📄 ব্যক্তির উপর তাওহীদের সুপ্রভাব
১. আল্লাহ ও রাসূলের সকল আদেশ-নিষেধ হেফাজত করার ঈমানী শক্তি। আর কখনো বিপরীত করলে সাথে সাথে আল্লাহ তা'য়ালার নিকট তওবা ও ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়া।
২. আত্মমর্যাদা লাভ; কারণ তাওহিদী ব্যক্তি অনুভব করে যে, সর্ব অবস্থায় আল্লাহ তা'য়ালা তার সঙ্গে আছেন।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "তোমরা জেনে রাখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গে।” [সূরা তাওবা: ৩৬, ১২৩]
৩. কুরআন সঠিকভাবে বুঝতে পারে; কারণ যাদের অন্তর তাওহীদ শূন্য ও শিরকে ভরা তারা কখনো কুরআনের সঠিক বুঝ পাবে না।
৪. সর্বাবস্থায় সত্যকে গ্রহণ করে, চাই তা যেখানেই হোক বা যার নিকটেই হোক না কেন।
৫. সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'য়ালার বিধান দ্বারা ফয়সালা করে কখনো এর বিকল্প ফয়সালা চায় না। আর আল্লাহ তা'য়ালার বিধানে সন্তুষ্ট থাকে যদিও তা তার নিজের বিপক্ষে হয় না কেন। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ আপনাকে তাদের মাঝের বিবাদের বিচারক হিসাবে না মেনে নেয়। অতঃপর আপনার ফয়সালায় তাদের মনে কোন প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব অনুভব না করে এবং তারা পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে।” [সূরা নিসা: ৬৫]
৬. তাওহীদপন্থী ব্যক্তি সর্বদা তৎপর, উদ্যমী, উৎপাদনকারী কখনো অলসতা করে না এবং অন্যের উপর নির্ভর করে না। সে সব সময় তার সময়ের প্রতি কড়া দৃষ্টি রাখে; কারণ আল্লাহ তা'য়ালা তাকে তার বয়স ও আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সে যা কিছু করে নিপুণতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে করে। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"অতএব, যখন সালাত শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশে জমিনে ছড়িয়ে পড়।” [সূরা জুমু'আহ: ১০]
৭. তাওহীদের মশালবাহী সৈনিক সর্বদা অন্যকে অগ্রাধিকার, ত্যাগ-তীতিক্ষা ও বাহাদুরীর পরিচয় দান করে। সে কখনো জানমাল ব্যয় করতে ভয় করে না; কারণ সে জানে এ সবই আল্লাহ তা'য়ালার এবাদত। সবকিছুর প্রকৃত মালিক আল্লাহ তা'য়ালা এবং সবই একমাত্র তাঁর হাতে। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"যা কিছু তোমাদের নিকটে আছে তা নিঃশ্বেষ হয়ে যাবে আর যা আল্লাহ তা'য়ালার নিকটে শুধুমাত্র তাই বাকি থাকবে।” [সূরা নাহাল: ৯৬]
৮. মুওয়াহহীদের দৃষ্টিভঙ্গি সুদূরপ্রসারী এবং তার উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট; কারণ তার তাওহীদ তাকে বারবার প্রশ্ন করে: তুমি কোথা হতে এসেছ? তোমার সৃষ্টিকর্তা কে? এবং কেন এসেছ এ দুনিয়াতে? এবং কোথায় যাবে? তোমার শেষ কোথায়? সে একিন রাখে যে, তাকে অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“তোমরা কি মনে করছ আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি? এবং তোমরা আমার নিকটে প্রত্যাবর্তন করবে না?” [সূরা মুমিনূন: ১১৫]
আল্লাহ তা'য়ালা তাকে একমাত্র তাঁরই এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: “আমি জ্বিন ও মানুষকে একমাত্র আমারই এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।” [সূরা যারিয়াত: ৫৬]
৯. তার অন্তর সর্বদা জাগ্রত; তাই সে সর্বদা আল্লাহকে মোরাকাবা তথা পর্যবেক্ষণ করে। সময় ও স্থান ভেদে কখনো দূর্বলতা তাকে স্পর্শ করতে পারে না; কারণ তার তাওহীদ তাকে সকল সময় সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও তার উৎসাহদানকারী এবং নফসের চাহিদা ও শয়তানের প্ররোচনা-কুমন্ত্রণা থেকে সাবধান করে দেয়।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের দুশমন। অতএব, তাকে তোমরা দুশমন মনে করবে। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়।” [সূরা ফাতির:৬]
