📘 তাওহিদের ডাক > 📄 বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিম “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর অর্থ বুঝেনা

📄 বর্তমানে অধিকাংশ মুসলিম “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর অর্থ বুঝেনা


বর্তমান কালের অধিকাংশ মুসলমান যারা “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর সাক্ষ্য দেয় তারা ভালভাবে এর অর্থ বুঝেনা; বরং তারা অনেক সময় এর উল্টা অর্থ করে থাকে। আমি একটি উদাহরণ পেশ করে তা বুঝাতে চেষ্টা করব। জনৈক সূফী সাধক “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর অর্থ ব্যাখ্যা করে একটি পুস্তিকা রচনা করলেন। তিনি )لا إله إلا الله( এর অর্থ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: )لا رب إلا الله( অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন প্রভু নেই। মক্কার মুশরিকরা এই অর্থ বিশ্বাস করত এবং এর উপরই তারা ছিল। কিন্তু এই ঈমান তাদের কোন উপকার করেনাই। মক্কার মুশরিকরা যে আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা ও প্রভু হিসাবে বিশ্বাস করত তার প্রমাণ হল আল্লাহর বাণী:
(وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمُوتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ )
“আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন এই আকাশ-যমিন কে সৃষ্টি করেছে তখন তারা অবশ্যই বলবে: 'আল্লাহ'। (সূরা লুকমান: ২৫) মুশরিকরা বিশ্বাস করত যে, এই বিশ্ব জগতের একজন সৃষ্টিকর্তা আছে। সৃষ্টিতে তার কোন শরীক নেই। কিন্তু তারা তাঁর ইবাদতে অসংখ্য অংশীদার নির্ধারণ করত। তারা বিশ্বাস করত যে, রব তথা প্রতিপালক মাত্র একজন। তবে মাবুদ অগণিত। আল্লাহ তাদের একথার প্রতিবাদ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
(وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى)
“যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছে তারা বলে আমরা এই সমস্ত দেব-দেবীর পূজা এই জন্য করি যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্যিধ্যে পৌঁছিয়ে দিবে। (সূরা যুমার: ৩)
মুশরিকরা অবশ্যই জানতো যে, )لا إله إلا الله( কথাটি উচ্চারণ করার অর্থই আল্লাহ ছাড়া যত বস্তুর ইবাদত করা হয় তাদের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করা। বর্তমান কালের অধিকাংশ মুসলমান এই পবিত্র বাক্যটির ব্যখ্যায় বলে আল্লাহ ছাড়া কোন রব বা প্রতিপালক নেই। সুতরাং যে মুসলিম কেবলমাত্র এই বিশ্বাস করবে তার এবং মুশরিকের মধ্যে আকীদার ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই। যদিও বাহ্যিকভাবে তার মধ্যে ইসলামের বৈশিষ্ট দেখা যায়। কেননা সে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'পাঠ করে। এই বাক্যটি পাঠ করার কারণে সে প্রকাশ্যভাবে মুসলমান।
উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারলাম যে, ইসলামের প্রচারকদের (দাঈদের) উপর ওয়াজিব হল তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেয়া এবং যারা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'এর অর্থ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের কাছে এর সঠিক মর্ম তুলে ধরা। মুশরিকের ব্যাপারটা ভিন্ন। কেননা সে 'লা-ইলাহ ইল্লাল্লাহ' বলতে অস্বীকার করে। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে কোনভাইে সে মুসলমান নয়। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমান প্রকাশ্যে মুসলমান হিসাবে গণ্য। কেননা রাসূল (ﷺ) বলেছেন: যারা উহা উচ্চারণ করল, তারা আমার হাত থেকে তাদের জান-মালকে নিরাপদ করে নিল। তবে ইসলামের কোন হক যদি তাদের উপর আবশ্যক হয় তবে অবশ্যই তাদের উপর তা কার্যকর হবে। আর তাদের অন্ত রের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত রইল।'
