর করে দিবেন, তখন তিনি বলেন, তুমি যদি ওহুদ পাহাড় সমান সোনা ব্যয় করো, তো আল্লাহ তা ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করবেন না, যতক্ষণ না তুমি ভাগ্যের উপর ঈমান আনবে, আর জেনে রাখবে, যে বিপদ তোমার উপর আসে, তার আসা অটল ছিলো। আর যা আসে নাই, তা আসতেই পারে না। তুমি যদি এর বিপরীত ধারণা নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে, তবে তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হতে। দায়লামী বলেন, অতঃপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান এবং যায়েদ ইবনে সাবেত-দের নিকট এলে, তাঁরাও এই ধরনের হাদীস নবী করীম থেকে বর্ণনা করেন। হাদীসটি সহী। ইমাম হাকিম তাঁর সহী গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. ভাগ্যের উপর ঈমান আনা ফরয হওয়ার বর্ণনা। ২. তার উপর ঈমান আনার পদ্ধতির বর্ণনা। ৩. যে তার উপর ঈমান আনে না, তার আমল বরবাদ। ৪. এই অবগতি করানো যে, ভাগ্যের উপর বিশ্বাস স্থাপন না করা পর্যন্ত কেউ ঈমানের স্বাদ পাবে না। ৫. প্রথম সৃষ্টের উল্লেখ। ৬. কলম তখন থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, সবই লিখে ফেলেছে। ৭. যে ব্যক্তি ভাগ্যের উপর ঈমান আনে না, তার থেকে রাসূলুল্লাহ দায়িত্বমুক্ত। ৮. সালফে সালেহীনদের তরীকা ছিলো, উলামাদের জিজ্ঞাসা করে সন্দেহ দূরা করা। ৯. উলামারা সংশয় দূরীকরণের জন্য উপযুক্ত জাওয়াব দিতেন এবং তাদের কথাকে রাসূলুল্লাহ -এর সাথে সম্পর্কিত করতেন।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ
কুরআন ও হাদীস এবং উম্মতের ঐক্যমত দ্বারা এ কথা সুবিদিত যে, ভাগ্যের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা, ঈমানের রুকুন সমূহের অন্যতম, তাই এই আক্বীদাহ রাখতে হবে যে, আল্লাহ যা চান, তা-ই হয়। তিনি যা চান না, তা হয় না। যে এর উপর বিশ্বাস না রাখে, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে না। কাজেই আমাদের কর্তব্য ভাগ্যের প্রত্যেক স্তরের উপর ঈমান আনা, বিশ্বাস করবো যে, আল্লাহ প্রত্যেক জিনিস সম্পর্কে অবহিত, যা কিছু হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, তা সবই তিনি লওহে মাহফুযে লিপিবদ্ধ করেছেন, প্রত্যেক জিনিস তাঁরই সৃষ্টি এবং তাঁর মহা শক্তি ও পরি-চালনার ভিত্তিতে পরিচালিত, আর ভাগ্যের উপর ঈমান তখনই পরিপূর্ণ হবে, যখন স্বীকার করে নিবে যে, আল্লাহ বান্দাদেরকে তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধ্য করেন না। বরং তাদেরকে তাঁর আনুগত্য করার এবং অবাধ্যতা করার স্বাধীনতা দান করেছেন।
📄 ছবি তোলা প্রসঙ্গে
ছবি তোলা প্রসঙ্গে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ( ( قَالَ اللَّهُ تعالى: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي ، فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةٌ، أَوْ لِيَخْلُقُوا حَبَّةٌ، أَوْ لِيَخْلُقُوا شَعِيرَةٌ))
أخرجاه
অর্থাৎ, আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন যে, আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, "সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় যালেম আর কে হতে পারে, যে কোন সৃষ্টি আমার মত সৃষ্টি করতে যায়। তোমাদের শক্তি থাকলে একটি কণা অথবা একটি দানা কিংবা একটি যব পরিণাম কোন বস্তু সৃষ্টি করো তো দেখি।” (বুখারী-মুসলিম)
وَهُمَا عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ : ( أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُضَاهُونَ بِخَلْقِ اللَّهِ ))
