📄 যেখানে গায়রুল্লাহর নামে জবাই করা হতো
যেখানে গায়রুল্লাহর নামে জবাই করা হতো, সেখানে আল্লাহর নামে জবাই করা জায়েয নয়
মহান আল্লাহ বলেন, ﴿لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا﴾ (التوبة : ١٠٨)
অর্থাৎ, “তুমি কখনো সেখানে দাঁড়াবে না।” (সূরা তাওবাঃ ১০৮)
عَنْ ثَابِتُ بْنُ الضَّحَاكِ ﷺ قَالَ : نَذَرَ رَجُلٌ أَنْ يَنْحَرَ إِبِلًا بِبْوَانَةَ فَسَأَلَ النَّبِيَّ فَقَالَ: ((هَلْ كَانَ فِيهَا وَثَنٌ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ ؟)) قَالُوا: لَا ، قَالَ: ((هَلْ كَانَ فِيهَا عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ ؟)) قَالُوا: لَا ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: أَوْفِ بِنَذْرِكَ فَإِنَّهُ لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ وَلَا فِيمَا لَا يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ)) رواه أبو داود وإسناده على شرطهما
অর্থাৎ, সাবেদ ইবনে যাহ-হাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বাওয়ানা নামক এক স্থানে একটি উট কোরবানী করার মানত করে। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রশ্ন করলেন, “সেখানে কি জাহেলিয়্যাতের মূর্তিসমূহের মধ্যে এমন কোন মূর্তি ছিলো, যার পূজা করা হতো?” সাহাবারা বললেন, না। তিনি ﷺ বলেন, “সেখানে কি জাহেলিয়্যাতের উৎসবসমূহের কোন উৎসব পালিত হতো?” সাহাবারা বললেন, না। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “তুমি তোমার মানত পূরণ করতে পারো, কারণ, আল্লাহর অবাধ্যে কোন মানত পূরণ করতে হয় না। আর সেই মানতও পূরণ করার দরকার নেই, যার মালিক আদম সন্তান নয়।” (আবু দাউদ)
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. “সেখানে কখনো দাঁড়াবে না।” এই আয়াতের ব্যাখ্যা। ২. যমীনে পাপের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, অনুরূপ পুণ্যেরও ভাল প্রভাব ঘটে থাকে। ৩. অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট বিষয়ের দিকে ফিরানো জটিলতা দূরী-করণের জন্য। ৪. মুফতীর বিশ্লেষণ কামনা করা, যদি এর প্রয়োজন বোধ করে। ৫. কোন নির্দিষ্ট স্থানে মানত করায় কোন দোষ নেই, যদি নিষিদ্ধ জিনিস থেকে মুক্ত হয়। ৬. কোন স্থানে জাহেলী যুগের কোন মূর্তি থাকলে, সেখানে কোন কিছুর মানত করা থেকে নিষেধ প্রদান, যদিও তা মিটিয়ে দেওয়ার পর হয়। ৭. জাহেলী যুগের কোন ঈদ পালিত হতো এমন স্থানেও কোন কিছুর মানত করা নিষেধ, যদিও তার চিহ্ন মিটিয়ে দেওয়ার পর হয়। ৮. এই ধরনের স্থানে কোন কিছুর মানত করা হলে, তা পূরণ করা জায়েয নয়, কারণ, তা পাপাচার। ৯. মুশরিকদের উৎসবের সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকে সতর্কতা, যদিও তার উদ্দেশ্য তা না থাকে।
১০. পাপের কাজে কোন মানত করতে হয় না।
