📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 আল্লাহর মুখমণ্ডলের দোহাই দিয়ে কেবল জান্নাত চাওয়া

📄 আল্লাহর মুখমণ্ডলের দোহাই দিয়ে কেবল জান্নাত চাওয়া


আল্লাহর মুখমন্ডলের দোহাই দিয়ে জান্নাত ব্যতীত অন্য কিছু চাওয়া যায় না
عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: (( لَا يُسْأَلُ بِوَجْهِ اللَّهِ إِلَّا الْجَنَّةَ )) رواه أبو داود
অর্থাৎ, জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "আল্লাহর মুখমন্ডলের দোহাই দিয়ে জান্নাত ব্যতীত অন্য কিছু চাওয়া যায় না।” (আবূ দাউদ)
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. আল্লাহর মুখমন্ডলের দোহাই দিয়ে আসল লক্ষিত বস্তু ব্যতীত অন্য কিছু চাওয়া নিষেধ।
২. আল্লাহর ‘অজহ’ (মুখমন্ডল) এর প্রমাণ,
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এই অধ্যায়ের লক্ষ্য হলো সেই ব্যক্তি, যে চায়, তাঁর কর্তব্য হলো, আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলীর সম্মান প্রদর্শন করবে, তাঁর দোহাই দিয়ে দুনিয়ার কোন কিছু চাইবে না। বরং তাঁর দোহাই দিয়ে কেবল অত্যধিক প্রয়োজনীয় জিনিস এবং মহান লক্ষণীয় বস্তুই কামনা করবে। আর তা হলো, জান্নাত এবং তার চিরন্তন সম্পদ। আর কামনা করবে প্রতিপালকের সন্তুষ্টি, তাঁর মুখমন্ডলের দর্শন এবং তাঁর সাথে কথাপোকথনের দ্বারা তৃপ্তি গ্রহণ। এই মূল্যবান সম্পদই আল্লাহর দোহাই দিয়ে কামনা করা যায়। আর পার্থিব জীবনের নগণ্য জিনিস যদিও বান্দা তাঁর প্রতিপালকের নিকটই তা কামনা করতে চায়, তবুও তা তাঁর মুখমন্ডলের দোহাই দিয়ে কামনা করবে না।

আল্লাহর মুখমন্ডলের দোহাই দিয়ে জান্নাত ব্যতীত অন্য কিছু চাওয়া যায় না
عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: (( لَا يُسْأَلُ بِوَجْهِ اللَّهِ إِلَّا الْجَنَّةَ )) رواه أبو داود
অর্থাৎ, জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "আল্লাহর মুখমন্ডলের দোহাই দিয়ে জান্নাত ব্যতীত অন্য কিছু চাওয়া যায় না।” (আবূ দাউদ)
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. আল্লাহর মুখমন্ডলের দোহাই দিয়ে আসল লক্ষিত বস্তু ব্যতীত অন্য কিছু চাওয়া নিষেধ।
২. আল্লাহর ‘অজহ’ (মুখমন্ডল) এর প্রমাণ,
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এই অধ্যায়ের লক্ষ্য হলো সেই ব্যক্তি, যে চায়, তাঁর কর্তব্য হলো, আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলীর সম্মান প্রদর্শন করবে, তাঁর দোহাই দিয়ে দুনিয়ার কোন কিছু চাইবে না। বরং তাঁর দোহাই দিয়ে কেবল অত্যধিক প্রয়োজনীয় জিনিস এবং মহান লক্ষণীয় বস্তুই কামনা করবে। আর তা হলো, জান্নাত এবং তার চিরন্তন সম্পদ। আর কামনা করবে প্রতিপালকের সন্তুষ্টি, তাঁর মুখমন্ডলের দর্শন এবং তাঁর সাথে কথাপোকথনের দ্বারা তৃপ্তি গ্রহণ। এই মূল্যবান সম্পদই আল্লাহর দোহাই দিয়ে কামনা করা যায়। আর পার্থিব জীবনের নগণ্য জিনিস যদিও বান্দা তাঁর প্রতিপালকের নিকটই তা কামনা করতে চায়, তবুও তা তাঁর মুখমন্ডলের দোহাই দিয়ে কামনা করবে না।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 ‘যদি’ বলা প্রসঙ্গে

