📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 নেক লোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা

📄 নেক লোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা


আদম সন্তানের কুফরী ও তাদের দ্বীন ত্যাগ করার কারণ হলো, নেক লোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা
﴿يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ ﴾ (النساء: ۱۷۱) আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, “হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না।” (সূরা নিসাঃ ১৭১)
في الصحيح عن ابن عباس رضي الله عنهما، في قول الله تعالى: ﴿وَقالوا لا تَذَرُنَ الهَتَكُمْ وَلا تَذَرُنَ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلا يَغُوْثَ وَيَعُوكَ وَنَسْرًا (نوح : ۲۳) قَالَ : هَذِهِ أَسْمَاءُ رِجَالٍ صَالِحِيْنَ مِنْ قَوْمِ نُوحٍ، فَلَمَّا هَلَكُوا أَوْحَي الشَّيْطَانُ إِلَى قَوْمِهِمْ : أَنْ انصَبُوا إِلَى مَجَالِسِهِمْ الَّتِي كَانُوا يَجْلِسُوْنَ فِيْهَا أَنْصَاباً وَسَمُّوْهَا بِأَسْمَائِهِمْ، فَفَعَلُوا، وَلَمْ تُعْبَدْ، حَتَّى إِذَا هَلَكَ أُوْلَئِكَ وَنُسِيَ الْعِلْمُ، عُبِدَتْ))
সহী হাদীসে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহ তাআলার এই আয়াত “তারা বলেছে, তোমরা তোমা- দের উপাস্যদেরকে ত্যাগ করো না এবং ত্যাগ করো না ওয়াদ, সুয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক ও নসরকে।” (সূরা নূহঃ২৩) সম্পর্কে বলেন, এগুলো নূহ -এর জাতির নেক লোকদের নাম, তাঁরা মারা গেলে শয়তান তাঁদের জাতির অন্তরে এই কথা প্রবেশ করিয়ে দিলো যে, তাঁরা যেখানে বসতেন, সেখানে তাঁদের মূর্তি স্থাপন করে তাঁদের নামে নামকরণ করো, তখন তারা তা-ই করলো, তবে তখন পূজা করা হতো না। অতঃপর যখন এই সব লোক মারা গেলো এবং প্রকৃত তথ্য ভুলিয়ে দেওয়া হলো, তখন পূজা আরম্ভ হয়ে গেলো।”
ইবনুল কাইয়ূম (রাহঃ) বলেন, পূর্বেকার অনেক লোক বলেছেন, তাঁরা যখন মারা গেলেন, লোকজন তাদের কবরে বসতে আরম্ভ করে। তারপর তাঁদের মূর্তি বানায়, অতঃপর দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হওয়ার পর তাঁদের পূজা শুরু হয়।
عَنْ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ الله ﷺ قَالَ: ((لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَ إِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ فَقُولُوا: عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ)) أخرجاه
উমার থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "তোমরা আমাকে নিয়ে ঐরূপ বাড়াবাড়ি করো না, যেরূপ খ্রীষ্টানরা মারিয়ামের পুত্রকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে, আমি তো তাঁর একজন বান্দা, তাতএব তোমরা বলবে, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।” (বুখারী-মুসলিম) তিনি আরো বলেন,
(( إِيَّاكُمْ وَالغُلُو، فَإِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الْغُلُو))
অর্থাৎ, “বাড়াবাড়ি করা থেকে বাঁচো, কারণ, এই বাড়াবাড়িই তোমাদের পূর্বেকার অনেককেই ধ্বংস করে দিয়েছে” মুসলিম শরীফে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেন, “সীমা লঙ্ঘনকারীরা ধ্বংস হয়ে গেছে, এই কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন।”
