📄 গণৎকার প্রসঙ্গে
গণৎকার ইত্যাদি প্রসঙ্গে
روى مسلم في صحيحه عَنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ ﷺ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ يَوْمًا))
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে নবী করীম -এর কোন কোন স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "যে ব্যক্তি গায়েব জানার দাবীদারের নিকট এসে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করবে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায গৃহীত হবে না।"
(( مَنْ أَتَى كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ )) رواه أبو داود
আবূ হুরাইরা নবী করীম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি গণকের নিকট এসে তার কথার সত্যায়ন করলো, সে ঐ জিনিসের অস্বীকার করলো, যা মুহাম্মাদ-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে।” (আবূ দাউদ)
وللأربعة والحاكم، وقال: صحيح على شرطهما، عن أبي هريرة، ((مَنْ أَتَى عَرَّافاً أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ ))
সুনানে আরবা' ও হাকিমেও এই হাদীস বর্ণিত হয়েছে, ইমাম হাকিম বলেন, এই হাদীস বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মুতাবেক, আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, "যে ব্যক্তি গায়েব জানার দাবীদারের নিকট অথবা গণকের নিকট এসে তার কথার সত্যায়ন করলো, সে ঐ জিনিসের তাস্বীকার করলো, যা মুহাম্মাদ -এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে” আবূ ইয়া'লা ভাল সনদে ইবনে মাসউদ থেকে মাওকুফ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ مَرْفُوْعاً : (( لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَطَيَّرَ أَوْ تُطَيِّرَ لَهُ، أَوْ تَكَهَّنَ أَوْ تُكَهَّنَ لَهُ، أَوْ سَحَرَ أَوْ سُحِرَ لَهُ ، وَمَنْ أَتَى كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ ))
ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে মার্ক' সূত্রে বর্ণিত যে, (রাসূলুল্লাহ বলেছেন,) “সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে পাখী তাড়া ক'রে ভাগ্য নির্ণয় করে অথবা যার জন্য পাখী তাড়ানো হয় কিংবা যে গণক হয় বা যার জন্য গণনা করা হয় অথবা যে যাদু করে কিংবা যার জন্য যাদু করা হয়। আর যে গণকের নিকট এসে তার কথার সত্যায়ন করে, সে ঐ জিনিসের অস্বীকার করে, যা মুহাম্মাদ-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে.” (বাযযার)
ইমাম বাগবী বলেন, 'আররাফ' হলো ঐ ব্যক্তি, যে দাবী করে যে, সে বিশেষ নিয়মের মাধ্যমে অনেক কিছুই তাবহিত আছে, চোরাই মাল ও তার স্থান সম্পর্কেও সে বলতে পারে। আবার কেউ কেউ বলে 'আররাফ' হলো 'কাহেন' এর তাপর নাম. আর কাহেন হলো ঐ ব্যক্তি, যে ভবিষ্যৎ জ্ঞানের দাবী করে। আবার কেউ কেউ বলে, 'কাহেন' হলো ঐ ব্যক্তি, যে অন্তরের খবর বলে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা বলেন, 'আররাফ' হলো, গণৎকার, জ্যোতিষী এবং রাম্মাল ইত্যাদির তাপর নাম, যারা নিজেদের বিশেষ নিয়মের ভিত্তিতে অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করে. আর যারা 'আবযাদ' অক্ষরগুলো লিখে তারার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে কোন কিছুর দাবী করে, তাদের সম্পর্কে ইবনে আব্বাস বলেন, আমি মনে করি যারা এরূপ করে, তাদের আখেরাতে কোন অংশ নেই।