📄 ‘যদি’ বলা প্রসঙ্গে


‘যদি’ কথা প্রসঙ্গে
আল্লাহর বাণী,
﴿يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هَاهُنَا ﴾ [آل عمران: ١٥٤]
অর্থাৎ, “তারা বলে, আমাদের হাতে যদি কিছু করার থাকতো, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না।” (সূরা আল ইমরানঃ ১৫৪) তিনি আরো বলেন,
﴿الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا ﴾ [آل عمران: ١٦٨]
অর্থাৎ, “ওরা হলো এমন লোক, যারা বসে থেকে নিজেদের ভাইদের সম্বন্ধে বলে, (যারা লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছে) যদি তারা আমাদের কথা শুনতো, তাহলে নিহত হতো না.” (সূরা আল ইমরানঃ ১৬৮)
في الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: ((احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ بِاللهِ ، وَلَا تَعْجَزْ، وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَذَا لَكَانَ كَذَا وَكَذَا، وَلَكِنْ قُلْ : قَدَرُ الله وَمَا شَاءَ فَعَلَ، فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ))
অর্থাৎ, সহীহ হাদীসে আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমার উপকারী বিষয়ে তুমি যত্নবান হও, আল্লাহর নিকট সাহায্য ভিক্ষা করো এবং অক্ষম হয়ে যেও না। তোমার কোন বিপদ এলে বলো না যে, যদি আমি এই রকম করতাম, তাহলে এই রকম হতো, বরং বলো, আল্লাহ যা ভাগ্যে লিখেছিলেন এবং যা চেয়েছেন, তা-ই হয়েছে, কারণ, 'যদি' (বলা) শয়তানের কর্ম উদ্‌ঘাটন করে।”
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. সূরা আলে-ইমরানের দু'টি আয়াতের তাফসীর। ২. কোন বিপদ এলে 'যদি এই রকম করতাম' বলা পরিষ্কার নিষেধ। ৩. আর এই নিষেধের কারণ হলো, এতে শয়তানের কর্ম উদ্‌ঘাটন হয়।
৪. ভাল কথার শিক্ষা প্রদান,
৫. আল্লাহর নিকট সাহায্য ভিক্ষাসহ উপকারী বিষয়ের যত্ন নেওয়ার নির্দেশ
৬. এর পরিপন্থী বিষয় থেকে নিষেধ প্রদান, আর তা হলো, নিজেকে অক্ষম মনে করা.
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ জেনে রাখবে, বান্দার 'যদি' শব্দ ব্যবহার করা দু'প্রকারের (১) নিন্দনীয় (২) প্রশংসনীয়, নিন্দনীয় হলো, তার দ্বারা অপছন্দনীয় কোন কিছু ঘটলে অথবা তার উপর আপতিত হলে বলা, আমি যদি এই রকম করতাম, তাহলে এই রকম হতো, এটা হলো শয়তানের কাজ। কারণ, এর মধ্যে দু'টি নিষিদ্ধ জিনিস বিদ্যমান থাকে (১) এতে তার জন্য অনুতপ্ত, অসন্তুষ্টি এবং দুঃখ-পরিতাপের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যায়, যা তার উচিত বন্ধ রাখা, আর এতে কোন উপকারও নেই। (২) এতে আল্লাহ ও তাঁর নির্ধারিত ভাগ্যের সাথে অশিষ্টতা করা হয়, কারণ, যাবতীয় বিষয় এবং ছোট-বড় সমস্ত ঘটন-অঘটন আল্লাহর ফয়সালা ও তাঁর নির্ধারিত ভাগ্যের ভিত্তিতেই হয়, যা ঘটার, তা ঘটবেই, তা রোধ করা সম্ভব নয়, তাই কেউ যদি বলে, যদি এ রকম হতো, বা যদি এরকম করতাম, তাহলে এ রকম হতো, তবে তাতে এক প্রকার প্রতিবাদ এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যের উপর ঈমান আনার ব্যাপারে দুর্বলতার প্রকাশ পায়, আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যতক্ষণ না বান্দা এই দু'টি নিষিদ্ধ জিনিস ত্যাগ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার ঈমান ও তাওহীদ পূর্ণতা লাভ করবে না।
আর প্রশংসনীয় হলো, বান্দার কোন কল্যাণের আশা করে 'যদি' ব্যবহার করা, যেমন, রাসূলুল্লাহ-এর বাণী,
(( لَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا سُقْتُ الهَدْيَ وَلَأَهْلَلْتُ بِالعُمْرَةِ))
অর্থাৎ, “যা আমি পরে জানলাম, তা যদি পূর্বে জানতাম, তাহলে হাদীর জানোয়ার আনতাম না এবং উমরার নিয়ত করতাম.” অনুরূপ কারো কল্যাণ লাভের আশায় এইভাবে বলা, যদি আমারও তামুকের মত সম্পদ থাকতো, তাহলে আমি ওর মত করাতাম. 'যদি ভাই মূসা সবর করতেন, তহলে তাঁদের আরো অনেক বিষয় আল্লাহ আমাদের জানাতেন, অনুরূপ কল্যাণের আশায় 'যদি' বললে, তা প্রশংসনীয়, আর অকল্যাণের আশায় বললে, তা নিন্দনীয়, কাজেই 'যদি' ব্যবহারের ভাল ও মন্দ তার অবস্থা ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে নির্বাচিত হবে. তাই তার ব্যবহার যদি কোন সংকীর্ণতা এবং আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্যের উপর ঈমানের দুর্বলতার কারণে অথবা অকল্যাণের আশায় হয়, তাহলে তা নিন্দনীয় হবে. আর যদি তার ব্যবহার কল্যাণের প্রতি আগ্রহ এবং কোন কিছুর শিক্ষা দেওয়ার জন্য হয়, তাহলে তা প্রশংসনীয় হবে.