১১. এমন জিনিসের মানত আদম সন্তান করবে না, যার সে মালিক নয়।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ আগের অধ্যায়ের সাথে এই অধ্যায়ের বড় সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে, আগের অধ্যায়ে ছিলো বড় শির্কের অন্তর্ভুক্ত জিনিস। আর এই অধ্যায় হলো, শির্কের খুব নিকটতম মাধ্যমের ব্যাপারে, কারণ, যে স্থানে মুশরিকরা তাদের উপাস্যদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহর সাথে শির্ক করে জবাই করতো, তা শির্কের স্থানসমূহের এক স্থানে পরিণত হয়ে গেছে, তাই কোন মুসলিম যদি সেখানে কোন পশু জবাই করে, তাহলে তা আল্লাহর জন্যে হলেও মুশরিকদের সাদৃশ্য গ্রহণে পরিণত হবে এবং শির্কে তাদের সাথে শরীক করা হবে। আর বাহ্যিক (কার্যকলাপে) তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ, অভ্যন্তরীণ (কার্যকলাপে) তাদের সাদৃশ্য গ্রহণের এবং তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার দাওয়াত দিবে। আর এই জন্যেই চাল-চলনে, ঈদে-উৎসবে এবং পোশাক-পরিচ্ছদসহ যাবতীয় বিষয়ে কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করতে ইসলাম নিষেধ দান করেছে, যাতে মুসলিমদেরকে এমন বাহ্যিক বিষয়ে তাদের মত হওয়া থেকে দূরে রাখা যায়, যা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার মাধ্যম ও অসীলা। এমন কি তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকে বাঁচার জন্য নিষিদ্ধ সময়ে নফল নামায আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ, এই সময় মুশরিকরা গায়রুল্লাহকে সিজদা করে থাকে।
📄 গায়রুল্লাহর নামে মানত করা
গায়রুল্লাহর নামে মানত করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত
মহান আল্লাহ বলেন,
يُؤْفُوْنَ بِالنَّدْرِ الدهر : 7
অর্থাৎ, “তারা মানত পূরণ করে.” (সূরা দাহ্রঃ৭) তিনি আরো বলেন,
وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ نَفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُمْ مِنْ نَذْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُهُ﴾ (البقرة: ۲۷۰)
অর্থাৎ, “তোমরা যা কিছু দান-খয়রাত করো কিংবা যে কোন মানত করো, আল্লাহ নিশ্চয় সেসব কিছু জানেন.” (সূরা বাক্বারা ২৭০
وفي الصحيح عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَن رسول الله ﷺ قَالَ: ((مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَهُ فَلَا يَعْصِهِ))
অর্থাৎ, সহীহ হাদীসে আয়েশা রাযীআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফার- মানী করার মানত করে, সে যেন তাঁর নাফারমানী না করে।"
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. মানত পূরণ করা ওয়াজিব। ২. যখন প্রমাণ হলো যে, (মানত) আল্লাহর ইবাদত, তখন তা অন্যের জন্য করা শির্ক হবে। ৩. পাপের' কাজের মানত করলে, তা পূরণ করা জায়েয নয়।
📄 গায়রুল্লাহর আশ্রয় কামনা করা
গায়রুল্লাহর আশ্রয় কামনা করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْإِنْسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِنَ الْجِنَّ فَزَادُوهُمْ رَهَقاً
অর্থাৎ, “অনেক মানুষ অনেক জ্বিনের আশ্রয় নিতো, ফলে তারা জ্বিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিতো.” (সূরা জ্বিনঃ ৬)
عَنْ خَوْلَةَ بِنْتَ حَكِيمٍ رضي الله عنها قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ: ( ( مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا فَقَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ الله التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ)) رواه مسلم