কতিপয় বিষয় জানা গেলো ১. যে ব্যক্তি এই অধ্যায় এবং এর পরবর্তী দু'টি অধ্যায়কে ভালভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে, তার নিকট প্রাথমিক পর্যায় ইসলামের পরিস্থিতি কি ছিলো, তা প্রকট হয়ে যাবে এবং সে আল্লাহর কুদরত ও তাঁর দ্বারা মানুষের অন্তরের বিস্ময়কর পরিবর্তন লক্ষ্য করবে।
২. যমীনে শির্ক প্রথমে কিভাবে শুরু হয়, তা জানা গেলো, তা ছিলো নেক লোকদেরকে কেন্দ্র করে।
৩. সর্ব প্রথম যে জিনিসের দ্বারা নবীদের দ্বীনের পরিবর্তন সূচিত হয়, সে সম্পর্কে ও তার কারণ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ। আর এটাও জানা গেলো যে, আল্লাহই তাঁদেরকে প্রেরণ করেছিলেন।
৪. শরীয়ত ও প্রকৃতির বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও বিদআতকে গ্রহণ করার কারণ কি, তা জানা গেলো।
৫. এর (কবুল করার) কারণই ছিলো হক্ব ও না-হক্বকে একত্রে মিশ্রিত করণ। যেমন, প্রথমতঃ, নেক লোকদের প্রতি ভালবাসা পোষণ। আর দ্বিতীয়তঃ, আলেমদের একটি দলের এমন কিছু কাজ সম্পাদন করা, যদ্বারা তাঁদের উদ্দেশ্য ছিলো ভাল ও সৎ, কিন্তু পরবর্তী লোকেরা মনে করে নেয় যে, তাঁদের উদ্দেশ্য ছিলো অন্য কিছু।
৬. সূরা নূহের আয়াতের তাফসীর।
৭. মানুষের প্রকৃতিগত অভ্যাস সম্পর্কে জানা গেলো যে, হজ্বের প্রতি টান অল্প এবং বাতিলের প্রতি ঝোঁক বেশী।
৮. যারা বলেন, বিদআত হলো কুফ্রীর কারণ, আর ইবলীসের নিকট পাপের থেকে বিদআত বেশী প্রিয়, কারণ, পাপ থেকে তাওবা করতে পারে কিন্তু বিদআত থেকে তাওবা করবে না, তাঁদের কথার সমর্থনও (উক্ত হাদীস থেকে) পাওয়া যায়।
৯. বিদআতের পরিণাম সম্পর্কে শয়তান ভালভাবেই জানে, তাতে কর্তার উদ্দেশ্য যতই ভাল হোক না কেন।
১০. শরীয়তের সীমালঙ্ঘনের নিষিদ্ধতার সাধারণ নিয়ম সম্পর্কে এবং সীমালঙ্ঘনের পরিণাম সম্পর্কে অবগত হওয়া।
১১. নেক কাজের উদ্দেশ্যে কবরে অবস্থান করার ক্ষতি।
১২. মূর্তি নির্মাণ নিষিদ্ধ হওয়া এবং তা মিটিয়ে দেওয়ার মধ্যে নিহিত হিকমত সম্পর্কে অবগত হওয়া।
১৩. হাদীসে উল্লিখিত ঘটনার গুরুত্ব এবং সে সম্পর্কে অবহিত হওয়া অনেক প্রয়োজন, যদিও মানুষ এ ব্যাপারে উদাসীন।
১৪. বড় আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, বিদআতীরা উক্ত ঘটনা হাদীস ও তফসীরের কিতাবে পাঠ করে, এর অর্থও ভালভাবে বুঝে এবং আল্লাহ তাদের ও তাদের আক্বীদার মধ্যে প্রতিবন্ধকরূপে দাঁড়ালেও তারা মনে করে যে, নূহ -এর জাতির কার্যসমূহোই ছিলো শ্রেষ্ঠ ইবাদত। আর প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা নিষেধ করেছেন, তা-ই হলো কুফরী এবং এই কুফরী কাজে লিপ্ত ব্যক্তির জান-মাল বৈধ।
১৫. এ কথাও পরিষ্কার যে প্রতিমাগুলোর নিকট তারা সুপারিশ ছাড়া আর কিছুই কামনা করে না।
১৬. তাদের বিশ্বাস হলো, যে আলেমরা মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন, তাদেরও অনুরূপ কামনা ছিলো।
১৭. রাসূলুল্লাহ -এর বাণীতে রয়েছে সুমহান এই ঘোষণা, “তোমরা আমার প্রশংসায় ঐরূপ বাড়াবাড়ি করো না, যেরূপ খ্রীষ্টানরা মরীয়মের পুত্রকে নিয়ে করেছিলো।” তিনি তবলীগের মহান দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে গেছেন, তাঁর উপর আল্লাহর পক্ষ হতে দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
১৮. আমাদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ -এর নসীহত হলো, যারা শরীয়তের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করবে, তারাই ধ্বংস হবে।
১৯. এখানে এ কথাও পরিষ্কার করে জানা গেলো যে, প্রকৃত জ্ঞান ভুলিয়ে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তাদের (মূর্তির) পূজা হয়নি, তাই এতে ইল্ম থাকার উপকারিতা এবং তা না থাকার অপকারিতার বর্ণনাও রয়েছে।