‘যদি’ কথা প্রসঙ্গে
আল্লাহর বাণী,
﴿يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هَاهُنَا ﴾ [آل عمران: ١٥٤]
অর্থাৎ, “তারা বলে, আমাদের হাতে যদি কিছু করার থাকতো, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না।” (সূরা আল ইমরানঃ ১৫৪) তিনি আরো বলেন,
﴿الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا ﴾ [آل عمران: ١٦٨]
অর্থাৎ, “ওরা হলো এমন লোক, যারা বসে থেকে নিজেদের ভাইদের সম্বন্ধে বলে, (যারা লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছে) যদি তারা আমাদের কথা শুনতো, তাহলে নিহত হতো না.” (সূরা আল ইমরানঃ ১৬৮)
في الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: ((احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ بِاللهِ ، وَلَا تَعْجَزْ، وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَذَا لَكَانَ كَذَا وَكَذَا، وَلَكِنْ قُلْ : قَدَرُ الله وَمَا شَاءَ فَعَلَ، فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ))
অর্থাৎ, সহীহ হাদীসে আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমার উপকারী বিষয়ে তুমি যত্নবান হও, আল্লাহর নিকট সাহায্য ভিক্ষা করো এবং অক্ষম হয়ে যেও না। তোমার কোন বিপদ এলে বলো না যে, যদি আমি এই রকম করতাম, তাহলে এই রকম হতো, বরং বলো, আল্লাহ যা ভাগ্যে লিখেছিলেন এবং যা চেয়েছেন, তা-ই হয়েছে, কারণ, 'যদি' (বলা) শয়তানের কর্ম উদ্‌ঘাটন করে।”
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. সূরা আলে-ইমরানের দু'টি আয়াতের তাফসীর। ২. কোন বিপদ এলে 'যদি এই রকম করতাম' বলা পরিষ্কার নিষেধ। ৩. আর এই নিষেধের কারণ হলো, এতে শয়তানের কর্ম উদ্‌ঘাটন হয়।
৪. ভাল কথার শিক্ষা প্রদান,
৫. আল্লাহর নিকট সাহায্য ভিক্ষাসহ উপকারী বিষয়ের যত্ন নেওয়ার নির্দেশ
৬. এর পরিপন্থী বিষয় থেকে নিষেধ প্রদান, আর তা হলো, নিজেকে অক্ষম মনে করা.
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ জেনে রাখবে, বান্দার 'যদি' শব্দ ব্যবহার করা দু'প্রকারের (১) নিন্দনীয় (২) প্রশংসনীয়, নিন্দনীয় হলো, তার দ্বারা অপছন্দনীয় কোন কিছু ঘটলে অথবা তার উপর আপতিত হলে বলা, আমি যদি এই রকম করতাম, তাহলে এই রকম হতো, এটা হলো শয়তানের কাজ। কারণ, এর মধ্যে দু'টি নিষিদ্ধ জিনিস বিদ্যমান থাকে (১) এতে তার জন্য অনুতপ্ত, অসন্তুষ্টি এবং দুঃখ-পরিতাপের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যায়, যা তার উচিত বন্ধ রাখা, আর এতে কোন উপকারও নেই। (২) এতে আল্লাহ ও তাঁর নির্ধারিত ভাগ্যের সাথে অশিষ্টতা করা হয়, কারণ, যাবতীয় বিষয় এবং ছোট-বড় সমস্ত ঘটন-অঘটন আল্লাহর ফয়সালা ও তাঁর নির্ধারিত ভাগ্যের ভিত্তিতেই হয়, যা ঘটার, তা ঘটবেই, তা রোধ করা সম্ভব নয়, তাই কেউ যদি বলে, যদি এ রকম হতো, বা যদি এরকম করতাম, তাহলে এ রকম হতো, তবে তাতে এক প্রকার প্রতিবাদ এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যের উপর ঈমান আনার ব্যাপারে দুর্বলতার প্রকাশ পায়, আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যতক্ষণ না বান্দা এই দু'টি নিষিদ্ধ জিনিস ত্যাগ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার ঈমান ও তাওহীদ পূর্ণতা লাভ করবে না।
আর প্রশংসনীয় হলো, বান্দার কোন কল্যাণের আশা করে 'যদি' ব্যবহার করা, যেমন, রাসূলুল্লাহ-এর বাণী,
(( لَوِ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا سُقْتُ الهَدْيَ وَلَأَهْلَلْتُ بِالعُمْرَةِ))
অর্থাৎ, “যা আমি পরে জানলাম, তা যদি পূর্বে জানতাম, তাহলে হাদীর জানোয়ার আনতাম না এবং উমরার নিয়ত করতাম.” অনুরূপ কারো কল্যাণ লাভের আশায় এইভাবে বলা, যদি আমারও তামুকের মত সম্পদ থাকতো, তাহলে আমি ওর মত করাতাম. 'যদি ভাই মূসা সবর করতেন, তহলে তাঁদের আরো অনেক বিষয় আল্লাহ আমাদের জানাতেন, অনুরূপ কল্যাণের আশায় 'যদি' বললে, তা প্রশংসনীয়, আর অকল্যাণের আশায় বললে, তা নিন্দনীয়, কাজেই 'যদি' ব্যবহারের ভাল ও মন্দ তার অবস্থা ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে নির্বাচিত হবে. তাই তার ব্যবহার যদি কোন সংকীর্ণতা এবং আল্লাহর নির্ধারিত ভাগ্যের উপর ঈমানের দুর্বলতার কারণে অথবা অকল্যাণের আশায় হয়, তাহলে তা নিন্দনীয় হবে. আর যদি তার ব্যবহার কল্যাণের প্রতি আগ্রহ এবং কোন কিছুর শিক্ষা দেওয়ার জন্য হয়, তাহলে তা প্রশংসনীয় হবে.

