📄 কবরের নিকট আল্লাহর ইবাদত করা নিষেধ
কোন নেক লোকের কবরের নিকট যখন আল্লাহর ইবাদত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, তখন সেই নেক লোকের ইবাদত করলে কি হতে পারে
فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أُمَّ سَلَّمَةً ذَكَرَتْ لِرَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ كَنِيسَةٌ رَأَتُهَا بِأَرْضِ الحَبْشَةِ، وَمَا فِيهَا مِنَ الصُّوَرِ، فَقَالَ : (( إِنَّ أُولَئِكَ إِذَا مَاتَ فِيهِمْ الرَّجُلُ الصَّالِحُ ، أَوِ العَبْدُ الصَّالِحُ ، بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ، فَأُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ ))
সহী হাদীসে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) রাসূলুল্লাহকে হাবশায় তাঁর দেখা এক উপাসনালয় এবং তাতে রাখা মূর্তির কথা উল্লেখ করেন, তিনি বললেন, "ওরা হলো এমন লোক যে, যখন তাদের মধ্যেকার কোন নেক লোক অথবা নেক বান্দার মৃত্যু হতো, তখন তারা তার কবরে মসজিদ নির্মাণ করতো এবং তাতে তাদের মূর্তি স্থাপন করতো, এরা হলো আল্লাহর নিকট সৃষ্টির নিকৃষ্টতম।” এরা দুই ফিতনাকে একত্রিত করেছে, কবর এবং মূর্তির ফিতনা।
وَهُمَا عَنْهَا قَالَتْ: لَمَّا نَزَلَ بِرَسُولِ اللهِ ﷺ طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةٌ لَهُ عَلَى وَجْهِهِ، فَإِذَا اغْتَمَّ بِهَا كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ، فَقَالَ وَهُوَ كَذَلِكَ : لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ يُحَذِّر ما صنعوا، لَوْلَا ذَلِكَ أُبْرِزَ قَبْرُهُ، غَيْرَ أَنَّهُ خَشِيَ أَنَّ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا.
বুখারী ও মুসলিম শরীফে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর অন্তিম সময় ঘনিয়ে এলে, স্বীয় মুখমন্ডল তদীয় একটি চাদর দ্বারা ঢেকে নিলেন, যখন তিনি কষ্ট অনুভব করতেন, তখন তা তাঁর মুখমন্ডল থেকে সরিয়ে দিতেন, আর এই অবস্থায় তিনি বলতেন, "ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের উপর আল্লাহর লা'নত হোক, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে." তারা যা করেছে, তা থেকে তিনি তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন, যদি তিনি তাঁর কবরকে মসজিদে পরিণত করার আশঙ্কা বোধ না করতেন, তাহলে তাঁর কবরকে আরো উচ্চ করা হতো।'
وَالْمُسْلِمِ عَنْ جُنْدَب بنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِخَمْسٍ وَهُوَ يَقُولُ : ((إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ أَنْ يَكُونَ لِي مِنْكُمْ خَلِيلٌ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ اتَّخَذَنِي خَلِيلًا، كَمَا اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا، أَلَا وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ، فَإِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ ))
মুসলিম শরীফে জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে তাঁর মৃত্যুর পাঁচ দিন পূর্বে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, "আমি আল্লাহর নিকট দায়মুক্ত ঘোষণা করছি যে, তোমাদের মধ্যে থেকে কাউকে আমি বন্ধুরূপে গ্রহণ করিনি। কেননা, আল্লাহ আমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন, যেমন ইবরাহীম -কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছিলেন, শোন, তোমাদের পূর্বে যারা ছিলো, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছিলো, কাজেই তোমরা কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করবে না। আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি।” রাসূলুল্লাহ তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে কবরকে মসজিদে পরিণত করতে নিষেধ দান করেছেন, তার প্রতি অভিসম্পাতও করেছেন, যে এ রকম করে।