যে বিষয়গুলো জানা গেলো ১. কুরআনের প্রতি বিশ্বাস, আর গণকের কথার সত্যায়ন, এই জিনিস দু'টি একত্রে জমা হতে পারে না। ২. গণৎকারের কথার সত্যায়ন করা হলো কুফরী কাজ। ৩. যার জন্য ভাগ্য গণনা করা হয়, তার উল্লেখ। ৪. পাখী তাড়িয়ে যার জন্য ভাগ্য পরীক্ষা করা হয়, তার উল্লেখ। ৫. যার জন্য যাদু করা হয়, তার উল্লেখ। ৬. 'আবজাদ' অক্ষরগুলো যে শিখে, তার উল্লেখ। ৭. 'কাহেন' ও 'আররাফ' এর মধ্যে পার্থক্য কি তার উল্লেখ।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ- এই অধ্যায় হলো গণৎকার ইত্যাদি প্রসঙ্গে, অর্থাৎ, যারা বিভিন্ন কলাকৌশলের মাধ্যমে অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করে, তাদের প্রসঙ্গে। গায়েবের ইল্ম এক ও এককভাবে কেবল মহান আল্লাহই রাখেন। কাজেই যে ব্যক্তি গণনা ও ভবিষ্যদ্বাণী করে অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করবে অথবা যে দাবী করে, তার সত্যায়ন করবে, সে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে অন্যকে অংশীদার স্থাপনকারী বিবেচিত হবে এবং আল্লাহর ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যুক সাব্যস্তকারী গণ্য হবে। গণনা সংক্রান্ত বহু শয়তানী কার্যকলাপ না তো শির্ক থেকে মুক্ত, আর না এমন মাধ্যম অবলম্বন করা থেকে মুক্ত, যদ্দ্বারা অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করার উপর সাহায্য গ্রহণ করা হয়, অতএব তা আল্লাহর জন্য।
নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে শরীক হওয়ার দাবী করার কারণে এবং গায়রুল্লাহর নৈকট্য কামনা করার কারণে শির্ক গণ্য হবে। আল্লাহ সৃষ্টিকে এখানে এমন কুসংস্কার থেকে দূরে রেখেছেন, যা তার দ্বীন ও বুদ্ধিকে নষ্ট করে দেয়।
📄 যাদুর প্রতিরোধ যাদু প্রসঙ্গে
যাদুর প্রতিরোধ যাদু প্রসঙ্গে
عَنْ جَابِرٍ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ سُئِلَ عَنِ النَّشْرَةِ: فَقَالَ: ((هِيَ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ)) رَوَاهُ أَحْمَدُ بِسَنَدٍ جَيْدٍ، وَأَبُوْدَاودَ. وَقَالَ: سُئِلَ أَحْمَدُ عَنْهَا ؟ فَقَالَ: ابْنُ مَسْعُودٍ يَكْرَهُ هَذَا كُلَّهُ
জাবির থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কে যাদু প্রতিরোধ যাদু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, “তা হলো শয়তানের কাজ।” (আহমদ ও আবূ দাউদ) ইমাম আবূ দাউদ বলেন, ইমাম আহমদকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, ইবনে মাসউদ এসবই অপছন্দ করেন।
বুখারী শরীফে ক্বাতাদাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি ইবনে মুসাইয়িবকে জিজ্ঞাসা করলাম, এক ব্যক্তির রোগ হয়েছে, অথবা তাকে তার স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, এই অবস্থায় তার জন্য দুআ-তাবীয অথবা যাদু প্রতিরোধক যাদু করা যায় কি না? তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই, কারণ, তারা এর দ্বারা সংশোধন করতে চায়, যা লাভজনক তা নিষিদ্ধ নয়।
হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাদুকর ব্যতীত যাদুকে কেউ হালাল মনে করে না।