এ জন্যই আমি মাঝে মাঝে একটি বাক্য উচ্চারণ করি। তা এই যে, 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' নামক পবিত্র বাক্যটির অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেক মুসলমানের অবস্থা জাহেলী যুগের অধিকাংশ মুশরিকদের অবস্থা থেকেও নিকৃষ্ট। কেননা আরবের মুশরিকরা এর অর্থ বুঝতে পারত। কিন্তু এর মর্মার্থের উপর ঈমান আনয়ন করতনা। আর মুসলমানেরা এই বাক্যটি মুখে উচ্চারণ করে কিন্তু এর অর্থ বুঝেনা। মুখে উচ্চারণ করে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। কিন্তু সঠিক অর্থে এর উপর ঈমান আনয়ন করেনাই। তারা কবরের উপাসনা করে, গাইরুল্লাহ এর নামে পশু যবাই করে, মৃত ব্যক্তিদের কাছে দু'আ করা সহ বিভিন্ন প্রকার শির্কে লিপ্ত হয়। এটি একটি প্রকৃত ও বাস্তব সত্য কথা। রাফেযী², সূফী ও বিভিন্ন তরীকাপন্থীগণ এই ধরণের শির্কে লিপ্ত। কবরের কাছে হজ্জ করতে যাওয়া, শির্কের আস্তানা স্বরূপ গম্বুজ তৈরী করে তার চার পার্শ্বে কাবা ঘরের তাওয়াফের ন্যায় তাওয়াফ করা, নেককার লোকদের কাছে বিপদাপদে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং অলীদের নামে শপথ করা তাদের অন্যতম আকীদাহ।
এ জন্যই আমি বিশ্বাস করি যে, মুসলিম উম্মার দাঈদের কর্তব্য হল, এই পবিত্র বাক্যটির উপর গুরুত্ব প্রদান করবে এবং প্রথমে অতি সংক্ষেপে এর অর্থ বর্ণনা করবে। অতঃপর বিস্তারিতভাবে এই কালেমার দাবীগুলো বর্ণনা করবে। এই কালেমার দাবী হল সকল প্রকার ইবাদত একনিষ্টভাবে এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করা। আল্লাহ তা'আলা যখন মুশরিকদের বক্তব্য,
(وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى)
“যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাকরূপে গ্রহণ করে, তারা বলে আমরা তো এদের পূজা এজন্যেই করি যে, এরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্যিধ্যে এনে দিবে” কুরআন মাযীদে উল্ল্যেখ করলেন তখন আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্যে ইবাদত করাকে পবিত্র বাক্য 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'এর সাথে কুফরী হিসাবে সাব্যস্ত্য করেছেন।
এই জন্যই আমি আজ বলব যে, কালেমা তাইয়্যেবার অর্থ না বুঝে মসলমানদের বিভিন্ন দল গঠন করা এবং দল ভিত্তিক ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ভিতরে কোন কল্যাণ নেই। এরকম দল গঠন করা দুনিয়াতে ও আখেরাতের কোথায়ও কোন উপকারে আসবেনা। আমরা জানি যে, রাসূল (ﷺ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি অন্তর থেকে এই সাক্ষ্য প্রদান করা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই, আল্লাহ তার শরীরকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিবেন। অন্য বর্ণনায় আছে, সে ব্যক্তি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে”। যে ব্যক্তি ইখলাসের সাথে এই বাক্যটি পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের গ্যারান্টি রয়েছে। যদিও তা শাস্তি ভোগ করার পর হোক না কেন। এই বাক্যটির উপর সঠিকভাবে বিশ্বাসকারী যদিও বিভিন্ন কবীরা গুনায় লিপ্ত হওয়ার কারণে জাহান্নামের আযাব ভোগ করবে, কিন্তু তার শেষ পরিণতি হবে জান্নাত। অপর পক্ষে জবানের মাধ্যমে যে ব্যক্তি এই বাক্যটি পাঠ করবে, অথচ তার অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি তার জন্য পরকালে এই বাক্যটি কোন উপকারে আসবেনা। তবে দুনিয়াতে এই বাক্যটি পাঠ করে মুসলমানদের হাত থেকে জীবন রক্ষা করতে পারবে। যদি মুসলমানদের হাতে শক্তি ও রাজত্ব থাকে। কিন্তু পরকালে কোন উপকারে আসবেনা। তবে এর পাঠক যদি অর্থ বুঝে এবং সঠিকভাবে তার অর্থের উপর ঈমান আনয়ন করে তাহলে তার উপকারে আসবে। 