📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 বৃক্ষ ও পাথর প্রভৃতির দ্বারা বরকত অর্জন করা

📄 বৃক্ষ ও পাথর প্রভৃতির দ্বারা বরকত অর্জন করা


যে ব্যক্তি বৃক্ষ অথবা পাথর প্রভৃতির দ্বারা বরকত অর্জন করে
মহান আল্লাহ বলেন,
أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّى، وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى) (النجم: ١٩-٢٠)
অর্থাৎ, "তোমরা কি ভেবে দেখেছো লাত ও ওযযা সম্পর্কে? এবং তৃতীয় আর একটি মানাত সম্পর্কে?” (সূরা নাজমঃ ১৯-২০)
عن أبي واقد الليثي قال : (( خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ إِلَى حُنَيْنِ، وَنَحْنُ حُدَثَاءُ عَهْدٍ بِكُفْرٍ، وَلِلْمُشْرِ كِيْنَ سِدْرَةٌ يَعْكِفُوْنَ عِنْدَهَا وَيَنُوطُوْنَ بِهَا أَسْلِحَتَهُمْ، يُقَالُ لَهَا ذَاتُ أَنْوَاطٍ، فَمَرَرْنَا بِسِدْرَةٍ فَقُلْنَا : يَا رَسُوْلَ اللهِ، اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا هُمْ ذَاتُ أَنْوَاطٍ، فَقَالَ رَسُوْلُ الله ﷺ: الله أكبر إنها السنن، قُلْتُمْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِنَّهَا كَمَا لَهُمْ آهِمَةً، قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ ﴾ لَتَرْكَبُنَّ سُنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ سُنَّةٌ سُنَّةٌ ))
অর্থাৎ, "আবু ওয়াক্বিদ আল-লায়সী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম -এর সাথে হুনাইন অভিমূখে রওনা হই আমরা তখন নবাগত মুসলমান ছিলাম। মুশরিকদের একটি কুলের (বরই) গাছ ছিলো। সেখানে তারা বসতো এবং তাতে তাদের অস্ত্র ঝুলিয়ে রাখতো। এই গাছটিকে ‘যাতু আনওয়াত’ বলা হতো। আমরাও একটি কুলের গাছের পাশ দিয়ে যখন যাচ্ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ -কে বললাম, ওদের মত করে আমাদের জন্যও একটি 'যাতু আনওয়াত' নির্দিষ্ট করে দিন। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, 'আল্লাহু আকবার' এটা তো (ভ্রান্ত জাতির) রীতি-নীতি, সেই আল্লাহর শপথ করে বলছি, যাঁর হাতে আমার জান, এটা ঐ ধরনের কথা, যা বানী ইস্রাইলরা মূসাকে বলেছিল, তারা বলেছিল, 'হে মূসা! আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের মূর্তির মতই একটি মূর্তি নির্মাণ করে দিন'। তোমরা পূর্বেকার (বিভ্রান্ত জাতির) রীতি-নীতির অনুসরণ করবে। (তিরমিযী)
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. সূরা নাজমের আয়াতের ব্যাখ্যা। ২. তাদের চাওয়া জিনিসটির বাস্তব পরিচয় দান। ৩. তাদের শির্ক করার ইচ্ছা ছিলো না। ৪. তাদের এই চাওয়ার মাধ্যমে উদ্দেশ্য ছিলো, আল্লাহর নৈকট্য লাভ। কারণ, তাদের ধারণা ছিলো এটা আল্লাহ পছন্দ করেন। ৫. সাহাবায়ে কেরামগণ যখন এ ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলেন, তখন অন্যদের অজ্ঞ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। ৬. সাহাবায়ে কেরামদের রয়েছে এমন পূণ্য-পুরস্কার এবং ক্ষমার প্রতিশ্রুতি, যা অন্যদের নেই। ৭. রাসূলুল্লাহ ﷺ এই ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামগণের ওযর কবুল করেন নাই, বরং তাঁদের প্রতিবাদ করে বলেন, 'আল্লাহু আকবার' এটা তো (ভ্রান্ত জাতির) রীতি-নীতি, তোমরা পূর্বের (ভ্রান্ত জাতির) রীতি-নীতির অনুসরণ করবে। এই তিনটি বাক্যের দ্বারা তিনি এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ৮. বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আর এটাই এখানে লক্ষণীয়, রাসূলুল্লাহ ﷺ জ্ঞাত করালেন যে, তাদের এই চাওয়া বানী ইস্রাইলদের চাওয়ার মতনই, তারা মূসাকে বলেছিলেন, 'আমাদের জন্যও একটি উপাস্য বানিয়ে দাও।'
