📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
অধ্যায় আল্লাহর বাণী,
وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ رَحْمَةً مِنَّا مِنْ بَعْدِ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ هَذَا لِي ﴾ [فصلت: ٥٠]
অর্থাৎ, “বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার যোগ্য প্রাপ্য.” (সূরা ফুসসিলাতঃ৫০) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ হলো, এটা আমার আমলের প্রতিদান এবং আমি এর হকদার, আর ইবনে আব্বাস বলেন, তার উদ্দেশ্য হলো, এটা আমার পক্ষ থেকে. আল্লাহ তা'য়ালা অন্যত্র বলেন,
قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي ﴾ [القصص:٧٨]
অর্থাৎ, “সে বললো, আমি এই ধন আমার নিজস্ব জ্ঞান গরিমা দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছি” (সূরা ক্বাসাসঃ ৭৮) ক্বাতাদাহ বলেন, এর অর্থ, আমি উপার্জনের বিভিন্ন পদ্ধতি জানি. অন্যরা বলেছেন, এর অর্থ, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এই জ্ঞান লাভ করেছি যে, আমি এর যোগ্য. মুজাহিদের কথার তাৎপর্য এটাই যে, আমার মান-মর্যাদার ভিত্তিতে আমাকে এটা দেওয়া হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يقول: ((إِنَّ ثَلَاثَةٌ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ : أَبْرَصَ وَأَقْرَعَ وَأَعْمَى، فَأَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَبْتَلِيَهُمْ، فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَلَكًا، فَأَتَى الْأَبْرَصَ فَقَالَ : أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ : لَوْنٌ حَسَنٌ وَجِلْدٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ بِهِ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ قَذَرُهُ، وَأُعْطِيَ لَوْنًا حَسَنًا وَجِلْدًا حَسَنًا ، قَالَ فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ : الْإِبِلُ أَوْ الْبَقَرُ - شَكَّ إِسْحَقُ - فَأُعْطِيَ نَاقَةً عُشَرَاءَ، فَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا، قَالَ:
فَأَتَى الْأَقْرَعَ ، فَقَالَ : أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ : شَعَرٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي هَذَا الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ بِهِ ، قَالَ : فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ، وَأُعْطِيَ شَعَرًا حَسَنًا، قَالَ : فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ الْبَقَرُ أَوِ الإِبِلُ، فَأُعْطِيَ بَقَرَةٌ حَامِلًا، فَقَالَ بَارَكَ اللهُ لَكَ فِيهَا ، قَالَ : فَأَتَى الْأَعْمَى فَقَالَ : أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟
قَالَ : أَنْ يَرُدَّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي فَأُبْصِرَ بِهِ النَّاسَ، فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ بَصَرَهُ، قَالَ : فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ الْغَنَمُ ، فَأُعْطِيَ شَاةٌ وَالِدًا، فَأُنْتِجَ هَذَانِ وَوَلَدَ هَذَا قَالَ فَكَانَ هَذَا وَادٍ مِنْ الْإِبِلِ، وَهِذَا وَادٍ مِنْ الْبَقَرِ، وَهَذَا وَادٍ مِنْ الْغَنَمِ ، قَالَ : ثُمَّ أَتَى الْأَبْرَصَ فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ، فَقَالَ : رَجُلٌ مِسْكِينٌ قَدْ انْقَطَعَتْ بِيَ الْجِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلَا بَلَاغَ لِي الْيَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَعْطَاكَ اللَّوْنَ الْحَسَنَ وَالْجِلْدَ الْحَسَنَ وَالْمَالَ بَعِيرًا، أَتَبَلِّغُ عَلَيْهِ فِي سَفَرِي، فَقَالَ: الحُقُوقُ كَثِيرَةٌ، فَقَالَ لَهُ: كَأَنِّي أَعْرِفُكَ! أَلَمْ تَكُنْ أَبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ فَقِيرًا، فَأَعْطَاكَ اللهُ المَالَ ؟ فَقَالَ : إِنَّمَا وَرِثْتُ هَذَا المَالَ كَابِرًا عَنْ كَابِرٍ، فَقَالَ : إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللهُ إِلَى مَا كُنْتَ. قَالَ: وَأَتَى الْأَقْرَعَ فِي صُورَتِهِ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ هَذَا ، وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا رَدَّ عَلَى هَذَا، فَقَالَ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ. قَالَ : وَأَتَى الْأَعْمَى فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ، فَقَالَ : رَجُلٌ مِسْكِينٌ وَابْنُ سَبِيلٍ انْقَطَعَتْ بِيَ الْجِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلَا بَلَاغَ لِي الْيَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ شَاةٌ أَتَبَلِّغُ بِهَا فِي سَفَرِي، فَقَالَ: قَدْ كُنْتُ أَعْمَى فَرَدَّ اللهُ إِلَيَّ بَصَرِي ، فَخُذْ مَا شِئْتَ، وَدَعْ مَا شِئْتَ، فَوَاللَّهِ لَا أَجْهَدُكَ الْيَوْمَ شَيْئًا أَخَذْتَهُ لله ، فَقَالَ : أَمْسِكْ مَالَكَ، فَإِنَّمَا ابْتُلِيتُمْ، فَقَدْ رُضِيَ عَنْكَ وَسُخِطَ عَلَى صَاحِبَيْكَ)) أخرجاه
অর্থাৎ, আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “বানী ইস্রাঈলদের মধ্যে এক- জন কুষ্ঠ রোগী, একজন টাকপড়া রোগী এবং একজন অন্ধ ছিলো. তাদেরকে আল্লাহ পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন, তাই একজন ফেরেশতাকে তাদের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। প্রথমে কুষ্ঠ রোগীর কাছে এসে বললেন, কোন্ জিনিসটি তোমার নিকট সব থেকে বেশী প্রিয়? সে বললো, উত্তম রঙ ও উত্তম চামড়া এবং আমার থেকে ঐ জিনিস দূর হয়ে যাক, যার জন্য লোকে আমাকে ঘৃণা করে. (আবূ হুরাইরা) বলেন, ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তার থেকে সেই ঘৃণিত জিনিস দূর হয়ে গেলো. আর আল্লাহ তাকে উত্তম রঙ ও উত্তম চামড়া দান করলেন, আবূ হুরাইরা বলেন, অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ মাল তোমার নিকট সব থেকে প্রিয়? সে বললো, উট, অথবা গারু-ইসহাকের এ ব্যাপারে সন্দেহ হয়েছে, তখন তাকে দশ মাসের গাভিন উটনী দেওয়া হলো।
আর বললেন, আল্লাহ তোমাকে এতে বরকত দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর টাকপড়া রোগীর নিকট গেলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ জিনিস তোমার নিকট সব থেকে বেশী প্রিয়? সে বললো, উত্তম কেশ এবং আমার থেকে ঐ জিনিস দূর হয়ে যাক, যার জন্য লোকে আমাকে ঘৃণা করে। তখন তিনি তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলে, তার রোগ দূর হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাকে উত্তম কেশ দান করেন। অতঃপর জিজ্ঞাসা করেন, কোন্ মাল তোমার নিকট সব থেকে বেশী প্রিয়? সে বললো, গরু অথবা উট। তখন তাকে একটি গাভিন গাই দেওয়া হয় এবং