📄 ‘ক্বাযিউল ক্বুযাত’ নামকরণ
কাযীউল কুযাত ইত্যাদি নামকরণ প্রসঙ্গে
في الصحيح عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ له عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: ((إِنَّ أَخْنَعَ اسْمِ عِنْدَ اللَّهِ، رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ، لَا مَالِكَ إِلَّا اللَّهُ) قَالَ سُفْيَانُ : مِثْلُ شَاهَانٌ شاه. وفي رواية: ((أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَتُهُ وَأَغْيَظُهُ عَلَيْهِ رَجُلٍ كَانَ يُسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلَاكِ))
অর্থাৎ, সহী হাদীসে আবূ হুরাইরা নবী করীম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, "আল্লাহর নিকট সব থেকে নিকৃষ্ট নাম ঐ ব্যক্তির নাম, যার 'মালিকুল আমলাক' রাজ্যসমূহের রাজা নামে নামকরণ করা হয়। অথচ আল্লাহ ব্যতীত কোন বাদশাহ নেই." সুফিয়ান সাওরী বলেন, যেমন, 'শাহানশাহ' সম্রাটের সম্রাট নাম রাখা।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তিই সব চেয়ে বেশী আল্লাহর রোষের শিকার হবে এবং তাঁর নিকট নিকৃষ্টতর গণ্য হবে, যে রাজাধিরাজ নাম ধারণ করে.'
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. রাজ্যসমূহের রাজা নামকরণ নিষেধ, ২. এই ধরনের অর্থ বিশিষ্ট নামও নিষেধ. ৩. এই ব্যাপারে এবং তার অনুরূপ ব্যাপারে যে কঠোরতা, তা নিয়ে বিবেক-বুদ্ধি খাটাতে হবে, যদিও অন্তরে নামের অর্থের নিয়ত হয় না. ৪. এ কথা বুঝে নেওয়া দরকার যে, এই ধরনের উপাধি আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এই অধ্যায় হলো পূর্বে উল্লিখিত অধ্যায়েরই শাখা, অর্থাৎ, অপরিহার্য কর্তব্য হলো, নিয়তে, কথায় ও কাজে আল্লাহর শরীক স্থাপন না করা, সুতরাং কারো এমন নাম রাখা যাবে না, যাতে আল্লাহর নামসমূহে ও তাঁর গুণাবলীতে কোন প্রকারের শরীক হওয়া স্থাপিত হয়ে যায়, যেমন, কাযীউল কুযাত (সমস্ত বিচারকের বিচারক), রাজ্যসমূহের রাজা প্রভৃতি নামকরণ, অনুরূপ হাকেমুল হুক্কাম (সমস্ত জজের জজ) অথবা আবুল হাকাম (জজের বাপ) ইত্যাদি নামকরণ থেকেও বাঁচতে হবে। এ সবই হচ্ছে তাওহীদ, আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলীর, সংরক্ষণ এবং শির্কের প্রবেশ পথ বন্ধ করার জন্য। যেন এমন কথা উচ্চারিত না হয়, যাতে শির্ক প্রবেশের আশঙ্কা থাকে এবং আল্লাহর বৈশিষ্ট্য ও তাঁর অধিকারের কোন কিছুতে কারো শরীক হওয়ার ধারণা সৃষ্টি হয়।
📄 আল্লাহর নামের সম্মানার্থে নাম পরিবর্তন করা
মহান আল্লাহর নামসমূহের সম্মান ক'রে নাম পরিবর্তন করা
عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ: أَنَّهُ كَانَ يُكَنَّى أَبَا الحَكَمِ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ: ((إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَكَمُ وَإِلَيْهِ الْحُكْمُ ، فَلِمَ تُكَنَّى أَبَا الْحَكَمِ ؟ فَقُلْتُ: إِنَّ قَوْمِي إِذَا اخْتَلَفُوا فِي شَيْءٍ أَتَوْنِي فَحَكَمْتُ بَيْنَهُمْ ، فَرَضِيَ كِلَا الْفَرِيقَيْنِ، فَقَالَ: ((مَا أَحْسَنَ مِنْ هَذَا، فَمَا لَكَ مِنْ الْوُلْدِ ؟ )) قَالَ لِي شُرَيْحٌ، وَمُسْلِمٌ، وَعَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: ((فَمَنْ أَكْبَرُهُمْ ؟ قُلْتُ : شُرَيْحٌ، قَالَ : فَأَنْتَ أَبُو شُرَيْح)) رواه أبو داود
