📄 সঠিক আকীদার দাওয়াতের ক্ষেত্রে অবিরাম শ্রম ব্যয় করা দরকার
তাওহীদের দাওয়াত দেয়া এবং মানুষের অন্তরে উহা বদ্ধমূল করার জন্য আমাদের উচিত আমরা যেন প্রথম যুগের মানুষের মত আয়াতগুলো ব্যাখ্যা ব্যতীত শুধুমাত্র তিলাওয়াত করাই যথেষ্ঠ না মনে করি। কারণ তারা সহজেই আরবী ভাষার বাক্যসমূহ অনুধাবন করতে সক্ষম ছিলেন। দ্বিতীয়তঃ তাদের মাঝে আকীদার ক্ষেত্রে কোন বিভ্রান্তি, দর্শন কিংবা যুক্তি বিদ্যার প্রভাব ছিলনা। কাজেই সঠিক আকীদার পরিপন্থী কিছুই ছিলনা। আজকের অবস্থা প্রথম যুগের মুসলমানদের অবস্থার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানকালে দাওয়াতী কাজ করা প্রথম যুগের দাওয়াতী কাজের মত সহজ নয়। এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। সেসময় সহজের কারণ হল, সাহাবীগণ নবী (ﷺ) এর কাছ থেকে সরাসরি হাদীস শুনতেন। এমনিভাবে তাবেয়ীগণ সরাসরি সাহাবীদের কাছ থেকে হাদীস শুনতেন। একই অবস্থা বিরাজমান ছিল সম্মানিত তিন যুগে। সে যুগে ইলমুল হাদীস নামে আলাদা কোন ইলম ছিলনা। ছিলনা ইলমুল জারহ্ ওয়াত্ তা'দীল তথা হাদীস যাচাই বাছাই করার জন্য স্বতন্ত্র কোন ইলম। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য এদু'টি ইলম অত্যন্ত জরুরী; বরং তা ফরজে কেফায়ার পর্যায়ে। যাতে করে আলেমগণ হাদীসকে সহীহ কিংবা যঈফ হিসাবে জানতে পারেন। বর্তমানে বিষয়টি তেমন সহজ নয় যেমন সহজ ছিল সাহাবীদের যুগে। কেননা এক সাহাবী অন্য সাহাবীর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। আর সাহাবীদেরকে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন। সেদিন যা সহজ ছিল আজকে তা সহজ নয়। কারণ সে যুগে শিক্ষা ছিল নির্ভেজাল এবং পরিচ্ছন্ন এবং উস্তাদগণ ছিলেন বিশ্বস্ত। এজন্যই আজকে আমাদের সতর্ক হতে হবে। তাছাড়া আমাদেরকে ঘিরে আছে নানা ধরণের বিপদাপদ, যা পূর্বের মুসলমানদের ছিলনা। সঠিক আকীদা থেকে বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায় সঠিক আকীদা সম্পর্কে নানা সন্দেহের জন্ম দেয়ায় সদা তৎপর। এখানে আমরা একটি সহীহ হাদীসের অংশ উল্লেখ করার প্রয়োজন অনুভব করছি। নবী (ﷺ) শেষ যামানায় ইসলামের করুণ অবস্থার উল্লেখ করতে গিয়ে বললেন: “তাদের একজনের জন্য পঞ্চাশ জনের ছাওয়াব রয়েছে। সাহাবীগণ বললেন: "আমাদের ভিতরকার পঞ্চাশ জনের? না তাদের পঞ্চাশ জনের?” উত্তরে তিনি বললেন: “তোমাদের ভিতরকার পঞ্চাশ জনের”।' এটি বর্তমানে ইসলামের দূরবস্থার ফলাফল, যা প্রথম যুগে ছিলনা। প্রথম যুগের সমস্যা ও দ্বন্দ ছিল প্রকাশ্য শির্ক এবং নির্ভেজাল তাওহীদের মধ্যে। কিন্তু বর্তমানের সমস্যা হল মুসলমানদের ভিতরেই। অধিকাংশের তাওহীদ বর্তমানে ভেজালে পরিপূর্ণ। তারা ঈমানের দাবী করে অথচ তাদের ভিতরে গাইরুল্লাহর ইবাদত রয়েছে। এ সমস্যাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার। এটা বলা কোন ক্রমেই ঠিক হবেনা যে, তাওহীদের পর্ব ছেড়ে দিয়ে আমাদেরকে অন্য একটি পর্বে যেতে হবে। আমি এটা বিশ্বাস করিনা যে, মুসলিম জাতির বিরাট একটি অংশ সঠিক ইসলামকে বুঝতে সক্ষম হয়েছে।
