📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
অধ্যায় আল্লাহর বাণী,
﴿ فَلَمَّا آتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آتَاهُمَا ﴾ [الأعراف: ١٩٠]
অর্থাৎ, “অতঃপর আল্লাহ যখন তাদের উভয়কে সুসন্তান দান করলেন, তখন তারা উভয়ে আল্লাহ প্রদত্ত বস্তুতে তাঁর অংশীদার স্থাপন করলো.” (সূরা আ'রাফ ১৯০)
ইবনে হাযম (রহঃ) বলেন, (কুরআন ও হাদীসের বিশারদগণ) এ ব্যাপারে একমত যে, এমন শব্দযোগে নাম রাখা হারাম, যার অর্থ দাঁড়ায় দাস, যেমন, আব্দে উমার (উমারের দাস) এবং আব্দুল কা'বা (কা'বার দাস), তবে আব্দুল মুত্তালিব এর ব্যতিক্রম,
ইবনে আব্বাস উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলনে যে, যখন আদম হাওয়া (আলাইহা সাল্লাম)-এর সাথে সঙ্গম করেন, তখন তিনি গর্ভবতী হয়ে যান, অতঃপর ইবলীস তাঁদের নিকট এসে বলে, আমি তোমাদের সে-ই সঙ্গী-আমিই তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করেছি, তোমরা আমার অনুসরণ করো, না হলে আমি বাচ্চার উটের মত দু'টি শিং বানিয়ে দিবো. ফলে সে তোমার পেট ফেড়ে বের হবে. আর আমি এ কাজ অবশ্যই করবো. সে তাঁদেরকে ভয় দেখাতে ছিলো. সে বললো, বাচ্চার নাম আব্দুল হারিস রাখো, তাঁরা তার কথা মানতে অস্বীকার করলেন, ফলে বাচ্চা মৃত হলো, অতঃপর পুনরায় তিনি গর্ভবতী হলেন, পুনরায় ইবলীস তাঁদের নিকট এসে অনুরূপ বললে, তাঁদের মধ্যে শিশুর ভালবাসা সৃষ্টি হয়ে যায়, তাই তাঁরা শিশুর নাম আব্দুল হারিস রাখেন, আল্লাহ এই বানীর 'তখন আল্লাহ প্রদত্ত বস্তুতে তাঁর তা'যিমদার স্থাপন করলো।' তাৎপর্য এটাই। (ইবনে হাতিম)
ইবনে হাতিমই সহীহ সনদে ক্বাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শরীকরা ছিলো অনুসরণের ক্ষেত্রে, ইবাদতের ক্ষেত্রে ছিলো না।
ইবনে হাতিম সহীহ সনদে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'তাৎপর্য তাদেরকে যখন সন্তান দান করা হলো।' কথার তাৎপর্য হলো, পিতা-মাতার তরফ ছিলো, শিশুটা মানুষ না হয়ে অন্য কিছু হয়ে যায়। হাসান ও সাঈদ প্রভৃতি থেকেও উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে অনুরূপ উক্তি সংকলিত হয়েছে।
কতিপয় মাসআলা জানা গেলো
১. তানার দাস অর্থ বিশিষ্ট নাম হারাম। ২. আয়াতের ব্যাখ্যা। ৩. এই শিরক শুধু নামকরনে, যার প্রকৃতার্থ লক্ষ্য হয় না। ৪. আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে সুস্থ কন্যা দান করলে, তাও নিয়ামত। ৫. পূর্বের বিধানগণের অনুসরণে শিরক এবং ইবাদতে শিরকের মধ্যে পার্থক্যের উল্লেখ।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ
এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো, মহান আল্লাহ সন্তান দান ক'রে যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন, তাদেরকে শারীরিক সুস্থতা ও সবলতা দান করে তাঁর নিয়ামত তাদের উপর পরিপূর্ণ করেছেন এবং এই নিয়ামত-তের পরিপূরক হিসাবে তাদেরকে দ্বীনদার বানিয়েছেন, তাদের কর্তব্য হলো, নিয়ামতের উপর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা, সন্তানদেরকে গায়রুল্লাহর ইবাদতের ভিত্তিতে গঠন না করা এবং তাঁর অনুগ্রহকে গায়রুল্লাহর সাথে সম্পর্কিত না করা, কারণ, এতে নিয়ামতের না-শুকরী হয় এবং তাওহীদ পরিপন্থীও বটে।
📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
অধ্যায় আল্লাহর বাণী,
وَاللهُ الأَسْمَاءُ الحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ [الأعراف: ١٨٠]
