📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
অধ্যায় আল্লাহর বাণী,
يَعْرِفُوْنَ نَعْتَ اللهُ ثُمَّ يُنكِرُونَهَا ﴾ النحل : ٨٣
অর্থাৎ, “তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চিনে, এরপর অস্বীকার করে." (সূরা নাহলঃ ৮৩) এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে মুজাহিদ বলেন, তার তাৎপর্য হলো, কোন ব্যক্তির বলা, এটা তো আমার এমন সম্পদ, যা আমি বাপ-দাদাদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি।
আউন ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, এই আয়াত সেই ব্যক্তির প্রতিবাদে নাযিল হয়েছে, যে বলে, যদি অমুক না হতো, তাহলে এ রকম হতো না।
ইবনে কুতাইবা বলেন, এই আয়াত তাদের প্রতিবাদে যারা বলে, এসব আমাদের উপাস্যদের সুপারিশের ফল।
আবুল আব্বাস যায়েদ বিন খালিদের সেই হাদীস উল্লেখ করে বলেন, যাতে আছে যে, মহান আল্লাহ বলেন, 'আমার বান্দার কেউ কেউ আমার উপর ঈমান এনে এবং কেউ কেউ আমার সাথে কুফরী করে প্রভাত করেছে।' হাদীস পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। আর এই ধরনের কথা কুরআনে ও হাদীসে অনেক। আল্লাহ তাকে নিন্দা করেছেন, যে তাঁর নিয়ামতকে অন্যের সাথে সম্পর্কিত করে এবং তাঁর সাথে শরীক করে।
সলফে সালেহীনদের কেউ কেউ বলেছেন, ব্যাপারটা হলো এই রকম, যেমন লোকে বলে, বাতাস ভাল ও অনুকূল ছিলো এবং মাঝি-মাল্লাও অভিজ্ঞ ছিলো। এই ধরনের কথা-বার্তা, যা অনেকেই বলাবলি করে।
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. অনুগ্রহ সম্পর্কে অবগতির পর তা অস্বীকার করার ব্যাখ্যা। ২. জানা গেলো যে, অনেকেই এই ধরনের কথা বলাবলি করে। ৩. এই ধরনের কথা-বার্তাকে নিয়ামতের অস্বীকার নামে নামকরণ। ৪. পরস্পর বিরোধী দু'টি জিনিসের অন্তরে বিদ্যমান থাকা।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ কথা ও স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে নিয়ামতকে আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করা সৃষ্টির অপরিহার্য কর্তব্য। এর দ্বারাই তাওহীদ পূর্ণতা লাভ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি মৌখিক ও আন্তরিকভাবে আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করবে, সে কাফের গণ্য হবে। দ্বীনের কোন কিছুই তার কাছে থাকবে না। আর যে ব্যক্তি অন্তর থেকে স্বীকার করবে যে, সমস্ত নিয়ামত কেবলমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, কিন্তু সে মুখে কোন সময় নিজের দিকে, আবার কোন সময় অন্যের প্রচেষ্টার দিকে সম্পর্কিত করে, যেমন অনেক মানুষের মুখে বলাবলি হতে থাকে, এই ক্ষেত্রে এই ধরনের কথা-বার্তা থেকে তাওবা করা এবং নিয়ামতের সত্যিকার মালিক ব্যতীত অন্যের দিকে তা সম্পর্কিত না করা বান্দার উপর ওয়াজিব হবে। নিজেকে এইভাবেই গঠন করার প্রচেষ্টা করবে, কথা ও স্বীকারোক্তির দ্বারা যতক্ষণ না এই স্বীকৃতি দেওয়া হবে যে, সমস্ত নিয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকেই, ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান বাস্তব ঈমান বিবেচিত হবে না। কারণ, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, যা ঈমানের মেরুদণ্ড, তা তিনটি খুঁটির উপর প্রতিষ্ঠিত (১) তাঁর ও অন্যের উপর আল্লাহর যাবতীয় অনুগ্রহের আন্তরিক স্বীকৃতি। (২) নিয়ামতের প্রচার করা এবং এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা। (৩) নিয়ামত ও অনুগ্রহ দ্বারা অনুগ্রহকারীর অনুসরণ এবং তাঁর ইবাদত করার উপর সহযোগিতা কামনা করা। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
অধ্যায় আল্লাহর বাণী,
﴿فَلَا تَجْعَلُوا اللَّهِ أَنْدَاداً وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ﴾ (البقرة: ۲۲)
অর্থাৎ, "অতএব আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ বানিও না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জানো।” (সূরা বাক্বারাঃ ২২) ইবনে আব্বাস আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, 'আনদাদ' এমন শির্ক, যা অন্ধকার রাতে কালো পাথরের উপর চলমান পিপীলিকার চাল থেকেও সূক্ষ্ম, আর তা হলো, তোমার এই ধরনের কথা, আল্লাহর শপথ এবং তোমার জীবনের শপথ, অমুক ও আমার জীবনের কসম!