ইবনুল কাইয়ুম বলেন, যাদুকৃত ব্যক্তি হতে যাদুর প্রভাব দূর করার জন্য যে যাদু প্রয়োগ করা হয়, তাকে 'নাশরা' বলে। আর এটা দু'প্রকারের। (১) যাদুর দ্বারা যাদু দূর করা। এটাই হলো শয়তানের কাজ। আর এটাই হলো ইমাম হাসানের বক্তব্যের অর্থ, যাদু প্রতিরোধক যাদু প্রয়োগকারী এবং যাকে যাদু করা হয়েছে উভয়েই শয়তানের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এমন কাজ করে, যাতে শয়তান খুশী হয়ে যাদুকৃত ব্যক্তি থেকে তার যাদু উঠিয়ে নেয়। (২) ঝাড়-ফুঁক এবং বৈধ ঔষধ ও দুআ দ্বারা যাদু দূর করা, এটা জায়েয।
যে বিষয় জানা গেলো ১. যাদুর দ্বারা যাদু দূর করা নিষেধ। ২. যাদুর প্রভাব দূর করার জন্য বৈধ ও তঅবৈধ উভয় তরীকার উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। 'আন্নাশরাঃ) এর অর্থ হলো, যাদুকৃত ব্যক্তি থেকে যাদুর প্রতিক্রিয়া দূর করা। লেখক এ ব্যাপারে ইমাম ইবনুল কায়্যুমের উক্তির বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, তাতে জায়েয ও নাজায়েয উভয় তরীকার উল্লেখ করেছেন, আর এটাই যথেষ্ট।
📄 অলক্ষুণী ও কুলক্ষণ প্রসঙ্গে
অলক্ষ্মী-কুলক্ষণ প্রসঙ্গে
মহান আল্লাহ বলেন
أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِنْدَ اللهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ﴾ [الأعراف: ١٣١]
অর্থাৎ, “শুনে রাখো, তাদের তালক্ষণ যে, আল্লাহরই এলেমে রয়েছে, অথচ এদের অনেকেই জানে না।” (সূরা আ'রাফঃ ১৩১) তিনি আরো বলেন,
﴿قَالُوا طَائِرُكُمْ مَعَكُمْ ﴾ يس : ১৯
অর্থাৎ, “রাসূলগণ বললেন, তোমাদের অকল্যাণ তোমাদের সাথেই.” (সূরা ইয়াসীনঃ ১৯)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ه أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ: (( لَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةً وَلَا هَامَةَ وَلَا صَفَرَ )) أخرجاه
অর্থাৎ, আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "সংক্রামক ব্যাধি, অলক্ষণ-কুলক্ষ্মী, পেঁচার কোন কুপ্রভাব এবং উদরাময়ের আশঙ্কার কোন কারণ নেই.” (বুখারী-মুসলিম) Imam মুসলিম একটু বাড়িয়ে বলেছেন যে, তারকার প্রভাবে বৃষ্টি হয় না এবং ভূত-প্রেত বলতে কিছুই নেই."
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ: ((لَا عَدْوَى، وَلَا طِيَرَةَ، وَيُعْجِبُنِي الْفَالُ، قَالُوا: وَمَا الْفَالُ؟ قَالَ: ((كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌ))
অর্থাৎ, বুখারী-মুসলিমে আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "সংক্রামক কোন ব্যাধি এবং তালক্ষণ- কুলক্ষ্মী বলতে কিছুই নেই, তবে 'ফাল' আমাকে ভাল লাগে." সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, 'ফাল' কি? তিনি বললেন, "উত্তম বাক্য."
ولأبي داود بسند صحيح، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: ذُكِرَتْ الطَّيَرَةُ عِنْدَ النَّبِيِّ فَقَالَ : أَحْسَنُهَا الْفَالُ، وَلَا تَرُدُّ مُسْلِمًا ، فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ، فَلْيَقُلْ : اللَّهُمَّ لَا يَأْتِي بِالْحَسَنَاتِ إِلَّا أَنْتَ، وَلَا يَدْفَعُ السَّيِّئَاتِ إِلَّا أَنْتَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِكَ))
