📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 যাদু প্রসঙ্গে

📄 যাদু প্রসঙ্গে


যাদু প্রসঙ্গে
মহান আল্লাহ বলেন, وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ﴾ [البقرة: ١٠٢]
অর্থাৎ, “তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ যাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই।” (সূরা বাক্বারাঃ ১০২) তিনি আরো বলেন,
يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ ﴾ (النساء: ٥٠)
অর্থাৎ, “তারা প্রতিমা ও শয়তানের উপর আস্থা রাখে।” (সূরা নিসাঃ ৫১)
উমার বলেন, 'জিবত' বলতে যাদু বুঝায়, আর 'তাগুত' বলতে শয়তান বুঝায়।
জাবির বলেন, 'তাওয়াগীত' বলতে ঐ সব গণৎকার, যাদের উপর শয়তান অবতরণ করে থাকে, প্রত্যেক গোত্রে একজন করে থাকে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ﷺ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ: ((اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ، قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ، وَمَا هُنَّ ؟ قَالَ : الشَّرْكُ بِاللهِ، وَالسِّحْرُ، وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ، وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ ))
অর্থাৎ, আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "সাতটি ধ্বংসকারী জিনিস থেকে বাঁচো." সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কি কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শির্ক করা, যাদু, কোন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, যা আল্লাহ হারাম করেছেন, সূদ খাওয়া, ইয়াতীমের মাল ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সাদাসিধা ও সতী মু'মিন মহিলার উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।” (বুখারী-মুসলিম)
عَنْ جُنْدُبٍ مَرْفُوعاً: (( حَدُّ السَّاحِرِ ضَرْبَةٌ بِالسَّيْفِ)) رواه الترمذي وقال: الصحيح أنه موقوف.
অর্থাৎ, জুন্দুব থেকে মার্কু সূত্রে বর্ণিত যে, যাদুকরের শাস্তি হলো, তাকে তরবারী দ্বারা হত্যা করা। (ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, সঠিক কথা হলো, হাদীসটি মাওকুফ,
وَفِي صَحِيحِ الْبُخَارِي عَنْ بَجَالَةَ بْنِ عَبْدَةَ قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ : أَنِ اقْتُلُوْا كُلَّ سَاحِرٍ وَ سَاحِرَةٍ، قَالَ: فَقَتَلْنَا ثَلَاثَ سَوَاحِر))
অর্থাৎ, সহী বুখারীতে বাজালা ইবনে আবদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার ইবনে খাত্তাব এই মর্মে লিখিত নির্দেশ জারী করেন যে, তোমরা প্রত্যেক যাদুকর পুরুষ এবং প্রত্যেক যাদুকারিণী মহিলাকে হত্যা করো, ফলে আমরা তিনজন যাদুকরকে হত্যা করি। সহী সূত্রে হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর একজন দাসী তাঁকে যাদু করলে, তিনি তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেন, ফলে তাকে হত্যা করা হয়। অনুরূপ জুন্দুব থেকে সহী সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম আহমদ বলেন, রাসূলুল্লাহ -এর তিনজন সাহাবী থেকে এর প্রমাণ রয়েছে।
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. সূরা বাক্বারার আয়াতের তাফসীর। ২. সূরা নিসার আয়াতের তাফসীর। ৩. 'জিবত' ও 'তাগুত' এর ব্যাখ্যা এবং উভয়ের মধ্যে পার্থক্য। ৪. 'তাগুত' জ্বিনদের মধ্যে থেকেও হতে পারে, আবার মানুষদের মধ্যে থেকেও হতে পারে। ৫. নিষিদ্ধ সাতটি সর্বনাশী বস্তুর জ্ঞান লাভ। ৬. যাদুকর কাফের। ৭. তাকে হত্যা করা হবে। তাকে তাওবা করতে বলা হবে না। ৮. উমার -এর যুগে যাদুকর থাকলে, তার পরের যুগে থাকা স্বাভাবিক।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 যাদুর প্রকার