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর বিষয় বস্তুর উপর ঈমান না এনে শুধুমাত্র অর্থ বুঝা যথেষ্ট নয়। এই বিষয়টি সম্পর্কে বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই উদাসীন। এই বাক্যটির অর্থ বুঝলেই তাঁর উপর ঈমান আনা হয়ে যায়নি। ঈমানদার হওয়ার জন্য দু'টি বিষয় এক সাথে বর্তমান থাকা জরুরী। কেননা অনেক ইহুদী-নাসারারা জানত যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) নবুওয়াত ও রেসালাতে সত্যবাদী। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে একথাটি উল্লেখ করেছেন:
(يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ)
“তারা তাঁকে আপন সন্তানদের মতই চিনে”। (সূরা বাকারা: ১৪৬) তাদের এজানা কোন উপকারে আসেনি। কেননা তারা নবী ও রাসূল হিসাবে সত্যায়ন করেনি এবং তার উপর ঈমান আনেনি। তাই বলছি ঈমান আনার পূর্বে যে বিষয়ের উপর ঈমান আনা হবে তার জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কিন্তু এই জ্ঞানই যথেষ্ঠ নয়; বরং জ্ঞান ও ঈমান এবং আনুগত্য একই সাথে থাকতে হবে। আল্লাহ তা'আলা কুরআন মযীদে বলেন:
(فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ)
"আপনি জেনে নিন যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই অতঃপর আপনার গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করুন”। (সূরা মুহাম্মাদ: ১৯)
সুতরাং কোন মুসলিম যদি জবানের মাধ্যমে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে তার উপর জরুরী হল প্রথমে সংক্ষেপে এর অর্থ জানা অতঃপর বিস্তারিতভাবে তা জানবে। যখন জানবে তখন সত্যায়ন করবে এবং ঈমান আনবে, তার ক্ষেত্রে একটু আগে উল্লেখিত হাদীসগুলো প্রযোজ্য। রাসূল (ﷺ) এর বাণী:
(مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ نَفَعَتْهُ يَوْمًا مِنْ دَهْرِهِ)
“যে ব্যক্তি “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পাঠ করবে, কোন না কোন দিন অবশ্যই বাক্যটি তার উপকারে আসবে”।' অর্থাৎ এই পবিত্র কালেমাটির অর্থ ও মর্ম বুঝে যদি পড়া হয়, তাহলে এই বাক্যটি তার পাঠকারীকে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া থেকে রক্ষা করবে। এই কথাটি আমি বার বার বলি। যাতে মানুষের মগজে কথাটি ভালভাবে প্রবেশ করে। হয়ত কোন কোন লোক সৎ আমল করা এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে এই বাক্যটির হক পূর্ণভাবে আদায় করতে ব্যর্থ হবে। কিন্তু শির্কে আকবারে তথা বড় শির্কে লিপ্ত হওয়া থেকে মুক্ত থাকবে এবং ঈমানের দাবী অনুপাতে প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য সকল প্রকার সৎ কাজে লিপ্ত হবে। এরকম লোক আল্লাহর ইচ্ছাধীন। পাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে কিংবা দায়িত্ব পালনে ত্রুটি করার কারণে সে জাহান্নামে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু এই পবিত্র বাক্যটির কারণে আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করেন। এটিই নবী(ﷺ) এর বাণী:
(مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ نَفَعَتْهُ يَوْمًا مِنْ دَهْرِهِ)
“যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করবে, কোন না কোন দিন অবশ্যই বাক্যটি তার উপকারে আসবে”।