আবূ শুরাইহ থেকে বর্ণিত যে, তার তাপর নাম ছিলো আবুল হাকাম (জজের বাপ)। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বললেন, "আল্লাহই তো বিচারপতি এবং তিনিই বিচারের মালিক।” তখন তিনি (শুরাইহ) বললেন, আমার জাতি যখন কোন বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়, তখন তারা আমার কাছে ফয়সালা করতে আসে। আমি তাদের ফয়সালা করে দিলে, উভয় দল সন্তুষ্ট হয়ে যায়, তখন তিনি ﷺ বললেন, "এটা তো অতি উত্তম জিনিস, তোমার সন্তানাদি কয়টি?” তিনি (শুরাইহ) বললেন, শুরাইহ, মুসলিম এবং আব্দুল্লাহ, তিনি ﷺ বললেন, "তাদের মধ্যে বড় কে?” বললেন, শুরাইহ, তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বললেন, "তাহলে তোমার ডাক নাম হলে, আবু শুরাইহ." (আবু দাউদ)
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. আল্লাহর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলীর মর্যাদা দেওয়া, যদিও তার অর্থ লক্ষ্য না হয়। ২. আল্লাহর নামের সম্মানার্থে নাম পরিবর্তন করা। ৩. অপর নামের জন্য বড় ছেলেকে নির্বাচন করা।
📄 আল্লাহর যিকর, রাসূল ও কুরআনের সাথে বিদ্রূপ করা
যে আল্লাহর যিক্র বিশিষ্ট কোন কিছুর সাথে অথবা কুরআন কিংবা রাসূলের সাথে বিদ্রূপ করে
মহান আল্লাহ বলেন, وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ )
অর্থাৎ, “আর যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম.” (সূরা তাওবাঃ ৬৫)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَمُحَمَّدُ بن كَعْبٍ وَ زَيْدُ بن أَسْلَمَ وَقَتَادَهُ، دَخَلَ حَدِيثُ بَعْضِهِمْ فِي بَعْضٍ : (( أَنَّهُ قَالَ رَجُلٌ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ : مَا رَأَيْنَا مِثْلَ قُرَّائِنَا هَؤُلَاءِ. أَرْغَب بُطُوْناً، وَلَا أَكْذَبَ السُناً، وَلَا أَجْبَن عِنْدَ اللَّقَاءِ، يَعْنِي رَسُولَ اللهِ ﷺ وَأَصْحَابَهُ القُرَّاءَ، فَقَالَ لَهُ عَوْفُ بْنِ مَالِكٍ كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ مُنَافِقٌ، لَأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ، فَذَهَبَ عَوْفٌ إِلَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِيُخْبِرَهُ، فَوَجَدَ الْقُرْآنَ قَدْ سَبَقَهُ، فَجَاءَ ذَلِكَ الرَّجُلُ إِلَى رَسُولِ اللهِ ، وَقَدِ ارْتَحَلَ وَرَكِبَ نَاقَتَهُ. فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَتَحَدَّثُ حَدِيثَ الرَّكْبِ نَقْطَعُ بِهِ عَنَاءَ الطَّرِيقِ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ، كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ مَتَعَلَّقاً بِنَسْعَةِ نَاقَةِ رَسُوْلِ اللَّهِ ، وَإِنَّ الحِجَارَةَ تَنْكُبُ رِجْلَيْهِ، وَهُوَ يَقُوْلُ : إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ. فَيَقُوْلُ لَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ : ﴿ أَبِاللهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ مَا يَلْتَفِتُ إِلَيْهِ وَمَا يَزِيدُهُ ))
অর্থাৎ, ইবনে উমর, মুহাম্মাদ ইবন কাআ'ব, যায়েদ ইবনে আসলাম এবং ক্বাতাদাহ থেকে বণিত তাঁদের পরস্পরের কথায় মিলও আছে যে, তাবুক যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি এই কথা-বার্তা বলতে লাগলো যে, আমাদের এই ক্বারীদের মত বড় পেটওয়ালা, কথার বড় মিথ্যুক এবং যুদ্ধের সময় অত্যধিক ভীরু আর কাউকে দেখি নি.
