📄 হালাল-হারামের ব্যাপারে নেতাদের অনুগত করা
হালালকে হারাম এবং হারামকে হালাল ভাবার ব্যাপারে আলেমগণ ও নেতাদের আনুগত্য করলে, তাদেরকে রব্ব বানিয়ে নেওয়া হয়
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, সেই সময় অতি নিকটে, যে সময় তোমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করা হবে। আমি বলছি, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আর তোমরা বলছো, আবূ বাকার ও উমার বলেছেন,
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বাল বলেন, সেই জাতির ব্যাপার বড় আশ্চর্যজনক, যে জাতি হাদীসের সঠিক সূত্র ও তার বিশুদ্ধতা অবগতির পরও সুফিয়ান সাওরীর মতামত অবলম্বন করে, তঅথচ মহান আল্লাহ বলেন,
فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ﴾ [النور: ٦٣]
অর্থাৎ, "যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।” (সূরা নূরঃ ৬৩) ফিৎনা কি তা কি তোমরা জানো? ফিৎনা হলো শির্ক, হতে পারে রাসূলুল্লাহ-এর কোন কথাকে প্রত্যাখ্যান করার কারণে তার অন্তরে বিভ্রান্তিকর কোন কিছু উদয় হবে এবং তাতেই সে ধ্বংস হয়ে যাবে.
وَعَنْ عَدِيٌّ بنِ حَاتِمٍ : أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقْرَأُ هَذِهِ الْآيَةَ: ﴿ اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُحْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ الله ﴾ (التوبة: ٣١) فَقُلْتُ لَهُ أَنَّا لَسْنَا نَعْبُدُهُمْ، قَالَ: (( أَلَيْسَ يُحَرِّمُوْنَ مَا أَحَلَّ اللَّهُ فَتُحَرِّمُوْنَهُ، وَيُحَلَّوْنَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فَتُحِلُّوْنَهُ) فَقُلْتُ : بَلِي، قَالَ : (( فَتِلْكَ عِبَادَتُهُمْ)) رواه أحمد والترمذي وحسنه
অর্থাৎ, আদি ইবনে হাতিম থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ কে এই আয়াত পাঠ করতে শুনলেন, “তারা তাদের ধর্মের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদেরকে তাদের পালনকর্তা হিসাবে গ্রহণ করেছে।” (সূরা তাওবাঃ ৩১) তখন আমি বললাম, আমরা তো তাদের ইবাদত করি না। তখন তিনি বললেন, “তোমরা কি এ রকম করো না যে, যা আল্লাহ হালাল করেছেন, তা তারা হারাম করলে, তোমরাও তা হারাম মনে করো এবং যা আল্লাহ হারাম করেছেন, তা তারা হালাল করলে, তোমরাও তা হালাল মনে করো?” আমি বললাম, হ্যাঁ, এ রকম আমরা করি। তখন তিনি বললেন, “এটাই হলো তাদের ইবাদত করা।” (আহমদ ও তিরমিযী) ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান (ভাল) বলেছেন।
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. সূরা নূরের আয়াতের তাফসীর। ২. সূরা তাওবার আয়াতের তাফসীর। ৩. আদি ইবনে হাতিম ইবদতের যে অর্থকে তাস্বীকার করতেন, সে ব্যাপারে তাঁকে জ্ঞাত করানো। ৪. ইবনে আব্বাস, আবূ বাকার ও উমার-দের দৃষ্টান্ত এবং ইমাম আহমদের সুফিয়ান সাওরীর দৃষ্টান্ত পেশ করা। ৫. অবস্থার এইভাবে পরিবর্তন ঘটেছে যে, অধিকাংশ জনসাধারণের কাছে পন্ডিত-পুরোহিতদের পূজা করা সর্বোত্তম কাজ বিবেচিত হয়। এবং এটাকে 'বিলায়াত' নামে আখ্যায়িত করা হয়, আর পন্ডিতদের ইবাদত ইলম ও ফিক্বাহ বলে স্বীকৃত হয়, অতঃপর অবস্থার পরিবর্তন এই পর্যন্ত ঘটেছে যে, আল্লাহ ব্যতীত তার পূজাও আরম্ভ হয়ে গেছে, যে কোন পুণ্যবান ব্যক্তিদের আওতায় পড়ে না। এটাকে এইভাবেও বলা যায় যে, তারও ইবাদত শুরু হয়ে গেছে, যে কোন জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলো না, বরং একেবারে মুর্খ ছিলো।
📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, ﴿ أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ ﴾ [النساء : ٦٠] অর্থাৎ, “তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা দাবী করে যে, যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে সে বিষয়ের উপর তারা ঈমান এনেছে” (সূরা নিসাঃ ৬০)