অর্থাৎ, "আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাকো। আর তাদেরকে বর্জন করো, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে।” (সূরা আ'রাফঃ ১৮০) ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে উল্লেখ করেছেন যে, 'ইউলহেদুনা ফী আসমায়েহি' (তারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে) কথার অর্থ, তারা (তাঁর নামের সাথে) শির্ক করে। তিনি আরো বর্ণনা করেছেন যে, তারা লাত' এর নাম 'ইলাহ' থেকে এবং 'উযযা'র নাম 'আযীয' থেকে রেখেছে, আ'মাশ থেকে এসেছে যে, আয়াতের তাৎপর্য হলো, আল্লাহর নামের মধ্যে এমন কিছু ঢুকিয়ে দেয়, যা তাঁর নামের অন্তর্ভুক্ত নয়।
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. আল্লাহর নামসমূহের প্রমাণ। ২. তা উত্তম হওয়ার প্রমাণ। ৩. তাঁর নাম ধরে দুআ করার নির্দেশ। ৪. জাহেল ও বে-দ্বীনদের মধ্যে যারা তাঁর নামের বিরোধিতা করে, তাদের বর্জন করা। ৫. আয়াতে উল্লিখিত ইলহাদের ব্যাখ্যা।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ তাওহীদের মূল হলো, আল্লাহ তাঁর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে যা তিনি নিজের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁর জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন, তার প্রতিষ্ঠা করা। আর এই নামসমূহের মধ্যে যে সুমহান অর্থ এবং উত্তম তত্ত্ব বিদ্যমান রয়েছে, তার জ্ঞানার্জন করা, তার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা এবং ঐ নামের অসীলায় তাঁর নিকট দুআ করা। বান্দা তার প্রতিপালকের নিকট দুনিয়া ও আখে-রাতের বিষয়সমূহের মধ্যে যা কিছু কামনা করে, আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে তার চাহিদা উপযোগী নামের অসীলায় দুআ করা উচিত, যেমন, যে রুজি চায়, সে তাঁর 'রাযযাক্ব' নামের অসীলায় দুআ করবে, আর যে রহমত ও ক্ষমা কামনা করে, সে 'আররাহীম, আররাহমান, আল গাফুর, আত্তাওয়াব' নামের অসীলায় দুআ করবে। তবে উত্তম হলো, ইবাদতের দুআ আল্লাহর সুন্দর নাম ও তাঁর গুণাবলী দ্বারা করা। আর এটা করতে হবে তাঁর সুন্দর নামসমূহের অর্থগুলো ও তার তাৎপর্যগুলো অন্তরে উপস্থিত রেখে। যাতে অন্তর তার দাবী ও প্রভাবে প্রভাবিত হয় এবং বহু সুমহান তত্ত্বে অন্তর ভরে যায়, যেমন, যে নামের অর্থ হয় মহান, মহিমময়, গৌরবময় এবং যে নামে ভীতির সৃষ্টি হয়, সেই নাম নেওয়ার সময় তাঁর সম্মান ও মাহাত্ম্যে অন্তর ভরে যাবে।
আর যে নামের অর্থ হয়, সুন্দর, কল্যাণকারী, অনুগ্রহকারী, রহমকারী এবং বদান্য, সেই নাম নেওয়ার সময় তাঁর প্রতি ভালবাসায়, আগ্রহে এবং তাঁর প্রশংসায় ও কৃতজ্ঞতায় অন্তর ভরে যাবে।
আর যে নামের অর্থ হয়, পরাক্রমশীল, কৌশলী এবং মহা জ্ঞানী ও শক্তিশালী, সেই নাম নেওয়ার সময় অন্তর ভরে যাবে তাঁর প্রতি বিনয়, ভীতি এবং তাঁর সামনে নতস্বীকারে।
আর যে নামের অর্থ হয়, অবহিত, পরিব্যাপ্ত, পর্যবেক্ষক এবং পরিদর্শক, সেই নাম নেওয়ার সময় চলা-ফিরায় ও উঠা-বসায় সর্ব ক্ষেত্রে অন্তর ভরে উঠবে আল্লাহ যে পর্যবেক্ষক এই খেয়ালে এবং জঘন্য চিন্তা-ভাবনা ও নোংরা ইচ্ছা অন্তরে প্রবেশ না হতে দেওয়ার পাহারায়।
আর যে নামের অর্থ হয়, মুখাপেক্ষীহীন ও দয়ালু, সেই নাম নেওয়ার সময় অন্তর ভরে উঠবে তাঁর মুখাপেক্ষায়, তাঁর প্রয়োজন বোধে এবং সব সময় ও সর্ব ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি প্রত্যাবর্তন হওয়ায়।
আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলীর জ্ঞান অর্জন ও তদ্বারা আল্লাহর ইবাদত করার কারণে বান্দার অন্তরে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয়, দুনিয়াতে এর থেকে উত্তম, শ্রেষ্ঠ এবং পূর্ণ অনুভূতি আর হয় না। এটা আল্লাহর উত্তম দান যাতে বান্দা তাঁর উপাসনা করে।
আর এটাই হলো, তাওহীদের প্রাণ। যার জন্য আল্লাহ এই দরজা খুলে দেন, তার জন্য নির্মল তাওহীদ এবং পূর্ণ ঈমানের দরজাও খুলে দেন, যা খুব কম সংখ্যক তাওহীদবাদীদের ভাগ্যে জুটে।
তবে আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলীর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই সৌভাগ্য লাভ করা যায়, তাই আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলীর ব্যাপারে বাঁকা পথ অবলম্বন করা বা তা বর্জন করা হলো এই মহান লক্ষ্যের পরিপন্থী ও কট্টর বিরোধী জিনিস, আর বর্জন ও বাঁকা পথ অবলম্বন করণ কয়েকভাবে হয়, যেমন, বর্জনকারীর (আল্লাহর নামের ও তাঁর গুণাবলীর) সমস্ত অর্থকে অস্বীকার করা, যেমন জাহমিয়া ও তাদের অনুসারীরা করে কিংবা আল্লাহর গুণাবলীকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করা, যেমন, রাফেযাহ প্রভৃতিরা করে। অথবা তাঁর নামে কোন সৃষ্টির নাম রাখা, যেমন, মুশরিকরা করে। তারা 'লাত', 'উযযাহ' এবং 'মানাত' নাম রেখেছিলো, যা 'ইলাহ', 'আযীয' এবং 'মান্নান' শব্দ থেকে উৎপত্তি, তারা এই নামগুলো আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ থেকে বের করে আল্লাহর সাথে তার তুলনা করেছে, অতঃপর ইবাদত, যা আল্লাহর বিশেষ অধিকারগুলোর অন্যতম, তা তাদের জন্যও নির্ধারিত করেছে, সুতরাং আল্লাহর নামসমূহকে বর্জন করার প্রকৃত অর্থ হলো, তাকে তার প্রকৃত লক্ষ্য থেকে অন্য দিকে ফিরানো, তাতে তা শাব্দিক হোক অথবা অর্থের দিক দিয়ে হোক কিংবা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে হোক বা পরিবর্তন সুচিত করে হোক, আর এ সবই তাওহীদ ও ঈমান পরিপন্থী বিষয়।
📄 ‘আসসালামু আ’লাল্লাহ’ বলা
'আস্সালামো আ'লাল্লাহ' বলা যায় না
في الصحيح عن ابن مسعود رضي الله عنه قَالَ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي الصَّلَاةِ قُلْنَا: السَّلَامُ عَلَى اللهِ مِنْ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: ((لَا تَقُولُوا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلَامُ))
অর্থাৎ, সহী হাদীসে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবী করীম -এর সাথে নামায পড়তাম, তখন বলতাম, আল্লাহর উপর তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষণ হোক, অমুক অমুকের উপর শান্তি বর্ষণ হোক, তখন নবী করীম বললেন, “আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষণ হোক, এ কথা বলো না। কারণ, আল্লাহই শান্তিদাতা”
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. সালামের ব্যাখ্যা। ২. তা হলো সংবর্ধনা জ্ঞাপন। ৩. তা আল্লাহর শানে বলা ঠিক নয়। ৪. ঠিক না হওয়ার কারণ। ৫. তাদেরকে সঠিক সালামের শিক্ষা প্রদান।
ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণঃ আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষণ হোক, এ কথা কেন বলা যাবে না, তা নবী করীম তাঁর এই বাণী, 'কারণ, তিনিই শান্তিদাতা' দ্বারা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, আল্লাহ তা'য়ালা শান্তিদাতা তিনি সব দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত এবং সৃষ্টির কেউ তাঁর মত হবে, এ থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে, তিনিই তাঁর বান্দাদেরকে বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা দান করেন, সুতরাং বান্দারা তাঁর অনিষ্ট করতে চাইলে, তা তারা পারবে না এবং তাঁর কোন উপকার করতে চাইলে, তাও পারবে না। বরং বান্দারা তাদের সর্ব ক্ষেত্রে তাঁর মুখাপেক্ষী এবং তাঁর প্রয়োজন বোধ করে। তিনি তো প্রশংসিত ও মুখাপেক্ষিহীন।