৯. অতি সূক্ষ্ম রহস্যবৃত হলেও এসবের বরকতের অস্বীকার করা হলো, 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র তাৎপর্যের অন্তর্ভুক্ত।
১০. তিনি ফাতাওয়ার উপর শপথ গ্রহণ করেছেন।
১১. শির্কের মধ্যে ছোট ও বড় রয়েছে, কারণ, এই চাওয়ার কারণে তাদেরকে মুর্তাদ ভাবা হয় নি।
১২. তাদের কথা, 'আমরা নবাগত মুসলিম ছিলাম' থেকে জানা গেল যে, অন্যদের ওযর গ্রহণীয় নয়।
১৩. আশ্চর্য বোধ করলে, তাকবীর পাঠ করা। যারা অপছন্দ করে, তাদের বিরুদ্ধে এটা দলীল।
১৪. শির্কের পথ বন্ধ করা।
১৫. জাহেলী যুগের লোকদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকে নিষেধ প্রদান।
১৬. শিক্ষাদানের সময় রাগান্বিত হওয়া।
১৭. একটি সর্ব সম্মত নিয়ম রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাক্যের দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, 'এটা পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি।
১৮. এটা নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহের অন্যতম নিদর্শন, কারণ, তিনি যার খবর দিয়েছেন, তা-ই সংঘটিত হয়েছে।
১৯. আল্লাহ তা'য়ালা যে জন্য ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান জাতির দুর্নাম করেছেন, তা আমাদের জন্যও।
২০. তাদের সর্ব সম্মত স্বীকৃতি যে, ইবাদতের মূল উৎস হলো, (আল্লাহর) নির্দেশ। এ থেকে কবরের জিজ্ঞাসাবাদের গুরুত্ব প্রকাশ পায়। এতে রয়েছে 'তোমার রব কে'? এটা জিজ্ঞাসাবাদ খুবই স্পষ্ট আর এতে রয়েছে 'তোমার নবী কে'? এটা রাসূলুল্লাহ-এর ভবিষ্যদ্বাণীর দ্বারা অবগত হওয়া যায়। এতে আরো রয়েছে, ‘তোমার দ্বীন কি’? এটা তাদের কথার দ্বারা অবগত হওয়া যায় যে, ‘আমাদের জন্যও মা'বুদ নির্দিষ্ট করে দিন।’ ২১. বাতিলকে ত্যাগ করে (ইসলামের) দিকে মত পরিবর্তনকারীর অন্তরে উক্ত বাতিলের কোন কিছু অবশিষ্ট থাকা অস্বাভাবিক কিছুই নয়।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ বৃক্ষ অথবা পাথর প্রভৃতির দ্বারা বরকত অর্জন শির্ক ও মুশরিকদের আমলের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, আলেমগণ এ ব্যাপারে এক মত যে, বৃক্ষাদি, পাথর এবং কোন পবিত্র স্থান ইত্যাদির মাধ্যমে বরকত অর্জন করা জায়েয নয়। কারণ, এগুলোর দ্বারা বরকত অর্জন করার অর্থ হলো, এগুলোর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা। আর এই জিনিসই ধীরে ধীরে তার নিকট দুআ করার ও তার ইবাদতের দিকে ঠেলে দিবে। আর এটা বড় শির্কের আওতায় পড়ে। এই হুকুম সাধারণ হুকুম। তাই মাক্কামে ইবরাহীম, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হুযরা এবং বায়তুল মুক্বাদ্দাসের পাথরসহ কোন মর্যাদাসম্পন্ন স্থান দ্বারা বরকত অর্জন করা যাবে না। তবে হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ করা ও চুমা দেওয়া এবং কা'বার রুকনে ইয়ামানীকে স্পর্শ করা হলো, আল্লাহর ইবাদত। আর এতে আল্লাহকেই সম্মান করা হয় এবং তাঁরই জন্য নত হওয়া হয়। অতএব এটা হলো, স্রষ্টাকে সম্মান দেওয়া ও তাঁর ইবাদত করা, আর ওটা হলো, সৃষ্টিকে সম্মান দেওয়া ও তার পূজা করা। এই দু'টি জিনিসের মধ্যে পার্থক্য হলো, আল্লাহর নিকট দুআ ও সৃষ্টির নিকট দুআ করার মত। আল্লাহর নিকট দুআ করা হলো, তাওহীদ ও ইখলাস, আর কোন সৃষ্টির নিকট দুআ করা হলো, শরীক ও অংশীদার স্থাপন করা।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 গায়রুল্লাহর নামে জবাই করা