অর্থাৎ, ইমাম আবূ দাউদ সহী সনদে উকবা ইবনে আমের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-এর নিকটে অলক্ষণ-কুলক্ষ্মীর উল্লেখ করলে, তিনি বলেন, "তার মধ্যে উত্তম হলো, 'ফাল' বা ভাল আশা করা। অলক্ষণ-কুলক্ষ্মী কোন মুসলিমকে তার কাজ থেকে ফিরাতে পারে না। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অপছন্দনীয় কোন কিছু দেখে, তাহলে সে যেন বলে, 'আল্লাহুম্মা লা ইয়াতী বিল হাসানা-তি ইল্লা- আন্তা অলা-ইয়াদফাউস সাইয়ে আতি ইল্লা- আন্তা অলা- হাউলা অলা-কুওয়াতা ইল্লা- বিকা' (হে আল্লাহ তুমি ছাড়া কেউ কল্যাণ বয়ে আনে না। তুমি ব্যতীত কেউ অকল্যাণ দূর করতে পারে না। তুমি ছাড়া ভাল কাজ করার এবং মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার শক্তিও কারো নেই)।
وَلَهُ مِنْ حَدِيْثِ بْنِ مَسْعُودٍ مَرْفُوْعاً : ((الطَّيَرَةُ شِرْكُ الطَّيَرَةُ شِرْكٌ، وَمَا مِنَّا إِلَّا ... وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكَّلِ))
অর্থাৎ, আবূ দাউদেই ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, অলক্ষণ-কুলক্ষ্মী মনে করা শির্ক, অলক্ষণ-কুলক্ষ্মী মনে করা শির্ক। এই রকম মনে করা আমাদের আক্বীদা নয়। এ রকম কারো মনে উদয় হলে, সে যেন আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ ভরসা করে। এই পূর্ণ আস্থার মাধ্যমে আল্লাহা তার সব দুর্ভাবনা দূর করে দিবেন।
ولأحمد من حديث ابن عمر ) ( مَنْ رَدَّتْهُ الطَّيَرَةُ مِنْ حَاجَةٍ فَقَدْ أَشْرَكَ)) قَالُوا يَا رَسُولَ الله ! مَا كَفَّارَةُ ذَلِكَ ؟ قَالَ : ( أَنْ يَقُولَ: ((اللَّهُمَّ لَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ، وَلَا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ))
অর্থাৎ, ইমাম আহমদ ইবনে উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যাকে তার অলক্ষণ-কুলক্ষ্মী ভাবা কোন কাজ থেকে ফিরিয়ে দিলো, সে শির্ক করলো। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তার কাফফারা কি হবে? রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, "সে বলবে, 'আল্লা-হুম্মা লা- খায়রা ইল্লা- খায়রুক, অলা ত্বায়রা ইল্লা- ত্বায়রুক, অলা-ইলাহা গায়রুক' (অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তোমার পক্ষ থেকে কল্যাণ ব্যতীত আর কোন কল্যাণ নেই, তোমার পক্ষ থেকে দুর্ভাগ্য ব্যতীত আর কোন দুর্ভাগ্য নেই এবং তুমি ছাড়া সত্যিকার কোন উপাস্য নেই).
وله من حديث الفضل بن العباس : (( إِنَّمَا الطَّيَرَةُ مَا أَمْضَاكَ أَوْ رَدَّكَ))
অর্থাৎ, ফাল ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "অলক্ষণ-কুলক্ষ্মী হলো, যা তোমাকে কোন কাজ করতে বাধ্য করে অথবা কোন কাজ থেকে ফিরিয়ে দেয়।"
যে বিষয়গুলো জানা গেলো ১. উল্লিখিত সূরা আ'রাফ ও সূরা ইয়াসীনের আয়াত দু'টির উপর সতর্কতা প্রদর্শন, ২. সংক্রামক ব্যাধির অস্বীকৃতি ৩. অলক্ষ্মী-কুলক্ষ্ণের তাস্বীকৃতি,
৪. পেঁচার ডাককে অলক্ষ্মণ মনে করার অস্বীকৃতি।
৫. উদরাময়ের আশঙ্কার অস্বীকৃতি।
৬. ভাল আশা করা মুস্তাহাব জিনিস।
৭. 'ফাল' এর তাফসীর।
৮. অলক্ষ্মী-কুলক্ষ্মণ না ভাবা সত্ত্বেও যদি অন্তরে এই ধরনের খেয়াল জেগে উঠে, তাতে কোন ক্ষতি নেই, বরং আল্লাহর উপর ভরসা ও আস্থার দরুণ তা দূর হয়ে যায়।
৯. যদি কারো অন্তরে অলক্ষ্মীর খেয়াল চলে আসে, তাহলে সে যেন অধ্যায়ে উল্লিখিত দুআ পড়ে নেয়।
১০. এ কথা পরিষ্কার যে, অলক্ষ্মী মনে করা শির্ক।