📄 যাদুর প্রকার


যাদুর কয়েকটি প্রকার
ইমাম আহমদ (রাহঃ) বলেন, আমাদেরকে মুহাম্মাদ ইবনে জা'ফার হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে আউফ হায়্যান ইবনে আ'লা থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদেরকে ঝুতন ইবনে ক্বাবীসা তাঁর পিতা হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী করীম কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন,
(( إِنَّ العِيَافَةَ وَالطَّرْقَ وَالطَّيَرَةَ مِنَ الْجِبْتِ))
"নিশ্চয় 'ইয়াফা', 'তারকা' এবং 'তিয়ারাহ' যাদুর অন্তর্ভুক্ত." আউফ বলেন, 'ইয়াফা' হলো পাখী তাড়া করা। আর 'তারকা' হলো, সেই দাগ, যা যমীনে আঁকা হয়। 'জিবত' সম্পর্কে হাসান বলেন, তা হলো শয়তানের তন্ত্র-মন্ত্র,
مَنْ اقْتَبَسَ شعبة مِنْ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةٌ مِنْ سِحْرٍ زَادَ مَا زَادَ)) رواه
أبو داود، إسناده صحيح
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি কিছু জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা করলো, সে যেন কিছু যাদু শিক্ষা করলো, যত বেশী সে ঐ বিদ্যা শিখবে, তত বেশী সে যাদু শিখবে,।” (আবু দাউদ) এই হাদীসের সনদ সহীহ।
নাসায়ী শরীফে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, ((যে ব্যক্তি কোন কিছুতে গিরে লাগিয়ে তাতে ফুঁক দেয়, সে যাদু করে। আর যে যাদু করে, সে শির্ক করে। আর যে ব্যক্তি কোন কিছু ঝুলায়, তাকে তারই উপর নির্ভরশীল করে দেওয়া হয়)).
عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ له أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: أَلَا أُنَبِّئُكُمْ مَا الْعَضْهُ؟ هِيَ النَّمِيمَةُ، الْقَالَةُ بَيْنَ النَّاسِ)) رواه مسلم
ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "আমি তোমাদেরকে দাঁত কাটা কাকে বলে সেই খবর দিবো কি? তা হলো চুগলী করা, মানুষের মাঝে কথা ছড়ানো।” (মুসলিম)
وَهُمَا عَن ابْنِ عُمَرَ الله، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: (( إِنَّ مِنَ البَيَانِ لَسِحْراً))
অর্থাৎ, বুখারী ও মুসলিম শরীফে ইবনে উমার থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “অবশ্যই কোন কোন বক্তব্যে যাদু হয়."
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. 'ইয়াফা, 'তারকা' এবং 'তিয়ারা' যাদুর অন্তর্ভুক্ত। ২. উল্লিখিত জিনিসগুলোর ব্যাখ্যা। ৩. জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা করা যাদুর অন্তর্ভুক্ত। ৪. গিরেতে ফুঁক দেওয়াও যাদুর আওতাভুক্ত। ৫. চুগলী করাও এক প্রকার যাদু। ৬. অলংকার পূর্ণ অনেক কথাও যাদুর আওতায় পড়ে।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ তাওহীদের অধ্যায়ে যাদুর প্রসঙ্গ নিয়ে আসার কারণ হলো, বহু প্রকারের যাদু এমনও রয়েছে, যা শির্ক ও খবীস আত্মার মাধ্যম গ্রহণ ব্যতীত যাদুকর তার লক্ষ্যে সফলকাম হয় না। সুতরাং বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত পাক্কা তাওহীদবাদী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে অল্প-বেশী সমস্ত রকমের যাদু ত্যাগ করবে। আর এরই কারণে বিধানদাতা যাদুকে শির্কের সাথে সংযুক্ত করেছেন। যাদু দুই দিক দিয়ে শির্কের আওতায় পড়ে। এক দিক হলো, এতে শয়তানকে কাজে লাগানো হয়। তাদের সাথে সম্পর্ক কায়েম করতে হয়। আবার অনেক সময় তাদের খেদমত নেওয়ার জন্যে ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাদের নিকট যা পছন্দনীয় তার নজরানা পেশ করতে হয়। আর দ্বিতীয় দিক হলো, এতে অদৃশ্য জ্ঞানের এবং আল্লাহর জ্ঞানে শরীক হওয়ার দাবী করা হয়। আর যাদুর জন্য এমন নিয়ম-পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করা হয়, যা শির্ক ও কুফ্রীর আওতাভুক্ত জিনিস। অনুরূপ এতে রয়েছে অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং জঘন্য কার্যকলাপ, যেমন, হত্যা করা, দুই ব্যক্তি মধ্যে প্রতিষ্ঠিত প্রেম-প্রীতি নষ্ট করা, কাউকে কারো থেকে বিমুখ করা, আবার কাউকে কারো প্রতি আকৃষ্ট করা এবং বিবেক-বুদ্ধির বিকৃতি ঘটানোর প্রচেষ্টা করা। আর এগুলো হলো, জঘন্যতম হারাম জিনিস, কেননা, এগুলো শির্ক ও তার উপকরণের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু যাদুকর অত্যধিক অনিষ্টকারী ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, সেহেতু তাকে হত্যা করা অত্যাবশ্যক।
অনেক মানুষের মধ্যে প্রচলিত চুগলীও যাদুর অন্তর্ভুক্ত জিনিস। কারণ, তারাও যাদুতে অংশ গ্রহণ করে, যেমন, মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা, ভালবাসার উপর প্রতিষ্ঠিত দুই ব্যক্তির অন্তরকে পরিবর্তন করে দেওয়া এবং তাদের অন্তরে মন্দ জিনিস ভরে দেওয়া। কাজেই যাদু হলো অনেক প্রকারের ও বহু ধরনের। এর কোন প্রকার অন্য প্রকারের থেকে জঘন্য ও নিকৃষ্ট।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 গণৎকার প্রসঙ্গে