📄 গায়রুল্লাহর নামে জবাই করা


গায়রুল্লাহর নামে জবাই করা প্রসঙ্গে
মহান আল্লাহ বলেন,
قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَاتِي اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ) (الأنعام: ١٦٢-١٦٣)
অর্থাৎ, “আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার নামায, আমার কোরবানী এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। তাঁর কোন অংশীদার নেই।” (সূরা আনআমঃ ১৬২-১৬৩) তিনি আরো বলেন,
﴿فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ﴾ (الكوثر : ٢)
অর্থাৎ, “তোমার প্রতিপালকের জন্য নামায পড়ো এবং তাঁরই জন্য কোরবানী করো” (সূরা কাউষারঃ ২)
عَنْ عَلِيٌّ قَالَ : حَدَّثَنِي رَسُولُ الله ﷺ بِأَرْبَعِ بِكَلِمَاتٍ: لَعَنَ اللَّهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَيْهِ، وَلَعَنَ اللهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ الله، وَلَعَنَ اللهُ، مَنْ آوَى مُحْدِثًا، وَلَعَنَ اللَّهُ مَنْ غَيَّرَ مَنَارَ الْأَرْضِ)) رواه مسلم
অর্থাৎ, “আলী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ চারটি জিনিস সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন (আর তা হলো,) “তার প্রতি আল্লাহর লানত, যে তার পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করে। তার প্রতিও আল্লাহর লানত, যে গায়রুল্লাহর নামে জবাই করে। আর তার প্রতি আল্লাহর লানত, যে কোন বিদআতীকে আশ্রয় দেয়, এবং তার প্রতিও আল্লাহর লানত, যে যমীনের চিহ্ন পরিবর্তন করে দেয়.' (মুসলিম)
عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: (( دَخَلَ الجنة رَجُلٌ فِي ذُبَابٍ، وَدَخَلَ النَّارَ رَجُلٌ فِي ذُبَابٍ)) قَالُوا: وَكَيْفَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ: (( مَر رَجُلانِ عَلَى قَوْمٍ هُمْ صَنَمٌ لا يجوزه أَحَدٌ حَتَّى يُقَرِّبُ لَهُ شَيْئًا، فَقَالُوا لأحدهما : قرب، قال: لَيْسَ عندي شَيءٌ أَقرَبُ، قَالُوْا لَهُ: قَرِبْ وَلَوْ ذُبَاباً، فَقَرب ذباباً فَخَلُوا سَبِيلَهُ، فَدَخَلَ النار. وقالوا للآخر: قرب، قال: ما كنت لأقرب لأحد شيئا دون الله عز وجل، فضربوا عنقه، فدخل الجنة)) رواه احمد
তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “এক ব্যক্তি একটি মাছির কারণে জান্নাতে প্রবেশ করেছে, আর এক ব্যক্তি একটি মাছির কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে।” সাহাবায়ে কেরামগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল এটা কিভাবে হলো? তিনি ﷺ বললেন, “দুই ব্যক্তি এমন এক জাতির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, যাদের মূর্তি ছিলো। তারা কাউকে ততক্ষণ পর্যন্ত ছাড়তো না, যতক্ষণ না মূর্তির জন্য কোন কিছু পেশ করতো। তারা একজনকে বললো, কিছু পেশ করো। সে বললো, আমার কাছে পেশ করার মত কিছুই নেই। তারা বললো, পেশ করো, যদিও একটি মাছি হয়। তখন সে একটি মাছি পেশ করে দিলে তারা তাকে ছেড়ে দিলো। ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করলো। অতঃপর অপরজনকে বললো, পেশ করো, সে বললো, আমি গৌরবময় আল্লাহ ব্যতীত কারো জন্যে কোন কিছু পেশ করতে পারি না। তখন তারা তাকে হত্যা করলো। ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করলো।” (আহমদ)