কবরে নামায পড়াও তাকে মসজিদে পরিণত করার অন্তর্ভুক্ত, যদিও মসজিদ না বানানো হয়। 'তিনি কবরকে মসজিদে পরিণত করার আশঙ্কা বোধ করতেন' কথার অর্থই হলো, সেখানে নামায ইত্যাদি পড়া, কারণ, সাহাবারা এমন ছিলেন না যে, তাঁরা কবরে মসজিদ তৈরী করবেন, যেখানেই নামায পড়ার ইচ্ছা করা হয়, তা মসজিদ বিবেচিত হয়, অনুরূপ যেখানেই নামায পড়া হয়, সেই স্থানকে মসজিদ বলা হয়, যেমন রাসূলুল্লাহ বলেন, “সম্পূর্ণ যমীনকে আমার জন্য মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম বানিয়ে দিয়েছেন।”
وَلأَحْمَدَ بِسَنَدٍ جَيْدٍ عَن ابْنِ مَسْعُودٍ له مرفوعا ((إِنَّ مِنْ شِرَارِ النَّاسِ مَنْ تُدْرِكُهُ السَّاعَةُ وَهُمْ أَحْيَاءٌ، وَالَّذِينَ يَتَّخِذُوْنَ الْقُبُورَ مَسَاجِدَ))
ইমাম আহমদ ইবনে মাসউদ থেকে মারফু' সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, মানুষের মধ্যে নিকৃষ্ট সেই সব লোক, যাদের জীবদ্দশায় কিয়ামত উপস্থিত হবে, আর সেই সব লোক, যারা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করে।”
যে বিষয়গুলো জানা গেলো,
১. যে ব্যক্তি কোন নেক লোকের কবরে মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে আল্লহর ইবাদত করে, রাসূলুল্লাহ -এর বক্তব্য তার উপরেও বর্তাবে, যদিও কর্তার নিয়ত সৎ হয়।
২. মূর্তির ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে,
৩. এ (কবরকে মসজিদ বানানোর) ব্যাপারে কিভাবে গুরুত্বের সাথে বাধা প্রদান করেছেন, তা তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্রথমে তিনি খুব জোর দিয়ে নিষেধ করেন, অতঃপর মৃত্যুর পাঁচ দিন পূর্বে তার পুনরাবৃত্তি করেন, আবার সাহাবাদের সমাবেশেও তার উল্লেখ করেন।
৪. তিনি তাঁর কবরের অস্তিত্ব লাভের পূর্বেই সেখানে কোন কিছু করতে নিষেধ প্রদান করেছেন,
৫. কবরকে মসজিদে পরিণত করা হলো, ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের তরীকা।
৬. তারা এই কারণে রাসূলুল্লাহ কর্তৃক অভিশপ্ত।
৭. ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের প্রতি রাসূলুল্লাহ -এর লা'নত করার অর্থ হলো, আমাদেরকে তাঁর কবরের ব্যাপারে সতর্ক করা।
৮. তাঁর কবরকে উচ্চ না করার কারণ জানা গেলো।
৯. কবরকে মসজিদে পরিণত করার অর্থ কি জানা গেলো।
১০. যারা কবরকে মসজিদে পরিণত করে এবং যাদের উপর কিয়ামত কায়েম হবে এই দুই শ্রেণীর লোককে রাসূলুল্লাহ এক সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ, তিনি শির্ক সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তার পরিণাম ও তার উপকরণের উল্লেখ করে দিয়েছেন।
১১. রাসূলুল্লাহ স্বীয় মৃত্যুর পাঁচ দিন পূর্বে খুৎবার মধ্যে সেই দুই দলের আক্বীদার খন্ডন করেন, যারা বিদআতীদের মধ্যে সব থেকে নিকৃষ্টতম দল, বরং কোন কোন আলেমরা তো এদেরকে ৭৩ ফির- ক্বার মধ্যে গণ্য করেছেন, আর ওরা হলো, রাফেযাঃ এবং জাহমিয়াঃ। রাফেযাদের কারণেই শির্ক ও কবর পূজার জন্ম হয়, আর এরাই সর্ব প্রথম কবরে মসজিদ নির্মাণ করে।
১২. মৃত্যুর সময় রাসূলুল্লাহ ﷺকে অনেক কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
১৩. তিনি আল্লাহর বন্ধু হওয়ার গুণে গুণান্বিত ছিলেন।
১৪. বন্ধু হওয়ার মর্যাদা মুহাব্বাতের থেকে বেশী।
১৫. এতে এ কথাও পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, আবু বাকার সাহাবীর মধ্যে উত্তম ছিলেন।