'আস্সালামো আ'লাল্লাহ' বলা যায় না
في الصحيح عن ابن مسعود رضي الله عنه قَالَ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي الصَّلَاةِ قُلْنَا: السَّلَامُ عَلَى اللهِ مِنْ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: ((لَا تَقُولُوا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلَامُ))
অর্থাৎ, সহী হাদীসে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবী করীম -এর সাথে নামায পড়তাম, তখন বলতাম, আল্লাহর উপর তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষণ হোক, অমুক অমুকের উপর শান্তি বর্ষণ হোক, তখন নবী করীম বললেন, “আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষণ হোক, এ কথা বলো না। কারণ, আল্লাহই শান্তিদাতা”
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. সালামের ব্যাখ্যা। ২. তা হলো সংবর্ধনা জ্ঞাপন। ৩. তা আল্লাহর শানে বলা ঠিক নয়। ৪. ঠিক না হওয়ার কারণ। ৫. তাদেরকে সঠিক সালামের শিক্ষা প্রদান।
ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণঃ আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষণ হোক, এ কথা কেন বলা যাবে না, তা নবী করীম তাঁর এই বাণী, 'কারণ, তিনিই শান্তিদাতা' দ্বারা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, আল্লাহ তা'য়ালা শান্তিদাতা তিনি সব দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত এবং সৃষ্টির কেউ তাঁর মত হবে, এ থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে, তিনিই তাঁর বান্দাদেরকে বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা দান করেন, সুতরাং বান্দারা তাঁর অনিষ্ট করতে চাইলে, তা তারা পারবে না এবং তাঁর কোন উপকার করতে চাইলে, তাও পারবে না। বরং বান্দারা তাদের সর্ব ক্ষেত্রে তাঁর মুখাপেক্ষী এবং তাঁর প্রয়োজন বোধ করে। তিনি তো প্রশংসিত ও মুখাপেক্ষিহীন।
📄 হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে ক্ষমা করে দাও বলা
হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে আমাকে ক্ষমা করে দাও, এ কথা প্রসঙ্গে
في الصحيح عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ لله أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: ((لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ، لِيَعْزِمُ الْمَسْأَلَةَ فَإِنَّ اللَّهَ لَا مُكْرِهَ لَهُ )) والمسلم : (( وَلْيُعَظُمُ الرَّغْبَةَ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَتَعَاظَمُهُ شَيْءٌ أَعْطَاهُ))
অর্থাৎ, সহী হাদীসে আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ যেন এ কথা না বলে যে, হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে আমাকে ক্ষমা করে দাও. তোমার ইচ্ছা হলে আমার উপর রহম করো, বরং তাকে আল্লাহর নিকট দৃঢ়তার সাথে চাইতে হবে. কেননা, আল্লাহকে কেউ বাধ্য করতে পারে না.” আর মুসলিম শরীফে আছে, "আল্লাহর নিকট মানুষের খুব বেশী চাওয়ার আগ্রহ থাকা উচিত, কারণ, তিনি যা কিছুই দিবেন, কোনটাই তাঁর নিকট বড় নয়.'