📄 শিক্ষা ও সংস্কারের মূল ভিত্তি
আমরা সব সময় বলি যে, শিক্ষা এবং সংস্কারই হল সামাজিক পরিবর্তনের মূলভিত্তি। দু'টি বিষয় এক সাথে থাকতে হবে। বর্তমান বিশ্বের মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে দু'একটি দেশে বিশেষ করে সৌদি আরবে আকীদার ক্ষেত্রে সংস্কার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি একটি বিরাট কাজ। আর ইবাদতের ক্ষেত্রে কথা হল, আমাদেরকে মাযহাবী সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসতে হবে এবং সহীহ সুন্নাতের দিকে ফিরে আসতে হবে। কোন কোন দেশে কতিপয় আলেম যদি ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা ইসলামের ভিতরে অনুপ্রবেশকারী সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে তারা ইসলামকে পবিত্র করতে সক্ষম। চাই তা আকীদার ক্ষেত্রে হোক কিংবা ইবাদতে কিংবা আচার-ব্যবহারে। মোট কথা কতিপয় লোকের মাধ্যমে বর্তমানে সংস্কার সম্ভব নয়; বরং এর জন্য সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাই যে কোন সমাজে আকীদার সংশোধন ব্যতীত রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করলে মন্দ ফলাফল বয়ে আনবে। যে দেশের শাসকগণ পরামর্শের মাধ্যমে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করে সেখানে রাজনৈতিক আন্দোলন না করে, নসীহত করাই যথেষ্ঠ। এতেই দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।
মানুষকে উপকারী বিষয় যেমন, আকীদার সংশোধন, ইবাদত, উত্তম চরিত্র এবং ব্যবহারসমূহ শিক্ষা দেয়াও নসীহতের অন্তর্ভূক্ত।
কেউ কেউ ধারণা করতে পারে যে, আমরা একসাথে সমস্ত ইসলামী সমাজের সংস্কার করতে চাই। এ ধরণের চিন্তা আমরা কখনও করিনা। কারণ এটা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাযীদে বলেন:
(وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ)
"আর আপনার প্রভু যদি চাইতেন, তবে সমস্ত মানুষকে একটি মাত্র জাতিতে পরিণত করে দিতেন। তারা সদা মতবিরোধে লিপ্ত রয়েছে”। (সূরা হুদ: ১১৮) এদের ব্যাপারে আল্লাহর বাণী বাস্তবায়িত হবেনা যতক্ষণ না তারা সঠিক ইসলামকে বুঝবে এবং নিজেদেরকে, পরিবারকে এবং পার্শ্ববর্তী সকলকে সঠিক ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত করবে।
📄 কে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হবে এবং কখন?