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. সূরা আনআমের আয়াতের ব্যাখ্যা। ২. সূরা কাউসারের আয়াতের ব্যাখ্যা।
৩. তার প্রতি লা'নতের ব্যাপার দিয়ে আরম্ভ করা, যে গায়রুল্লাহর নামে জবাই করে।
৪. তার প্রতি আল্লাহর লা'নত যে তার পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করে। আর এটাও পিতা-মাতার প্রতি লা'নত করার পর্যায় পড়ে যে, তুমি কারো পিতা-মাতাকে লা'নত করবে, ফলে সেও তোমার পিতা-মাতাকে লা'নত করবে।
৫. তার প্রতি আল্লাহর লা'নত, যে কোন বিদাআতীকে আশ্রয় দেয়। অর্থাৎ, এমন ব্যক্তি যে দ্বীনে কোন কিছু আবিষ্কার করার কারণে তার উপর আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন অপরিহার্য হয়ে গেলো, আর তখন সে কারো আশ্রয় কামনা করলে, তাকে সে আশ্রয় দিলো।
৬. তার প্রতি আল্লাহর লা'নত, যে যমীনের চিহ্নকে পরিবর্তন করে। অর্থাৎ, এমন চিহ্ন, যা তোমার ও তোমার প্রতিবেশীর যমীনের অংশের মধ্যে পার্থক্য করে, তা আগে বা পিছে সরিয়ে পরিবর্তন করা।
৭. কোন নির্দিষ্ট মানুষের প্রতি লা'নত এবং সাধারণভাবে কারো প্রতি লা'নত করার মধ্যে পার্থক্য।
৮. একটি মাছির কারণে জান্নাতে ও জাহান্নামে যাওয়ার ঘটনা, বড় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
৯. মাছির কারণে জাহান্নামে গেল, অথচ তার উদ্দেশ্য তাদের অনিষ্ট থেকে মুক্তি লাভ ছাড়া আর কিছুই ছিলো না।
১০. মু'মিনদের অন্তরে শির্ক কত ভয়াবহ যে, হত্যা হওয়াকে মেনে নিলো। কিন্তু তাদের সাথে তাদের চাওয়ার ব্যাপারে একমত হতে পারলো না। অথচ বাহ্যিক আমল ব্যতীত তাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিলো না।
১১. যে ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করলো, সে মুসলমান ছিলো, কারণ, কাফের হলে রাসূলুল্লাহ ﷺ এ কথা বলতেন না যে, “একটি মাছির কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করলো।”
১২. এই হাদীস সেই হাদীসের সমর্থন করে, যাতে আছে, “জান্নাত তোমাদের কারো নিকট তার জুতার ফিতার থেকেও নিকটে এবং জাহান্নামও অনুরূপ।”
১৩. অন্তরের আমলই বড় লক্ষণীয়, এমনকি মূর্তিপূজকদের নিকটেও।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ গায়রুল্লাহর নামে জবাই করা শির্ক, কারণ, কিতাব ও সুন্নাহর দলীলাদি পরিষ্কারভাবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য জবাই করাকে নির্দিষ্ট করে। যেমন পরিষ্কারভাবে নামাযের ব্যাপারে বলা হয়েছে, আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর কিতাবের বহু স্থানে জবাই করাকে নামাযের সাথে উল্লেখ করেছেন, আর এ কথা যখন প্রমাণিত যে, জবাই হলো মহান ইবাদত এবং বড় আনুগত্যের কাজ, তখন তা গায়রুল্লাহর নামে সম্পাদন করা হবে, ইসলাম থেকে বহিষ্কারকারী বড় শির্ক, কেননা, বড় শির্কের সংজ্ঞা এবং তার যে ব্যাখ্যায় সমস্ত প্রকারকে জমা করে দেওয়া হয়েছে তা হলো, কোন প্রকারের ইবাদত বা ইবাদতের কোন কিছুকে