১১. নিন্দনীয় অলক্ষ্মীর ব্যাখ্যা।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ অলক্ষ্মী বা কুলক্ষ্মণ মনে করার অর্থ হলো, পাখী, নাম, কথা-বার্তা এবং পবিত্র কোন স্থান ইত্যাদির মাধ্যমে শুভাশুভ নির্ণয় করা। শরীয়ত প্রণেতা এটা নিষেধ বলে ঘোষণা দিয়েছেন এবং এরকম ধারণা যারা পোষণ করে, তাদের নিন্দা করেছেন। তবে শুভ কামনা পছন্দনীয়, পক্ষান্তরে অলক্ষ্মী-কুলক্ষ্মণ মনে করা অপছন্দনীয়। আর এই দু'টির মধ্যে পার্থক্য হলো, ভালোর আশা করা মানুষের আক্বীদার সাথে সম্পর্কিত নয় এবং এতে গায়রুল্লাহর সাথে আন্তরিক কোন আস্থাও রাখা হয় না। বরং এতে কেবল উদ্দেশ্য হয়, আনন্দ ও সন্তোষ অর্জন এবং উপকারী জিনিস অর্জনের উপর আন্তরিক বলিষ্ঠতা, এর পদ্ধতি হলো, কোন বান্দা সফরে যাওয়ার অথবা বিবাহ করার কিংবা কোন চুক্তি করার বা গুরুত্বপূর্ণ কোন পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করলো। অতঃপর সে এ ব্যাপারে এমন কিছু দেখলো, যা তাকে আনন্দ দেয় বা এমন কথা-বার্তা শুনলো, যা তাকে তৃপ্তি দেয়। ফলে তার মনে ভাল আশার জন্ম হলো এবং যে কাজের সে পরিকল্পনা করেছিলো, তা সম্পাদন করার প্রতি তার উদ্যম আরো বেড়ে গেলো। এ সবই ভাল এবং এর পরিণামই উত্তম।
এতে নিষেধ বলতে কোন কিছু নেই, আর অলক্ষ্মী বা কুলক্ষ্মণ হলো এই যে, কোন বান্দা দ্বীন অথবা দুনিয়ার লাভদায়ক কার্যকলাপের কোন কিছু করার পরিকল্পনা করলো, অতঃপর সে অপছন্দনীয় এমন কিছু দেখলো বা শুনলো, যাতে তার অন্তরে দু'টি জিনিসের কোন একটির প্রভাব পড়লো, যার একটি অন্যটির থেকে ভয়াবহ,
১. হয় সে এই অপছন্দনীয় কোন কিছু দেখার বা শুনার কারণে কৃত পরিকল্পনা ত্যাগ করবে, অর্থাৎ, এটাকে অশুভ মনে করে সেই কাজ করা থেকে সে ফিরে আসবে, যা করার সে পরিকল্পনা করেছিলো। এই ক্ষেত্রে সে তার অন্তরকে এই অপছন্দনীয় জিনিসের সাথে দারুনভাবে জড়িতকারী ও সেই অনুযায়ী আমলকারী বিবেচিত হবে। কারণ, এই জিনিসই তাকে তার ইচ্ছা-ইরাদা এবং কাজ থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে, সুতরাং এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এতে তার ঈমানের উপর প্রভাব পড়বে এবং তার তাওহীদ ও আল্লাহর উপর আস্থা হ্রাস পাবে। অতঃপর এই জিনিসই তার অন্তরকে দুর্বল ও শক্তিহীন করে দিবে। তার অন্তরে সৃষ্টির ভয় ভরে দেবে। তাকে এমন মাধ্যম ও উপকরণের উপর আস্থাশীল বানাবে, যা মাধ্যম ও উপকরণই নয় এবং তার অন্তরকে আল্লাহ থেকে ছিন্ন করে দিবে।
আর এটাই হলো, তাওহীদের দুর্বলতা, শির্ক ও তার মাধ্যম এবং বুদ্ধি ও বিবেক বিনষ্টকারী কুসংস্কারের প্রবেশ পথ।
২. আর না হয় সে অপছন্দনীয় কোন কিছু দেখে বা শুনে তার পরিকল্পনা ত্যাগ করবে না। কিন্তু মনে দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনা এবং বিষাদ রয়ে যাবে। এটা যদিও প্রথমটার মত নয়, তবুও এতে বান্দার জন্য ক্ষতি ও অনিষ্ট রয়েছে, আর এটাও বান্দার অন্তরকে দুর্বল করে এবং আল্লাহর প্রতি তার আস্থাকে কমজুরী করে। তাছাড়া কোন অপছন্দ-নীয় জিনিসের সম্মুখীন হলে ভাবতে পারে যে, এটা ঐ কারণেই হয়েছে, ফলে তার অলক্ষ্মী বা কুলক্ষণ মনে করার মধ্যে বলিষ্ঠতা আসবে এবং ধীরে ধীরে সে প্রথমটার মধ্যে প্রবেশ করে যাবে (অর্থাৎ, কৃত পরিকল্পনা ত্যাগ করবে।)