যদি ছোট কুকুরটা না থাকতো, তাহলে বাড়িতে চোর ঢুকে পড়তো। যদি বাড়িতে হাঁস না থাকতো, তবে চোর প্রবেশ করে যেতো। আর কারো তার সাথীকে বলা, আল্লাহ এবং তুমি না চাইলে, আবার কোন মানুষের এই কথা বলা যে, আল্লাহ এবং অমুক না থাকলে, অমুককে নিযুক্ত করো না। এই ধরনের সমস্ত কথা-বার্তা (ছোট) শির্কের আওতায় পড়ে।
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ : (( مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ كَفَرَ أَوْ أَشْرَكَ)) رواه الترمذي وحسنه وصححه الحاكم
অর্থাৎ, উমার বিন খাত্তাব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে শপথ গ্রহণ করলো, সে কুফরী করলো অথবা শির্ক করলো।” (ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদীসটিকে হাসান (ভাল) বলেছেন, ইমাম হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন,
ইবনে মাসউদ বলেন, আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ গ্রহণ করা আমার নিকট গায়রুল্লাহর নামে সত্য শপথ গ্রহণ করা থেকে বেশী প্রিয়।
عَنْ حُذَيْفَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: ((لَا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ فُلَانٌ، وَلَكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ فُلَانٌ)) رواه ابوداود بسند صحیح
অর্থাৎ, হুযাইফা নবী করীম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, "তোমরা বলবে না যে, আল্লাহ এবং অমুক ইচ্ছা করলে, বরং বলবে, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন, তাতঃপর অমুক যা ইচ্ছা করেছে” (ইমাম আবু দাউদ হাদীসটিকে সহী সনদে বর্ণনা করেছেন।)
ইবরাহীম নাখঈ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি 'আমি আল্লাহ এবং তোমার আশ্রয় কামনা করছি' এরূপ বলাকে অপছন্দ করতেন। তবে তিনি 'আমি আল্লাহর আশ্রয় কামনা করছি, অতঃপর তোমার' এইভাবে বলা জায়েয মনে করতেন। অনুরূপ তিনি বলতেন, 'আল্লাহ না থাকলে, অতঃপর অমুক' এইরূপ বলা বাঞ্ছনীয়। আর তোমরা এরূপ বলো না, আল্লাহ এবং অমুক না থাকলে।
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. সূরা বাক্বারার আয়াতে উল্লিখিত 'আনদাদ' শব্দের ব্যাখ্যা।
২. সাহাবায়ে কেরাম বড় শির্ক সম্পর্কে অবতীর্ণ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলতেন যে, তা ছোট শির্ককেও শামিল।
৩. গায়রুল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ (ছোট) শির্ক।
৪. গায়রুল্লাহর নামে সত্য কসম আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম থেকেও বড় گোনাহ।
৫. ভাষায় ব্যবহৃত 'তায়াও' (এবং) ও 'যুম্মা' (অতঃপর) এর মধ্যে পার্থক্য।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ
পূর্বের অধ্যায় আল্লাহর বাণী, "অনেক মানুষ এমনও রয়েছে, যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে." এর উদ্দেশ্য ছিলো, বড় শির্ক, অর্থাৎ, ইবাদত, ভালবাসা, ভয়-ভীতি এবং আশা করা ইত্যাদি ইবাদতসমূহে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করা। আর এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হলো, ছোট শির্ক, যেমন, কথার শির্ক, অর্থাৎ, যেমন গায়রুল্লাহর নামে কসম খাওয়া, কথার মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মধ্যে শরীক করা, যেমন বলা, যদি আল্লাহ এবং তামুক না হতো, আল্লাহ ও তোমার কসম করে বলছি, অনুরূপ কোন ঘটন-অঘটনকে গায়রুল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করে বলা, যদি পাহারাদার না থাকতো, চোর ঢুকে যেতো, অমুকের ঔষধ না হলে, মারা যেতো, অমুকের দোকানে যদি অমুক অভিজ্ঞ ব্যক্তি না থাকতো, তবে কিছুই অর্জিত হতো না। এই ধরনের যাবতীয় কথা-বার্তা তাওহীদ পরিপন্থী, কর্তব্য হলো, প্রত্যেক বিষয়কে, ঘটন-অঘটনকে এবং উপকারী মাধ্যমকে সর্ব প্রথম আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সম্পর্কিত করা। তবে এর সাথে সাথে মাধ্যমের উপকার ও তার বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করে বলতে পারে, যদি আল্লাহ না করতেন, অতঃপর এরকম না হলে। যাতে সে জেনে নেয় যে, সমস্ত মাধ্যমই আল্লাহর ফয়সালা এবং তাঁর নির্ধারিত ভাগ্যের সাথে আবদ্ধ, কাজেই বান্দার তাওহীদ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা লাভ করবে না, যতক্ষণ না সে বিশ্বাস এবং কথা ও কাজে আল্লাহর সাথে শির্ক করা ত্যাগ করবে।