ব্যখ্যা-বিশ্লেষণঃ
যাবতীয় বিষয় আল্লাহর ইচ্ছা-ইরাদার উপর নির্ভরশীল হলেও দ্বীনি ব্যাপারে যেমন, রহমত ও ক্ষমা কামনা এবং দ্বীনের সাহায্যকারী পার্থিব বিষয়ে যেমন, নিরাপত্তা ও রুজি ইত্যাদি চাওয়ার ব্যাপারে বান্দাকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সে যেন তার প্রতিপালকের নিকট দৃঢ়তা ও নিশ্চয়তার সাথে তা চায়. আর এই চাওয়াই হলো মুখ্য ইবাদত ও তার মগজ, আর ইচ্ছার-ইরাদার সাথে না জড়িয়ে দৃঢ়তার সাথে না চাওয়া পর্যন্ত এটা (ইবাদত) পূরণ হবে না. কেননা, (বান্দাকে) এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এতে কেবল কল্যাণ রয়েছে, কোন ক্ষতি নেই, আর আল্লাহ কোন জিনিসকে বড় মনে করেন না।
এতে এই চাওয়া এবং নির্দিষ্ট করে কোন এমন কিছু চাওয়ার মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়ে গেলো, যার উদ্দেশ্য ও উপকার বাস্তবায়িত হয় না। আবার এটাও নিশ্চয়তার সাথে বলা যায় না যে, তা পেলে বান্দার জন্য কল্যাণকর হবে। তাই বান্দা তার প্রতিপালকের নিকট চাইবে এবং তার জন্য কোন্টা বেশী ভাল তার নির্বাচন তার রবের উপর ছেড়ে দিবে। যেমন প্রমাণিত এই দুআ পড়া,
اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتْ الحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتْ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي))
অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখো, যদি জীবনই আমার জন্য উত্তম হয়। আর আমাকে মৃত্যু দান করো, যদি মনে করো যে মৃত্যুই আমার জন্য শ্রেয়।” অনুরূপ ইস্তিখারা বা কল্যাণ কামনার দুআ পাঠ করা। ক্ষতিহীনতা এমন উপকারী জিনিস কামনা করার মধ্যে, যার উপকার সুবিদিত এবং যা প্রার্থনাকারী (ইচ্ছা-ইরাদার সাথে) না জুড়িয়ে দৃঢ়তার সাথে কামনা করে এবং ঐ জিনিসের চাওয়ার মধ্যে, যার পরিণাম সম্পর্কে বান্দা অজ্ঞ, যার ক্ষতির দিক বেশী, না উপকারের দিক বেশী, তাও সে জানে না বলে, তার নির্বাচন তার সেই রবের উপর ছেড়ে দেয়, যাঁর জ্ঞান, কুদরত এবং রহমত ও দয়া প্রত্যেক জিনিসকে পরিব্যাপ্ত, বড় সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, যা জেনে নেওয়া দরকার।
হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে আমাকে ক্ষমা করে দাও, এ কথা প্রসঙ্গে
في الصحيح عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ لله أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: ((لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ، لِيَعْزِمُ الْمَسْأَلَةَ فَإِنَّ اللَّهَ لَا مُكْرِهَ لَهُ )) والمسلم : (( وَلْيُعَظُمُ الرَّغْبَةَ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَتَعَاظَمُهُ شَيْءٌ أَعْطَاهُ))
অর্থাৎ, সহী হাদীসে আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ যেন এ কথা না বলে যে, হে আল্লাহ! তোমার ইচ্ছা হলে আমাকে ক্ষমা করে দাও. তোমার ইচ্ছা হলে আমার উপর রহম করো, বরং তাকে আল্লাহর নিকট দৃঢ়তার সাথে চাইতে হবে. কেননা, আল্লাহকে কেউ বাধ্য করতে পারে না.” আর মুসলিম শরীফে আছে, "আল্লাহর নিকট মানুষের খুব বেশী চাওয়ার আগ্রহ থাকা উচিত, কারণ, তিনি যা কিছুই দিবেন, কোনটাই তাঁর নিকট বড় নয়.'