বলেন, আল্লাহ তোমাকে তাতে বরকত দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর অন্ধের নিকট যান এবং জিজ্ঞাসা করেন, কোন্ জিনিস তোমার নিকট সব থেকে বেশী প্রিয়? সে বললো, আমার কাছে প্রিয় হলো এই যে, আল্লাহ আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিন, যাতে লোকদের দেখতে পারি। তখন ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলে আল্লাহ তার দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন। অতঃপর জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ মাল তোমার নিকট সব থেকে বেশী প্রিয়? সে বললো, ছাগল, ফলে তাকে একটি গর্ভবতী ছাগল দেওয়া হলো।
উট, গরুও বাচ্চা জন্ম দিলো এবং ছাগলও বাচ্চা দিলো। ফলে একজনের গোয়াল ভরতি উট, একজনের গোয়াল ভরতি গরু এবং একজনের গোয়াল ভরতি ছাগল হয়ে গেলো। বর্ণনাকারী বলেন, পুনরায় ফেরেশতা কুষ্ঠ রোগীর নিকট তারই রূপ ধারণ করে এসে বললেন, আমি একজন দরিদ্র ব্যক্তি। আমার সফরের সামান শেষ হয়ে গেছে। আজ আল্লাহর সাহায্য অতঃপর তোমার সহযোগিতা ব্যতীত আমি গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে পারবো না। কাজেই সেই আল্লাহর নামে একটি উট কামনা করছি, যিনি তোমাকে উত্তম রঙ, উত্তম চামড়া এবং সম্পদ দান করেছেন, সে বললো, আমার অনেক হকদার আছে, তখন তিনি তাকে বললেন, আমি তোমাকে চিন্তে পেরেছি, তুমি কি একজন এমন কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্ত দরিদ্র ছিলে না যে, তোমাকে লোকে ঘৃণা করতো? পরে মহান আল্লাহ তোমাকে সম্পদ দান করেন? সে বললো, আমি এই সম্পদ বংশানুক্রমে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি, তখন তিনি বললেন, যদি তুমি মিথ্যুক হও, তাহলে আল্লাহ যেন তোমাকে পূর্বের ন্যায় বানিয়ে দেন, অতঃপর টাকপড়া রোগীর নিকটও তার মত হয়ে গেলেন, তাকেও অনুরূপ বললেন,
সেও প্রথম ব্যক্তির ন্যায় উত্তর দিলো, তখন তিনি বললেন, যদি তুমি মিথ্যুক হও, তাহলে আল্লাহ যেন তোমাকে আগের ন্যায় বানিয়ে দেন. তারপর অন্ধ সেঝে অন্ধের নিকট এসে বললেন, আমি একজন দরিদ্র ব্যক্তি, আমার সফরের সামান শেষ হয়ে গেছে, আজ আল্লাহর সাহায্য অতঃপর তোমার সহযোগিতা ব্যতীত আমি গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে পারবো না. কাজেই সেই আল্লাহর নামে একটি ছাগল কামনা করছি, যিনি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তখন সে বললো, আমি অন্ধ ছিলাম, আল্লাহ আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন, কাজেই তোমার যা ইচ্ছা নিয়ে যাও, যা ইচ্ছা ছেড়ে যাও. আল্লাহর শপথ তুমি আজ আল্লাহর নামে যা কিছু নিবে, আমি তাতে বাধা প্রদান করবো না. তখন ফেরেশতা বললেন, তোমার সম্পদ তুমিই রাখো, তোমরা পরীক্ষিত হয়েছিলে, আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তোমার দুই সাথীর প্রতি অসন্তুষ্ট” (বুখারী-মুসলিম)
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. আয়াতের তাফসীর।
২. 'তঅবশ্যই বলবে এটা আমার প্রাপ্য' কথার ব্যাখ্যা।
৩. 'আমি তা আমার জ্ঞানের দ্বারা লাভ করেছি' কথার ব্যাখ্যা।