তার লক্ষ্য ছিলো রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর ক্বারী সাহাবীগণ, তখন আউফ ইবনে মালিক তাকে বললো, তুমি মিথ্যুক এবং মুনাফেক. আমি অবশ্যই এ কথা রাসূলুল্লাহকে জানাবো, অতঃপর আউফ এই খবর দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ-এর নিকট গেলেন, কিন্তু তাঁর পূর্বেই কুরআন রাসূলুল্লাহকে এ খবর জানিয়ে দিয়েছে, উক্ত ব্যক্তিও তার উল্টার উপর সাওয়ার হয়ে রাসূলুল্লাহ-এর নিকট এসে বলতে লাগলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা পথ অতিক্রম করার জন্য আপসে হাসি ঠাট্টা এবং সাওয়ারের কথা-বার্তা বলছিলাম.
ইবনে উমার বলেন, আমি যেন তার দিকে তাকিয়ে আছি যে, কেমন করে সে রাসূলুল্লাহ-এর উল্টার রসির সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে কথা বলছে, আর পাথর উড়ে উড়ে তার পাকে স্পর্শ করছিলো. সে বলছিলো, আমরা হাসি-ঠাট্টা করছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ তাকে লক্ষ্য করে বললেন, "তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর নির্দশনসমূহ এবং তাঁর রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছো.” আর এই অবস্থায় তিনি সেই মুনাফেকের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপও করেন নি এবং তাঁর উল্লিখিত কথার অধিকও কিছু বলেন নি.”
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. বড় বিষয় হলো, যে ব্যক্তি কুরআন ইত্যাদির সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করবে, সে কাফের।
২. এটাই আয়াতের ব্যাখ্যা যে, যারই কার্যকলাপ এ রকম হবে, সে কাফের,
৩. চুগলী করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিমিত্তে নসীহত করার মধ্যে পার্থক্য।
৪. কোন কোন ওজর-আপত্তি এমনও হয়, যা গ্রহণ করা উচিত নয়।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ আল্লাহ অথবা কুরআন কিংবা রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হলো, পূর্ণ ঈমান বিরোধী এবং দ্বীন থেকে বহিষ্কারকারী জিনিস। কারণ, দ্বীনের মূল হলো, আল্লাহ, তাঁর গ্রন্থসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান আনা। আর এ সবের সম্মান প্রদর্শনও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। আর এ কথা সুবিদিত যে, উল্লিখিত বিষয়গুলোর সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা নিছক কুফ্রীর থেকেও সাংঘাতিক, কারণ, এতে কুফরীর সাথে সাথে তুচ্ছ ও ঘৃণ্য মনে করাও বিদ্যমান। কেননা, কাফেররা দুই প্রকারের হয় (১) অগ্রাহ্যকারী (২) অগ্রাহ্যকারী ও তর্ককারী) যে অগ্রাহ্যের সাথে সাথে তর্ক ও প্রতিবাদও করে, সে হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে সংগ্রামকারী। আল্লাহ, তাঁর দ্বীন এবং তাঁর রাসূল সম্পর্কে কটুক্তিকারী, আর এটাই হলো, জঘন্য কুফরী ও বড় ফ্যাসাদ। আর দ্বীনের কোন কিছুর সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা হলো এই প্রকারের জিনিস।
📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
অধ্যায় আল্লাহর বাণী,
وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ رَحْمَةً مِنَّا مِنْ بَعْدِ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ هَذَا لِي ﴾ [فصلت: ٥٠]
অর্থাৎ, “বিপদাপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই, তখন সে বলতে থাকে, এটা যে আমার যোগ্য প্রাপ্য.” (সূরা ফুসসিলাতঃ৫০) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ হলো, এটা আমার আমলের প্রতিদান এবং আমি এর হকদার, আর ইবনে আব্বাস বলেন, তার উদ্দেশ্য হলো, এটা আমার পক্ষ থেকে. আল্লাহ তা'য়ালা অন্যত্র বলেন,
قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِنْدِي ﴾ [القصص:٧٨]
অর্থাৎ, “সে বললো, আমি এই ধন আমার নিজস্ব জ্ঞান গরিমা দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছি” (সূরা ক্বাসাসঃ ৭৮) ক্বাতাদাহ বলেন, এর অর্থ, আমি উপার্জনের বিভিন্ন পদ্ধতি জানি. অন্যরা বলেছেন, এর অর্থ, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এই জ্ঞান লাভ করেছি যে, আমি এর যোগ্য. মুজাহিদের কথার তাৎপর্য এটাই যে, আমার মান-মর্যাদার ভিত্তিতে আমাকে এটা দেওয়া হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يقول: ((إِنَّ ثَلَاثَةٌ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ : أَبْرَصَ وَأَقْرَعَ وَأَعْمَى، فَأَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَبْتَلِيَهُمْ، فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَلَكًا، فَأَتَى الْأَبْرَصَ فَقَالَ : أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ : لَوْنٌ حَسَنٌ وَجِلْدٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ بِهِ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ قَذَرُهُ، وَأُعْطِيَ لَوْنًا حَسَنًا وَجِلْدًا حَسَنًا ، قَالَ فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ : الْإِبِلُ أَوْ الْبَقَرُ - شَكَّ إِسْحَقُ - فَأُعْطِيَ نَاقَةً عُشَرَاءَ، فَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا، قَالَ:
فَأَتَى الْأَقْرَعَ ، فَقَالَ : أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ : شَعَرٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي هَذَا الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ بِهِ ، قَالَ : فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ، وَأُعْطِيَ شَعَرًا حَسَنًا، قَالَ : فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ الْبَقَرُ أَوِ الإِبِلُ، فَأُعْطِيَ بَقَرَةٌ حَامِلًا، فَقَالَ بَارَكَ اللهُ لَكَ فِيهَا ، قَالَ : فَأَتَى الْأَعْمَى فَقَالَ : أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟
قَالَ : أَنْ يَرُدَّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي فَأُبْصِرَ بِهِ النَّاسَ، فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ بَصَرَهُ، قَالَ : فَأَيُّ المَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ الْغَنَمُ ، فَأُعْطِيَ شَاةٌ وَالِدًا، فَأُنْتِجَ هَذَانِ وَوَلَدَ هَذَا قَالَ فَكَانَ هَذَا وَادٍ مِنْ الْإِبِلِ، وَهِذَا وَادٍ مِنْ الْبَقَرِ، وَهَذَا وَادٍ مِنْ الْغَنَمِ ، قَالَ : ثُمَّ أَتَى الْأَبْرَصَ فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ، فَقَالَ : رَجُلٌ مِسْكِينٌ قَدْ انْقَطَعَتْ بِيَ الْجِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلَا بَلَاغَ لِي الْيَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَعْطَاكَ اللَّوْنَ الْحَسَنَ وَالْجِلْدَ الْحَسَنَ وَالْمَالَ بَعِيرًا، أَتَبَلِّغُ عَلَيْهِ فِي سَفَرِي، فَقَالَ: الحُقُوقُ كَثِيرَةٌ، فَقَالَ لَهُ: كَأَنِّي أَعْرِفُكَ! أَلَمْ تَكُنْ أَبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ فَقِيرًا، فَأَعْطَاكَ اللهُ المَالَ ؟ فَقَالَ : إِنَّمَا وَرِثْتُ هَذَا المَالَ كَابِرًا عَنْ كَابِرٍ، فَقَالَ : إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللهُ إِلَى مَا كُنْتَ. قَالَ: وَأَتَى الْأَقْرَعَ فِي صُورَتِهِ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ هَذَا ، وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا رَدَّ عَلَى هَذَا، فَقَالَ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ. قَالَ : وَأَتَى الْأَعْمَى فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ، فَقَالَ : رَجُلٌ مِسْكِينٌ وَابْنُ سَبِيلٍ انْقَطَعَتْ بِيَ الْجِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلَا بَلَاغَ لِي الْيَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ شَاةٌ أَتَبَلِّغُ بِهَا فِي سَفَرِي، فَقَالَ: قَدْ كُنْتُ أَعْمَى فَرَدَّ اللهُ إِلَيَّ بَصَرِي ، فَخُذْ مَا شِئْتَ، وَدَعْ مَا شِئْتَ، فَوَاللَّهِ لَا أَجْهَدُكَ الْيَوْمَ شَيْئًا أَخَذْتَهُ لله ، فَقَالَ : أَمْسِكْ مَالَكَ، فَإِنَّمَا ابْتُلِيتُمْ، فَقَدْ رُضِيَ عَنْكَ وَسُخِطَ عَلَى صَاحِبَيْكَ)) أخرجاه
অর্থাৎ, আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “বানী ইস্রাঈলদের মধ্যে এক- জন কুষ্ঠ রোগী, একজন টাকপড়া রোগী এবং একজন অন্ধ ছিলো. তাদেরকে আল্লাহ পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন, তাই একজন ফেরেশতাকে তাদের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। প্রথমে কুষ্ঠ রোগীর কাছে এসে বললেন, কোন্ জিনিসটি তোমার নিকট সব থেকে বেশী প্রিয়? সে বললো, উত্তম রঙ ও উত্তম চামড়া এবং আমার থেকে ঐ জিনিস দূর হয়ে যাক, যার জন্য লোকে আমাকে ঘৃণা করে. (আবূ হুরাইরা) বলেন, ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তার থেকে সেই ঘৃণিত জিনিস দূর হয়ে গেলো. আর আল্লাহ তাকে উত্তম রঙ ও উত্তম চামড়া দান করলেন, আবূ হুরাইরা বলেন, অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ মাল তোমার নিকট সব থেকে প্রিয়? সে বললো, উট, অথবা গারু-ইসহাকের এ ব্যাপারে সন্দেহ হয়েছে, তখন তাকে দশ মাসের গাভিন উটনী দেওয়া হলো।
আর বললেন, আল্লাহ তোমাকে এতে বরকত দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর টাকপড়া রোগীর নিকট গেলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ জিনিস তোমার নিকট সব থেকে বেশী প্রিয়? সে বললো, উত্তম কেশ এবং আমার থেকে ঐ জিনিস দূর হয়ে যাক, যার জন্য লোকে আমাকে ঘৃণা করে। তখন তিনি তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলে, তার রোগ দূর হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাকে উত্তম কেশ দান করেন। অতঃপর জিজ্ঞাসা করেন, কোন্ মাল তোমার নিকট সব থেকে বেশী প্রিয়? সে বললো, গরু অথবা উট। তখন তাকে একটি গাভিন গাই দেওয়া হয় এবং বলেন, আল্লাহ তোমাকে তাতে বরকত দান করুন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর অন্ধের নিকট যান এবং জিজ্ঞাসা করেন, কোন্ জিনিস তোমার নিকট সব থেকে বেশী প্রিয়? সে বললো, আমার কাছে প্রিয় হলো এই যে, আল্লাহ আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিন, যাতে লোকদের দেখতে পারি। তখন ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলে আল্লাহ তার দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন। অতঃপর জিজ্ঞাসা করলেন, কোন্ মাল তোমার নিকট সব থেকে বেশী প্রিয়? সে বললো, ছাগল, ফলে তাকে একটি গর্ভবতী ছাগল দেওয়া হলো।