২০. জ্ঞান না থাকার কারণ হলো, আলেমদের মৃত্যু বরণ।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ আরবী শব্দ 'গুলু'র অর্থ হলো সীমালঙ্ঘন করা। অর্থাৎ, মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট অধিকারসমূহের কোন কিছু নেক লোকদের প্রদান করা। কেননা, আল্লাহর যে অধিকারে কেউ অংশীদার হতে পারে না তা হলো, পূর্ণতা, তিনি মুখাপেক্ষীহীন এবং তিনিই সব দিক দিয়ে সব কিছুর পরিচালক। তিনি ব্যতীত কেউ ইবাদতের যোগ্য হতে পারে না। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন সৃষ্টিকে নিয়ে বাড়াবাড়ি ক'রে এই অধিকারের কোন কিছু প্রদান করে, সে যেন বিশ্বের প্রতিপালকের সাথে তার তুলনা করে। আর এটাই হলো বড় শির্ক, জেনে রাখো, অধিকার হলো তিন প্রকারের, (১) আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট অধিকার, তাতে কেউ অংশীদার হতে পারে না। আর তা হলো, তাঁকেই উপাস্য মনে করা, কেবল তাঁরই ইবাদত করা। তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁকেই ভালবাসা ও ভয় করা এবং তাঁরই নিকট আশা করা। (২) এমন অধিকার, যা নবীদের জন্য নির্দিষ্ট যেমন, তাঁদের সম্মান করা এবং তাঁদের অধিকার আদায় করা। (৩) এমন অধিকার, যাতে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল উভয়েই শরীক, যেমন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান আনা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের অনুসরণ করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণকে ভালবাসা, প্রকৃতপক্ষে এগুলো আল্লাহরই অধিকার এবং আল্লাহর অধিকারের ভিত্তিতেই তা রাসূলগণের অধিকার। হক্ব পন্থীরা এই অধিকারগুলোর মধ্যে পার্থক্য ভালভাবেই জানে। তাই তাঁরা কেবল আল্লাহরই ইবাদত করে এবং দ্বীনকে তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট করে। অনুরূপ নবী ও ওলীদের সম্মান ও মর্যাদা অনুপাতে তাঁদেরও অধিকার আদায় করে, আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 কবরের নিকট আল্লাহর ইবাদত করা নিষেধ

📄 কবরের নিকট আল্লাহর ইবাদত করা নিষেধ


কোন নেক লোকের কবরের নিকট যখন আল্লাহর ইবাদত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, তখন সেই নেক লোকের ইবাদত করলে কি হতে পারে
فِي الصَّحِيحِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ أُمَّ سَلَّمَةً ذَكَرَتْ لِرَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ كَنِيسَةٌ رَأَتُهَا بِأَرْضِ الحَبْشَةِ، وَمَا فِيهَا مِنَ الصُّوَرِ، فَقَالَ : (( إِنَّ أُولَئِكَ إِذَا مَاتَ فِيهِمْ الرَّجُلُ الصَّالِحُ ، أَوِ العَبْدُ الصَّالِحُ ، بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ، فَأُولَئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ ))
সহী হাদীসে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে সালামা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) রাসূলুল্লাহকে হাবশায় তাঁর দেখা এক উপাসনালয় এবং তাতে রাখা মূর্তির কথা উল্লেখ করেন, তিনি বললেন, "ওরা হলো এমন লোক যে, যখন তাদের মধ্যেকার কোন নেক লোক অথবা নেক বান্দার মৃত্যু হতো, তখন তারা তার কবরে মসজিদ নির্মাণ করতো এবং তাতে তাদের মূর্তি স্থাপন করতো, এরা হলো আল্লাহর নিকট সৃষ্টির নিকৃষ্টতম।” এরা দুই ফিতনাকে একত্রিত করেছে, কবর এবং মূর্তির ফিতনা।