উক্ত আলোচনার দ্বারা এ কথা পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, শরীয়ত প্রণেতার অলক্ষ্মী বা কুলক্ষণ মনে করাকে অপছন্দ করার ও তার নিন্দা করার কারণ কি এবং এটা তাওহীদ ও আল্লাহর উপর ভরসার পরিপন্থী কেন। যে ব্যক্তি তার অন্তরে এই ধরনের কোন কিছু অনুভব করে, তার উচিত অন্তর থেকে তা দূর করার প্রচেষ্টা করা এবং এর জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা করা। আর অনুভূত অনিষ্টকে দূর করার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করা।
📄 জ্যোতিষ বিদ্যা প্রসঙ্গে
জ্যোতিষ বিদ্যা প্রসঙ্গে
ইমাম বুখারী (রহঃ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ক্বাতাদাহ বলেন, মহান আল্লাহ এই তারাগুলো তিনটি উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, যথা, (১) আসমানের শোভা। (২) শয়তানকে মেরে তাড়ানোর অস্ত্র (৩) পথিকদের পথ নির্দেশনের মাধ্যম, এই তিনটি উদ্দেশ্য ব্যতীত কেউ যদি অন্য কোন উদ্দেশ্য স্থির করে, তাহলে সে ভুল করবে, নিজের অংশ হারাবে এবং এমন বিষয় নিজের উপর চাপিয়ে নিবে, যার সে জ্ঞান রাখে না।
ক্বাতাদাহ (রহঃ) চাঁদের কক্ষপথগুলোর জ্ঞানার্জন অপছন্দ করেন, ইবনে উয়ায়নাও এই জ্ঞানের অনুমতি দেন নাই, হাব উভয়ের পক্ষ থেকে এ কথার উল্লেখ করেছেন, তবে ইমাম আহমদ এবং ইসহাক এই জ্ঞানার্জনের অনুমতি দিয়েছেন।
عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ : قَالَ النَّبِيَّ ﷺ: ((ثَلَاثَةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ: مُدْمِنُ خَمْرٍ، وَقَاطِعُ رَحِمٍ، وَمُصَدِّقُ بِالسِّحْرِ)) رواه أحمد و ابن حبان في صحيحه
আবূ মূসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না. সর্বদা মদপানকারী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এবং যাদুর সত্যায়নকারী.” (আহমদ ও ইবনে হিব্বান) (এখানে যাদু বলতে জ্যোতিষ বিদ্যা বুঝানো হয়েছে)
যে বিষয়গুলো জানা গেলো ১. তারকা সৃষ্টির উদ্দেশ্য, ২. উল্লিখিত উদ্দেশ্য ব্যতীত যে অন্য কিছু মনে করে, তার খন্ডন করণ। ৩. চাঁদের কক্ষপথের জ্ঞানার্জনের ব্যাপারে মতভেদের উল্লেখ ৪. জ্যোতিষ বিদ্যার সত্যায়নকারীর কঠিন শাস্তি, যদিও সে মনে করে যে এটা বাতিল।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ জ্যোতিষ বিদ্যা দু'প্রকারের, যথা,
১. ফলিতজ্যোতিষ (Astrology). অর্থাৎ, গ্রহনক্ষত্রাদির অবস্থান নির্ণয়পূর্বক মানুষের ভবিষ্যৎ শুভাশুভ বিচার বিদ্যা। এটা বাতিল ও অবৈধ, কারণ, এতে সেই অদৃশ্য জ্ঞানে আল্লাহর শরীক হওয়ার দাবী করা হয়, যা কেবল তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট অথবা যে এই জ্ঞানের দাবী করে, তার সত্যায়ন করা হয়, কাজেই এই বাতিল দাবী এবং গায়রুল্লাহর উপর আন্তরিক আস্থা রাখার কারণে এটা তাওহীদ পরিপন্থী ও বুদ্ধিহীনকারী জিনিস, কেননা, যাবতীয় বাতিল তরীকা-পদ্ধতি ও তার সত্যায়ন করা হলো জ্ঞান ও দ্বীন বিনষ্টকারী জিনিস।
২. গ্রহনক্ষত্রাদি-সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানশাস্ত্র (Astronomy). অর্থাৎ, সূর্য, চন্দ্র এবং তারকারাজির অবস্থান নির্ণয়পূর্বক ক্বেবলা, সময় এবং দিক নির্ণয় করা। এটা কোন দোষের জিনিস নয়, বরং যদি তা ইবাদতের সময় জানার অথবা দিক নির্ণয়ের মাধ্যম হয়, তাহলে এই ধরনের বহু উপকারী জ্ঞানার্জনের উপর শরীয়ত উদ্বুদ্ধ করেছে, সুতরাং এই উভয় বিদ্যার মধ্যে কোন্টা বৈধ ও কোন্টা অবৈধ, তার পার্থক্য সুচিত করা ওয়াজিব, প্রথম বিদ্যাটা হলো তাওহীদ পরিপন্থী পক্ষান্তরে দ্বিতীয়টা তাওহীদ পরিপন্থী নয়।