ব্যখ্যা-বিশ্লেষণঃ
যাবতীয় বিষয় আল্লাহর ইচ্ছা-ইরাদার উপর নির্ভরশীল হলেও দ্বীনি ব্যাপারে যেমন, রহমত ও ক্ষমা কামনা এবং দ্বীনের সাহায্যকারী পার্থিব বিষয়ে যেমন, নিরাপত্তা ও রুজি ইত্যাদি চাওয়ার ব্যাপারে বান্দাকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সে যেন তার প্রতিপালকের নিকট দৃঢ়তা ও নিশ্চয়তার সাথে তা চায়. আর এই চাওয়াই হলো মুখ্য ইবাদত ও তার মগজ, আর ইচ্ছার-ইরাদার সাথে না জড়িয়ে দৃঢ়তার সাথে না চাওয়া পর্যন্ত এটা (ইবাদত) পূরণ হবে না. কেননা, (বান্দাকে) এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এতে কেবল কল্যাণ রয়েছে, কোন ক্ষতি নেই, আর আল্লাহ কোন জিনিসকে বড় মনে করেন না।
এতে এই চাওয়া এবং নির্দিষ্ট করে কোন এমন কিছু চাওয়ার মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়ে গেলো, যার উদ্দেশ্য ও উপকার বাস্তবায়িত হয় না। আবার এটাও নিশ্চয়তার সাথে বলা যায় না যে, তা পেলে বান্দার জন্য কল্যাণকর হবে। তাই বান্দা তার প্রতিপালকের নিকট চাইবে এবং তার জন্য কোন্টা বেশী ভাল তার নির্বাচন তার রবের উপর ছেড়ে দিবে। যেমন প্রমাণিত এই দুআ পড়া,
اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتْ الحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتْ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي))
অর্থাৎ, “হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখো, যদি জীবনই আমার জন্য উত্তম হয়। আর আমাকে মৃত্যু দান করো, যদি মনে করো যে মৃত্যুই আমার জন্য শ্রেয়।” অনুরূপ ইস্তিখারা বা কল্যাণ কামনার দুআ পাঠ করা। ক্ষতিহীনতা এমন উপকারী জিনিস কামনা করার মধ্যে, যার উপকার সুবিদিত এবং যা প্রার্থনাকারী (ইচ্ছা-ইরাদার সাথে) না জুড়িয়ে দৃঢ়তার সাথে কামনা করে এবং ঐ জিনিসের চাওয়ার মধ্যে, যার পরিণাম সম্পর্কে বান্দা অজ্ঞ, যার ক্ষতির দিক বেশী, না উপকারের দিক বেশী, তাও সে জানে না বলে, তার নির্বাচন তার সেই রবের উপর ছেড়ে দেয়, যাঁর জ্ঞান, কুদরত এবং রহমত ও দয়া প্রত্যেক জিনিসকে পরিব্যাপ্ত, বড় সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, যা জেনে নেওয়া দরকার।