📄 গণৎকার প্রসঙ্গে


গণৎকার ইত্যাদি প্রসঙ্গে
روى مسلم في صحيحه عَنْ بَعْضِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ ﷺ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ يَوْمًا))
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে নবী করীম -এর কোন কোন স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "যে ব্যক্তি গায়েব জানার দাবীদারের নিকট এসে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করবে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায গৃহীত হবে না।"
(( مَنْ أَتَى كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ )) رواه أبو داود
আবূ হুরাইরা নবী করীম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি গণকের নিকট এসে তার কথার সত্যায়ন করলো, সে ঐ জিনিসের অস্বীকার করলো, যা মুহাম্মাদ-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে।” (আবূ দাউদ)
وللأربعة والحاكم، وقال: صحيح على شرطهما، عن أبي هريرة، ((مَنْ أَتَى عَرَّافاً أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ ))
সুনানে আরবা' ও হাকিমেও এই হাদীস বর্ণিত হয়েছে, ইমাম হাকিম বলেন, এই হাদীস বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মুতাবেক, আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে, "যে ব্যক্তি গায়েব জানার দাবীদারের নিকট অথবা গণকের নিকট এসে তার কথার সত্যায়ন করলো, সে ঐ জিনিসের তাস্বীকার করলো, যা মুহাম্মাদ -এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে” আবূ ইয়া'লা ভাল সনদে ইবনে মাসউদ থেকে মাওকুফ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ مَرْفُوْعاً : (( لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَطَيَّرَ أَوْ تُطَيِّرَ لَهُ، أَوْ تَكَهَّنَ أَوْ تُكَهَّنَ لَهُ، أَوْ سَحَرَ أَوْ سُحِرَ لَهُ ، وَمَنْ أَتَى كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ ))
ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে মার্ক' সূত্রে বর্ণিত যে, (রাসূলুল্লাহ বলেছেন,) “সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে পাখী তাড়া ক'রে ভাগ্য নির্ণয় করে অথবা যার জন্য পাখী তাড়ানো হয় কিংবা যে গণক হয় বা যার জন্য গণনা করা হয় অথবা যে যাদু করে কিংবা যার জন্য যাদু করা হয়। আর যে গণকের নিকট এসে তার কথার সত্যায়ন করে, সে ঐ জিনিসের অস্বীকার করে, যা মুহাম্মাদ-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে.” (বাযযার)
ইমাম বাগবী বলেন, 'আররাফ' হলো ঐ ব্যক্তি, যে দাবী করে যে, সে বিশেষ নিয়মের মাধ্যমে অনেক কিছুই তাবহিত আছে, চোরাই মাল ও তার স্থান সম্পর্কেও সে বলতে পারে। আবার কেউ কেউ বলে 'আররাফ' হলো 'কাহেন' এর তাপর নাম. আর কাহেন হলো ঐ ব্যক্তি, যে ভবিষ্যৎ জ্ঞানের দাবী করে। আবার কেউ কেউ বলে, 'কাহেন' হলো ঐ ব্যক্তি, যে অন্তরের খবর বলে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা বলেন, 'আররাফ' হলো, গণৎকার, জ্যোতিষী এবং রাম্মাল ইত্যাদির তাপর নাম, যারা নিজেদের বিশেষ নিয়মের ভিত্তিতে অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করে. আর যারা 'আবযাদ' অক্ষরগুলো লিখে তারার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে কোন কিছুর দাবী করে, তাদের সম্পর্কে ইবনে আব্বাস বলেন, আমি মনে করি যারা এরূপ করে, তাদের আখেরাতে কোন অংশ নেই।
যে বিষয়গুলো জানা গেলো ১. কুরআনের প্রতি বিশ্বাস, আর গণকের কথার সত্যায়ন, এই জিনিস দু'টি একত্রে জমা হতে পারে না। ২. গণৎকারের কথার সত্যায়ন করা হলো কুফরী কাজ। ৩. যার জন্য ভাগ্য গণনা করা হয়, তার উল্লেখ। ৪. পাখী তাড়িয়ে যার জন্য ভাগ্য পরীক্ষা করা হয়, তার উল্লেখ। ৫. যার জন্য যাদু করা হয়, তার উল্লেখ। ৬. 'আবজাদ' অক্ষরগুলো যে শিখে, তার উল্লেখ। ৭. 'কাহেন' ও 'আররাফ' এর মধ্যে পার্থক্য কি তার উল্লেখ।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ- এই অধ্যায় হলো গণৎকার ইত্যাদি প্রসঙ্গে, অর্থাৎ, যারা বিভিন্ন কলাকৌশলের মাধ্যমে অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করে, তাদের প্রসঙ্গে। গায়েবের ইল্ম এক ও এককভাবে কেবল মহান আল্লাহই রাখেন। কাজেই যে ব্যক্তি গণনা ও ভবিষ্যদ্বাণী করে অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করবে অথবা যে দাবী করে, তার সত্যায়ন করবে, সে আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে অন্যকে অংশীদার স্থাপনকারী বিবেচিত হবে এবং আল্লাহর ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যুক সাব্যস্তকারী গণ্য হবে। গণনা সংক্রান্ত বহু শয়তানী কার্যকলাপ না তো শির্ক থেকে মুক্ত, আর না এমন মাধ্যম অবলম্বন করা থেকে মুক্ত, যদ্দ্বারা অদৃশ্য জ্ঞানের দাবী করার উপর সাহায্য গ্রহণ করা হয়, অতএব তা আল্লাহর জন্য।
নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যে শরীক হওয়ার দাবী করার কারণে এবং গায়রুল্লাহর নৈকট্য কামনা করার কারণে শির্ক গণ্য হবে। আল্লাহ সৃষ্টিকে এখানে এমন কুসংস্কার থেকে দূরে রেখেছেন, যা তার দ্বীন ও বুদ্ধিকে নষ্ট করে দেয়।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 যাদুর প্রতিরোধ যাদু প্রসঙ্গে