১৬. তাঁর খিলাফতের প্রতি ইঙ্গিতও এতে রয়েছে।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বিগত দুই অধ্যায়ে লেখক যেসব বিষয়ের উল্লেখ করেছেন, তা থেকে নেক লোকের কবরকে কেন্দ্র করে যেসব কার্যকলাপ করা হয়, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। কবরে যা কিছু করা হয়, তা দু'প্রকারের, যথা, জায়েয ও না জায়েয। জায়েয হলো তা-ই, যা শরীয়ত প্রণয়নকারী প্রণয়ন করেছেন, যেমন, শরীয়তী তরীকায় কবর যিয়ারত করা। তবে কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা যায় না। সুন্নাত অনুযায়ী মুসলিম কবরের যিয়ারত করবে। সকল কবরবাসীর জন্য সাধারণ দুআ করবে এবং নিজের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের জন্য বিশেষ করে দুআ করবে, তাদের জন্য দুআ, ক্ষমা চাওয়া এবং তাদের উপর রহমত বর্ষণের প্রার্থনা করার কারণে, সে তাদের প্রতি এবং সুন্নাতের অনুসরণ, আখেরাতের স্মরণ ও কবর থেকে উপদেশ গ্রহণ করার কারণে স্বীয় নাফসের প্রতিও অনুগ্রহকারী বিবেচিত হবে। আর না জায়েয হলো দু'প্রকারের যথা,
১. হারাম ও শির্কের মাধ্যম, যেমন, কবরকে স্পর্শ করা, কবরবাসীকে আল্লাহর নিকট মাধ্যম বানানো এবং সেখানে নামায পড়া, অনুরূপ কবরে বাতি জ্বালানো, তার উপর কোন কিছু নির্মাণ করা এবং কবর ও কবরবাসীকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা।
২. বড় শির্ক, যেমন, কবরবাসীদের নিকট দুআ করা, তাদের নিকট ফরিয়াদ করা এবং তাদেরই নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের প্রয়োজনাদির কামনা করা, অতএব এটা হলো বড় শির্ক আর এটাই হলো সেই কাজ, যা মূর্তিপূজকরা তাদের মূর্তির সাথে করে। যদিও কর্তাদের এই কাজ এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয় যে, তারা তাদেরই নিকট উদ্দেশ্য অর্জনের আশা রাখে অথবা এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে যে, তারা তাদেরকে আল্লাহর নিকট কেবল মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেছে, এ সবের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, কারণ, মুশরিকরা বলতো,
﴿مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى﴾ (الزمر: 3)
অর্থাৎ, "আমরা তো তাদের ইবাদত কেবল এই জন্য করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিবে।” (সূরা যুমারঃ ৩)
আর বলে,
﴿وَيَقُولُونَ هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ الله﴾ (ইউনুস : ১৮)
অর্থাৎ, “তারা বলে যে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশকারী হবে।” (সূরা ইউনুসঃ ১৮) কাজেই কেউ যদি মনে করে যে, কবরবাসীর নিকট প্রার্থনা করা ও তাদেরকে ইষ্টানিষ্টের মালিক মনে করা কুফরী নয়, অনুরূপ এই মনে করাও কুফ্রী নয় যে, প্রকৃতপক্ষে কর্তা হলেন আল্লাহ, তারা কেবল আল্লাহ ও তাদের নিকট যারা প্রার্থনা করে ও ফরিয়াদ করে, তাদের মাধ্যম ও অসীলা, তাহলে সে কাফের গণ্য হবে। কেননা, যে এই রূপ ধারণা পোষণ করলো, সে যেন কিতাব ও সুন্নাহের আনিত বিষয়কে মিথ্যা সাব্যস্ত করলো। আর এ ব্যাপারে উম্মতের একমত যে, যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে, তাতে তাদেরকে মাধ্যম বানিয়ে হোক বা তাদের নিকট সরাসরি প্রার্থনা করা হোক, উভয় ক্ষেত্রেই সে মুশরিক ও কাফের বিবেচিত হবে। আর এটা শরীয়তের এমন বিষয়, যা অতি সহজেই জানা যায়, পাঠকের উচিত বিস্তারিত এই আলোচনাকে ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করে নেওয়া, যাতে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে উল্লেখিত বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করে নিতে পারে। কারণ এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই অনেক ফিৎনা ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয়েছে, ফিৎনা থেকে তারাই মুক্তি পেয়েছে, যারা সত্য জেনে তার অনুসরণ করেছে।
📄 নেক লোকদের কবরকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা
নেক লোকদের কবরকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা, তাকে এমন মূর্তিতে পরিণত করে, যার পূজা করা হয়
رَوَى مَالِكُ فِي الْمُوَطَّا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: ((اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنَا يُعْبَدُ، اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمِ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ))