৪. বিস্ময়কর এই ঘটনার মধ্যে রয়েছে মহৎ উপদেশাবলী।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এই অধ্যায়ের লক্ষ্য হলো, যারাই নিয়ামত ও রুজি লাভ করে এই মনোভাব পোষণ করবে যে, তারা এসব প্রাপ্ত হয়েছে আপন প্রচেষ্টা, অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধির বদৌলতে অথবা তারা এর যোগ্য, কারণ, তাদের নাকি আল্লাহর উপর অধিকার রয়েছে, এ সবই তাওহীদ পরিপন্থী জিনিস। কেননা, প্রকৃত মু'মিন যে হয়, সে আল্লাহর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় নিয়ামতকে স্বীকার ক'রে তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে, তাকে তাঁর অনুগ্রহ ও করুণার সাথে সম্পর্কিত করে এবং তার দ্বারা আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য গ্রহণ করে, সে মনে করে না যে, এগুলো তার আল্লাহর উপর প্রাপ্য অধিকার ছিলো, বরং সমস্ত অধিকারই হলো আল্লাহর। সে তো সব দিক দিয়েই আল্লাহর এক নগণ্য বান্দা, আর এরই দ্বারাই ঈমান ও তাওহীদ পূর্ণতা লাভ করে। আর এর বিপরীত মনোভাবে নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা স্বাব্যস্ত হয়। আত্মগর্ব ও আত্মাভিমানই সব থেকে বড় দোষ।
📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
অধ্যায় আল্লাহর বাণী,
﴿ فَلَمَّا آتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آتَاهُمَا ﴾ [الأعراف: ١٩٠]
অর্থাৎ, “অতঃপর আল্লাহ যখন তাদের উভয়কে সুসন্তান দান করলেন, তখন তারা উভয়ে আল্লাহ প্রদত্ত বস্তুতে তাঁর অংশীদার স্থাপন করলো.” (সূরা আ'রাফ ১৯০)
ইবনে হাযম (রহঃ) বলেন, (কুরআন ও হাদীসের বিশারদগণ) এ ব্যাপারে একমত যে, এমন শব্দযোগে নাম রাখা হারাম, যার অর্থ দাঁড়ায় দাস, যেমন, আব্দে উমার (উমারের দাস) এবং আব্দুল কা'বা (কা'বার দাস), তবে আব্দুল মুত্তালিব এর ব্যতিক্রম,
ইবনে আব্বাস উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলনে যে, যখন আদম হাওয়া (আলাইহা সাল্লাম)-এর সাথে সঙ্গম করেন, তখন তিনি গর্ভবতী হয়ে যান, অতঃপর ইবলীস তাঁদের নিকট এসে বলে, আমি তোমাদের সে-ই সঙ্গী-আমিই তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করেছি, তোমরা আমার অনুসরণ করো, না হলে আমি বাচ্চার উটের মত দু'টি শিং বানিয়ে দিবো. ফলে সে তোমার পেট ফেড়ে বের হবে. আর আমি এ কাজ অবশ্যই করবো. সে তাঁদেরকে ভয় দেখাতে ছিলো. সে বললো, বাচ্চার নাম আব্দুল হারিস রাখো, তাঁরা তার কথা মানতে অস্বীকার করলেন, ফলে বাচ্চা মৃত হলো, অতঃপর পুনরায় তিনি গর্ভবতী হলেন, পুনরায় ইবলীস তাঁদের নিকট এসে অনুরূপ বললে, তাঁদের মধ্যে শিশুর ভালবাসা সৃষ্টি হয়ে যায়, তাই তাঁরা শিশুর নাম আব্দুল হারিস রাখেন, আল্লাহ এই বানীর 'তখন আল্লাহ প্রদত্ত বস্তুতে তাঁর তা'যিমদার স্থাপন করলো।' তাৎপর্য এটাই। (ইবনে হাতিম)
ইবনে হাতিমই সহীহ সনদে ক্বাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শরীকরা ছিলো অনুসরণের ক্ষেত্রে, ইবাদতের ক্ষেত্রে ছিলো না।
ইবনে হাতিম সহীহ সনদে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'তাৎপর্য তাদেরকে যখন সন্তান দান করা হলো।' কথার তাৎপর্য হলো, পিতা-মাতার তরফ ছিলো, শিশুটা মানুষ না হয়ে অন্য কিছু হয়ে যায়। হাসান ও সাঈদ প্রভৃতি থেকেও উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে অনুরূপ উক্তি সংকলিত হয়েছে।
কতিপয় মাসআলা জানা গেলো
১. তানার দাস অর্থ বিশিষ্ট নাম হারাম। ২. আয়াতের ব্যাখ্যা। ৩. এই শিরক শুধু নামকরনে, যার প্রকৃতার্থ লক্ষ্য হয় না। ৪. আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে সুস্থ কন্যা দান করলে, তাও নিয়ামত। ৫. পূর্বের বিধানগণের অনুসরণে শিরক এবং ইবাদতে শিরকের মধ্যে পার্থক্যের উল্লেখ।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ
এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো, মহান আল্লাহ সন্তান দান ক'রে যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন, তাদেরকে শারীরিক সুস্থতা ও সবলতা দান করে তাঁর নিয়ামত তাদের উপর পরিপূর্ণ করেছেন এবং এই নিয়ামত-তের পরিপূরক হিসাবে তাদেরকে দ্বীনদার বানিয়েছেন, তাদের কর্তব্য হলো, নিয়ামতের উপর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা, সন্তানদেরকে গায়রুল্লাহর ইবাদতের ভিত্তিতে গঠন না করা এবং তাঁর অনুগ্রহকে গায়রুল্লাহর সাথে সম্পর্কিত না করা, কারণ, এতে নিয়ামতের না-শুকরী হয় এবং তাওহীদ পরিপন্থীও বটে।
📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
অধ্যায় আল্লাহর বাণী,
وَاللهُ الأَسْمَاءُ الحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ [الأعراف: ١٨٠]
অর্থাৎ, "আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাকো। আর তাদেরকে বর্জন করো, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে।” (সূরা আ'রাফঃ ১৮০) ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে উল্লেখ করেছেন যে, 'ইউলহেদুনা ফী আসমায়েহি' (তারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে) কথার অর্থ, তারা (তাঁর নামের সাথে) শির্ক করে। তিনি আরো বর্ণনা করেছেন যে, তারা লাত' এর নাম 'ইলাহ' থেকে এবং 'উযযা'র নাম 'আযীয' থেকে রেখেছে, আ'মাশ থেকে এসেছে যে, আয়াতের তাৎপর্য হলো, আল্লাহর নামের মধ্যে এমন কিছু ঢুকিয়ে দেয়, যা তাঁর নামের অন্তর্ভুক্ত নয়।
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. আল্লাহর নামসমূহের প্রমাণ। ২. তা উত্তম হওয়ার প্রমাণ। ৩. তাঁর নাম ধরে দুআ করার নির্দেশ। ৪. জাহেল ও বে-দ্বীনদের মধ্যে যারা তাঁর নামের বিরোধিতা করে, তাদের বর্জন করা। ৫. আয়াতে উল্লিখিত ইলহাদের ব্যাখ্যা।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ তাওহীদের মূল হলো, আল্লাহ তাঁর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে যা তিনি নিজের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁর জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন, তার প্রতিষ্ঠা করা। আর এই নামসমূহের মধ্যে যে সুমহান অর্থ এবং উত্তম তত্ত্ব বিদ্যমান রয়েছে, তার জ্ঞানার্জন করা, তার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা এবং ঐ নামের অসীলায় তাঁর নিকট দুআ করা। বান্দা তার প্রতিপালকের নিকট দুনিয়া ও আখে-রাতের বিষয়সমূহের মধ্যে যা কিছু কামনা করে, আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের মধ্যে তার চাহিদা উপযোগী নামের অসীলায় দুআ করা উচিত, যেমন, যে রুজি চায়, সে তাঁর 'রাযযাক্ব' নামের অসীলায় দুআ করবে, আর যে রহমত ও ক্ষমা কামনা করে, সে 'আররাহীম, আররাহমান, আল গাফুর, আত্তাওয়াব' নামের অসীলায় দুআ করবে। তবে উত্তম হলো, ইবাদতের দুআ আল্লাহর সুন্দর নাম ও তাঁর গুণাবলী দ্বারা করা। আর এটা করতে হবে তাঁর সুন্দর নামসমূহের অর্থগুলো ও তার তাৎপর্যগুলো অন্তরে উপস্থিত রেখে। যাতে অন্তর তার দাবী ও প্রভাবে প্রভাবিত হয় এবং বহু সুমহান তত্ত্বে অন্তর ভরে যায়, যেমন, যে নামের অর্থ হয় মহান, মহিমময়, গৌরবময় এবং যে নামে ভীতির সৃষ্টি হয়, সেই নাম নেওয়ার সময় তাঁর সম্মান ও মাহাত্ম্যে অন্তর ভরে যাবে।