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ

📄 বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ


বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ
عَنْ أُيِّ بْنِ كَعْبٍ له قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ : ((لَا تَسُبُّوا الرِّيحَ فَإِذَا رَأَيْتُمْ مَا تَكْرَهُونَ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرَتْ بِهِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ)) صححه الترمذي
অর্থাৎ, উবায় ইবনে কা'ব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “তোমরা বায়ুকে গালি দিও না. যদি অবাঞ্ছনীয় কোন কিছু দেখো, তাহলে বলো, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এই বায়ুর এবং যা তার মধ্যে নিহিত ও তা যার আদেশপ্রাপ্ত তার কল্যাণ কামনা করছি, আর আমি তোমার নিকট এই বায়ুর এবং তাতে নিহিত অনিষ্ট থেকে ও তা যার আদেশপ্রাপ্ত তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি.” (ইমাম তিরমিযী হাদীসটি সঠিক বলেছেন)
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ, ২. মানুষ অপছন্দনীয় কিছু দেখলে, উপকারী জিনিসের দিকে পথ নির্দেশ. ৩. বায়ু যে আদেশপ্রাপ্ত তার শিক্ষা দেওয়া. ৪. কখনো তাকে কল্যাণের আদেশ দেওয়া হয়, আবার কখনো অকল্যাণের.
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এটা পূর্বে উল্লিখিত যুগকে গালি দেওয়ার মতনই ব্যাপার, তবে পার্থক্য হলো, ঐ অধ্যায় ছিলো যুগের সমস্ত কিছুকে গালি দেওয়াকে পরিব্যাপ্ত, আর এই অধ্যায় হলো, বায়ুকে গালি দেওয়ার সাথে নির্দিষ্ট. এটা হারাম হওয়ার সাথে সাথে বিবেক-বুদ্ধির দুর্বলতাও বটে. কারণ, এটা মহান আল্লাহর পরিচালনায় পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত তাই তাকে গালি দিলে, সে গালি তার পরিচালকের উপর বর্তায়, তবে অধিকান্ত বায়ুকে গালি দেওয়ার সময় গালিদাতার অন্তরে যেহেতু এই অর্থ (গালি আল্লাহর উপর বর্তায়) থাকে না, তা নাহলে ব্যাপার আরো কঠিন হতো। কিন্তু আসলে এই মনে করে কোন মুসলিম গালি দেয় না।

বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ
عَنْ أُيِّ بْنِ كَعْبٍ له قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ : ((لَا تَسُبُّوا الرِّيحَ فَإِذَا رَأَيْتُمْ مَا تَكْرَهُونَ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرَتْ بِهِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ)) صححه الترمذي
অর্থাৎ, উবায় ইবনে কা'ব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “তোমরা বায়ুকে গালি দিও না. যদি অবাঞ্ছনীয় কোন কিছু দেখো, তাহলে বলো, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এই বায়ুর এবং যা তার মধ্যে নিহিত ও তা যার আদেশপ্রাপ্ত তার কল্যাণ কামনা করছি, আর আমি তোমার নিকট এই বায়ুর এবং তাতে নিহিত অনিষ্ট থেকে ও তা যার আদেশপ্রাপ্ত তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি.” (ইমাম তিরমিযী হাদীসটি সঠিক বলেছেন)
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. বায়ুকে গালি দেওয়া নিষেধ, ২. মানুষ অপছন্দনীয় কিছু দেখলে, উপকারী জিনিসের দিকে পথ নির্দেশ. ৩. বায়ু যে আদেশপ্রাপ্ত তার শিক্ষা দেওয়া. ৪. কখনো তাকে কল্যাণের আদেশ দেওয়া হয়, আবার কখনো অকল্যাণের.
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এটা পূর্বে উল্লিখিত যুগকে গালি দেওয়ার মতনই ব্যাপার, তবে পার্থক্য হলো, ঐ অধ্যায় ছিলো যুগের সমস্ত কিছুকে গালি দেওয়াকে পরিব্যাপ্ত, আর এই অধ্যায় হলো, বায়ুকে গালি দেওয়ার সাথে নির্দিষ্ট. এটা হারাম হওয়ার সাথে সাথে বিবেক-বুদ্ধির দুর্বলতাও বটে. কারণ, এটা মহান আল্লাহর পরিচালনায় পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত তাই তাকে গালি দিলে, সে গালি তার পরিচালকের উপর বর্তায়, তবে অধিকান্ত বায়ুকে গালি দেওয়ার সময় গালিদাতার অন্তরে যেহেতু এই অর্থ (গালি আল্লাহর উপর বর্তায়) থাকে না, তা নাহলে ব্যাপার আরো কঠিন হতো। কিন্তু আসলে এই মনে করে কোন মুসলিম গালি দেয় না।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী

📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী


অধ্যায় মহান আল্লাহর বাণী, يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّةِ يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ ﴾ [آل عمران: ١٥٤]
অর্থাৎ, “আল্লাহ সম্পর্কে তাদের মিথ্যা ধারণা হচ্ছিলো মুর্খদের মত। তারা বলছিলো, আমাদের হাতে কি কিছু নেই? তুমি বলো, সব কিছুই আল্লাহর হাতে” (সূরা আল ইমরানঃ ১৫৪ ) তিনি আরো বলেন,
الظَّانِّينَ بِاللَّهِ ظَنَّ السَّوْءِ عَلَيْهِمْ دَائِرَةُ السَّوْءِ﴾ (الفتح : ٦)
অর্থাৎ, “যারা আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করে, তাদের জন্য মন্দ পরিণাম।” (সূরা ফাত্হঃ ৬) ইবনে কাইয়ূম (রহঃ) প্রথম আয়াটি সম্পর্কে বলেন যে, এর ব্যাখ্যা এইভাবে করা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলের সহযোগিতা করবেন না এবং তাঁর ব্যাপার আরো দুর্বল হয়ে যাবে। আর এও বলা হয়েছে যে, তাঁকে যাকিছু পৌঁছে, তা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ও তাঁর কৌশলের ভিত্তিতে নয়, অর্থাৎ, তিনি (ইবনে কাইয়ূম) ব্যাখ্যা করেছেন যে, তারা (মুনাফেকরা) আল্লাহর হিকমত ও তাঁর শক্তি তাস্বীকার করেছে এবং এ কথার ও অস্বীকার করেছে যে, তাঁর রাসূলের কার্যকলাপ পূর্ণতা লাভ ও তাঁর দ্বীন সমস্ত দ্বীনের উপর বিজয় লাভ করবে। আর এটাই হলো, খারাপ ধারণা, যা মুশরিকরা ও মুনাফেকরা পোষণ করতো।
আর এই ধারণা এই জন্য ছিলো যে, তারা মহান আল্লাহর ব্যাপারে এমন চিন্তা-ভাবনা করতো, যা তাঁরও উপযুক্ত নয় এবং তাঁর হিকমত, প্রশংসা ও সত্যিকার অঙ্গীকারের সামনে এই রকম মনে করা উচিতও নয়। সুতরাং যে এই ধারণা পোষণ করে যে, আল্লাহ মিথ্যাকে সত্যের উপর সব সময়ের জন্য বিজয় দান করবেন, ফলে সত্য দুর্বল হয়ে যাবে অথবা মনে করে যে, যা কিছু হয় এগুলো তাঁর ফয়সালা ও তাঁর নির্ধারিত ভাগ্যের ভিত্তিতে নয় কিংবা মনে করে যে, আল্লাহর ভাগ্য নির্ধারণ পরিপূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তি নয় যে, তিনি এর জন্য প্রশংসার অধিকারী হতে পারেন, বরং তা তাঁর খেয়াল-খুশীর ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে, এ সবই হলো কাফেরদের ধারণা, আর কাফেরদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ, অর্থাৎ, জাহান্নাম।
অধিকাংশ মানুষ তাদের জন্য আল্লাহ যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং অন্যদের সাথেও তিনি যা করেন, সে ব্যাপারে আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করে। এ থেকে কেবল সেই নিরাপদ, যে আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর হিকমত ও প্রশংসার দাবী সম্পর্কে জানে, অতএব নিজের মঙ্গলকামী সকল বুদ্ধিজীবীর উচিত উল্লিখিত ব্যাপারটির গুরুত্ব দেওয়া এবং তার প্রতিপালকের ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ করা থেকে প্রত্যাবর্তন সহ আল্লাহর নিকট এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। যদি তুমি খোঁজ করো, তাহলে দেখবে যে, অনেকেই ভাগ্যের ব্যাপারে খুবই কঠোর ও তাকে তিরস্কার ক'রে বলে, এ রকম ঐ রকম হওয়া উচিত ছিলো। এতে কেউ কিছু কম করে বলে, আবার কেউ কিছু বেশী করে বলে। তুমি ভেবে দেখো, তুমি কি এই মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে আছো? আরবী কবীতার অর্থ হলো, যদি তুমি (মন্দ ধারণা থেকে) বেঁচে গিয়ে থাকো, তাহলে তুমি বিরাট জিনিস থেকে বেঁচে গিয়েছো। অন্যথায় আমি মনে করি না যে, তুমি বেঁচে গেছো।
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. সূরা আলে-ইমরানের আয়াতের তাফসীর। ২. সূরা ফাতত্ত্বের আয়াতের তাফসীর, ৩. এই ব্যাপারগুলো অসংখ্য প্রকারের। ৪. যে আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলী এবং নিজের ব্যাপারে জ্ঞান রাখে, সে ব্যতীত কেউ বেঁচে নেই।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ
'আল্লাহ সম্পর্কে তাদের মিথ্যা ধারণা হচ্ছিলো মুর্খদের মত।' অর্থাৎ, বান্দার ঈমান ও তাওহীদ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা লাভ করবে না, যতক্ষণ না সে, আল্লাহ তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলী ও তিনি স্বীয় পূর্ণ সত্ত্বা সম্পর্কে যা কিছু বলেছেন, তার উপর বিশ্বাস স্থাপন না করবে, তাঁর খবর দেওয়া সব কিছুর সত্যায়ন না করবে, দ্বীনের সহযোগিতার ব্যাপারে তাঁর অঙ্গীকার যে সত্য, তা মনে না করবে এবং সত্যকে সত্য ও মিথ্যাকে মিথ্যা না ভাববে। কেননা, এই সবের উপর বিশ্বাস ও তার প্রতি তুষ্টতা হলো, ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। যে ধারণাই এর বিরোধিতা করবে, তা জাহেলী যুগের তাওহীদ পরিপন্থী ধারণা বিবেচিত হবে। কারণ, তা হলো আল্লাহ সম্পর্কে মন্দ ধারণা, তাঁর পূর্ণ সত্ত্বার অস্বীকৃতি এবং তিনি যার খবর দিয়েছেন, তা মিথ্যা সাবস্ত্য করা ও তাঁর অঙ্গীকারের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00