ইমাম মালেক (রাহঃ) মুয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “হে আল্লাহ আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করো না, যার পূজা করা হয়। সেই জাতির উপর আল্লাহর গযব কঠোরভাবে আপতিত হয়েছে, যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।” আর ইবনে জারির সুফিয়ান থেকে তিনি মানসুর হতে তিনি মুজাহিদ থেকে 'আফা রায়তুমুল উযযা' এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ বলেন, 'লাত' একজন ভাল লোক ছিলেন, যিনি হাজীদেরকে ছাতু খাওয়াতেন, যখন তিনি মারা গেলেন, লোকেরা তাঁর কবরে ইবাদত শুরু করে দিলো।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ ﷺ قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ زَائِرَاتِ الْقُبُورِ، وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا المَسَاجِدَ وَالسُّرُج)) رواه أهل السنن
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ঐসব নারীদের উপর লা'নত বর্ষণ করেছেন, যারা কবরের যিয়ারত করে এবং ঐসব লোকদের উপরও, যারা কবরে মসজিদ নির্মাণ করে ও কবরে বাতি জ্বালায়।"
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. 'আওযান' এর ব্যাখ্যা। ২. 'ইবাদত' এর ব্যাখ্যা।
৩. রাসূলুল্লাহ যে জিনিস সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা বোধ করেছেন, সেই জিনিস থেকেই তিনি আল্লাহর আশ্রয় কামনা করেছেন। ৪. তিনি মূর্তি পূজা ও কবরকে মসজিদে পরিণত করাকে এক সাথে জুড়ে দিয়েছেন। ৫. এ ব্যাপারে আল্লাহর কঠোর গযবের উল্লেখ। ৬. 'লাতের' পূজা কেমনে শুরু হলো, তার জ্ঞান লাভ। ৭. এই অবগতি অর্জিত হলো যে, 'লাত' এক নেক লোকের কবর। ৮. ঐ কবরবাসীর নামই ছিলো 'লাত', আর এই জন্যই কবরের উক্ত নামকরণ করা হয়। ৯. কবর যিয়ারতকারিণী নারীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ -এর লা'নত।
📄 তাওহীদের প্রতিষ্ঠায় রাসূল ﷺ-এর তৎপরতা
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম তাওহীদের প্রতিষ্ঠায় এবং শির্কের সমস্ত পথ বন্ধ করণে খুবই তৎপর ছিলেন।
মহান আল্লাহ বলেন,
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ﴾ (التوبة: ۱۲۸)
“তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের নিকট রাসূল আগমন করলেন।” (সূরা তাওবাঃ ১২৮)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: ((لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا، وَلَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا، وَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ)) رواه أبو داود بإسناد حسن، ورواته ثقات
আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরসমূহে পরিণত করো না এবং আমার কবরকে উৎসব স্থলে পরিণত করো না। তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করো, কারণ, তোমরা যেখান থেকেই দরূদ পাঠ করবে, তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে।” (আবূ দাউদ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসের বর্ণনাকারীরা সকলেই নির্ভরযোগ্য)
আলী ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, রাসূলুল্লাহ -এর কবরের পার্শ্বস্থ এক খোলা জায়গায় এসে সেখানে প্রবেশ করে দুআ করছেন, তখন তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি হাদীস শোনাবো না, যা আমি আমার পিতার কাছ থেকে শুনেছি এবং আমার পিতা আমার দাদার কাছ থেকে ও আমার দাদা রাসূলুল্লাহ -এর কাছ থেকে শুনেছেন? তিনি বলেছেন, “তোমরা আমার কবরকে মেলায় পরিণত করো না এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানাইও না। তোমাদের সালাম আমার নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন।” (মুখতারা)