আর যে নামের অর্থ হয়, সুন্দর, কল্যাণকারী, অনুগ্রহকারী, রহমকারী এবং বদান্য, সেই নাম নেওয়ার সময় তাঁর প্রতি ভালবাসায়, আগ্রহে এবং তাঁর প্রশংসায় ও কৃতজ্ঞতায় অন্তর ভরে যাবে।
আর যে নামের অর্থ হয়, পরাক্রমশীল, কৌশলী এবং মহা জ্ঞানী ও শক্তিশালী, সেই নাম নেওয়ার সময় অন্তর ভরে যাবে তাঁর প্রতি বিনয়, ভীতি এবং তাঁর সামনে নতস্বীকারে।
আর যে নামের অর্থ হয়, অবহিত, পরিব্যাপ্ত, পর্যবেক্ষক এবং পরিদর্শক, সেই নাম নেওয়ার সময় চলা-ফিরায় ও উঠা-বসায় সর্ব ক্ষেত্রে অন্তর ভরে উঠবে আল্লাহ যে পর্যবেক্ষক এই খেয়ালে এবং জঘন্য চিন্তা-ভাবনা ও নোংরা ইচ্ছা অন্তরে প্রবেশ না হতে দেওয়ার পাহারায়।
আর যে নামের অর্থ হয়, মুখাপেক্ষীহীন ও দয়ালু, সেই নাম নেওয়ার সময় অন্তর ভরে উঠবে তাঁর মুখাপেক্ষায়, তাঁর প্রয়োজন বোধে এবং সব সময় ও সর্ব ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি প্রত্যাবর্তন হওয়ায়।
আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলীর জ্ঞান অর্জন ও তদ্বারা আল্লাহর ইবাদত করার কারণে বান্দার অন্তরে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয়, দুনিয়াতে এর থেকে উত্তম, শ্রেষ্ঠ এবং পূর্ণ অনুভূতি আর হয় না। এটা আল্লাহর উত্তম দান যাতে বান্দা তাঁর উপাসনা করে।
আর এটাই হলো, তাওহীদের প্রাণ। যার জন্য আল্লাহ এই দরজা খুলে দেন, তার জন্য নির্মল তাওহীদ এবং পূর্ণ ঈমানের দরজাও খুলে দেন, যা খুব কম সংখ্যক তাওহীদবাদীদের ভাগ্যে জুটে।
তবে আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলীর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই সৌভাগ্য লাভ করা যায়, তাই আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলীর ব্যাপারে বাঁকা পথ অবলম্বন করা বা তা বর্জন করা হলো এই মহান লক্ষ্যের পরিপন্থী ও কট্টর বিরোধী জিনিস, আর বর্জন ও বাঁকা পথ অবলম্বন করণ কয়েকভাবে হয়, যেমন, বর্জনকারীর (আল্লাহর নামের ও তাঁর গুণাবলীর) সমস্ত অর্থকে অস্বীকার করা, যেমন জাহমিয়া ও তাদের অনুসারীরা করে কিংবা আল্লাহর গুণাবলীকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য স্থাপন করা, যেমন, রাফেযাহ প্রভৃতিরা করে। অথবা তাঁর নামে কোন সৃষ্টির নাম রাখা, যেমন, মুশরিকরা করে। তারা 'লাত', 'উযযাহ' এবং 'মানাত' নাম রেখেছিলো, যা 'ইলাহ', 'আযীয' এবং 'মান্নান' শব্দ থেকে উৎপত্তি, তারা এই নামগুলো আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ থেকে বের করে আল্লাহর সাথে তার তুলনা করেছে, অতঃপর ইবাদত, যা আল্লাহর বিশেষ অধিকারগুলোর অন্যতম, তা তাদের জন্যও নির্ধারিত করেছে, সুতরাং আল্লাহর নামসমূহকে বর্জন করার প্রকৃত অর্থ হলো, তাকে তার প্রকৃত লক্ষ্য থেকে অন্য দিকে ফিরানো, তাতে তা শাব্দিক হোক অথবা অর্থের দিক দিয়ে হোক কিংবা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে হোক বা পরিবর্তন সুচিত করে হোক, আর এ সবই তাওহীদ ও ঈমান পরিপন্থী বিষয়।
📄 ‘আসসালামু আ’লাল্লাহ’ বলা
'আস্সালামো আ'লাল্লাহ' বলা যায় না
في الصحيح عن ابن مسعود رضي الله عنه قَالَ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي الصَّلَاةِ قُلْنَا: السَّلَامُ عَلَى اللهِ مِنْ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: ((لَا تَقُولُوا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلَامُ))