وَهُمَا عَنْهَا قَالَتْ: لَمَّا نَزَلَ بِرَسُولِ اللهِ ﷺ طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةٌ لَهُ عَلَى وَجْهِهِ، فَإِذَا اغْتَمَّ بِهَا كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ، فَقَالَ وَهُوَ كَذَلِكَ : لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ يُحَذِّر ما صنعوا، لَوْلَا ذَلِكَ أُبْرِزَ قَبْرُهُ، غَيْرَ أَنَّهُ خَشِيَ أَنَّ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا.
বুখারী ও মুসলিম শরীফে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর অন্তিম সময় ঘনিয়ে এলে, স্বীয় মুখমন্ডল তদীয় একটি চাদর দ্বারা ঢেকে নিলেন, যখন তিনি কষ্ট অনুভব করতেন, তখন তা তাঁর মুখমন্ডল থেকে সরিয়ে দিতেন, আর এই অবস্থায় তিনি বলতেন, "ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের উপর আল্লাহর লা'নত হোক, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছে." তারা যা করেছে, তা থেকে তিনি তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন, যদি তিনি তাঁর কবরকে মসজিদে পরিণত করার আশঙ্কা বোধ না করতেন, তাহলে তাঁর কবরকে আরো উচ্চ করা হতো।'
وَالْمُسْلِمِ عَنْ جُنْدَب بنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِخَمْسٍ وَهُوَ يَقُولُ : ((إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ أَنْ يَكُونَ لِي مِنْكُمْ خَلِيلٌ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ اتَّخَذَنِي خَلِيلًا، كَمَا اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا، أَلَا وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ، فَإِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ ))
মুসলিম শরীফে জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে তাঁর মৃত্যুর পাঁচ দিন পূর্বে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, "আমি আল্লাহর নিকট দায়মুক্ত ঘোষণা করছি যে, তোমাদের মধ্যে থেকে কাউকে আমি বন্ধুরূপে গ্রহণ করিনি। কেননা, আল্লাহ আমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন, যেমন ইবরাহীম -কে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছিলেন, শোন, তোমাদের পূর্বে যারা ছিলো, তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করেছিলো, কাজেই তোমরা কবরগুলোকে মসজিদে পরিণত করবে না। আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি।” রাসূলুল্লাহ তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে কবরকে মসজিদে পরিণত করতে নিষেধ দান করেছেন, তার প্রতি অভিসম্পাতও করেছেন, যে এ রকম করে।
কবরে নামায পড়াও তাকে মসজিদে পরিণত করার অন্তর্ভুক্ত, যদিও মসজিদ না বানানো হয়। 'তিনি কবরকে মসজিদে পরিণত করার আশঙ্কা বোধ করতেন' কথার অর্থই হলো, সেখানে নামায ইত্যাদি পড়া, কারণ, সাহাবারা এমন ছিলেন না যে, তাঁরা কবরে মসজিদ তৈরী করবেন, যেখানেই নামায পড়ার ইচ্ছা করা হয়, তা মসজিদ বিবেচিত হয়, অনুরূপ যেখানেই নামায পড়া হয়, সেই স্থানকে মসজিদ বলা হয়, যেমন রাসূলুল্লাহ বলেন, “সম্পূর্ণ যমীনকে আমার জন্য মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম বানিয়ে দিয়েছেন।”
وَلأَحْمَدَ بِسَنَدٍ جَيْدٍ عَن ابْنِ مَسْعُودٍ له مرفوعا ((إِنَّ مِنْ شِرَارِ النَّاسِ مَنْ تُدْرِكُهُ السَّاعَةُ وَهُمْ أَحْيَاءٌ، وَالَّذِينَ يَتَّخِذُوْنَ الْقُبُورَ مَسَاجِدَ))