গায়রুল্লাহর নামে সম্পাদন করা। কাজেই যে কোন বিশ্বাস অথবা কথা ও কাজ শরীয়ত কর্তৃক নির্দেশিত হবে, তা কেবল আল্লাহর জন্য সম্পাদন করা হবে তাওহীদ, ঈমান এবং ইখলাস, আর গায়রুল্লাহর জন্য করলে হবে। শির্ক ও কুফরী, বড় শির্কের এই সংজ্ঞা মনে রাখো, যা থেকে কোন কিছু বাদ পড়বে না। যেমন ছোট শির্কের সংজ্ঞা হলো, ইচ্ছা এবং কথা ও কাজের এমন অসীলা ও মাধ্যম, যা বড় শির্ক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, তবে তা ইবাদতের ধাপে পৌঁছে না। ছোট ও বড় শির্কের এই সংজ্ঞা মনে রাখো, কারণ, এটা তোমাকে বিগত ও আগত অধ্যায় বুঝতে সাহায্য করবে। আর এরই মাধ্যমে তুমি সন্দেহজনক অনেক বিষয়ের পার্থক্য করতে পারবে। আল্লাহই সাহায্যকারী।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 যেখানে গায়রুল্লাহর নামে জবাই করা হতো

📄 যেখানে গায়রুল্লাহর নামে জবাই করা হতো


যেখানে গায়রুল্লাহর নামে জবাই করা হতো, সেখানে আল্লাহর নামে জবাই করা জায়েয নয়
মহান আল্লাহ বলেন, ﴿لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا﴾ (التوبة : ١٠٨)
অর্থাৎ, “তুমি কখনো সেখানে দাঁড়াবে না।” (সূরা তাওবাঃ ১০৮)
عَنْ ثَابِتُ بْنُ الضَّحَاكِ ﷺ قَالَ : نَذَرَ رَجُلٌ أَنْ يَنْحَرَ إِبِلًا بِبْوَانَةَ فَسَأَلَ النَّبِيَّ فَقَالَ: ((هَلْ كَانَ فِيهَا وَثَنٌ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ ؟)) قَالُوا: لَا ، قَالَ: ((هَلْ كَانَ فِيهَا عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ ؟)) قَالُوا: لَا ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: أَوْفِ بِنَذْرِكَ فَإِنَّهُ لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ وَلَا فِيمَا لَا يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ)) رواه أبو داود وإسناده على شرطهما
অর্থাৎ, সাবেদ ইবনে যাহ-হাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বাওয়ানা নামক এক স্থানে একটি উট কোরবানী করার মানত করে। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রশ্ন করলেন, “সেখানে কি জাহেলিয়্যাতের মূর্তিসমূহের মধ্যে এমন কোন মূর্তি ছিলো, যার পূজা করা হতো?” সাহাবারা বললেন, না। তিনি ﷺ বলেন, “সেখানে কি জাহেলিয়্যাতের উৎসবসমূহের কোন উৎসব পালিত হতো?” সাহাবারা বললেন, না। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “তুমি তোমার মানত পূরণ করতে পারো, কারণ, আল্লাহর অবাধ্যে কোন মানত পূরণ করতে হয় না। আর সেই মানতও পূরণ করার দরকার নেই, যার মালিক আদম সন্তান নয়।” (আবু দাউদ)
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. “সেখানে কখনো দাঁড়াবে না।” এই আয়াতের ব্যাখ্যা। ২. যমীনে পাপের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, অনুরূপ পুণ্যেরও ভাল প্রভাব ঘটে থাকে। ৩. অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট বিষয়ের দিকে ফিরানো জটিলতা দূরী-করণের জন্য। ৪. মুফতীর বিশ্লেষণ কামনা করা, যদি এর প্রয়োজন বোধ করে। ৫. কোন নির্দিষ্ট স্থানে মানত করায় কোন দোষ নেই, যদি নিষিদ্ধ জিনিস থেকে মুক্ত হয়। ৬. কোন স্থানে জাহেলী যুগের কোন মূর্তি থাকলে, সেখানে কোন কিছুর মানত করা থেকে নিষেধ প্রদান, যদিও তা মিটিয়ে দেওয়ার পর হয়। ৭. জাহেলী যুগের কোন ঈদ পালিত হতো এমন স্থানেও কোন কিছুর মানত করা নিষেধ, যদিও তার চিহ্ন মিটিয়ে দেওয়ার পর হয়। ৮. এই ধরনের স্থানে কোন কিছুর মানত করা হলে, তা পূরণ করা জায়েয নয়, কারণ, তা পাপাচার। ৯. মুশরিকদের উৎসবের সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকে সতর্কতা, যদিও তার উদ্দেশ্য তা না থাকে।