আর যে ব্যক্তি অর্থ না বুঝে বাক্যটি উচ্চারণ করল কিংবা অর্থ বুঝে উচ্চারণ করল কিন্তু অর্থের দাবীর উপর ঈমান আনয়ন করল না তাকে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' কোন উপকার করবেনা। তবে দুনিয়াতে সে যদি ইসলামী হুকুমতের অধীনে বসবাস করে থাকে তা হলে সে রেহাই পেতে পারে। কিন্তু পরকালে আল্লাহর শাস্তি হতে রেহাই পাবেনা।
এ জন্যই যে সমস্ত সমাজ বা সংগঠণ ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে সে সমস্ত সমাজে প্রথমে তাওহীদের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। যে সমস্ত ইসলামী দল আল্লাহর যমিনে দ্বীন কায়েমের প্রচেষ্টায় লিপ্ত তাদের উদ্দেশ্য ততক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবেনা, যতক্ষণ না তারা নবী (ﷺ) এর গৃহীত মূলনীতির মাধ্যমে কাজ শুরু করবে। তা হলো প্রথমে নির্ভেজাল তাওহীদের প্রতি দাওয়াত দেয়ার মাধ্যমে সমাজ সংস্কার করার চেষ্টা করা।
আকীদার প্রতি বেশী গুরুত্ব দেয়ার অর্থ এই নয় যে, এবাদত, আচার-আচরণ এবং অন্যান্য চারিত্রিক গুণাগুণ সম্পর্কে অবহেলা করতে হবে; বরং আল্লাহ যেহেতু এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন তাই আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আহবানকারীগণ প্রথমে তাওহীদের প্রতি বেশী গুরুত্ব প্রদান করে মানুষের কাছে ইসলামের সকল দিক তুলে ধরবে।
আমার কথার সার সংক্ষেপ হল ইসলামের সত্যিকার প্রচারকগণ প্রথমে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সঠিক আকীদা তথা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মাবুদ নেই- এর মর্মার্থের প্রতি বেশী গুরুত্ব দিবে। কিন্তু একেই যথেষ্ট মনে করবেনা। আল্লাহর ইবাদতের রূপ-রেখাও বুঝাতে হবে। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাখলুকের জন্য ইবাদতের কোন অংশ প্রদান করা যাবে না। বিষয়টি আরও পরিস্কার করে বলতে হবে। কারণ সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনেক সময় যথেষ্ট হয়না।
অনেক তাওহীদপন্থী এমন মুসলমান রয়েছে যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ইবাদতের কোন অংশ প্রদান করেনা অথচ আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের (ﷺ) সুন্নাতে বর্ণিত অনেক সঠিক আকীদাহ হতে তাদের মস্তিস্ক সম্পূর্ণ মুক্ত। তারা আকীদার সাথে সম্পৃক্ত আয়াত ও হাদীসসমূহ পাঠ করে কিন্তু তার অর্থ উপলদ্ধি করতে পারে না। অথচ তা আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমানের অন্তর্ভূক্ত। উদাহরণ স্বরূপ সমস্ত মাখুলেকর উপরে আল্লাহর সমুন্নত হওয়ার বিষয়টিকে ধরতে পারি। আমি অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি যে, আমার অনেক সালাফী ভাই কোন প্রকার ব্যাখ্যা বা ধরণ বর্ণনা ব্যতীত আমাদের মতই বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ আরশের উপরে। কিন্তু সমকালীন বাতিল ফির্কার কোন লোক এসে যখন তাকে আকীদার বিষয়ে সন্দেহে ফেলে দেয় তখন সে বিভ্রান্তির ভিতর পড়ে যায়। এর কারণ হল কুরআন এবং সুন্নায় আকীদার মাসআলাগুলো যেভাবে বিস্ত ারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সেভাবে সে সঠিক আকীদার শিক্ষা গ্রহণ করেনি। বর্তমান কালের কোন মু'তাযেলী লোক যখন বলে আল্লাহ তো বলেছেন:
(أَأَمِنتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُوْرُ أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرٍ)
“তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দেবেন, অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে। না তোমরা নিশ্চিত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী”। (সূরা মুলক: ১৬-১৭) তাই তোমরা বল আল্লাহ আকাশে। এতে করে তোমরা আল্লাহকে তাঁর একটি সৃষ্ট বস্তু আকাশের ভিতরে সীমাবদ্ধ করে দিলে। এভাবে মু'তাযেলীরা মানুষকে সন্দেহে ফেলে দেয়।