অর্থাৎ, খাওলা বিনতে হাকীম (রাযীআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোন স্থানে অবতরণ করার পর (আউযু বি কালিমাতিল্লাহিত্তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব) দুআটি পাঠ করলো, যার অর্থ 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্য দ্বারা তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি, তাহলে সেই স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত কোন জিনিস তার অনিষ্ট করতে পারবে না.” (মুসলিম)
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. সূরা জ্বিনের আয়াতের ব্যাখ্যা. ২. গায়রুল্লাহর আশ্রয় চাওয়া শির্ক, ৩. গায়রুল্লাহর সাহায্য চাওয়াও শির্ক তা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, কেননা, উলামায়ে কেরامগণ এই হাদীস দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, আল্লাহর বাক্যসমূহ সৃষ্ট নয়, কারণ, সৃষ্টির আশ্রয় চাওয়া শির্ক,
৪. সংক্ষিপ্ত হলেও এই দুআর ফযীলত অনেক।
৫. কোন জিনিস দ্বারা পার্থিব কোন লাভ অর্জন হওয়া এ কথা প্রমাণ করে না যে, তা শির্ক নয়, যেমন কোন ক্ষতি থেকে মুক্তি লাভ অথবা কোন উপকার অর্জন।
📄 গায়রুল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া
গায়রুল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া অথবা গায়রুল্লাহকে আহ্বান করা শির্ক
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন,
وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ الله مَا لا يَنْفَعُكَ وَلا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذَا مِنَ الظَّالِمِينَ، وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللهُ بِضُرٍّ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ (يونسঃ ১০৬-১০৭
অর্থ, "আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবে না, যে তোমার ভাল করবে না, মন্দও করবে না। বস্তুতঃ তুমি যদি এমন কাজ করো, তাহলে তখন তুমিও যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন, তাহলে তিনি ব্যতীত তা খন্ডাবার মত কেউ নেই।” (সূরা ইউনুসঃ ১০৬-১০৭) তিনি আরো বলেন,
فَابْتَغُوا عِنْدَ اللهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ ﴾ (العنكبوت: ۱۷)
অর্থাৎ, “তোমরা আল্লাহর কাছে রিযিক তালাশ করো এবং তাঁরই ইবাদত করো” (সূরা আনকাবূতঃ ১৭) তিনি অন্যত্র বলেন,
وَمَنْ أَضَلُّ لِمَنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ [الأحقاف : ٥]
অর্থা, "যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন সত্তাকে ডাকে, যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে?" (সূরা আহক্বাফঃ ৫) তিনি আরো বলেন,
أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ﴾ [النمل: ٦২]
অর্থাৎ, "বলো তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন, যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন।” (সূরা নামালঃ ৬২) ইমাম তাবরানী বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যামানায় এক মুনাফেক ছিলো যে মু'মিনদের কষ্ট দিতো তাই কেউ কেউ বললো, চলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এই মুনাফেক থেকে নিষ্কৃতির জন্য সাহায্য কামনা করি। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,
(( إنه لا يُسْتَغَاتُ بِي، وَإِنَّمَا يُسْتَغَاثُ بِالله ))
অর্থাৎ, “আমার নিকট সাহায্য কামনা করতে হয় না, বরং আল্লাহর নিকটই সাহায্য কামনা করতে হয়."