এ জন্যেই তাওহীদ যখন অন্তরের গভীরে প্রভাব ফেলে তখন বাহির ও ভিতর উভয়টি সংশোধন হয়ে যায়। যেন মনে হয় প্রতিটি মানুষের পিছনে একটি করে প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে, যে তাকে পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করছে।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট আসমান-জমিনের কিছুই গোপন থাকে না।” [সূরা আল-ইমরান:৫]
১০. তাওহীদী ব্যক্তির অন্তর সর্বদা স্থির ও চিন্তা- ফিকিরে প্রশান্তি। সে কখনো ভবিষ্যতের জন্য অস্থির হয় না এবং বিভিন্ন প্রকার ধারণা ও অনুমান তার মনকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে পারে না; কারণ সে জানে তার সামনে একটিই উদ্দেশ্য যার জন্য সে প্রচেষ্টা করে। আর তা হলো: আল্লাহ তা'য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাত লাভ। তার একিন হলো যে, সে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠ আছে। তাই শত বাধা-বিপত্তি তাকে নিরাশ করতে পারে না; কারণ তার অন্তরে আছে মজবুত ঈমান।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"কাফের জাতি ছাড়া আর কেউ আল্লাহ তা'য়ালার রহমত থেকে নিরাশ হয় না।” [সূরা ইউসুফ: ৮৭]
আরো আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।” [সূরা শারহ: ৫-৬]
১১. তাওহিদী ব্যক্তির নিকট থাকে সুদৃঢ় মূল নীতিমালা ও মাপকাঠি যার দ্বারা সে হককে হক আর বাতিলকে বাতিল এবং নিকৃষ্টকে নিকৃষ্ট ও উৎকৃষ্টকে উৎকৃষ্ট নির্ধারণ করতে পারে। সে জানে তাকওয়ার ভিত্তিতে উত্তম নির্ধারণ হবে। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বোৎকৃষ্ট সে যে তোমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু।" [সূরা হুজুরাত: ১৩]
সে আরো জানে ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা রোজ কিয়ামতে ক্ষতিগ্রস্ত। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"আপনি বলুন! নিশ্চই তারাই ক্ষতিগ্রস্ত যারা কিয়ামতের দিন তাদের নিজেদের ও পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” [সূরা জুমার: ১৫]
সে আরো জানে যে প্রকৃত সফলতা জাহান্নাম থেকে নাজাত এবং জান্নাতে প্রবেশ।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"তারপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই লাভবান হবে।” [সূরা আল-ইমরান: ১৮৫]
১২. তাওহিদী মুসলিম দস্তি ও দুশমনি এবং ভালবাসা ও ঘৃণা একমাত্র আল্লাহ তা'য়ালার ওয়াস্তে করে থাকে। সে কখনো আল্লাহ তা'য়ালার শত্রুকে অলি বন্ধু মনে করে না যদিও সে তার বাবা অথবা সন্তান-সন্ততি হোক না কেন। আর আল্লাহ তা'য়ালার অলিকে কখনো দুশমন ভাবে না, চাই সে যতই দূরের হোক না কেন। সে কখনো আল্লাহ যাকে ঘৃণা করেন তাকে মহব্বত করে না এবং আল্লাহ যাকে ভালবাসেন তাকে কখনো ঘৃণা করে না। কারণ তার ঈমান তাকে ইহাই শিক্ষা দেয়।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে। আর তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা সীমালংঘনকারী।” [সূরা তাওবা: ২৩]
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা যে সত্য তোমাদের কাছে আগমন করেছে, তা অস্বীকার করছে।” [সূরা মুমতাহিনা: ১]