📄 যে আল্লাহর নামে কসম করে পরিতৃপ্ত হয় না
যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে পরিতৃপ্ত হয় না
عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: ((لَا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ حَلَفَ بِاللَّهِ فَلْيَصْدُقُ، وَمَنْ حُلِفَ لَهُ بِاللهِ فَلْيَرْضَ، وَمَنْ لَمْ يَرْضَ بِاللَّهِ فَلَيْسَ مِنْ اللَّهِ )) رواه ابن ماجة بسند حسن
অর্থাৎ, ইবনে উমার থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন,
"তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদের নাম ধরে কসম করো না। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করে, তাকে সত্য মেনে নিতে হয়। আর যার জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হয়, তাকে সন্তুষ্ট হতে হয়। যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হয় না, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন সাফল্য আসে না।” (ইমাম ইবনে মাজাহ হাদীসটিকে উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. পিতৃপুরুষদের নাম ধরে কসম করা নিষেধ।
২. যার জন্য আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করা হয়, তাকে সন্তুষ্ট হওয়ার নির্দেশ।
৩. যে সন্তুষ্ট হয় না, তার শাস্তি।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ
এই অধ্যায়ের লক্ষ্য হলো, যখন তোমার প্রতিপক্ষকে শপথ গ্রহণের কথা বলা হয়, আর সে যদি সত্যবাদী বলে পরিচিত থাকে অথবা বাহ্যিক সে যদি ভাল ও ন্যায়পরায়ণ হয়, তাহলে তার শপথে সন্তুষ্ট হওয়া এবং তা মেনে নেওয়া তোমার উপর নির্দিষ্ট হয়ে যায়, কারণ, তোমার নিকট এমন কোন নিশ্চিত জিনিস নেই, যদ্বারা তুমি তার সত্যের বিরোধিতা করতে পারবে। আর মুসলিমরা যেহেতু তাদের প্রতিপালককে সম্মান ও মর্যাদা দান করে, তাই তোমার কর্তব্য আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করলে, তা মেনে নেওয়া। আর তুমি যদি প্রতিপক্ষের জন্য আল্লাহর কসম করো, কিন্তু সে তালাকের কসম, অথবা তার জন্য সাজার বদ্দুআ করা ছাড়া তা না মানে, তাহলে এটা উল্লিখিত শাস্তির অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, এটা আল্লাহর শানে অশিষ্ট ও অসম্মান গণ্য হবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধানকে ভুল প্রতিপন্ন করা হবে। তবে যে ব্যক্তি অশ্লীলতা এবং মিথ্যাচারে পরিচিত, সে যদি কোন এমন ব্যাপারে কসম খায়, যাতে তার মিথ্যা সুনিশ্চিত, সেই ক্ষেত্রে তার কসমকে মিথ্যা স্বাবস্ত্য করে তুমি যদি মেনে না নাও, তবে তা উল্লিখিত শাস্তির আওতায় পড়বে না। কেননা, তার মিথ্যা সম্পর্কে জানা গেছে, তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি সম্মান নামের কোন জিনিসই নেই যে, মানুষ তার কসমে সন্তুষ্টি হতে পারে। তাই পরিষ্কার যে, এটা উল্লিখিত শাস্তির বহির্ভূত জিনিস। কারণ, তার (মিথ্যার) ব্যাপারটা সুনিশ্চিত। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
📄 আল্লাহ এবং তোমার ইচ্ছা প্রসঙ্গে
আল্লাহর এবং তোমার ইচ্ছা-এই উক্তি প্রসঙ্গে
عَنْ قُتَيْلَةَ : أَنَّ يَهُودِيًا أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ: إِنَّكُمْ تُشْرِكُونَ تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، وَتَقُولُونَ: وَالْكَعْبَةِ، فَأَمَرَهُمْ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَرَادُوا أَنْ يَحْلِفُوا أَنْ يَقُولُوا: وَرَبِّ الْكَعْبَةِ وَأَن يَقُولُوا: مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ))
কুতাইলা থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ইয়াহুদী নবী করীম -এর নিকট এসে বললো, তোমরা তো শির্ক করো। তোমরা বলো, যা আল্লাহ এবং অমুক ইচ্ছা করে। আর তোমরা বলো, কা'বার কসম। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ লোকদের নির্দেশ দিলেন যে, "তোমরা যখন শপথ গ্রহণের ইচ্ছা করবে, তখন বলবে, কা'বার রবের কসম, আর বলবে, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, অতঃপর তঅমুক।” (ইমাম নাসায়ী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সহীহ বলেছেন।