ইমাম আহমদ ইবনে মাসউদ থেকে মারফু' সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, মানুষের মধ্যে নিকৃষ্ট সেই সব লোক, যাদের জীবদ্দশায় কিয়ামত উপস্থিত হবে, আর সেই সব লোক, যারা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করে।”
যে বিষয়গুলো জানা গেলো,
১. যে ব্যক্তি কোন নেক লোকের কবরে মসজিদ নির্মাণ করে সেখানে আল্লহর ইবাদত করে, রাসূলুল্লাহ -এর বক্তব্য তার উপরেও বর্তাবে, যদিও কর্তার নিয়ত সৎ হয়।
২. মূর্তির ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে,
৩. এ (কবরকে মসজিদ বানানোর) ব্যাপারে কিভাবে গুরুত্বের সাথে বাধা প্রদান করেছেন, তা তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্রথমে তিনি খুব জোর দিয়ে নিষেধ করেন, অতঃপর মৃত্যুর পাঁচ দিন পূর্বে তার পুনরাবৃত্তি করেন, আবার সাহাবাদের সমাবেশেও তার উল্লেখ করেন।
৪. তিনি তাঁর কবরের অস্তিত্ব লাভের পূর্বেই সেখানে কোন কিছু করতে নিষেধ প্রদান করেছেন,
৫. কবরকে মসজিদে পরিণত করা হলো, ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের তরীকা।
৬. তারা এই কারণে রাসূলুল্লাহ কর্তৃক অভিশপ্ত।
৭. ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের প্রতি রাসূলুল্লাহ -এর লা'নত করার অর্থ হলো, আমাদেরকে তাঁর কবরের ব্যাপারে সতর্ক করা।
৮. তাঁর কবরকে উচ্চ না করার কারণ জানা গেলো।
৯. কবরকে মসজিদে পরিণত করার অর্থ কি জানা গেলো।
১০. যারা কবরকে মসজিদে পরিণত করে এবং যাদের উপর কিয়ামত কায়েম হবে এই দুই শ্রেণীর লোককে রাসূলুল্লাহ এক সঙ্গে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ, তিনি শির্ক সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই তার পরিণাম ও তার উপকরণের উল্লেখ করে দিয়েছেন।
১১. রাসূলুল্লাহ স্বীয় মৃত্যুর পাঁচ দিন পূর্বে খুৎবার মধ্যে সেই দুই দলের আক্বীদার খন্ডন করেন, যারা বিদআতীদের মধ্যে সব থেকে নিকৃষ্টতম দল, বরং কোন কোন আলেমরা তো এদেরকে ৭৩ ফির- ক্বার মধ্যে গণ্য করেছেন, আর ওরা হলো, রাফেযাঃ এবং জাহমিয়াঃ। রাফেযাদের কারণেই শির্ক ও কবর পূজার জন্ম হয়, আর এরাই সর্ব প্রথম কবরে মসজিদ নির্মাণ করে।
১২. মৃত্যুর সময় রাসূলুল্লাহ ﷺকে অনেক কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
১৩. তিনি আল্লাহর বন্ধু হওয়ার গুণে গুণান্বিত ছিলেন।
১৪. বন্ধু হওয়ার মর্যাদা মুহাব্বাতের থেকে বেশী।
১৫. এতে এ কথাও পরিষ্কার হয়ে গেলো যে, আবু বাকার সাহাবীর মধ্যে উত্তম ছিলেন।
১৬. তাঁর খিলাফতের প্রতি ইঙ্গিতও এতে রয়েছে।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বিগত দুই অধ্যায়ে লেখক যেসব বিষয়ের উল্লেখ করেছেন, তা থেকে নেক লোকের কবরকে কেন্দ্র করে যেসব কার্যকলাপ করা হয়, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। কবরে যা কিছু করা হয়, তা দু'প্রকারের, যথা, জায়েয ও না জায়েয। জায়েয হলো তা-ই, যা শরীয়ত প্রণয়নকারী প্রণয়ন করেছেন, যেমন, শরীয়তী তরীকায় কবর যিয়ারত করা। তবে কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা যায় না। সুন্নাত অনুযায়ী মুসলিম কবরের যিয়ারত করবে। সকল কবরবাসীর জন্য সাধারণ দুআ করবে এবং নিজের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের জন্য বিশেষ করে দুআ করবে, তাদের জন্য দুআ, ক্ষমা চাওয়া এবং তাদের উপর রহমত বর্ষণের প্রার্থনা করার কারণে, সে তাদের প্রতি এবং সুন্নাতের অনুসরণ, আখেরাতের স্মরণ ও কবর থেকে উপদেশ গ্রহণ করার কারণে স্বীয় নাফসের প্রতিও অনুগ্রহকারী বিবেচিত হবে। আর না জায়েয হলো দু'প্রকারের যথা,
১. হারাম ও শির্কের মাধ্যম, যেমন, কবরকে স্পর্শ করা, কবরবাসীকে আল্লাহর নিকট মাধ্যম বানানো এবং সেখানে নামায পড়া, অনুরূপ কবরে বাতি জ্বালানো, তার উপর কোন কিছু নির্মাণ করা এবং কবর ও কবরবাসীকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা।
২. বড় শির্ক, যেমন, কবরবাসীদের নিকট দুআ করা, তাদের নিকট ফরিয়াদ করা এবং তাদেরই নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের প্রয়োজনাদির কামনা করা, অতএব এটা হলো বড় শির্ক আর এটাই হলো সেই কাজ, যা মূর্তিপূজকরা তাদের মূর্তির সাথে করে। যদিও কর্তাদের এই কাজ এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয় যে, তারা তাদেরই নিকট উদ্দেশ্য অর্জনের আশা রাখে অথবা এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে যে, তারা তাদেরকে আল্লাহর নিকট কেবল মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করেছে, এ সবের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, কারণ, মুশরিকরা বলতো,
﴿مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى﴾ (الزمر: 3)
অর্থাৎ, "আমরা তো তাদের ইবাদত কেবল এই জন্য করি যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিবে।” (সূরা যুমারঃ ৩)
আর বলে,
﴿وَيَقُولُونَ هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ الله﴾ (ইউনুস : ১৮)
অর্থাৎ, “তারা বলে যে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশকারী হবে।” (সূরা ইউনুসঃ ১৮) কাজেই কেউ যদি মনে করে যে, কবরবাসীর নিকট প্রার্থনা করা ও তাদেরকে ইষ্টানিষ্টের মালিক মনে করা কুফরী নয়, অনুরূপ এই মনে করাও কুফ্রী নয় যে, প্রকৃতপক্ষে কর্তা হলেন আল্লাহ, তারা কেবল আল্লাহ ও তাদের নিকট যারা প্রার্থনা করে ও ফরিয়াদ করে, তাদের মাধ্যম ও অসীলা, তাহলে সে কাফের গণ্য হবে। কেননা, যে এই রূপ ধারণা পোষণ করলো, সে যেন কিতাব ও সুন্নাহের আনিত বিষয়কে মিথ্যা সাব্যস্ত করলো। আর এ ব্যাপারে উম্মতের একমত যে, যে ব্যক্তি গায়রুল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে, তাতে তাদেরকে মাধ্যম বানিয়ে হোক বা তাদের নিকট সরাসরি প্রার্থনা করা হোক, উভয় ক্ষেত্রেই সে মুশরিক ও কাফের বিবেচিত হবে। আর এটা শরীয়তের এমন বিষয়, যা অতি সহজেই জানা যায়, পাঠকের উচিত বিস্তারিত এই আলোচনাকে ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করে নেওয়া, যাতে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে উল্লেখিত বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য করে নিতে পারে। কারণ এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই অনেক ফিৎনা ও ফ্যাসাদ সৃষ্টি হয়েছে, ফিৎনা থেকে তারাই মুক্তি পেয়েছে, যারা সত্য জেনে তার অনুসরণ করেছে।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 নেক লোকদের কবরকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা

📄 নেক লোকদের কবরকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা


নেক লোকদের কবরকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা, তাকে এমন মূর্তিতে পরিণত করে, যার পূজা করা হয়
رَوَى مَالِكُ فِي الْمُوَطَّا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: ((اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنَا يُعْبَدُ، اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمِ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ))
ইমাম মালেক (রাহঃ) মুয়াত্তায় বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “হে আল্লাহ আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করো না, যার পূজা করা হয়। সেই জাতির উপর আল্লাহর গযব কঠোরভাবে আপতিত হয়েছে, যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।” আর ইবনে জারির সুফিয়ান থেকে তিনি মানসুর হতে তিনি মুজাহিদ থেকে 'আফা রায়তুমুল উযযা' এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ বলেন, 'লাত' একজন ভাল লোক ছিলেন, যিনি হাজীদেরকে ছাতু খাওয়াতেন, যখন তিনি মারা গেলেন, লোকেরা তাঁর কবরে ইবাদত শুরু করে দিলো।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ ﷺ قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ زَائِرَاتِ الْقُبُورِ، وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا المَسَاجِدَ وَالسُّرُج)) رواه أهل السنن
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ঐসব নারীদের উপর লা'নত বর্ষণ করেছেন, যারা কবরের যিয়ারত করে এবং ঐসব লোকদের উপরও, যারা কবরে মসজিদ নির্মাণ করে ও কবরে বাতি জ্বালায়।"
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. 'আওযান' এর ব্যাখ্যা। ২. 'ইবাদত' এর ব্যাখ্যা।
৩. রাসূলুল্লাহ যে জিনিস সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা বোধ করেছেন, সেই জিনিস থেকেই তিনি আল্লাহর আশ্রয় কামনা করেছেন। ৪. তিনি মূর্তি পূজা ও কবরকে মসজিদে পরিণত করাকে এক সাথে জুড়ে দিয়েছেন। ৫. এ ব্যাপারে আল্লাহর কঠোর গযবের উল্লেখ। ৬. 'লাতের' পূজা কেমনে শুরু হলো, তার জ্ঞান লাভ। ৭. এই অবগতি অর্জিত হলো যে, 'লাত' এক নেক লোকের কবর। ৮. ঐ কবরবাসীর নামই ছিলো 'লাত', আর এই জন্যই কবরের উক্ত নামকরণ করা হয়। ৯. কবর যিয়ারতকারিণী নারীদের প্রতি রাসূলুল্লাহ -এর লা'নত।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 তাওহীদের প্রতিষ্ঠায় রাসূল ﷺ-এর তৎপরতা

📄 তাওহীদের প্রতিষ্ঠায় রাসূল ﷺ-এর তৎপরতা


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম তাওহীদের প্রতিষ্ঠায় এবং শির্কের সমস্ত পথ বন্ধ করণে খুবই তৎপর ছিলেন।
মহান আল্লাহ বলেন,
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ﴾ (التوبة: ۱۲۸)
“তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের নিকট রাসূল আগমন করলেন।” (সূরা তাওবাঃ ১২৮)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ  قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: ((لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا، وَلَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا، وَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ)) رواه أبو داود بإسناد حسن، ورواته ثقات
আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরসমূহে পরিণত করো না এবং আমার কবরকে উৎসব স্থলে পরিণত করো না। তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করো, কারণ, তোমরা যেখান থেকেই দরূদ পাঠ করবে, তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে।” (আবূ দাউদ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসের বর্ণনাকারীরা সকলেই নির্ভরযোগ্য)