১৩. তাওহীদপন্থী ব্যক্তি আত্মা, বিবেক ও শরীরের প্রতি ভারসাম্য রক্ষা করে চলে। কোন একটির প্রতি জুলুম করে না। সে তার রূহানী-আত্মার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে শরীরের প্রতি জুলুম ও বিবেককে অকেজো করে দেয় না। আর না বিবেকের বাড়াবাড়ি করে অহি ও শরীয়তের উপর হুকুমজারি করে। আর না শরীরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে জীবজন্তুর ন্যায় শুধু পানাহার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বস্তুবাদীদের কথা হলো: দুনিয়া মানে খানাপিনা, ঘুম ও আরাম-আয়েশ যখন এসব শেষ তখন দুনিয়াকে সালাম। এদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"আর যারা কাফের তারা আনন্দ-ফুর্তি-তৃপ্তি করে ও আহার করে যেমন আহার করে চতুষ্পদ জন্তু, বস্তুত: আগুনই তাদের ঠিকানা।” [সূরা মুহাম্মাদ: ১২]
১. আল্লাহ ও রাসূলের সকল আদেশ-নিষেধ হেফাজত করার ঈমানী শক্তি। আর কখনো বিপরীত করলে সাথে সাথে আল্লাহ তা'য়ালার নিকট তওবা ও ক্ষমা ভিক্ষা চাওয়া।
২. আত্মমর্যাদা লাভ; কারণ তাওহিদী ব্যক্তি অনুভব করে যে, সর্ব অবস্থায় আল্লাহ তা'য়ালা তার সঙ্গে আছেন।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "তোমরা জেনে রাখ যে, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গে।” [সূরা তাওবা: ৩৬, ১২৩]
৩. কুরআন সঠিকভাবে বুঝতে পারে; কারণ যাদের অন্তর তাওহীদ শূন্য ও শিরকে ভরা তারা কখনো কুরআনের সঠিক বুঝ পাবে না।
৪. সর্বাবস্থায় সত্যকে গ্রহণ করে, চাই তা যেখানেই হোক বা যার নিকটেই হোক না কেন।
৫. সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা'য়ালার বিধান দ্বারা ফয়সালা করে কখনো এর বিকল্প ফয়সালা চায় না। আর আল্লাহ তা'য়ালার বিধানে সন্তুষ্ট থাকে যদিও তা তার নিজের বিপক্ষে হয় না কেন। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ আপনাকে তাদের মাঝের বিবাদের বিচারক হিসাবে না মেনে নেয়। অতঃপর আপনার ফয়সালায় তাদের মনে কোন প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব অনুভব না করে এবং তারা পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে।” [সূরা নিসা: ৬৫]
৬. তাওহীদপন্থী ব্যক্তি সর্বদা তৎপর, উদ্যমী, উৎপাদনকারী কখনো অলসতা করে না এবং অন্যের উপর নির্ভর করে না। সে সব সময় তার সময়ের প্রতি কড়া দৃষ্টি রাখে; কারণ আল্লাহ তা'য়ালা তাকে তার বয়স ও আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সে যা কিছু করে নিপুণতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে করে। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"অতএব, যখন সালাত শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশে জমিনে ছড়িয়ে পড়।” [সূরা জুমু'আহ: ১০]
৭. তাওহীদের মশালবাহী সৈনিক সর্বদা অন্যকে অগ্রাধিকার, ত্যাগ-তীতিক্ষা ও বাহাদুরীর পরিচয় দান করে। সে কখনো জানমাল ব্যয় করতে ভয় করে না; কারণ সে জানে এ সবই আল্লাহ তা'য়ালার এবাদত। সবকিছুর প্রকৃত মালিক আল্লাহ তা'য়ালা এবং সবই একমাত্র তাঁর হাতে। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"যা কিছু তোমাদের নিকটে আছে তা নিঃশ্বেষ হয়ে যাবে আর যা আল্লাহ তা'য়ালার নিকটে শুধুমাত্র তাই বাকি থাকবে।” [সূরা নাহাল: ৯৬]
৮. মুওয়াহহীদের দৃষ্টিভঙ্গি সুদূরপ্রসারী এবং তার উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট; কারণ তার তাওহীদ তাকে বারবার প্রশ্ন করে: তুমি কোথা হতে এসেছ? তোমার সৃষ্টিকর্তা কে? এবং কেন এসেছ এ দুনিয়াতে? এবং কোথায় যাবে? তোমার শেষ কোথায়? সে একিন রাখে যে, তাকে অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“তোমরা কি মনে করছ আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি? এবং তোমরা আমার নিকটে প্রত্যাবর্তন করবে না?” [সূরা মুমিনূন: ১১৫]
আল্লাহ তা'য়ালা তাকে একমাত্র তাঁরই এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: “আমি জ্বিন ও মানুষকে একমাত্র আমারই এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।” [সূরা যারিয়াত: ৫৬]