وله أيضا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ ﷺ مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ : (( ( ( أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًا؟ بَلْ مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ ))
নাসায়ী শরীফে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহকে বললো, আল্লাহ এবং আপনি যা ইচ্ছা করেন। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ বললেন, “তুমি আমাকে তো আল্লাহর শরীক বানিয়ে দিলে? বরং কেবল আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন।”
ولابن ماجة، عَنْ طُفَيْلِ بْنِ أَخِي عَائِشَةَ لِأُمَّهَا، قَالَ: رَأَيْتُ كَأَنِّي أَتَيْتُ عَلَى نَفَرٍ مِنَ الْيَهُودِ، قلت: إِنَّكُمْ أَنْتُمْ الْقَوْمُ لَوْلَا أَنَّكُمْ تَزْعُمُونَ أَنَّ عُزَيْرًا ابْنُ اللَّهِ، قَالُوا: وَأَنْتُمْ الْقَوْمُ لَوْلَا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، ثُمَّ مَرَرْتُ بِنَفَرٍ مِنْ النَّصَارَى فَقُلْتُ: إِنَّكُمْ أَنْتُمْ الْقَوْمُ لَوْلَا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ، قَالُوا: وَإِنَّكُمْ أَنْتُمْ الْقَوْمُ لَوْلَا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ مَا شَاءَ اللَّهُ وَمَا شَاءَ مُحَمَّدٌ، فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَخْبَرْتُ بِهَا مَنْ أَخْبَرْتُ، ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ: (( هَلْ أَخْبَرْتَ بِهَا أَحَدًا ؟ )) قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ (( أَمَّا بعد، إِنَّ طُفَيْلًا رَأَى رُؤْيَا فَأَخْبَرَ بِهَا مَنْ أَخْبَرَ مِنْكُمْ، وَإِنَّكُمْ قُلْتُمْ كَلِمَةٌ كَانَ يَمْنُعُنِي كَذَا وَكَذَا أَنْ أَنْهَاكُمْ عَنْهَا، فَلَا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ وَمَا شَاءَ مُحَمَّدٌ، وَلَكِنْ قُولُوا: مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ))
অর্থাৎ, ইবনে মাজাহ শরীফে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)র বৈপিত্রীয় ভাই তুফাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি যেন ইয়াহুদীদের এক দলের নিকটে গেলাম। আমি তাদেরকে বললাম, তোমরা উত্তম জাতি, যদি তোমরা 'উযায়ের' আল্লাহর পুত্র, এই কথা না বলতে। তখন তারা বললো, তোমরাও উত্তম জাতি, যদি তোমরা আল্লাহ এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেন, এ কথা না বলতে। অতঃপর খ্রীষ্টানদের এক দলের নিকটে গেলাম। তাদেরকে বললাম, তোমরা উত্তম জাতি, যদি তোমরা মাসীহ আল্লাহর পুত্র, এ কথা না বলতে। তখন তারা বললো, তোমরাও উত্তম জাতি, যদি তোমরা আল্লাহ এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেন, এ কথা না বলতে। যখন সকালে উঠলাম, তখন এই খবর যাকে দিতে পারলাম, দিলাম। অতঃপর নবী করীম -এর নিকটে উপস্থিত হয়ে এই খবর দিলাম। তিনি বললেন, তুমি কি এই খবর কাউকে দিয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ. (তুফাইল) বলেন, অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর গুণকীর্তন করলেন। তারপর বললেন, কথা হচ্ছে, তুফাইল একটি স্বপ্ন দেখেছে, যার খবর তোমাদের মধ্যে যাকে সম্ভব হয়েছে দিয়েছে। তোমরা এমন কথা বলো, যা থেকে আমি তোমাদের নিষেধ করবো মনে করি, কিন্তু এই কারণে করতে পারি নি। কাজেই তোমরা এ কথা বলো না যে, আল্লাহ এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেন। বরং বলবে, কেবল আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন.'
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. ছোট শির্ক সম্পর্কে ইয়াহুদীদের অবগতি। ২. প্রবৃত্তির আবির্ভাবের সময় মানুষের বিচার-বিবেচনা করা উচিত।
৩. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী, “তোমরা কি আমাকে আল্লাহর শরীক স্থাপন করেছো?” তবে তার অবস্থা কি হতে পারে যে (নবী করীম ﷺ কে সম্বোধন ক'রে) বলে, হে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, আপনি ব্যতীত আমার কোন আশ্রয় নেই।
৪. এই ধরনের কথা-বার্তা বড় শির্কের আওতায় পড়ে না। কারণ, রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, "এই এই কারণে আমি মানা করতে পারি না."
৫. সত্য স্বপ্ন অহীর প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।
৬. সত্য স্বপ্ন কোন কোন শরীয়তী বিধানের কারণও হয়।