অর্থাৎ, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে তারাই বেশী কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টি মত চিত্র বানায়।” (বুখারী-মুসলিম)
وَلِسْلِمٍ عَنْ ابْنِ عَبَأَسٍ الله قَالَ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: ((كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ، يَجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسًا فَتُعَذِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ))
অর্থাৎ, মুসলিম শরীফে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছেন তিনি বলেছেন, “প্রত্যেক মূর্তি বা ছবি নির্মাতা দোযখে যাবে। সে যেসব মূর্তি বা ছবি বানিয়েছে, তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে এবন জীব তৈরী করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে আযাব দিতে থাকবে।”
وَهُمَا عَنْهُ مَرْفُوْعاً: ((مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا كُلَّفَ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ، وَلَيْسَ بِنَافِعٍ ))
অর্থাৎ, বুখারী ও মুসলিমে ইবনে আব্বাস থেকে মার্কু' সূত্রে বর্ণিত যে, “যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন মূর্তি বা ছবি নির্মাণ করবে, তাকে তাতে রূহ ফুঁকতে বাধ্য করা হবে। অথচ সে ফুঁকতেই পারবে না।”
وَلِمُسْلِمٍ عَنْ أَبِي الهَيَّاجِ: قَالَ: قَالَ لِي عَلِيٌّ : أَلَا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ الله : أَنْ لَا تَدَعَ صُورَةٌ إِلَّا طَمَسْتَهَا، وَلَا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلَّا سَوَّيْتَهُ))
অর্থাৎ, মুসলিম শরীফে আবুল হায়্যাজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে আলী বলেন, "আমি কি তোমাকে ঐ কাজে পাঠাবো না, যে কাজে আমাকে রাসূলুল্লাহ পাঠিয়ে ছিলেন? আর তা হলো, কোন মূর্তি পেলে, তা মিটিয়ে দিবে এবং কোন উঁচু কবর দেখলে, তা সমান করে দিবে।”
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. ছবি নির্মাতাদের কঠোর পরিণতি,
২. এর কারণ কি তারও হুঁশয়ারী দেওয়া হয়েছে, আর তা হলো, এতে আল্লাহর সাথে বেআদবী করা হয়, যেমন, তিনি বললেন, 'সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় যালেম কে হতে পারে, যে কোন সৃষ্টি আমার মত সৃষ্টি করতে যায়।
৩. আল্লাহর মহা শক্তির এবং চিত্রকারদের অক্ষমতার কথাও বলা হয়েছে, যেমন, তিনি বলেন, "তোমাদের শক্তি থাকলে একটি কণা অথবা একটি দানা কিংবা একটি যব পরিমাণ কোন বস্তু সৃষ্টি করো তো দেখি."
৪. পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, ছবি নির্মাতারা মানুষের মধ্যে সব থেকে বেশী শাস্তির সম্মুখীন হবে।
৫. মহান আল্লাহ প্রত্যেক ছবির পরিবর্তে এমন জীব সৃষ্টি করবেন, যা ছবি নির্মাতাদেরকে জাহান্নামে আযাব দিবে।
৬. ছবি নির্মাতাদেরকে তাতে রূহ ফুঁকতে বাধ্য করা হবে।
৭. ছবি পাওয়া গেলে, তা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এটা পূর্বে উল্লিখিত অধ্যায়েরই অংশ, যাতে বলা হয়েছে যে, নিয়ত এবং কথা ও কাজে আল্লাহর শরীক বানানো জায়েয নয়, আর শরীক বলতে তাঁর সাথে কোন কিছুর তুলনা করা, যদিও এই তুলনা অনেক দূর থেকে হয়। সুতরাং কোন জীব-জন্তুর ছবি নির্মাণ করলে, তা আল্লাহর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা হয় এবং তাঁর সৃষ্টিকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হয়। যার কারণে শরীয়ত প্রণেতা এর উপর ধমক দিয়েছে।