৯. তার অন্তর সর্বদা জাগ্রত; তাই সে সর্বদা আল্লাহকে মোরাকাবা তথা পর্যবেক্ষণ করে। সময় ও স্থান ভেদে কখনো দূর্বলতা তাকে স্পর্শ করতে পারে না; কারণ তার তাওহীদ তাকে সকল সময় সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও তার উৎসাহদানকারী এবং নফসের চাহিদা ও শয়তানের প্ররোচনা-কুমন্ত্রণা থেকে সাবধান করে দেয়।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের দুশমন। অতএব, তাকে তোমরা দুশমন মনে করবে। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়।” [সূরা ফাতির:৬]
এ জন্যেই তাওহীদ যখন অন্তরের গভীরে প্রভাব ফেলে তখন বাহির ও ভিতর উভয়টি সংশোধন হয়ে যায়। যেন মনে হয় প্রতিটি মানুষের পিছনে একটি করে প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে, যে তাকে পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করছে।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট আসমান-জমিনের কিছুই গোপন থাকে না।” [সূরা আল-ইমরান:৫]
১০. তাওহীদী ব্যক্তির অন্তর সর্বদা স্থির ও চিন্তা- ফিকিরে প্রশান্তি। সে কখনো ভবিষ্যতের জন্য অস্থির হয় না এবং বিভিন্ন প্রকার ধারণা ও অনুমান তার মনকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে পারে না; কারণ সে জানে তার সামনে একটিই উদ্দেশ্য যার জন্য সে প্রচেষ্টা করে। আর তা হলো: আল্লাহ তা'য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাত লাভ। তার একিন হলো যে, সে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠ আছে। তাই শত বাধা-বিপত্তি তাকে নিরাশ করতে পারে না; কারণ তার অন্তরে আছে মজবুত ঈমান।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"কাফের জাতি ছাড়া আর কেউ আল্লাহ তা'য়ালার রহমত থেকে নিরাশ হয় না।” [সূরা ইউসুফ: ৮৭]
আরো আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।” [সূরা শারহ: ৫-৬]
১১. তাওহিদী ব্যক্তির নিকট থাকে সুদৃঢ় মূল নীতিমালা ও মাপকাঠি যার দ্বারা সে হককে হক আর বাতিলকে বাতিল এবং নিকৃষ্টকে নিকৃষ্ট ও উৎকৃষ্টকে উৎকৃষ্ট নির্ধারণ করতে পারে। সে জানে তাকওয়ার ভিত্তিতে উত্তম নির্ধারণ হবে। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী: "নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বোৎকৃষ্ট সে যে তোমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু।" [সূরা হুজুরাত: ১৩]
সে আরো জানে ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা রোজ কিয়ামতে ক্ষতিগ্রস্ত। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"আপনি বলুন! নিশ্চই তারাই ক্ষতিগ্রস্ত যারা কিয়ামতের দিন তাদের নিজেদের ও পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” [সূরা জুমার: ১৫]
সে আরো জানে যে প্রকৃত সফলতা জাহান্নাম থেকে নাজাত এবং জান্নাতে প্রবেশ।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"তারপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই লাভবান হবে।” [সূরা আল-ইমরান: ১৮৫]
১২. তাওহিদী মুসলিম দস্তি ও দুশমনি এবং ভালবাসা ও ঘৃণা একমাত্র আল্লাহ তা'য়ালার ওয়াস্তে করে থাকে। সে কখনো আল্লাহ তা'য়ালার শত্রুকে অলি বন্ধু মনে করে না যদিও সে তার বাবা অথবা সন্তান-সন্ততি হোক না কেন। আর আল্লাহ তা'য়ালার অলিকে কখনো দুশমন ভাবে না, চাই সে যতই দূরের হোক না কেন। সে কখনো আল্লাহ যাকে ঘৃণা করেন তাকে মহব্বত করে না এবং আল্লাহ যাকে ভালবাসেন তাকে কখনো ঘৃণা করে না। কারণ তার ঈমান তাকে ইহাই শিক্ষা দেয়।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে। আর তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা সীমালংঘনকারী।” [সূরা তাওবা: ২৩]