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. সূরা বারাআর আয়াতের তফসীর, ২. রাসূলুল্লাহ তাঁর উম্মতকে শির্কের সীমা থেকে অনেক দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন, ৩. তিনি আমাদের প্রতি খুবই দয়াবান ও মেহেরবান ছিলেন এবং আমাদের হেদায়াতের প্রতি ছিলেন চরম আগ্রহী।
৪. কবর যিয়ারত উত্তম কাজ হলেও নির্দিষ্ট নিয়মে তা নিষেধ, ৫. খুব বেশী যিয়ারত করা নিষেধ. ৬. ঘরে নফল নামায পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে, ৭. সাহাবাদের নিকট এ কথা সাব্যস্ত ছিলো যে, কবরে নামায পড়া যায় না.
৮. দরূদ ও সালামের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বক্তব্য হলো যে, মানুষের দরূদ ও সালাম আমার নিকট পৌঁছে যায়, তাতে সে যত দূরেই থাকুক না কেন, এর জন্য নিকটে আসার কোন দরকান নেই. ৯. রাসূলুল্লাহ ﷺ কে তাঁর বারযাখী জীবনে উম্মতের আমল তথা দরূদ ও সালাম পৌঁছে দেওয়া হয়.
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ যে ব্যক্তি এই অধ্যায়ে উল্লিখিত কুরআন ও হাদীসগুলোকে নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, সে লক্ষ্য করবে যে, এগুলো এমন জিনিস অবলম্বনের উপর মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে, যদ্বারা তাওহীদ বলিষ্ঠ হবে ও বৃদ্ধি পাবে, যেমন, আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন হওয়া, আশা ও ভয়সহ তাঁরই উপর আস্থা রাখা, তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া লাভের দৃঢ় আশা রাখা এবং এর জন্য প্রচেষ্টা করা, সৃষ্টির দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভ করা এবং কোন অবস্থাতেই তাদের উপর ভরসা না করা, অথবা তাদের কাউকে নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা আর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় আমলকে পূর্ণরূপে আদায় করা, বিশেষ করে ইবাদতের যেটা রূহ বা প্রাণ, তার উপর উদ্বুদ্ধ করেছে, আর তা হলো, কেবল আল্লাহরই জন্য পূর্ণ নিষ্ঠাবান হওয়া, অতঃপর এমন কথা ও কাজ থেকে নিষেধ প্রদান করেছে, যাতে সৃষ্টিদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে, মুশরিকদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকেও নিষেধ করেছে, কারণ, এটা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার আহ্বান জানায়।
অনুরূপ এমন কথা ও কাজ থেকে নিষেধ করেছে, যা শির্ক পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পাড়ে বলে আশঙ্কা করা হয়। আর এ সবই হচ্ছে তাওহীদের হিফাযতের জন্য। শির্ক পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এমন সকল মাধ্যম থেকেও বাধা দান করেছে, এই সকল বাধা ও নিষেধাজ্ঞা মু'মিনদের প্রতি রহমস্বরূপ আরোপিত হয়েছে, যাতে তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় ইবাদতগুলো পূর্ণরূপে আদায় করতে সক্ষম হয়, যার জন্য তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং মুক্তি ও সৌভাগ্য লাভে ধন্য হয়।
📄 এই উম্মতের অনেকেই মূর্তিপূজা করবে
এই উম্মতের অনেকেই মূর্তির পূজা করবে
মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ أَلَمْ تَرَ إِلَى ٱلَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِّنَ ٱلْكِتَٰبِ يُؤْمِنُونَ بِٱلْجِبْتِ وَٱلطَّـٰغُوتِ ۚ ﴾ [النساء : ٥١]
অর্থাৎ, “তুমি কি তাদেরকে দেখো নি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, যারা মান্য করে প্রতিমা ও তাগুতকে.” (সূরা নিসাঃ ৫১) তিনি আরো বলেন,
﴿ قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُم بِشَرٌّ مِّن ذَٰلِكَ مَثُوبَةً عِندَ ٱللَّهِ ۚ مَن لَّعَنَهُ ٱللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ ٱلْقِرَدَةَ وَٱلْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ ٱلطَّـٰغُوتَ ۚ ﴾ [المائدة: ٦٠]