টিকাঃ
'-বুখারী, অধ্যায়: কিতাবুল ঈমান।
2-শিয়াদের একটি ফির্কার নাম রাফেযী।
1 - তাবারানী তার মু'যামুল আওছাতে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আলবানী (রঃ) সহীহ বলেছেন।

📘 তাওহিদের ডাক > 📄 অনেক মানুষের কাছে সঠিক আকীদা ও তার দাবীসমূহ সুস্পষ্ট নয়

📄 অনেক মানুষের কাছে সঠিক আকীদা ও তার দাবীসমূহ সুস্পষ্ট নয়


উপরোক্ত কথার মাধ্যমে বলতে চাই যে, আশায়েরা, মাতুরিদীয়া এবং জাহমীয়া আকীদার বিশ্বাসীতো দূরের কথা, যারা সালাফী আকীদায় বিশ্বাসী তাদের অনেকের কাছেও সঠিক আকীদার দাবী সুস্পষ্ট নয়। মাসআলাটি তেমন সহজ নয়, যেমন মনে করে থাকেন কুরআন-সুন্নাহর দিকে আহবানকারী আমাদের কতক দাঈ ভাইগণ। কারণ পূর্বেই বলা হয়েছে, তা হল জাহেলী যামানার মুশরেক এবং বর্তমানকালের অধিকাংশ মুসলমানের মধ্যে পার্থক্য। জাহেলী যামানার মুশরেকরা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'এর অর্থ বুঝার পরও তা মুখে উচ্চারণ করতে অস্বীকার করছে। আর বর্তমানকালের মুসলমানেরা তার সঠিক অর্থ না বুঝেই উচ্চারণ করছে। এই মূল পার্থক্যটিও বর্তমানে আল্লাহ আরশের উপরে বর্তমান থাকার মাসআলাতেও পাওয়া যাচ্ছে।
মাসআলাটি আরো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা দরকার। আল্লাহর বাণী, “দয়াময় আল্লাহ আরশের উপরে" এবং রাসূল (ﷺ) এর বাণী,
(ارْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ)
"তোমরা যমিনে যারা আছে তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর তাহলে আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন"।' এখানে (ও) শব্দটি নির্দিষ্ট স্থান বুঝাতে ব্যবহার হয়নি। এটি আল্লাহর বাণী:
(أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ)
“তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দেবেন।” (সূরা মুলক: ১৬-১৭) এখানে )في( শব্দটি علی(( অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। একথার পক্ষে অনেক দলীল রয়েছে। যেমন পূর্বের প্রসিদ্ধ হাদীসটি। "তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন” একথার মাধ্যমে যমিনের অভ্যন্তরে লুকায়িত কীটপতঙ্গ উদ্দেশ্য নয়; বরং যমিনের উপরে যত মানুষ ও জীব-জন্ত রয়েছে সবই উদ্দেশ্য। এটি রাসূল (ﷺ) এর বাণী “আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে অনুগ্রহ করবেন”এর মতই। অর্থাৎ যিনি আকাশের উপরে আছেন। যারা হকের দাওয়াত দেন, তাদেরকে এধরণের ব্যাখ্যা অবশ্যই জানতে হবে।
ছাগলের রাখালনীর হাদীসটির অর্থ উপরোক্ত ব্যাখ্যার খুবই কাছাকাছি, যা সকলের নিকট অতি প্রসিদ্ধ। এখানে শুধু দলীল গ্রহণের স্থানটি উল্লেখ করব। তা এই যে, নবী (ﷺ) যখন তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আল্লাহ কোথায়? উত্তরে সে বলল: আকাশে।² আজকের দিনে আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় শায়খদেরকে যদি আপনি জিজ্ঞাসা করেন: আল্লাহ কোথায়? তারা বলবে সকল স্থানেই আল্লাহ বিরাজমান। অথচ সাধারণ একজন দাসী উত্তর দিল যে আল্লাহ আকাশে। নবী (ﷺ) এ কথার স্বীকৃতি প্রদান করলেন। স্বীকৃতি দেয়ার কারণ হল, সে তার ফিতরাত তথা প্রকৃত স্বভাব থেকে উত্তর দিয়েছিল। সে আমাদের সালাফী সমাজের মত নির্ভেজাল পরিবেশে বসবাস করে রাসূল(ﷺ)এর মাদরাসায় শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়েছিল। এই মাদরাসাটি বিশেষ কোন নারী-পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট ছিলনা; বরং তা সকল নারী-পুরুষ তথা সমাজের সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এই জন্যই ছাগলের রাখালনী সঠিক আকীদা জানতে পেরেছিল। সে অন্য কোন খারাপ পরিবেশের মাধ্যমে কলুষিত না হয়ে কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত সঠিক আকীদা শিক্ষা গ্রহণ করেছিল যা বর্তমানে কুরআন-সুন্নার জ্ঞানের দাবীদার অনেক মানুষই জানেনা। তারা জানেনা যে, তাদের প্রতিপালক কোথায় আছেন। অথচ তা আল্লাহর কিতাব এবং রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। আমি যে ব্যাখ্যা প্রদান করলাম, ছাগলের রাখাল তো দূরের কথা, যারা সমস্ত উম্মতের রাখালী করার দাবী করে তাদের কাছেও এ ব্যাখ্যা পাওয়া যাবেনা। তবে খুব অল্প সংখ্যক মানুষের মাঝে তা পাওয়া যেতে পারে।

টিকাঃ
1- (সহীহ) আবু দাউদ, হাদীছ নং- ৪৯৪১। তিরমিযী হাদীছ নং- ১৯২৫। সিলসিলায়ে সাহীহা: ৯২৫।
2 - মুসলিম, অধ্যায়: কিতাবুস্ সালাত।

📘 তাওহিদের ডাক > 📄 সঠিক আকীদার দাওয়াতের ক্ষেত্রে অবিরাম শ্রম ব্যয় করা দরকার

📄 সঠিক আকীদার দাওয়াতের ক্ষেত্রে অবিরাম শ্রম ব্যয় করা দরকার


তাওহীদের দাওয়াত দেয়া এবং মানুষের অন্তরে উহা বদ্ধমূল করার জন্য আমাদের উচিত আমরা যেন প্রথম যুগের মানুষের মত আয়াতগুলো ব্যাখ্যা ব্যতীত শুধুমাত্র তিলাওয়াত করাই যথেষ্ঠ না মনে করি। কারণ তারা সহজেই আরবী ভাষার বাক্যসমূহ অনুধাবন করতে সক্ষম ছিলেন। দ্বিতীয়তঃ তাদের মাঝে আকীদার ক্ষেত্রে কোন বিভ্রান্তি, দর্শন কিংবা যুক্তি বিদ্যার প্রভাব ছিলনা। কাজেই সঠিক আকীদার পরিপন্থী কিছুই ছিলনা। আজকের অবস্থা প্রথম যুগের মুসলমানদের অবস্থার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানকালে দাওয়াতী কাজ করা প্রথম যুগের দাওয়াতী কাজের মত সহজ নয়। এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। সেসময় সহজের কারণ হল, সাহাবীগণ নবী (ﷺ) এর কাছ থেকে সরাসরি হাদীস শুনতেন। এমনিভাবে তাবেয়ীগণ সরাসরি সাহাবীদের কাছ থেকে হাদীস শুনতেন। একই অবস্থা বিরাজমান ছিল সম্মানিত তিন যুগে। সে যুগে ইলমুল হাদীস নামে আলাদা কোন ইলম ছিলনা। ছিলনা ইলমুল জারহ্ ওয়াত্ তা'দীল তথা হাদীস যাচাই বাছাই করার জন্য স্বতন্ত্র কোন ইলম। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য এদু'টি ইলম অত্যন্ত জরুরী; বরং তা ফরজে কেফায়ার পর্যায়ে। যাতে করে আলেমগণ হাদীসকে সহীহ কিংবা যঈফ হিসাবে জানতে পারেন। বর্তমানে বিষয়টি তেমন সহজ নয় যেমন সহজ ছিল সাহাবীদের যুগে। কেননা এক সাহাবী অন্য সাহাবীর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। আর সাহাবীদেরকে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন। সেদিন যা সহজ ছিল আজকে তা সহজ নয়। কারণ সে যুগে শিক্ষা ছিল নির্ভেজাল এবং পরিচ্ছন্ন এবং উস্তাদগণ ছিলেন বিশ্বস্ত। এজন্যই আজকে আমাদের সতর্ক হতে হবে। তাছাড়া আমাদেরকে ঘিরে আছে নানা ধরণের বিপদাপদ, যা পূর্বের মুসলমানদের ছিলনা। সঠিক আকীদা থেকে বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায় সঠিক আকীদা সম্পর্কে নানা সন্দেহের জন্ম দেয়ায় সদা তৎপর। এখানে আমরা একটি সহীহ হাদীসের অংশ উল্লেখ করার প্রয়োজন অনুভব করছি। নবী (ﷺ) শেষ যামানায় ইসলামের করুণ অবস্থার উল্লেখ করতে গিয়ে বললেন: “তাদের একজনের জন্য পঞ্চাশ জনের ছাওয়াব রয়েছে। সাহাবীগণ বললেন: "আমাদের ভিতরকার পঞ্চাশ জনের? না তাদের পঞ্চাশ জনের?” উত্তরে তিনি বললেন: “তোমাদের ভিতরকার পঞ্চাশ জনের”।' এটি বর্তমানে ইসলামের দূরবস্থার ফলাফল, যা প্রথম যুগে ছিলনা। প্রথম যুগের সমস্যা ও দ্বন্দ ছিল প্রকাশ্য শির্ক এবং নির্ভেজাল তাওহীদের মধ্যে। কিন্তু বর্তমানের সমস্যা হল মুসলমানদের ভিতরেই। অধিকাংশের তাওহীদ বর্তমানে ভেজালে পরিপূর্ণ। তারা ঈমানের দাবী করে অথচ তাদের ভিতরে গাইরুল্লাহর ইবাদত রয়েছে। এ সমস্যাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার। এটা বলা কোন ক্রমেই ঠিক হবেনা যে, তাওহীদের পর্ব ছেড়ে দিয়ে আমাদেরকে অন্য একটি পর্বে যেতে হবে। আমি এটা বিশ্বাস করিনা যে, মুসলিম জাতির বিরাট একটি অংশ সঠিক ইসলামকে বুঝতে সক্ষম হয়েছে।