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা যে সত্য তোমাদের কাছে আগমন করেছে, তা অস্বীকার করছে।” [সূরা মুমতাহিনা: ১]
১৩. তাওহীদপন্থী ব্যক্তি আত্মা, বিবেক ও শরীরের প্রতি ভারসাম্য রক্ষা করে চলে। কোন একটির প্রতি জুলুম করে না। সে তার রূহানী-আত্মার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে শরীরের প্রতি জুলুম ও বিবেককে অকেজো করে দেয় না। আর না বিবেকের বাড়াবাড়ি করে অহি ও শরীয়তের উপর হুকুমজারি করে। আর না শরীরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে জীবজন্তুর ন্যায় শুধু পানাহার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বস্তুবাদীদের কথা হলো: দুনিয়া মানে খানাপিনা, ঘুম ও আরাম-আয়েশ যখন এসব শেষ তখন দুনিয়াকে সালাম। এদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
"আর যারা কাফের তারা আনন্দ-ফুর্তি-তৃপ্তি করে ও আহার করে যেমন আহার করে চতুষ্পদ জন্তু, বস্তুত: আগুনই তাদের ঠিকানা।” [সূরা মুহাম্মাদ: ১২]
📄 সমাজের উপর তাওহীদের সুপ্রভাব
ব্যক্তির প্রতি তাওহীদের প্রভাবের কথা উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে সবগুলোই সমাজের উপর প্রভাব ফেলে; কারণ ব্যক্তিরা সমাজের এক একটি মজবুত ইট। তাই ব্যক্তির সঠিকতায় সমাজের সঠিকতা আর ব্যক্তির বিপর্যয়ে সমাজের বিপর্যয়। অতএব, ব্যক্তির তরবিয়তে যত চেষ্টা-তদবীর সবই সঠিক আকিদার ইসলামী সমাজ গড়ার কাজে আসবে; কারণ ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক বড় গভীর সম্পর্ক।
নিম্নে সমাজের প্রতি তাওহীদের সুপ্রভাবের কিছু চিত্র উল্লেখ করা হলো:
১. তাওহিদী উম্মত একটি সুপ্রাচীন, সভ্য ও ঐতিহ্যবাহী জাতি। যাদের ইতিহাস বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন ঘটনাবলী দ্বারা ভরপুর। যার পচিরালক হলেন নবী-রসূলগণ। সর্বপ্রথম আদম [عليه السلام] আর সর্বশেষ মুহাম্মদ [صلى الله عليه وسلم]। এ জাতি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয় তোমাদের এ উম্মত একটি উম্মত আর আমি তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং একমাত্র আমারই এবাদত কর।” [সূরা আম্বিয়া: ৯২]
২. তাওহিদী জাতি সর্বদা বাস্তবায়নে অগ্রসেনা কখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবকাশ থাকে না এবং নির্দেশের বিপরীত করে না। কোন নির্দেশ হলে সাথে সাথে তা বাস্তবায়ন করে আর কোন নিষেধ হলে দ্রুত তা হতে বিরত থাকে।
৩. এ জাতি শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে না বরং তাদের কাঁধে সমস্ত মানব জাতিকে ভ্রষ্টতা থেকে বাঁচানোর পবিত্র দায়িত্ব অনুভব করে। কারণ সে নিজে যে হেদায়েত পেয়েছে সে হেদায়েতের প্রতি অন্যান্য জাতিকে আহ্বান করা পবিত্র দায়িত্ব মনে করে।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“তোমরাই উত্তম উম্মত, মানুষদের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে যাতে করে সৎকাজের আদেশ কর এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ কর এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আন।” [সূরা আল-ইমরান: ১১০]
আরো আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী জাতি করেছি- যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমণ্ডলীর জন্যে।” [সূরা বাকারা: ১৪৩]
৪. তওহিদী সমাজে সকল মানুষ সমান। সেখানে রাজা-প্রজা, গরিব-ধনী সকলেই সমান। একজন সাধারণ মানুষও কোন ভয়-ভীতি ছাড়াই বাদশাহকে নসিহত করতে পারে; কারণ সে জানে বাদশাহ তিনি দ্বীনের বাস্তবায়নকারী ও শরীয়তের হেফাজতকারী।
৫. তাওহিদী উম্মত যুদ্ধ ও চুক্তি সব সম্পর্কই সঠিক আকিদার ভিত্তিতে করে; কারণ তাদের উদ্দেশ্য হলো মানবতার আজাদ করা।