অর্থাৎ, "বলো, আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধান্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন এবং যারা শয়তানের ও তাগুতের ইবাদত করেছে” (সূরা মায়েদাঃ৬০) তিনি অন্যত্র বলেন,
قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَتَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ مَسْجِدًا﴾ (الكهف: ۲۱)
"তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হলো, তারা বললো, আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে মসজিদ নির্মাণ করবো.” (সূরা কাহফঃ ২১)
لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حَذْوَ الْقُدَّةِ بِالْقُذَّةِ، حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ لَدَخَلْتُمُوهُ، قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: ((فَمَنْ)) أخرجاه
অর্থাৎ, আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয় তোমরা তোমাদের পূর্বের জাতির ভ্রান্ত নীতির পূর্ণ অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি গুই সাপের গর্তে প্রবেশ করে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে” সাহাবায়ে কেরামগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কি ইয়াহুদী ও খ্রীস্টান? তিনি বললেন, তারা ছাড়া আবার কে?' (বুখারী-মুসলিম)
والمسلم عَنْ ثَوْبَانَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: ((إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِي الْأَرْضَ فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا، وَإِنَّ أُمَّتِي سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا زُوِيَ لِي مِنْهَا ، وَأُعْطِيتُ الْكَنْزَيْنِ : الْأَحْمَرَ وَالْأَبْيَضَ، وَإِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي لِأُمَّتِي أَنْ لَا يُهْلِكَهَا بِسَنَةٍ عَامَّةٍ، وَأَنْ لَا يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ،
وَإِنَّ رَبِّي قَالَ يَا مُحَمَّدُ، إِنِّي إِذَا قَضَيْتُ قَضَاءَ فَإِنَّهُ لَا يُرَدُّ، وَإِنِّي أَعْطَيْتُكَ لِأُمَّتِكَ أَنْ لَا أُهْلِكَهُمْ بِسَنَةٍ عَامَّةٍ، وَأَنْ لَا أُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنفُسِهِمْ يَسْتَبِيحُ بَيْضَتَهُمْ، وَلَوْ اجْتَمَعَ عَلَيْهِمْ مَنْ بِأَقْطَارِهَا، حَتَّى يَكُونَ بَعْضُهُمْ يُهْلِكُ بَعْضًا وَيَسْبِي بَعْضُهُمْ بَعْضًا))
অর্থাৎ, মুসলিম শরীফে সোবান থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "আল্লাহ আমার জন্য যমীনকে একত্রিত করে দিলেন, তখন আমি তার পশ্চিম ও পূর্ব পর্যন্ত দেখলাম, আর আমার উম্মতের রাজত্ব ঐ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করবে, যতদূর পর্যন্ত আমার জন্য একত্রিত করা হয়েছে, আর আমি লাল শুভ্র বর্ণের দু'টি ধন-ভান্ডার লাভ করলাম, আর আমার প্রতিপালকের নিকট চাইলাম যে, তিনি যেন আমার উম্মতকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষে ধ্বংস না করেন এবং বাইরের এমন শত্রু যেন তাদের উপর চাপিয়ে না দেন, যারা তাদেরকে ধ্বংস করে ছাড়বে। আমার প্রতিপালক বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যখন কোন বিষয়ের ফয়সালা করে নিই, তখন তা আর রদ্দ হয় না। আমি তোমার উম্মতের ব্যাপারে তোমার প্রার্থনা কবুল করলাম যে, তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষে ধ্বংস করবো না। আর বাইরের এমন কোন শত্রুকে তাদের উপর চাপিয়ে দিবো না, যারা তাদের সম্পদ লুটে খাবে, যদিও বিশ্ববাসী তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে ওঠেপড়ে লাগে। অবশ্য তারা আপসে একে অপরকে হত্যা করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে.'