বর্তমানে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়াতে অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা রাজনীতিতে জড়িত হওয়া অস্বীকার করিনা; বরং একই সময়ে সবগুলোতে অংশ গ্রহণ করাতে বিশ্বাস করি। প্রথমে আকীদা সংশোধনের মাধ্যমে শুরু করব তারপর ইবাদত অতঃপর আচার-ব্যবহার। পরবর্তীতে শরীয়ত সমর্থিত রাজনীতে যোগদান করব। কেননা রাজনীতির অর্থই হল জাতির সমস্ত কর্মকান্ড পরিচালনা করা। প্রশ্ন হল কে পরিচালনা করবে? যায়েদ? বকর? আমর না অন্যান্য পার্টি বা আন্দোলনের আমীরগণ? কখনোই নয়। এটি মুসলমানদের বায়আতের মাধ্যমে নির্বাচিত মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানের কাজ। কাজেই রাষ্ট্রপ্রধানের উপর রাজনীতি জানা এবং পরিচালনা করা ওয়াজিব। মুসলমানেরা যেহেতু বর্তমানে আঞ্চলিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তাই প্রত্যেক অঞ্চলের দায়িত্বশীল সে অঞ্চলের কাজ-কর্ম পরিচালনা করতে পারে।
আমরা যদি প্রত্যেকেই রাজনীতি শুরু করি এই ভেবে যে, আমরা তা ভাল বুঝি তথাপিও এটা আমাদের কোন উপকারে আসবেনা। কেননা আমরা তা পরিচালনা করতে অক্ষম। আর আমরা সিদ্বান্ত গ্রহণ এবং তা কার্যকর করার মালিকও নই। কাজেই এ সমস্ত কাজে লিপ্ত হওয়ার অর্থই উপকারহীন কাজে লিপ্ত হওয়া। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, অনেক ইসলামী দেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত যুদ্ধ চলছে, সে ব্যাপারে মুসলমানদেরকে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করাতে কোন লাভ নেই। কারণ শরীয়ত সম্মত দায়িত্বশীল এমন কোন ইমাম নেই, যার হাতে বায়আত করা হয়েছে। কাজেই উৎসাহিত করাতে কোন লাভ নেই। উৎসাহিত করা যে ওয়াজিব নয় তা বলছিনা; বরং বলছি যে, এখনও বলার সময় হয়নি। এ জন্যই আমাদের কর্তব্য হল নিজেদেরকে এবং অন্যদেরকে ইসলাম বুঝানোর কাজে ব্যস্ত রাখব। আবেগ প্রবন হয়ে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করার কারণে সঠিক ইসলামের শিক্ষা অর্জন থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে। অথচ ইসলামী আকীদা, ইবাদত ও আচরণ শিক্ষা করা সকলের উপর ফরজে আঈন। এতে ত্রুটি করা কারও পক্ষ হতে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয় ফরজে কেফায়ার অন্তর্গত। যেমন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হওয়া, যা নেতৃস্থানীয় এবং জ্ঞানীদের দায়িত্ব। তারা ভালভাবে রাজনৈতিক বিষয়গুলো শিক্ষা করে তা বাস্তবে রূপদান করবে। যাদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেই তাদের জন্য এটা শিক্ষা করা জরুরী নয়। তাদের উচিত মানুষকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিক্ষা দান করা। তারা যদি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে যায় তাহলে তারা দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং তা শিক্ষা দেয়া থেকে বঞ্চিত হবে। বর্তমানে অনেক ইসলামী দলের কর্মপদ্ধতিতে আমরা এটাই লক্ষ করছি। তাতে যুবকদেরকে আকীদা, ইবাদত এবং উত্তম চরিত্র শিক্ষা দেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। এমনকি দলের নেতাগণ রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে যে কোনভাবে মানব রচিত পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করে। আর এটিই তাদেরকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ধাবিত করেছে।
📄 বর্তমান দুঃখজনক প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম কিভাবে দায়িত্ব পালন করে কিয়ামতের দিন জিম্মাদারী হতে রেহাই পেতে পারে?
উত্তরে বলব যে, প্রত্যেক মুসলিম আপন আপন সামর্থ অনুযায়ী কাজ করবে। আলেমের উপর এমন বিষয় ওয়াজিব, যা সাধারণ লোকের উপর ওয়াজিব নয়। এ প্রসঙ্গে আমরা বলব যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবের মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং তাঁর কিতাবকে মুমিনদের জন্য সংবিধান হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
(فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ)
“তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর”। (সূরা আম্বীয়া: ৭) আল্লাহ তা'আলা ইসলামী সমাজকে দু'ভাগে বিভক্ত করেছেন। আলেম সমাজ এবং সাধারণ সমাজ। আর আলেমের উপর যা আবশ্যক, সাধারণ মানুষের উপর তা আবশ্যক নয়। সুতরাং যারা আলেম নয়, তাদের উচিত আলেমদেরকে জিজ্ঞাসা করা। আলেমদের উপর আবশ্যক হল, তাদেরকে যে বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, তার উত্তর দিবে। কাজেই ব্যক্তি অনুপাতে দায়িত্ব বিভিন্ন রকম হবে। আলেমদের উচিত, তাদের সামর্থ অনুযায়ী সত্যের দিকে আহবান জানাবো। সাধারণ লোকদের উচিত তারা তাদের নিজেদের এবং অধিনস্ত স্ত্রী-সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয় জিজ্ঞাসা করা। উভয় শ্রেণীর লোকেরা তাদের দায়িত্ব পালন করলে তারা পরিত্রাণ পাবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
(لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا )
“আল্লাহ কাউকে সাধ্যাতীত দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না”। (সূরা বাকারা: ২৮৬)
পরিতাপের বিষয় এই যে, মুসলমানেরা বর্তমানে এমন বিপর্যয়ের ভিতরে রয়েছে, যার দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল। পৃথিবীর সমস্ত কাফের মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। যেমন নবী (ﷺ) বলেছেন:
(تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا فَقَالَ قَائِلٌ وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ قَالَ بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ وَلَكِنَّكُمْ غُشَاءُ كَغُثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزَعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهْنَ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا الْوَهْنُ قَالَ حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ )
“তোমাদের উপর পৃথিবীর সমস্ত জাতি ঝাঁপিয়ে পড়বে যেভাবে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিরা খাদ্যের বাসনকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ধরে। সাহাবীগণ বললেন: আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে সেদিন এরকম হবে? নবী (ﷺ) বললেন: না তোমাদের সংখ্যা সেদিন অনেক হবে। কিন্তু তোমরা সেদিন বন্যায় ভাসমান তৃণলতার মত দুর্বল হবে। তোমাদের শত্রুদের অন্তর হতে ভয় ছিনিয়ে নেয়া হবে। তোমাদের অন্তরে ওয়াহান ঢেলে দেয়া হবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: ওয়াহান কাকে বলে? উত্তরে তিনি বললেন: দুনিয়ার ভালবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।'
সুতরাং আলেমদের উচিত মুসলমানদেরকে সংশোধন করা। আর তা সঠিক তাওহীদ এবং বিশুদ্ধ ইবাদত ও চরিত্র শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। প্রত্যেকেই আপন আপন সামর্থ অনুযায়ী নিজ নিজ দেশে কাজ করবে। সঠিক আকীদা এবং বিশুদ্ধ ইবাদত ও চরিত্র শিক্ষা দানের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণ এই যে, তারা ইহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অক্ষম। কারণ তাঁরা ঐক্যবদ্ধ নয়। তারা এক দেশ বা একই কাতারে সমবেত নয়। তাই শত্রুদের বিরুদ্ধে বর্তমানে এধরণের জিহাদে অংশ গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তবে তাদের উচিত শরীয়ত সম্মত সকল প্রকার উপায়-উপকরণ অবলম্বন করা। যদিও আমাদের শক্তি থাকে তথাপিও আমরা কিছু করতে সক্ষম নই। কারণ অনেক ইসলামী দেশের সরকার ইসলামী আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র চালায়না। সুতরাং যেহেতু আমরা জিহাদ করতে সক্ষম নই তাই আমাদের উচিত আমরা আকীদা ও চরিত্র সংশোধনের কাজে লিপ্ত থাকব। সুতরাং যে দেশে ইসলামী শাসন নেই সে দেশের আলেম ও দাঈগণ যদি উপরোক্ত দু'টি কাজে লিপ্ত থাকে তাহলে আমি বিশ্বাস করি যে তাদের উপরে আল্লাহর বাণী:
(وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ بِنَصْرِ اللَّهِ)
“এবং মুমিনগণ সে দিন আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে”। (সূরা রোম: ৪-৫)
টিকাঃ
1 - আবু দাউদ, অধ্যায়: কিতাবুল মালাহিম।