লেখক যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তা পরিষ্কার যে, রব্ব এবং উপাস্য তিনিই, যিনি ভাগ্য সাম্পর্কীয় বিধান, শরীয়তী বিধান এবং শাস্তিদান সম্পর্কীয় বিধানের মালিক। উপাসনা ও ইবাদত কেবল তাঁরই করা দরকার তাঁর কোন শরীক নেই, তার কোন রকমের আবাধ্যতা না করে শুধু তাঁরই অনুসরণ করা কর্তব্য। তঅন্যের অনুকরণ ও অনুসরণ তাঁর অনুসরণের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত, কাজেই যখন বান্দা উলামা ও নেতাদেরকে এইভাবে গ্রহণ করবে যে, তাদের অনুসরণকে প্রকৃত অনুসরণ মনে করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণকে তাদের অনুসরণের পারিপার্শ্বিক ভাববে, তখন সে আল্লাহ ব্যতীত অন্যদেরকে রব্বরূপে গ্রহণকারী, তাদের সে উপাসনাকারী, তাদের নিকট থেকে বিচার-ফয়সালা গ্রহণকারী এবং তাদের বিচার-ফয়সালাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফয়সালার উপর প্রাধান্য দানকারী গণ্য হবে। আর এটাই হলো প্রকৃত কুফরী। সমস্ত ফয়সালার মালিক তো তিনিই। অনুরূপ সমস্ত ইবাদতের যোগ্যও তিনিই।
গায়রুল্লাহকে বিচারক হিসাবে গ্রহণ না করা এবং বিবাদীয় বিষয়কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরানো হলো প্রত্যেকের অপরিহার্য কর্তব্য। এরই মাধ্যমে বান্দার দ্বীনের সব কিছুই আল্লাহর জন্য নিবেদিত এবং তার তাওহীদ হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ব্যাপারে খাঁটি ও নির্মল। যে ব্যক্তিই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ফয়সালাকে গ্রহণ করবে না, সে তাগুতের ফয়সালা গ্রহণকারী গণ্য হবে। আর যদি সে নিজেকে মু’মিন ভাবে, তাহলে সে মিথ্যুক বিবেচিত হবে। সুতরাং ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত শুদ্ধ ও পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে এবং তার শাখা-প্রশাখায় ও যাবতীয় অধিকারে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মীমাংসকে গ্রহণ করা হবে। আর এটাকেই লেখক শেষ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। অতএব যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত অন্যের ফয়সালা গ্রহণ করলো, সে তাকে রব্ব বানিয়ে নিলো এবং সে তাগুতের ফয়সালাকে গ্রহণ করলো।
অধ্যায় আল্লাহর বাণী,
۞ أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَنْ يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَنْ يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا ﴾ [النساء: ٦٠]
অর্থাৎ, "তুমি কি তাদেরকে দেখো নি, যারা দাবী করে যে, যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, সে বিষয়ের উপর তারা ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তারা বিরোধী বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়." (সূরা নিসাঃ ৬০) তিনি আরো বলেন,
﴿وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ﴾ [البقرة: ١١]
অর্থাৎ, “আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করি.” (সূরা বাক্বারাঃ ১১) তিনি অন্যত্র বলেন,
﴿وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا﴾ [الأعراف: ৫৬]
অর্থাৎ, “পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না.” (সূরা আ'রাফঃ ৫৬) তিনি আরো বলেন,
﴿أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ﴾ (المائدة: ৫০)
অর্থাৎ, “তারা কি জাহেলিয়াত আমলের ফয়সালা কামনা করে?” (সূরা মায়েদাঃ ৫০)
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ: (( لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ هَوَاهُ تَبَعاً لِمَا جِئْتُ بِهِ)) قَالَ النَّووِي : حَدِيثُ صَحِيحٌ، رويناه في كتاب الحجة بإسناد صحيح.