কতিপয় মসলা জানা গেলো,
১. দুআকে সাহায্য চাওয়ার সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে, সাধারণ জিনিসকে বিশেষ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করা। ২. সূরা ইউনুসের আয়াতের তাফসীর। ৩. এটা (গায়রুল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া) হলো, বড় শির্ক, ৪. কোন সৎলোক গায়রুল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে যদি তা করে, তবে সে যালিমদের দলভুক্ত হবে। ৫. পরের আয়াতের তাফসীর। ৬. কুফরী হওয়ার সাথে সাথে তা দুনিয়াতেও কোন উপকারে আসবে না।
৭. তৃতীয় আয়াতের তাফসীর।
৮. রুজী কেবল আল্লাহর নিকট কামনা করা উচিত। অনুরূপ জান্নাতও তাঁরই নিকট চাইতে হয়।
৯. চতুর্থ আয়াতের তাফসীর।
১০. যে গায়রুল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে, তার চেয়ে অধিক ভ্রষ্ট আর কেউ নেই।
১১. যাকে ডাকে, সে আহ্বানকারীর ব্যাপারে উদাসীন। তার সম্পর্কে সে কিছুই জানে না।
১২. যাকে ডাকা হয়, এই ডাক তার প্রতি আহ্বানকারীর অসন্তুষ্টির ও শত্রুতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১৩. যাকে ডাকা হয়, এই ডাক তার ইবাদতেরই নামান্তর।
১৪. যাকে ডাকা হয়, এই ইবাদতের কারণে তার কুফরী সাব্যস্ত হয়।
১৫. এই আহ্বানই আহ্বানকারীকে সর্বাধিক ভ্রষ্ট মানুষে পরিণত করে।
১৬. পঞ্চম আয়াতের তাফসীর।
১৭. আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, মূর্তি পূজকরাও স্বীকার করে যে, নিঃস- হায়ের ডাকে আল্লাহ ছাড়া কেউ সাড়া দিতে পারে না। আর এই কারণেই তারা ভয়াবহ বিপদে কেবল আল্লাহকেই ডাকতো।
১৮. রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর তাওহীদের সমর্থন এবং আল্লাহর প্রতি আদব শিক্ষাদান।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ
বিগত অধ্যায়ে উল্লিখিত বড় শির্কের যে সংজ্ঞা বলা হয়েছে, অর্থাৎ, (যে ব্যক্তি ইবাদতের কোন কিছুকে গায়রুল্লাহর জন্য সম্পাদন করে, সে মুশরিক বিবেচিত হয়) এই সংজ্ঞা বুঝে থাকলে, এই তিনটি অধ্যায়, যা লেখক পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করেছেন, বুঝতে সক্ষম হবে। কেননা, মানত করা একটি ইবাদত মানত পূরণকারী আল্লাহ কর্তৃক প্রশংসিত, রাসূলুল্লাহ আনুগত্যের মানত পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর যেসব কাজের শরীয়ত প্রশংসা করেছে, অথবা তার সম্পাদনকারীর তারীফ করেছে কিংবা তার নির্দেশ দিয়েছে, তা ইবাদত বলেই গণ্য হয়। কারণ, ইবাদত হলো, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় কথা ও কাজের এমন এক নাম, যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট আর মানত এরই অন্তর্ভুক্ত।
অনুরূপ আল্লাহ প্রত্যেক অনিষ্ট থেকে বাঁচতে তাঁরই নিকট আশ্রয় কামনা করার এবং প্রত্যেক কষ্ট ও বিপদ থেকে রক্ষার জন্য তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, এগুলো কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করলে, তা হবে ঈমান ও তাওহীদ, কিন্তু তা গায়রুল্লাহর কাছে করলে, তা হবে শির্ক।
'দুআ' (প্রার্থনা করা), আর 'ইস্তিগাষা' (ফরিয়াদ করা)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো, দুআ সাধারণ, যা প্রত্যেক অবস্থাতেই করা হয়, কিন্তু ইস্তিগাষা বা ফরিয়াদ হলো, আল্লাহকে বিপদের সময় ডাকা। এ সবই আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। তিনিই প্রার্থনাকারীদের প্রার্থনা শোনেন, তিনিই বিপদগ্রস্তদের উদ্ধার করেন, কাজেই যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে কোন নবী, ফেরেশতা, ওলী অথবা অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করে কিংবা যদি গায়রুল্লাহর কাছে এমন কিছু কামনা করে, যা কেবল আল্লাহরই ক্ষমতাধীন, তাহলে সে মুশরিক ও কাফের গণ্য হবে।
আর যেহেতু সে দ্বীন থেকে বহিষ্কৃত, সেহেতু সে জ্ঞানশূন্যও বিবেচিত হবে। কেননা, সৃষ্টির কারো কাছে অণু পরিমাণও উপকারিতা নেই, না সে নিজের জন্য কিছু করতে পারে, আর না অপরের জন্য। বরং সকলেই তাদের প্রত্যেক বিষয়ে আল্লাহরই মুখাপেক্ষী,