৬. তাওহিদী উম্মতের সকল ব্যক্তির আপোসের সম্পর্ক তাওহীদের ভিত্তিতে; কারণ দুনিয়ার রঙ, ভাষা, ভৌগোলিক সীমা-রেখা ও নাগরিক সম্পর্ক যাতে মানুষের কোন এখতিয়ার নেই। সে চাইলে ভাষা, রঙ ইত্যাদি পরিবর্তন বা এখতিয়ার করতে পারে না। আর এসব সম্পর্ক দ্রুত লোপ পায় কিন্তু তাওহীদের সম্পর্ক বড় শক্তিশালী যা কখনো দুর্বল হয় না। তাই তো মদিনার সর্বপ্রথম তাওহিদী সমাজে একত্রিত হয়েছিল আরবি, পারসিক, রোমান, হাবাশি (আবিসীনীয়) ও হিন্দী, যাঁদের মাঝে ছিল না কোন সম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবাদী এবং বংশের ভেদাভেদ। যেমন অতীতে গ্রীক সাম্রাজ্যে সম্ভ্রান্ত ও অসম্ভ্রান্তের সাম্প্রদায়িকতা ও কমিনিউনিষ্টদের (সাম্যবাদীদের) মাঝে কর্মচারী ও মালিকের ভাগ এবং পাশ্চাত্যে সাদা-কালো ও জাতীয়তার ভাগ। ইহা প্রমাণ করে যে, ইসলামী সমাজ ব্যতীত অন্য কোন সমাজ আন্তর্জাতিক মানবীয় সমাজ নয়, যেখানে মানব জাতির সকল সন্তানের জন্য দরজা উন্মুক্ত থাকে।
৭. তাওহিদী সমাজ অগ্রগতি, উন্নয়ন ও চরম সভ্যতার উন্মুক্ত ময়দান।
৮. তাওহিদী সমাজ তার সৃষ্টির শুরু নিয়ে গৌরব করে যে, তাদের আসল আদম [ ] যাঁর মাঝে আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর নিজ হাতে রূহ ফুঁকে দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আর এ জগতে সবই তাদের খেদমত ও উপকারের জন্য। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“এবং নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন, যাতে তাঁর আদেশে সমুদ্রে চলাফেরা করে এবং নদ-নদীকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। আর তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে এবং চন্দ্রকে সর্বদা এক নিয়মে এবং রাত্রি ও দিনকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন।” [সূরা ইবরাহীম: ৩২-৩৩]
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“তোমরা কি দেখ না আল্লাহ আসমান ও জমিনে যা কিছু, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।” [সূরা লোকমান: ২০]
৯. তাওহিদী সমাজে আপোসের মাঝে সম্পর্ক সীসা ঢালা প্রাচীরের ন্যায়। একটি শরীরের ন্যায় যার একটি অঙ্গে ব্যথা হলে সমস্ত শরীর ব্যথাতুর হয়। যেখানে সকলের আশা-আকাংখা ও ব্যথা একই। সকলে ইনসাফ, ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে, যাতে করে এ সমাজে প্রতিটি মানুষ তার দ্বীন, আত্মা, বিবেক, সম্পদ ও ইজ্জত- সম্মান নিয়ে বসবাস করতে পারে।
১০. তাওহিদী সমাজ যেখানে থাকবে না কোন প্রকার খুন-খারাবি, জুলুম-অত্যাচার, প্রতারণা- ধোঁকাবাজি, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি-ছিনতাই, মারামারি-হানাহানি, জেনা-ব্যভিচার, অপবাদ ও চোগলখোরী। যেখানে থাকবে শান্তি ও নিরাপত্বা। যেখানে লাগবে না পুলিশ বরং আল্লাহ তা'য়ালার ভয় হবে সকলের পাহারাদার।
ব্যক্তির প্রতি তাওহীদের প্রভাবের কথা উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে সবগুলোই সমাজের উপর প্রভাব ফেলে; কারণ ব্যক্তিরা সমাজের এক একটি মজবুত ইট। তাই ব্যক্তির সঠিকতায় সমাজের সঠিকতা আর ব্যক্তির বিপর্যয়ে সমাজের বিপর্যয়। অতএব, ব্যক্তির তরবিয়তে যত চেষ্টা-তদবীর সবই সঠিক আকিদার ইসলামী সমাজ গড়ার কাজে আসবে; কারণ ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক বড় গভীর সম্পর্ক।
নিম্নে সমাজের প্রতি তাওহীদের সুপ্রভাবের কিছু চিত্র উল্লেখ করা হলো:
১. তাওহিদী উম্মত একটি সুপ্রাচীন, সভ্য ও ঐতিহ্যবাহী জাতি। যাদের ইতিহাস বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন ঘটনাবলী দ্বারা ভরপুর। যার পচিরালক হলেন নবী-রসূলগণ। সর্বপ্রথম আদম [عليه السلام] আর সর্বশেষ মুহাম্মদ [صلى الله عليه وسلم]। এ জাতি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয় তোমাদের এ উম্মত একটি উম্মত আর আমি তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং একমাত্র আমারই এবাদত কর।” [সূরা আম্বিয়া: ৯২]