অর্থাৎ, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মু'মিন হতে পারে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমার আনীত বিষয়ের অনুসারী হবে।” ইমাম নববী বলেন, হাদীসটি সহী, আমরা সহী সূত্রে ‘কিতাবুল হুজ্জাহ' নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছি।
ইমাম শা'বী বলেন, মুনাফেকদের একজন এবং ইয়াহুদীদের এক- জনের মধ্যে বিবাদ ছিলো। তাই ইয়াহুদী বললো, আমরা মুহাম্মদের নিকট থেকে ফয়সালা নিবো। কারণ সে, জানতো যে, তিনি ঘুষ গ্রহণ করেন না। আর মুনাফেক বললো, আমরা ইয়াহুদীর কাছ থেকে ফয়সালা নিবো। কারণ, সে জানতো যে, তারা ঘুষ গ্রহণ করে। অবশেষে উভয়েই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, তারা জোহাইনা গোত্রের কোন জ্যোতিষীর কাছ থেকে ফয়সালা নিবে। ফলে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়, ‘তুমি কি তাদেরকে দেখো না, যারা দাবী করে যে,’ (আয়াতের শেষ পর্যন্ত) আবার কেউ কেউ বলেছেন, এই আয়াত সেই দুই ব্যক্তির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়, যারা আপসে বিবাদে লিপ্ত ছিলো। তাদের একজন বললো, আমাদের বিষয় নবী করীম -এর নিকট পেশ করবো। অপরজন বললো, কা'ব ইবনে আশরাফের নিকট পেশ করবো। অতঃপর তারা বিষয়টি উমার -এর নিকটে পেশ করে, তাদের একজন উমারকে প্রকৃত ব্যাপার জানিয়ে দেয়। ফলে তিনি যে রাসূলের ফয়সালাতে সন্তুষ্ট নয়, তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ঘটনা কি সত্য? সে বলে, হ্যাঁ, তখন তিনি তাকে তরবারী দ্বারা হত্যা করেন।
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. সূরা নিসার আয়াতের তাফসীর এবং তাগুতের অর্থ বুঝার সাহায্যও তাতে আছে।
২. সূরা বাক্বারার আয়াতের তাফসীর।
৩. সূরা আ'রাফের আয়াতের তাফসীর।
৪. সূরা মায়েদার আয়াতের তাফসীর।
৫. প্রথম আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে ইমাম শা'বী যা বলেছেন।
৬. সত্য ও মিথ্যা ঈমানের ব্যাখ্যা।
৭. মুনাফেকের সাথে উমারের সংঘটিত ঘটনা।
৮. ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ ঈমান অর্জন করতে পারে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি রাসূলুল্লাহ-এর আনীত বিষয়ের অনুসারী হবে।
📄 আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর অস্বীকার করা
আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলীর কোন কিছুর যে অস্বীকার করবে
আল্লাহর বাণী, وَهُمْ يَكْفُرُونَ بالرَّحْمَن الرعد: ٣٠
অর্থাৎ, “তারা রহমানকে অস্বীকার করে।” (সূরা রা'দঃ ৩০) সহীহ বুখারীতে আছে আলী বলেন, ((মানুষকে তা-ই বলো, যা তারা বুঝো, তোমরা কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা স্বাব্যস্ত করতে চাও?)) আব্দুর রাযযাক মা'মার থেকে, তিনি তাউস হতে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল-এর নিকট আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কীয় একটি হাদীস শুনার সময় এক ব্যক্তিকে বিচলিত হতে দেখে বললেন, এই লোকগুলোর ভাগ করা কি রূপ? স্পষ্ট আয়াত-গুলো মেনে নেয়, আর অস্পষ্ট আয়াতের বেলায় তারা ধ্বংস হয়ে যায়? আর কুরাইশরা যখন আল্লাহর রাসূলকে 'রাহমান' উল্লেখ করতে দেখলো, তখন তারা তা অস্বীকার করলো, ফলে তাদের ব্যাপারে এই আয়াত অবতীর্ণ হলো, 'তারা রহমানকে অস্বীকার করে.'
কতিপয় মসলা জানা গেলো
১. আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলীর কোন কিছু অস্বীকার করলে ঈমান থাকে না.
২. সূরা রা'দের আয়াতের তফসীর.
৩. শ্রবণকারী বুঝে না এমন কথা বলা ত্যাগ করা.
৪. কারণ, এতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা স্বাব্যস্ত করা হয়.