এই হাদীসটি হাফেয বুরক্বানী তাঁর সহী গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি নিম্নের বাক্যগুলো বৃদ্ধি করেছেন,
وَإِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الْأَئِمَّةَ الْمُضِلَّينَ، وَإِذَا وَقَعَ السَّيْفُ عَلَيْهِمْ لَمْ يُرْفَعْ عَنْهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَلَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ، وَحَتَّى تَعْبُدَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي الْأَوْثَانَ، وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي كَذَّابُونَ ثَلَاثُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ، وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ، لَا نَبِيَّ بَعْدِي، وَلَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي على الحق لا يضرهم من خذلهم حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ))
অর্থাৎ, “আমি আমার উম্মতের উপর বিভ্রান্ত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির আশঙ্কা বোধ করছি, তাদের উপর একবার তরবারী নেমে এলে, কিয়ামত পর্যন্ত তা আর খাপবদ্ধ হবে না। আর যতক্ষণ না আমার উম্মতের একটি দল মুশরিকদের সাথে মিলিত হবে এবং যতক্ষণ না আমার উম্মতের একটি দল মূর্তি পূজায় লিপ্ত হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না। আর আমার উম্মত থেকে ৩০ জন এমন মিথ্যুকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা সকলেই নিজেকে নবী মনে করবে। অথচ আমি শেষ নবী। আমার পর কোন নবী নেই। আর আমার উম্মতের একটি দল সত্যের উপর বিজয় থাকবে। তাদের কেউ অনিষ্ঠ করতে চাইলে, তা করতে পারবে না, এমনকি আল্লাহ তা'য়ালার নির্দেশ এসে পৌঁছবে।”
যে বিষয়গুলো জানা গেলো,
১. সূরা নিসার আয়াতের তাফসীর,
২. সূরা মায়েদার আয়াতের তাফসীর,
৩. সূরা কাহফের আয়াতের তাফসীর।
৪. গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, 'জিবত' ও 'তাগুত'এর উপর ঈমান আনার অর্থ কি? তার অর্থ কি অন্তরের বিশ্বাস, নাকি তাদের প্রতি ঈমান পোষণকারীদেরকে ঘৃণা করা সত্ত্বেও আমলে তাদের শরীক ও অনুকূল থাকা?
৫. কাফেরদের কুফরী সম্পর্কে অবহিত থাকা সত্ত্বেও মুশরিকরা মনে করে যে, তারা মু'মিনদের থেকে বেশী সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত।
৬. এই উম্মতের মধ্যেও এমন লোক অবশ্যই পাওয়া যাবে, যার উল্লেখ আবূ সাঈদ থেকে বর্ণিত হাদীসে হয়েছে।
৭. এই উম্মতের অনেক জনসমষ্টিতে মূর্তি পূজার প্রচলন শুরু হবে।
৮. এই উম্মত থেকে এমন লোকের তাবির্ভাব ঘটবে, যে নবী হওয়ার দাবী করবে যেমন মুখতার নামক এক ব্যক্তি করেছিলো, সে কালেমার পাঠক ছিলো। বিশ্বাস করতো রাসূল সত্য এবং কুরআনও সত্য। আর এই কুরআনেই আছে যে, মুহাম্মাদ শেষ নবী। সাহাবীদের শেষ যুগে মুখতারের আবির্ভাব ঘটে ছিলো, আবার অনেকেই তার অনুসরণ করেছিলো।
৯. এটা একটি সুখবর যে, সত্য একেবারে শেষ হয়ে যাবে না, বরং এর উপর একটি দল কায়েম থাকবে।
