📄 প্রত্যেক মুসলিমের উচিত তার ব্যক্তিগত জীবনে ইসলাম বাস্তবায়ন করা
প্রত্যেক মুসলিমের উপর আবশ্যক হল সাধ্যানুযায়ী কাজ করা। আল্লাহ কারো উপর সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেন নি। তাওহীদ ও সঠিক ইবাদত প্রতিষ্ঠা করা এবং যে রাষ্ট্রে ইসলামী আইন নেই, সেখানে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করা একটি অপরটির জন্য জরুরী নয়। কেননা তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করাই হল আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দিয়ে ফয়সালা করার প্রথম পর্যায়। কোন কোন যুগে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে না জড়িয়ে তা থেকে দূরে থাকাই উত্তম ছিল। এ সকল পরিস্থিতিতে একজন মুসলিম ব্যক্তি জনসমাজ থেকে দূরে সরে গিয়ে আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত হবে এবং মানুষের অকল্যাণ থেকে বেঁচে থাকবে। এমর্মে অনেক হাদীস রয়েছে। ইবনে উমার হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন:
الْمُسْلِمُ إِذَا كَانَ مُخَالِطًا النَّاسَ وَيَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ خَيْرٌ مِنَ الْمُسْلِمِ الَّذِي لَا يُخَالِطُ النَّاسَ وَلَا يَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ
“যে মুসলিম ব্যক্তি মানুষের সাথে মেলা-মেশা করে এবং তাদের পক্ষ হতে প্রাপ্ত কষ্ট সহ্য করে সে ঐ মুসলিম হতে ভাল যে মানুষের সাথে মেলা-মেশা করেনা এবং তাদের থেকে আগত কষ্টও সহ্য করেনা”।¹ পৃথিবীতে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তাওহীদ প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম মাত্র। তা মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয়।
আশ্চর্যের বিষয় এই যে, কিছু কিছু আলেম এমন বিষয় বাস্তবায়নের চেষ্টা করে এবং সহজ বলে মনে করে, যা তাদের ক্ষমতায় নেই। এ বিষয়ে তারা শ্রমও ব্যয় করে থাকে। এ ব্যাপারে একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি তার অনুসারীদেরকে বলেছেন, “তোমাদের নিজেদের ভিতরে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম কর, তাহলেই তোমাদের যমিনে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হবে।” তারপরও আমরা উক্ত ব্যক্তির অনেক অনুসারীকেই তার কথার বিরোধিতা করতে দেখি। তারা সব সময় জোর দিয়ে বলে থাকে হুকুমের মালিক একমাত্র আল্লাহ। কোন সন্দেহ নেই যে, হুকুমের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তাতে কোন শরীক নেই। কিন্তু তাদের প্রত্যেকেই কোন না কোন মাযহাবের অনুসরণ করে থাকেন। যখন তাদের কাছে সহীহ হাদীস পৌঁছে তখন বলে, এটি আমার মাযহাবের পরিপন্থী। কোথায় গেল সুন্নাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর অবতারিত বিষয় দিয়ে ফয়সালা? তাদের কেউ কেউ আবার সূফী তরীকায় আল্লাহর ইবাদত করে থাকে। কোথায় গেল তাওহীদের মাধ্যমে আল্লাহর অবতারিত বিষয় দিয়ে ফয়সালা করা? তাদের নিজেদের ভিতরে যে জিনিষ নেই তা তারা অন্যের নিকট দাবী করে থাকে। তোমার আকীদাহ, ইবাদত, চরিত্র, ঘর, সন্তান-সন্ততি এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আল্লাহর অবতারিত বিষয় বাস্তবায়ন করা খুবই সহজ। অথচ যে শাসক অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহর আইন দিয়ে বিচার করেনা তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো অত্যন্ত কঠিন। তবে কেন তুমি সহজটি ছেড়ে দিয়ে কঠিনের দিকে যাচ্ছ?
তাদের এ পথে যাওয়ার পিছনে দু'টি কারণের একটি কারণ রয়েছে। হয়ত তারা সঠিক শিক্ষা ও দিক নির্দেশনা পায়নি অথবা তাদের আকীদাহ ভাল নয়। ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা এবং মন্দ আকীদাহ তাদেরকে সম্ভব বিষয়কে বাদ দিয়ে অসম্ভব বিষয় বাস্তবায়নের দিকে ধাবিত করছে। আজকের প্রেক্ষাপটে সঠিক শিক্ষা, মানুষকে সঠিক আকীদা এবং ইবাদতের দিকে আহবান করা ছাড়া অন্য কিছুর প্রতি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ মনে করিনা। প্রত্যেকেই সামর্থ অনুযায়ী এ কাজে আঞ্জাম দিয়ে যাবে। আল্লাহ সাধ্যাতীত দায়িত্ব কাউকে চাপিয়ে দেননি। আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা।
আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী এবং নবী পরিবারের সকলের উপর রহমত বর্ষণ করুন। আমীন৷৷
টিকাঃ
¹ - তিরমিযী, অধ্যায়: সিফাতুল কিয়ামাহ।