৫. যে আল্লাহর গুণাবলীর কোন কিছু অস্বীকার করে, তার ব্যাপারে ইবনে আব্বাসের উক্তি, অস্বীকারই তাকে ধ্বংস করেছে,
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ
আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলীর উপরে ঈমান আনাই হলো প্রকৃত ঈমান ও তার মূল ভিত্তি. আর এই বিষয়ে বান্দার জ্ঞান ও ঈমান যত বলিষ্ঠ হবে এবং এরই ভিত্তিতে যখন সে আল্লাহর ইবাদত করবে, তখন তার তাওহীদও শক্তিশালী ও মজবুত হবে. যখন বান্দা এই অবগতি লাভ করবে যে, আল্লাহই পূর্ণ গুণাবলীর অধিকারী, তিনিই মাহাত্ম্য, গৌরব এবং সৌন্দর্যের মালিক এবং পূর্ণতায় তাঁর মত কেউ নেই, তখন এই অবগতি আল্লাহকেই একমাত্র সত্যিকার উপাস্য ভাবাকে এবং তিনি ব্যতীত অন্য ইলাহকে মিথ্যা মনে করাকে ও বাস্তবে তার রূপ দেওয়াকে তার উপর অপরিহার্য করবে, সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলীর কোন কিছু অস্বীকার করবে, সে তাওহীদ বিরোধী ও তাওহীদ পরিপন্থী কাজ সম্পাদনকারী বিবেচিত হবে। আর এটাই হলো কুফরী পর্যায়ের জিনিস।
📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী
অধ্যায় আল্লাহর বাণী,
يَعْرِفُوْنَ نَعْتَ اللهُ ثُمَّ يُنكِرُونَهَا ﴾ النحل : ٨٣
অর্থাৎ, “তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চিনে, এরপর অস্বীকার করে." (সূরা নাহলঃ ৮৩) এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে মুজাহিদ বলেন, তার তাৎপর্য হলো, কোন ব্যক্তির বলা, এটা তো আমার এমন সম্পদ, যা আমি বাপ-দাদাদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি।
আউন ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, এই আয়াত সেই ব্যক্তির প্রতিবাদে নাযিল হয়েছে, যে বলে, যদি অমুক না হতো, তাহলে এ রকম হতো না।
ইবনে কুতাইবা বলেন, এই আয়াত তাদের প্রতিবাদে যারা বলে, এসব আমাদের উপাস্যদের সুপারিশের ফল।
আবুল আব্বাস যায়েদ বিন খালিদের সেই হাদীস উল্লেখ করে বলেন, যাতে আছে যে, মহান আল্লাহ বলেন, 'আমার বান্দার কেউ কেউ আমার উপর ঈমান এনে এবং কেউ কেউ আমার সাথে কুফরী করে প্রভাত করেছে।' হাদীস পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। আর এই ধরনের কথা কুরআনে ও হাদীসে অনেক। আল্লাহ তাকে নিন্দা করেছেন, যে তাঁর নিয়ামতকে অন্যের সাথে সম্পর্কিত করে এবং তাঁর সাথে শরীক করে।
সলফে সালেহীনদের কেউ কেউ বলেছেন, ব্যাপারটা হলো এই রকম, যেমন লোকে বলে, বাতাস ভাল ও অনুকূল ছিলো এবং মাঝি-মাল্লাও অভিজ্ঞ ছিলো। এই ধরনের কথা-বার্তা, যা অনেকেই বলাবলি করে।
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. অনুগ্রহ সম্পর্কে অবগতির পর তা অস্বীকার করার ব্যাখ্যা। ২. জানা গেলো যে, অনেকেই এই ধরনের কথা বলাবলি করে। ৩. এই ধরনের কথা-বার্তাকে নিয়ামতের অস্বীকার নামে নামকরণ। ৪. পরস্পর বিরোধী দু'টি জিনিসের অন্তরে বিদ্যমান থাকা।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ কথা ও স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রে নিয়ামতকে আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করা সৃষ্টির অপরিহার্য কর্তব্য। এর দ্বারাই তাওহীদ পূর্ণতা লাভ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি মৌখিক ও আন্তরিকভাবে আল্লাহর নিয়ামতকে অস্বীকার করবে, সে কাফের গণ্য হবে। দ্বীনের কোন কিছুই তার কাছে থাকবে না। আর যে ব্যক্তি অন্তর থেকে স্বীকার করবে যে, সমস্ত নিয়ামত কেবলমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, কিন্তু সে মুখে কোন সময় নিজের দিকে, আবার কোন সময় অন্যের প্রচেষ্টার দিকে সম্পর্কিত করে, যেমন অনেক মানুষের মুখে বলাবলি হতে থাকে, এই ক্ষেত্রে এই ধরনের কথা-বার্তা থেকে তাওবা করা এবং নিয়ামতের সত্যিকার মালিক ব্যতীত অন্যের দিকে তা সম্পর্কিত না করা বান্দার উপর ওয়াজিব হবে। নিজেকে এইভাবেই গঠন করার প্রচেষ্টা করবে, কথা ও স্বীকারোক্তির দ্বারা যতক্ষণ না এই স্বীকৃতি দেওয়া হবে যে, সমস্ত নিয়ামত আল্লাহর পক্ষ থেকেই, ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান বাস্তব ঈমান বিবেচিত হবে না। কারণ, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, যা ঈমানের মেরুদণ্ড, তা তিনটি খুঁটির উপর প্রতিষ্ঠিত (১) তাঁর ও অন্যের উপর আল্লাহর যাবতীয় অনুগ্রহের আন্তরিক স্বীকৃতি। (২) নিয়ামতের প্রচার করা এবং এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা। (৩) নিয়ামত ও অনুগ্রহ দ্বারা অনুগ্রহকারীর অনুসরণ এবং তাঁর ইবাদত করার উপর সহযোগিতা কামনা করা। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।