📄 যাদুর প্রতিরোধ যাদু প্রসঙ্গে


যাদুর প্রতিরোধ যাদু প্রসঙ্গে
عَنْ جَابِرٍ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ سُئِلَ عَنِ النَّشْرَةِ: فَقَالَ: ((هِيَ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ)) رَوَاهُ أَحْمَدُ بِسَنَدٍ جَيْدٍ، وَأَبُوْدَاودَ. وَقَالَ: سُئِلَ أَحْمَدُ عَنْهَا ؟ فَقَالَ: ابْنُ مَسْعُودٍ يَكْرَهُ هَذَا كُلَّهُ
জাবির থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কে যাদু প্রতিরোধ যাদু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, “তা হলো শয়তানের কাজ।” (আহমদ ও আবূ দাউদ) ইমাম আবূ দাউদ বলেন, ইমাম আহমদকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বললেন, ইবনে মাসউদ এসবই অপছন্দ করেন।
বুখারী শরীফে ক্বাতাদাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি ইবনে মুসাইয়িবকে জিজ্ঞাসা করলাম, এক ব্যক্তির রোগ হয়েছে, অথবা তাকে তার স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, এই অবস্থায় তার জন্য দুআ-তাবীয অথবা যাদু প্রতিরোধক যাদু করা যায় কি না? তিনি বললেন, এতে কোন দোষ নেই, কারণ, তারা এর দ্বারা সংশোধন করতে চায়, যা লাভজনক তা নিষিদ্ধ নয়।
হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাদুকর ব্যতীত যাদুকে কেউ হালাল মনে করে না।
ইবনুল কাইয়ুম বলেন, যাদুকৃত ব্যক্তি হতে যাদুর প্রভাব দূর করার জন্য যে যাদু প্রয়োগ করা হয়, তাকে 'নাশরা' বলে। আর এটা দু'প্রকারের। (১) যাদুর দ্বারা যাদু দূর করা। এটাই হলো শয়তানের কাজ। আর এটাই হলো ইমাম হাসানের বক্তব্যের অর্থ, যাদু প্রতিরোধক যাদু প্রয়োগকারী এবং যাকে যাদু করা হয়েছে উভয়েই শয়তানের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এমন কাজ করে, যাতে শয়তান খুশী হয়ে যাদুকৃত ব্যক্তি থেকে তার যাদু উঠিয়ে নেয়। (২) ঝাড়-ফুঁক এবং বৈধ ঔষধ ও দুআ দ্বারা যাদু দূর করা, এটা জায়েয।
যে বিষয় জানা গেলো ১. যাদুর দ্বারা যাদু দূর করা নিষেধ। ২. যাদুর প্রভাব দূর করার জন্য বৈধ ও তঅবৈধ উভয় তরীকার উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। 'আন্নাশরাঃ) এর অর্থ হলো, যাদুকৃত ব্যক্তি থেকে যাদুর প্রতিক্রিয়া দূর করা। লেখক এ ব্যাপারে ইমাম ইবনুল কায়্যুমের উক্তির বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, তাতে জায়েয ও নাজায়েয উভয় তরীকার উল্লেখ করেছেন, আর এটাই যথেষ্ট।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00