উট, গরুও বাচ্চা জন্ম দিলো এবং ছাগলও বাচ্চা দিলো। ফলে একজনের গোয়াল ভরতি উট, একজনের গোয়াল ভরতি গরু এবং একজনের গোয়াল ভরতি ছাগল হয়ে গেলো। বর্ণনাকারী বলেন, পুনরায় ফেরেশতা কুষ্ঠ রোগীর নিকট তারই রূপ ধারণ করে এসে বললেন, আমি একজন দরিদ্র ব্যক্তি। আমার সফরের সামান শেষ হয়ে গেছে। আজ আল্লাহর সাহায্য অতঃপর তোমার সহযোগিতা ব্যতীত আমি গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে পারবো না। কাজেই সেই আল্লাহর নামে একটি উট কামনা করছি, যিনি তোমাকে উত্তম রঙ, উত্তম চামড়া এবং সম্পদ দান করেছেন, সে বললো, আমার অনেক হকদার আছে, তখন তিনি তাকে বললেন, আমি তোমাকে চিন্তে পেরেছি, তুমি কি একজন এমন কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্ত দরিদ্র ছিলে না যে, তোমাকে লোকে ঘৃণা করতো? পরে মহান আল্লাহ তোমাকে সম্পদ দান করেন? সে বললো, আমি এই সম্পদ বংশানুক্রমে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি, তখন তিনি বললেন, যদি তুমি মিথ্যুক হও, তাহলে আল্লাহ যেন তোমাকে পূর্বের ন্যায় বানিয়ে দেন, অতঃপর টাকপড়া রোগীর নিকটও তার মত হয়ে গেলেন, তাকেও অনুরূপ বললেন,
সেও প্রথম ব্যক্তির ন্যায় উত্তর দিলো, তখন তিনি বললেন, যদি তুমি মিথ্যুক হও, তাহলে আল্লাহ যেন তোমাকে আগের ন্যায় বানিয়ে দেন. তারপর অন্ধ সেঝে অন্ধের নিকট এসে বললেন, আমি একজন দরিদ্র ব্যক্তি, আমার সফরের সামান শেষ হয়ে গেছে, আজ আল্লাহর সাহায্য অতঃপর তোমার সহযোগিতা ব্যতীত আমি গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে পারবো না. কাজেই সেই আল্লাহর নামে একটি ছাগল কামনা করছি, যিনি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তখন সে বললো, আমি অন্ধ ছিলাম, আল্লাহ আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন, কাজেই তোমার যা ইচ্ছা নিয়ে যাও, যা ইচ্ছা ছেড়ে যাও. আল্লাহর শপথ তুমি আজ আল্লাহর নামে যা কিছু নিবে, আমি তাতে বাধা প্রদান করবো না. তখন ফেরেশতা বললেন, তোমার সম্পদ তুমিই রাখো, তোমরা পরীক্ষিত হয়েছিলে, আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তোমার দুই সাথীর প্রতি অসন্তুষ্ট” (বুখারী-মুসলিম)
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. আয়াতের তাফসীর।
২. 'তঅবশ্যই বলবে এটা আমার প্রাপ্য' কথার ব্যাখ্যা।
৩. 'আমি তা আমার জ্ঞানের দ্বারা লাভ করেছি' কথার ব্যাখ্যা।
৪. বিস্ময়কর এই ঘটনার মধ্যে রয়েছে মহৎ উপদেশাবলী।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এই অধ্যায়ের লক্ষ্য হলো, যারাই নিয়ামত ও রুজি লাভ করে এই মনোভাব পোষণ করবে যে, তারা এসব প্রাপ্ত হয়েছে আপন প্রচেষ্টা, অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধির বদৌলতে অথবা তারা এর যোগ্য, কারণ, তাদের নাকি আল্লাহর উপর অধিকার রয়েছে, এ সবই তাওহীদ পরিপন্থী জিনিস। কেননা, প্রকৃত মু'মিন যে হয়, সে আল্লাহর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় নিয়ামতকে স্বীকার ক'রে তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে, তাকে তাঁর অনুগ্রহ ও করুণার সাথে সম্পর্কিত করে এবং তার দ্বারা আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য গ্রহণ করে, সে মনে করে না যে, এগুলো তার আল্লাহর উপর প্রাপ্য অধিকার ছিলো, বরং সমস্ত অধিকারই হলো আল্লাহর। সে তো সব দিক দিয়েই আল্লাহর এক নগণ্য বান্দা, আর এরই দ্বারাই ঈমান ও তাওহীদ পূর্ণতা লাভ করে। আর এর বিপরীত মনোভাবে নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা স্বাব্যস্ত হয়। আত্মগর্ব ও আত্মাভিমানই সব থেকে বড় দোষ।