১০. পাপের কাজে কোন মানত করতে হয় না।
১১. এমন জিনিসের মানত আদম সন্তান করবে না, যার সে মালিক নয়।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণঃ আগের অধ্যায়ের সাথে এই অধ্যায়ের বড় সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে, আগের অধ্যায়ে ছিলো বড় শির্কের অন্তর্ভুক্ত জিনিস। আর এই অধ্যায় হলো, শির্কের খুব নিকটতম মাধ্যমের ব্যাপারে, কারণ, যে স্থানে মুশরিকরা তাদের উপাস্যদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আল্লাহর সাথে শির্ক করে জবাই করতো, তা শির্কের স্থানসমূহের এক স্থানে পরিণত হয়ে গেছে, তাই কোন মুসলিম যদি সেখানে কোন পশু জবাই করে, তাহলে তা আল্লাহর জন্যে হলেও মুশরিকদের সাদৃশ্য গ্রহণে পরিণত হবে এবং শির্কে তাদের সাথে শরীক করা হবে। আর বাহ্যিক (কার্যকলাপে) তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ, অভ্যন্তরীণ (কার্যকলাপে) তাদের সাদৃশ্য গ্রহণের এবং তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার দাওয়াত দিবে। আর এই জন্যেই চাল-চলনে, ঈদে-উৎসবে এবং পোশাক-পরিচ্ছদসহ যাবতীয় বিষয়ে কাফেরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করতে ইসলাম নিষেধ দান করেছে, যাতে মুসলিমদেরকে এমন বাহ্যিক বিষয়ে তাদের মত হওয়া থেকে দূরে রাখা যায়, যা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার মাধ্যম ও অসীলা। এমন কি তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা থেকে বাঁচার জন্য নিষিদ্ধ সময়ে নফল নামায আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ, এই সময় মুশরিকরা গায়রুল্লাহকে সিজদা করে থাকে।

📘 তাওহিদের সরল ভাষ্য > 📄 গায়রুল্লাহর নামে মানত করা

📄 গায়রুল্লাহর নামে মানত করা


গায়রুল্লাহর নামে মানত করা শির্কের অন্তর্ভুক্ত
মহান আল্লাহ বলেন,
يُؤْفُوْنَ بِالنَّدْرِ الدهر : 7
অর্থাৎ, “তারা মানত পূরণ করে.” (সূরা দাহ্‌রঃ৭) তিনি আরো বলেন,
وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ نَفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُمْ مِنْ نَذْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُهُ﴾ (البقرة: ۲۷۰)
অর্থাৎ, “তোমরা যা কিছু দান-খয়রাত করো কিংবা যে কোন মানত করো, আল্লাহ নিশ্চয় সেসব কিছু জানেন.” (সূরা বাক্বারা ২৭০
وفي الصحيح عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَن رسول الله ﷺ قَالَ: ((مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَهُ فَلَا يَعْصِهِ))
অর্থাৎ, সহীহ হাদীসে আয়েশা রাযীআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফার- মানী করার মানত করে, সে যেন তাঁর নাফারমানী না করে।"
যে বিষয়গুলো জানা গেলো, ১. মানত পূরণ করা ওয়াজিব। ২. যখন প্রমাণ হলো যে, (মানত) আল্লাহর ইবাদত, তখন তা অন্যের জন্য করা শির্ক হবে। ৩. পাপের' কাজের মানত করলে, তা পূরণ করা জায়েয নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00