২. তাওহিদী জাতি সর্বদা বাস্তবায়নে অগ্রসেনা কখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবকাশ থাকে না এবং নির্দেশের বিপরীত করে না। কোন নির্দেশ হলে সাথে সাথে তা বাস্তবায়ন করে আর কোন নিষেধ হলে দ্রুত তা হতে বিরত থাকে।
৩. এ জাতি শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে না বরং তাদের কাঁধে সমস্ত মানব জাতিকে ভ্রষ্টতা থেকে বাঁচানোর পবিত্র দায়িত্ব অনুভব করে। কারণ সে নিজে যে হেদায়েত পেয়েছে সে হেদায়েতের প্রতি অন্যান্য জাতিকে আহ্বান করা পবিত্র দায়িত্ব মনে করে।
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“তোমরাই উত্তম উম্মত, মানুষদের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে যাতে করে সৎকাজের আদেশ কর এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ কর এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আন।” [সূরা আল-ইমরান: ১১০]
আরো আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী জাতি করেছি- যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমণ্ডলীর জন্যে।” [সূরা বাকারা: ১৪৩]
৪. তওহিদী সমাজে সকল মানুষ সমান। সেখানে রাজা-প্রজা, গরিব-ধনী সকলেই সমান। একজন সাধারণ মানুষও কোন ভয়-ভীতি ছাড়াই বাদশাহকে নসিহত করতে পারে; কারণ সে জানে বাদশাহ তিনি দ্বীনের বাস্তবায়নকারী ও শরীয়তের হেফাজতকারী।
৫. তাওহিদী উম্মত যুদ্ধ ও চুক্তি সব সম্পর্কই সঠিক আকিদার ভিত্তিতে করে; কারণ তাদের উদ্দেশ্য হলো মানবতার আজাদ করা।
৬. তাওহিদী উম্মতের সকল ব্যক্তির আপোসের সম্পর্ক তাওহীদের ভিত্তিতে; কারণ দুনিয়ার রঙ, ভাষা, ভৌগোলিক সীমা-রেখা ও নাগরিক সম্পর্ক যাতে মানুষের কোন এখতিয়ার নেই। সে চাইলে ভাষা, রঙ ইত্যাদি পরিবর্তন বা এখতিয়ার করতে পারে না। আর এসব সম্পর্ক দ্রুত লোপ পায় কিন্তু তাওহীদের সম্পর্ক বড় শক্তিশালী যা কখনো দুর্বল হয় না। তাই তো মদিনার সর্বপ্রথম তাওহিদী সমাজে একত্রিত হয়েছিল আরবি, পারসিক, রোমান, হাবাশি (আবিসীনীয়) ও হিন্দী, যাঁদের মাঝে ছিল না কোন সম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তাবাদী এবং বংশের ভেদাভেদ। যেমন অতীতে গ্রীক সাম্রাজ্যে সম্ভ্রান্ত ও অসম্ভ্রান্তের সাম্প্রদায়িকতা ও কমিনিউনিষ্টদের (সাম্যবাদীদের) মাঝে কর্মচারী ও মালিকের ভাগ এবং পাশ্চাত্যে সাদা-কালো ও জাতীয়তার ভাগ। ইহা প্রমাণ করে যে, ইসলামী সমাজ ব্যতীত অন্য কোন সমাজ আন্তর্জাতিক মানবীয় সমাজ নয়, যেখানে মানব জাতির সকল সন্তানের জন্য দরজা উন্মুক্ত থাকে।
৭. তাওহিদী সমাজ অগ্রগতি, উন্নয়ন ও চরম সভ্যতার উন্মুক্ত ময়দান।
৮. তাওহিদী সমাজ তার সৃষ্টির শুরু নিয়ে গৌরব করে যে, তাদের আসল আদম [ ] যাঁর মাঝে আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর নিজ হাতে রূহ ফুঁকে দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আর এ জগতে সবই তাদের খেদমত ও উপকারের জন্য। আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“এবং নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন, যাতে তাঁর আদেশে সমুদ্রে চলাফেরা করে এবং নদ-নদীকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। আর তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে এবং চন্দ্রকে সর্বদা এক নিয়মে এবং রাত্রি ও দিনকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন।” [সূরা ইবরাহীম: ৩২-৩৩]
আল্লাহ তা'য়ালার বাণী:
“তোমরা কি দেখ না আল্লাহ আসমান ও জমিনে যা কিছু, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।” [সূরা লোকমান: ২০]
৯. তাওহিদী সমাজে আপোসের মাঝে সম্পর্ক সীসা ঢালা প্রাচীরের ন্যায়। একটি শরীরের ন্যায় যার একটি অঙ্গে ব্যথা হলে সমস্ত শরীর ব্যথাতুর হয়। যেখানে সকলের আশা-আকাংখা ও ব্যথা একই। সকলে ইনসাফ, ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে, যাতে করে এ সমাজে প্রতিটি মানুষ তার দ্বীন, আত্মা, বিবেক, সম্পদ ও ইজ্জত- সম্মান নিয়ে বসবাস করতে পারে।
১০. তাওহিদী সমাজ যেখানে থাকবে না কোন প্রকার খুন-খারাবি, জুলুম-অত্যাচার, প্রতারণা- ধোঁকাবাজি, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি-ছিনতাই, মারামারি-হানাহানি, জেনা-ব্যভিচার, অপবাদ ও চোগলখোরী। যেখানে থাকবে শান্তি ও নিরাপত্বা। যেখানে লাগবে না পুলিশ বরং আল্লাহ তা'য়ালার ভয় হবে সকলের পাহারাদার।
📄 রাষ্ট্রের উপর তাওহীদের সুপ্রভাব
তাওহীদ প্রতিষ্টার উপরেই নির্ভর করে একটি সুন্দর ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। পৃথিবীতে তাওহীদ ছাড়া অন্যান্য যতই আন্দলন বা বিপ্লব উঠেছে প্রায় সবই পরিশেষে নিঃশেষ হয়ে গেছে। যেমন: আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, তুর্কিস্তান, আলজেরিয়া ইত্যাদি। কিন্তু সৌদি আরবে তাওহীদের দা'ওয়াতের ভিত্তিতে আরম্ভ হয়েছিল বলে আজ পর্যন্ত একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
যে দেশে তাওহীদ থাকবে সেখানে থাকবে শান্তি ও নিরাপত্ত্বা। যার প্রমণ সৌদি আরবের নজীর বিহীন নিরাপত্ত্বা।
যে দেশে তাওহীদ থাকবে সেখানের জনগণ পাবে সর্বপ্রকর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সব ধরনের খেদমত। তাই তো সৌদি আরবের জনগণ সরকারীভাবে যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে তা পৃথিবীতে আর অন্য কোন রাষ্ট্রে কেউ তা পায় না।
একটি রাষ্ট্রে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহ তা'য়ালা দান করবেন সর্বপ্রকার প্রাচুর্যের ব্যবস্থা। থাকবে না সেখানে কোন প্রকার অভাব-অনটন ও ক্ষুধা ও ভিক্ষার ঝুলি।
যে রাষ্ট্রে থাকবে না তাওহীদ সে দেশের ধ্বংস অনিবার্য। যেমন: আফগানিস্তান, ফিলিস্তীন, ইরাক, লিবিয়া ইত্যাদি দেশের ধ্বংসলীলার দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন।
তাওহীদ প্রতিষ্টার উপরেই নির্ভর করে একটি সুন্দর ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। পৃথিবীতে তাওহীদ ছাড়া অন্যান্য যতই আন্দলন বা বিপ্লব উঠেছে প্রায় সবই পরিশেষে নিঃশেষ হয়ে গেছে। যেমন: আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, তুর্কিস্তান, আলজেরিয়া ইত্যাদি। কিন্তু সৌদি আরবে তাওহীদের দা'ওয়াতের ভিত্তিতে আরম্ভ হয়েছিল বলে আজ পর্যন্ত একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
যে দেশে তাওহীদ থাকবে সেখানে থাকবে শান্তি ও নিরাপত্ত্বা। যার প্রমণ সৌদি আরবের নজীর বিহীন নিরাপত্ত্বা।
যে দেশে তাওহীদ থাকবে সেখানের জনগণ পাবে সর্বপ্রকর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সব ধরনের খেদমত। তাই তো সৌদি আরবের জনগণ সরকারীভাবে যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে তা পৃথিবীতে আর অন্য কোন রাষ্ট্রে কেউ তা পায় না।
একটি রাষ্ট্রে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহ তা'য়ালা দান করবেন সর্বপ্রকার প্রাচুর্যের ব্যবস্থা। থাকবে না সেখানে কোন প্রকার অভাব-অনটন ও ক্ষুধা ও ভিক্ষার ঝুলি।
যে রাষ্ট্রে থাকবে না তাওহীদ সে দেশের ধ্বংস অনিবার্য। যেমন: আফগানিস্তান, ফিলিস্তীন, ইরাক, লিবিয়া ইত্যাদি দেশের ধ্বংসলীলার দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন।