📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 গায়রুল্লাহর নামে মানত করা

📄 গায়রুল্লাহর নামে মানত করা


গায়রুল্লাহর নামে মানত করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত
মহান আল্লাহ বলেন,
يُؤْفُوْنَ بِالنَّدْرِ الدهر : 7
অর্থাৎ, “তারা মানত পূরণ করে.” (সূরা দাহ্‌রঃ৭) তিনি আরো বলেন,
وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ نَفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُمْ مِنْ نَذْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُهُ﴾ (البقرة: ۲۷۰)
অর্থাৎ, “তোমরা যা কিছু দান-খয়রাত করো কিংবা যে কোন মানত করো, আল্লাহ নিশ্চয় সেসব কিছু জানেন.” (সূরা বাক্বারা ২৭০
وفي الصحيح عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَن رسول الله ﷺ قَالَ: ((مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَهُ فَلَا يَعْصِهِ))
অর্থাৎ, সহীহ হাদীসে আয়েশা রাযীআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফার- মানী করার মানত করে, সে যেন তাঁর নাফারমানী না করে।"
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. মানত পূরণ করা ওয়াজিব। ২. যখন প্রমাণ হলো যে, (মানত) আল্লাহর ইবাদত, তখন তা অন্যের জন্য করা শির্ক হবে। ৩. পাপের' কাজের মানত করলে, তা পূরণ করা জায়েয নয়।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 গায়রুল্লাহর আশ্রয় কামনা করা

📄 গায়রুল্লাহর আশ্রয় কামনা করা


গায়রুল্লাহর আশ্রয় কামনা করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْإِنْسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِنَ الْجِنَّ فَزَادُوهُمْ رَهَقاً
অর্থাৎ, “অনেক মানুষ অনেক জ্বিনের আশ্রয় নিতো, ফলে তারা জ্বিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিতো.” (সূরা জ্বিনঃ ৬)
عَنْ خَوْلَةَ بِنْتَ حَكِيمٍ رضي الله عنها قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: ( ( مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا فَقَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ الله التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ)) رواه مسلم
অর্থাৎ, খাওলা বিনতে হাকীম (রাযীআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোন স্থানে অবতরণ করার পর (আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত্তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব) দুআটি পাঠ করলো, যার অর্থ 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্য দ্বারা তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি, তাহলে সেই স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত কোন জিনিস তার অনিষ্ট করতে পারবে না.” (মুসলিম)
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. সূরা জ্বিনের আয়াতের ব্যাখ্যা. ২. গায়রুল্লাহর আশ্রয় চাওয়া শির্ক, ৩. গায়রুল্লাহর সাহায্য চাওয়াও শির্ক তা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, কেননা, উলামায়ে কেরامগণ এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, আল্লাহর বাক্যসমূহ সৃষ্ট নয়, কারণ, সৃষ্টির আশ্রয় চাওয়া শির্ক,
৪. সংক্ষিপ্ত হলেও এই দুআর ফযীলত অনেক।
৫. কোন জিনিস দ্বারা পার্থিব কোন লাভ অর্জন হওয়া এ কথা প্রমাণ করে না যে, তা শির্ক নয়, যেমন কোন ক্ষতি থেকে মুক্তি লাভ অথবা কোন উপকার অর্জন।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 গায়রুল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া

📄 গায়রুল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া


গায়রুল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া অথবা গায়রুল্লাহকে আহ্বান করা শির্ক
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ الله مَا لا يَنْفَعُكَ وَلا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذَا مِنَ الظَّالِمِينَ، وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ (يونسঃ ১০৬-১০৭
অর্থ, "আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবে না, যে তোমার ভাল করবে না, মন্দও করবে না। বস্তুতঃ তুমি যদি এমন কাজ করো, তাহলে তখন তুমিও যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন, তাহলে তিনি ব্যতীত তা খন্ডাবার মত কেউ নেই।” (সূরা ইউনুসঃ ১০৬-১০৭) তিনি আরো বলেন,
فَابْتَغُوا عِنْدَ اللهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ ﴾ (العنكبوت: ۱۷)
অর্থাৎ, “তোমরা আল্লাহর কাছে রিযিক তালাশ করো এবং তাঁরই ইবাদত করো” (সূরা আনকাবূতঃ ১৭) তিনি অন্যত্র বলেন,
وَمَنْ أَضَلُّ لِمَنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ [الأحقاف : ٥]
অর্থা, "যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন সত্তাকে ডাকে, যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে?" (সূরা আহক্বাফঃ ৫) তিনি আরো বলেন,
أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ﴾ [النمل: ٦২]
অর্থাৎ, "বলো তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন, যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন।” (সূরা নামালঃ ৬২) ইমাম তাবরানী বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যামানায় এক মুনাফেক ছিলো যে মু'মিনদের কষ্ট দিতো তাই কেউ কেউ বললো, চলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এই মুনাফেক থেকে নিষ্কৃতির জন্য সাহায্য কামনা করি। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,
(( إنه لا يُسْتَغَاتُ بِي، وَإِنَّمَا يُسْتَغَاثُ بِالله ))
অর্থাৎ, “আমার নিকট সাহায্য কামনা করতে হয় না, বরং আল্লাহর নিকটই সাহায্য কামনা করতে হয়."
কতিপয় মসলা জানা গেলো,
১. দুআকে সাহায্য চাওয়ার সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে, সাধারণ জিনিসকে বিশেষ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করা। ২. সূরা ইউনুসের আয়াতের তাফসীর। ৩. এটা (গায়রুল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া) হলো, বড় শির্ক, ৪. কোন সৎলোক গায়রুল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে যদি তা করে, তবে সে যালিমদের দলভুক্ত হবে। ৫. পরের আয়াতের তাফসীর। ৬. কুফরী হওয়ার সাথে সাথে তা দুনিয়াতেও কোন উপকারে আসবে না।
৭. তৃতীয় আয়াতের তাফসীর।
৮. রুজী কেবল আল্লাহর নিকট কামনা করা উচিত। অনুরূপ জান্নাতও তাঁরই নিকট চাইতে হয়।
৯. চতুর্থ আয়াতের তাফসীর।
১০. যে গায়রুল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে, তার চেয়ে অধিক ভ্রষ্ট আর কেউ নেই।
১১. যাকে ডাকে, সে আহ্বানকারীর ব্যাপারে উদাসীন। তার সম্পর্কে সে কিছুই জানে না।
১২. যাকে ডাকা হয়, এই ডাক তার প্রতি আহ্বানকারীর অসন্তুষ্টির ও শত্রুতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১৩. যাকে ডাকা হয়, এই ডাক তার ইবাদতেরই নামান্তর।
১৪. যাকে ডাকা হয়, এই ইবাদতের কারণে তার কুফরী সাব্যস্ত হয়।
১৫. এই আহ্বানই আহ্বানকারীকে সর্বাধিক ভ্রষ্ট মানুষে পরিণত করে।
১৬. পঞ্চম আয়াতের তাফসীর।
১৭. আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, মূর্তি পূজকরাও স্বীকার করে যে, নিঃস- হায়ের ডাকে আল্লাহ ছাড়া কেউ সাড়া দিতে পারে না। আর এই কারণেই তারা ভয়াবহ বিপদে কেবল আল্লাহকেই ডাকতো।
১৮. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর তাওহীদের সমর্থন এবং আল্লাহর প্রতি আদব শিক্ষাদান।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ
বিগত অধ্যায়ে উল্লিখিত বড় শির্কের যে সংজ্ঞা বলা হয়েছে, অর্থাৎ, (যে ব্যক্তি ইবাদতের কোন কিছুকে গায়রুল্লাহর জন্য সম্পাদন করে, সে মুশরিক বিবেচিত হয়) এই সংজ্ঞা বুঝে থাকলে, এই তিনটি অধ্যায়, যা লেখক পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করেছেন, বুঝতে সক্ষম হবে। কেননা, মানত করা একটি ইবাদত মানত পূরণকারী আল্লাহ কর্তৃক প্রশংসিত, রাসূলুল্লাহ আনুগত্যের মানত পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর যেসব কাজের শরীয়ত প্রশংসা করেছে, অথবা তার সম্পাদনকারীর তারীফ করেছে কিংবা তার নির্দেশ দিয়েছে, তা ইবাদত বলেই গণ্য হয়। কারণ, ইবাদত হলো, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় কথা ও কাজের এমন এক নাম, যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট আর মানত এরই অন্তর্ভুক্ত।
অনুরূপ আল্লাহ প্রত্যেক অনিষ্ট থেকে বাঁচতে তাঁরই নিকট আশ্রয় কামনা করার এবং প্রত্যেক কষ্ট ও বিপদ থেকে রক্ষার জন্য তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, এগুলো কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করলে, তা হবে ঈমান ও তাওহীদ, কিন্তু তা গায়রুল্লাহর কাছে করলে, তা হবে শির্ক।
'দুআ' (প্রার্থনা করা), আর 'ইস্তিগাষা' (ফরিয়াদ করা)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, দুআ সাধারণ, যা প্রত্যেক অবস্থাতেই করা হয়, কিন্তু ইস্তিগাষা বা ফরিয়াদ হলো, আল্লাহকে বিপদের সময় ডাকা। এ সবই আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। তিনিই প্রার্থনাকারীদের প্রার্থনা শোনেন, তিনিই বিপদগ্রস্তদের উদ্ধার করেন, কাজেই যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে কোন নবী, ফেরেশতা, ওলী অথবা অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করে কিংবা যদি গায়রুল্লাহর কাছে এমন কিছু কামনা করে, যা কেবল আল্লাহরই ক্ষমতাধীন, তাহলে সে মুশরিক ও কাফের গণ্য হবে।
আর যেহেতু সে দ্বীন থেকে বহিষ্কৃত, সেহেতু সে জ্ঞানশূন্যও বিবেচিত হবে। কেননা, সৃষ্টির কারো কাছে অণু পরিমাণও উপকারিতা নেই, না সে নিজের জন্য কিছু করতে পারে, আর না অপরের জন্য। বরং সকলেই তাদের প্রত্যেক বিষয়ে আল্লাহরই মুখাপেক্ষী,

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী

📄 অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণী


অধ্যায় মহান আল্লাহ বলেন,
أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ، وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا [الأعراف: ۱۹۲-۱۹۱]
অর্থাৎ, "তারা কি এমন কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে যে একটি বস্তুও সৃষ্টি করে নি, বরং তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর তারা তাদের সাহায্যও করতে পারে না।” (সূরা আ'রাফঃ ১৯১-১৯২) তিনি আরো বলেন
وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ ﴾ [فاطر: ١٣]
অর্থাৎ, “আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাকো, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও অধিকারী নয়।” (সূরা ফাত্বিরঃ ১৩) সহী হাদীসে আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
شُجَّ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمَ أُحُدٍ، وكسرت رباعيته فَقَالَ: ((كَيْفَ يُفْلِحُ قَوْمٌ شَجُوا نَبِيَّهُمْ فَنَزَلَتْ لَيْسَ لَكَ مِنْ الْأَمْرِ شَيْءٌ
অর্থাৎ, ওহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ তাঁর মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হলে এবং তাঁর সামনের চারটি দাঁত ভেঙ্গে গেলে তিনি বলেন, "সেই জাতি কেমন করে সফলকাম হতে পারে, যারা তাদের নবীকে আঘাত দেয়? তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয় "এ ব্যাপারে তোমার কোন হাত নেই” সহী হাদীসেই ইবনে উমার থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহকে ফজরের শেষের রাকআতে রুকু' থেকে উঠার পর এবং 'সামিআল্লাহু লিমানহামিদাহ রাব্বানা লাকাল হামদু' বলার পর এই কথা বলতে শুনেছেন, 'হে আল্লাহ অমুক ও অমুকের উপর লা'নত বর্ষণ করো! তখন আল্লাহ এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন, “এ ব্যাপারে তোমার কোন হাত নেই.” অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাফওয়ান ইবনে উমায়্যা, সোহাইল ইবনে আম্র এবং হারিস ইবনে হিশামের উপরে বদ্দুআ করলে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়, "এ ব্যাপারে তোমার কোন হাত নেই."
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَامَ رَسُولُ الله ﷺ حِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ قَالَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ ، أَوْ كَلِمَةٌ نَحْوَهَا، اشْتَرُوا أَنفُسَكُمْ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا، يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا، يَا عَبَّاسُ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا، وَيَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللَّهِ لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا، وَيَا فَاطِمَةٌ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَلِينِي مَا شِئْتِ مِنْ مَالِي لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنْ اللَّهِ شَيْئًا))
অর্থাৎ, আবূ হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ -এর উপর যখন এই আয়াত "আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন” অবতীর্ণ হলো, তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, "হে কুরায়েশগণ অথবা এই ধরনের কোন বাক্য, তোমরা নিজেদের বাঁচার ব্যবস্থা করে নাও. আমি তোমাদের হয়ে আল্লাহর নিকট কিছুই করতে পারবো না. হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আব্বাস, আমি তোমার হয়ে আল্লাহর কাছে কিছুই করতে পারবো না। হে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ফুফু সাফিয়্যাঃ আমি তোমার হয়ে আল্লাহর নিকট কিছুই করতে পারবো না। হে মুহাম্মাদের বেটী ফাতেমা, আমার মাল-ধন থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও, তোমার হয়ে আল্লাহর নিকট কিছুই করতে পারবো না।"
কতিপয় মসলা জানা গেলো ১. আয়াত দু'টির ব্যাখ্যা। ২. ওহুদের ঘটনা। ৩. সাইয়েদুল মুরসালীন মুহাম্মাদ ﷺ-এর নামাযে কুনুত পাঠ এবং তাঁর পিছনে সাহাবায়ে কেরামদের আমীন বলা। ৪. যাদের উপর বদ্দুআ করা হয়েছে, তারা কাফের ছিলো। ৫. তারা এমন কিছু কাজ করে ছিলো, যা অধিকাংশ কাফেররা করে নি। যেমন, তাদের নবীকে আঘাত দেওয়া এবং তাঁকে হত্যা করতে আগ্রহী হওয়া। অনুরূপ মৃতদের শারীরিক বিকৃতি ঘটানো, অথচ তারা তাদেরই সম্প্রদায়ভুক্ত। ৬. এ ব্যাপারেই আল্লাহ তাঁর উপর এই আয়াত অবতীর্ণ করেন, “এ ব্যাপারে তোমার কোন হাত নেই।” ৭. আল্লাহর বাণী, “হয় আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন, না হয় তাদের শাস্তি দিবেন।” আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করলেন এবং তারা ঈমান আনলো। ৮. বিপদের সময় দুআয়ে কুনুত পড়া। ৯. বদ্দুআকৃত লোকদের নাম এবং তাদের পিতাদের নাম উল্লেখ করা।
১০. নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপর অভিসম্পাত করা।
১১. "আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন!” এই আয়াত অবতীর্ণ হলে নবী করীম যা করে ছিলেন, তার ঘটনা।
১২. সত্যের প্রচারের জন্য রাসূলুল্লাহ চরম সংগ্রাম করেছিলেন, এমন কি তাঁকে পাগল বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছিলো, আজও যদি কোন মুসলিম সত্যের প্রচার করতে যায়, তাকেও অনুরূপ বলা হবে।
১৩. নিকট আত্মীয় ও দূরাত্মীয় সকলের জন্য রাসূলের এই বাণী, "আমি তোমার হয়ে আল্লাহর নিকট কিছুই করতে পারবো না।” এমনকি বললেন, "হে ফাতিমাঃ বিনতে মুহাম্মাদ আমি তোমার হয়েও আল্লাহর নিকট কিছুই করতে পারবো না।”
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ এবারে তাওহীদের দলীল-প্রমাণ পেশ করা আরম্ভ হলো। তাওহীদের প্রমাণে রয়েছে কুরআন ও হাদীসের এবং যুক্তি-সম্বন্ধীয় এমন অনেক দলীল, যা অন্য বিষয়ের নেই, পূর্বে উল্লিখিত তাওহীদে রুবুবিয়্যা/ প্রতিপালকত্বের একত্ববাদ এবং তাওহীদে আসমা অস্-সিফাত/ নাম ও গুণাবলীর একত্ববাদ, এই দু'টিই হলো তাওহীদের সবচেয়ে বড় ও বলিষ্ঠ দলীল, কেননা, যিনি একমাত্র স্রষ্টা ও তত্ত্বাব-ধায়ক এবং সব দিক দিয়েই যিনিই একমাত্র পূর্ণতার অধিকারী, তিনি ব্যতীত উপাস্যের যোগ্য আর কেউ হতে পারে না। অনুরূপ সৃষ্টির ও আল্লাহর সাথে যার পূজা করা হয়, তাদের গুণাবলী সম্পর্কে অবগতি লাভও তাওহীদের বড় দলীল, কারণ, আল্লাহ ব্যতীত যারই ইবাদত করা হয়, তাতে সে কোন ফেরেশতা হোক, মানুষ হোক, বৃক্ষ হোক এবং পাথর ও তান্য যেই হোক না কেন, এ সবই আল্লাহর মুখাপেক্ষী এবং দুর্বল, এদের হাতে অণু পরিমাণও কোন উপকারিতা নেই, এরা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট। এরা ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনেরও তারা মালিক নয়। মহান আল্লাহই হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টের স্রষ্টা, তাদের আহারদাতা, সবকিছুর পরিচালক, ইষ্টানিষ্টের মালিক, দাতা ও রোধকারী, তাঁরই হাতে সব বস্তুর কর্তৃত্ব, সকল জিনিসের প্রত্যাবর্তন তারই দিকে, তাঁরই কাছে আশা করে এবং তারই সমীপে নত হয়।
মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের বহু স্থানে এবং তাঁর রাসূলের জবানি বারংবার যে দলীলের উল্লেখ করেছেন, তার চেয়ে বড় দলীল আর কোন্টা হতে পারে? ওটা যেমন আল্লাহর একত্ববাদের এবং তাঁর সত্যবাদিতার যুক্তিসংগত ও প্রকৃতিগত দলীল, তেমনি ওটা শ্রবণ-সম্বন্ধীয় শরীয়তী দলীলও বটে। অনুরূপ তা শির্ক বাতিল হওয়ারও দলীল।
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষ (মুহাম্মাদ ﷺ) তাঁর সব চেয়ে নিকটের যে এবং যার প্রতি তিনি বেশী করুণাসিক্ত, তারই যখন কোন উপকার করার তাধিকার রাখেন না, তখন অপরের কি করতে পারেন? কাজেই ধ্বংস হোক সে, যে আল্লাহর সাথে শরীক করে এবং সৃষ্টির কাউকে আল্লাহর সমতুল্য মনে করে তার দ্বীন বিলুপ্ত হওয়ার পর তার বিবেক-বুদ্ধিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে, মহান আল্লাহর গৌরবময় গুণাবলী এবং তাঁরই কেবল পূর্ণতার অধিকারী হওয়া, সব থেকে বৃহৎ দলীল যে, তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। সৃষ্টির যাবতীয় গুণাবলী, তার মধ্যে বিদ্যমান কমতি, প্রত্যেক ব্যাপারে স্বীয় প্রতিপালকের মুখাপেক্ষী হওয়া এবং তার প্রতিপালক যতটুকু পূর্ণতা দিয়েছেন, তা ব্যতীত কোন কিছুর অধিকার না রাখা হলো, তার উপাস্যতা বাতিল হওয়ার বড় প্রমাণ। সুতরাং যে আল্লাহ এবং সৃষ্টি সম্পর্কে অবগতি লাভ করবে, তার এই অবগতি তাকে বাধ্য করবে কেবল আল্লাহর ইবাদত করতে, তাঁর জন্য দ্বীন খালেস করতে, তাঁর প্রশংসা করতে, জবান ও অন্তরের দ্বারা তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে এবং সৃষ্টির উপর কোন আস্থা না রাখতে। আর এ সবই হবে, ভীতি, আশা ও লোভে। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00