১০. আহলে হক্বের সব থেকে বড় নিদর্শন হলো, তাঁরা সংখ্যায় অল্প হলেও, তাঁদের দুর্নামকারীরা ও তাঁদের বিরোধিতাকারীরা তাঁদের কোন অনিষ্ট করতে পারবে না।
১১. আহলে হক্বদের অস্তিত্ব কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে।
১২. (হাদীস থেকে রাসুলুল্লাহ -এর) বড় বড় কিছু নিদর্শন প্রমাণিত হয়। যেমন, আল্লাহর তাঁর জন্য পূর্ব ও পশ্চিমের যমীনকে একত্রিত করে দেওয়া, তিনি যেভাবে খবর দিয়েছেন, সেইভাবেই তা সংঘটিত। হওয়া, তিনি খবর দিয়েছেন যে, তাঁকে দু'টি ধন-ভান্ডার দেওয়া হয়েছে, তিনি খবর দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাঁর উম্মতের ব্যাপারে দু'টি প্রার্থনা কবুল করেছেন, তিনি খবর দিয়েছেন যে, তাঁর তৃতীয় প্রার্থনা গৃহীত হয় নি. তিনি খবর দিয়েছেন যে, (উম্মতের উপর) তরবারী নেমে এলে, কিয়ামত পর্যন্ত তা উঠবে না. তিনি খবর দিয়েছেন যে, মানুষরা আপসে একে অপরকে হত্যা করবে এবং বন্দী করবে. তিনি উম্মতের মধ্যে ভ্রান্ত নেতাদের আবির্ভাবের আশঙ্কা বোধ করেছেন, তিনি এ খবরও দিয়েছেন যে, এই উম্মতে নবুওয়াতের দাবীদারের উদ্ভব ঘটবে তিনি এ খবরও দিয়েছেন যে, একদল লোক সত্যের উপর কায়েম থাকবে. এই সব ব্যাপার জ্ঞানের বহির্ভূত হলেও, তিনি যেভাবে খবর দিয়েছেন, সেভাবেই সংঘটিত হয়েছে, ১৩. রাসূলুল্লাহ নিজের উপর শুধু ভ্রান্ত নেতাদের আশঙ্কা বোধ করেছেন.
১৪. তিনি মূর্তি পূজার অর্থ সম্পর্কে অবহিত করিয়েছেন
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এই অধ্যায়ের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো, শির্কের ব্যাপারে সতর্ক করা ও ভয় দেখানো এবং এ কথা পরিষ্কার করে দেওয়া যে, এই উম্মতের মধ্যে এটা অতি বাস্তব বিষয়, আর এতে সেই ব্যক্তির ধারণার খন্ডন করা হয়েছে, যে মনে করে যে, 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠকারী ইস- লামের উপরেই প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যদিও সে তাওহীদ বিরোধী কোন কাজ করে. যেমন, কবরবাসীদের নিকট দুআ ও ফরিয়াদ করা. তার এই ধারণাও বাতিল যে, এটা অসীলা, ইবাদত নয়, কারণ, আরবী শব্দ 'আল অযান' সেই সমস্ত উপাস্যদের বলা হয় আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত করা হয়, তাতে তা বৃক্ষাদি, পাথর ও কোন ইমারত হোক বা তারা আম্বিয়া এবং সৎ ও অসৎ লোকদের কেউ হোক না কেন, এখানে এ সবের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, কেননা, ইবাদত হলো একমাত্র আল্লাহর অধিকার। সুতরাং যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহকে আহ্বান করবে অথবা তার ইবাদত করবে, সে তাকে উপাস্যরূপে গ্রহণকারী বিবেচিত হবে এবং এরই জন্য সে ইসলাম বহির্ভূত গণ্য হবে। তার নিজেকে ইসলামের সাথে সম্পর্কিত করা কোন উপকারে আসবে না। বহু মুশরিক, ধর্মদ্রোহী এবং কাফের ও মুনাফেক নিজেকে মুসলমান মনে করেছে। (কিন্তু তারা কেউ প্রকৃত- পক্ষে মুসলমান ছিলো না)। দ্বীনের বিধি-বিধানের উপর কায়েম থাকাই হলো আসল লক্ষণীয়, নাম ও মৌখিক স্বীকৃতির কোন মূল্য নেই।