📘 তাওহিদের ডাক > 📄 শিক্ষা ও সংস্কারের মূল ভিত্তি

📄 শিক্ষা ও সংস্কারের মূল ভিত্তি


আমরা সব সময় বলি যে, শিক্ষা এবং সংস্কারই হল সামাজিক পরিবর্তনের মূলভিত্তি। দু'টি বিষয় এক সাথে থাকতে হবে। বর্তমান বিশ্বের মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে দু'একটি দেশে বিশেষ করে সৌদি আরবে আকীদার ক্ষেত্রে সংস্কার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি একটি বিরাট কাজ। আর ইবাদতের ক্ষেত্রে কথা হল, আমাদেরকে মাযহাবী সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসতে হবে এবং সহীহ সুন্নাতের দিকে ফিরে আসতে হবে। কোন কোন দেশে কতিপয় আলেম যদি ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা ইসলামের ভিতরে অনুপ্রবেশকারী সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে তারা ইসলামকে পবিত্র করতে সক্ষম। চাই তা আকীদার ক্ষেত্রে হোক কিংবা ইবাদতে কিংবা আচার-ব্যবহারে। মোট কথা কতিপয় লোকের মাধ্যমে বর্তমানে সংস্কার সম্ভব নয়; বরং এর জন্য সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাই যে কোন সমাজে আকীদার সংশোধন ব্যতীত রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করলে মন্দ ফলাফল বয়ে আনবে। যে দেশের শাসকগণ পরামর্শের মাধ্যমে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করে সেখানে রাজনৈতিক আন্দোলন না করে, নসীহত করাই যথেষ্ঠ। এতেই দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।
মানুষকে উপকারী বিষয় যেমন, আকীদার সংশোধন, ইবাদত, উত্তম চরিত্র এবং ব্যবহারসমূহ শিক্ষা দেয়াও নসীহতের অন্তর্ভূক্ত।
কেউ কেউ ধারণা করতে পারে যে, আমরা একসাথে সমস্ত ইসলামী সমাজের সংস্কার করতে চাই। এ ধরণের চিন্তা আমরা কখনও করিনা। কারণ এটা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাযীদে বলেন:
(وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ)
"আর আপনার প্রভু যদি চাইতেন, তবে সমস্ত মানুষকে একটি মাত্র জাতিতে পরিণত করে দিতেন। তারা সদা মতবিরোধে লিপ্ত রয়েছে”। (সূরা হুদ: ১১৮) এদের ব্যাপারে আল্লাহর বাণী বাস্তবায়িত হবেনা যতক্ষণ না তারা সঠিক ইসলামকে বুঝবে এবং নিজেদেরকে, পরিবারকে এবং পার্শ্ববর্তী সকলকে সঠিক ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত করবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00