আলী ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, রাসূলুল্লাহ -এর কবরের পার্শ্বস্থ এক খোলা জায়গায় এসে সেখানে প্রবেশ করে দুআ করছেন, তখন তিনি তাকে নিষেধ করলেন এবং বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি হাদীস শোনাবো না, যা আমি আমার পিতার কাছ থেকে শুনেছি এবং আমার পিতা আমার দাদার কাছ থেকে ও আমার দাদা রাসূলুল্লাহ -এর কাছ থেকে শুনেছেন? তিনি বলেছেন, “তোমরা আমার কবরকে মেলায় পরিণত করো না এবং তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানাইও না। তোমাদের সালাম আমার নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন।” (মুখতারা)
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. সূরা বারাআর আয়াতের তফসীর, ২. রাসূলুল্লাহ তাঁর উম্মতকে শির্কের সীমা থেকে অনেক দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন, ৩. তিনি আমাদের প্রতি খুবই দয়াবান ও মেহেরবান ছিলেন এবং আমাদের হেদায়াতের প্রতি ছিলেন চরম আগ্রহী।
৪. কবর যিয়ারত উত্তম কাজ হলেও নির্দিষ্ট নিয়মে তা নিষেধ, ৫. খুব বেশী যিয়ারত করা নিষেধ. ৬. ঘরে নফল নামায পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে, ৭. সাহাবাদের নিকট এ কথা সাব্যস্ত ছিলো যে, কবরে নামায পড়া যায় না.
৮. দরূদ ও সালামের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বক্তব্য হলো যে, মানুষের দরূদ ও সালাম আমার নিকট পৌঁছে যায়, তাতে সে যত দূরেই থাকুক না কেন, এর জন্য নিকটে আসার কোন দরকান নেই. ৯. রাসূলুল্লাহ ﷺ কে তাঁর বারযাখী জীবনে উম্মতের আমল তথা দরূদ ও সালাম পৌঁছে দেওয়া হয়.
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ যে ব্যক্তি এই অধ্যায়ে উল্লিখিত কুরআন ও হাদীসগুলোকে নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, সে লক্ষ্য করবে যে, এগুলো এমন জিনিস অবলম্বনের উপর মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে, যদ্বারা তাওহীদ বলিষ্ঠ হবে ও বৃদ্ধি পাবে, যেমন, আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন হওয়া, আশা ও ভয়সহ তাঁরই উপর আস্থা রাখা, তাঁর অনুগ্রহ ও দয়া লাভের দৃঢ় আশা রাখা এবং এর জন্য প্রচেষ্টা করা, সৃষ্টির দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভ করা এবং কোন অবস্থাতেই তাদের উপর ভরসা না করা, অথবা তাদের কাউকে নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা আর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় আমলকে পূর্ণরূপে আদায় করা, বিশেষ করে ইবাদতের যেটা রূহ বা প্রাণ, তার উপর উদ্বুদ্ধ করেছে, আর তা হলো, কেবল আল্লাহরই জন্য পূর্ণ নিষ্ঠাবান হওয়া, অতঃপর এমন কথা ও কাজ থেকে নিষেধ প্রদান করেছে, যাতে সৃষ্টিদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা হয়েছে, মুশরিকদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকেও নিষেধ করেছে, কারণ, এটা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার আহ্বান জানায়।
অনুরূপ এমন কথা ও কাজ থেকে নিষেধ করেছে, যা শির্ক পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পাড়ে বলে আশঙ্কা করা হয়। আর এ সবই হচ্ছে তাওহীদের হিফাযতের জন্য। শির্ক পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এমন সকল মাধ্যম থেকেও বাধা দান করেছে, এই সকল বাধা ও নিষেধাজ্ঞা মু'মিনদের প্রতি রহমস্বরূপ আরোপিত হয়েছে, যাতে তারা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় ইবাদতগুলো পূর্ণরূপে আদায় করতে সক্ষম হয়, যার জন্য তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং মুক্তি ও সৌভাগ্য লাভে ধন্য হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00