অর্থাৎ, সহী হাদীসে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবী করীম -এর সাথে নামায পড়তাম, তখন বলতাম, আল্লাহর উপর তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষণ হোক, অমুক অমুকের উপর শান্তি বর্ষণ হোক, তখন নবী করীম বললেন, “আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষণ হোক, এ কথা বলো না। কারণ, আল্লাহই শান্তিদাতা”
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. সালামের ব্যাখ্যা। ২. তা হলো সংবর্ধনা জ্ঞাপন। ৩. তা আল্লাহর শানে বলা ঠিক নয়। ৪. ঠিক না হওয়ার কারণ। ৫. তাদেরকে সঠিক সালামের শিক্ষা প্রদান।
ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণঃ আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষণ হোক, এ কথা কেন বলা যাবে না, তা নবী করীম তাঁর এই বাণী, 'কারণ, তিনিই শান্তিদাতা' দ্বারা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, আল্লাহ তা'য়ালা শান্তিদাতা তিনি সব দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত এবং সৃষ্টির কেউ তাঁর মত হবে, এ থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে, তিনিই তাঁর বান্দাদেরকে বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা দান করেন, সুতরাং বান্দারা তাঁর অনিষ্ট করতে চাইলে, তা তারা পারবে না এবং তাঁর কোন উপকার করতে চাইলে, তাও পারবে না। বরং বান্দারা তাদের সর্ব ক্ষেত্রে তাঁর মুখাপেক্ষী এবং তাঁর প্রয়োজন বোধ করে। তিনি তো প্রশংসিত ও মুখাপেক্ষিহীন।
'আস্সালামো আ'লাল্লাহ' বলা যায় না
في الصحيح عن ابن مسعود رضي الله عنه قَالَ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي الصَّلَاةِ قُلْنَا: السَّلَامُ عَلَى اللهِ مِنْ عِبَادِهِ السَّلَامُ عَلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: ((لَا تَقُولُوا السَّلَامُ عَلَى اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلَامُ))
অর্থাৎ, সহী হাদীসে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন নবী করীম -এর সাথে নামায পড়তাম, তখন বলতাম, আল্লাহর উপর তাঁর বান্দাদের পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষণ হোক, অমুক অমুকের উপর শান্তি বর্ষণ হোক, তখন নবী করীম বললেন, “আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষণ হোক, এ কথা বলো না। কারণ, আল্লাহই শান্তিদাতা”
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. সালামের ব্যাখ্যা। ২. তা হলো সংবর্ধনা জ্ঞাপন। ৩. তা আল্লাহর শানে বলা ঠিক নয়। ৪. ঠিক না হওয়ার কারণ। ৫. তাদেরকে সঠিক সালামের শিক্ষা প্রদান।
ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণঃ আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষণ হোক, এ কথা কেন বলা যাবে না, তা নবী করীম তাঁর এই বাণী, 'কারণ, তিনিই শান্তিদাতা' দ্বারা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন, আল্লাহ তা'য়ালা শান্তিদাতা তিনি সব দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত এবং সৃষ্টির কেউ তাঁর মত হবে, এ থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে, তিনিই তাঁর বান্দাদেরকে বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা দান করেন, সুতরাং বান্দারা তাঁর অনিষ্ট করতে চাইলে, তা তারা পারবে না এবং তাঁর কোন উপকার করতে চাইলে, তাও পারবে না। বরং বান্দারা তাদের সর্ব ক্ষেত্রে তাঁর মুখাপেক্ষী এবং তাঁর প্রয়োজন বোধ করে। তিনি তো প্রশংসিত ও মুখাপেক্ষিহীন।